পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২৫

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২৫ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২৫

আমাকে চিত্রা আপুনির কাছ থেকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসা হয়। তারপর আব্বু আম্মু মূসা হুজুরকে খুঁজে বের করে তার কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুনছি আম্মির কাছ থেকে:-

--------------------------------

প্রথম দিন তোর আব্বু মূসা হুজুরের সাথে কথা বলে। উনি জানায় যে আমরা যেনো তোকে উনার কাছে নিয়ে যাই।

চিত্রার কাছ থেকে আনার পর রাতের বেলা তোকে আমাদের কাছেই রাখতাম। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও আমাদের সাথে ঘুমিয়েছিলি। রাত তখন প্রায় দুইটার কাছাকাছি হবে, হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। চোখ খুলেই দেখি আমাদের সিলিং এর উপর উল্টো হয়ে একটা কালো মহিলা অবয়ম ঝুলে আছে। তার বড় বড় চুলগুলো যেনো উপর থেকে আমাদের মশারীর উপর এসে পরছিলো। পরক্ষণেই ওই অবয়মটা তোর দিকে হাত বাড়ায়, হাতের নখগুলো ছিলো বেশ বড় বড় হাতটা ছিলো লোমশ। অবয়মটা দেখে তোকে জড়িয়ে ধরে আয়াতুল কুরসি পড়তে শুরু করি। আয়াতুল কুরসি পড়ে তোর শরীরে এবং আমার শরীরে ফু দিয়ে উপরে তাকিয়ে দেখি অবয়মটা আর নেই।

পরদিন সকালেই সময় নষ্ট নাহ করে হুজুরের কাছে তোকে নিয়ে যাই।

ওখানে গিয়েও তুই কেমন পাগলের মতো আচরণ করছিলি। হুজুর তোর সাথে কথা বলতে চাইলে তুই হুজুরকে থু থু দিতি। আর বলতি "তুই আমাকে হারাতে পারবি নাহ, শুধু শুধু নিজের জীবনটা হারাবি। ওর সাহায্য করতে এলেই তুই সহ তোর পরিবার সবাইকে মরতে হবে" কিন্তু মূসা হুজুর ভয় নাহ পেয়ে বলে "আল্লাহ ব্যাতিত আমি আর কাউকে ভয় পাই নাহ। তিনি যদি চান তাহলে আমি মরতেও রাজি কিন্তু তোর মতো সয়তানের ভয়ে একমন অসহায় মানুষকে তোর হাতে মরতে দিবো নাহ"

ওইদিন তোকে দেখে হুজুর পানি পড়া আর তেল পড়া দিয়েছিলো সাথে কাত্যায়নও দিয়েছিলো।

আমি বললাম "ওর শরীরে তোহ আগে থেকে কাত্যায়ন পড়া আর একজন কবিরাজের দেওয়া সাত রঙের সুতা পড়া আছে তাছাড়া তেল পড়া ও পানি পড়াও আছে ওইগুলা কি করবো" আমার মুখে এই কথা শুনে উনি বললেন "আপাতত ওইসব তেল পড়া, পানি পড়া ব্যবহার করতে হবে নাহ উনি যেগুলো দিয়েছে সেগুলোই যেনো ব্যবহার করি আর ওই কাত্যায়ন পড়া ও সুতাগুলোও যেনো খুলে উনার দেওয়া কাত্যায়ন পড়া ব্যবহার করি।

ওইদিন এসব নিয়েই আমরা চলে আসি, তোর শরীর থেকে ওই কাত্যায়ন পড়া, সুতা এগুলো খুলে ফেলার পর তুই যেনো অনেকটাই সুস্থ হয়ে গিয়েছিলি কিন্তু দিনে অনেকবার জ্ঞান হারাতি। একবার অজ্ঞান হলে ৩-৪ ঘন্টায়ও জ্ঞান ফিরতো নাহ। যখন জ্ঞান ফিরতো তখন একা একা বসে থাকতি৷ কারো সাথে কথাও বলতি নাহ।

পরদিন তোকে নিয়ে আবারও হুজুরের কাছে গেলে তিনি জানান যে রাতে উনার জ্বিনের সাথে উনি কথা বলে তোর সাথে থাকা সয়তানের পরিচয় জানতে পেরেছে।

" তোর সাথে ঘউল নামক একটা জ্বিন ছিলো, ১০জন শক্তিশালী জ্বিনদের মধ্যে এই জ্বিন একজন। এই জ্বিন বেশিরভাগ সময় সাপের রূপ ধারণ করে থাকে। এরা কবরস্থানে থাকতে বেশি পছন্দ করে এবং মানুষকে ধোঁকা দিতে এরা পারদর্শী। এরা মানুষের হাড়গোড় ও কাঁচা মাছ, শুকনা মাছ এসব পছন্দ করে। এই জ্বিন কোনো মানুষের শরীরে একবার প্রবেশ করলে তাকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। এই জ্বিনগুলো আবার মিষ্টি খেকো হয়ে থাকো। ওরা মিষ্টি খেতে অনেক ভালোবাসে। "

আম্মুর মুখে এই কথা শুনে আমি কিছুটা আন্দাজ করতে পারলাম। ইউনুস দেওয়ানের সেই কথাটা মনে পড়লো "কাটা দিয়ে কাটা তুলতে হয়" তার মানে আমার মধ্যে সর্প শক্তি আছে বলেই তারা সাপরূপী জ্বিন চালান করেছে যাতে বিষে বিষে বিষক্ষয় হতে পারে। এজন্যই আমি বার বার সাপ দেখতাম আর একটা কিছুদিন ধরে আমার শরীরের সাপের ছোবলের চিহ্ন পাওয়া যেতো।

আর এই জ্বিনই আমাকে বার বার রুহানি ও চিত্রা আপুনি রূপ নিয়ে আমাকে ধোঁকা দিতো।

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আম্মুকে বললাম "তারপর"

আম্মু আবারও বলতে থাকে......

হুজুর এসব বলার পর আমাদের কিছু পণ্য সামগ্রী যোগাড় করে আনতে বলে। সেগুলো হলো "২কেজি মিষ্টি, ২লিটার দুধ, ২১ ধরনের ২১টা করে কাটা, জোয়ারভাটার পানি, মাটির হাঁড়ি, একটা নতুন গামছা, আগরবাতি, মোমবাতি, ২টা কাঁচের গ্লাস আর বেল পাতা"

এগুলো যোগাড় করে আজকে উনার কাছে তোকে নিয়ে এসেছি। এবারও আমরা সবাই অযু করে গিয়ে উনার বাপ দাদার আসনের ১০১টাকা হাদিয়া দিলাম। তারপর উনি তোকে সেই বৃত্তের মাঝে নিয়ে বসালো আর আমরা সবাই বৃত্তের বাইরে বসলাম। এক এক করে উনি তোর সামনে কাঁচের গ্লাস, দুধ আর মিষ্টিগুলো সাজিয়ে দিলো। আসনে আগরবাতি মোমবাতি জ্বালিয়ে দিলো। চৈতীকে সুস্থ করার সময় যেভাবে হাঁড়ির মধ্যে ২১ ধরনের কাটা, বরই পাতা, জোয়ারভাটার পানি আর জমজমের পানি রেখে গামছা দিয়ে মুখ বেধে রেখেছিলেন এবারও একই ভাবে মুখ বেধে দিলেন।

তারপর আমরা সবাই দুরুদ পড়তে শুরু করি। উনিও তোর মাথার উপর হাঁড়িটা শক্ত করে ধরে রেখে রুকাইয়া আয়াত পড়তে থাকেন। পুরো ঘরটি কাঁপতে শুরু করে সাথপ বাতাস বইছিলো। চারিদিক থেকে পঁচা দূর্গন্ধ আর ফুস ফুস শব্দ ভেসে আসছে। তোর সামনে থাকা কাঁচের গ্লাস দুইটা ঠাস করে ভেঙ্গে গেলো। মিষ্টিগুলো আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সবগুলো মিষ্টি গায়েব হয়ে যায় কিন্তু কে খাচ্ছিল দেখা যায়নি।

কিছুক্ষণ পরেই তোর উপর সেই জ্বিন এসে হাজির হয়, জ্বিন এসে হাজির হয়ে গেলো অথচ জটায়ু আসেনি মূসা হুজুরকে সাহায্য করতে।

যাই হোক, তোর উপর যখন জ্বিন হাজির হয় তখন মূসা হুজুর নানান ভাবে প্রশ্ন করে কিন্তু সে কোনো উত্তর দেয়নি। হুজুরও উনার মতো করে রুকাইয়া করে যাচ্ছে কিন্তু তারপরও সেই জ্বিন একটা টুঁশব্দও করলো। শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিলো মূসা হুজুর জ্বিনের কাছে পরাজয় হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তখনই মূসা হুজুর জোড় গলায় চিৎকার দিয়ে "আল্লাহু আকবর" বলে মাটির হাঁড়ির মুখ খুলে দেয়, হাঁড়িতে থাকা সব পানি তোর উপরে পরে। পানির সাথে যে কাটাগুলো ছিলো সবগুলো কাটা তোর শরীরের এমন ভাবে গেঁথে ছিলো দেখে মনে হচ্ছিল কেউ ইচ্ছে করে তোর শরীরে কাটাগুলো বিধিয়ে রেখেছে।

এবার সেই জ্বিন চিৎকার করতে থাকে....

"আআআআআআআআ মূসা তুই কাজটা ঠিক করলি নাহ"

আল মূসা:- তোরা নাপাক, নাপাকেই তোদের বসবাস। এজন্যই তোদের শরীর জ্বালানোর জন্য পবিত্রতা অবলম্বন করতে হয় আমাদের। তোরা কি ভেবেছিস তোরাই একমাত্র কাটা দিয়ে কাটা তুলতে জানিস। দেখে নে কাটার উপর কিভাবে কাটা বিধতে হয়।

"মূসা ভালো করলি নাহ, এর ভোগান্তি তোকে ভোগ করতে হবে!"

আল মূসা:- তুই কি ভোগান্তি ভোগ করাবি আমাকে.? আগে নিজেকে তোহ এখান থেকে মুক্তি কর। তুই জানিস এখানে কত বড় বড় জ্বিন হার মেনেছে আর তুই তোহ সাধারণ "ঘউল"। তোরই এখানে হার মানতে হবে।

" মূসা আবারও বলছি, ভালো করলি নাহ কাজটা!"

মূসা হুজুর কোনো প্রতুত্তর দেওয়ার আগেই যেনো কোনো অদৃশ্য শক্তি এসে তোকে জোড়ে চড় মারলো সাথে সাথে তোর শরীর থেকে সবগুলো কাটা ঝড়ে পড়ে গেলো আর তোর মুখ থেকে একটা সাদা সাপ বেরিয়ে এসে দুধ পান করে কিছুদূর যেতেই উধাও হয়ে যায় আর তুইও অজ্ঞান হয়ে পরে যাস।

তখন বুঝতে পারলাম হয়তো জটায়ু এসে বাকি কাজটুকু সম্পূর্ণ করেছে।

আম্মুর মুখ থেকে সবকিছু শুনে কিছুটা অবাক হলাম। যাই হোক আমি এবার সুস্থ। আমার সামনে এখন পর্যন্ত তিনজন কালো জাদুকরের পরিচয় এলো। তাদের মধ্যে একজন আমার চাচ্চু, একজন আমার ফুফাজি আর একজন ইউনুস দেওয়ান। তবে গফফার হুজুর আমার সাথে এমনটা করলো কেনো..?

তার মানে চার নাম্বার কালো জাদুকর গফফার হুজুর.??

নাহ! নাহ! এটা কি করে হতে পারে! উনি একজন হুজুর.!

যদি হুজুরই হয়ে থাকে তাহলে উল্টো আয়াত পাঠ করার কারণ কি..?

হয়তো কালোজাদু কাটার জন্যই কালোজাদুর প্রয়োগ করেছিলেন কিন্তু সফল হননই।

যাই হোক এখন এসব ভাবার সময় নাহ, এখন আমার উদ্দেশ্য ওই তিন জনকে আগে শাস্তি দেওয়া আর ওদের মাধ্যমেই বাকি ৭জনের কাছে পৌঁছানো।

এমনিতেই অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে গেলো আমার অসুস্থতার জন্য।

আমি এখনো বুঝে উঠতে পারছি নাহ, যদি আমার মধ্যে কোনো অলৌকিক ক্ষমতা থেকে থাকে তাহলে আমার উপর কালোজাদু প্রয়োগ হচ্ছে কিভাবে..?

আরে আমিও নাহ মনভোলা, সাক্ষী তোহ আগেই বলেছিলো আমার শক্তির চেয়েও বেশি শক্তিশালী হচ্ছে কালো জাদুকরদের কালোজাদু।

যদি ওরা এত শক্তিশালী হয় তাহলে ওদের হারাবো কি করে..?

সমস্যা যেহেতু আছে এর সমাধানও নিশ্চয়ই আছে, এতকিছু ভেবে লাভ নেই যখন সময় হবে তখন ওদের হারানো যাবে।

আরেকটা কথা, এই কয়দিন সাক্ষী আমার সাথে দেখা করতে এলো নাহ কেনো..?

হয়তো কালোজাদুর প্রভাবে সাক্ষী আমার সাথে দেখা করতে পারেনি।

যাই হোক ওর সাথে আমার অনেক কথা আছে, এখান থেকে গিয়েই ওর সাথে কথা বলতে হবে।

একা একা এসব ভাবতে ভাবতে হুশ ফিরে মূসা হুজুরের ডাকে...

আল মূসা:- এখানে বসো

চিশতি:- জ্বি কিছু বললেন.?

আল মূসা:- হ্যাঁ! এখানে বসো

চিশতি:- ওহ্ আচ্ছা বসছি

তারপর মূসা হুজুর আমার শরীর থেকে কাত্যায়নগুলো খুলে ফেললেন। আর নতুন একটা কাত্যায়ন দিলেন সাথে একটা তাবিজও। তাবিজটা ডান হাতে পড়িয়ে দিলেন। আর গলায় ব্যবহার করার জন্য কাত্যায়ন পড়ে দিলো।

সব কাজ শেষ করে যখন বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলাম তখনই মূসা হুজুর আমাকে আবারও ডাক দিলেন...

আল মূসা:- চি-চিশতি এক-বার এদিকে শুনো

চিশতি:- হ্যাঁ বলুন

আল মূসা:- আজকে প্রথম থেকে জটায়ু কেনো ছিলো নাহ জানো..?

চিশতি:- জটায়ু মানে.? ওহ্ হ্যাঁ মনে পড়েছে আম্মি একবার বলেছিলেন উনার কথা। হ্যাঁ তোহ ছিলো নাহ কেনো...?

আল মূসা:- আচ্ছা ওসব পরে বলছি, আগে তোমার সাথে কিছু আলোচনা করার আছে ওগুলো শেষ করি...

চিশতি:- হ্যাঁ বলুন

আল মূসা:- আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে যখন তোমার আব্বু আম্মু চৈতীকে মানে তোমার বড় বোনকে নিয়ে এখানে এসেছিলো তখন তোমার বোনকে সুস্থ করার জন্য জটায়ু আমাকে সাহায্য করেছিলো সে কথা নিশ্চয়ই জানো.?

চিশতি:- হ্যাঁ! আম্মি বলেছিলো আপনার কাছে আসা প্রত্যেকটা রোগীকে আপনার সাথে একত্রিত হয়েই জটায়ু সাহায্য করে যাতে তারা সুস্থ হতে পারে।

আল মূসা:- হ্যাঁ! সবাইকেই সাহায্য করে। কিন্তু তোমার বোনের বেলা অনেকটা ব্যতিক্রম ছিলো

চিশতি:- যেমন.?

আল মূসা:- জটায়ু সাধারণত অদৃশ্য হয়েই সবাইকে সাহায্য করে যেমনটা আজ তোমাকে করেছিলো। কিন্তু তোমার বোনের বেলা সে নিজের সশরীরে এসেছিলো কেনো জানো..?

চিশতি:- কেনো..?

আল মূসা:- কারণ সে ছিলো আদিশক্তির বড় বোন এবং তার সাথে এক দানবীয় শক্তির বিয়ে হয়েছিল। সেই দানবীয় শক্তি তাকে দিনের পর দিন অত্যাচার করে যাচ্ছিল সেজন্য জটায়ু তোমার বোনকে বাঁচানোর জন্য নিজের সশরীরে এসেছিলো।

হুজুরের মুখে এই কথা শুনে আমি রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গেলাম, তার মানে আমার বড় জিজুও একজন কালো জাদুকর। তার মানে আমার সামনে এখন ৪জনের আসল রূপ এসেছে।

চিশতি:- মানে.?

আল মূসা:- মানেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি কি বলতে চাইছি! তুমি সেই আদিশক্তি যার জন্য জটায়ু এতদিন অপেক্ষা করেছে। সে তোমার বাম হাত। তোমাকে প্রতিটা পদে সাহায্য করবে। আর তুমি চাইলেই সে আমাকে অভিশাপ মুক্ত করবে।

চিশতি:- আচ্ছা আমি সবটাই বুঝলাম কিন্তু আপনি জোড় গলায় কিভাবে বলছেন যে আমিই সেই আদিশক্তি যার জন্য জটায়ু অপেক্ষা করছিলো..?

আল মূসা:- যেদিন জটায়ু নিজের সশরীরে এসেছিলো সেদিনই আমার সন্দেহ হয়েছিলো। তারপর তোমার বাবা মাকে বিদায় জানিয়ে আমি জটায়ুকে পুনরায় আসার অনুরোধ করলে সে আমাকে জানায় "চৈতী আদিশক্তির বড় বোন এবং তার সাথে এক দানবীয় শক্তির বিয়ে হয়েছে আর সেই দানবীয় শক্তি প্রতিনিয়ত চৈতীকে অত্যাচার করছে এজন্যই আমি নিজের সশরীরে এসেছি"

এরপর তোমার বাবা মা তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসার আগের দিন রাতে জটায়ু আমার স্বপ্নে এসেছিলো। সে আমাকে বলেছিলো "ওরে মূসা তোর অপেক্ষা শেষ হতে চললো এবার আমার সেই আদিশক্তি হুকুম করলেই আমি তোকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করে দিবো" তাছাড়া কালকেও সে আমার স্বপ্নে এসেছিলো "মূসা এই সেই আদিশক্তি, কাল যার রুকাইবা করতে যাচ্ছিস। তুই তাকে সবটা খুলে বলবি যদি সে তোর বাসায় দাঁড়িয়ে আমাকে হুকুম করে আমি তোর অভিশপ্ত মুক্ত করে দিবো"

তুমি কৃপা করে জটায়ুকে হুকুম করো যাতে সে আমার উপর থেকে অভিশাপ ফিরিয়ে নেয়। আজ ২৩ বছর ধরে কোনো সন্তানের মুখ দেখি নাহ। একমাত্র আদিশক্তির অপেক্ষায় ছিলাম। আমি জানতাম তুমি আসবে আর আজ সেই দিনটাও এসেছে। তুমি আর নাহ করো নাহ।

মূসা হুজুরের মুখে এসব কথা শুনে আমার সমানে যেনো সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেলো। যাই হোক তার মানে সাক্ষী আর জটায়ু হবে আমার পথের সাথী। ওদের নিয়েই আমাকে এই লড়াই লড়তে হবে। যাই হোক জটায়ুকে পাশে পেয়ে নিজের মনোবল আরো একটু শক্ত হলো।

মূসা হুজুর যেহেতু আমাকে এতটা সাহায্য করলো তাই আমারও উচিৎ উনাকে সাহায্য করা। এজন্যই আমি ওখানে দাঁড়িয়ে বললাম "জটায়ু! আমি জানি তুমি আমাকে শুনতে পাচ্ছো। আজ এই মুহুর্তে মূসা হুজুরের বাসায় দাঁড়িয়ে আদিশক্তি তোমাকে হুকুম করছে তুমি মূসা হুজুরের উপর থেকে তোমার অভিশাপ ফিরিয়ে নাও"

এই কথা বলে আমি চলে আসি। আসার সময় আমার নাম্বার হুজুরকে দিয়ে এলাম আর উনার নাম্বারটাও আমি নিয়ে এলাম। আসার সময় হুজুরকে বললাম "এই লড়াইয়ে আপনাকেও আমার পাশে চাই আশা করি পাবো"

উনি মাথা নাড়িয়ে সহমত জানালেন।

তারপর সবার সাথে বাড়ি ফিরে আসি।

এখন যেনো আমি একদম সুস্থ। আমার মধ্যে আর কোনো সমস্যা নেই। কতদিন পর প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে পারছি। এখন মনে হচ্ছে বাঁচার মতো বাঁচতে পারবো। কিন্তু এখনো যে সেই সময় হয়নি, আমাকে এখনো অনেক কাজ করতে হবে। সেই ১০জন অসৎ পাপাত্মা কালো জাদুকরদের শাস্তি দিতে হবে।

খুব আরামেই ওইরাতটা কাটাই। সকালে কারো একজনের কল পেয়ে ঘুম ভাঙ্গে! ফোনটা তুলে দেখি মূসা হুজুর কল করেছেন....

চিশতি:- হ্যালো! আসসালামু আলাইকুম

আল মূসা:- ওয়া আলাইকুম সালাম! ধন্যবাদ তোমাকে

চিশতি:- কিন্তু কেনো..?

আল মূসা:- জটায়ু তোমার দেওয়া হুকুম মেনে নিয়েছে আজ রাতে সে আমার স্বপ্নে এসেছিলো "মূসা! আজ আমি তোর উপর থেকে আমার অভিশাপ ফিরিয়ে নিলাম। আমি এখন আর তোদের আসনে থাকবো নাহ, আমি আমার সঠিক জায়গা পেয়ে গেছি। আমি তার কাছেই ফিরে যাবো। এখন আর তোর বংশে কোনো বংশ পরম্পরা থাকবে নাহ তোরা মুক্ত। আমাকে এখন সেই আদিশক্তির পাশে থাকতে হবে। আজ আমি তাকে সাহায্য করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি, এবার আগামীতেও যেনো তার পাশে থাকতে পারি। আর তুইও আমাদের পাশে থাকবি, একটা কথা মনে রাখিস, আদিশক্তির উপর যখন কেউ কালোজাদু করবে তখন কিন্তু আমরা তার পাশে থাকতে পারবো নাহ, যখনই আদিশক্তির উপর কেউ কালোজাদু করবে তুই তাকে সাহায্য করবি" এই বলে জটায়ু চলে যায়।

আমি তোমার সাথে আছি চিশতি, আমি তোমার সাথে আছি। তোমার যেকোনো বিপদে আমাকে স্মরণ করবে আমি প্রাণপণ তোমাকে সাহায্য করবো।

[আশা করি আজকের এপিসোডে সবকিছু ক্লিয়ার হয়েছে। আগামীতে আরো রহস্য আছে]