পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১১

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১১ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১১

কিছুক্ষণ পর চিত্রা আপুনি আমাকে আর তাইমন ভাইয়াকে ডাকতে এলো....

চিত্রা:- কিরে কই তোরা..?

তাইমন:- আরে চিত্রা আপু, আসো আসো..

চিত্রা:- পরে আসবো, এখন তোরা চল খাবি...

আমি:- তুমি যাও আমরা আসছি...

চিত্রা:- আচ্ছা, তাড়াতাড়ি আয়.

তাইমন:- চল, আমারও খুব ক্ষুধা লেগেছে সেই কোন সকালে নাস্তা করেছি...

আমি:- তুই যাহ আমি আসছি...

তাইমন:- আচ্ছা তাহলে আমি গেলাম তুই আয়...

তাইমন ভাইয়া যাওয়ার পর আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করলাম, এখানে আসার পর সবাইকে দেখতে পেলাম কিন্তু বড় আপুনিকে দেখলাম নাহ কারণটা ঠিক মাথায় ঢুকছে নাহ...

এসব ভাবতে ভাবতে আমিও খেতে চলে আসি...

ডাইনিং-এ এসে দেখি, আম্মু, হাসমি ভাইয়া, কাকিয়া, রুহানি, চিত্রা আপুনি, সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে...

কিন্তু তাইমন ভাইয়া এসেই খাওয়া শুরু করে দিয়েছে...

কাকিয়া:- আয় বাবা বস এখানে...

আম্মু:- আজকে আমি আর তোর কাকিয়া সব রান্না করেছি...

চিত্রা:- বাড়ির ছোট ছেলে এত বছর পর ফিরেছে, বাড়ির মা কাকিয়ারা করবে নাহ তোহ কে করবে..?

রুহানি:- এই চিত্রা আপু...এই শুনো নাহ...

চিত্রা:- বল...

রুহানি:- তোমার ভাই কি আমার হাতে মার খেয়ে আমাকে ভয় পাচ্ছে নাকী...

চিত্রা:- ভয় পাবে কেনো..?

রুহানি:- দেখো নাহ আমার দিকে তাকায়ও নাহ...

কাকিয়া:- কি এমন ফিসফিস হচ্ছে..? আর রুহানি চিশতির কাছে সরি বলো...

আম্মু:- আহ্ থাক নাহ ওরা ওরাই তোহ...

কাকিয়া:- নাহ, ভাবি ওরা ওরাই তোহ বললে হবে নাহ, রুহানি শুধু চিশতির সাথেই নাহ আরো অনেকের সাথেই এমনটা করেছে...

রুহানি তাড়াতাড়ি ক্ষমা চাও....

রুহানি:- আহা মা, খেতে এসেছি, খাবার দেওয়ার নাম করে বকা দিচ্ছো..

কাকিয়া:- চুপচাপ যা বললাম তাই করো..

চিত্রা:- থাক নাহ কাকিয়া এত বছর যখন কিছু বলিনি আজ হঠাৎ এত শাসন নাই-বা করলে..

হাসমি:- থাক রুহানি তোর সরি বলতে হবে নাহ, তুই খাবার খা...

আম্মু:- হ্যাঁ বাদ দে নাহ এসব ওরা ছেলে মানুষ ওরাই তোহ একটু আকটু ভুল করবে...

তাইমন:- এই চিশতি...

আমি:- হুম বল..

তাইমন:- উনারা কি বলছে কিছু বুঝতে পারছিস..?

আমি:- নাহ, চুপচাপ খেতে থাক...

চিত্রা:- চিশতি আর একটু ভাত দি..?

আমি:- নাহ! নাহ! আর লাগবে নাহ..

চিত্রা:- তাইমন তোমাকে দিবো...?

তাইমন:- হ্যাঁ দাও, আমাকে তাহলে আরেকটা ফ্রাই আর একটু গরুর ঝোল দিও...

আম্মু:- রান্না কেমন হয়েছে বাবারা..?

তাইমন:- অসাধারণ হয়েছে মামী..

আমি:- আম্মি তোমার কাছে কিছু প্রশ্ন ছিলো..?

আম্মু:- হ্যাঁ বাবা বল...?

হাসমি:- মা, তোমার ছেলে আসার পর থেকে একটার পর একটা প্রশ্ন করেই যাচ্ছে...

চিত্রা:- তুই চুপ থাক, তুই ওর জায়গায় থাকলে একই কাজ করতি...

আম্মু:- তোরা চুপ করবি, চিশতি বাবা বল কি প্রশ্ন..?

আমি:- আসার পর সবাইকে দেখলাম কিন্তু বড় আপুনিকে দেখলাম নাহ যে..?

ওরা কি আমাকে দেখতে চায় নাহ নাকী ওদের জানানো হয়নি যে আমি এসেছি..?

আম্মু:- ওদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই বাবা তুমি খেয়ে নাও এসবের পিছনে অনেক কাহিনি আছে সবটাই তোমাকে পরে বলবো...

আমি:- পরে কেনো এখন বলো...?

আম্মু:- বললাম তোহ পরে বলবো...

আম্মুর চোখে মুখে চাপা কষ্টের ছাপ দেখতে পেলাম তাই আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম নাহ।

চিত্রা:- থাক নাহ ভাই এসব কথা আর তুলিস নাহ।

তাইমন:- এত প্রশ্ন করার কি আছে দেশের বাড়ি এসেছিস, উপভোগ কর, খাওয়া দাওয়া কর ঘুরাঘুরি কর কোনো পড়াশোনা নেই কাজকাম নেই দিব্যি আরামের লাইফ।

রুহানি:- একদম ঠিক বলেছো..

তোমাদেরকে বিকেলো ঘুরতে নিয়ে যাবো, যাবে আমার সাথে..?

কাকিয়া:- কাউকে কোত্থাও যেতে হবে নাহ, তুমি যে ওদের কেমন ঘুরাবে তা আমার জানা আছে...

হাসমি:- আহ্ কাকিয়া এমন করছো কেনো, ওরা নতুন মানুষ ওদের আমরা নিয়ে নাহ গেলে কে নিয়ে যাবে আর রুহানি তোহ একা যাচ্ছে নাহ ওদের সাথে আমরাও যাবো।

কাকিয়া:- যা ভালো মনে করো তোমরা...

আম্মু:- যেখানেই যাবি সাবধানে যাস, আর সন্ধ্যার আগে আগে ফিরে আসবি।

চিশতির অসুস্থতার কথা তোহ জানিসই।

হাসমি:- তুমি চিন্তা করো নাহ আমরা তোহ আছি।

আমার খাওয়া শেষে আমি চলে যাচ্ছিলাম তখন...

রুহানি:- চিশতি...........

আমি:- জ্বি, কিছু বলবে..?

রুহানি:- ইয়ে মানে তখনকার ব্যবহারের জন্য সরি..

আমি:- ইট'স ওকে আমি কিছু মনে করিনি..

রুহানি:- সত্যি...

খাওয়ার টেবিল থেকে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

চিত্রা:- উহু! উহু!

কাকিয়া:- রুহানি! এগুলো কেমন স্বভাব.??

আম্মু:- রুহানি তুমি জানো যে এসব তোমার আব্বু আম্মু কেউই পছন্দ করে নাহ, এমনটা আর করবে নাহ..

হাসমি:- কি হলো বলো তোহ তোমাদের, সবাই মিলে মেয়েটার পিছনে লেগে আছো..

চিত্রা:- হ্যাঁ বাদ দাও এসব আর ভালো লাগে নাহ প্রতিদিনের একই চেচামেচি।

তাইমন:- আমাকে কেউ একটু বুঝাবে এখানে কি হচ্ছে..?

হাসমি:- তুমি খেতে থাকো তোমার বুঝতে হবে নাহ..

তাইমন:- চিত্রা আপু আমাকে আর একটু পোলাও দাও নাহ...

চিত্রা:- হ্যাঁ দিচ্ছি।

সবার এসব কথা শুনে রুহানি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলো, আমি চলে আসবো তখনই ওর এটো হাতটা আমার মুখে মেখে দিলো...

আমি:- কি এসব..?

আমার কিন্তু এসব ফাজলামো একদম পছন্দ নাহ...

নেক্সট টাইম যেনো আমার সাথে কেউ এমন ফাজলামো নাহ করে বলে দিলাম আর তুমি কখনো আমার আশেপাশে আসবে নাহ...

রুহানি:- সরি, আমি তোহ মজা....

আমি:- হোয়াট সরি, এগুলো কোনো মজা হলো..?

চিত্রা:- আচ্ছা ভাই থাক নাহ....

আমি:- তুমি চুপ করো আপুনি, এসেছি পর থেকে দেখে যাচ্ছি, আমি যেনো কোনো মানুষ নই একটা পশু এসেছি...

একের পর এক অপদস্ত হয়েই চলেছি...

আম্মু:- মাথা ঠান্ডা করো বাবা...

আমি:- আমার মাথা ঠান্ডাই ছিলো কিন্তু তোমাদের কাজকর্ম আর এই মেয়েটা আমার মাথা গরম করে দিচ্ছো বার বার...

আম্মু:- আমরা কি করলাম..?

আমি:- কি করোনি..?

২০টি বছর দেশের বাইরে নিজেদের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছো কখনো একটু খোঁজ নিয়েছো..?

কখনো খোঁজ পর্যন্ত নাওনি, বাড়িতে নিজের বোনের বিয়ে হয়ে গেলো অথচ আমাকে একটু জানানো হয়নি...

আসলে একটা সত্যি কথা বলবে...?

আম্মু:- কি কথা...?

আমি:- তোমরা কি সত্যি সত্যি মন থেকে আমাকে ভালোবাসতে..?

যদি সত্যি সত্যি মন থেকে ভালোবাসতে তাহলে একবার হলেও আমার সাথে যোগাযোগ করতে কিন্তু তোমরা তা করোনি...

আম্মু:- বাবা আমার কথাটা শুনো....

আমি রাগারাগি করে ওখান থেকে চলে আসি....

তাইমন:- চিশতিকে দেখতে নরম মনের মানুষ দেখা গেলে কি হবে ও আসলে অনেক রাগী বদমেজাজি।

আম্মু:- ওর রাগের পিছনেও একটা নরম মন আছে..

রুহানি:- সরি কাকিয়া..

আমার জন্য চিশতি রেগে গেলো..

কাকিয়া:- এখন সরি বলে কি হবে যা কান্ড ঘটানোর তা তোহ ঘটিয়ে ফেলেছো...

চিত্রা:- আহ্ কাকিয়া এখন একটু চুপ করো তোমরা...

একটা ছেলে কত বছর পর বাড়ি ফিরলো ওর সামনে অন্তত এসব ফ্যামিলি ড্রামা নাহ করলেও পারতে..?

আর তোমরা জানো নাহ ঠিক কোন কোন কারণে ওকে আমাদের থেকে দূরে রাখা হয়েছে..?

ওর মনের দিকটা একটু ভেবে দেখো তোমরা..?

ওর জায়গায় যে কেউ থাকলে একই কাজ করতো..

তাইমন:- কি হয়েছিলো..?

হাসমি:- তেমন কিছু নাহ, বাদ দাও ওইসব আর কিছু খাবে..?

তাইমন:- নাহ আর খেতে পারবো নাহ পেট একদম ফুল...

এদিকে আমি রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঘুমিয়ে পড়ি। বেশ কিছুক্ষণ পর কেউ একজন আমাকে ডেকছে বলে মনে হলো...

-- উঠো, উঠো, শালাবাবু উঠো...

আমি চোখগুলো মিটিমিটি করে খোলে..

আমি:- কে..?

সাইফ:- উঠো.....

আমি:- কিন্তু আপনি কে..?

চিত্রা:- এটাই তোর জিজু..

আমি:- ওহ্ আসসালামু আলাইকুম জিজু..

সাইফ:- ওয়া আলাইকুম সালাম!

কেমন আছো শালাবাবু..?

আমি:- আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনি..?

সাইফ:- আল্লাহর দয়ায় আর তোমার বোনের সেবায় আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

তাইমন:- ইয়ার জিজু কিন্তু অনেক ফানি, আমাদের সাথে এতক্ষণ কত আড্ডা দিলো হাসতে হাসতে আমার পেট ব্যথা হয়ে গেলো..

তখন রুমে ২টা ছেলে একজন ১০ বছর বয়সী আরেকজন ৭-৮ বছর বয়সী ছুটে এলো...

চিত্রা:- এইযে চিশতি তোর ভাগিনা

আমার বড় ছেলে রুহান আর ছোট ছেলে তিহান।

আমি:- মাশাল্লাহ নামগুলো যেমন সুন্দর দেখতেও তেমন সুন্দর।

সাইফ:- যাদের মা দেখতে এত সুন্দর তাদেরকে দেখতে তোহ সুন্দর হবেই..

আমি:- তা ঠিক..

চিত্রা:- বাচ্চাদের সামনে কি বলো লজ্জা করে তোহ..

তাইমন:- আয়হায় আমাদের চিত্রা আপু লজ্জায় লাল হয়ে গেলো...

তখন আমার রুমের বাইরে থেকে একজন নক দিলো...

রুহানি:- আসবো.....?

চিত্রা:- রুহানি! আয়..

সাইফ:- আধিঘারওয়ালী, আসো আসো...

রুহানি:- আসলে চিশতি ভাইয়া সরি বলার ছিলো..

আমি:- ইট'স ওকে।

আর আমাকেও ক্ষমা করে দিও হুটহাট রেগে যাই।

সাইফ:- বুঝলে চিত্রা, এই ঘরে বোধহয় বসন্তের বাসাত বইছে...

তাইমন:- একদম ঠিক বলেছেন আপনি জিজু...

চিত্রা:- রুহানি, আমার ভাইকে পছন্দ তোর..

রুহানি:- এসব ইয়ার্কি মজা ছাড়ো চলো আমরা এখন ঘুরতে যাবো...

তাইমন:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! চলো আমি তোহ সেই কখন থেকে বাংলাদেশ ঘুরার জন্য এক্সাইটেড।

আমি, রুহানি, চিত্রা আপু, জিজু, হাসমি ভাইয়া আর তাইমন ভাইয়া মিলে ঘুরতে বেরিয়ে পরলাম...

জায়গাটা খুব সুন্দর, একটা ছোট বিল...

পাশে একটা বাঁধা পুকুরও আছে, আমি আস্তে আস্তে পুকুরের সামনে গেলা, এক পা দু পা করে পুকুর ঘাটে এসে বসলাম...

খেয়াল করলাম রুহানি দূরেই দাঁড়িয়ে আছে সাহস করে আমার সামনে আসতে পারছে নাহ...

আমি:- এখানে এসে বসতে পারো...

রুহানি:- সত্যি আসবো..?

আমি:- হ্যাঁ

রুহানি:- আচ্ছা বসলাম, এবার বলুন এত বছর পর বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে...

আমি:- ভালোই, এখানকার প্রকৃতি একটু অন্য রকম, মন মাতানো পরিবেশ।

রুহানি:- কি নিয়ে পড়াশোনা করছেন আপনি..?

আমি:- সাইন্স নিয়ে ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট।

রুহানি:- আমার সম্পর্কে জানতে চাইবেন নাহ..

আমি:- ওহ্ হ্যাঁ তুমি কি নিয়ে পড়াশোনা করছো...

রুহানি:- ইতিহাস

আমার অনেক স্বপ্ন আমিও একজন ইতিহাস বিজ্ঞানী হবো..

আমি:- বেশ তোহ, দোয়া রইলো তোমরা জন্য..

রুহানি:- শুরু দোয়াই করবেন...

আমি:- তোহ আর কি করবো...?

রুহানি:- নাহ আর কিছু নাহ দোয়া করলেই হবে..

তাইমন:- এইযে লাভ বার্ডস'রা এখানে বসে আছে...

সাইফ:- কি! তোমাদের প্রেমালাপ হয়েছে..?

এবার কি বাড়ি ফিরবে নাকী এখানেই থাকার প্ল্যান আছে..?

চিত্রা:- সবসময় ওদের পিছনে লাগতে এসো নাহ তোহ...

আয় সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে এবার বাড়ি ফিরতে হবে...

বাড়ি আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো...

বাসায় এসে দেখি আব্বু আর চাচ্চু....

চাচ্চু আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে বললো...

চাচ্চু:- এটাই আমার সেই চাঁদের টুকরা ভাতিজা....

মাশাল্লাহ! দেখতে একদম চাঁদের টুকরা হয়েছে..

আব্বু:- হ্যাঁ ঠিকই বলেছিস...

চাচ্চু:- আব্বু তোমার হাটতা দেখি...

আমি চাচ্চুর দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিতেই চাচ্চু আমার হাতে একটা সোনার ঘড়ি পড়িয়ে দিলো।

আমি:- চাচ্চু! এটা কিসের জন্য...?

চাচ্চু:- তোমার জন্মের পর তোহ কিছু দিতে পারিনি তাই এটা আমার আর তোমার কাকিয়ার পক্ষ থেকে।

আর আমাদের তাইমন বাবা কোথায়..?

তাইমন:- এইযে মামাজি বলুন...

চাচ্চু তাইমনকে একটা সোনার হার আর আব্বু একটা ঘড়ি দিলো।

সাইফ:- সে ক্ষেত্রে আমাদেরও কিছু দেওয়া উচিৎ..

চিত্রা:- হ্যাঁ কিন্তু এখন কি দিবে...?

সাইফ:- এখন নাহ কাল দিবো...

তাইমন:- কি দিবেন জিজু...?

আমি:- আমাদের আর কিছু লাগবে নাহ, তোমাদের ভালোবাসা থাকলেই যথেষ্ট।

তাইমন:- চুপ করবি, উনারা দিতে চাইছেন তুই নাহ করছিস কেনো...?

আমি:- তাইমনের বাচ্চা, নিজেকে কন্ট্রোল কর...

তাইমন:- আচ্ছা আমি চুপ

চিত্রা:- রাত বাড়ছে খেয়ে নিবি আয়...

সবাই ডাইনিং-এ এসে খাওয়া দাওয়া করলাম।

ঘুমানোর ডিসিশন হলো, আব্বু-আম্মু এক রুমে, আপুনি আর জিজু এক রুমে।

তাইমন আর আমাকে এক রুমে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি আমার বিছানায় সহজে কাউকে এলাউ করি নাহ বিদ্বায় তাইমন আমার সাথে ঘুমতে রাজি হলো নাহ তাই জন্য ভাইয়াকে আর তাইমনক একসাথে এক রুমে দেওয়া হলো।

রাতে যে যার মতো ঘুমতে চলে গেলো, আমিও আমার রুমে চলে গেলাম...

কিছুক্ষণ পর আম্মু আমার রুমে এলো...

আম্মু:- চিশতি বাবা, আমি তোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি তোর ভালো লাগবে...

আমি:- আচ্ছা আম্মি।

আম্মু:- শোন বাবা, ২০টি বছর আমাদের প্রতি অনেক রাগ অভিমান পুষে রেখেছিস, আজ তোকে সবটা বলবো যাতে আমাদের প্রতি তোর জমিয়ে রাখা সব রাগ অভিমান দূর হয়ে যায়।

আমাদের ২টা মেয়ে একটা ছেলেই ছিলো আমরা কখনো ৪র্থ কোনো সন্তান নিতে চাইনি কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাদের অজান্তে তোকে আমার গর্ভে দিয়েছিলো...

বিষয়টা এখান অব্দি থাকলেই হতো কিন্তু বিষয়টা অনেক দূর অব্দি গড়িয়েছিলো....

আমি:- যেমন...

আম্মু:- দাঁড়া তোকে সব খুলে বলছি...

তখন চৈতীর নতুন নতুন বিয়ে হয়েছিলো, বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই চৈতীর উপর অশরীরির ছায়া পড়ে।

ওকে নিয়ে এদিক সেদিক কত হুজুর কবিরাজের কাছে যাই কিন্তু কিছুই হয় নাহ।

বরং দিন দিন ওর অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে।

নিজের জীবন নিজে দিতে চায়, বারংবার আত্মহত্যা করতে যায় আমরা সবাই কড়া পাহাড়ায় রাখিন ওকে যাতে ও নিজের এবং ওর গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করতে নাহ পারে।

হ্যাঁ তখন চৈতী ২ মাসের গর্ভবতী ছিলো আর আমাদের ভয় ছিলো ওর সন্তানের যেনো কোনো ক্ষতি নাহ হয়।

চৈতীকে নিয়ে যখন নেত্রকোনা যাই তখন রাস্তায় এক পাগল মহিলা আমাকে দাঁড় করিয়ে বলে...

-- ভয় পাস নে, তোর গর্ভে এমন একজন বেড়ে উঠছে যে তোদের জন্য কল্যাণময় এবং সে হবে অনেক শক্তিশালী, যে নিজের অসম্পূর্ণ প্রতিশোধ নিতে ফিরছে এবং তোদের আশেপাশের পাপ বিনাশ করবে, কিন্তু খবরদার তোর সন্তানকে তুই ততদিন নিজেদের কাছে রাখবি নাহ যতদিন ওকে ওর নিয়তি এখানে টেনে আনবে।

মহিলাটির কথায় আমি কিছুটা অবাক হলাম গর্ভবতী চৈতী তাহলে এই কথাগুলো আমাকে বললো কোনো..?

তারপর তোর নানু বাড়ি, নেত্রকোনাই তোর নানু বাড়ি ছিলো, ওখানে গিয়ে তোর নানুকে দিয়ে আমার নারী পরীক্ষা করাই তারপর তোর নানু বলে আমি গর্ভবতী।

তারপর একদিন তোর বড় মামাকে দিয়ে চৈতীকে হুজুর কবিরাজ দেখাতে পাঠাতাম আর আমি তোর নানুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাই ডাক্তার তখন কিছু চেক আপ করে বলে আমি ৫ মাসের গর্ভবতী।

কিন্তু এটা কি করে সম্ভব.??

আমরা তোহ কোনো সন্তান নিতে চাইনি আর এমন একটা সময় আল্লাহ তোকে আমার গর্ভে দিয়েছিলো যে সময়টাতে আমার বড় মেয়েও গর্ভবতী।

লোকলজ্জা কাটিয়ে সবার সামনে মাথা উচু করে চলতে লাগলাম যে যা ভাবার ভাবুক আমার সন্তানকে আমি লালন পালন করবো তাতে কার কি আসে যায় আমার দেখে লাভ নেই।

বিভিন্ন ভাবে চৈতীর চিকিৎসা করাই কিন্তু চৈত্র সুস্থ হচ্ছিল নাহ্।

এভাবেই দিন কাটতে থাকতে, মাস কাটতে থাকে আমি তখন ৯ মাসের গর্ভবতী কিছুদিন পরই আমার প্রসব হবে।

তখনই তোর পিপি আমাকে জানায় তাদের ওখানে নাকী ভালো হুজুর আছে চৈতীকে ওখানে নিয়ে যেতে।

কিন্তু রাতরাতি পাসপোর্ট বানাবো কিভাবে তাই জন্য আমি আর তোর আব্বু বর্ডারের সামন দিয়ে বিদেশগামী ট্রাকে করে চৈতীকে নিয়ে পাকিস্তান যাই।

চৈতীকে তোর পিপি আর ফুফাজি হুজুর দেখিয়ে আনে, হুজুর তেল পড়া পানি পড়া দেয় কিন্তু তাতেও চৈতী সুস্থ হচ্ছিল নাহ।

একদিন রাত ১২টার দিকে আমার প্রসব ব্যথা উঠে, চারিদিক কত সুন্দর, পূর্ণিমার রাত ছিলো ওইদিন।

তুই যখন জন্ম নিলি সাথে সাথে আকাশে কালো মেঘ ঘনিয়ে তুফান শুরু হলো।

তখন তোর পিপি বলেছিলো...

-- আমার ভাবিজা সুখ শান্তি নিয়ে জন্মেছে।

ওর এই চাঁদ কপাল কেউ কেড়ে নিতে পারবে নাহ।

তখন তোর মুখটা দেখে আমিও বুঝে গিয়েছিলাম সত্যিই তুই বিশেষ, তোর জন্মের বিশেষ কোনো কারণ আছে।

তোর জন্মের পর যেনো চৈতীর উৎপাদ আরো বেড়ে গেলো...

চৈতী যেনো এবার তোকে মারতে চায়, ওর সামনে তোকে পেলেই তোকে ছুড়ে ফেলে দিতো।

মাঝে মাঝে৷ তোকে মাটিতে ফেলে ও তোর উপরে বসে থাকতো।

নানানভাবে তোর ক্ষতি করতে চাইতো, যার কারণে তোর আব্বুকে দিয়ে চৈতী বাংলাদেশে পাঠিয়ে দি তার কিছুদিন পর আমিও তোকে নিয়ে বাংলাদেশ ফিরবো ভেছিলাম কিন্তু তখনই আমার সেই পাগল মহিলাটির কথা মনে পড়লো তাই তোকে সেখানে রেখেই আমি ফিরে আসি।

বাংলাদেশে আসার পর একজন ভালো আলেমের কাছে চৈতীকে দেখাই যিনি কোনো টাকা পায়সা নেন নাহ বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করেন।

আলহামদুলিল্লাহ উনার চিকিৎসার মাধ্যমে চৈতী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।

চৈতী তোকে খুন করতে চাইতো বলে ওদের সাথে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।

আম্মু সব কথার মাঝে যেনো কিছু একটা লুকিয়ে রাখতে চাইছে।

নয়তো আপুনি অসুস্থতার বশে আমাকে খুন করতে চাইতো সে জন্য কেনো তাদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে..?

আসল সত্যিটা কি যেটা আম্মু আমার কাছে লুকচ্ছে..?

আমি আম্মু বলতেই যাবো তখনই আম্মু বলে...

আম্মু:- অনেক রাত হয়েছে তুই ঘুমা আমি যাই কেমন...

আমি:- আচ্ছা আম্মু...

এরপর আম্মু চলে যায় আর আমিও ঘুমিয়ে পড়ি...