পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১৮
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৮ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১৮
দুই মেয়ের চিন্তায় আমি আর তোর বাবা প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। কি করবো, কোথায় যাবো, কার কাছে যাবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম নাহ আমরা।
ইকবাল চৈতীকে আমাদের বাসায় রেখে নারায়ণগঞ্জ কাজে চলে যায়, আমরাও বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতাম ওর চিকিৎসার জন্য তার মধ্যে একদিন নেত্রকোনা গিয়েছিলাম ওই ঘটনা তোহ তোকে প্রথম দিনই বলেছিলাম যাই হোক কত জায়গায় চিকিৎসার জন্য যেতাম কিন্তু কোনো লাভ হতো নাহ বরং ওর পাগলামি দিন দিন বাড়তে থাকে।
এভাবেই সপ্তাহ খানেক কেটে গেলো, আমরা প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম চৈতীর সুস্থ হওয়ার।
ওইদিকে চিত্রা প্রতিদিন লুকিয়ে লুকিয়ে কারো সাথে ফোনে বলাটাও বেড়ে যাচ্ছে।
কিছুদিন পর আলমাস ভাই আসে উনার ছোট মেয়ের বিয়ের দাওয়াত দিতে।
বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ আর শুক্রবার বিয়ে।
আলমাস ভাই হলো তোর বাবার ফুফাতো ভাই, উনারা ৬ ভাই তাদের মধ্যে উনিই সবার বড়, নাম আলমাস শেখ কিন্তু সবাই আলমাস ফকির নামেই চিনে।
আসলাম ভাইয়ের বাসাও এখানেই, আমরা এখানে আসার ৬-৭ মাস পর উনার এদিকে জায়গা কিনে বসতি শুরু করে।
উনার ২ ছেলে ৩ মেয়ে, বড় ছেলে আমির, ছোট ছেলে সামির, বড় মেয়ে ফারজানা, মেঝো মেয়ে রেহানা আর ছোট মেয়ে রোমানা।
শুক্রবার রোমানারই বিয়ে।
বাসার এত ঝামেলার মধ্যেও বিয়ের দাওয়াত নাহ করিনি।
গায়ে হলুদের সন্ধ্যা বেলা চিত্রা ওই বাড়ি চলে যায়, আর আমরা বাসায় চৈতীকে নিয়ে ব্যস্ত, মেয়ে আমার একটু চোখের আড়াল করলেই নিজেকে নিজে শেষ করে দিতে চায়।
বেশ কিছুক্ষণ পর আমার মনে হলো রাত তোহ প্রায় অনেক হলো এবার গিয়ে চিত্রাকে নিয়ে আসি, আমি বিয়ে বাড়ি গিয়ে ওকে খুঁজতে থাকি কিন্তু কোত্থাও খুঁজে পাচ্ছি নাহ।
আস্তে আস্তে বিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকায় একটা চক্কর দিয়ে আসলাম কিন্তু কোত্থাও খুঁজে পেলাম নাহ।
গেলো কোথায় মেয়েটা, ওইদিকে চিত্রা বিয়ে বাড়িতে গিয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে আলমাস ভাইয়ের বিল্ডিং-এর পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমি অপর প্রান্ত থেকে দেখে মনে মনে ভাবলাম তাদের বাড়ির ভিতর দিয়ে ওর কাছে যাবো কিন্তু হঠাৎ দেখি কেউ একজন আমার পাশ কাটিয়ে দৌড়ে গিয়ে চিত্রাকে ধরবে বলে ছুটছে আমি এই ঘটনা দেখে অপর প্রান্ত থেকেই চিৎকার দিয়ে ওই লোকটির পিছনে পিছনে দৌড় দি।
আমাকে তার পিছনে ছুটতে দেখে লোকটি চিত্রার গা ঘেঁষে বিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়লো, আমি দৌড়ে গিয়ে লোকটিকে ধরতে পারলাম নাহ।
চিত্রাকে একটা থাপ্পড় দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসি....
আমি:- সত্যি করে বল, এই মোবাইল কে দিয়েছে তোকে..?
কার সাথে কথা বলতে বলতে বিল্ডিং-এর পিছনে গিয়েছিলি..?
চিত্রা:- বড় দুলাভাই দিয়েছিলো, আমি বড় দুলাভাইয়ের সাথেই কথা বলছিলাম, তখন দুলাভাই বললো তুমি বিল্ডিং-এর পিছনে এসে দাঁড়াও আমিও আসছি..
আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনি তোহ নারায়ণগঞ্জ তাহলে এখানে আসবেন কি করে..?
সে বললো, উনি নাকী বিকেলে মুন্সিগঞ্জ এসেছে তাই আমার সাথে দেখা করবে।
আমিও উনার সাথে দেখা করার জন্য বিল্ডিং-এর পিছনে গিয়েছিলাম।
আমি:- তার মানে ওই কুত্তার বাচ্চাই তোর দিকে ছুটে গিয়েছিলো, মা রেহ তুই ওর সাথে আর কথা বলিস নাহ, তুই ওর মোবাইল ওকে দিয়ে দে আমি তোকে মোবাইল কিনে দিবো...
চিত্রা:- আমি মোবাইল দিবো নাহ, তোমার দেওয়া মোবাইলেরও আমার কোনো দরকার নাই আমি এটাই ব্যবহার করবো।
আমি:- দেখ চিত্রা ভালোয় ভালো বলতাছি যেভাবে বলি শোন নয়তো তোর গায়ে হাত তুলবো, আর তোর বাপ ভাই কেমন তুই জানিস নাহ..?
ওরা যদি এসব জানতে পারে তোকে আস্ত রাখবে নাহ..
আমি চিত্রাকে নানা ভাবে বোঝাচ্ছি কিন্তু চিত্রা উল্টো রেগে যাচ্ছে, এক পর্যায়ে এসে চিত্রা ওই মোবাইলের জন্য আমাকে থাপ্পড় দেয়...!
আমি:- তুই এই মোবাইলের জন্য আমার গায়ে হাত তুললি, আমি যে তোর মা তুই ভুলে গিয়েছিস..?
চিত্রা:- আমার আর দুলাভাই-এর মাঝখানে কেউ আসতে চাইলে আমি কাউকেই চিনবো নাহ, তুমি আসতে চাইলে তোমাকেও নাহ।
আমি চিত্রার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম, কি বলছে ও এগুলা..?
আমি একা কিছুতেই চিত্রাকে সামাল দিতে পারবো নাহ, এসব ব্যাপারে হাসমি আর ওর বাবাকে জানাতে হবে নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে।
রাতে তোর বাবা আর হাসমি বাড়ি ফিরলে ওদের সবটা বলি।
পরদিন সকালে হাসমি মার্কেটে গিয়ে চিত্রার জন্য মোবাইন কিনে আর আর তোর বাবা চিত্রাকে অনেক বোঝায় কিন্তু কিছুতেই আমাদের কথা শুনতে চাইছে নাহ।
তোর বাবা তোহ রেগে গিয়ে চিত্রাকে অনেক মারে কিন্তু তারপরও চিত্রার মখে একই কথা "আমি দুলাভাইকে ছাড়া বাঁচবো নাহ"
দুপুরবেলা তোর বাবা আর হাসমি রোমানার বিয়েতে যায় আর আমাকে চিত্রা আর চৈতীর দেখাশোনার জন্য বাসায় রেখে যায়।
আমি খেয়াল রাখছিলাম যাতে ওই কুত্তার বাচ্চা দ্বিতীয় কোনো চাল চালতে নাহ পারে।
কিছুক্ষণ পর দেখি চৈতী চিত্রাকে ডেকে নিয়ে বলে...
চৈতী:- বোন রেহ, আমি বেশিদিন বাঁচবো নাহ আমি তোহ গর্ভবতী যদি আমার কোনো বাচ্চা হওয়ার পর আমি মরে যাই তাহলে তুই আমার বাচ্চাটা লালন পালন করিস তুই আমার স্বামীকে বিয়ে করিস আর যদি তার আগেই মরে যাই....
আমি:- তোদের এসব কথা বলা বন্ধ করবি..?
আমি তোদের দুই বোনের এসব আর সহ্য করতে৷ পারছি নাহ...
এবার মনে হচ্ছে আমি নিজেই গলায় দড়ি দিয়ে মরে যাই।
চিত্রা:- আপু তোহ ঠিকই বলেছে, তুমি এখনই আব্বু আর ভাইয়ার সাথে কথা বলে আমাকে দুলাভাই-এর সাথে বিয়ে করিয়ে দাও তাহলে আমি আপুকেও দেখভাল করতে পারবো।
আমি চিত্রাকে একটা থাপ্পড় দিয়ে ঘরের ভিতরে চলে গেলাম।
এদিকে আমিও গর্ভবতী তেমন কোনো কাজকর্ম করতে পারি নাহ তার উপর এমন চিন্তা সারাক্ষণ মাথায় কিলবিল কিলবিল করতো।
বিকেলে দেখলাম তোর ভাই আর তোর বাবা একজন লোককে বাড়িতে নিয়ে আসে.....
আমি:- কিগো উনি কে..?
আব্রাহাম:- উনি মোহাম্মদ সাত্তার, একজন ইমাম।
আমি:- ওমা, হুজুর দিয়ে কি হবে..?
আব্রাহাম:- আমি একদম ১০০% শিওর ওই হারামজাদা আমাদের ছোট মেয়েকেও কিছু একটা করেছে এজন্য হুজুর নিয়ে এসেছি...
তারপর হুজুর আমাকে বললো...
হুজুর:- কার সমস্যা তাকে এখানে নিয়ে আসুন...
আমি গিয়ে চিত্রাকে নিয়ে আসলাম....
হুজুর:- একটা কাঁচের গ্লাসে করে পানি নিয়ে আসুন
আমিও এক গ্লাস পানি এনে হুজুরের সামনে রাখলাম, হুজুর কিছুক্ষণ বিরবির করে কি যেনো পড়ে পানিতে ফুক দিয়ে চিত্রাকে উদ্দেশ্য করে বললো....
হুজুর:- তুমি এই গ্লাসে তাকিয়ে থাকো তারপর পানির মধ্যে কি কি দেখতে পাও আমাকে বলো....
চিত্রা কিছুক্ষণ পানির দিকে তাকিয়ে থেকে বললো...
চিত্রা:- ১০টা লাল পোশাক পড়া লম্বা লোক আমার বাম হাতে এসে কামোর দিচ্ছে....
হুজুর:- ওর বাম হাতে কি কোনো তাবিজ আছে যেটা কিছুদিনের মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে...?
আমি:- হ্যাঁ, আমার বড় মেয়ের জামাই ওর দাঁতে ব্যথার জন্য এনে দিয়েছিলো...
হুজুর:- শীঘ্রই ওই তাবিজ খুলুন, ওই তাবিজের মাধ্যমেই ওর উপর জ্বিন চালান করা হয়েছে...
ওর উপর প্রেমিক জ্বিন চালান করা হয়েছে, এমন ভাবে কাজটা করেছে যাতে ও বিয়ের জন্য পাগল হয়ে যায়, ওর বিয়ের কথা বলতে এতটুকু লজ্জা করবে নাহ।
তারপর তোর বাবা চিত্রার হাত থেকে তাবিজটা খুলে পুড়িয়ে ফেলে আর চিত্রাও অজ্ঞান হয়ে যায়।
হুজুর:- আশা করি এবার আরো কোনো সমস্যা থাকবে নাহ, ওই তাবিজটাই এতদিন ওকে দিয়ে এসব করিয়েছে।
কুরেশি সাব আপনি সন্ধ্যার পর আমার সাথে মসজিদে দেখা করবেন, আমি একটা তাবিজ দিয়ে দিবো আল্লাহর রহমতে ওর আর কোনো সমস্যা থাকবে নাহ।
আর একটা কথা আপনারা সবাই ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার চেষ্টা করবেন।
ফজরের নামাজ শেষে এবং মাগরিব নামাজ শেষে প্রতিদিন ৪কূল ও আয়াতুল কুরসি পড়ে নিজের সমস্ত শরীরে দম করবেন।
আল্লাহর রহমতে আর কোনো সমস্যা থাকবে নাহ।
এরপরও যদি কোনো সমস্যা হয় আমাকে জানাবেন আর কুরেশি সাব মনে করে সন্ধ্যার পর দেখা করবেন কিন্তু..!
আব্রাহাম:- আচ্ছা, ইমাম সাহেব আমি নিশ্চয়ই দেখা করবো।
হুজুর চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চিত্রার জ্ঞান ফিরে এলো, চিত্রাকে দেখে একদম স্বাভাবিক মনে হলো, মনে হচ্ছে ও যেনো এতদিনের সব কথা ভুলে গেছে।
যাই হোক আমার মেয়ে সুস্থ হয়ে গেছে এটাই অনেক, ইশশশ যদি ওর মরো করে চৈতীর জীবনটাও রক্ষা করতে পারতাম ওই ইবলিশের হাত থেকে।
চিত্রা আর আমি একসাথে আছরের নামাজ আদায় করলাম, কিছুক্ষণ পর হাসমি মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে বাসায় ফিরে....
হাসমি:- আম্মু, আব্বু আজ রাতে হুজুরের কাছ থেকে হাবিজ নিয়ে আসবে
আমি:- যাক আলহামদুলিল্লাহ
হাসমি:- হ্যাঁ, কিন্তু আব্বু বলেছে কালকে চিত্রাকে নেত্রকোনা রেখে আসবে, যেদিন চৈতী সুস্থ হবে আর ইকবাল ভালো মানুষের মতো হতে পারবে সেদিন চিত্রাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনবে।
এসব নিয়ে অনেকক্ষণ কথাবার্তা হলো, তখনই আমজাদ আর ওর বউ হালিমা ভালুকা থেকে মুন্সিগঞ্জ আসে।
[আমরা মুন্সিগঞ্জ আসার আগে ভালুকা থাকতাম, ভালুকা থাকা কালীন হালিমা আর তোর সৎ দাদি সবসময় আমার খুঁত খুজতো আর বিনা কারণে আমার সাথে ঝগড়া করতো এজন্য তোর বাবা ওদের সাথে রাগারাগি করে তোর দাদার রেখে যাওয়া জায়গা জমিতে চলে আসি]
আমি:- আমজাদ ভাই আপনারা কি মনে করে এখানে এলেন..?
আমজাদ:- নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করতে চলে এলাম.!
আমি:- মানে.?
হালিমা:- আজ থেকে আমরা এখানেই থাকবো ভাবি..
আমি:- এখানে থাকবেন বুঝলাম কিন্তু কোথায় থাকবেন এখানে তোহ আপনাদের ঘর বাড়ি কিছুই নেই.??
আর আম্মাজান কোথায়..?
আমজাদ:- কিছুদিনের মধ্যেই আমরা ঘর বানাবো ভাবি, যতদিন নাহ ঘর তৈরি হচ্ছে ততদিন আপনাদের সাথেই থাকবো আম্মাজানও বলেছে আমাদের ঘর বানানো হলে উনি ফিরে আসবেন..
আমি:- আচ্ছা সবই বুঝলাম, তা হালিমা তুমি নাকী গর্ভবতী..?
হালিমা:- হ্যাঁ ভাবি, বিয়ের ১০ বছর পর মা হচ্ছি। এতগুলো বছর মা ডাক শোনার জন্য অনেক আক্ষেপ ছিলো অবশেষে আল্লাহ আমাদের দিকে তাকিয়েছেন।
আমি:- কয় মাস..?
হালিমা:- সাড়ে চার মাস, আপনিও তোহ গর্ভবতী আপনার কয় মাস হইছে..
আমি:- ৯ মাস হবে কিছুদিন পর
হালিমা:- কেমন একটা ব্যাপার বলুন তোহ এক দিকে মা কাকিয়া গর্ভবতী অন্য দিকে চৈতীও গর্ভবতী.....
চৈতীর কয় মাস চলছে....?
আমি:- ৬মাস
এভাবেই অনেকক্ষণ কথাবার্তা হলো, তারপর মাগরিবের আযান হয়, আমি, চিত্রা আর হালিমা মাগরিবের নামাজ আদায় করে সবে মাত্র উঠলাম তখনই আমজাদও মসজিদ থেকে আসে...
আমজাদ:- ভাবি, শুনলাম চৈতী নাকী অনেক অসুস্থ অনেক হুজুর মাওলানা দেখানোর পরও সুস্থ হচ্ছে নাহ....
আমি:- হ্যাঁ ভাই, এখন আর কোনো ভরসা নাই মনে হচ্ছে আমার মেয়েটা আর বাঁচবে নাহ...
আমজাদ:- কি বলেন ভাবি, পাকিস্তান থেকে মেহেনাকা খরব পাঠিয়েছিলো, ওদের ওখানে নাকী একজন ভালো হুজুর আছে ওখানে চৈতীকে নিয়ে যেতে বলেছে আপনাকে....
আমি:- কিন্তু এই অবস্থায় কিভাবে পাকিস্তানে যাবো, রাতারাতি পাসপোর্ট ভিসা কিভাবে কি করবো..?
তাছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের তোহ প্ল্যানে উঠা নিষেধ আমি যদি সাথে নাহ যাই আপনার ভাই এসবের কিছুই বুঝবে নাহ...
আমজাদ:- আপনি ভিসার চিন্তা করবেন নাহ, মিনহাজ ভাই বলেছে উনি ভিসার ব্যবস্থা করবে আপনি ভাইয়াকে বলে পাসপোর্ট করান আর প্ল্যানে করে যেতে হবে নাহ আমি আপনাদের মালবাহী গাড়ি করে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিবো
আমি:- আচ্ছা আপনার ভাই আসুক তাহলে...
কিছুক্ষণ পর হাসমি আর তোর বাবা মসজিদ থেকে এসে দেখে আমজাদ ভাই এসেছে...
তারা কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে কথা বললো।
তোর বাবা বেশ কিছুক্ষণ পর এসে বললো....
আব্রাহাম:- চিত্রা মা এদিকে আয় তোহ...
চিত্রা:- হ্যাঁ বাবা বলো
তোর বাবা চিত্রার হাতে তাবিজটা পড়িয়ে দিয়ে বললো....
আব্রাহাম:- এই তাবিজ খুলবি নাহ, আর কালকে আমি তোকে নেত্রকোনা তোর নানু বাড়ি রেখে আসবো যখন সময় হবে তোকে আবার বাড়ি নিয়ে আসবো
চিত্রা:- আচ্ছা আব্বু তুমি যা ভালো মনে করো।
আব্রাহাম:- কিগো আমজাদের কথা শুনলাম, এখন কি করবে....?
আমি:- তোমার যা ভালো মনে হয়,, মেয়েটাকে তোহ এভাবে মরে যেতে দেখতে পারি নাহ।
আব্রাহাম:- আচ্ছা কাল তাহলে চিত্রাকে নেত্রকোনা রেখে ওখান থেকে আগারগাঁও যাবো
আমি:- কেনো..?
আব্রাহাম:- আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে আনবো
আমি:- আচ্ছা তোমার যেভাবে সুবিধা হয়
আর একটা কথা এখন থেকে ওরা এখানেই থাকবে ওদের বলে দিও এখানে যেনো নতুন কোনো ঝামেলা সৃষ্টি নাহ করে
আব্রাহাম:- তুমি চিন্তা কইরো নাহ।
পরদিন সকালে আব্রাহাম আর চিত্রা নেত্রকোনা চলে গেলো।
আব্রাহাম চিত্রাকে নেত্রকোনা রেখে পাসপোর্ট বানিয়ে আনবে বলেছিলো কি জানি কি হলো সারাদিন পার হয়ে মানুষটা এখনো ফিরছে নাহ, কোনো বিপদ হলো নাহ তোহ।
নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতে থাকি, আমার ছেলে মেয়ে স্বামী পরিবারের সবাইকে নিয়ে যেনো সবসময় সুস্থ ও সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করতে পারি।
চৈতীকে এক প্রকার বেঁধে রাখি, আর ওই ইবলিশের বাচ্চা একটা দিনের জন্য খোঁজ নেয় নাহ বেঁচে আছে নাকী মারা গেছে।
এসব ভাবতে ভাবতেই ইবলিশের বাচ্চা এসে হাজির....
ইকবাল:- চিত্রা কোথায়..? ও আমার সাথে দুইদিন ধরে কথা বলছে নাহ কেনো..?
আমি:- চিত্রা এখন আর তোর বশে নেই, আল্লাহর রহমতে ও এখন পুরোপুরি সুস্থ আর ও এখানেও নেই ওকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছি..
ইকবাল:- কি করেছেন ওর সাথে
আমি:- তোকে বলবো কেনো..? যে তোর স্ত্রী তার খবর তোহ একটা দিনের জন্য নিস নাহ, তোর বিচার আল্লাহ ঠিকই করবে খালি সবুর করতে থাক।
ইকবাল:- আপনার বড় মেয়ে যেদিন সুস্থ হবে ওইদিন ওর সাথে সংসার করবো তার আগে নাহ, আর আমি জানি ও কোনোদিন সুস্থ হবেও নাহ
আমি:- আমার মেয়ের উপর তুইই কালো জাদু করেছিস কুত্তার বাচ্চা
ইকবাল:- কোনো প্রমাণ আছে
আমি:- আজ হয়তো কোনো প্রমাণ নেই কিন্তু একদিন প্রমাণ করবো ইনশাআল্লাহ
তোর যদি এতই সৎসাহস থাকে তাহলে চৈতীর পাশে থাকিস নাহ কেনো..?
ইকবাল:- থাকবো সময় হলে ঠিকই থাকবো
তখনই আব্রাহাম বাড়ি আসে....
আব্রাহাম:- আমিনা! আমিনা!
আমি:- আসছি..... হ্যাঁ গোহ কি হলো..?
আব্রাহাম:- ৭দিন পর পাসপোর্ট হাতে পাবো। আমরা সামনের সোমবার রওনা দিবো
ইকবাল:- কোথায় যাবেন
আব্রাহাম:- চৈতীকে নিয়ে পাকিস্তানে যাবো হুজুর দেখাতে
ইকবাল:- ওহ্ আচ্ছা তাহলে যান দেখেন কোনো লাভ হয় কি নাহ
আমাদের সামনে এমন একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে যে কি নাহ অপরাধী অথচ তাকে কিছুই বলতে পারছি নাহ, তার সামনে ঠান্ডা মাথায় কথা বলতে হচ্ছে যেনো আমরা সব জেনেও অজানা।
নিজেদের মধ্যে সব রাগ চেপে রাখছিলাম কিন্তু ওকে একটা কটুক্তি বলতে পারছি নাহ।
এভাবেই ১ সপ্তাহ কেটে গেলো....
আমরা চৈতীকে নিয়ে পাকিস্তান চলে যাই, হুজুর দেখাই অথচ কোনো লাভ হলো নাহ।
ওখানেই তোর জন্ম হলো, তোর জন্মের পর চৈতীর পাগলামি আরো বেড়ে গেলো।
তারপর তোর আব্বুর সাথে চৈতীকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দি, আমিও মাস খানেক পর তোকে ওখানে রেখেই ফিরে আসি।।
বাংলাদেশে আসার পর দেখি ইকবাল এখন একটু একটু চৈতীর পাশে থাকে, দেখে বেশ ভালোই লাগলো, প্রত্যেকটা মা-ই চায় তার মেয়েকে যেনো তার মেয়ের জামাই আগলে রাখে আমিও সব মায়েদের মতো এটাই চাই।
হয়তো মানুষটা খারাপ কিন্তু আমার মেয়েকে যেনো আর কষ্ট নাহ দেয়।
একদিন আলমাস ভাই আমাদের একজন হুজুরের ঠিকানা দেয়, হুজুরের নাম আল মূসা। ওই হুজুর নাকী এরকমন অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসা করে থাকেন।
আমরাও তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী হুজুরের কাছে গেলাম।
তিনি দেখতে মাশাল্লাহ, ৬ফুট লম্বা হবে, ফর্সা চেহারা পড়নে সাদা জুব্বা মাথায় একটা লম্বা টুপি।
হুজুর আমাদের দেখে খুব খুশি হলো মনে হচ্ছে...
আব্রাহাম:- আসসালামু আলাইকুম, ইমাম সাহেব
আল মূসা:- ওয়া আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতু।
আমি আগেই জানতাম আপনারা আসবেন...
আব্রাহাম:- কিভাবে জানলেন..?
আল মূসা:- সেসব থাকুক, এখন বলুন কার এবং কি সমস্যা
আব্রাহাম চৈতীকে সামনে এনে বললো...
আব্রাহাম:- এইতো হুজুর আমার বড় মেয়ের
আল মূসা:- তোমার নাম কি মা...?
চৈতী:- আমার তোহ অনেকগুলো নাম হা!হা!হা! কোনটা রেখে কোনটা বলবো...?
আমি:- ওর নাম চৈতী
আল মূসা:- তোমার হাতটা দেখি..
কিছুক্ষণ চৈতীর হাত দেখে হুজুর বললো....
আল মূসা:- ইয়া আল্লাহ! এই মেয়েকে তোহ মরণ বাণ মারা হয়েছে, ওর শরীরে জাহান্নামের বাদশাহ'দের মধ্যে একজন "পাইমন" জ্বিনকে পাঠানো হয়েছে, এই জ্বিন উঠে সওয়ারী করে আসে আর দেখতে অনেকটা মেয়েদের মতো ওরা পুরুষদের প্রতি দূর্বল কিন্তু যে লোক এই কাজ করেছে সে ইচ্ছে করে এমনটা করেছে কারণ সেই লোক জানে পাইমন জ্বীন কখনো মেয়েদের শরীরে প্রবেশ করবে নাহ বরং তাদের ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক খড়ন করিয়ে মেরে ফেলবে.....
আব্রাহাম:- এর কোনো সমাধান নেই...
আল মূসা:- সমস্যা যেহেতু আছে সমাধানও অবশ্যই আছে...
আমি:- কি সমাধান বলুন নাহ....
আল মূসা:- আপনারা কালকে ২১ ধরনের কাটা ওয়ালা গাছ থেকে ২১টি করে কাটা আনবেন, সাথে জোয়ার ভাটার পানি, একটা লাল গামছা, একটা মাটির হাঁড়ি, ৫ রকমের ৫টা ফল, ৫টা পান, ৫টা ধান, কিছু দুব্বা আর ৫টা কাঁচা পয়সা নিয়ে আসবেন।
আব্রাহাম:- আমার মেয়ে সুস্থ হবে তোহ..?
আল মূসা:- আল্লাহ ভরসা, ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবে।
এমন ভাবে কাজটা করে দিবো, যে লোক ওর উপর এই কাজ করেছে ওই লোকের বুকে কামোর দিয়ে পাইমন জ্বিন বিদায় নিবে
আমি:- তাই যেনো হয়....
তারপর আমরা চৈতীকে নিয়ে বাড়ি চলে আসি।