পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২৮
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২৮ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২৮
রাতে হাসমি ভাইয়ার সাথে কথা বলে নিজের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। যদিও আমার মনে তখন সন্দেহ কাজ করছিলো, হাসমি ভাইয়া কি কোনো কিছু জানতে পেরে গেলো..?
পরদিন সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়লাম, ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে যাওয়ার পর হঠাৎ করে আমার খুব বমি বমি ভাব হয়। আমি ছুটে বেসিনের কাছে গিয়ে বমি করতে গেলেই আমার মুখ থেকে গড়গড় করে রক্ত পড়ছিলো।
হঠাৎ করে আমার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে কেনো..?
তখনই আমার প্রচুর প্রস্রাব পায়, বেসিন থেকে ওয়াশরুমে যেতে যেতেই আমার প্রাইভেট পার্ট থেকেও অনবরত রক্ত পড়তে থাকে!
শরীর থেকে অনেক রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। নিজের শরীর থেকে রক্ত পড়তে৷ দেখে আমার মাথা ঘুরে যায়। এক সময় হয়তো অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি আমার সামনে সাক্ষী আর জটায়ু দাড়িয়ে আছে।
জটায়ু:- সব দোষ এই সাক্ষীর! তুই যদি এমন ভুল নাহ করতি তাহলে আজ চিশতির উপর ওদের কালোজাদুর প্রভাব খুব কম হতে। এখন দেখেছিস ওর অবস্থা কি হচ্ছে.?
সাক্ষী:- আমি সত্যি বুঝতে পারিনি, এখন যেভাবেই হোক ওই নাগমণি খুঁজে বের করতে হবে
জটায়ু:- কিন্তু কোথায় পাবো..?
চিশতি:- কি হয়েছিলো আমার..? হঠাৎ করে রক্তবমি হচ্ছিল আর আমার প্রাইভেট পার্ট থেকেও অনবরত রক্ত পড়ছিলো। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই অজ্ঞান হয়ে যাই।
জটায়ু:- তোমাকে রক্ত বাণ মারা হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই নাগমণি খুঁজে বের করতে হবে নয়তো তোমাকে বাঁচানো যাবে নাহ। ওরা ভাবছে তুমি যদি এখন মারা যাও তাহলে ওরা ওই পঞ্চশক্তি পেয়ে যাবে। কিন্তু ওরা তোহ জানে নাহ নাগমণি তোমার মধ্যেও নেই।
যদি নাগমণি তোমার মধ্যে থাকতো তাহলে হয়তো তোমার এতটা ক্ষতি হতো নাহ।
চিশতি:- কাল রাতেও তোহ একদম সুস্থ ছিলাম..?
সাক্ষী:- কালোজাদু এমনই! কখনো তোমার উপর কিভাবে কালোজাদু করা হবে বুঝতে পারবে নাহ
জটায়ু:- তুই কোনো কথা বলিস নাহ সাক্ষী! তোর উপর আমার এমনি অনেক রাগ জমে আছে। তোর কথা শুনলেই এখন আমার শরীর রাগে গজগজ করে।
চিশতি:- আমি কি মারা যাবো..?
জটায়ু:- নাহ! তোমাকে ওরা তিলে তিলে মারতে চাচ্ছে যাতে করে তুমি নিজেই ওদের পঞ্চশক্তি দিয়ে দাও।
চিশতি:- সবসময়ই কি আমার শরীর থেকে এমন ভাবেই রক্তক্ষরণ হবে..?
সাক্ষী:- নাহ! হঠাৎ হঠাৎ হবে। তোমাকে খুব সাবধানে থাকতে হবে। কাউকে বুঝতে দিলে চলবে নাহ যে তোমার উপর রক্ত বাণ মারা হয়েছে। এমনকি ওই জাদুকরদেরও নাহ। আমি আর জটায়ু তোমাকে সুস্থ করার চেষ্টা করবো এবং নাগমণিও খুঁজবো।
চিশতি:- আচ্ছা ঠিক আছে। তোমরা তাহলে টবার চলে যাও বাকি কাজটুকু আমি করছি।
সাক্ষী আর জটায়ু চলে গেলে আমি গোসল করে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলাম।
ভাবলাম আম্মির সাথে কথা বলে আজকে চিত্রা আপুনি বাসায় যাবো...
আম্মির সাথে কথা বলার জন্য তার রুমের সামনে যেতেই শুনি হাসমি ভাইয়া আম্মিকে বলছে....
হাসমি:- বিশ্বাস করো আম্মু আমি নিজের চোখে দেখেছি..!
আম্মু:- তুই বললেই আমি বিশ্বাস করবো..? এমনটা কখনো হতেই পারে নাহ! তুই এসব মুভি দেখা বন্ধ কর বলে দিলাম।
হাসমি:- আম্মু বিশ্বাস করো আমি নিজের চোখে দেখেছি।
কি বলছে হাসমি ভাইয়া..? কি দেখেছে ও..? আমাকে বাঘ হতে বা সামিদ চাচ্চু আর হাকিম চাচ্চুকে মারার সময় দেখে ফেলেনি তোহ..?
আম্মু:- দেখ হাসমি! তুই এসব বলে আমাকে কখনো বিশ্বাস করাতে পারবি নাহ যে চিশতি মানুষ থেকে বাঘ হয়েছে..
হাসমি:- আম্মু আমি নিজের চোখে দেখেছি কতবার বলবো, কাল মধ্যরাতে আমাদের বাড়ির উঠানে কে বা কারা যেনো নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছিলো, আমি দোতলা থেকে নামার সময় দেখি চিশতি এক কোণে দাঁড়িয়ে আড়ি পেতে আছে আমিও উপরেই দাঁড়িয়ে চিশতিকে ফলো করছিলাম। তারা যখন নিজেদের মধ্যে কথোপকথন শেষ করে চলে যাচ্ছিলো তখন চিশতি একজনের পিছু নেয়, আমিও চিশতির পিছু পিছু যাই গিয়ে দেখি ও একটা খোলা মাঠে চলে গেলো ওই লোকটির পিছু পিছু, ওখানে গিয়েও চিশতি আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলো। আমিও চিশতির অগোচরে আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর সেখানে আরো একজন লোক আসে আমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া লোকটির সাথে দেখা করতে। তারা নিজেদের মধ্যে কথা শেষ করে একজন চলে যায়, তারপর যে লোকটি মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলো ওই লোকটির সাথে চিশতি কিছু একটা নিয়ে তর্কাতর্কি করছিলো শেষ মুহুর্তে চিশতি বাঘ হয়ে তাকে মেরে ফেলে, ওই লোকটির চিৎকার শুনে আমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া লোকটি সেখানে আবারও চলে আসে, তারপর ওই লোকটিকেও চিশতি বাঘ হয়ে মেরে ফেলে। চিশতির এমন নির্মম কাজকর্ম দেখে আমি ভয়ে ওখান থেকে পালিয়ে আসি। আম্মু চিশতি কোনো সাধারণ মানুষ নাহ সেটা তুমিও জানো আমিও জানি। আমাদের উচিৎ ওর কাছে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করা। আমার মনে হয় চিশতি ওর আগের জন্মের প্রতিশোধ নিচ্ছে...
দেখো আম্মু, আমি আর তুমি কিন্তু ওকে কথা দিয়েছিলাম ওর এই যুদ্ধে আমরা ওর পাশে থাকবো। তাহলে আজ কেনো বিশ্বাস করছো নাহ।
আম্মু:- তুই যাই বলিস আমার বিশ্বাস হয় নাহ! আমার চিশতি বাবার পুনর্জন্ম হলেও সে কখনো জীবজন্তু হবে নাহ। তুই যাহ তোহ...
"তার মানে আমার সন্দেহই ঠিক ছিলো, হাসমি ভাইয়া আমাকে বাঘ হতে দেখে ফেলেছে শুধু তাই নাহ আমাকে খুন করতেও দেখেছে"
হাসমি ভাইয়া আম্মির রুম থেকে বেরিয়ে আসার সময় আমার সাথে মুখোমুখি দেখা যায়...
হাসমি:- আমি জানি, কাল রাতে আমি যা দেখেছি ওইগুলো মিথ্যা নাহ। একটা কথা মনে রাখিস তুই যেই হ আমি সবসময় তোর পাশে আছি। শুধু বিশ্বাস করে একবার আমাকে ডেকে দেখিস তোর জন্য জীবন দিয়ে দিবো.!
চিশতি:- কি বলছো ভাইয়া.?
হাসমি:- ভয় পাস নাহ! এই কথা তুই আমি আর আম্মু ছাড়া আর কেউ জানবে নাহ।
এই বলে হাসমি ভাইয়া চলে গেলো, আমি অবাক হয়ে হাসমি ভাইয়া চলে যাওয়া দেখছি। ভাইয়া সবকিছু নিজের চোখে দেখার পরও আমাকে সাপোর্ট করছে।
চিশতি:- আম্মি..?
আম্মু:- আমিও জানি যে হাসমি মিথ্যা বলছে নাহ...
চিশতি:- আম্মি..!!!
আম্মু:- আমি তোহ গর্ভধারিণী মা আমার কাছে লুকাস নাহ
চিশতি:- হ্যাঁ! হাসমি ভাইয়া যা বলেছে সব সত্যি।ওইদিন তাইমন ভাইয়া আর রুহানিও কোনো এক্সিডেন্টে মারা যায়নি।
আম্মু:- তাহলে.??
তারপর আম্মিকে সবকিছু খুলে বললাম। আম্মি আমাকে কিছু বলার আগেই দরজার এক কোণ থেকে হাসমি ভাইয়া বেরিয়ে এসে বললো..
হাসমি:- আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম, এগুলো সাধারণ মৃত্যু নয়
চিশতি:- ভাইয়া তুমি তোহ চলে গিয়েছিলে..?
হাসমি:- হ্যাঁ! চলে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি জানি আমি চলে গেলে তুই আম্মুর কাছে সব সত্যি কথা বলবি তাই দরজার আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম।
চিশতি:- প্লিজ ভাইয়া! এই সত্যিটা কাউকে বলবে নাহ! আম্মি তুমিও কাউকে বলবে নাহ প্লিজ! এই কথাগুলো যেনো আমাদের তিনজনের মধ্যেই থাকে
আম্মু:- চিন্তা করিস নাহ, আমরা তোর পাশে আছি। এবার প্রথম থেকে সবকিছু খুলে বল তোহ দেখি....
তারপর আম্মি আর ভাইয়ার কাছে প্রথম থেকে এই পর্যন্ত কি কি হয়েছে সবকিছু খুলে বললাম। শুধু আমার উপর ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয়েছে এটা গোপন রাখলাম।
আমার নেক্সট প্ল্যান সম্পর্কেও বললাম। আম্মিও রাজি হয়ে গেলো।
যাই হোক এখন আমাকে অনেক হেল্পফুল মনে হচ্ছে। আমার পাশে সাক্ষী আর জটায়ুর পাশাপাশি এখন আমার বড় ভাই আর আম্মিও আছে। আসলেই আমি কতটা ভাগ্যবান। এমন একটা জীবনেও কতগুলো ভালোবাসার মানুষকে পাশে পেয়েছি।
যাই হোক, আম্মিকে রাজি করিয়ে আমি চিত্রা আপুনির বাসায় যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিলাম তখনই চাচ্চু, ফুফাজি আর আব্বু খবর নিয়ে আসে "আমাদের এলাকায় বাঘ ঢুকেছে, কাল রাতে নাকী সামিদ চাচ্চু আর হাকিম চাচ্চুকে বাঘে মেরে ফেলেছে" সবাইকে সাবধানে থাকতে বলছেন তারা।
তাদের উদ্দেশ্যে আম্মি বললো....
আম্মু:- গ্রামে যেহেতু বাঘ ঢুকেই পরেছে তখন যেনো এক এক করে আগে সয়তান মানি্ুষগুলোকে খায়। যদিও তার প্রথম শিকার ২জন সয়তানকে দিয়েই শুরু করেছে।
যাই হোক, চৈতীর আব্বু শুনো....
আব্বু:- হ্যাঁ ফাতিমা বলো..?
আম্মু:- চিশতি চিত্রার কাছে যেতে চাইছে, একাই যেতে দিচ্ছিলাম এখন তোমরা খবর দিলে গ্রামে নাকী বাঘ ঢুকেছে তাই তুমি যদি ওকে চিত্রার বাসায় দিয়ে আসতে
আব্বু:- আচ্ছা ঠিক আছে, আমি দিয়ে আসবো।
এদিকে আমি, আম্মি আর হাসমি ভাইয়া তোহ জানিই সেই বাঘটা আমি ছাড়া আর কেউ নাহ। তারপর সবার চোখকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য আম্মি ছোট্ট একটু নাটক করলো।
এরপর আব্বু আমাকে চিত্রা আপুনির বাসায় দিয়ে আসে। সারাদিন অনেক ঘুরাঘুরি করলাম। রাত হলে সবাই ঘুমতে চলে গেছে আমিও ঘুমতে চলে৷ এসেছি। এর আগে যখন অসুস্থ ছিলাম তখন চিত্রা আপুনির সাথেই ঘুমাতাম এখন সুস্থ হওয়ার জন্য আমাকে আলাদা একটা রুমে থাকতে দেয়। যাই হোক আলাদা থাকায় ভালোই হয়েছে, এবার আমার কাজটা অনেক সহজে করা যাবে।
কিন্তু এখানেও তোহ কিছুই চিনি নাহ, কিভাবে কি করবো..?
চিন্তা কিস্তি..? জটায়ু আর সাক্ষী তোহ আছেই!
দেড়ি নাহ করে ডাক দিলাম ওদের পরক্ষণেই ওরা চলে এলো.....
জটায়ু:- বলো..?
চিশতি:- আমাকে একবার ইউনুস দেওয়ানের বাড়ি নিয়ে যেতে পারবে..?
সাক্ষী:- এত রাতে..?
চিশতি:- হ্যাঁ! প্রতিদিন রাতে একজন করে অন্ধকারে ডুবে থাকা পাপীর বিনাশ হবে আমার হাতে। আমার নেক্সট টার্গেট হচ্ছে ইউনুস দেওয়ান। আজকে ওকে কেউ আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে নাহ।
জটায়ু:- ঠিক আছে, চলো আমাদের সাথে।
জটায়ু আর সাক্ষী আমাকে ইউনুস দেওয়ানের বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যায় তারপর আমি তাদের বলি....
চিশতি:- এবার তোমরা চলে যাও! বাকি কাজটুকু আমি সামলে নিবো
জটায়ু:- আমরা কিছুতেই তোমাকে একা ছাড়তে পারবো নাহ। যদি তোমার কোনো বিপদ হয়..?
সাক্ষী:- হ্যাঁ! আমরাও তোমার সাথে যাবো। এই লড়াই শুধু তোমার একার নাহ এই লড়াই আমাদেরও
চিশতি:- বুঝার চেষ্টা করো। আমার যখন দরকার হবে আমি তোমাদের ডেকে নিবো। এবার তোমরা যাও
জটায়ু:- যা করার সাবধানে করবে, আমরা তোমার আশেপাশেই আছি ভয় পেও নাহ।
চিশতি:- হ্যাঁ! আমি জানি তোমরা আমার আশেপাশেই আছো সেজন্যই তোহ নিজেকে এত সাহসী মনে করছি।
জটায়ু আর সাক্ষীকে বুঝিয়ে আমি ইউনুস দেওয়ানের বাড়িতে ঢুকে পরলাম। আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে তার ঘরের দরজার আড়ালে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখি ভিতরে একজন লোক চাদর মুড়ি দিয়ে ইউনুস দেওয়ানের সাথে কথা বলছে.....
"আমার রহস্যটা যেনো রহস্যই থাকে। এত তাড়াতাড়ি আমি সবার সামনে আসতে চাইছি নাহ। চিশতির প্রথম কালোজাদুটাও আমিই করেছিলাম কিন্তু সুস্থ হয়ে ফিরেছে। এবারের কালোজাদুটাও আমিই করেছি"
ইউনুস:- এবার আবার কি করেছো..? আমাকে তোহ আগে থেকে কিছুই জানাওনি..?
"চিশতিকে রক্ত বাণ মেরেছি। তিল তিল করে ওকে শেষ করে দিবো। ও মারা যাওয়ার সাথে সাথে আমরা আমাদের তন্ত্র মন্ত্র দিয়ে ওই পঞ্চশক্তিকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসবো"
ইউনু:- যাই হোক, এটা করায় ভালোই হয়েছে। কিন্তু চিশতি কিন্তু অনেক তালাক আর ধূর্ত।
"তুমি কিভাবে জানলে..?"
ইউনুস:- ওকে দেখতে যতটা বোকা মনে হয় ও আসলে ততটা বোকা নয়।
"আচ্ছা! এসব ছাড়ো এখন। আমি চলে যাচ্ছি। শুধু এতটুকু জানাতে এসেছিলাম যে চিশতিকে আমি আবারও কালোজাদু করেছি"
ইউনুস:- প্রথম বার কিভাবে কি করলে তোমরা.?
"প্রথম বার অনেক নাটক সাজাতে হয়েছে আমাদের"
ইউনুস:- সেটাই তোহ জিজ্ঞেস করলাম, কিভাবে কি করলে..?
"আমাদের প্রথম টার্গেট হয়েছিলো চিশতির বড় ভাই হাসমি, সুযোগ বুঝে হাকিম ভাই হাসমির উপর বদ জ্বিন চালান করে দেয়। সবাই জানে হাকিম ভাই এসব ঝাড় ফুক ছেড়ে দিয়েছে তাই তারা সামিদ ভাইয়ের কাছে সাহায্য চায়। সামিদ ভাইও তাদের সাহায্য করে। হাসমিকে সুস্থ করে দিয়ে চিশতির উপর কালোজাদুর প্রথম ধাপ সেরে ফেলেন। পরদিন আমজাদ ভাই বাকি কাজটুকু করে তারপর আমি গোসলের মাধ্যমে শেষাংশ পরিপূর্ণ করি"
এই কথাটুকু শুনে আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো। তার মানে চাদরের আড়ালে এটা গফফার হুজুর। উনি একজন হুজুর হয়েও কালোজাদু করে। উনিও সেই দশজনের একজন।
যাই হোক আজ তাহলে গফফার হুজুরকে কেউ আমার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে নাহ।
তখনই ইউনুস দেওয়ান আবারও বলে.....
ইউনুস:- তুমি চিশতিকে নিজের কাছে ডাকলে কিভাবে..? ওরা কিভাবে তোমার খোঁজ পেলো..?
গফফার:- সামিনার মাধ্যমে।
ইউনুস:- কিভাবে.??
গফফার:- সামিনার সাথে একদিন রাস্তায় দেখা হয়েছিলো তখন ওকে ধূলা পড়া দিয়ে ৭দিনের জন্য নিজের বশে নিয়ে আসি। তারপর বাকি কাজটুকু সামিনাই করে।
ইউনুস:- বাহ্! ভাই! বাহ্! তুমিই তোহ পাক্কা খিলাড়ি।
গফফার:- খিলাড়ি নাহ হলে পঞ্চশক্তি হাসিল করবো কিভাবে..?
ইউনুস:- হ্যাঁ তাও কথা। যাই বলো আগের জন্মে ওদের চালের কাছে হেরে গেলেও এই জন্মে আমাদের কেউ হারাতে পারবে নাহ
গফফার:- হ্যাঁ। আমি এখন গেলাম তাহলে কি বলো
ইউনুস:- আচ্ছা যাও
এরপর গফফার হুজুর বেরিয়ে তার বাড়ির উদ্দেশ্য হাঁটতে থাকে। আমিও আমার প্ল্যানের পরিবর্তন করি। আমার প্রথম শিকার হবে গফফার হুজুর। তাই আমিও তার পিছু করতে থাকি।
কিছু দূর উনার পিছু পিছু গেলেও মাঝপথে গফফার হুজুরের কাছে ধরা পরে যাই।
গফফার:- আমি আগেই টের পেয়েছিলাম কেউ একজন আমার পিছু নিয়েছে
চিশতি:- পিছু কি আর এমনি এমনি নিয়েছি। আজ তোর শেষ দিন, মনে করতে থাক তোর সকল পাপের কথা। মনে কর প্রথম থেকে আজ পর্যন্ত কি কি করেছিস কারণ আজকের পর ওইসব ভাবার আর সময় পাবি নাহ।
গফফার:- তুই আমাকে হারাতে এসেছিস.? হা!হা!হা! তুই ভুলে গেছিস আমি কে..? মনে রাখিস তোকে আমি রক্ত বাণ মেরেছি। যে লেবুটা দিয়ে বাণ মেরেছি সেটার হদিস শুধুমাত্র আমি জানি। ওই লেবুটাও শুকাতে থাকবে আর তোর শরীরের রক্তও দিন দিন ক্ষরণ হতে থাকবে হা!হা!হা!
চিশতি:- আমি যদি মারাও যাই তাতেও কোনো আফসোস নেই তবুও একটা প্রশান্তিতে থাকবো যে আমার হাতে আরও একজন পাপীর মৃত্যু হয়েছে। তৈরী হয়ে যা তোর শেষ নিঃশ্বাসের জন্য....
এই বলে গফফার হুজুরের উপর ঝাপ দিয়েই বাঘ হয়ে গেলাম। আমাকে বাঘ হয়ে ঝাপ দিতে দেখে গফফার হুজুর জোড়ে চেচিয়ে বললো....
গফফার:- আমাকে মেরে ফেললে ইকবাল আর আমার মধ্যে কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিলো সেই রহস্য কোনো দিনই জানতে পারবি নাহ।
আমিও তার কথা শুনে বাঘ থেকে মানুষ হয়ে বললাম....
চিশতি:- রহস্য! সব রহস্য যেহেতু আমার সামনে এসেছে ওই রহস্যও নিশ্চয়ই একদিন নাহ একদিন আমার সামনে আসবে কিন্তু তাই বলে ভাবিস নাহ আজ তুই বেঁচে ফিরবি। একবার যেহেতু বলেছি তোর মৃত্যু হবে মানে মৃত্যু হবেই। আজ তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে নাহ আমার হাত থেকে।
গফফার:- ওই রহস্য তুই কোনোদিন জানতে পারবি নাহ, তাই বলে দিলাম আমাকে মারিস নাহ, সময় হলে আমি তোকে রহস্য উদঘাটন করতে সাহায্য করবো।
চিশতি:- হা!হা!হা! আমার কপালে কি বড় বড় অক্ষরে লিখা আছে যে আমি বোকা.!
গফফার:- কই নাহ তোহ..?
চিশতি:- তাহলে তুই ভাবলি কি করে আমি তোর কাছ থেকে রহস্য উদঘাটন করার জন্য সাহায্য চাইবো যেখানে তোরাই আমার জীবনের রহস্য হা!হা!হা! শত্রুকে বাঁচিয়ে রাখতে নেই। তোদের আর আমার মধ্যে পার্থক্য কি জানিস..?
গফফার:- কি.?
চিশতি:- তোরা আমাকে তিলে তিলে মারতে চাস আর আমি নিমেষেই মারতে চাই। তোরা যত চালই চেলে নে কিন্তু ওই পঞ্চশক্তি কিছুতেই হাসিল করতে পারবি নাহ
এই কথাটুকু বলে গফফার হুজুরকে আর কিছু বলার সুযোগ নাহ দিয়েই ওর উপর ঝাপিয়ে পরলাম। মুহুর্তেই তার দেহ থেকে মাথাটা আলাদা করে ফেললাম। জায়গাটা রক্তাক্ত হয়ে গেলো।
যাক আরো একজন শত্রুর শেষ হলো আজ। এখন বাকি আছে আর ৭জন। চাচ্চু, ফুফাজি, বড় জিজু, ইউনুস দেওয়ান আর মুখোশের আড়ালে ৩ জন। এবার পালা ইউনুস দেওয়ানের। আজ যেহেতু মৃত্যু তান্ডব শুরু করেছি ৪র্থ শত্রুর শেষ নাহ করে শান্ত হবো নাহ।
পথ ধরলাম ইউনুস দেওয়ানের বাড়ির দিকে। বেশ কিছুক্ষণ হাটার পর গন্তব্য স্থানে এসে পৌছলাম।
বাড়ির ফিরত ঢুকেই ইউনুস দেওয়ানের ঘরের দরজায় টোকা দিলাম। ভেরত থেকে ইউনুস দেওয়ান চিৎকার করে বললেন...
ইউনুস:- এত রাতে কে এলো..?
আমি নিজের কণ্ঠের কিছুটা পরিবর্তন করে উত্তর দিলাম "ইউনুস ভাই খুব দরকার ছিলো যদি দরজাটা একটু খুলতেন"
ইউনুস:- কে তুমি ভাই.? এত রাতে কিসের দরকার তোমার..?
"ভাই আমার জীবন সংকটে আছে দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন"
ইউনুস:- আচ্ছা দাঁড়াও আমি আসছি....
আমি দরজা থেকে সরে এসে উঠানে দাঁড়ালাম।
ইউনুস দেওয়ান দরজা খুলে ডাকছে...
ইউনুস:- কিও ভায়া কোথায় আপনি..?
"এইতো ভায়া আমি আপনার উঠানে দাঁড়িয়ে আছি"
ইউনুস:- আপনি তোহ বেশ আজব আছেন ভায়া! এত রাতে দরজায় টোকা দিয়ে জীবন বাঁচাতে বলে এখন আবার উঠানে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন।
"ভায়া একবার যদি উঠানে আসতেন খুব প্রয়োজনীয় কথা আপনাকে কিছু দেখাতাম"
ইউনুস:- আসছি!
ইউনুস দেওয়ান উঠানে এসে চমকে গেলেন...
ইউনুস:- তুই! এত রাতে তুই এখানে কি করতে এসেছিস.?
চিশতি:- তোর জীবন নিতে এসেছি! ভুলো গেছিস আমাকে কতটা যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করেছিলি তোরা।
ইউনুস:- গত জন্মেও মেরেছি এই জন্মেও মারবো
চিশতি:- জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা বন্ধ কর! এই জন্মে তোদের চাইতেও অধিক শক্তির অধিকারী আমি। তোদের দলের তিনজনকে শাস্তি দিয়েছি এবার তোর পালা। তারপর এক এক করে সবাইকে শেষ করবো।
ইউনুস:- তিনজন মানে.? কার কার কথা বলছিস.? আর কি করেছিস ওদের সাথে..?
চিশতি:- হাকিম, সামিদ আর গফফার
ইউনুস:- কি করেছিস ওদের সাথে.?
চিশতি:- দেখতে চাস কি করেছি.? আচ্ছা দেখাবো কিন্তু তার আগে তোকে একটা সুযোগ দি..
ইউনুস:- সুযোগ মানে.? কিসের সুযোগ.?
চিশতি:- তুই আমাকে তোদের দলের বাকি তিনজনের নাম বলে দে তাহলে তোকে ছেড়ে দিবো।
ইউনুস:- আমি কখনোই তাদের নাম বলবো নাহ
চিশতি:- আচ্ছা! নাহ বললে তোহ আর জোড় নেই, তুই নাহ বললেও এক নাহ একদিন তারা ঠিকই আমার সামনে আসবে। তাই তোকে বাঁচিয়ে রেখে শত্রুর সংখ্যা বাড়াতে চাই নাহ।
ইউনুস:- ক-কি বলতে চাইছিস তু.....
এতটুকু বলার পর আর কিছু বলার সুযোগ নাহ দিয়েই ইউনুস দেওয়ানের উপর ঝাপিয়ে পরলাম। মুহুর্তেই ইউনুস দেওয়ানের শরীরটাকে খন্ড খন্ড করে ফেললাম।
আমার শত্রুর তালিকা থেকে আরো একজনের নাম মুছে গেলো। এখন বাকি রইলো আর ৬জন।
চাচ্চু, ফুফাজি আর বড় জিজুর মাধ্যমেই আমাকে বাকি ৩জনের কাছে পৌঁছাতে হবে।
এই চার জনের ক্ষেত্রে যতটা ক্ষোভ নিয়ে কার্যসিদ্ধি করেছি তাদের ক্ষেত্রে বুদ্ধি খাঁটিয়ে কাজ করতে হবে নয়তো বাকি ৩জনের রহস্য কোনোদিনই আমার সামনে আসবে নাহ।
এখনও আমার অনেকগুলো কাজ বাকি।
১. গফফার হুজুর আমাকে বাণ মারা লেবুটা কোথায় লুকিয়েছে সেটা খুঁজে বের করা।
২. গফফার হুজুর আর বড় জিজুর মধ্যে কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিলো সেই রহস্য খোঁজা।
৩. বাকি ৩জন জাদুকরকে খুঁজে বের করা।
৪. নাগমণি খুঁজে বের করা।
৫. ওই ৩জন জাদুকরের মধ্যে তাদের বোন কে এবং সে কোথায় থাকে কেনোই বা তার পঞ্চশক্তির উপর কুনজর পড়েছে।
৬. অবশেষে পঞ্চমার কি হয়েছিলো.?