পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১৫
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৫ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১৫
আমার চারিদিকে যখন আগুন দাউদাউ করে জ্বলছি এবং আগুনের সাথে সাথে তাইমন ভাইয়া অট্টহাসিতে মেতে উঠে তখন অনেক করে আমার মাথা ব্যথা শুরু হয়, সবকিছু কেমন ঘোলাটে ঘোলাটে লাগছিলো।
আমি অতীত ও বর্তমান একসাথে অনুভব করছিলাম ওই মুহুর্তটাতে।
তখনই আমার সবকিছু মনে পড়ে.....
চারিদিকে আগুন আর তাইমন ভাইয়ার অট্টহাসিতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেলো, নিজেকে আবিষ্কার করি চন্দ্রাবতী রূপে নিজের ঘরের বন্দী অবস্থায়।
আমার ঘরের মধ্যে হঠাৎ করে আগুন ধরে যায় আমি বাঁচার জন্য ছটফট করছি কিন্তু পালাতে পারছি নাহ্
তখন আমার ঘরে ওই ১১ জনের আবির্ভাব হয়।
_______________________________
-----------------
৩৩কোটি বছর আগে....
-----------------
_______________________________
পঞ্চমা:- একি চন্দ্রা তুমি আবারও উপাসনা করতে এসেছো..?
তোমাকে কতবার বলেছি তোমার উপাসনা করতে হবে নাহ, আমার মধ্যে থাকা সমস্ত শক্তি তোহ তোমারই হবে।
চন্দ্রাবতী:- নাহ মা, আমি নিজের উপাসনা করা শক্তির গুনে গুণান্বিত হতে চাই।
একবার ভাবো, যদি কোনো ক্রমে তোমার শক্তি আমি পেলাম নাহ তখন..?
পঞ্চমা:- আচ্ছা, তোমার যা খুশি তাই করো আমি তোমাকে আর বাঁধা দেবো নাহহ্
এই বলে পঞ্চমা চলে গেলো।
কিছুক্ষণ পর......
আয়াশ:- হুশশ! হুশশশ! চন্দ্রা! ওই! চন্দ্রা!
চন্দ্রাবতী:- কে..?
আয়াশ:- এদিকে দেখো..
চন্দ্রাবতী:- আয়াশ তুমি..?
তোমার বাবা অথবা আমার বাবা দেখলে আমাদের শাস্তি দিবে।
আয়াশ:- যাহ বাবা নিজের হবু বউকে দেখতে এসেছি এতে শাস্তি দেবার কি আছে..?
চন্দ্রাবতী:- তুমি জানো নাহ, আমি এখনও শক্তি প্রাপ্ত করিনি। একজন রাজকন্যা হিসেবে আমাকে আগে শক্তি অর্জন করতে হবে তারপর বিয়ে।
আয়াশ:- তোমার কোনো শক্তি অর্জন করতে হবে নাহ, আমি আছি তোহ তোমাকে রক্ষা করার জন্য আর তাছাড়া আমি তোহ তন্ত্র বিদ্যা জানি।
চন্দ্রাবতী:- এ হয় নাহ আয়াশ, তোমার তন্ত্র বিদ্যার চেয়ের আমার মায়ের পঞ্চশক্তি বেশি শক্তিশালী।
আয়াশ:- বুঝলাম তুমি আমাকে ভরসা করো নাহ..?
চন্দ্রাবতী:- তোমাকে ভরসা করি বলেই তোহ এত বছর তোমাকে ভালোবেসে গেছি।
আমি সারাজীবন তোমার হয়েই থাকতে চাই, তোমাকেই ভরসা করতে চাই, তোমার ভরসায়ই মরতে চাই।।
তোমাকে ভালোবাসি নিজের চেয়েও বেশি।
আয়াশ চন্দ্রাবতীর কপালে মৃদু চুমু দিয়ে বুকে জড়িয়ে বললো...
আয়াশ:- ওহে, প্রিয়তমা ভালোবাসি তোমায় অচিরের সমান ভালোবেসে যাবো ততদিন দেহে থাকবে প্রাণ।
চন্দ্রাবতী:- হয়েছে! হয়েছে! এবার যাও নয়তো কেউ দেখলে খবর আছে।
আয়াশকে বিদায় জানিয়ে চন্দ্রাবতী নিজের মায়ের কক্ষে গেলো।
চন্দ্রাবতী:- মা! তোমাকে একটা প্রশ্ন করার ছিলো..?
পঞ্চমা:- হ্যাঁ মা বল কি প্রশ্ন..?
চন্দ্রাবতী:- ছোট থেকে আমার মনে এই প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু কখনো বলে উঠা হয়নি বা সাহসে কুলোয় নি।
পঞ্চমা:- বল কি প্রশ্ন..?
চন্দ্রাবতী:- তুমি এই শক্তি কোথায় পেলে..??
পঞ্চমা:- কোথায় পেলাম এই শক্তি!
শোন তবে....
-------------------------------
-------------------
১৫০ বছর আগের কথা....
-------------------
_______________________________
তখন ছিলাম আমি এক সাধারণ মানুষ।
আমার মধ্যে ছিলো নাহ কোনো দৈবশক্তি।
সাধারণ এক গ্রামের সাধারণ এক দিন মজুরের মেয়ে।
আমার পিতার নাম ছিলো ইন্দ্র আর মাতার নাম ছিলো মালতী।
তাদের বিয়ের প্রায় ৮বছর হতে চললো কিন্তু কোনো সন্তান হচ্ছিল নাহ।
তারপর তারা এক মন্দিরে যায় কোনো এক অঘোরি ঋষির কাছে।
ওই ঋষি তাদের প্রস্থান অনুভব করে চোখ নাহ খুলেই বলে.....
ঋষি:- পুণ্য হোক তোদের, সৌভাগ্য আসতে চলেছে তোদের ঘরে।
এমন এক শক্তি আসবে যে কিনা পৃথিবীর অর্ধেক শক্তির অধিকারী কিন্তু তার অপর পৃষ্ঠেই হবে তোদের ও তার জন্য অকল্যাণীয় অশুভ শক্তির হাতিয়ার। সাবধান!
ইন্দ্র:- মহাঋষি আপনি কি বললে বুঝলাম নাহ.?
ঋষি:- আগামী বছর তোমাদের জমজ সন্তান জন্ম হবে।
তাদের মধ্যে একজন হবে শুভশক্তির অধিকারী আর একজন হবে অশুভশক্তির হাতিয়ার।
মালতী:- কিন্তু মহাঋষি আমাদের বিয়ের ৮বছর হতে চললো আজ পর্যন্ত কোনো সন্তানের মুখ দেখিনি এজন্যই আপনার কাছে এসেছি।
ঋষি:- যাহ তোরা এখন চলে যাহ।
ইন্দ্র:- কিন্তু আমাদের তোহ সুরাহা বললেন নাহ..?
ঋষি:- যাওয়ার সময় মন্দিরের বাইরে থেকে একটা জবা গাছ নিয়ে যাবি তারপর ওই গাছটাতে প্রতিদিন জল দিবি, ততদিন জল দিবি যতদিন নাহ এই গাছে ফুল ফোটে।
মহাঋষির কথানুযায়ী তারা একটা জবা গাছ নিয়ে এলো।
গাছটিতে প্রায় ৪মাস জল দেওয়ার পর গাছে ২টা জবা ফুল ফোটে।
তখনই মালতী অনুভব করে সে গর্ভবতী।
একদিন রাতে মালতী খাবার জল আনতে কুয়োর কাছে যায় তখন সে দেখে জলের ভিতর কি যেনো একটা চকচক করছে।
মালতী পানি তোলার জন্য বালতিটা কুয়োর ভেতর ফেলে তারপর সেই উজ্জ্বল জিনিসটাও বালতির পানির সাথে উঠে আসে।
উজ্জ্বল জিনিসটা উঠে আসার পর মালতী দেখে এখানে কিছুই নেই, শুধুই একটা উজ্জ্বল আভা ওই বাষ্পীয় আভাটা উড়তে উড়তে মালতীর পেটের ডান পাশে গিয়ে মিলিয়ে যায়।
কি হলো কিছু নাহ বুঝতে পেরে মালতী খাবার জল নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
এভাবেই দিন যায় মাস যায় মালতীর গর্ভে তার সন্তান বেড়ে উঠতে থাকে।
সন্তান প্রসব হওয়ার দুই দিন আগে মালতী রান্না করছিলো তখন এক পাগল লোক তাদের বাড়ি এসে হাজির।
মালতী:- একি বাবা! কে আপনি..?
লোকটি:- মা রেহ আমার অনেক খিদে পেয়েছে আমাকে কিছু খেতে দে নাহ..
মালতী:- একটু অপেক্ষা করুন ভাত আর ডাল রান্না হয়ে গেছে তরকারি রান্না হলেই আপনাকে খেতে দিচ্ছি।
লোকটি:- মা রেহ আমাকে ডাল দিয়েই ভাত দে অনেক দিন ধরে কিছু খাই নাহ
মালতী:- আচ্ছা দিচ্ছি
লোকটি ভাত খেতে খেতে পাতিলে থাকা সব ভাত খেয়ে ফেলে।
লোকটি:- মা রেহ আমি তোহ তোদের সব ভাত খেয়ে ফেললাম এবার তোরা কি খাবি..?
মালতী:- সমস্যা নেই আমি আবার রান্না চাপিয়ে দিবো।
লোকটি:- মা তুই তোহ গর্ভবতী
মালতী:- হ্যাঁ বাবা
লোকটি:- তোর হাতটা এদিকে দ
মালতী লোকটির দিকে ডান হাত পেতে দিতেই লোকটি মালতীর হাতে কিছু একটা দিলো, মালতী হাতে খুব গরম কিছু অনুভব করো।
মালতী:- বাবা! কি দিয়েছেন আমার হাতে আমার হাত যে জ্বালাপোড়া করছে
লোকটি:- একটু কষ্ট সহ্য কর মা, তোর কষ্টের ফল মিষ্টি হবে, আমার সামনে আয়
মালতী লোকটির সামনে গেলে লোকটি মালতীর পেটের ডান দিকে হাত বুলিয়ে দেয়।
লোকটি:- এবার তোর হাতের মুষ্টি খোল মা
মালতী৷ হাতের মুষ্টি খুলে দেখে একটা তারা আকৃতি কিছু
মালতী:- এটা কি বাবা..?
লোকটি:- তোর ছোট সন্তানের নাম
মালতী:- মানে...?
লোকটি:- তোর দ্বিতীয় সন্তানের নাম তারা রাখবি।
মা রেহ তোর ছোট সন্তান যে তোদের ভাগ্য খুলে দিবে।
তুই জানিস আমি কে..?
মালতী:- নাহ বাবা কে আপনি.??
লোকটি:- ওইদিন কূপে পানি আনতে গিয়ে যে আভার সম্মুখীন হয়েছিলি আমি সেই উজ্জ্বল আভা।
মালতী:- তাহলে আপনি মানুষ হলেন কি করে.??
লোকটি:- আমি কোনো মানুষ নাহ, আমি শুভশক্তির এক অংশ যে তোকে বর দিলাম তোর ছোট সন্তান হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী নারী।
মালতী:- আমার ছোট সন্তান মেয়ে হবে।
লোকটি:- হ্যাঁ রে মা, আমি এবার যাই।
এই বলে লোকটি আবারও সেই উজ্জ্বল আভা হয়ে মালতীর পেটের ডান পাশে গিয়ে উধাও হয়ে গেলো।
মালতী নতুন করে ভাত রান্না করতে যাবে তখনই দেখে পাতিলে থাকা ভাত যেমনটা তেমনই আছে এক ফোটাও এদিক সেদিক হয়নি।
এই কথা মালতী ইন্দ্রকে আর জানায়নি কারণ সে একদম ভুলেই গিয়েছিল যে তার সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে।
২দিন পর রাতের অন্ধকারে মালতীর কোল আলো করে দুটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলো।
রাত প্রায় শেষ কিছুক্ষণ পর হয়তো সকালে হবে ঠিক ওই মুহুর্তে ইন্দ্র ও মালতী ঘর আলো করে জন্ম হলো দুই বোনের।
মালতী ৮ বছর পর দুই কন্যা সন্তান দেখে খুশিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে আকাশ জুড়ে শুধু চাঁদ ও তার পাশে একটি তারাই ব্যাতিত আর একটি তারাও নেই।
চাঁদ আর ওই তারা যেনো আজকে দিনের সাক্ষী।
মালতী কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকায় আবার কিছুক্ষণ তার সন্তানদের দিকে তাকায়।
মালতী:- আজ থেকে আমার দুই মেয়ের নাম সাক্ষী ও তারা।
আমার বড় মেয়ে সাক্ষী ছোট মেয়ে তারা।
আস্তে আস্তে সাক্ষী ও তারা বড় হতে লাগলো, দিন দিন তারার প্রতি সাক্ষীর ব্যবহার কেমন বাজে হতে লাগলো।
তারার প্রিয় জিনিসগুলো সাক্ষী কেড়ে নিতো, সবসময় তারাকে কষ্ট দিতো।
মালতী সাক্ষীকে অনেক বুঝায়, তারা ওর ছোট বোন ও যেনো তারার সাথে এমন ব্যবহার নাহ করে কিছু সাক্ষী তারপরও মালতীর কথা শুনতো।
বছর কাটতে থাকে সাক্ষী তারা দুজনেই বড় হতে থাকে কিন্তু সাক্ষীর ব্যবহার একই রকম থাকে বরং আগের চেয়ে এখন আরো বেশি খারাপ ব্যবহার করে।
----
সাক্ষী তারা আজ ১৮ বছরের কিশোরী।
আজ তাদের দু'জনেরই ১৮ বছর পূর্ণ হলো, মালতী তাদের জন্য পায়েস রান্না করলো তারা দুইজনই মায়ের হাতের পায়েস খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
মাঝরাতে তারার ঘুম ভাঙ্গতেই সে দেখে তাদের উঠোনে কিছু একটা এসে পড়লো, সে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখে একটা অবয়ব, তারা ওই অবয়মটার পিছু করতে করতে বাড়ির পিছনে এসে পৌঁছায়।
কিন্তু সে খেয়াল করেনি তার পিছনে সাক্ষী লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়ির পিছন অব্দি এসেছে।
তারা খেয়াল করলো ওই অবয়মটা একটা মানুষের রূপ ধারণ করলো, তারা প্রায় অবাক কি হলো এটা..?
কিন্তু এটা কোনো মানুষ নাহ, এর শরীরটা অনেক ভিন্ন...
ওর পিছনে দু'টো ডানা আছে, চুলগুলো অনেক বড় কিন্তু মাথার উপরে ওগুলো কি ফোসফাস করছে.?? ভালো মতো খেয়াল করলে দেখতে পায় হাজারো সাপ তার মাথার উপরে ফোসফাস করছে, মুহুর্তেই তারার চোখ পরে নিচের দিকে, একি ওর তোহ কোনো পা নেই এগুলো তোহ মাছের লেজ।
এটা কোনো মানুষ হতে পারে নাহ, এমন বিভৎস কোনো মানুষের আকৃতি হতেই পারে নাহ।
তারমানে এটা কোনো সয়তান..?
নাকী কোনো অশুভ শক্তি..?
তারা ভয় পেয়ে চলে আসবে তখনই অবয়বটা তারাকে ডাক দেয়....
-- তারা তুমি আমাকে স্বীকৃতি নাহ দিয়েই চলে যাচ্ছো..?
তারা:- কে তুমি..?
-- আমি যে তোমার সত্তা, তোমার জন্মের আগে তোমার মা বর পেয়েছিলো
তারা:- আমার এসব কিচ্ছু চাই নাহ
-- আজ তোমার পূর্ণ বয়স হয়েছে, আমাকে স্বীকার করো, আমাকে স্বীকার করার ফলেই তোমার জীবনের মোড় ঘুরবে
তারা:- আমি এসবের কিছুই বুঝতে পারছি নাহ কি বলছো তুমি..?
-- আমি পঞ্চমা, তোমার অস্তিত্ব, এতদিন তোমার কাছ থেকে দূরে রাখা হয়েছিলো আমাকে কারণ তখন তুমি নাবালিকা ছিলে আজ তুমি পূর্ণ কিশোরী হয়েছে তাই আমাকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে, আমাকে স্বীকার করার ফলে তুমি ১৫১ বছর বাঁচবে এর মধ্যে তোমাকে কিছু পাপীদের শাস্তি দিতে হবে এটাই তোমার কর্তব্য এজন্যই তোমার মাকে বর দেওয়া হয়েছে।
তোমাকে প্রকৃতি বেছে নিয়েছে এতে কারো হাত নেই, আমাকে স্বীকৃতি দাও নিজের অস্তিত্ব হিসেবে
তারা:- আচ্ছা, আজ থেকে আমি তোমাকে আমার অস্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিলাম, আজ থেকে আমি নিজের নতুন পরিচয় গ্রহণ করলাম
সাথে সাথে অবয়মটা তারার মধ্যে বাতাসের মতো প্রবেশ করলো।
তারা এখন যখন ইচ্ছা ওই অবয়মটার মতো রূপ ধারণ করতে পারবে, যখন খুশি সাপ, মাছ, অথবা জ্বিন-পরীর মতো অদৃশ্য হতে পারবে আবার যখন খুশি সাধারণ মানুষের মতো হতে পারবে।
পিছন থেকে সাক্ষী সবটাই দেখছিলো, সাক্ষী এবার রাগে ফোসফাস করছে কারণ তারা কেনো এই অলৌকিক ক্ষমতা পেলো সাক্ষী কি দোষ করেছে সাক্ষী কেনো পেলো নাহ..?
সাক্ষী তখন চিন্তা করে সেও তারার মতো শক্তিশালী হবে, যার ফলে সে কালো জাদু বিদ্যা প্রশিক্ষণ করতে থাকে।
কিন্তু সে যেভাবে কালো জাদু বিদ্যা শিখছে এতে করে তারাকে হারানো সম্ভব নাহ তারাকে হারাতে হলে ওর ভিতরে থাকা পঞ্চশক্তিকে নিজের করতে হবে।
একদিন সাক্ষী তার তন্ত্রগুরুর কাছে জানতে পারে পৃথিবীতে ১০জন কালো জাদুকর আছে যারা ৯ভাই ও ১বোন, যদি তারার মধ্যে থাকা পঞ্চশক্তি কেউ নিজের৷ আয়ত্তে আনতে পারবে৷ তাহলে সেটা হলো ওই ১০ জাদুকর।
কিন্তু সাক্ষী তখনও বুঝতে পারেনি সে কোন মসিবতকে ডেনে আনতে যাচ্ছে।
সাক্ষী তার তন্ত্র গুরুর কথানুযায়ী ওই ১০জন কালো জাদুকরের সন্ধানে বের হয়ে যায় টানা ১৮দিন খোঁজ করার পর তাদের খুঁজে পায় এবং তাদের কাছে পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হওয়া নতুন শক্তির কথা বলে।
সাক্ষীর কথা শুনে তারা ওই শক্তি লাভ করার লোভে মগ্ন হয়ে যায়।
তারা ১০জন প্রতিজ্ঞা করে যেভাবেই হোক তারা ওই শুভশক্তিকে নিজেদের আয়ত্তে আনবেই।
_______
চূড়ান্ত যুদ্ধ
-------
একদিন রাতে সাক্ষী এবং তারা দুইজনই স্বপ্নে দেখে তাদের একত্র হতে হবে।
তারা দুই বোন একটা সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তারা নিজের দৈব রূপে কিছু খারাপ মানুষকে একটা বিশাল বাক্সে ভরে সমুদ্রের মাঝে ফেলে দিলো।
তারা দুইজন একত্র হয়েই এই অশুভ শক্তির বিনাশ করতে পারবে এবং মানব জাতিকে বাঁচাতে পারবে।
কিন্তু তারা একে অপরের কাছে এই স্বপ্নের কথা লুকিয়ে রাখে কারণ তারা জানতো সাক্ষী কোনোদিন তার সাথে এক হবে নাহ তার সাক্ষী তোহ তারার সাথে এক হতে নারাজ।
ওই ১০জন কালো জাদুকর একের পর এক নিজেদের কালো জাদু শুরু করতে থাকে তারা ও তার পরিবারের উপর।
ওদের প্রথম আক্রমণ হয় তারার মায়ের উপর, তারা ১০জন একসাথে তারার বাড়ি এসে তারার মাকে সাক্ষীর সামনে নিমেষেই কালো জাদু করে হত্যা করে চলে গেলো।
সাক্ষী তখন নিজের ভুল বুঝতে পারছে, সে আবেগের বশে এত বড় একটা ভুল করেছে এখন ওই ১০জনের হাতে ওদের কে বাঁচাবে ওরা যে মরিয়া হয়ে ওদের পিছনে পরে আছে।
তখন সাক্ষী মনে মনে ভাবতে থাকে...
"আমার কোনো দৈবশক্তি দরকার নেই আমি আমার বোন আর বাবাকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো, মাকে তোহ আমার ভুলের জন্য হারিয়েই ফেললাম আমি আর কাউকে হারাতে পারবো নাহ, যদি ওরা আমাদের সবাইকে মেরে ফেলে, নাহ! নাহ! এমনটা হবে নাহ, তারা আছে তোহ ওর তোহ অনেক শক্তি তারা নিশ্চয়ই ওদের হারাবে কিন্তু আমাকেও তোহ তারার পাশে থাকতে হবে, এজন্যই হয়তো ওইদিন রাতে আমি এমন স্বপ্ন দেখেছিলাম"
পরদিন মালতীর লাশ দাহ্য করার পর সাক্ষী তারার কাছে সবটা বলে তারাও সাক্ষীকে ওইদিনের স্বপ্নের কথা বলে।
তারপর তারা প্রতিজ্ঞা করে পরের লড়াইটা এক সাথে লড়বে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওখানে ওই ১০জন কালো জাদুকর চলে আসে ওদের মুখ দেখা যাচ্ছিলো নাহ বরং কখনো ওরা নিজেদের মুখ প্রকাশ করেনি ওর সবসময় বড় পোশাকের আড়ালে নিজের আসল চেহারা লুকিয়ে রাখতো।
তখন ওই ১০জন ওদের সামনে এসে বলে...
-- নিজের বাবার৷ জীবন প্রিয় হলে তোর মধ্যে থাকা পঞ্চশক্তি আমাদের কাছে উৎসর্গ কর নয়তো তোর বাবাকে মেরে ফেলবো।
তারা:- দেখো, এই শক্তি আমার মধ্যে ভূমিষ্ট হয়েছে তাদের ইচ্ছায় এখন আমি কিভাবে এই শক্তি তোমাদের হাতে উৎসর্গ করবো তা আমার জানা নেই।
তোমরা বরং কাল আমাদের সাথে সমুদ্রের পাশে দেখা করো আমি আজ রাতটুকু ভেবে দেখি তোমাদের কিভাবে এই শক্তি দেওয়া যায় এমনিতেও এই শক্তি আমার কোনো কাজের নাহ।
সাক্ষী:- কি বলছিস তারা ওরা এই শক্তি পেলে মানব জাতিকে ধ্বংস করে ফেলবে, এমনটা করছিস কেনো..?
তারা:- আমি যা করছি ভেবে চিন্তেই করছি আমার কাছে এই শক্তির চাইতে তোদের জীবনটা বেশি মূল্যবান।
ইন্দ্র:- মা! আমাদের দুইজনের জন্য গোটা মানব জাতিকে বিপদে ফেলিস নাহ, তুই এমন ভুল করিস নাহ
তারা:- আমি যা করছি স্বেচ্ছায় করছি বাবা আমাকে বাধা দিও নাহ
ওইদিনের মতো ১০জন জাদুকর ওইখান থেকে বিদায় নেয়।
তারা:- সাক্ষী আমার কথা মনোযোগ সহকারে শোন..
সাক্ষী:- বল...
তারপর সাক্ষী ও তারা নিজেদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা বলে।
পরদিন তারা নিজের দেওয়া কথানুযায়ী সমুদ্রের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় এবং মুহুর্তেই ওই ১০ কালো জাদুকরও সেখানে উপস্থিত হয়।
জাদুকরগুলো আসার সাথে সাথে তারা চিৎকার দিয়ে বলে.....
তারা:- সাক্ষী শুরু করো...
সাক্ষী তৎক্ষনাৎ উপর থেকে দড়ি ছুড়ে মারে এবং তারা মুহুর্তেই অদৃশ্য হয়ে সেই দড়ি দিয়ে ১০জনকে একত্রে বেধে ফেলে তারপর তারা নিজের দৈব রূপে এসে একটা বিশাল বাক্স তৈরি করে তার মধ্যে এই ১০ জাদুকরদের বন্দী করে সমুদ্রের মাঝে নিজের মৎস শক্তি দিয়ে আটকে রাখে।
কিন্তু কালো জাদুকরগুলো এতটাও দূর্বল ছিলো নাহ তারা বন্দী হওয়ার আগ মুহুর্তে সাক্ষীর উপর কালো জাদু করে যার ফলে সাক্ষী বেঁচে থেকেও মৃত।
তার শরীরে প্রাণ আছে ঠিকই কিন্তু কোনো অনুভূতি নেই [যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় প্যারালাইজড বলি]
কেটে যায় প্রায় বহু বছর, তারার বাবাও মারা যায় তারার আপন বলতে এখন এই বোনটাই আছে।
তারা নিজের দৈব শক্তি দিয়ে আজ আপ্রাণ চেষ্টা করলো নিজের বোনকে সুস্থ করার কিন্তু সে ব্যর্থ হলো।
তখন সে সাক্ষীকে একটা বর দেয় "যেহেতু আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভূমিষ্ট হওয়ার শক্তির অংশ সেক্ষেত্রে আমি তোমাকে বর দিচ্ছি তুমি আজ এবং এখন থেকে উধাও হয়ে যাও এবং যখন তোমাকে এই পৃথিবীতে আবার প্রয়োজন হবে তুমি আবার ফিরে আসবে এবং তখন তোমার মধ্যে থাকবে আমার দৈব শক্তির কিছু অংশ"
যুগটি ত্রেতাযুগ ছিলো বিদ্বায় তারা দেওয়া বরটাও কাজ করেছিলো কারণ সে ছিলো ওই যুগে ভূমিষ্ট হওয়া শ্রেষ্ঠ দৈব শক্তির অংশ।
সাক্ষীকে বর দিয়ে তারাও নিজেকে জীবন্ত সমাধি দেয় কারণ সে আশায় ছিলো এমন এক ব্যক্তির যে তাকে সমাধি থেকে জাগ্রত করবে..!
প্রায় ১২০ বছর তারা নিজেকে সমাধি অবস্থায় আবদ্ধ করে রাখে।
১২০ বছর পর তারার কানে একটা সুমধুর বাঁশির সুর ভেসে যায় এবং তখনই তারার সমাধি ভঙ্গ হয়।
তারা পাগলের মতো ছুটে চলেছে কে বাঁশি বাজাচ্ছে দেখার জন্য, ছুটতে ছুটতে তারা সেই৷ লোকটির সামনে এসে পৌছায় যে বাঁশি বাজাচ্ছিলো।
তার সামনে গিয়ে দেখে লোকটি এক রাজ্যের মহারাজা যে কিনা নিজের স্বয়ম্বর বাঁশি বাজিয়ে করছিলো।
সে প্রতিজ্ঞা করেছিলো তার বাঁশির সুর শুনে যে নারী ছুটে আসবে তাকেই সে বিয়ে করবে।
ওই লোকটি আর কেউ নাহ, সে ছিলো চন্দ্রাবতীর বাবা মহারাজা বাবর আজম।
তারপর বাবর আজম ও তারার বিবাহ সম্পন্ন হয়।
বাসর রাতে তারা বাবর আজমকে সবটা বলে এবং বাবর আজম তার কথার উপর বিশ্বাস করে তাকে ওই রূপেই স্বীকার করেন।
তাদের বিয়ের ৪ বছর পর সন্তান নিয়েছিলো কারণ তারা তাদের জীবনটা উপভোগ করতে চাচ্ছিলো।
৪ বছর পর এক পূর্ণিমার রাতে চাঁদের মতোই দেখতে তাদের ঘর আলো করে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
শখ করে নাম রাখা হয় চন্দ্রাবতী।
আজ সেই চন্দ্রাবতীর বয়স ২৪ পেরিয়ে ২৫ ছুঁইছুঁই, সে এখনো বিয়ে করেনি কারণ তার ২৫ বছর যেদিন পূর্ণ হবে ওইদিন সে তার মায়পর সমস্ত শক্তি অর্জন করবে এবং তার মা বাকি এক বছর সাধারণ জীবনযাপন করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবেন।
এই বলে পঞ্চমা নিজের জীবন কাহিনি শেষ করলো।
চন্দ্রাবতী:- মা! তোমার জীবনে এত ঘটনা ঘটে গেছে আর আমার কাছে এসব কিছু অজানা ছিলো..?
পঞ্চমা:- বাদ দাও এসব অনেক রাত হয়েছে ঘুমতে যাও।