পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২২
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২২ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২২
সামিদ চাচ্চু ঝাড় ফুকে আমি নিজেই পায়ে হেটেই বাসা অব্দি আসি।
বাসায় এসে পা রাখতে নাহ রাখতে আমাদের বাড়ির উঠানে একটা কালো কাক ধপাস করে এসে পড়লো।
আমরা সবাই ছুটে গিয়ে দেখি কাকটা মারা গেছে, কিন্তু প্রশ্ন হলো কাকটা এখানে এলো কিভাবে..?
যাই হোক হয়তো উড়ার সময় মারা গেছে। ঘটনাটি এতটা আমালে নাহ নিয়ে কাকটাকে আব্বু বাড়ির বাইরে ফেলে আসে।
আমরা [আমি, হাসমি ভাইয়া, চিত্রা আপুনি আর জিজু] সেই প্রথম দিনের সিমেন্টর তৈরি বসার জায়গাটায় গিয়ে বসলাম।
সাইফ:- তোমাদের বাড়িতে৷ কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে৷ পারছি নাহ, তাইমন আর রুহানির মৃত্যুর পর থেকে কি সব হচ্ছে!
চিত্রা:- আমিও কিছুই বুঝতে পারছি নাহ, কাল ভাইয়ার শরীর খারাপ করলো আর আজ চিশতির।
সাইফ:- আমার মনে হচ্ছে কি, এই বাড়িতে বোধহয় তাইমন আর রুহানির আত্মা ঘোরাঘুরি করছে।
জিজুর মুখে এমন কথা শুনে হাসমি ভাইয়া হাসতে হাসতে বলে....
হাসমি:- হা!হা!হা আপনিও নাহ দুলাভাই হা!হা! এখনো সেই বাচ্চাদের মতোই কথা বলে... হা!হা!
এসব আবার হয় নাকী, সামিদ চাচ্চু তোহ বললেন আমার উপর বদ জ্বিনের নজর পড়েছিলো আর চিশতির তোহ এমনিতেই এলার্জির সমস্যা আছে তাই জন্য হয়তো এমনটা হয়েছে। ওসব বাদ দিন কালকে কিন্তু চিশতিকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি।
চিত্রা:- হ্যাঁ! তুমি ওইসব কথা বাদ দিয়ে কালকে একবার চিশতিকে নিয়ে ডাক্তারের কাছেই যাও বরং।
আমি তাদের কথা শুনছিলাম কিন্তু কোনো প্রতুত্তর করছিলাম নাহ, কারণ আমি আজকে যা দেখলাম তাতে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম নাহ। রুহানি কি সত্যি সত্যি ফিরে এসেছে..?
কিন্তু ও তোহ মারা গেছে, আমি নিজের হাতে ওকে মাটি দিয়েছি। ও কিভাবে ফিরে আসবে..? এটা হতে পারে নাহ।
এসব ভাবতে ভাবতেই শুনতে পাই আমাকে কেউ ডাকছে...
আমি পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখি রুহানি সেই বিভৎস চেহারায় আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
ওর শরীর থেকে আগুনে পোড়া দগ্ধ বাজে গন্ধ আমার নাকে ভেসে আসছে। আমি ভয়ে ভয়ে পর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। হুট করে রুহানি আমার সামনে এসে ওর আগুনে ঝলসে যাওয়া হাতটা দিয়ে আমার মুখটা শক্ত করে চেপে ধরে হা করালো। গতবারের মতো এবারও রুহানি সেই সাদা সাপ হয়ে আমার মুখের ভিতর ঢুকে গেলো আমি আবারও শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে থাকি। কিন্তু এবার বেশিক্ষণ ছটফট করতে হয়নি কারণ এবার সাথে সাথেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম।
শুনছি চিত্রা আপুনি মুখে:-
-----------------------------
আমরা সবাই একসাথে বসে কথা বলছিলাম কিন্তু তুই একা একা অন্যমনস্ক হয়ে বসে ছিলি।
হঠাৎ করে আমরা লক্ষ করি তুই ভয়ে কাঁপছিস, আমরা তোকে এত বার ডাকলাম কিন্তু তুই সারা দিচ্ছিলি নাহ।
এত ধাক্কাচ্ছিলাম তারপরও তুই যেনো আমাদের কোনো কথাই শুনছিলি নাহ। হঠাৎ করে তোর আবারও জ্ঞান হারায়।
প্রথম ভাবি সাধারণ ভাবেই জ্ঞান হারিয়েছিস তাই চোখে মুখে পানির ছিটা দি কিন্তু জ্ঞান ফিরেনি। কিছুক্ষণ অতিক্রম হতে নাহ হতেই দেখি তোর শরীর একদম নিস্তেজ হয়ে গেলো হাতের শিরা চলাচল বন্ধ শ্বাস পড়ছে নাহ, হৃদপিণ্ডে ধুকপুক করাও বন্ধ হয়ে গেছে।
তোর এমন অবস্থা দেখে আমরা সবাই অঝোরে কান্না করতে থাকি, এলাকার লোকজন দিয়ে আবারও বাড়িঘর ভরে যায়।
আমরা তোহ ভেবেই নিয়েছিলাম তুইও হয়তো আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিস তোর এমন অবস্থা দেখে আম্মুও জ্ঞান হারায় আর আব্বু তোহ মাথায় হাত দিয়ে উঠোনেই বসে কান্না করতে থাকে।
আমি আর হাসমি ভাইয়া তোকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকি তখন তোর জিজু আমাদের শান্ত হতে বলে তোর কাছে থেকে সরিয়ে এনে ও তোর বুকে ওর দুই হাত দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে দিয়ে যাচ্ছিলো। অনেকক্ষণ বুকে চাপ দেওয়ার পর তোর মুখ দিয়ে একটা শব্দ বের হয় "হাআআহ" আমার অজ্ঞান হয়ে যায়। কিন্তু এবার তোর হাতের শিরা চলাচল করছিলো, হৃদপিণ্ডও ধুকপুক করছিলো।
আমরা তাড়াতাড়ি করে আম্মুর চোখে মুখে পানির ছিটা দি আম্মু জ্ঞান ফেরা মাত্রই কান্না করতে শুরু করে।
তারপর তোকে ঘরে নিয়ে গিয়ে মাথায় পানি দিতে থাকি কিন্তু তারপরও তোর জ্ঞান ফিরছিলো নাহ।
তখনই আমাদের চাচ্চু তার শ্বশুর বাড়ি থেকে ফিরে আসে সাথে ফুফাজি আর কাকিয়াও।
তোর এই অবস্থার কথা সবটাই তাদের জানাই, তারা সবটা শুনে বলে....
চাচ্চু:- ভাবি, কিছু মনে নাহ করলে আমি কি একটু চেষ্টা করতে পারি যদি চিশতির জ্ঞান ফিরে..!
আম্মু:- তোমাকে কিভাবে বিশ্বাস করি বলো তোহ..?
চাচ্চু:- আমি তোহ এখন নিজেকে অনেক পরিবর্তন করেছি, তাহলে বিশ্বাস করতে অসুবিধা কোথায়..?
আব্বু:- আহা ফাতিমা তুমি শুধু শুধু বাঁধা সৃষ্টি করো নাহ, আমজাদ ভাই আমার তোর যেভাবে সুবিধা হয় সেভাবে কাজ কর তারপরও যেনো চিশতির জ্ঞান ফিরে আসে।
তারপর চাচ্চু তোর মাথার পাশে বসে বসে কি যেনো বিরবির করে পড়ছিলো আর তোকে ফু দিচ্ছিলো।
সবশেষে একটা মুরগির পালক তোর নাক দিয়ে আস্তে আস্তে পুরোটা ঢুকিয়ে কিন্তু তারপরও তোর কোনো হুশ ফিরেনি। এভাবে ৩-৪ বার করার পর তোর জ্ঞান ফিরে আর বলিস "আমাকে কেউ বিরক্ত করবে নাহ আমি এখন ঘুমবো" এই বলে আবারও অজ্ঞান হয়ে যাস।
তারপর আমি সবার সাথে কিছুটা রাগারাগি করে বলি "তোমরা এসব জ্বিন ভুত নিয়ে খেলতে খেলতে এখন সবকিছু তোমাদের কাছে জ্বিন ভুতের কারসাজি মনে হয়, ছেলেটা অসুস্থ ওর চিকিৎসার প্রয়োজন! ওকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া উচিৎ আর তোমরা ওকে বাসায় রেখেই কবিরাজি করে যাচ্ছো, এভাবে ছেলেটাকে কষ্ট দেওয়ার মানে কি.? তোমাদের কাউকে কোত্থাও যেতে হবে নাহ, আমি চিশতিকে আমার সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি যতদিন নাহ সুস্থ হয় ও আমার কাছেই থাকবে"
তারপর তোর জিজু একটা গাড়ি খবর দেয়, ততক্ষণে আমরা তোর জামা কাপড় গুছিয়ে তোকে রেডি করছিলাম।
তোকে নিয়ে যখন বের হবো তখনই আম্মু বলে...
আম্মু:- দাঁড়া চিত্রা! আমিও যাবো তোদের সাথে
তারপর তোকে নিয়ে আমি, আম্মু আর তোর জিজু আমাদের বাসায় চলে আসি।
আম্মুকে আমাদের বাসায় রেখে তোকে অজ্ঞান অবস্থায় হসপিটালে নিয়ে যাই।
হসপিটালে যাওয়ার পর.....
ডাক্তার:- পেসেন্টের জ্ঞান ফিরছে নাহ কতক্ষণ হয়েছে...?
সাইফ:- এই তোহ প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টা।
ডাক্তার:- ওর কোনো চিকিৎসা নেই, আপনারা ওকে নিয়ে চলে যান।
সাইফ:- মানে.?
ডাক্তার:- একটা পেসেন্ট দুই থেকে আড়াই ঘন্টা ধরে অজ্ঞান হয়ে আছে আর আপনারা এখন উনাকে হসপিটালে নিয়ে এসেছেন..?
আপনারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে তারপর দোষ দিবেন ডাক্তার ঠিক মতে চিকিৎসা করে নাহ।
এই অবস্থায় আমরা উনাকে কিভাবে চিকিৎসা দেবো বলেন..?
সাইফ:- আ-আমরা তোহ ডাক্তার নাহ, আপনারা দয়া করে কিছু একটা করুন, কাল রাত থেকে বার বার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এই দুই আড়াই ঘন্টা আগেও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল কিন্তু এবার অজ্ঞান হয়ে গেছে আর জ্ঞান ফিরেনি মাঝে তোহ হৃদপিণ্ডের ধুকপুকও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। প্লিজ ডাক্তার কিছু একটা করুন, যে-ভাবেই হোক ওকে সুস্থ করে দিন।
ডাক্তার:- দেখুন সুস্থ করার মালিক আল্লাহ আমি শুধুমাত্র আমার কর্তব্য পালন করতে পারি তাছাড়া আপনারা রোগীকে নিয়ে এত দেড়ি করে এসেছেন এতে খুব রাগ হচ্ছিল।
আপনারা একটা বর্ণ সাইন করুন যাতে রোগীর কিছু হলে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
তারপর তোর জিজু হসপিটালের কাগজপত্র সবকিছুতে সাইন করে দিয়ে তোকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে গেলেন।
ওখানে গিয়ে ডাক্তার তোর চেক আপ করে অনেকগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা দিলো [রিপোর্টগুলো বাস্তবে এখনো আছে] সবই করলাম কিন্তু কিছুই ধরা পরলো নাহ।
ডাক্তার বললো তুই একদম সুস্থ আছিস, তোর মধ্যে কোনো রোগ নেই হয়তো তোর ব্রেইনে কোনো সমস্যা হয়েছে যার ফলে এমনটা হচ্ছে, আমরা যেনো তোকে ভালো কোনো সাইক্রেটিস্ট দেখাই।
তারপর ডাক্তার তোর নাকের পাশ দিয়ে চোখের কিনারায় অনেক জোড়ে চাপ দিয়ে ধরলেন কিন্তু তারপরও তোর জ্ঞান ফিরছিলো নাহ এভাবে ৩-৪ বার চেষ্টা করার পরও যখন তোর জ্ঞান ফিরছিলো নাহ তখন অন্য একজন সিনিয়র ডাক্তার এসে তোর নাকে চাপ দিতেই তোর জ্ঞান ফিরে আসে।
তারপর আমাদের সাথে সজ্ঞানেই বাসায় ফিরলি, ৬হাজার ৭০০ টাকার ঔষধ দিয়েছে, এখন চুপচাপ ভাত খেয়ে নে ঔষধ খেতে হবে।
তারপর চিত্রা আপুনি আমাকে ভাত খাইয়ে দিলো।
প্লেটে ভাত অনেক ছিলো সেগুলো আমার পক্ষে খাওয়া সম্ভব ছিলো নাহ, অল্প কিছু খাওয়ার পর আর খাবো নাহ বলে বায়না করতে থাকি তখন চিত্রা আপুনি আমার উপর একটু রেগে যায় আর বলে...
চিত্রা:- তুই অসুস্থ ভুলে যাস নাহ, এখন তোকে বেশি বেশি খেতে হবে। কত পাওয়ারের ঔষধ দিয়েছে জানিস, এখন যদি ঠিক মতো নাহ খাস তাহলে শরীর ঠিক থাকবে কিভাবে..?
চিশতি:- তুমি যাই বলো আমি এখন কিছুতেই এত ভাত খাবো নাহ, তুমি ঔষধ দাও আমি ঔষধ খেয়ে নিচ্ছি।
চিত্রা:- তোর সাথে কথা বলে কোনো লাভ নেই! এই নে ধর...
আমি ঔষধ খেয়ে কিছুক্ষণ চিত্রা আপুনি মেয়েটার সাথে দুষ্টুমি করতে থাকি, দেখতে খুব কিউট হয়েছে একদম আমার বোনের মতো।
যেহেতু চিত্রা আপুনির বাসায় প্রথম বার এসেছি তাই ওদের বাসার কিছুই চিনি নাহ, আমি চুপ করে গিয়ে চিত্রা আপুনিকে জিজ্ঞেস করলাম....
চিশতি:- আপুনি তোদের ওয়াশরুমটা কোন দিকে..?
তারপর চিত্রা আপুনি আমাকে ওদের ওয়াশরুম দেখিয়ে দিলো, আমি ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে থেকেই কেমন কেমন লাগছিলো মনে হচ্ছিল আমার গলায় কিছু একটা আটকে আছে, নিশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে।
যাই হোক ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম।
বের হয়ে আপুনিকে ডাক দিবো তখনই দেখি রুহানি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই একই বিভৎস চেহারায়।
আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছিলাম নাহ, কেনোই বা বার বার রুহানি আমার সামনে আসে..?
ও কি আমায় কিছু বলতে চায়.?
নাকী আমার ক্ষতি করতে চায়.?
এখন কেনো এসেছে রুহানি..?
আর ওইদিন রুহানি কেনোই বা বললো "চল আমার সাথে"
নাহ কোনো হিসাব মিলছে নাহ, কোথাও নাহ কোথাও একটা গন্ডগোল আছে, কিন্তু কোথায়..?
এসব ভাবতে ভাবতে রুহানি আমার সামনে এগিয়ে এসপে ওর দুই হাত দিয়ে খুব জোড়ে আমার দুই কানে থাপ্পড় দিলো।
থাপ্পড় দেওয়ার সাথে সাথে আমার দুই কান দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলো, আমি আমার দুই কান হাত দিয়ে চেপে ধরে বসে চিৎকার করতে থাকি তখন রুহানি আবারও সেই সাদা সাপ হয়ে আমার মুখে ঢুকে গেলো আমি আবারও শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে লাগলাম।
আমার চিৎকার শুনে চিত্রা আপুনি আর আম্মু ছুটে এসে দেখে আমার দুই কান দিয়ে অঝোরে রক্ত পরে যাচ্ছে আর আমিও শ্বাসকষ্টে ছটফট করছি।
কখন জ্ঞান হারিয়েছি মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরে তখন নিজেকে এক নতুন জায়গায় আবিষ্কার করি।
এটা কোন জায়গা ঠিক চিনতে পারছি নাহ, এর আগে কখনো এখানে আসিনি।
মাথাটা প্রচন্ড ব্যথায় ছিঁড়ে যাচ্ছে, দু'হাতে মাথাটা চেপে ধরে আলতোভাবে উঠে বসে মিটিমিটি চোখে তাকালাম।
চোখ খুলে দেখি, আম্মু আমার পাশে শুয়ে আছে।
আম্মুকে শুয়ে থাকতে দেখে আমি আর ডাক দিলাম নাহ। আমিও আম্মুর পাশে চুপ করে বসে রইলাম।
মিনিট দু-এক পর রুমে চিত্রা আপুনি আর একটা মহিলা ঢুকলো।
চিত্রা:- কিরে ঘুম ভেঙ্গে গেছে..?
চিশতি:- উনি কে.? আর আমি এখানে এলাম কিভাবে.?
চিত্রা:- উনি তোর জিজু মামাতো ভাই ইয়ামিন ভাইয়ের বউ। তোর কি হয়েছিলো বল তোহ, ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ওমন চিৎকার করছিলি কেনো আর কান দিয়ে হঠাৎ এমন রক্ত বের হচ্ছিল কেনো..?
তোর এমন অবস্থা দেখে আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম নাহ। বাসায় একজন ডাক্তারকে এনে তোর কান থেকে রক্ত পড়াটা বন্ধ করাই উনি বললো "কানের কোনো ক্ষতি হয়নি কিন্তু শুধু শুধু এত রক্ত বের হচ্ছে কেনো সেটাই বুঝতে পারছে নাহ"
তখনই সামিনা ভাবি কল দিয়েছিলো এক কথায় দু কথায় তোর সমস্যার কথাটা উনার কাছে বলি।
উনি বললো "উনাদের এখানে নাকী ভালো হুজুর আছে, আমাদের উচিৎ তোকে একবার হুজুর দেখানো যেহেতু ডাক্তারের রিপোর্টে কিছুই উঠেনি"
তাই তোকে এখানে নিয়ে এলাম। বিকেলে আছরের পর আমরা হুজুরের বাড়ি যাবো।
চিশতি:- চিত্রা আপুনি শোন
চিত্রা:- হ্যাঁ বল
চিশতি:- একটু এদিকে আয়
চিত্রা আপুনিকে সাইডে নিয়ে গিয়ে বললাম....
চিশতি:- আমি রুহানিকে দেখতে পাই
চিত্রা:- মানে..?
চিশতি:- হ্যাঁ, আমার শ্বাসকষ্ট হওয়ার পূর্বে আমি রুহানির আগুনে ঝলসে যাওয়া বিভৎস চেহারাটা দেখি ও আমাকে নানা ভাবে আঘাত করে তারপর একটা সাদা সাপ হয়ে আমার মুখে ঢুকে যেতো যার ফলে আমার শ্বাসকষ্ট হতো।
চিত্রা:- তুই কি পাগল! তোর সাথে এতকিছু হচ্ছে আর তুই এখন বলছিস
চিশতি:- আমি অতোটা ভেবে দেখিনি। কিন্তু পর পর এতবার রুহানিকে দেখতে পাওয়া এখন মনে হচ্ছে এটা তোদের জানানো উচিৎ তাই বললাম।
চিত্রা:- আচ্ছা বিকেলে হুজুরের কাছে গেলেই বুঝা যাবে কোথা থেকে কি হয়েছে...
তারপর আমরা ইয়ামিন ভাইয়ের বাসায় দুপুরের খাবার খেলাম। আমার এখনো মনে আছে ওইদিন তাদের বাসায় ভাজা ইলিশ মাছ আর মগডাল দিয়ে ভাত খেয়েছিলাম।
যাই হোক খাওয়া দাওয়া শেষে আমি নিশ্চিন্তে একটা ঘুম দি। হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গে চিত্রা আপুনির ডাকে।
চিত্রা:- এই চিশতি! কিরে যাবি নাহ! উঠ তাড়াতাড়ি
চিশতি:- কোথায় যাবো
চিত্রা:- এই দেখ এখনই ভুলে গেছে, উঠ হুজুরের বাড়ি যাবো।
সামিনা:- ভাবি, যাওয়ার সময় মনে করে এক বোতল সরিষার তেল আর কাত্যায়ন কিনে নিয়ে যাবেন আর এই ধরুন আমি এই বোতলে পানি ভরে দিয়েছি। হুজুরকে বলবেন এগুলো যেনো পড়ে দেয়।
চিত্রা:- আচ্ছা। কিন্তু আপনি যাবেন নাহ আমাদের সাথে..?
সামিনা:- হ্যাঁ যাবো! কিন্তু আমি হুজুরের বাসায় ঢুকবো নাহ।
চিত্রা:- আচ্ছা ঠিক আছে, চলুন এবার
তারপর আমরা হুজুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। যেতে যেতে জানতে পারলাম এই হুজুরের নাম গফফার। আজ থেকে ১৯-২০ বছর আগে উনার কাছেও নাকী চৈতী আপুনিকে আনা হয়েছিলো। ইকবাল দুলাভাইয়ের সাথে কোনো এক কারণ নিয়ে এই হুজুরের সাথে ঝামেলাও হয়েছিলো। কিন্তু কি বিষয়ে ঝামেলা হয়েছে কেউ জানে নাহ।
যাই হোক আমরা কথা বলতে বলতে গফফার হুজুরের বাসায় এসে পৌছাই।
গফফার হুজুর:- আসসালামু আলাইকুম।
চিত্রা আপুনি আর আমি উভয়ে বললাম:- ওয়া আলাইকুম সালাম।
গফফার হুজুর:- আপনাদের তোহ ঠিক চিনলাম নাহ..?
চিত্রা:- আসলে হুজুর আমার ছোট ভাই দুই দিন ধরে ভয় পাচ্ছে! আমার চাচাতো বোন ১০দিন আগে আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলো। আর আমার ছোট ভাই বলছে ও নাকী প্রতিদিন ওকে দেখতে পায়। আগুনে ঝলসে যাওয়া চেহারা নিয়ে ওর সামনে আসে তারপর একটা সাদা সাপ হয়ে ওর মুখের ভিতর ঢুকে যায়।
গফফার হুজুর:- বুঝলাম! তোমার নাম কি বাবা...?
চিশতি:- জ্বি আমার নাম মোহাম্মদ চিশতি কুরেশি
গফফার হুজুর:- মাশাল্লাহ! মাশাল্লাহ! আচ্ছা বলো তোহ তুমি যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটো তখন কি তোমার মনে হয় কেউ তোমাকে পিছন থেকে ডাকে..?
চিশতি:- হ্যাঁ!
গফফার হুজুর:- তখন কি পিছনে তাকাও.?
চিশতি:- হ্যাঁ অনেক বার তাকিয়েছি
গফফার হুজুর:- আচ্ছা ৫টা ফুলের নাম বলো
চিশতি:- গাধা, গোলাপ, শাপলা, শিউলি, নীলকন্ঠ
গফফার হুজুর:- একটা বদ জ্বিনের আশ্রয় হয়েছে তোমার উপর, তুমি এত এত ফুল থাকতেও গাধা ফুলের নাম কেনো নিয়েছো জানো..?
চিশতি:- কেনো..?
গফফার হুজুর:- কারণ ওই জ্বিনটি তোমার ক্ষতি করেছে এজন্য। জ্বিনটি খুব শক্তিশালী। ওকে ছাড়াতে হলে তোমাকে একটা গোসল দিতে হবে যাতে তোমার উপর থেকে সকল বিপদ কেটে যায়।
চিত্রা:- গোসলের জন্য কি কি করতে হবে..?
গফফার হুজুর:- বেশি কিছু নাহ, একটা লেবু, একটা আপেল, একটা নতুন ছুড়ি, একটা নতুন গামছা, এক বোতল গোলাপ জল, আগরবাতি, মোমবাতি আর হাদিয়া ৫০০০ টাকা।
চিত্রা:- আচ্ছা! গোসল কবে দিতে হবে.?
গফফার হুজুর:- আজ তোহ বৃহস্পতিবার! শনিবার অথব মঙ্গলবার গোসলটা দিলে ভালো হয় আপনারা পরশুদিন আসবেন।
চিত্রা:- ঠিক আছে। তাহলে হুজুর আমরা সাথে তেল,পানি আর কাত্যায়ন নিয়ে এসেছিলাম যদি ওইগুলো পড়ে দিতেন তাহলে হয়তো এই দুইদিন সুস্থ থাকতে পারে।
গফফার হুজুর:- অবশ্যই। দিন আমি পড়ে দিচ্ছি।
তারপর হুজুর তেল, পানি আর কাত্যায়ন পড়ে দিলো।
গফফার হুজুর:- তেল পড়াটা দিনে যতবার ইচ্ছা নাভিতে, চোখে আর কানে মাখতে হবে।
পানি পড়া তিন বেলা খাওয়ার আগে ও পরে নিয়ম করে খেতে হবে।
আর চিশতি বাবা তোমার ডান হাতটা এদিকে দাও...
আমি হুজুরের দিকে ডান হাতটা বাড়িয়ে দিলাম। হুজুর আমার ডান হাতে কাত্যায়ন বেঁধে দিলো।
তারপর হুজুরকে বিদায় জানিয়ে আমরা ইয়ামিন ভাইদের বাসায় চলে আসি।
তাদের বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, চিত্রা আপুনি ওর বাসায় যেতে চাইলে সামিনা ভাবি কিছুতেই যেতে দিতে রাজি হচ্ছিল নাহ কিন্তু চিত্রা আপুনি অনেক জোড়াজুড়ি করে বাসায় ফিরে আসে।
[কি মনে হচ্ছে নেক্সট এপিসোডে গোসল দিলে চিশতি একদম সুস্থ হয়ে যাবে.? সবই জানতে পারবে শুধু অপেক্ষা করো]