পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ০২

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০২ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২

আগের বারের মতো এবারও আমরা সবাই অবাক কি করে এমনটা হলো...

রীতিমতো আমি একদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।

তারমানে আমার মধ্যে কোনো সুপার ন্যাচার পাওয়ার আছে..?

এসব ভাবতে ভাবতেই পিপি আমাদের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো...

পিপি:- তোমরা যা দেখেছো সব ভুলে যাও, ঘুনাক্ষরেও যাতে এসব কথাবার্তা তোমাদের আব্বুর কানে নাহ যায়। এমনিতেই তোমাদের আব্বু অনেক চিন্তার মধ্যে আছেন, আর নতুন করে কোনো চিন্তায় ফেলতে চাইছি নাহ লোকটিকে...!

পিপির কথা শুনে সবাই মাথা নেড়ে তার কথায় সাই জানালাম।

কিছুক্ষণ পর ফুফাজি বাড়ি ফিরলো, ফুফাজিকে দেখে আমরা সবাই ড্রয়িংরুমে একত্র হলাম...

পিপি:- হ্যাঁ গোহ, জমির ঝামেলাটা মিটমাট হয়েছে তোহ..?

ফুফাজি:- নাহ গোহ মেহেনাকা, তায়ব সাহেব কিছুতেই ঝামেলাটা মিটমাট করতে চাইছেন নাহ। উনি আমাদের জমিটা নিজের দখলেই নিতে চাইছে..

হঠাৎ তাইমন ভাইয়া বলে উঠলো...

তাইমন:- এমন কিছু একটা করা যেতো যাতে করে তায়ব আঙ্কেল নিজে থেকে জমিটা আমাদের নামে লিখে দেয়..

ফুফাজি:- তোমরা বাচ্চা মানুষ, সবকিছু যতটা সহজ ভাবো ততটা সহজ নাহ...

উনাকে অনেক ভাবে বুঝিয়েছি কিন্তু উনি বুঝতেই চাইছেন নাহ....

পিপি:- তাহলে এখন কি করবে...?

ফুফাজি:- জানি নাহ মেহেনাকা, ভাবছি জমিটা যদি হাত ছাড়া হয়ে যায় তাহলে আমাদের ছেলে মেয়ে সবাইকে নিয়ে রাস্তায় বসতে হবে...?

পিপি:- কি বলছো এসব.? এমন কিছুই হবে নাহ.! তুমি অযথা চিন্তা করো নাহ সব ঠিক হয়ে যাবে.।

ফুফাজি:- হবে হয়তো, সে আশাতেই দিন গুনছি।

তাদের কথার মাঝেই আমি উঠে চলে এলাম কারণ বেলা গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে, আমি আবার ১২টা বাজলেই গোসল করি এটা আমার অভ্যাস।

গোসল করার জন্য বাথরুমে ঢুকলাম, সাওয়ার অন করে কিছুক্ষণ সাওয়ার নিলাম।

সাওয়ারটা বন্ধ করতে চাচ্ছি কিন্তু বন্ধ হচ্ছে নাহ, তার উপর আমিও সাওয়ারের নিচ থেকে নড়তে পারছি নাহ একদম যেনো ফ্রিজ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি, হঠাৎ আমার চোখের সামনে কিছু ঝাপসা ঝাপসা প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছে কিন্তু কি ভেসে উঠছে তা বুঝা যাচ্ছে নাহ।

আমি চিৎকার করতেও পারছি নাহ নড়তেও পারছি নাহ, একটা জড় বস্তু হয়ে দাঁড়িয়ে আছি সাওয়ারের নিচে, আমার যেনো দম বন্ধ হয়ে আসছে এই বুঝি আমি মারা যাবো।

হঠাৎ করে দেখি আমি এখনো বাথরুমে শুকনো অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি তাহলে এতক্ষণ কি হলো আমার সাথে..?

অন্যদিনের তুলনায় আজ একটু তাড়াতাড়ি গোসল সেরে বের হয়ে গেলাম।

বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখি হায়াতি আমার বেডরুমে বসে আছে...

আমি:- হায়াত.! তুই এখানে কি করছিস..?

হায়াতি:- আসলে চিশ, একটা কথা বলতে চাইছিলাম...

আমি:- আমি জানি তুই কি বলবি...

হায়াতি:- মানে.? তুই কি করে জানিস আমি কি বলবো...?

আমি:- আমি সবটাই জানি...

হায়াতি:- আচ্ছা তাহলে বল তোহ আমি তোকে কি বলতে এসেছি...?

আমি:- তোর ফ্রেন্ডদের সাথে মোনালিসার বার্থডে'তে যাবি কিন্তু তোর কোনো ভালো ড্রাস নেই, আমি যেনো আমার সুপার ন্যাচার পাওয়ার দিয়ে তোকে একটা ভালো প্রিন্সেস ড্রেস এনে দি, কি তাই তোহ..?

হায়াতি:- চিশ.! তোর কি হলো..? তুই যা বলছিস তাই এসে হাজির হয়ে যায়, এখন আবার তুই আমার মনের কথাও বলে দিলি অথচ আমি তোর কাছে এসবের কিছুই বলিনি...? তুই তোহ মোনালিসা'কেও চিনিস নাহ আর নাহ আমি কোনোদিন ওর কথা তোর কাছে বলেছি...?

সত্যি করে বলতো তুই কে..?

আমার মনে হচ্ছে তুই কোনো জ্বিনের বাচ্চা..!

আমিও অবাক হয়ে গেলাম, আমি কি করে হায়াতের মনের কথা বুঝতে পারলাম।

আমি:- জানি নাহ রেহ, কি হচ্ছে এসব..?

হায়াতি:- যাই হোক, ভাই আমার আমাকে এক্ষুনি একটা ড্রেস এনে দে প্লিজ...!

আমি:- আচ্ছা এনে দিবো কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে...!

হায়াতি:- আবার কি শর্ত, আগেই বলে দিচ্ছি আমি কিন্তু কোনো টাকা দিতে পারবো নাহ..!

আমি:- আরে বোকা নাকী তুই, তোর কাছে টাকা চাইতে যাবো কেনো..?

আমার শর্তটা হলো, আমি যে তোকে ড্রেস এনে দিবো এটা কাউকে বলবি নাহ, আর এক্ষুনি যে আমি তোর মাইন্ড রীড করলাম এটাও কাউকে বলবি নাহ..!

হায়াতি:- আচ্ছা প্রমিজ আমি কাউকে বলবো নাহ, এবার আমার জন্য ড্রেস এনে দে।

আমি আবারও হাতটা সামনে এগিয়ে দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর একটা প্রিন্সেস ড্রেস চাওয়া মাত্রই আমাদের সামনে এসে সেই ড্রেস হাজির।

আমি:- এই নে তোর ড্রেস।

হায়াতি:- আর একটা হেল্প কর নাহ প্লিজ...

আমি:- আবার কি..?

হায়াতি:- মোনালিসার জন্য একটা গিফট..

আমি:- এবার কিন্তু বেশি হচ্ছে, আমি আর পারবো নাহ।

হায়াতি:- প্লিজ.!

আমি:- আচ্ছা দাঁড়া।

এবারও আমার হাতটা সামনে এগিয়ে দিয়ে একটা রেপিং করা গিফট আনলাম।

হায়াতি:- এর মধ্যে কি আছে রেহ..?

আমি:- তোর ফ্রেন্ড তোহ বই পড়তে খুব ভালোবাসে তাই ওর জন্য ভিন্ন স্বাদের কিছু যুক্তিসম্পন্ন বই।

হায়াতি:- আমি এবার সত্যি অবাক হয়ে যাচ্ছি তুই আসলেই কি মানুষ নাকী অন্য কিছু..?

আমি:- যাহ তোহ তোর এতকিছু ভাবতে হবে নাহ।

হায়াতিকে পাঠিয়ে দিয়ে আমি নিজেই নিজেকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরলাম।

আসলেই আমি কে..?

কি আমার পরিচয়..?

আমার মধ্যে হঠাৎ করে এমন অলৌকিক ক্ষমতা এলোই বা কোত্থেকে..?

যাই হোক আমার এসব শক্তির জন্য যাতে কারো কোনো ক্ষতি নাহ হয়।

১০-১৫ মিনিট পর আবারও হায়াতি আমার বেডরুমে এসে হাজির...

আমি:- কিরে আবার কি হয়েছে..?

হায়াতি:- কিছু হয়নি, আম্মি তোকে নিচে ডাকছে..!

আমি:- তুই কি পিপির কাছে সবকিছু বলে দিয়েছিস..?

হায়াতি:- হ্যাঁ বলে দিয়েছি, আর কেনোই বা বলবো নাহ, এসব ব্যাপারে কি কেউ চুপ করে থাকে...?

তাড়াতাড়ি নিচে আয়...

এই বলে হায়াতি চলে গেলো....

এটা কি হলো..?

পিপি আমার জন্য আমারও চিন্তা করবে..?

হায়াতিকে কতবার বললাম এসব কথা পিপওর কাছে বলিস নাহ কিন্তু ও পিপির কাছে সবকিছু বলে দিলো...

উফ এমন একটা অবস্থায় আছি কি করবো বুঝতেই পারছি নাহ...

এসব ভাবতে ভাবতে নিচে চলে এলাম....

আমি:- পিপি, আমায় ডেকেছো..?

পিপি:- হ্যাঁ, এখানে এসো...

আমি:- হ্যাঁ বলো...

পিপি:- দেখো বাবা, আমাদের জমি নিয়ে ঝামেলার কথাটা তোহ তুমি জানোই...?

আমি:- হ্যাঁ পিপি জানি..!

পিপি:- এই জমিটা যদি তায়ব সাহেব নিয়ে নেয় তাহলে আমদের সবাইকে রাস্তায় বসতে হবে।

আমি:- এমনটা কিছুই হবে নাহ পিপি.!

পিপি:- হ্যাঁ সেই আশায়ই আছি। যাই হোক তোমাকে যে কাজে ডেকেছি...?

আমি:- হ্যাঁ বলো....

পিপি:- একে তোহ জমি নিয়ে ঝামেলা তার উপর তোমার এসব অস্বাভাবিক আচরণ, এগুলো কিন্তু কিছুতেই তোমার ফুফাজিকে বলবে নাহ। মানুষটা এমনি অনেক চিন্তার মধ্যে আছেন তোমার এসব অস্বাভাবিক আচরণগুলো কথা উনাকে আর জানাতে হবে নাহ।

আমি:- হ্যাঁ পিপি তুমি তোহ ব্রেকফাস্টের সময়ই বললে, আমার মনে আছে...

পিপি:- হ্যাঁ, তখন বলেছিলাম এখন আবার বলে দিলাম। কারণ তুমি তোহ আমার চেয়ে তোমার ফুফাজিকে বেশি ভালোবাসো যদি এক কথায় দু’কথায় বলে দাও।

আমি:- না! না! আমি এসব কিছুই বলবো নাহ।

"আমি পারলে তোমাকেও এসবের কিছু জানাতে চাই নাহ পিপি" মনে মনে এই কথাটা বলে রাগে ফুসফুস করে ফায়াতির রুমে গেলাম....

ওর রুমে যেতে ও আমাকে দেখে হাসতে হাসতে বললো...

হায়াতি:- কি! কেমন দিলাম..?

আমি:- শালী হারামি কুত্তা তুই আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি...

হায়াতি:- সরি! সরি! সরি! আসলে একটু মজা করেছি..

আমি:- এগুলা কেমন মজা..?

হায়াতি:- বললাম তোহ সরি, আর আমি যাকে একবার প্রমিজ করি তাকে দেওয়া প্রমিজ ভঙ্গ করি নাহ।

আমি:- হয়েছে ওভার অ্যাক্টিং করতে হবে নাহ।

হায়াতি:- হ্যাঁ এখন তোহ ওভার অ্যাক্টিংই মনে হবে...?

এই বলে আমাকে বালিশ দিয়ে মারতে শুরু করলো, আমিও একটা বালিশ আমার হাতে নিয়ে ওকে মারতে শুরু করি.....

হঠাৎ নিচ থেকে আমাদের সবাইকে পিপি ডাকছে....