পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২৯

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২৯ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২৯

সবশেষে আমার শত্রু তালিকা থেকে চারজনের নাম মুছে ফেললাম। এক এক করে বাকি ৬জনের নামও মুছে ফেলবো।

গফফার হুজুর আর ইউনুস দেওয়ানকে তাদের পাপের শাস্তি দিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।

খুব স্বস্তির একটা ঘুম হলো৷ সকালে ঘুম ভাঙ্গে চিত্রা আপুনি চিৎকারে.....

চিত্রা:- একি চিশতি! তোর পাঞ্জাবিতে এত রক্ত কিসের..?

এখন কি করবো..? আমার শরীরে যে রক্ত লেগে আছে অন্ধকারে খেয়ালই করিনি। এখন কি উত্তর দিবো..? কোন সত্যির কথা বলবো..? নাহ আমাকেই এটার সমাধান বের করতে হবে। একটা সত্যি লুকাতে হলে আরেকটা সত্যি প্রকাশ করতে হবে তা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

চিশতি:- ইয়ে মানে আপুনি!

চিত্রা:- কি মানে মানে করছিস.? বল রক্ত এলো কোত্থেকে..?

চিশতি:- হ্যাঁ বলছি তো.! কিন্তু কিভাবে বলবো.? তুমি কি নাহ কি মনে করিস.?

চিত্রা:- আমি আবার কি মনে করবো.? তুই আগে বল রক্ত এলো কোত্থেকে..?

চিশতি:- আসলে কাল রাত থেকে আমার অনেক রক্ত বমি হচ্ছিল। রাতে বমি করতে করতে খেয়ালই ছিলো নাহ আমার গায়েও রক্ত লেগে আছে...

চিত্রা:- তোর রক্ত বমি হচ্ছিল..?

চিশতি:- হ্যাঁ!

চিত্রা:- কই ফ্লোরে তোহ কোনো রক্ত নেই..?

চিশতি:- আমি কি রুমে বমি করেছিলাম নাকী

চিত্রা:- তাহলে.?

চিশতি:- রাতে হঠাৎ করেই বমি পাচ্ছিল ছুটে ওয়াশরুমে চলে গেলাম বমি করতে। তারপর দেখি আমার মুখ দিয়ে টাটকা রক্ত বের হচ্ছে।

চিত্রা:- তুই আমাকে ডাকলি নাহ কেনো...? আর মাঝরাতে কোথায় গিয়েছিলি..?

চিশতি:- মানে.?

চিত্রা:- রাতে পানি খাওয়ার জন কিচেনে গিয়েছিলাম। কিচেন থেকে আসার সময় তোর রুমে এসে দেখি তুই রুমে ছিলি নাহ। কোথায় গিয়েছিলি তখন..?

চিশতি:- ওহ্ তাই বল! তখনই হয়তো আমি ওয়াশরুমে ছিলাম

চিত্রা:- কিন্তু তখন তোহ ওয়াশরুমের লাইট অফ ছিলো..?

চিশতি:- এমন ভাবে বমি পাচ্ছিল যে ওয়াশরুমের লাইট অন করতেই ভুলে গেছিলাম।

চিত্রা:- কি জানি হবে হয়তো! যাগগে ওইসব ছাড় এখন। তোর কি অনেক প্রবলেম হচ্ছে..?

চিশতি:- কিসের প্রবলেম.??

চিত্রা:- এইযে বললি রক্ত বমি হচ্ছে

চিশতি:- ওহ্ হ্যাঁ! তা তোহ হচ্ছে

চিত্রা:- তাহলে আজকে আমার সাথে ডাক্তারের কাছে চল

চিশতি:- নাহ! নাহ! নাহ! আমি ডাক্তারের কাছে যাবো নাহ

চিত্রা:- ওমা যাবি নাহ কেনো.? এই নাহ বললি তোর রক্ত বমি হচ্ছে

চিশতি:- হ্যাঁ! হচ্ছে তোহ

চিত্রা:- তাহলে যাবি নাহ কেনো

চিশতি:- ডাক্তারের কাছে গেলেই তোহ ইনজেকশন! নাহ বাবা নাহ আমি ইনজেকশন নিতে পারবো নাহ

চিত্রা:- বোকা নাকী তুই! ডাক্তারের কাছে গেলে আগে চেক আপ করবে তারপর তোহ টেস্ট করবে তার আগে কি কোনো ইনজেকশন দিবে নাকী.?

চিশতি:- যাই হোক, আমি ডাক্তারের কাছে যাবো নাহ।

চিত্রা:- একদম কোনো কথা নাহ! ব্রেকফাস্ট তৈরি করতে যাচ্ছি। ব্রেকফাস্ট করে তারপর আমরা ডাক্তারের কাছে যাবো।

এখন চিত্রা আপুনিকে বুঝাবো কিভাবে এটা কোনো ডাক্তারি অসুখ নাহ্

চিত্রা:- কিরে কি ভাবছিস এত..?

চিশতি:- আআ! হ্যাঁ! নাহ! মানে! কিছু নাহ!

চিত্রা:- আমতা আমতা নাহ করে একটু পর ব্রেকফাস্ট করতে আয়

চিশতি:- আচ্ছা

এরপর সকালের ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পরলাম হসপিটালের উদ্দেশ্যে। ডাক্তারের কাছে যেতে আমার একদম বিরক্ত লাগে। কিছুতে কিছু হলেই বলবে ইনজেকশন দিতে হবে, রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে, আরো কত কি..? উফ বিরক্তিকর! একটা সত্যি লুকাতে গিয়ে যে এভাবে ফেঁসে যাবো বুঝিনি।

আমরা যে হসপিটালটিতে গেলাম, হসপিটালটির নাম ছিলো "মেডিনোভা"। চিত্রা আপুনির বাসা থেকে হসপিটালে যেতে প্রায় ৩০মিনিট সময় লাগে।

৩০মিনিট গাড়ি জার্নি করার পর আমরা গন্তব্য স্থানে এসে পৌছলাম। আমাদের যেতে হবে এই হসপিটালের তৃতীয় তলায় মানে সেকেন্ড ফ্লোরে।

সিঁড়ি চড়তে আলসেমি লাগার কারণে চলে গেলাম লিফটের কাছে। লিফটের কাছে গিয়ে দেখি ইয়া বড় লাইন। এত্ত বড় লাইন পেরিয়ে লিফটে উঠতে হলে আজকে আর ডাক্তারের চেম্বারে পৌঁছাতে হবে নাহ। তাই আবারও পা পিছিয়ে হাঁটা ধরি সিঁড়ি দিয়ে।

সিড়ি দিয়ে হাটতে হাটতে চলে এলাম সেকেন্ড ফ্লোরে। সেকেন্ড ফ্লোরে আসার আমাকে ওয়েটিং জোনে বসিয়ে রেখে চিত্রা আপুনি গেলো রিসিপশনে, এটা জিজ্ঞেস করতে যে ডাক্তার ফারুম হাসান এসেছেন কি নাহ!

কিছুক্ষণ পর চিত্রা আপুনি ওয়েটিং জোনে এসে আমার সাথে দেখা করে বলে....

চিত্রা:- ডাক্তার এখনো আসেনি..

চিশতি:- তাহলে তোহ ভালোই, চল বাড়ি ফিরে যাই

চিত্রা:- চুপ করে এখানে বসে থাক। কিছুক্ষণ পরই ডাক্তার আসবে।

এতটুকু বলার পর খেয়াল করলাম চিত্রা আপুনি যেনো কিছু একটা দেখে খুব অবাক হয়েছে। ওর চোখগুলো বড় বড় হয়ে যেনো কপালে উঠে গেছে... চিত্রা আপুনিক অবাক হতে দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম...

চিশতি:- কিরে.! এই আপুনি.? কি হয়েছে তোর..?

চিত্রা:- সাদিয়া! তুই এখানে..? কত বছর পর দেখলাম তোকে..? কোথায় থাকিস তুই..? কেমন আছিস.? তোর বাসার সবাই কেমন আছে.?

আমিও পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলাম একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স আনুমানিক ১৮-১৯ এর কাছাকাছি হবে। দেখতে মাশাল্লাহ। দুধে আলতা গায়ের রঙ। মেয়েটার মধ্যে আকর্ষণীয় জিনিস হচ্ছে ওর চুল। চুলগুলো প্রায় পা ছুঁই ছুঁই।

সাদিয়া:- আস্তে আস্তে! এতগুলো প্রশ্ন একসাথে..?

চিত্রা:- এত বছর পর দেখে খুব এক্সাইটেড হয়ে গেছি। যাই হোক এখানে কি করছিস..?

সাদিয়া:- হুম বুঝতে পেরেছি। মা'কে নিয়ে এসেছি

চিত্রা:- কেনো আন্টির কি হয়েছে আবার.?

সাদিয়া:- প্রেশার একদমই নাই। বার বার মাথা ঘুরে পরে যায়।

চিত্রা:- বুঝলাম! তা তুই কোথায় ছিলি এতদিন আর কেমন আছিস.?

সাদিয়া:- ঢাকা ছিলাম আন্টির বাসায়। আমি ভালোই আছি তুমি কেমন আছো.?

চিত্রা:- আমিও ভালো আছি.?

সাদিয়া:- উনি কে.? আর তুমি এখানে কি করছো.?

চিত্রা:- ও আমার ছোট ভাই। এখানে ওর জন্যই এসেছি

সাদিয়া:- কেনো কি হয়েছে উনার.? আর এর আগে তোহ উনাকে কখনো দেখিনি.? কোথায় ছিলো উনি.?

চিত্রা:- কাল রাত থেকে ওর রক্ত বমি হচ্ছে এজন্য ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এলাম।

সাদিয়া:- তুমি কিন্তু আমার আরেকটা প্রশ্নের উত্তর দিলে নাহ.?

চিত্রা:- কোন প্রশ্নটা বল তোহ.?

সাদিয়া:- উনি কোথায় ছিলো এতদিন, আগে তোহ কখনো দেখিনি

চিত্রা:- ওহ্! ও তোহ এতদিন পাকিস্তান ছিলো আমাদের পিপির কাছে। কিছুদিন হলো বাংলাদেশে ফিরেছে।

সাদিয়া:- আচ্ছা।

ওদের কথোপকথনের মাঝখানে আমি চিত্রা আপুনিকে ডাক দিয়ে বললে...

চিশতি:- কিরে, কে এই মেয়েটি..?

চিত্রা:- আলমাস কাকুর কথা শুনেছিলি নাহ.?

চিশতি:- হ্যাঁ! আম্মি বলেছিলো একদিন

চিত্রা:- ও আলমাস কাকুর ছোট ভাই ইলিয়াস কাকুর একমাত্র মেয়ে।

চিশতি:- ওহ্! ও কোথায় থাকে.?

চিত্রা:- আরে আমাদের বাসার অপর পাশেই তোহ ওদের বাড়ি.!

চিশতি:- নারায়ণগঞ্জ.?

চিত্রা:- ধূর! তোদের বাড়ি মানে মুন্সিগঞ্জ.!

চিশতি:- ওহ্ বুঝলাম। আগে তোহ কখনো দেখিনি তাই বললাম

চিত্রা:- আগে দেখবি কি করে, তুই তোহ নিজেই এলি কিছুদিন হলো। তার উপর আসা মাত্রই অসুস্থ হয়ে পড়লি।

চিশতি:- হুম!

চিত্রা:- এই রেহ! যাহ!

সাদিয়া:- কি হলো আপু.?

চিত্রা:- সাদিয়া! তুই একটু চিশতির সাথে এখানে থাকিস তোহ। আমাকে এক্ষুনি একবার বাসায় যেতে হবে। আর হ্যাঁ, ওকে কিন্তু একা ছাড়বি নাহ, ও কিন্তু বাংলাদেশের কিছুই চিনে নাহ। আমি যতক্ষণ নাহ ফিরছি ততক্ষণ তুই ওর সাথেই থাকিস।

সাদিয়া:- আচ্ছা! থাকবো। কিন্তু তোমার কি হলো হঠাৎ..?

চিশতি:- কিরে কি হলো আবার.?

চিত্রা:- টাকা আর মোবাইল আনতে ভুলে গেছি। আমাকে এক্ষুনি বাসায় যেতে হবে। তুই সাদিয়ার সাথেই এখানে থাক। কোত্থাও যাবি নাহ কিন্তু.! আমি যাবো আর আসবো।

চিশতি:- আচ্ছা! ঠিক আছে। তবে তাড়াতাড়ি আসিস।

চিত্রা:- ঠিক আছে। আমি গেলাম। আর সাদিয়া ওকে একটু দেখে রাখিস।

সাদিয়া:- ঠিক আছে আপু। তুমি নিশ্চিন্তে যাও।

এরপর চিত্রা আপুনি বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরে।

কিছুক্ষণ পর নিরবতা কাটিয়ে সাদিয়া আমাকে জিজ্ঞেস করলো...

সাদিয়া:- আপনার নাম কি ভাইয়া..?

চিশতি:- জ্বি! কিছু বললেন..?

সাদিয়া:- হ্যাঁ! আপনার নাম জিজ্ঞেস করেছি.?

চিশতি:- ওহ্! আমি চিশতি। আর আপনি সাদিয়া ঠিক বলেছি তোহ..?

সাদিয়া:- হ্যাঁ! একদম ঠিক বলেছেন। তোহ রাজাকার মহাশয় পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসার মূল উদ্দেশ্য কি..? আবারও নতুন করে যুদ্ধ করতে চান নাকী.? হি!হি!হি!

চিশতি:- আপনাকে হাসলে খুব সুন্দর লাগে[এক দৃষ্টিতে যেনো ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বললাম]

সাদিয়া হয়তো লজ্জা পেয়েছিলো। আমার কথা শুনেই হাসা বন্ধ করে বললো..

সাদিয়া:- সত্যি! আমি যেমন সুন্দর করে হাসতে জানি তেমন ভয়ংকর ভাবেও হাসতে জানি

চিশতি:- তাতে কি.! একটা মানুষকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগে কখন জানেন..?

সাদিয়া:- কখন.?

চিশতি:- যখন সে মানুষটি হাসে।

সাদিয়া:- বাহ্! ফ্লার্ট করছেন..?

চিশতি:- প্রশংসা করলেও দোষ। থাক আমি আর কিছু বলছি নাহ

সাদিয়া:- এই নাহ!নাহ! আমি তোহ মজা করলাম। আচ্ছা আপনি বলুন তোহ, একটা মানুষকে সবচেয়ে বেশি কুৎসিত কখন লাগে..?

চিশতি:- কখন..?

সাদিয়া:- যখন একটা মানুষ কান্না করে.! হা!হা!হা!

আমিও ওর কথা শুনে হেসে দিলাম। সাদিয়া আবারও বললো...

সাদিয়া:- আমি কান্না করার সময় কি করি জানেন..?

চিশতি:- কি করেন..?

সাদিয়া:- কান্না করতে করতে আয়নার সামনে গিয়ে দেখি আমাকে কেমন লাগছে হা!হা!হা!

আমি আবারও হেসে দিলাম। মনে হলো অনেক দিন পর তাইমন ভাইয়ার মতো একটা মানুষ পেয়েছি যার সাথে আমার মেন্টালিটি ম্যাচ হয়।

হাসতে হাসতে বললাম...

চিশতি:- আপনি কিন্তু অনেক ফানি..

সাদিয়া:- ইয়া! আই নৌ দ্যাট। আচ্ছা আপনি কি ফেইসবুক চালান..?

চিশতি:- নাহ!

সাদিয়া:- কি বলছেন.? এই যুগে এসেও আপনি ফেইসবুক চালান নাহ..?

চিশতি:- আসলে আমি ফেইসবুক ইউজ করি, ফেইসবুক চালাই নাহ।

সাদিয়া:- ওহ!হা!হা!হা! ভাই আপনিও কিন্তু অনেক মজার মানুষ! বিশ্বাস করুন আজ অনেক দিন পর এমন পাগলের মতো হাসলাম।

চিশতি:- জ্বি আমিও।

সাদিয়া:- আপনি কি সবসময়ই এমন কম কথা বলেন.?

চিশতি:- নাহ! তেমনটা নাহ! অনেক কথা বলি যদি কারো সাথে মেন্টালিটি ম্যাচ হয়

সাদিয়া:- তোহ! আমার সাথে ম্যাচ হবে..?

চিশতি:- হবে হয়তো!

সাদিয়া:- হয়তো.?

চিশতি:- নাহ! হয়ে গেছে!

সাদিয়া:- হা!হা!হা তাই বলুন

চিশতি:- এবার তোহ হাসির কিছু বলিনি.?

সাদিয়া:- হুম জানি! জানি! আমার কেনো জানি নাহ খুব বেশি হাসি পাচ্ছে। অতিরিক্ত খুশি হলে যা হয় আরকি।

চিশতি:- এত খুশি হওয়ার কারণ কি.?

সাদিয়া:- আই থিঙ্ক! আমি একজন মনের মতো ফ্রেন্ড খুঁজে পেয়েছি। উইল ইউ বী মাই বেস্ট ফ্রেন্ড...

এই বলে সাদিয়া আমার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলো। আমিও ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম।

সাদিয়া:- আপনার ফেইসবুক আইডির নাম কি..?

চিশতি:- "Chishty Qureshi"

সাদিয়া:- ওয়েট! দেখুন তোহ এটা আপনার আইডি নাকী..?

চিশতি:- কই দেখি! হ্যাঁ! হ্যাঁ! এটাই আমার আইডি।

সাদিয়া:- বাপ রেহ! আপনি তোহ সেলিব্রিটি। কি করেন ফেইসবুকে এত ফলোয়ারস হলো কিভাবে..?

চিশতি:- কিছুই করি নাহ।

সাদিয়া:- কিছু নাহ করলে এত ফলোয়ারস হয় কিভাবে.? কত দিন ধরে ফেইসবুক ইউজ করেন.?

চিশতি:- এই অ্যাকাউন্ট ক্রিয়াট করেছি ৬ মাস হয়েছে.!

সাদিয়া:- ৬ মাসেই ৩৬কে ফলোয়ারস! বাপ রেহ.! ভাই একটা অটোগ্রাফ। প্লিজ একটা সেলফি.! হা!হা!হা!

চিশতি:- মজা করছেন.?

সাদিয়া:- সরি!সরি! দেখুন রিকুয়েষ্ট দিয়েছি

চিশতি:- নাম কি..?

সাদিয়া:- নাম বলবো কেনো.? দেখুন মাত্র রিকুয়েষ্ট গেছে.?

চিশতি:- ইয়ে মানে! সেইম টাইমে প্রায় ২০+ রিকুয়েষ্ট এসেছে কোনটা আপনার বুঝবো কিভাবে..?

সাদিয়া:- "Sadia Viqarunnisa" পেয়েছেন.?

চিশতি:- এইটা..?

সাদিয়া:- হ্যাঁ! এক্সেপ্ট করেন।

চিশতি:- করেছি।

এক্সেপ্ট করার সাথে সাথে সাদিয়া একটা টেক্সট সেন্ট করে, "হ্যালো সেলিব্রিটি বন্ধু"। ওর টেক্সট দেখে কিছুক্ষণ হাসাহাসি করলাম। তখনই ডাক্তার নিজের চেম্বারে এসে হাজির অথচ চিত্রা আপুনি এখনো আসেনি।

কিছুক্ষণ পর সাদিয়া তার মাকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে চলে গেলো। আমি একা একা ওয়েটিং জোনে বসে ছিলাম। তখন চিত্রা আপুনি আসে। এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো...

চিত্রা:- কিরে! সাদিয়া চলে গেছে..?

চিশতি:- নাহ! উনার আম্মুকে নিয়ে চেম্বারে গেছে।

খেয়াল করলাম চিত্রা আপুনির চোখে মুখে ভয়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে। এখান থেকে যাওয়ার সময় তোহ সবকিছু ঠিকই ছিলো তাহলে এখন কি হলো..? ওকে চিন্তিত দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম...

চিশতি:- কিরে! কি হয়েছে..?

চিত্রা:- গফফার হুজুর আর ইউনুস দেওয়ান মারা গেছে

আমি জেনেও নাহ জানার ভান করে বললাম...

চিশতি:- কি! কিভাবে.?

চিত্রা:- শহরে বাঘ ঢুকেছে! সবাই সন্দেহ করছে উনাদের বাঘে মেরেছে...

তখনই সাদিয়া ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে বলে....

সাদিয়া:- পরশু দিন রাতে আমাদের গ্রামেও বাঘের হামলা হয়েছিলো। হাকিম কাকু আর সামিদ কাকু মারা গেছে বাঘের হাতে।

চিত্রা:- কি! কিরে চিশতি.? তুই তোহ পরশু দিন বাসায়ই ছিলি তাহলে আমাকে কিছু বললি নাহ কেনো..? তাছাড়া বাড়ির কেউই তোহ আমাকে কিছু জানালো নাহ.??

চিশতি:- আমার একদমই খেয়াল ছিলো নাহ! সবাই হয়তো ভেবেছিলো আমি এখানে আছি মানে আমি তোকে সবটা জানিয়েছি এজন্য কেউ কিছু জানায়নি।

চিত্রা:- যাই হোক বাদ দে এসব! এখন আমার সাথে ডাক্তার দেখিয়ে সাদিয়া আর ওর মায়ের সাথে গ্রামে ফিরে যাবি। শহরেও বাঘের উৎপাত বেড়েছে। এখানে থেকে তোর কোনো ক্ষতি হলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো নাহ তাই এটাই ভালো হবে তুই গ্রামে ফিরে যা।

যেহেতু এখানকার কাজ শেষ তাই আমিও রাজি হয়ে গেলাম। তারপর ডাক্তারের চেম্বারে গেলে, ডাক্তার এত এত পরীক্ষা নিরীক্ষা দিয়ে দিলো। ইনজেকশনের ভয়ে কোনো পরীক্ষা করাতেই রাজি নাহ হয়ে ওইদিনই সাদিয়ার সাথে গ্রামে ফিরে আসি। আসার সময় খেয়াল করলাম চিত্রা আপুনি আমার উপর অনেক রেগে আছে। রাগ করলেও কিচ্ছু করার নেই কারণ সব সহ্য হয় কিন্তু ইনজেকশন সহ্য হয় নাহ।

সবশেষে সাদিয়ার সাথে গ্রামের বাড়ি চলে এলাম। আমাদের বাড়ি ছিলো মেইন রোডের সামনে আর সাদিয়াদের বাড়ি যেতে আমাদের বাড়ি থেকে আরো ৩০ মিনিট হাঁটতে হয়। যদি গাড়ি দিয়ে যায় তাহলে ১৫ মিনিটেই যাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হলো ওদের বাড়ি অব্দি গাড়ি যায় নাহ তাই ওদের হেঁটেই যেতে হবে।

সাদিয়া ও তার মাকে আমাদের বাসায় আসতে অনুরোধ করলাম কিন্তু আসতে চাইলেন নাহ।

সাদিয়াকে বিদায় জানিয়ে বাড়ি চলে এলাম। সাদিয়া যাওয়ার সময় বলে গেলো ওকে যেনো প্রতিদিন টেক্সট করি। আর মাঝে মাঝেই যেনো দেখা করি। আমিও ওর কথায় রাজি হলাম।

বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে, গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে একটা ঘুম দিলাম। আমার যেটুকু মনে হলো, বাংলাদেশে আসার পর হয়তো আজকেই প্রথম দিনের বেলা এতক্ষণ ঘুমিয়েছি। ২টা বাজে শুয়েছিলাম ৬টা বাজে উঠেছিলাম।

সন্ধ্যাবেলা ফ্রেশ হয়ে যখন রুমে বসে সাদিয়ার সাথে কথা বলছিলাম তখন আম্মি এসে বলে....

আম্মু:- চিশতি!

চিশতি:- হ্যাঁ! আম্মি বলো.??

আম্মু:- কিছু কথা বলবো তোকে.?

চিশতি:- হ্যাঁ! অবশ্যই! বলো কি বলবে..?

আম্মু:- এই বছর ২১শে ফেব্রুয়ারীতে নাকী লাল পূর্ণিমা হবে। প্রতি বছর লাল পূর্ণিমার সময় যতন রাজার ঘাটে বিশাল আয়োজন হয়। যেহেতু তোর কাকিয়ার বাপের বাড়ি বগুড়া জেলায় সেজন্য আমরা বড়রা সবাই ঠিক করেছি বাড়ির ছোটদের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বগুড়া ভ্রমণে নিয়ে যাবো। আর তাছাড়া ২১শে ফেব্রুয়ারী তোহ তোর জন্মদিন। ভেবে নিস এটা তোর জন্মদিনের উপহার।

আম্মুর মুখে যতন রাজার কথা শুনে আমি যেনো আকাশ থেকে পরলাম। আমি তোহ যতন রাজার প্রাসাদে যাওয়ার অপেক্ষায়ই ছিলাম এতদিন। কিন্তু এত সহজে যাওয়ার সুযোগ হয়ে যাবে ভাবিনি। এজন্যই সবাই বলে মন থেকে চাইলে স্বয়ং খোদাকেও পাওয়া যায়। আজ ৭তারিখ। ২১ তারিখ থেকেই হবে আমার জীবন যুদ্ধের নতুন ধাপের শুরু।

আমাকে অন্যমনস্ক দেখে আম্মি আবারও বললো...

আম্মু:- কিরে কিছু বলছিস নাহ যে..?

চিশতি:- হ্যাঁ! আম্মি, আমি অবশ্যই যাবো। কে কে যাবে সেখানে..?

আম্মু:- তুই, হাসমি, সাইফ, চিত্রা, আর ওদের ছেলে মেয়েরা।

চিশতি:- আর তোমরা..?

আম্মু:- আমরা বুড়ো মানুষ, আমরা গিয়ে কি করবো.??

চিশতি:- যাই হোক তোমাদের ইচ্ছে।

আম্মু:- আরেকটা কথা..?

চিশতি:- বলো.?

আম্মু:- হাসমি এখন বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গেছে, তুই ওকে একটু বুঝিয়ে বলিস ও যেনো এমন পাগলামি নাহ করে। আমরা তোহ কম চেষ্টা করছি নাহ কিন্তু কিছুতেই ওর বিয়ে দিতে পারছি নাহ।

চিশতি:- আচ্ছা আমি বলে দেখবো।

আম্মু:- আচ্ছা, তাহলে আমি গেলাম।

আম্মি চলে যাওয়ার ওর রাত ২টা পর্যন্ত সাদিয়ার সাথে কথা বললাম। এভাবেই প্রতিদিন ওর সাথে কথা হতো। ১৩ই ফেব্রুয়ারীতে সাদিয়া জানায় আমি যেনো ১৪ই ফেব্রুয়ারী ওর সাথে দেখা করি।

আমিও রাজি হয়ে গেলাম। পরদিন দেখা করি। অনেক ঘুরাঘুরি হলো, সেলফি, আড্ডা, খাওয়া দাওয়া, টুকিটাকি কেনাকাটা। সব মিলিয়ে ওই দিনটা খুব সুন্দর ভাবে কেটে গেলো।

এতদিনে একটা জিনিস বুঝতে পারলাম, আমি হয়তো মনে মনে সাদিয়াকে ভালোবাসতে শুরু করেছি। ওর সাথে থাকলে নিজেকে অনেক হ্যাপি মনে করি। ভুলে যাই দুনিয়ার সব কিছু। তখন আমার মনে ও মস্তিষ্ক জুড়ে শুধু সাদিয়া থাকে। ওর হাসি, লম্বা চুল, ছেলে মানুষী, রাগ, জ্বেদ আমি যেনো ওর সবকিছুর প্রেমে পড়ে গেছি। কিন্তু আমাদের এই সম্পর্কের নাম বন্ধুত্ব। কিন্তু.? একজন ছেলে আর একজন মেয়ে কি কখনো বন্ধু হতে পারে.? হয়তো পারে! যদি বন্ধু হওয়া যায় তাহলে ওর প্রতি আমার যে ফিলিংস কাজ করছে এটার নাম কি..? হয়তো একেই বলে এক তরফা ভালোবাসা। যদি কখনো সাদিয়াকে ছাড়া থাকতে হয় তখন কি ওকে ছেড়ে থাকতে পারবো..? আমি যে ওকে ছাড়া একটা মুহুর্তও ভাবতে পারি নাহ। কি করবো যদি কখনো ওর সাথে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়..? নাহ! নাহ! এমনটা কখনো হবে নাহ। আমি কখনোই ওর কাছে আমার অনুভূতির কথা প্রকাশ করবো নাহ। ওকে সারাজীবন এভাবেই লুকিয়ে ভালোবেসে যাবো। এতকিছু ভাবতে পারছি নাহ। যা হবে দেখা যাবে।

১৭ই ফেব্রুয়ারী

-------------------

ভোর বেলা ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি, সাদিয়া টেক্সট করেছে। টেক্সটে লিখা ছিলো..."দোস্ত! একবার দেখা করতে পারবি। তোর কাছে একটা হেল্প চাইবো খুব ইম্পর্ট্যান্ট। তুই কি একবার আমাদের বাসায় আসতে পারবি"

আমি রিপ্লাই দিলাম.."কি হেল্প লাগবে.? আর আমি তোহ তোদের বাসা চিনি নাহ.?"

কিছুক্ষণ পর আবারও রিপ্লাই এলো..."তুই কলেজের সামনে এসে 01754532** এই নাম্বারে কল দিস আমি এসে নিয়ে যাবো"

আমিও রিপ্লাই দিলাম.."ঠিক আছে, আমি ব্রেকফাস্ট করে তারপর বের হচ্ছি"

সাদিয়া আবারও রিপ্লাই দিলো..."আর শোন দুপুরে কিন্তু আমাদের বাসায় লাঞ্চ করবি বাসায় বলে আসবি"

আমি টেক্সট রিপ্লাই দিলাম..."ঠিক আছে"

সাদিয়া আরও একটা টেক্সট দিয়ে অফলাইন হয়ে গেলো "আমার সাথে আমাদের বাসায় আসার পর জোড়ে জোড়ে কোনো কথা বলবি নাহ, তোকে তোহ আগেই বলেছি আমরা এখানে নানু বাড়ির সম্পত্তিতে থাকি। আমার ছোট মামা আর ছোট মামী সবসময় আমার আর আমার মায়ের খুঁত খুজতে থাকে"

আমি রিপ্লাই দিয়ে দেখি সাদিয়া অফলাইনে চলে গেছে "আচ্ছা তুই চিন্তা করিস নাহ! আমি তোদের বাড়ি গিয়ে জোড়ে কোনো কথা বলবো নাহ"

সাদিয়ার সাথে কথা শেষ করে, গোসল করে নিচে এসে আম্মিকে সবটা বলি। তারপর ব্রেকফাস্ট করে কাঁধে একটা স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে পরলাম।

কলেজের সামনে গিয়ে সাদিয়াকে কল দিলাম।

প্রথম বার রিং হয়ে কেটে গেলো কিন্তু কেউ রিসিভ করলো নাহ। দ্বিতীয় কল করতেই সাদিয়া রিসিভ করে বললো...

"গোসলে গিয়েছিলাম, তুই কি চলে এসেছিস"

আমি বললাম "হ্যাঁ আমি তোহ কলেজের সামনে চলে এসেছি এবার কি করবো.?"

সাদিয়া কিছু নাহ বলেই ফোন কেটে দিলো। ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে কলেজের শহীদ মিনারে বসে ছিলাম। এরও বেশ কিছুক্ষণ পর কেউ একজন অটো থেকে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলছে....

"এই চিশতি! অটোর সামনে আয়"

আমি নিজের মনের ভুল ভেবে শহীদ মিনারেই বসে থাকলাম। আবারও একি শব্দ কানে ভেসে আসলো। এবার মনের ভুল ভাবলাম। আনমনে বসে বসে ভাবতে থাকি "সাদিয়া আমাকে এত আর্জেন্ট ডাকলো কেনো.? কি হেল্পের প্রয়োজন ওর.?" এসব ভাবনায় যখন মগ্ন হয়ে গেলাম তখনই কেউ একজন ঠাস করে আমার গালে চড় মারলো। চড়টা কে মারলো চোখ তুলে তাকাতেই কেউ একজন বলে উঠলো "সেই কখন থেকে অটোর ভিতর থেকে ডাকছি তোর কান দিয়ে কি বাতাস যায় নাহ" এতক্ষণে বুঝলাম, সত্যি সত্যি অটো থেকে কেউ আমাকে ডাকছিলো। যে ডাকছিলো সে আর কেউ নাহ সে হচ্ছে আমার বান্ধবী ললিতা ইয়ে মানে সাদিয়া!

তারপর সাদিয়ার সাথে ওদের বাসায় গেলাম। ওদের বাসায় যাওয়ার পর আন্টি আমার জন্য এক গ্লাস শরবত আর একটা অমলেট নিয়ে এলো। আমাকে এসব খেতে দেওয়ার পর খেয়াল করি আন্টি আমাকে কি যেনো বলবে কিন্তু বলতে পারছে নাহ। আন্টি বার বার চোখ মুছছেন। আমি অবাক হয়ে সাদিয়ার দিকে তাকালাম। সাদিয়াও কিছু বলছে নাহ। অনেকক্ষণ পর আন্টি বলে....

"বাবা, সাহায্যটা সাদিয়া নাহ আমি চেয়েছিলাম তোমার কাছে। কথায় কথায় কাল সাদিয়াকে জিজ্ঞেস করি, যাদের তোমার মতো প্যারানরমাল প্রবলেম থাকে তারা তোহ অনেক কিছুই আন্দাজ করতে পারে। তারা নাকী অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতও অনুভব করতে পারে। তোহ সাদিয়াকে বললাম, " যাদের এমন সমস্যা আছে তারা তোহ কত কিছু বলতে পারে তোমার ফ্রেন্ড কি তোমাকে কিছু বলেনি.??" তারপর সাদিয়া আমাকে বলে তুমি নাকী তাকে বলেছো ওর এইচএসসি রেজাল্ট খুব ভালো হবে তাছাড়া ওর যার সাথে বিয়ে হবে সেই মানুষটাও ওকে অনেক ভালোবাসবে। এসব শুনে আমি ওকে বলেছিলাম, ও যেনো তোমার কাছে ওর বাবার কথাটা জিজ্ঞেস করে। কিন্তু ও তোমাকে কিছু বলতে চায় নাহ তাই বলি তোমাকে যেনো আমাদের বাসায় ডাকে।

এই কথাগুলো বলেই আন্টি কান্না করে দিলো। আমি তখনও কিছুই বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে..?

আন্টিকে জিজ্ঞেস করলাম...

চিশতি:- কি হয়েছে সাদিয়ার বাবার.?

আন্টি:- মানুষটা খুব ভালো ছিলো, সাদিয়াকে তোহ সবসময় চোখে হারাতো। মেয়ের জন্য তার জীবন দিয়ে দিতেও বাঁধা নেই। কিন্তু হঠাৎ কি হলো কে জানে। মানুষটা বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আমাদের সাথে ঠিক মতো কথা বলে নাহ। এমনকি যে মেয়ের জন্য সে নিজের জীবন দিতেও দুইবার চিন্তা করতো নাহ আজ সেই মানুষটা মেয়ের সাথেও ঠিক মতো কথা বলে নাহ। কিছুদিন পর যে মেয়েটার এইচএসসি পরীক্ষা সে দিকেও ওর বাবার কোনো মাথাব্যথা নেই।

চিশতি:- আঙ্কেল কবে থেকে এমন করছে..?

আন্টি:- আজ প্রায় ৯ বছর ধরে আমাদের সাথে এমন করছে। মাঝে মাঝে মেয়ের সাথে একটু কথা বললেও আজ পর্যন্ত আমার সাথে একটা কথাও বলেনি। বাবা, আমি জানি তুমি বলতে পারবে ওই মানুষটা কেনো এমন করছে।

"এতকিছুর মাঝে বলতে ভুলেই গেছি, যেদিন থেকে জটায়ু আমার সাথে এসেছে সেদিন থেকে আমি মোটামুটি মানুষের মাইন্ড রীড করতে পারি তাছাড়া পাস্ট, প্রেজেন্ট ও ফিউচার ফিল করতে পারি। ওইদিন এই শক্তি ব্যবহার করেই সাদিয়াকে ওর রেজাল্ট ও জীবনসঙ্গীর কথা বলেছিলাম"

চিশতি:- আচ্ছা আন্টি আমি ট্রাই করছি।

এরপর আমি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে স্থির হয়ে বসলাম। আমি অনেক কিছু দেখতে পাই। চোখ খোলার পর আন্টিকে কিছু প্রশ্ন করি...

চিশতি:- প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে সাদিয়ার বাবার কাছে খাবার পাঠানো হয়.? কিন্তু ওই খাবারগুলো আপনারা পাঠান নাহ.?

আন্টি:- হ্যাঁ! ওই খাবারগুলো সাদিয়ার দাদি পাঠায়! আমরা কিছু পাঠালে ওর বাবা সেগুলো খায় নাহ বরং ফেলে দেয় এজন্য আমরা কিছুই পাঠাই নাহ।

চিশতি:- আজ থেকে ৯বছর আগে সাদিয়ার দাদির সাথে ঝগড়া করে আপনারা এখানে এসেছিলেন..?

আন্টি:- হ্যাঁ!

চিশতি:- দুই বছর ধরে সাদিয়াকে অনেক ছেলেই দেখতে এসেছিলো কিন্তু পরবর্তীতে তারা বিয়ের জন্য নাহ করে দিয়েছে.?

আন্টি:- হ্যাঁ!

চিশতি:- ৯ বছর আগে আপনার শ্বাশুড়ির সাথে ঝগড়ার পর থেকে আঙ্কেল আপনার সাথে এমনকি সাদিয়ার সাথেও ঠিক মতো কথা বলে নাহ??

আন্টি:- হ্যাঁ! একদম ঠিক। ওইদিনের পর থেকেই আমাদের সাথে এমন করছে।

চিশতি:- ওইদিনের পর থেকে আপনি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পরেন। আর ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বলে আপনার কোনো অসুখ নেই.?

আন্টি:- হ্যাঁ।

চিশতি:- গত বছর সাদিয়ার জন্মদিনে ওর দাদি এখানে এসেছিলো.?

আন্টি:- হ্যাঁ!

তারপর আন্টিকে আমার সাথে আসতে বললাম। তারপর তাদের দরজার কপাট থেকে ২টা শেওলাযুক্ত তাবিজ বের করলাম। তাদের ফ্লোরের মাঝে ২হাত মাটি খুঁড়ে ৩টা তাবিজ বের করলাম আর ওয়াশরুমের দেওয়াল থেকে ৪টা তাবিজ বের করলাম।

সবগুলো একত্র করে পুড়িয়ে ফেললাম। এবার তাদের সবকিছু বুঝিয়ে বললাম...

"আপনাদের সাথে এত দিন যা যা হচ্ছিল সবকিছুর জন্য আপনার শ্বাশুড়ি দায়ী। ওইদিন তার সাথে ঝগড়ার পর থেকে সে আপনার এবং আপনার পরিবারের উপর কালোজাদু করে। প্রথমে তার ছেলের উপর কালোজাদু করে যাতে সে আপনাদের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। আর এতদিন তাই হয়েছে এসেছে। যখনই তার জাদুর প্রভাব কমতে শুরু করে তখনই সাদিয়ার বাবা আপনাদের সাথে একটু আকটু কথা বলে। এটা ওর দাদি বুঝতে পারলেই আবারও দেশ থেকে খাবার পাঠিয়ে জাদুর প্রভাব বাড়িয়ে দেয়। তারপর সাদিয়ার জন্মদিনে এসে সাদিয়া এবং আপনার উপর কালোজাদু করে। সাদিয়ার উপর যে জাদুটা করে সেই জাদুর ফলে ওর কোনোদিন বিয়ে হবে নাহ আর আপনার উপর যে জাদুটা করেছে সে জাদুর ফলে আপনি দিন দিন অসুস্থ হয়ে মারা যাবেন"

সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে তাদের মূসা হুজুরের সন্ধান দি। এরপর লাঞ্চ করি। এখনে মনে আছে ওইদিন সাদিয়ার আম্মু আমার জন্য ইলিশ মাছ, গরুর ভূরি, ডাল, ভাজি, মাংস, আর ডিম ভেজেছিলেন।

মিথ্যা বলবো নাহ, ওইদিন সবগুলো খাবারই খুব সুস্বাদু হয়েছিলো।

এরপর আমি বাড়ি ফিরে আসি। পরদিন থেকে সাদিয়া এবং ওর মা দুইজনই সুস্থ হয়ে যায়। সাদিয়ার বিয়ের জন্য একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে।

১৯শে ফেব্রুয়ারী আম্মি আমার কাছে এসে বলে "মূসা হুজুরের বউ প্রেগন্যান্ট" শুনে আমিও খুশি হলাম।