পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ০৮
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৮ · ৩০ পর্বের মধ্যে ৮
পিপি:- চিশতি, কে এসেছিলো..?
আমি:- ডেলিভারি বয়..
পিপি:- কি অর্ডার করলে....?
আমি:- তেমন কিছু নাহ পিপি....
আমি পার্সেলটা নিয়ে ছাঁদে উঠতে যাবো তখন আবারও পিপি ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করে...
পিপি:- উপরে কোথায় যাচ্ছো.??
আমি:- পিপি একটু ছাঁদে যাবো.!
পিপি:- এত রাতে ছাঁদে যাওয়ার কি দরকার.?
আমি:- বেশিক্ষণ লাগবে নাহ পিপি যাবো আর আসবো...
পিপি:- ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আসবে বলে দিলা, কিছুক্ষণ পর কিন্তু আমি রুম চেক করবো যদি রুমে নাহ পাই তাহলে কিন্তু ছাঁদে গিয়ে মারবো।
আমি:- আচ্ছা পিপি।
এই বলে পিপির গালগুলো টেনে দিয়ে ছাঁদে চলে গেলাম।
অনেকক্ষণ ধরে ছাঁদটা ডেকোরেশন করলাম।
ছাঁদ ডেকোরেশন করা শেষে হায়াতিকে টেক্সট দিলাম...
আমি:- কিরে কি করছিস..?
হায়াতি:- এইতো শুয়ে আছি, তুই কি করছিস...
আমি:- তুই কি এখনই ঘুমিয়ে পড়বি নাকী..?
হায়াতি:- হ্যাঁ, কেনো রেহ..?
আমি:- একবার ছাঁদে আসতে পারবি..?
হায়াতি:- কি! এতরাতে তাও আবার ছাঁদে? তুইও কি ছাদে আছিস নাকী..?
আমি:- হ্যাঁ! আয় নাহ একটা জিনিস দেখাবো...
হায়াতি:- এই তুই নাহ অসুস্থ, এই অসুস্থ শরীর নিয়ে ছাঁদে কি করছিস, আর যাই হোক আমি এত রাতে ছাঁদে যেতে পারবো নাহ, আম্মি দেখলে খবর আছে....
আমি:- আরে চুপ করে লুকিয়ে চলে আয় পিপি টের পাবে নাহ...
হায়াতি:- এই যাহ সর আমি আসতে পারবো নাহ...
আমি:- তুই আসবি নাহ তাই তো.?
হায়াতি:- আচ্ছা, তুই ছাঁদেই থাক আমি আসছি..
আমি:- সেই তোহ আসবিই তাহলে এত নাটক করলি কেনো...
হায়াতি:- দেখ এখন কিছু বললে কিন্তু আমি আসবো নাহ..
আমি:- আচ্ছা সরি তুই আয়, তাড়াতাড়ি!
কিছুক্ষণের মধ্যেই হায়াতি ছাঁদের করিডোরে এসে হাজির।
করিডোর দিয়ে ছাঁদে ঢুকতেই উপর থেকে ওর মাথার উপর স্নো ফোন আর গোলাপের পাপড়ি ঝড়ে পড়লো...
হায়াতি কিছু বলার আগেই আমি হাঁটু গেড়ে বসে একটা গোলাপ ফুলের তোরা আর এক বক্স চকলেট নিয়ে হায়াতিকে প্রপোজ করলাম....
আমি:- I Love You হায়াত, অনেক দিন ধরেই বলবো বলবো ভাবছি কিন্তু কখনো বলে মনে উঠা হয়নি, আসলে অনেক দিন ধরেই তোর প্রতি আমার একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিলো।
ভেবেছিলাম সবটা তোর কাছে গোপন রাখবো কিন্তু ফুফাজি হঠাৎ করে আমাকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দিবে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভাবলাম তোকে সবটা জানানো দরকার।
হয়তো আজ নাহ বললে আর কখনোই তোকে ভালোবাসি কথাটা বলা হবে নাহ।
আমি জানি তুইও আমাকে ভালোবাসিস..
হায়াতি আমার গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে বললো...
হায়াতি:- তোকে কে বলেছে আমি তোকে ভালোবাসি..?
আমি:- কি বলছিস তুই আমাকে ভালোবাসিস নাহ...?
হায়াতি:- আমি কখনোই তোকে ভালোবাসিনি, আর তাছাড়া আমার তোহ তোকে কখনোই পছন্দ ছিলো নাহ, তোর মতো এত ফর্সা ছেলে আমার একদম পছন্দ নাহ।
সত্যি বলতে তোকে আমি কখনোই ভাই ছাড়া অন্য কোনো দৃষ্টিতে দেখিনি।
দেখ, তুই একবার নিজেকেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখিস..
তোকে একদম সাদা বুড়োদের মতো লাগে, এত ফর্সা ছেলে আমার কেনো কোনো মেয়েদেরই পছন্দ নাহ।
শুধু তুই ফর্সা এটাই নাহ তোর চুলগুলোও দেখেছিস সোনালি রঙের, একেই তোহ অতিরিক্ত ফর্সা তার উপর সোনালি রঙের চুল বিশ্বাস কর একটা বুড়ো ছাড়া তোকে আর কিছুই মনে হয় নাহ।।
আমি কেনো কোনো মেয়েই তোকে পছন্দ করবে নাহ।
আমি:- হায়াত...
হায়াতি:- চুপ, একটা কথাও বলবি নাহ, তুই ভাবলি কি করে তুই আমাকে প্রপোজ করবি আর আমি তোর প্রপোজালে রাজি হয়ে যাবো, আমার মতো একজন মডার্ন মেয়ে তোর মতো সাদা বুড়োকে বানাবে নিজের লাইফ পার্টনার হা! হা! হা!
আমি:- দেখ, তুই আমার প্রপোজালে রাজি নাই-বা হতে পারতিস, তাই বলে এভাবে আমার রূপ, চেহারা নিয়ে কটুক্তি করতে পারিস নাহ্।
আজকে আমার জায়গায় অন্য কোনো ছেলে হলে তোর দেওয়া থাপ্পড়ের দ্বিগুণ থাপ্পড় তোকে দিতো।
হায়াতি:- কি বলতে চাস.? তুই এখন আমাকে মারবি.?
আমি:- দেখ আমি কখনোই এই কথা বলিনি।
আর কালকে চলে যাবো যদি সম্ভব হয়ে ক্ষমা করে দিস।
আর যাই হোক যাওয়ার আগে তোর আসল সত্যিটা জানতে পারলাম।
তখনই পিপি এসে ছাঁদে হাজির...
পিপি কিছুটা ধমকের সুরে হায়াতিকে বললো...
পিপি:- হায়াত নিজের রুমে যাও এক্ষুনি..
হায়াতি চলে যাওয়ার পর পিপি আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললো....
পিপি:- সরি ব্যাটা, আমি কখনো ভাবিনি আমার মেয়েটা এত বড় হয়ে গেছে, আমি আর তোর মতো ফুফাজি প্রথম দিন থেকেই ভেবে রেখেছিলাম তোর সাথে আমার হায়াতের বিয়ে দিবো কিন্তু আজকে আমি নিজের চোখে হায়াতের যে ব্যবহার দেখলাম তোর প্রতি তাতে আমি তোকে বলছি বাবা, তুই হায়াতকে ভুলে যা, ও তোর জন্য নাহ, আর যদি ওর অমতে তোদের বিয়ে হয়ও তাহলেও তোরা সুখী হবি নাহ।
আমি:- আমি ওকে ভুলে যাবো পিপি, ভাবলাম কাল তোহ চলেই যাবো তাই আমার মনের কথাগুলো ওর কাছে শেয়ার করে যাই...
পিপি:- কিচ্ছু বলতে হবে নাহ ব্যাটা আমি সবটা শুনেছি....
পিপি আছি নাহ, আমি তোমাকে প্রমিজ করছি তোমার জন্য ডানাকাটা পরী এনে দিবো...
পিপি কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি, এই মানুষটা আমাকে এত ভালোবাসে যে নিজের গর্ভের সন্তানকে সাপোর্ট নাহ করে আমাকে সাপোর্ট করছে আমি আসলেই কতটা ভাগ্যবান হলে এমন একজন পিপি পেয়েছি।
তারপর আমি আমার রুমে আর পিপি পিপির রুমে চলে গেলো।
কিছুক্ষণ পর পিপি, ফুফাজি আর তাইমন ভাইয়া আমার রুমে এলো...
পিপি:- আজকে রাতটা তোমাকে আর একা থাকতে হবে নাহ,তাইমন তোমার সাথে থাকবে।
আমি:- আচ্ছা পিপি ঠিক আছে।
ফুফাজি:- চিশতি ব্যাটা তাইমনের কাছে তোমাদের ফ্ল্যাইটের টিকিট আছে বুঝে নিও।
আমি:- আচ্ছা।
ফুফাজি:- কালকে যা যা শপিং করতে লাগে তাইমনকে সাথে নিয়ে করে নিও আমি তোমার পিপির কাছে টাকা দিয়ে যাবো।
তাইমন:- ঠিক আছে আব্বু আমি চিশতিকে সবটা বুঝিয়ে দিবো।
পিপি:- এই বই দুইটা দুইজনের কাছে রাখো, এখানে উর্দু থেকে বাংলা ট্রান্সলেশন করার কিছু পদ্ধতি আছে, ফ্ল্যাইটে বসে বসে কিছুটা শিখে নিও তাহলে বাংলাদেশে গিয়ে কিছুটা সহজ হবে।
ফুফাজি:- হ্যাঁ! দেখো আর কোনো বই আছে কি নাহ...
সবাই হাসতে লাগলাম...
পিপি আর ফুফাজি চলে গেলে আমি আর তাইমন ভাইয়া প্ল্যান করতে থাকি কালকে কি কি কেনাকাটা করবো।
সবকিছু প্ল্যান করতে করতে রাত প্রায় ২টার উপরে বেজে গেলো...
আমি:- বাকি প্ল্যান কাল সকালে করবো এখন ঘুমাই
তাইমন:- তোর খালি ঘুম, আচ্ছা ঘুমা সকালে ডাক দিস
আমি:- আমি ডাকতে পারবো নাহ তুই এলার্ম দিয়ে রাখ
তাইমন:- আচ্ছা