পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২৭
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২৭ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২৭
সাক্ষী নিজের শরীর থেকে নাগমণি বের করে যৌথার গর্ভাগারে স্থাপিত করে ঘাটের জলে চলে যায়। পরদিন সাক্ষীকে ওই রাজ্য ত্যাগ করতে হয়। এরপর যতন রাজার কোনো সন্তান হয়েছে কি নাহ
তা সাক্ষী জানে নাহ।
সাক্ষীর মুখে এসব শুনে আমি বললাম....
চিশতি:- আচ্ছা! তোমাকে বিশ্বাস করলাম। এখন বলো আমরা ওই নাগমণি কোথায় পাবো..?
সাক্ষী:- জানি নাহ! কিন্তু এতটুকু বলতে পারি, ওই নাগমণি তার উত্তরাধিকারীর কাছে ঠিকই পৌঁছে যাবে। আর সেই উত্তরাধিকারী হচ্ছো তুমি।
চিশতি:- যতর রাজার রাজ্য বা ওই রাজ্যের সেই ঘাট'টি কি এখনো আছে..?
সাক্ষী:- হ্যাঁ আছে, তবে সেখানে এখন আর কোনো রাজার শাসন নেই। সেই রাজপ্রাসাদ এখন পরিত্যক্ত আর সেই ঘাট'টিও আগের মতো এত আলোচ্যে নেই।
চিশতি:- এজন্যই আমি উপাসনা করেছিলাম। আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এই পঞ্চশক্তি আমার জন্য নাহ।
সাক্ষী:- এভাবে বলো নাহ। ওই পঞ্চশক্তি তোমার জন্যই। যদি তোমার জন্য না হতো তাহলে ফেলে আসা যুগ যুগান্তরের অসম্পূর্ণ কাহিনি নতুন রূপ ধারণ করতো নাহ
জটায়ু:- তুই একদম চুপ! তুই খুব ভালো ভাবেই জানতিস যে এই শক্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী চিশতি তারপরও তুই কোন সাহসে নাগমণিকে যতন রাজা আর যৌথাকে দিয়েছিস। কার অনুমতিতে তুই এই কাজ করেছিস..? তুই কি একটুও বুঝতে পারছিস, তোর এই ভুলের কত বড় মাশুল দিতে হবে এখন..?
সাক্ষী:- আমি তখন এতকিছু ভেবে দেখিনি। আমি ভেবেছিলাম যৌথার সন্তান ভূমিষ্ট হলে নাগমণি আবারও আমার কাছে ফেরত চলে আসবে।
আর আমি যদি রতন রাজার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নাহ হতাম তাহলে যৌথার সন্তান জন্ম হওয়া পর্যন্ত ওই রাজ্যেই থাকতাম। কিন্তু রতন রাজা আমার সাথে যুক্তি করেছিলো যতদিন নাগমণি আমার কাছে থাকবে আমিও ততদিন তার রাজ্যে থাকতে পারবো।
চিশতি:- আচ্ছা! এখন এসব বাদ দাও। এখন আপাতত আমার কাছে উপাসনার ফল হিসেবে ব্যাঘ্র শক্তি আছে। আমি যেকোনো সময় নিজেকে বাঘে রূপান্তর করতে পারবো। যতদিন নাহ পঞ্চশক্তি হাসিল হচ্ছে ততদিন এই শক্তির সাহায্যেই ওই জাদুকরদের শাস্তি দিতে হবে।
জটায়ু:- হ্যাঁ! আমাদের এখন মাথা ঠান্ডা করে যা করার করতে হবে। একটা ভুল পদক্ষেপ তোমাকে বিপদে ফেলতে পারে। তুমি যে এখনো পঞ্চশক্তি পাওনি এই কথা যেনো ওই জাদুকররা জানতে নাহ পারে তাহলে ওরা আমাদের আগেই ওদের তন্ত্র মন্ত্র দিয়ে নাগমণি খুঁজে বের করবে।
চিশতি:- হ্যাঁ! বুঝতে পেরেছি। এখন তোমরা চলে যাও, আবার দরকার হলে ডাকবো।
সাক্ষী:- ঠিক আছে, তুমি সাবধানে থেকো তাহলে।
চিশতি:- হ্যাঁ! আমাকে তোহ সাবধানেই থাকতে হবে। তাছাড়া আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে...
জটায়ু:- কি বুদ্ধি..?
চিশতি:- কালকে চিত্রা আপুনির বাসায় যেতে হবে
সাক্ষী:- তারপর....?
চিশতি:- ওখানে গেলেই জানতে পারবে, এখন তোমরা যাও।
এরপর জটায়ু আর সাক্ষী চলে গেলো। আমিও সবেমাত্র বিছানায় শুতে গেলাম তখনই মনে হলো বাইরে কে বা কারা যেনো কথা বলছে....
আমি রুম থেকে বেরিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম আমাদের বাড়ির উঠানে ৩জন লোক দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে তারা একে অপরের সাথে ঝগড়া করছে। তাদের ঝগড়ার শব্দই পাচ্ছিলাম এতক্ষণ। কিন্তু কারা উনারা..? এত রাতে এখানে কি করছে..?
এসব ভাবতে ভাবতে তাদের অগোচরেই নিচে নেমে এলাম। তারা যাতে আমাকে দেখতে নাহ পারে সেজন্য খুব সাবধানতা অবলম্বন করলাম।
দূর থেকে দাঁড়িয়ে যা বুঝলাম, এদের কণ্ঠগুলো আমি চিনি। তিনজনকেই চিনি মনে হচ্ছে....
তখনই একজন চিৎকার করে বলে...
"আরে চিশতি আমাকে সন্দেহ করবে নাহ, কারণ আমি ওর মনে আমার জন্য বিশ্বাস গড়ে তুলেছি। আর ও কোনোদিনও জানতে পারবে নাহ যে ওই ১০ জাদুকরদের মধ্যে আমিও একজন"
এতটুকু বলার পর পাশের লোকটি তার মুখ চেপে ধরে বললো....
"চুপ! আস্তে বলো! দেওয়ালেরও কান আছে ভুলে গেছো! এখন গভীর রাত হলেও এই বাড়ির লোকজনের কান সবসময় খাড়া থাকে।"
তাদের কথোপকথনের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তিটি বলে৷ উঠে...
"ভাই আমজাদ, ওরা যতই সজাগ থাকুক এবার ওদের ধ্বংস হতে হবে। কেননা আমরা এমন চাল চালবো যে ওদের পরিবার পুরো ধ্বংস হয়ে যাবে"
তখন দ্বিতীয় লোকটি বললো....
"হ্যাঁ! যাই হোক মিনহাজ ভাই, এরপর আমাদের আর কি করতে হবে.?"
এতক্ষণে বুঝলাম, দ্বিতীয় আর তৃতীয় লোকটি হলো আমার ফুফাজি আর চাচ্চু। তাহলে ওই প্রথম লোকটি কে..?
মনে মনে এই কথা বলার পর পরই ফুফাজি বলে উঠে....
"এখন আপাতত আমরা কিছুই করবো নাহ, এখন তাকে ডাকার পালা। আমাদের পাল্লা ভাড়ি করতে হবে"
আমি অবাক হয়ে গেলাম "তাকে" "তাকে মানে" কার কথা বলছে ফুফাজি..?
এখন অব্দি প্রথম লোকটির পরিচয়ই জানতে পারলাম নাহ তার উপর আরো৷ একজন..?
তখন প্রথম লোকটি বললো....
"আজ রাতেই তাকে সবকিছু জানাতে হবে, পঞ্চশক্তি আমাদের হাতে সামনে ঘুরাঘুরি করছে আর আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারবো নাহ। তাকে সবকিছু জানানোর পর আমাদের ৪জনকে মিলেই বাকি কাজটুকু করতে হবে তাছাড়া অন্য ভাইয়েরা তোহ আছেই। আমাদের একমাত্র বোনের আবদার পঞ্চশক্তিকে নিজের আয়ত্তে নেওয়ার সেটা আমরা ভাই হয়ে কিভাবে পূরণ নাহ করি বলো.?"
প্রথম লোকটির প্রতুত্তরে ফুফাজি বললো....
"ভাই সামিদ! এখনো আমাদের অনেক কাজ বাকি আছে, ত্রেতাযুগে যখন পঞ্চশক্তি দখল করার জন্য এতবার ধোঁকা মুখোমুখি হতে হয়েছে এই যুগেও হতে হবে। সবকিছু এত সহজ ভেবে নিলে হবে নাহ"
এতক্ষণে যেনো আমার মাথায় বাজ পড়লো! সামিদ চাচ্চু! এই লোকটিকে আমি ভালো ভেবেছিলাম! এই লোকটিও সেই জাদুকরদের একজন.? এটা আমি এখনো মেনে নিতে পারছি নাহ.?
তখনই চাচ্চু বলে....
"আমাদের এখানে সময় নষ্ট করা একদমই ঠিক হচ্ছে নাহ! সামিদ ভাই তুমি যাও তাকে গিয়ে সবটা বলো আর অতি শীঘ্রই যেনো সে আমাদের সাথে দেখা করে এই কথা বলে দিও"
সামিদ চাচ্চু বললো...
"হ্যাঁ! আমি এক্ষুনি যাচ্ছি"
সামিদ চাচ্চু ওখানে থেকে চলে যাচ্ছিল তখন আমিও সুযোগ বুঝে তার পিছু নিলাম। মাঝে বহুবার সামিদ চাচ্চু পিছন ফিরে তাকিয়েছে কিন্তু আমায় দেখতে পায়নি। হয়তো সে সন্দেহ করছে যে তার পিছনে কেউ আছে..?
সামিদ চাচ্চুর পিছু পিছু এসে একটা খোলা মাঠে চলে এলাম। জায়গাটা আমি চিনি নাহ, এর আগে কখনো এখানে আসিনি। আমার চিন্তা হচ্ছে আমি তোহ এখানকার কিছুই চিনি নাহ, তার উপর মাঝরাতে বাড়ির বাইরে এক অচেনা জায়গায় এলাম, আমি বাসায় পৌঁছাবো কিভাবে..?
যাই হোক, প্রতিশোধে যেহেতু নেমেছি এসব ভাবলে চলবে নাহ। আজ একজনকে তার দুষ্কার্যের শাস্তি দিতেই হবে।
সামিদ চাচ্চু অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলো, বেশ কিছুক্ষণ পর ওখানে একটা লোক এলো। প্রচুর অন্ধকার থাকার জন্য তাদের মুখগুলো দেখা যাচ্ছিলো নাহ।
সামিদ:- এসো! এসো!
অন্ধকারে থাকা চর্তুথ লোকটি বললো...
"এত রাতে ডাকার কোনো মানে আছে..?"
সামিদ:- আহা! ভাই আমার রাগ করো কেনো..? এখন সময় এসেছে আমাদের সবাইকে একত্র হওয়ার
চতুর্থ লোকটি অবাক হয়ে বললো....
"এর মানে! পঞ্চশক্তির খোঁজ পেয়েছো.? হা!হা!হা! এবার আমাদের একমাত্র ছোট বোন শীতাক্ষীর মনের আশা পূরণ করতে পারবো আমরা"
তাদের কথা শুনে আমি বার বার অবাক হচ্ছি..
তারা এই পঞ্চশক্তি নিজেদের জন্য নাহ বরং তাদের একমাত্র বোন শীতাক্ষীর জন্য দখল করতে চাইছে..?
এই শীতাক্ষীটা কে..? এই জন্মের নামই শীতাক্ষী নাকী আগের জন্মের নাম শীতাক্ষী..?
যদি এই জন্মে শীতাক্ষী হয়ে থাকে তাহলে আমি তাকে কোথায় খুঁজবো..?
একে তোহ পঞ্চশক্তির কোনো হদিশ নেই তার উপর এই শীতাক্ষী। যাই হোক শীতাক্ষীকে পরে খুঁজবো, এখন এই চতুর্থ লোকটি কে এটা আগে জানতে হবে..?
সামিদ চাচ্চু আবারও বলে উঠে...
"হ্যাঁ! ভাই, আমাদের বোনের জন্যই তোহ এতকিছু। আগের জন্মেও ওকে কথা দিয়েছিলাম কিন্তু কথা রাখতে পারিনি। অথচ ওই পঞ্চশক্তি কোথায় যেনো গায়েব হয়ে গেলো তখন আমাদের তন্ত্র বলের কারণে জানতে পারি, এই পঞ্চশক্তি যদি আমরা দখল করতে চাই তাহলে আমাদের মৃত্যু বরণ করতে হবে। এর ফলে ওই চন্দ্রাবতীর পুনর্জন্ম হওয়ার আগেই আমরা পৃথিবীতে জন্ম নিবো। আর আজ সেই সময় চলে এসেছে। চন্দ্রাবতীর পুনর্জন্ম হয়েছে আমাদেরও হয়েছে। এখন শুধু ওর কাছ থেকে পঞ্চশক্তি দখল করার অপেক্ষা"
চতুর্থ লোকটি হাসতে হাসতে বলে...
"চন্দ্রাবতী তোহ জানে নাহ, আগের জন্মে ওর মা পঞ্চমা আর ওর বাবা বাবর আজমকে আমরাই কালোজাদু করে হত্যা করেছিলাম। আর সবশেষে পুনর্জন্মের জন্য নিজেরা একে অপরকে তন্ত্র মন্ত্র করে হত্যা করি"
সামিদ:- যাই হোক, এখন হাকিম ভাই শুনো....
সামিদ চাচ্চুর মুখে হাকিম চাচ্চুর নাম শুনে আমি আবারও অবাক হলাম। আম্মি বলেছিলো উনারা ভালো মানুষ নাহ, আজ আবারও প্রমাণ পেলাম।
তার মানে আমার সামনে এখন অনেকগুলো জাদুকরের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। "আমার ফুফাজি, আমার চাচ্চু, সামিদ চাচ্চু, হাকিম চাচ্চু, বড় জিজু আর ইউনুস দেওয়ান।"
ছয় জনের পরিচয় আমার সামনে চলে এসেছে। এখন বাকি চার জনের মধ্যে একজন মেয়ে আছে যার জন্য এতকিছু হচ্ছে।
সবকিছু শেষ করার আগে আমাকে ওই মেয়েটিকে খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু কোথায় পাবো..?
বাকিদের মাধ্যমেই ওর কাছে পৌঁছাতে হবে।
তখন হাকিম চাচ্চু বলে....
"হ্যাঁ! বলো..?"
সামিদ:- মিনহাজ ভাই আর আমজাদ ভাই তোমাকে অতি শীঘ্রই তাদের সাথে দেখা করতে বলেছে
হাকিম:- ঠিক আছে আমি কালকেই দেখা করবো, তুমি চিন্তা করো নাহ।
সামিদ:- তাহলে আমি এখন আসি
হাকিম:- ঠিক আছে!
আমিও যেনো বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছি, আমি তোহ চাইলেই তাদের দুইজনকে একসাথে হত্যা করতে পারি। আমার পঞ্চশক্তি নাহ থাকলেও ব্যাঘ্র শক্তি আছে। ওইদিনও বোকামি করছেলিমা, ওইদিনও আমার কাছে ব্যাঘ্র শক্তি ছিলো চাইলেই আমি চাচ্চু আর ফুফাজিকে মারতে পারতাম কিন্তু কেনো মারলাম নাহ..? হয়তো ভুলে গিয়েছিলাম আমার মধ্যে থাকা শক্তির কথা। আবার হয়তো নাহ মেরে ঠিক কাজই করেছি, যদি ওইদিন মেরে ফেলতাম তাহলে হয়তো আজকে এই দুইজনের মুখোমুখি হতাম নাহ। তাছাড়া তখন আমি প্রিয় মানুষ হারানোর শোকে ছিলাম এজন্যই হয়তো এতকিছু মাথায় আসেনি।
এসব ভাবতে ভাবতে চোখ তুলে দেখি সামিদ চাচ্চু চলে গেছে, হাকিম চাচ্চুও চলে যাচ্ছে তখনই আমি তার পিছন থেকে ডাক দি....
চিশতি:- এই হাকিম
হাকিম:- কে তুই..?
চিশতি:- চিনতে পারছিস নাহ আমায়..?
হাকিম:- অন্ধকারে তোর মুখ দেখতে পাচ্ছি নাহ, চিনবো কিভাবে..?
চিশতি:- আমি চিশতি রূপী চন্দ্রাবতী। তোদের কাল হয়ে এসেছি। দেখ, ভালো করে আমার মুখটা দেখে নে কারণ আজকের পর তুই এই মুখ আর কখনো দেখতে পাবি নাহ
হাকিম:- হা!হা! তুই কি ভুলে গিয়েছিস আমি কে..?
চিশতি:- নাহ! একদমই ভুলিনি। তুই একজন অসৎ কালো জাদুকর। আর আজ তোর মৃত্যু তোকে আহ্বান করছে
হাকিম:- মৃত্যু আমার নাহ তোর এসেছে...
এই বলে হাকিম চাচ্চু মাটিতে বসে চোখ বন্ধ করে মন্ত্র পড়তে থাকে।
আমিও তাকে মন্ত্র পড়ার সুযোগ নাহ দিয়ে তার উপর দিলাম এক ঝাপ। ঝাপ দেওয়ার সাথে সাথে আমি মানুষ থেকে বাঘ হয়ে হাকিম চাচ্চুর উপরে গিয়ে পড়লাম। হাকিম চাচ্চুর সজোড়ে এক চিৎকার দিলেন। তার চিৎকার শুনে সামিদ চাচ্চু ছুটে সেখানে এসে দেখে বাঘ রূপী আমি হাকিম চাচ্চুকে ছিড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছি।
তখনো সামিদ চাচ্চু জানতো নাহ ওই বাঘটা আমিই ছিলাম।
সামিদ চাচ্চু দূর থেকে চিৎকার করে চলেছে কিন্তু আমি তার চিৎকারের তোয়াক্কা নাহ করে হাকিম চাচ্চুকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে থাকি। যখন বুঝতে পারলাম হাকিম চাচ্চু মারা গেছে তখন আমি মানুষ রূপে ফিরে আসি। আমাকে মানুষ হতে দেখে সামিদ চাচ্চু বলে....
সামি:- তুই! তুই তাহলে এই কাজ করেছিস! এবার দেখ তোর কি হাল করি।
চিশতি:- তুই আমার কি করবি আগে নিজেকে বাঁচিয়ে দেখা
এই বলে সামিদ চাচ্চুর উপর একটা ঝাপ দিলাম, সাথে সাথে তার উপর বাঘ হয়ে গিয়ে পড়লাম। এবার তাকেও ছিড়ে ছিঁড়ে খেতে শুরু করি।
সবশেষে দেখি সামিদ চাচ্চুও মারা গেছে।
যাই হোক আমার ২জন শত্রুর শেষ হলো আজ।
যদি ব্যাঘ্র শক্তি দিয়েই তাদের হারাতে পারি তাহলে তোহ আমার আর ওই পঞ্চশক্তির প্রয়োজন নেই।
নাহ! প্রয়োজন আছে। কারণ এই শক্তির জন্যই এত কিছু হচ্ছে। এই শক্তি অর্জন করতেই হবে। শেষ নিঃশ্বাস অব্দি লড়াই করবো। এই শক্তি কোনো খারাপ মানুষের হাতে যেতে দিবো নাহ।
যাই হোক এখন এদের লাশের কি করবো..?
আর আমি বাসায় ফিরবো কিভাবে..?
এদের লাশগুলো এখানেই থাকুক যাতে বাকিরা দেখতে পারে আদিশক্তির সাথে টক্কর নিলে তাদের কি হাল হতে পারে।
চিশতি:- সাক্ষী! জটায়ু! তোমাদের সাহায্য দরকার।
আমার ডাক শুনে ওরা এসে হাজির হয়।
জটায়ু:- হ্যাঁ! বলো কেমন সাহায্য দরকার
চিশতি:- আমি ২জন জাদুকরকে তাদের পাপের শাস্তি দিয়েছি
সাক্ষী:- এ তোহ খুব ভালো কথা। এখন তোমার শত্রুর সংখ্যা কমে ৮জন হলো।
চিশতি:- হ্যাঁ! তা তোহ কমলো কিন্তু আমি তোহ বাড়ির রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি এখন বাড়ি ফিরবো কিভাবে..?
জটায়ু:- আমরা আছি তোহ!
সাক্ষী:- এদের লাশ কি করবে..?
চিশতি:- এখানেই থাকুক। তোমরা আমাকে বাসায় নিয়ে চলো।
তারপর সাক্ষী আর জটায়ু আমাকে বাড়ির মেইন গেট অব্দি পৌঁছে দেয়।
গেইট দিয়ে ভিতরে ঢুকে ঘরের দিকে যাওয়ার সময় পিছন থেকে হাসমি ভাইয়া ডাক দিয়ে বলে....
হাসমি:- কিরে কোথায় গিয়েছিলি....?
চিশতি:- আ-আমি আবার কোথায় যাবো.? এ-এ-এখানেই তোহ।
হাসমি:- মনে হচ্ছে কোত্থেকে যেনো তড়িঘড়ি করে ফিরলি!
চিশতি:- তুমিও নাহ! আমি এখানকার কিছু চিনি নাকী.? কোথায় যাবো তাও আবার এত রাত করে.? তুমি এত রাতে এখানে কি করছো..?
হাসমি:- আ-আমি!
চিশতি:- হ্যাঁ তুমি.?
হাসমি:- বাইরে কিসের যেনো শব্দ হচ্ছিল তা দেখার জন্য বেরিয়েছিলাম, এসে দেখি তুই উপরে যাচ্ছিস
চিশতি:- আমিও বাইরে কিছু একটার শব্দ পেয়ে বের হয়েছিলাম। বেরিয়ে দেখি কিছুই নেই
হাসমি:- আচ্ছা! তাহলে যা গিয়ে শুয়ে পর।
চিশতি:- তুমিও
তারপর আমরা যে যার রুমে চলে গেলাম।