পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ০৩

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৩ · ৩০ পর্বের মধ্যে ৩

হায়াতি আর আমি বালিশ দিয়ে মারামারি করার সময় নিচ থেকে পিপি ডাকছে....

পিপি:- সবাই নিচে এসো, ডাইনিং-এ খাবার দিয়েছি।

আমি, হায়াতি, তাইমন ভাইয়া তাড়াতাড়ি করে নিচে চলে এলাম।

নিচে এসে দেখি ফুফাজি তড়িঘড়ি করে কোথায় যেনো বের হচ্ছে....

পিপি:- হ্যাঁ গোহ, একটু আগেই তোহ ফিরলে এখন আবার কোথায় যাচ্ছো..?

ফুফাজি:- একটু কোর্টে যাবো...

পিপি:- কোর্টে যাবে কেনো..?

ফুফাজি:- তায়ব সাহেব ডেকেছে, দেখি কি বলে আজকে...

পিপি:- ওহ্ আচ্ছা তাহলে যাও, সাবধানে যেও।

ফুফাজি বের হতেই যাবে তখন সদরদরজা দিয়ে তায়ব আঙ্কেল এসে হাজির....

তায়ব:- আপনাকে আর কষ্ট করে যেতে হবে নাহ, আমিই আপনার কাছে চলে এলাম...

ফুফাজি:- আরে তায়ব সাহেব আপনি..?

আপনি আবার কষ্ট করে আসতে গেলেন কেনো..?

আমি তোহ যাচ্ছিলামই.!

তায়ব:- ভাবলাম, কোর্টে বসে মিটমাট করার আগে আপনার সাথে একান্ত বসে কিছু কথা বলি...

ফুফাজি:- হ্যাঁ আমিও সেটাই বলছিলাম এতদিন আপনাকে....

তায়ব সাহেব দেখুন আমার ছোট ছোট দু'টি ছেলে মেয়ে, আপনি যদি জমিটা আপনার দখলে নিয়ে যান তাহলে....

তায়ব:- ব্যস, আপনাকে আর কিছু বলতে হবে নাহ্।[একটু ধমকের সুরে]

ফুফাজি:- তায়ব সাহেব যদি একটু....

তায়ব:- একবার চুপ করতে বলেছি আপনাকে..?

ফুফাজি:- আচ্ছা.!

আমরা সবাই নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি নাহ।

আজকেই হয়তো আমাদের সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দিবে।

হঠাৎ তায়ব আঙ্কেল ফুফাজিকে জড়িয়ে ধরে বলছে...

তায়ব:- আমাকে মাফ করে দিন মিনহাজ সাহেব.!

ফুফাজি:- মমমমম.!? কি বলছেন কি তায়ব সাহেব.?

তায়ব:- হ্যাঁ আমি ঠিকই বলেছি, আমাকে মাফ করে দিন প্লিজ.! আমি অন্যায় ভাবে আপনার কাছ থেকে আপনাদের জমিটা নিজের দখলে নিতে চেয়েছিলাম।

আমি আজকে এখানে এসেছি আপনার কাছে মাফ চাইতে ও এই জমিটা আপনাদের নামে রেজিস্ট্রি করার জন্য।

ফুফাজি:- আ-আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি নাহ.?

আপনি কি সত্যি সত্যি এসব কথা বলছেন নাকী আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি.?

তায়ব:- নাহ! নাহ! মিনহাজ সাহেব আপনি কোনো স্বপ্ন দেখছেন নাহ এটা একদম সত্যি।

ফুফাজি:- কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব.?

আপনাকে এতদিন এতভাবে বুঝালাম আপনি কিছুতেই মানতে চাইলেন নাহ আজ হঠাৎ আমার বাসায় এসে আমার কাছে ক্ষমা চাইছেন তার সাথে সাথে জমিটাও আমাদের নামে করে দিচ্ছেন..?

তায়ব:- হ্যাঁ! মিনহাজ সাহেব আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি তাই জন্যই ছুটে এসেছি।

পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন আর আপনাদের জমিটা আপনারা বুঝে নিবেন।

পিপি:- আল্লাহ পাক আপনার কল্যাণ করুক।

আমাদের মতো গরীবের দরবারে এসেছেন, যদি আমাদের সবার সাথে লাঞ্চ করতেন খুব খুশি হতাম।

তায়ব:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! অবশ্যই! ভাবিজি আমাকে লাঞ্চ করতে বলছেন আর আমি নাহ করি কিভাবে।

পিপি আমাদের সবাইকে খাবার দিয়ে নিজেও খেতে বসলেন।

সবার খাওয়া শেষে তায়ব আঙ্কেল ফুফাজিকে বললো...

তায়ব:- তাহলে মিনহাজ সাহেব চলুন আমরা এখন কোর্টে যাই...

ফুফাজি:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! চলুন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তায়ব আঙ্কেল আর ফুফাজি বেরিয়ে গেলেন।

আমরা যে যার রুমে যাবো তখনই পিপি আমাকে ডাক দেয়...

পিপি:- চিশতি ব্যাটা..?

আমি:- হ্যাঁ পিপি...?!

তাইমন ভাইয়া আমার কানে কানে বলছে...

তাইমন:- আমি জানি এসবকিছু তোরই কারসাজি, এখন আম্মিও বুঝে গেছে...

আমি:- চুপ কর, অন্য কাজেও তোহ ডাকতে পারে..

তাইমন:- আয় আগে শুনি..

পিপির কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই পিপি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো....

পিপি:- আমি জানি এগুলো সবটা তুমি করেছো..?

আমি:- ইয়ে মানে পিপি...

পিপি:- থাক আর মানে মানে করতে হবে নাহ...

দেখো বাবা তোমার মধ্যে হঠাৎ কোত্থেকে এসব অলৌকিক ক্ষমতা এলো কেউ জানে নাহ, তাই বলছি এসব সবক্ষেত্রে ব্যবহার করো নাহ...

এরপর থেকে যেনো তোমাকে আর কখনো এমনটা করতে নাহ দেখি...

মনে থাকবে....?

আমি:- হ্যাঁ পিপি মনে থাকবে.!

হায়াতি:- হুম মনে থাকে যেনো[ব্যঙ্গ করে]

আমি:- চুই গেলি এখান থেকে...

তাইমন:- এই চিশতি ওর কথা বাদ দে চল আমরা ঘুরতে যাবো...

হায়াতি:- আমিও যাবো...

আমি:- তোকে কোত্থাও নিচ্ছি নাহ, তুই এখানেই থাকবি...

তাইমন:- হ্যাঁ তোকে নিতে পারবো নাহ..

হায়াতি:- আম্মি ওদের কিছু বলো, আমি ওদের সাথে যাবো...

পিপি:- আহা, এত করে বলছে মেয়েটা ওকেও নিয়ে যাও তোমাদের সাথে...

তাইমন:- আচ্ছা চল...[একটু ক্ষিপ্ত হয়ে]

আমি:- যাবি ভালো কথা একদম কোনো কিছুর জন্য বায়না করতে পারবি নাহ।

হায়াতি:- আচ্ছা চল...

আমরা তিনজন ঘুরতে বেরিয়ে পরলাম।

মাঝরাস্তায় তাইমন ভাইয়া বলছে...

তাইমন:- সামনের বড় মাঠে মেলা হচ্ছে চল ওখানে যাই...

আমি:- নাহ রেহ কিছুদিন আগেও তোহ গেলাম, আর ভালো লাগছে নাহ...

হায়াতি:- এই তুই চুপ কর তোহ, আয় ভাইয়া আমরা মেলায় যাবো ও গেলে যাবে নাহ গেলে নেই।

তাইমন:- চুপ কর তোকে কে বলেছে মেলায় নিবে..?

হায়াতি:- দেখ আমি কিন্তু আম্মির কাছে বলে দিবো.

আমি:- উফফ, আচ্ছা চল ওর কথাই রাখি।

তাইমন:- আয়, কিন্তু আজকে শুধু ঘুরবো কোনো কেনাকাটা করবো নাহ।

হায়াতি:- কেনাকাটা করার কি দরকার.? আমাদের কাছে তোহ জ্বিনের বাচ্চা আছে.! যখন যা লাগবে এনে দিবে...

এই বলে হাসতে লাগলো....

আমি:- একটা থাপ্পড় দিবো ফাজিল কোথাকার।

তাইমন:- তা ঠিক বলেছে হায়াত, তুই তোহ আমাদের জ্বিনের বাচ্চা।

আমি:- দেখ এবার কিন্তু বেশি হচ্ছে...

তাইমন:- আচ্ছা এসব বাদ দে চল মেলায় চল...

আমরা তিনজন মেলায় ঘুরাঘুরি করছি...

হঠাৎ করে আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলো...

আমার মনে হচ্ছে আমার চারিদিকে কতশত মানুষ সবাই দেখতে কেমন অদ্ভুত, তাদের ভাষাও অদ্ভুত।

কি হচ্ছে আমার সাথে, আহ্ আর সহ্য করতে পারছি নাহ।

একটা চিৎকার দিতেই দেখি সবকিছু অদৃশ্য হয়ে গেলো।

আমার চারপাশে সুসজ্জিত মেলা চারিদিকে কত রঙের মানুষ।

কিন্তু হায়াত আর তাইমন কাকে যেনো খুঁজছে..?

কাকে খুঁজছে ওরা..?

একি ওরা তোহ আমাকেই খুঁজছে..!

কিন্তু আমি তোহ ওদের সামনে তাহলে ওরা আমাকে কেনো ডাকছে..?

আমি ওদের ডাকছি ওরা যেনো আমার ডাকও শুনতে পাচ্ছে নাহ।

ওদের এত করে ডাকছি ওরা আমার ডাকও শুনতে পাচ্ছে নাহ কেনো...

ওরা কি আমাকে দেখতে পাচ্ছে নাহ, নাকী আমার সাথে মজা করছে...?

এসব ভাবতে ভাবতে মাথায় হাত দিয়ে কান্না করতে করতে হাঁটু গেড়ে বসে পরলাম।

হঠাৎ তাইমন ভাইয়া আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললো...

তাইমন:- কিরে মাথা ব্যথা কমেছে..?

আমি:- কি! ওহ্! হ্যাঁ! নাহ কমেনি.?

তাইমন:- কি বলছিস তুই.? তোর বোধহয় শরীর খারাপ করেছে চল বাসায় চল..

আমি:- হ্যাঁ বাসায় চল...

কি হলো এটা.?

এতক্ষণ কি হচ্ছিল আমার সাথে..?

কোনটা সত্যি.?

রাতে এসে ডিনার করে আমি আমার রুমে ঘুমতে চলে গেলাম।

কিছুক্ষণ পর পিপি আমার রুমে এলো...

পিপি:- চিশতি ব্যাটা.! শরীরটা এখন কেমন লাগছে..?

আমি:- এইতো পিপি ভালোই..

পিপি:- কি জানি কিছুদিন ধরে তোমার সাথে কি হচ্ছে, কেনোই বা তুমি এমন আজগুবি কাজ করে যাচ্ছো.?

কখনো তোমার হাঁটুতে ব্যথা কখনো মাথা ব্যথা, কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি নাহ।

যাই হোক আজকের রাতটুকু কষ্ট করো কালকে তোমাকে নিয়ে আমরা ডাক্তারের কাছে যাবো, কেমন.?

আমি:- নাহ! নাহ! পিপি প্লিজ! আমি ডাক্তারের কাছে যাবো নাহ প্লিজ.!

পিপি:- ওমা কেনো.?

আমি:- তুমি জানো নাহ আমার ইনজেকশনে ভয় করে.? প্লিজ পিপি প্লিজ.!

পিপি:- আচ্ছা কালকেরটা কালকে দেখা যাবে আজকে ঘুমাও, আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।

পিপি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, কখন ঘুমিয়ে পড়েছি টের পাইনি।

হঠাৎ প্রচন্ড আলো চোখে পড়ায় ঘুম ভেঙ্গে গেলো...

ঘুম থেকে উঠে দেখি চারিদিক সাদা আর ধুঁয়া উড়ছে।

এতো আলো আমার রুমে এলো কি করে..?

জানালা দিয়ে নিচে তাকাতে দেখি আমি আকাশের উপরে আছি।

এটা কি করে সম্ভব.?

আমি তোহ কিছুক্ষণ আগেই আমার রুমে ঘুমলাম তাহলে এখন আকাশে এলাম কি করে..?

আমি কি তাহলে মারা গেছি..?

এসব ভাবতে ভাবতে এক পা দু পা করে হাঁটতে শুরু করি...

সামনে কিছু জুব্বা পরিধান করা লোককে দেখতে পেলাম, তারা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক লম্বা, কি যেনো ফিসফিস করে একে অপরের সাথে কথা বলছে...

আমি তাদের দেখতে পাচ্ছি তারা কি আমাকে দেখতে পাচ্ছে নাহ..?

কি জানি হয়তো দেখতে পাচ্ছে নাহ.?

খেয়াল করলাম ঘরটির শেষ অংশে একটা আলোকিত বস্তু জলজল করছে...

আলোকিত বস্তুটা দেখে আমার মনে কিছুটা কৌতুহল কাজ করলো আস্তে আস্তে ওইটার সামনে গেলাম, খুব ইচ্ছে করলো একটু স্পর্শ করে দেখার তাই হাত দিয়ে ধরতেই আমার শরীরটা যেনো কম্পন করে উঠলো...

প্রচন্ড বেগে শরীর কাঁপার কারণে৷ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো...

চোখ খুলতেই দেখি পিপি কান্না করতে করতে সবাইকে ডাকছে....

পিপি:- তোরা সবাই কই রেহ...? চিশতি ব্যাটার জ্ঞান ফিরেছে...

পাশের রুম থেকে হায়াতি আর তাইমন ভাইয়া ছুটে এলো...

পিপি:- সেদিন রাতে হাঁটু ব্যথা নিয়ে অজ্ঞান হয়েছিস আজ ৩ দিন পর জ্ঞান ফিরলো, কত ডাক্তার দেখালাম দেড় দিন হসপিটালে ভর্তি রাখলাম কিন্তু জ্ঞান ফিরলো নাহ.....

আমরা খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম...

এই বলে পিপি আবারও কান্না করতে শুরু করলো....

আমি মনে মনে ভাবছি...

আমি যদি ৩দিন ধরে অজ্ঞান হয়ে থাকি তাহলে এতদিন আমি কোথায় ছিলাম...

আর আমার মধ্যে থাকা ওই অলৌকিক শক্তি ওইগুলা কি সত্যি নাকী ওইগুলাও স্বপ্ন..?

আমি সত্যি কিছুই বুঝতে পারছি নাহ কি হচ্ছে আমার সাথে..?