পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ০৭
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৭ · ৩০ পর্বের মধ্যে ৭
সিমন ভাইয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললো...
মিলিকে বিড়াল থেকে মানুষ হতে দেখার কারণে মিলি রাগে ফোসফাস করে আমার কাছে এসে বললো....
মিলি:- তুই কাজটা ঠিক করলি নাহ, এর শাস্তি তোকে পেতে হবে।
এই বলে মিলি আমার গাল আলতো করে ওর নরম হাতটি রাখলো, আমি যেনো রীতিমতো ওর বশে চলে গেলাম, আমি সব দেখতে পাচ্ছি সব বুঝতে পারছি কিন্তু কিছুই করতে পারছি নাহ।
মিলি আমাকে বশ করে প্রতিদিন নিজের যৌবন তৃষ্ণা মেটাতো।
আস্তে আস্তে ও এতটাই পৈশাচিক হয়ে উঠলো যে এখন আর বশ করে নাহ আমাকে স্বজ্ঞানে রেখেই নিজের যৌবন তৃষ্ণা মেটানো।
সারারাতে ১৫ বারেরও বেশি আমার উপর অত্যাচার করে নিজের দৈহিক চাহিদা পূরন করতো।
আমি বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আমার উপর চলতো পৈশাচিক অত্যাচার।
মাঝে মাঝে আমি রাজি নাহ হলে আমার শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করতো কিন্তু মারতো নাহ।
এভাবেই তিল তিল করে আমার উপর অত্যাচার বাড়তে থাকে।
আমার এত সুন্দর শরীরের গঠন দিন দিন ভাঙ্গতে শুরু করে।
সারাক্ষণ আমার ক্লান্তি অনুভব হতো।
ঠিক মতো ক্লাস করতে পারতাম নাহ, বিশ্রামের জন্য যদি ক্লাস থেকে ছুটি নিয়ে ফ্ল্যাটে যাই তাহলে আবারও শুরু হবে পৈশাচিক অত্যাচার।
ভার্সিটিতে যতক্ষণ থাকি ততক্ষণই যেনো আমি সুরক্ষিত থাকতাম।
আমার এই অবস্থা দেখে বাড়িওয়ালা থেকে শুরু করে ক্যানটিনের কাকু, স্যার-ম্যাম এমনকি আমার বন্ধুবান্ধবরাও বলতো....
-- ডাক্তারি পড়া পরে পড়িস আগে নিজেকে ডাক্তার দেখা, কি হাল হয়েছে নিজের দেখেছিস।
অথচ কাউকে বুঝাতে পারতাম নাহ আমি কেমন সিচুয়েশনে আছি।
একদিন ভার্সিটি ৮ দিনের বন্ধ দেয়, যে যার মতো ক্যাম্পাস/হোস্টেল/ফ্ল্যাট যে যেখানে থাকে সেখান থেকে নিজের বাসায় চলে যায় আমিও ঠিক করলাম বাসায় যাবো।
বাসায় যাওয়ার পর সবাই আমাকে দেখে যেনো আকাশ থেকে পড়লো..
আম্মু:- তোকে আর শহরে যেতে হবে..! নিজের কি হাল করেছিস একবার আয়নার দেখেছিস.?
ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া নাহ করলে তোহ এমনই হবে।
আর কোত্থাও যেতে হবে নাহ, আগে তোর শরীর ঠিক হবে তারপর পড়াশোনা।
আম্মুর কথায় কিছু মনে নাহ করে ছুটি কাটাতে লাগলাম।
ফ্ল্যাটের মতোই এখনও আমার উপর প্রতিদিন মিলির অস্বাভাবিক পৈশাচিক অত্যাচার চলমান অব্যাহত থাকে।
দেখতে দেখতে ছুটির দিন শেষ হয়ে গেলো।
ছুটির শেষ দিন বাসার সবার মানা করা সত্ত্বেও ভার্সিটির জন্য বের হতে যাবো তখনই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই...
আমার জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে এক৷ হুজুরের বাসায় আবিষ্কার করি....
শরীরটা আমার অনেক ক্লান্ত, সারা শরীর ব্যথায় যেনো নড়তে পারছিলাম নাহ।
সবাই ধরাধরি করে বাসায় নিয়ে এলো।
রাতে ঘুমতে গেলে আমি অবাক হয়ে যাই আজ মিলিকে আমার আশেপাশে দেখলাম নাহ, আমার উপর তার পৈশাচিক অত্যাচারও হলো নাহ।
এভাবে যদি প্রত্যেকটা দিন কাটতো কতই নাহ ভালো হতো।
এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম।
পরদিন সকালে আম্মু আমাকে বলে....
আমম্মু:- নিজের সাথে দোজখি সয়তান নিয়ে ঘুরছিলি এই কথাটা কি আমাদের বলা যেতো নাহ..?
আমি:- কি হয়েছে আম্মু..?
সকালে ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় অজ্ঞান হয়ে পরে গিয়েছিলি, কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলি, চোখ মুখ কালো হয়ে গিয়েছিলো।
তারপর তোর আব্বু আর আমি তোকে নিয়ে হুজুরের কাছে যাই।
সারাদিন তুই নানান ভাবে হুজুরকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিলি, কিন্তু হুজুর তোর ধোঁকায় পা দেয়নি।
সন্ধ্যার পর হুজুর তোকে নিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে একটা আসনে বসে।
অনেক দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে তোর ভিতরে থাকা সয়তানটা মুখ খোলে...
-- "আমি ওকে কিছুতেই ছাড়বো নাহ, ও আমার যৌবন জ্বালা মেটানোর একমাত্র উপায়, ওকে আমি কিছুতেই ছাড়বো নাহ।"
কিন্তু হুজুরের আল্লাহ কালামের কাছে দোজখি সয়তান হার মানে।
হুজুর অনেক চেষ্টা করে ওই সয়তানকে তাড়িয়ে দেয়, আর তোকে একটা তাবিজ দিয়ে বলেছে তোর বিয়ে নাহ হওয়া আগ পর্যন্ত যেনো এই তাবিজ নাহ খোলা হয়।
এরপর থেকে আমি প্রায়ই অসুস্থ হতাম।
একটা বছর আমার পড়াশোনার ক্ষতি হয়, এক বছর পর আবার পড়াশোনায় ব্যাক করি।
দ্যান ওইদিনের পর থেকে আজ এখানে আছি।
আমি:- এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন তোহ নাকী..?
সিমন:- হ্যাঁ এখন আলহামদুলিল্লাহ সম্পূর্ণ সুস্থ আছি।
আমি:- অনেকটা সময় পার হয়ে গেলো এবার আমি যাই, পিপি টেনশন করবে আবার..
সিমন:- লাঞ্চ করে যান, আর আপনার লাইফ স্টোরিটাও তোহ জানার কিউরিওসিটি হচ্ছে আমার..!
আমি:- আরেকদিন বলবো..?
সিমন:- আপনি আসলেই মনভোলা...
আমি:- কেনো কি ভুললাম আবার..?
সিমন:- কিছুক্ষণ আগে নাহ বললেন আপনি নাকী বাংলাদেশে চলে যাবেন...
আমি:- ওহ্! হ্যাঁ!
সিমন:- তাহলে চলুন লাঞ্চ করতে করতে আপনার লাইফ স্টোরি শোনা যাক...
আমি:- নাহ থাক এখানে দাঁড়িয়েই বলি..
সিমন:- আরে চলুন আমি ট্রিট দিবো...
আমি:- ওহ্ আচ্ছা তাহলে ঠিক আছে, আমি আবার ট্রিট হাত ছাড়া করি নাহ।
এই বলে দুইজনই হাসতে শুরু করলাম।
ল্যাক পার্কের পাশেই একটা সুন্দর রেস্টুরেন্ট ছিলো ওইখানেই গেলাম লাঞ্চ করতে।
খেতে খেতে সিমন ভাইয়ার কাছে প্রথম দিন থেকে শুরু করে সবটাই বললাম।
কথা বলতে বলতে আমাদের খাওয়া শেষ।
আমি:- আচ্ছা তাহলে আমি এবার যাই...
সিমন:- আপনি এই কার্ডটা রাখুন যদি কখনো দরকার হয় কল দিতে পারবেন..
আমি:- আপনার নাম্বার তোহ আছে আমার কাছে...?
সিমন:- এটা আমার নাম্বার নাহ..!
আমি:- তাহলে??
সিমন:- এটা ওই হুজুরের নাম্বার যার কাছে আমাকে নেওয়া হয়েছিলো...
আমি:- আচ্ছা! আচ্ছা! এবার গেলাম।
সিমন:- আচ্ছা, আর একটা কথা...
আমি:- হুম তাড়াতাড়ি বলুন..
সিমন:- আমি এর আগে কারো সাথে এত তাড়াতাড়ি ক্লোজ হইনি...
আমি:- জ্বি আমিও...
এবার আমি গেলাম আল্লাহ হাফেজ...
সিমন ভাইয়ার সব কথা শুনে আমি তাড়াতাড়ি করে ইমাম সাহেবের কাছে গেলাম কারণ আমার মনে হচ্ছে ইমাম সাহেবের আমার আর সিমন ভাইয়ার সব কাহিনি বললে উনি নিশ্চয়ই আমাকে কিছু উপায় বলতে পারবেন...
সিমন ভাইয়াকে বিদায় জানিয়ে আমি চলে গেলাম ইমাম সাহেবের কাছে...
আমি:- ইমাম সাহেব একটু দরকার ছিলো...
ইমাম:- দাঁড়াও ব্যাটা আযান হয়ে গেছে চলো আগে নামাজটা আদায় করে আসি..
তারপর ইমাম সাহেবের সাথে নামাজ আদায় করলাম।
নামাজ আদায় করা শেষে ইমাম সাহেবের কাছে আমার সাথে কি কি হচ্ছে সবটা খুলে বললাম...
ইমাম:- তোমার সাথে এতকিছু হয়েছে তুমি এতদিন আমাকে বলোনি কেনো..?
আমি:- আসলে আমি ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলাম.....
তারপর সিমন ভাইয়ার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বললাম...
ইমাম:- আমি ঠিকই আন্দাজ করেছিলাম...
তোমার সাথে নিশ্চয়ই অন্য জগতের সাথে কোনো সম্পর্ক আছে এজন্যই তোমাকে সিমনের প্রতিচ্ছবি দ্বারা স্বপ্ন দেখানো হয়েছে কারণ সিমনও এক সময় অন্য জগতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।
একটা কথা মনে রেখো ব্যাটা, ভবিষ্যতে তোমার জীবনে অনেক বিপদ আসতে চলেছে তুমি হাল ছেড়ো নাহ।
অনেক আপনজনই তোমার শত্রু হতে পারে তাতেও ভেঙ্গে পড়া যাবে নাহ।
সাবধানে থেকো ব্যাটা।
আমি:- ইমাম সাহেব আমি কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশ চলে যাবো...
ইমাম:- কি! কেনো..?
আমি:- ফুফাজি চায় নাহ আমি এখানে থাকি, উনি ভাবছেন এখানে থাকা অবস্থায় যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলে আমার ফ্যামিলি মেম্বাররা উনাদের দোষারোপ করবে...
ইমাম:- কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি নাহ, যত যাই হোক তুমি সাবধানে থেকো...
আর হ্যাঁ ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে, আল্লাহ ভরসা কিচ্ছু হবে নাহ।
ওই উপর ওয়ালাই তোমাকে রক্ষা করবেন।
চলো মাগরিবের নামাজটা আদায় করে আসি।
তারপর ইমাম সাহেবের সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করে বাসায় চলে গেলাম...
বাসায় ঢুকতেই...
পিপি:- এই অসুস্থ শরীর নিয়ে সারাটা দিন বাইরে বাইরে ঘুরে কি এমন লাভ হয়..?
আমি:- সরি পিপি, আর এমন করবো নাহ, আছিই বা কয়দিন তারপর তোহ চলেই যাবো...
পিপি:- ওহ্ ভালো কথা, তোমার ফুফাজি তোমার আর তাইমনের জন্য ফ্লাইট টিকিট কেটেছেন কাল রাত ১১:৩০টার ফ্লাইট।
গোছগাছ শুরু করে দিও, আর যদি কিছু কেনাকাটা করার থাকে কালকে তাইমনকে নিয়ে শপিং করে আসতে পারো..
আমি:- আচ্ছা পিপি।
পিপি:- আমি তোমার সাথে কথা বলছি আর তুমি ফোন টিপছো..?
আমি:- সরি পিপি, একটু অনলাইন শপিং প্লেস ট্যুর দিচ্ছিলাম।
পিপি:- আচ্ছা যা করার করো একটু পর এসে খাবার খেয়ে যেও...
আমি:- আচ্ছা পিপি হায়াতি কোথায়..?
পিপি:- ও ওর রুমেই আছে..
আমি:- আচ্ছা
পিপি:- কোনো দরকার ডেকে দিবো..?
আমি:- নাহ! নাহ! দরকার হলে আমিই ডেকে নিবো।
রাতের খাবার শেষ করে ড্রয়িংরুমে বসে আছি হঠাৎ দরজায় নক।
পিপি:- আসছি.......
আমি:- পিপি আমি দেখছি...
দরজা খুলে দেখি ডেলিভারি বয় এসেছে...
আমি:- সব ঠিকঠাক আছে তোহ..?
ডেলিভারি বয়:- হ্যাঁ স্যার সব ঠিক আছে, আপনি এখানে একটা সাইন করুন..!
আমি সাইন করে পার্সেল বুঝে নিলাম।
পিপি:- চিশতি, কে এসেছিলো..?
আমি:- ডেলিভারি বয়..
পিপি:- কি অর্ডার করলে....?
আমি:- তেমন কিছু নাহ পিপি....