পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১৩
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৩ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১৩
নিজের রুমে এসে পিপিকে কল করলাম, বেশ কিছুক্ষণ পর কলটা রিসিভ করে ফোনের ওপাশ থেকে পিপি বলে উঠলো...
পিপি:- বাবা-মাকে পেয়ে তোহ পিপির কথা ভুলেই গেছো, বলেছিলাম পৌঁছবার সাথে সাথে আমাকে জানাতে কিন্তু গোটা একটা দিন পর পিপির কথা মনে পড়েছে মহারাজার।
আমি:- পিপি রাগ করছো কেনো, জার্নি করে এসেছি খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই আজকে সকাল সকাল তোমাকে কল করলাম তারপরও জানা ছিলো তুমি অভিমান করে আছো।
কিন্তু করবো বলো...?
পিপি:- হয়েছে! হয়েছে! আর বলতে হবে নাহ,
শরীর কেমন এখন..?
তাইমন কি করছে..?
ওর শরীরটা ঠিক আছে তোহ..?
আর বাবা-মা বাড়ির সবাই কেমন আছে..?
আমি:- হ্যা পিপি আমি, তাইমন ভাইয়া, বাবা-মা এবং বাড়ির সবাই ভালো আছি।
তুমি কেমন আছো..?
পিপি:- আমিও ভালো আছি কিন্তু তোদের জন্য খুব টেনশন হচ্ছিল।
আমি:- টেনশন করো নাহ পিপি আমরা সুস্থ আছি।
পিপি:- হ্যাঁ, তোদের সুস্থতা কামনা করি সবসময়।
তাইমন:- চিশতি, মামী তোকে খেতে ডাকছে...
আমি:- দাঁড়া আসছি...
পিপি:- কোথায় যাবি..? আর কে ডাকতে এসেছে..?
আমি:- আম্মি খেতে ডাকছে তাই তাইমন ভাইয়া এসেছে ডাকতে..
পিপি:- তাইমনকে ফোনটা দে একটু কথা বলি..
আমি:- এই নে পিপি কথা বলবে তোর সাথে...
তাইমন:- হ্যালো! আম্মি, কেমন আছো..?
পিপি:- আমি ভালো আছি ব্যাটা তুমি কেমন আছো..?
তাইমন:- আমিও ভালো আছি..
আব্বু আর হায়াত কেমন আছে..?
পিপি:- সবাই ভালো আছে, তোমার মামা বাড়ি কেমন লাগছে..?
তাইমন:- আমার তোহ খুব ভালো লেগেছে, সবাই কত ভালো, আমাকে কত আদর আপ্যায়ন করে ওরা।
মন চায় বাংলাদেশেই থেকে যাই।
তোমরা আসো নাহ কিছুদিন থেকে যেও...
আমি:- হ্যাঁ পিপি তোমরাও চলে আসো খুব মজা হবে...
পিপি:- আসবো! আসবো! তোমার ফুফাজি যেদিন অবসর হবেন অবশ্যই আসবো।
রুহানি:- তোমাদের কাকিয়া তাড়াতাড়ি নিচে ডাকছে...
তাইমন:- আরে রুহানি, এদিকে এসো তোমার পিপির সাথে কথা বলো...
পিপি:- কে এসেছে রে তাইমন..?
তাইমন:- তোমার বড় ভাইয়ের মেয়ে রুহানি..
পিপি:- ওহ্, রুহানি! ইশশ আমার ভাতিজীটাকে আজ পর্যন্ত দেখতে পারলাম নাহ, ও দেখতে কার মতো হয়েছে রে...?
তাইমন:- একদম তোমার ভাইয়ের মতো, এই নাও তুমি ওর সাথে কথা বলো...
রুহানি:- আসসালামু আলাইকুম পিপি...
পিপি:- ওয়া আলাইকুম সালাম ব্যাটা কেমন আছো..?
রুহানি:- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আপনি কেমন আছেন..?
পিপি:- আমিও ভালো আছি, তোমার বাবা-মা কেমন আছে..?
রুহানি:- সবাই ভালো আছে, পিপি আপনি কি বাংলাদেশে কখনো আসবেন নাহ..?
পিপি:- হ্যাঁ আসবো তোহ ব্যাটা, আমি গেলে তোমাদের সবাইকে এখানে বেড়াতে নিয়ে আসবো।
রুহানি:- আচ্ছা পিপি, এখন রাখি কাকিয়া আমাদের খেতে ডাকছে...
পিপি:- আচ্ছা, আর সাবধানে থেকো চিশতি আর তাইমনকে একটু দেখে রেখো কেমন
রুহানি:- আচ্ছা পিপি আপনি চিন্তা করবে নাহ আমি আছি তোহ ওদের সাথে।
রুহানি:- চলো তোমরা, এবার খেতে যাই কাকিয়া সেই কখন পাঠিয়েছে আমায়..
আমি:- হ্যাঁ চলো..
তাইমন:- চল! চল! আমারও অনেক ক্ষুধা লেগেছে
চিত্রা:- রুহানি তোকে সেই কখন ওদের ডাকতে......
ওহ্ তোরা আসছিস তাহলে..
চল, সবাই তোদের জন্য অপেক্ষা করছে
তাইমন:- হুম চলো! চলো!
চিত্রা:- তাইমন খুব চঞ্চল স্বভাবের ছেলে, আর আমার ভাইটা হয়েছে...?
তাইমন তখন বললো তুই নাকী অনেক সুন্দর কথা বলতে পারিস তাইলে এখানে এসে এমন চুপচাপ হয়ে গেছি কেনো..?
আমি:- আসলে, এখানে আসার পর থেকে আমার মাথায় হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি নাহ।
চিত্রা:- তোর তোহ আসার পর থেকেই খালি প্রশ্ন আর প্রশ্ন, প্রশ্নের কোনো শেষই নেই তোর, আচ্ছা বাদ দে এসব চল খেতে চল।
ডাইনিং-এ এসে সবার সাথে একসাথে বসে ব্রেকফাস্ট করলাম।
ব্রেকফাস্ট শেষে আম্মু আমাকে নিজের রেমে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করলো...
আম্মু:- তখন কি যেনো আমাকে বলতে চেয়েছিলি কিন্তু হাসমি ডাক দেওয়ায় আর বলতে পারলি নাহ, এখন বল তোহ বাবা কি হয়েছে..?
তারপর আম্মুর কাছে পাকিস্তান থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পর্যন্ত আমার সাথে যা যা ঘটে চলেছে সবটা বললাম ঠিক তখনই আম্মু কিছু বলার আগে দরজার বাইরে থেকে হাসমি ভাইয়া ঘরে ঢুকে বললো...
হাসমি:- আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম তোর সাথে এমনই কিছু একটা হচ্ছে...
আমি:- বুঝলাম নাহ, তুমি কি করে জানবে..?
হাসমি:- পিপি যখন তোর জন্মচিহ্ন আলোকিত হওয়ার কথা বলেছে তখন আমি আর আম্মু বুঝে গিয়েছিলাম তোর অতীত তোকে টানছে।
আম্মু:- হ্যাঁ বাবা! আমাদের পরিবারে যতবার বিপদ হয়েছে ততবারই হাসমি নিজের জীবন বাজি রেখে আমাদের জন্য লড়াই করেছে, যার প্রতিদান হিসেবে সে এই বয়সেও বিয়ে করতে পারছে নাহ...
আমি:- তোমাদের কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি নাহ, আর ভাইয়া বিয়ে করতে পারছে নাহ মানে কি...?
আম্মু:- ওর উপর কালো জাদু করা হয়েছে যাতে ও কোনোদিন বিয়ে করতে নাহ পারে।
আমি:- কি..!?
আম্মু:- হ্যাঁ, যাই হোক তুই এসব নিয়ে ভাবিস নাহ তোর পাশে আমি আর হাসমি সবসময় আছি।
হাসমি:- হ্যাঁ ভাই! যদি সত্যি সত্যি তোর প্রতিশোধ নেওয়ার হয় তাহলে তুই একা নাহ আমিও তোর পাশে আছি, বাঁচতে হলে একসাথে বাঁচবো মরতে হলেও একসাথে মরবো।
আমি:- কিন্তু! ভাইয়ার উপর কালো জাদু কে করেছে...?
আম্মু:- সে অনেক কথা, আস্তে আস্তে সব জানতে পারবি বাবা এখন এসব থাক।
চিত্রা:- তোমরা এখানে, ওদিকে সাইফ তোমাদের খুঁজছে...
আম্মু:- কেনো কি হয়েছে..?
চিত্রা:- আরে আমরা তোহ এবার বের হবো, তোমাদের নাহ বলে কিভাবে যাই বলো তোহ..?
আম্মু:- ওহ্ হ্যাঁ! তুই যা আমরা আসছি।
চিত্রা:- আম্মু তুমি কাঁদছো..?
আম্মু:- নাহ রেহ, কাঁদবো কেনো..?
চিত্রা:- সত্যি করে বলো তোহ কি হয়েছে..?
তুমি কি আবারও সেই পুরনো কথা মনে করে কান্না করছো..?
তুমি কি এগুলো আবার চিশতির কাছে বলেছো..?
আমি:- কিসের কথা বলছো চিত্রা আপুনি.?
চিত্রা:- নাহ রেহ ভাই তেমন কিছু নাহ।
আমাদের জীবনে একটা কালো অধ্যায় আছে যা কখনো মনে করতে চাই নাহ।
আমি:- কি হয়েছিলো..?
হাসমি:- বাদ দে এখন এসব, চিত্রা আবার আসবি কবে..?
চিত্রা:- জানি নাহ, সাইফ যদি সময় পায় তাহলে আবার আসবো...
তোরা সবাই যাস আমাদের বাসায়।
হাসমি:- হ্যাঁ তা তোহ যাবোই, চল এবার তোদের এগিয়ে দিয়ে আসি।
সাইফ:- শালাবাবু, আমরা তাহলে আসি।
তোমরা সবাই কিন্তু আমাদের বাসায় যাবে।
আমি:- ঠিক আছে জিজু।
তাইমন:- জিজু... আপনাকে খুব মিস করবো।
রুহানি:- হ্যাঁ জিজু! আর একটা দিন থেকে যাও প্লিজ
চিত্রা:- এখন কোনো প্লিজ বললে হবে নাহ, তোরা গিয়ে থেকে আসিস আমাদের পক্ষে আর থাকা সম্ভব নাহ।
আর শোন, কাকিময়া আর চাচ্চু যদি চিশতির আশেপাশে তোকে যেতে বারণ করে তাহলে ওর আশেপাশে যাস নাহ।
রুহানি:- এদিকে শুনো নাহ...
চিত্রা:- বল..
রুহানি:- তোমার ভাইটাকে কেনো জানি আমার ভালো লাগে, ওর দিকে তাকিয়ে দেখো একবার মনে হয় কোনো বিষয় নিয়ে গোয়েন্দাগিরি করছে আবার হঠাৎ হঠাৎ মনে হয় নিষ্পাপ ভোলাভালা আবার যখন রেখে যায় কি বলবো।
চিত্রা:- আমি তোহ কালকেই বুঝে গেছি তোর মনে লাড্ডু ফুটেছে কিন্তু তোর বাবা-মায়ের অপছন্দে পর সাথে মিশিস নাহ।
রুহানি:- আরে এই ভালো লাগা সেই ভালো লাগা নাহ, এমনি ভালো লাগে কিন্তু তাই বলে ওকে পছন্দ করি নাহ বিদেশি বিড়াল একটা
চিত্রা:- হয়েছে! এবার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আমরা গেলাম
রুহানি:- আচ্ছা সাবধানে যেও
চিত্রা আপুনি আর জিজু চলে গেলো। ওদের বিদায় জানিয়ে যে যার মতো বাসায় ফিরে গেলো আমিও যাচ্ছিলাম তখনই...
রুহানি:- ঘুরতে যাবে..?
আমি:- কাকে বলছো..?
রুহানি:- এখানে তোমাকে ছাড়া আর কেউ আছে..?
আমি:- নাহ
রুহানি:- তাহলে তোমাকেই বলেছি...
আমি:- আচ্ছা চলো...
রুহানি:- কোথায় যাবে বলো...
আমি:- তুমি যেখানে নিয়ে যাও
রুহানি:- চলো আজকে বিলে যাবো...
আমি:- বিলটা আবার কি.?
রুহানি:- চলোই নাহ গেলেই দেখতে পারবে..!
আমি:- আচ্ছা চলো।
রুহানির সাথে বিল দেখতে চলে এলাম।
এসে দেখি এটা নদীর মতো কিন্তু নদী নয় তারমানে এটাকেই বিল বলে।
যাই বলুক জায়গাটা অনেক সুন্দর।
কি সুন্দর বাতাস, চারিদিকে গাছপালা, গাছে গাছে পাখির ডাক, বিলের দূর দূরান্ত পর্যন্ত শাপলা ফুল দেখা যাচ্ছে আবার আশেপাশে কিছু নৌকাও আছে।
আমি আস্তে আস্তে বিলের ধারে এসে দাঁড়ালাম, ততক্ষণে ভুলেই গেছি আমি যে রুহানির সাথে এখানে এসেছি।
হঠাৎ করে রুহানি আমার পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে আমাকে বিলে ফেলে দিলো।
হয়তো রুহানি জানে নাহ আমি সাঁতার জানি নাহ।
আমি পানির মধ্যে বাঁচার জন্য ছটফট করছি কিন্তু কিনারা খুঁজে পাচ্ছি নাহ, আস্তে আস্তে যেনো আমি বিলের মাঝে চলে এসেছি।
রুহানি উপরে দাঁড়িয়ে ভয়ে চিৎকার দিচ্ছে, কিন্তু পানিতে নামার সাহস পাচ্ছে নাহ বুঝা গেলো রুহানিও সাঁতার জানে নাহ।
কিন্তু আমি যে ভাসতে ভাসতে বিলের মাঝে চলে এসেছি আমাকে কে বাঁচাবে..?
আমি কি তাহলে মরে যাবো..?
আমাকে তাহলে কেউই বাঁচাতে আসবে নাহ..?
আমার কেমন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, মনে হচ্ছে আমি এবার তলিয়ে যাবো।
কিন্তু তারপরও আমি বাঁচার জন্য ছটফট করছি কিন্তু কিনারায় যেতে পারছি নাহ।
এবার আমি পানি খেতে খেতে ক্লান্ত এবার বুঝি জ্ঞান হারিয়ে পানির মাঝে নিজেকে বিলিন করে দিবো।
তখন হয়তো আমি জ্ঞান হারিয়ে ছিলাম, চোখ দুটো খুলে দেখি আমি পানির নিচে শুয়ে আছি অথচ আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে নাহ।
ব্যাপার কি..?
আমি কি মারা গেলাম..?
আমি যদি মারা নাহ যাই তাহলে পানির নিচে নিশ্বাস নিচ্ছি কিভাবে..?
হঠাৎ দেখি এক বিশাল বড় মাছ আমার দিকে তেড়ে আসছে বোধহয় আমাকে খেয়ে ফেলবে।
আমি এখন কি করবো, চিৎকার দিবো..?
কিন্তু এইখানে আমার চিৎকারের শব্দ কে শুনবে..?
আমি কিছু ভেবে উঠার আগেই মাছটা আমার সামনে চলে এলো, এবার মাছটা একদম আমার শরীরে এসে ধাক্কা খেলো মনে হলো আমার ভিতরে কোনো এক জোড় হাওয়া ঢুকে গেলো।
তারমানে এটা কোনো মাছ নাহ, এটা মাছের মতো দেখতে একটা বাষ্পীয় পদার্থ।
হঠাৎ খেয়াল করলাম এটা আমার ভিতর প্রবেশ করার ফলে আমার পায়ে কেমন একটা মাছের মতো আঁশটে জাতীয় কিছু দেখা যাচ্ছে।
তারপর কি হয় মনে নেই।
চোখ খুলে দেখি আমি হসপিটালে।
বেডের পাশে কেউ নেই, আমার মুখে অক্সিজেন মাস্ক পড়ানো।
আমাকে জ্ঞান ফিরতে দেখতে নার্স ডাক্তারকে ডাক দিলো।
ডাক্তার এসে আমাকে চেক করে বললো...
ডাক্তার:- উনি তোহ এখন একদম সুস্থ।
কোনো ব্যক্তি এতক্ষণ পানির নিচে থেকেও যে তার পেট থেকে এক ফোঁটা পানি বের হলো নাহ এটা কিন্তু খুবই অলৌকিক ঘটনা।
ডাক্তারের মুখে এসব কথা শুনে ভাবতে লাগলাম সাক্ষীর কথা....
__ সাক্ষী যে বলেছিলো আমার মধ্যে জলমৎস শক্তি আছে তারমানে এটাই সেই জলমৎস শক্তির নমুনা।
হয়তো হয়তো নাহ কিন্তু আমার সাথেই বা কেনো এমনটা হচ্ছে, চাই নাহ আমার এমন কোনো অলৌকিক ক্ষমতা।
আমি সাধারণ জীবনযাপন করতে চাই।
কিন্তু সাক্ষী যে বললো আমি নাহ চাইলেও নিয়তি আমাকে দিয়ে এসব করাবে।
তাহলে কি আনাকে স্বীকার করে নিতে হবে এসব।
হার মেনে নিবো নিয়তির কাছে।
কিছুক্ষণ পর আব্বু আর ভাইয়া আমার বেডে এসে ডাক্তারের সাথে কথা বলে আমাকে ডিসচার্জ করে বাড়ি নিয়ে আসে।
বাড়ি গিয়ে দেখি সবাই রুহানিকে বকছে...
কাকিয়া:- আজ যদি ছেলেটার কিছু হয়ে যায় তোকে আমি খুন করবো...!
আম্মু:- এসব কি বলছিস..? কিচ্ছু হবে নাহ চিশতির!
আর মেয়েটাকে দোষ দিয়ে কি লাভ..?
ও তোহ আর জানতো নাহ যে চিশতি সাঁতার জানে নাহ।
ভাগ্যিস তখন রহমান ভাই ও গ্রামের কিছু লোক রুহানি চিৎকার শুনে বিলের ধারে ছুটে গিয়েছিলো।
কাকিয়া:- ছুটে গিয়ে কি লাভ হয়েছিলো বলো তোহ.?
কেউ তোহ চিশতিকে খুঁজে পায়নি হঠাৎ ঘন্টা খানেক পর কোত্থেকে যেনো ভেসে উঠেছে।
আম্মু:- সে যাই হোক, ভেসে উঠুক আর কেউ তুলে আনুক ছেলেটাকে পেয়েছি তোহ...
হাসমি:- আম্মু! চিশতিকে বাড়ি নিয়ে এসেছি..
আম্মু:- বাবা আমার, এখন কেমন আছিস..?
জানিস আমরা কত ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম..?
এখানে আসার পর থেকে একটার পর একটা লেগেই আছে তোর উপর দিয়ে আর কোত্থাও যেতে হবে নাহ তোর।
কয়েকটা দিন বাড়িতেই থাক, সুস্থ হলে নাহয় গ্রাম ঘুরে দেখা যাবে।
আব্বু:- আহা, ছেলেটাকে ঘরে যেতে দেবে নাকী এখানেই কান্নাকাটি করবে...
আম্মু:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! ওকে ঘরে নিয়ে যা হাসমি।
হাসমি ভাইয়া আমাকে আমার রুমে রেখে আসে।
কিছুক্ষণ পর তাইমন ভাইয়া এসে বলে...
তাইমন:- কিরে, তুই ঠিক আছিস তোহ..?
আমি:- হ্যাঁ রেহ ঠিক আছি কিন্তু কি থেকে কি হলো কিছুই বুঝলাম নাহ।
তাইমন:- থাক এসব ভাবিস নাহ, আমি আছি তোহ তোর পাশে, তোর যেকোনো দরকারে আমাকে ডাকবি।
আর শোন কোথাও একা একা যাবি নাহ, রুহানির সাথেও নাহ লাগলে আমাকে সাথে নিয়ে যাবি।
আমি:- তোর কি হয়েছে বল তোহ...?
হঠাৎ আমার পিছনে লাগা বাদ দিয়ে এত কেয়ার করছিস..?
তাইমন:- আজ সামনে থেকে তোকে হারিয়ে যেতে দেখছিলাম বিশ্বাস কর ভেবেছিলাম তোকে আর কখনো ফিরে পাবো নাহ।
আমার বেস্ট ফ্রেন্ড বলতে তোহ শুধু তুইই আছিস তোকে হারাতে চাই নাহ রেহ।
আমি:- এত সহজে হারাবো নাহ। আমিও আছি তোর পাশে।
তখনই দরজায় নক.....
রুহানি:- আসবো...
তাইমন:- আমি তাহলে নিচে গেলাম দেখি গিয়ে মামি তোর জন্য কিছু রান্না করেছে কি নাহ..
আমি:- আচ্ছা যাহ...এসে রুহানি!
রুহানি:- আসলে....
আমি:- থাক নিজেকে দোষ দিও নাহ, যা হওয়ার হয়ে গেছে..
রুহানি আমাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো...
রুহানি:- তুমি এত ভালো কেনো..?
তুমি একদম কাকিয়ার মতো, কারো যদি দোষ থাকেও তারপরও তাদেরকে দোষ দাও নাহ।
বিশ্বাস করো আমি ভাবতে পারিনি তুমি পানিতে তলিয়ে যাবে আমি জাস্ট মজা করে ধাক্কা দিয়েছিলাম।
কিন্তু আমিও তোহ সাঁতার জানি নাহ তাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
কিন্তু তুমি ফিরে এসেছো আমি অনেক হ্যাপি।
আমি:- আচ্ছা হয়েছে! আর বাচ্চাদের মতো কাঁদতে হবে নাহ।
আমার কিন্তু তোমার সাথে ঘুরতে ভালোই লাগছিলো কিন্তু তুমি যে এতটা দুষ্টু জানা ছিলো নাহ।
এখন থেকে তোমার সাথে আর ঘুরতে যাবো নাহ হুহ।
রুহানি:- আমি আর দুষ্টুমি করবো নাহ প্রমিজ, প্লিজ এমন করো নাহ, আমরা আবারও ঘুরতে যাবো প্লিজ প্লিজ এমন করো নাহ প্লিজ।
আমি:- আচ্ছা যাবো মনে থাকে যেনো প্রমিজ করেছো আর দুষ্টুমি করবে নাহ।
রুহানি:- হ্যাঁ প্রমিজ।
তখনই রুমে আম্মু আসে, হাত এক বাটি স্যুপ।
আম্মু:- সেই সকালে সবার সাথে ব্রেকফাস্ট করেছিলি তারপর তোহ সারাদিন আর কিছুই খাওয়া হয়নি।
সারাদিন হসপিটালে ভর্তি ছিলি কিছুই পেটে পড়েনি।
একটু স্যুপ বানিয়েছি খেয়ে নে।
রুহানি:- ইয়ে, কাকিয়া আমি খাইয়ে দিবো..?
আম্মু:- তুই খাইয়ে দিবি...? আচ্চ দে।
ঠিক মতো খাইয়ে ঔষধগুলো বুঝিয়ে দিয়ে আসিস।
রুহানি:- আচ্ছা।
আম্মু চলে যাওয়ার পর রুহানি আমাকে স্যুপ খাইয়ে ঔষধ বুঝিয়ে দিয়ে চলে যায়।
আমি একা একা ভাবতে থাকি আসলে হচ্ছেটা কি আমার সাথে..?
এসবের শেষ কোথায়..?
আমি তোহ এসবেই কিছুই বুঝতে পারছি নাহ তাহলে এসবের শুরু করবো কিভাবে....?
একটা কথা বুঝতে পারছি নাহ, সাক্ষী বললো আমি নাকী আগের জন্মে মেয়ে ছিলাম আর আমি এবং আমার মা পৃথিবীর নিষ্পাপ মানুষদের কথা ভেবে চালাকি করেছিলাম কিন্তু কে আমার মা আমি আমিই বা কে ছিলাম আমার পরিচয় কি ছিলো..?
তাছাড়া কি এমন চালাকি করেছিলাম যার ফলে আমাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে..?
উফ এসব আর ভাবতে পারছি নাহ আমি..!
এসবের শেষ চাই আমি.!
এসব আর সহ্য হচ্ছে নাহ আমার..!
আমার এই সব প্রশ্নের উত্তর শুধুমাত্র একজনই দিতে পারে, সে হলো সাক্ষী।
আমি:- সাক্ষী! সাক্ষী! তুমি যদি সত্যি হয়ে থাকো তাহলে আমার সামনে আসো।
আমি জানি তুমি আমার মনের ভুল তাই তুমি আর কখনোই আমার সামনে আসবে নাহ।
কিন্তু তারপরও যদি তোমার কোনো অস্তিত্ব থেকে থাকে তাহলে আমার সামনে এসে আমার সব প্রশ্নের উত্তর দাও।
তখনই আমার রুমে হাল্কা একটা মৃদু বাতাস বয়ে গেলো।
খেলায় করলাম বাতাসের সাথে সাথে আমার রুমে সাক্ষী উপস্থিত হলো।
কাল রাতের মতোই আজকেও সে একই ভাবে ছায়ামূর্তি হয়ে এসে হাজির।
ওকে উদ্দেশ্য করে বললাম...
আমি:- সত্যি করে বলো কে আমি.?
কি আমার পরিচয়.?
আমার মা-বাবা কে ছিলো.?
আমার জন্মস্থান কোথায় ছিলো.?
আর কোন চালাকির কথা বলছিলে তুমি..?
সাক্ষী:- শান্ত হও! শান্ত হও! সবটাই জানতে পারবে।
আমি:- কিন্তু কবে জানতে পারবো..?
সাক্ষী:- সময় মতো সবটাই জানতে পারবে..?
আমি:- কিন্তু আমার এখনই জানতে হবে, তুমি আমাকে উত্তর দাও
সাক্ষী:- ঠিক আছে তাহলে শুধু নিজের আগের জন্মের পরিচয়টুকু যেনো রাখো...
আমি:- হ্যাঁ তুমি সপটুকুই বলো..
সাক্ষী:- তোমার জন্ম হয় এক রাজপ্রাসাদে।
প্রাসাদটি ত্রেতাযুগ হিসেবে তখন ভৌগোলিক ভাবে কোনো মানচিত্রে প্রকাশ নাহ হলেও এখন ওই জায়গাটির নাম ভালুকা।
আগের জন্মে তোমার বাবা ছিলো একজন মুসলিম এবং তোমার মা ছিলো একজন হিন্দু।
তোমার বাবার নাম ছিলো বাবর আজম আর মায়ের নাম ছিলো তারা কিন্তু যখন তোমার মা পঞ্চশক্তির অধিকারী হয় তখন তোমার মায়ের নাম পঞ্চমা রাখা হয়।
তুমি ছিলে ওদের একমাত্র রাজকন্যা।
আর ওই রাজ্যের সুখের ভান্ডার।
তুমি ছিলে ওই যুগের রাজকুমারী চন্দ্রাবতী।
যার রূপে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের রাজকুমাররা পাগল ছিলো হাজারটা বিয়ের প্রস্তাবকেও মানা করে দিতে শুধুমাত্র একজন সাধারণ মানুষকে ভালোবেসে।
তুমি যাকে ভালোবাসতে সে ছিলো তোমাদেররই রাজ্যের সেনাপতির ছেলে আয়াশ।
বাবর আজমের রাজ্যে চন্দ্রাবতী আর আয়াশের প্রেম কাহিনি ছিলো জনমুখড়।
যখন সময় হয়েছিলো পঞ্চশক্তিকে তোমার মধ্যে জাগ্রত করার তখন ওই ১০ জাদুকর তাদের সয়তানি চাল চালে কিন্তু তুমি আর তোমার মা তখন পঞ্চশক্তিকে তোমার মধ্যে নাহ দিয়ে একটা পাথরের মধ্যে সব শক্তিকে স্থাপিত করে ওই পাথরটা আমার কাছে দিয়ে আমাকে অনেক দূরে চলে যেতে বলো।
আমিও তোমার মাকে দেওয়া কথা রাখতে পঞ্চশক্তিকে এত যুগ হেফাজত করে এসেছি।
এখন সময় এসেছে সেই অসম্পূর্ণ প্রতিশোধকে পূর্ণতা দেওয়ার।
একটা কথা মনে রেখো, তোমার যদি আগের জন্মের কথা মনে পড়ে তাহলেই তোমার মধ্যে এই শক্তি জাগ্রত হবে তার আগে নয়।
আর আর একটা কথা মনে রেখো, ওই ১০জন কালো জাদুকর কিন্তু তোমার পঞ্চশক্তির চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
আমি:- সবটাই বুঝলাম, ওরা যদি আমার শক্তির চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয় তাহলে আমার শক্তি দখল করতে চায় কেনো...?
আর আমাকে তখন পুড়িয়ে মেরেছিলো কেনো..?
সাক্ষী:- তখন তুমি আর তোমার মা আড়ালে পঞ্চশক্তি আমার কাছে দিয়ে ওদের প্রকাশ্যে দেখিয়েছিলে পঞ্চশক্তি তোমার মধ্যে স্থাপিত করা হয়েছে।
তাই ওরা ওদের তন্ত্রের আগুনে তোমাকে পুড়িয়েছিলো, ভেবেছিলো তুমি মারা গেলে ওরা ওই শক্তি পেয়ে যাবে কিন্তু তুমি মরতে মরতে ওদের বোকা বানিয়েছো।
আর মনে রেখো, খারাপ শক্তি যখন শক্তিশালী হোক ওদের বল দিয়ে নয় ধ্যান দিয়ে ধ্বংস করতে হবে।
ঠিক তেমনই ওরা ওদের শক্তিকে অমর করার জন্য তোমার এই পবিত্র শক্তিকে নিজেদের আয়ত্তে নিতে চেয়েছিলো।
আমি আর কিছু বলতে যাবো তখনই সাক্ষী উধাও হয়ে যায়।
এবারও আমার মাথায় চিন্তার কোনো শেষ হচ্ছে নাহ।
একে তোহ আমার জীবনের অজানা কাহিনি তার উপর আমাদের পরিবারের নাকী আরো একটা কালো অধ্যায় আছে কিন্তু কি সেই কালো অধ্যায় আমাকে জানতে হবে।
আর তাইমন ভাইয়া পঞ্চমা ও ১০জন কালো জাদুকর সম্পর্কে কিভাবে জানে।
আমি কালকে তাইমন ভাইয়ার মুখেই এই নামটা প্রথম শুনলাম তারমানে তাইমন ভাইয়াও আবার জন্ম নিয়েছে..?
কিন্তু তাইমন ভাইয়া কে ছিলো..?
ও কেনো আবার জন্ম নিয়েছে, কি উদ্দেশ্য ওর..?
জানি নাহ, আমি কিচ্ছু জানি নাহ!
এসব আর ভাবতে পারছি নাহ।
হ্যাঁ! এবার আর এসব নিয়ে ভাববো নাহ, যা হবে দেখা যাবে।