পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ০৫
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৫ · ৩০ পর্বের মধ্যে ৫
পিপির সাথে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লাম হয়তো ডাক্তার সিমন তখন আমাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছিলো।
হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গে ছুড়ি ধারানোর শব্দ শুনে। মিটিমিটি করে চোখে খুলে দেখি ডাক্তার সিমন আমার বেডের পাশে বসে ছুড়ি ধারাচ্ছে আর একা একাই বলে যাচ্ছে...
সিমন:- আজ বহুদিন পর একটা ভালো শিকার পেয়েছি কিছুতেই এটা হাত ছাড়া করা যাবে নাহ।
আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই কোত্থেকে যেনো ৩-৪ জন লোক এসে আমার হাত পা বেধে ফেললো আমি চিৎকার দিতেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়, চোখে খুলতে নাহ খুলতেই পিপি আমার হাতটা ধরে টানতে টানতে বলে...
পিপি:- চলো চিশতি ব্যাটা এখানে আর এক মুহুর্তও থাকতে হবে নাহ।
আমি অবাক হয়ে রইলাম কি হলো..?
আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম অথচ পিপি আমাকে কিছু জিজ্ঞেস নাহ করে হাত টানতে টানতে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।
যাই হোক পিপি আমার হাত ধরে হসপিটাল থেকে বাইরে নিয়ে এলো।
কিছু দূর যেতেই আমি পিপিকে কোত্থাও খুঁজে পাচ্ছি নাহ, আমার চারিদিকের রাস্তাঘাট যেনো আস্তে আস্তে মিলে যাচ্ছে, হঠাৎ করে আমার আশেপাশের সকল রাস্তা মিলিয়ে গিয়ে দেখি আমি একটা বন্ধ ঘরে আটকা পরে গেছি....
কোথায় এলাম..? কিভাবে এলাম..?
এসব ভাবতে ভাবতে এক পা দু'পা করে এগোচ্ছি তখন হঠাৎ ডাক্তার সিমন আমার গলায় ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে।
প্রচন্ড ভয়ে আমি ঘেমে গিয়ে চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠি।
পাশের সিট থেকে পিপি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো...
পিপি:- কি হলো ব্যাটা..?
আমি:- কিছু নাহ পিপি একটা দুঃস্বপ্ন ছিলো।
সকাল তোহ হয়ে গেছে চলো এবার আমরা বাড়ি চলে যাই।
পিপি:- হ্যাঁ দাঁড়াও নার্সদের সাথে আগে কথা বলি তারপর ডাক্তার সিমনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
আমি:- পিপি এই ডাক্তার সিমনকে আমার সুবিধার মনে হচ্ছে নাহ..
পিপি:- কেনো ব্যাটা..? উনি তোহ খুব ভালো..?
আমি:- হ্যাঁ হবে হয়তো কিন্তু দেখতে কেমন সাইকো মনে হয়।
পিপি:- ধূর কি যে বলো ব্যাটা, আচ্ছা তুমি বসো আমি তোমার ডিসচার্জ পেপার রেডি করতে যাই...
তখনই আমার বেডে একজন নার্স এসে বলে...
নার্স:- এখন উনাকে কিছুতেই ডিসচার্জ করা সম্ভব নাহ..
পিপি:- কেনো.?
নার্স:- উনার শরীরের কন্ডিশন ভালো নাহ, আগে ডাক্তার আসুক, উনি রিপোর্ট দেখবেন তারপর ডিসচার্জ করা হবে তার আগে নয়।
সারাদিন হসপিটালে কাটালাম বিকেলে ডাক্তার সিমন আমার বেডে এসে রিপোর্ট দেখলেন...
সিমন:- হুম! রিপোর্ট মোটামুটি ভালোই, উনাকে নিয়ে যেতে পারেন।
পিপি:- আচ্ছা ঠিক আছে।
সিমন:- কিন্তু..
পিপি:- কিন্তু কি ডাক্তার...?
সিমন:- আমার মনে হচ্ছে উনি ফার্স্টেশনে ভুগছেন, কোনো বিষয় নিয়ে হয়তো ডিপ্রেশনে আছেন, আমার মতে উনাকে একটা ভালো সাইক্রেটিস্ট দেখানো উচিৎ।
আমি:- আপনাকে কে বলেছে আমি ডিপ্রেশনে আছি ব্লা ব্লা ব্লা...
আমি একদম সুস্থ আছি, যত যাই হোক আপনার মতো তোহ সাইকো নাহ...
সিমন:- কি! আমি সাইকো..?
আসলেই আপনার মানসিক সমস্যা আছে তা নাহলে আমাকে সাইকো মনে হয় কোন দিক দিয়ে...?
আমি:- আমার ভুল হয়েছে ভাই আমাকে মাফ করুন, দয়া করে এবার আমাকে ডিসচার্জ করুন আমি এবার বাসায় যাবো।
পিপি:- চিশতি ব্যাটা সবার সাথে এমন ব্যবহার করা ঠিক নাহ উনি তোহ একজন ডাক্তার লোকের জীবন বাঁচান উনাকে এসব বলতে নেই..
আমি:- জীবন বাঁচান নাকী জীবন নেন সেটা উনিই ভালো জানেন..
সিমন:- দেখুন আপনি কিন্তু লিমিট ক্রস করছেন এখন..
পিপি:- আচ্ছা ওর হয়ে আমি সরি বলছি...
সিমন:- ইট'স ওকে।
তারপর আমাকে ডিসচার্জ করে বাসায় নিয়ে আসা হয়।
বাসায় আসার পর পিপিকে নাহ জানিয়ে সন্ধ্যার পর আমি একা একা ইমাম সাহেবের কাছে যাই...
ইমাম সাহেবের কাছে গিয়ে আজকে দেখা সেই স্বপ্নের কথাটা খুলে বললাম, স্বপ্নের কথা শুনে ইমাম সাহেব বললো...
ইমাম:- সাবধান! চিশতি ব্যাটা, ভবিষ্যতে তোমার অনেক বিপদ হতে চলেছে এবং তুমি যার কাছেই সাহায্য চাইতে যাবে সেই তোমার বিপদের মূল হয়ে উঠবে, তারাই তোমার ক্ষতি চাইবে...
আমি:- তাহলে কি ডাক্তার সিমনও আমার ক্ষতি চায়..?
ইমাম:- নাহ! নাহ! চিশতি ব্যাটা উনার দ্বারা তোমার কোনো বিপদ নেই। তোমাকে শুধু উনার প্রতিচ্ছবি দ্বারা স্বপ্নটি দেখানো হয়েছে যাতে তুমি সাবধান হতে পারো।
আমি:- ইশশশ, আমি লোকটির সাথে মিস বিহেভ করলাম।
ইমাম:- তুমি এখন এসব চিন্তা করো নাহ, আগামীর জন্য সাবধান হও, আমি জানি তুমি আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো নও বিশেষ কোনো কারণে তোমার জন্ম।
আমি:- কিন্তু আমিও যে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করতে চাই।
ইমাম:- আল্লাহ ভরসা, এখন তাড়াতাড়ি বাড়ি যাও পিপিকে নাহ বলে এসেছো উনি চিন্তা করবেন।
সদরদরজা দিয়ে ঢুকতেই পিপির কাছে ধরা পরে গেলাম...
পিপি:- দাঁড়াও! কোথায় গিয়েছিলে..?
আমি:- ইয়ে মানে পিপি...
পিপি:- অসুস্থ শরীর নিয়ে বাইরে বের হওয়াটা কি খুব জরুরি ছিলো..?
আমি:- সরি পিপি আর এমন করবো নাহ।
এই বলে পিপির গলা জড়িয়ে ধরে গালে একটা হামি খেয়ে আমার রুমে চলে এলাম।
নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে কারণ একটা দুঃস্বপ্নের জন্য নির্দোষ একজন মানুষকে কতকিছু বললাম।
কালকে যেভাবেই হোক ডাক্তার সিমনকে সরি বলবো।
এসব চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পরলাম।
আজ আবারও সেই স্বপ্নটি দেখে চিৎকার দিতেই পিপি, ফুফাজি, হায়াতি, তাইমন ভাইয়া সবাই আমার রুমে ছুটে চলে আসে....
তারা এসে দেখে আমার নাভি দিয়ে সমানে রক্ত বের হচ্ছে, পিপি তাড়াতাড়ি করে নাভিটা চেপে ধরলো।
ফুফাজি:- এভাবে আর কতদিন..?
পিপি:- কি কতদিন..?
ফুফাজি:- কিছুদিন পর পরই কি ওর এমনটা হবে নাকী বুঝতে পারছি নাহ আমি...?
পিপি:- তোমাকে বুঝতে হবে নাহ..
আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে...
ফুফাজি:- এদিকে আসো কথা আছে...
পিপিকে আমার কাছ থেকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে বললো...
ফুফাজি:- দেখো মেহেনাকা, তোমার ভাতিজাকে এভাবে এখানে রাখা সম্ভব নাহ..
ওর কিছু একটা হয়ে গেলে পরে তোমার ভাই তোমাকে আমাকে এমনকি আমাদের সবাইকে দোষারোপ করবে...
পিপি:- এমনটা কিছুই হবে নাহ..
ফুফাজি:- ওকে এখানে রাখতে পারবো নাহ, কিছুদিনের মধ্যেই ওকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি...
পিপি:- তুমি কি পাগল হয়ে গেছো..?
অতীতের সবকিছু ভুলে গেছো..?
আর বাদই দিলাম অতীতের কথা, চিশতির ভালো মন্দ সবকিছু আমি বুঝি হঠাৎ করে ওর আম্মি ওর ভালো মন্দ পছন্দ অপছন্দটা বুঝবে কি করে..?
আমি তোমার কথায় এক মত হতে পারছি নাহ...
ফুফাজি:- তুমি মত দাও বা নাহ দাও চিশতিকে এখানে রাখা সম্ভব নাহ...
তাদের মধ্যে কথোপকথন শেষ করে ফুফাজি আমাদের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললে...
ফুফাজি:- শুনো, চিশতিকে দু-একদিনের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিবো।
আমি:- কিন্তু ফুফাজি...
ফুফাজি:- কোনো কিন্তু নাহ ব্যাটা তোমাকে এবার তোমার নিজের দেশে যেতে হবে।
আমি:- ফুফাজি কিছুদিন পর তোহ আমি সেকেন্ড ইয়ারের ফাইনাল এক্সাম..
ফুফাজি:- বেঁচে থাকলে এক্সাম দিতে পারবে, আগে নিজের জীবন বাঁচাও।
তাইমন:- আব্বু হঠাৎ এমন করছো কেনো..?
হায়াতি:- হ্যাঁ আব্বু চিশতিকে এখন থেকে পাঠিও নাহ প্লিজ...
পিপি:- করুক যা ইচ্ছে তোদের আব্বু আমাকে যেনো এসবে নাহ টানে...
এই বলে পিপি চলে গেলো, পিপির পিছু পিছু হায়াতিও চলে গেলো।
তাইমন:- এমনটা করো নাহ আব্বু, আমাদের বাড়িটা ফাঁকা হয়ে যাবে...
এই বলে তাইমন ভাইয়াও চলে গেলো।
আমি ফুফাজির দিকে তাকিয়ে অঝোরে কান্না করছি।
ফুফাজি আমার কাছে এসে কপালে একটা হামি দিয়ে বললো...
ফুফাজি:- দেখো ব্যাটা আমি কখনো তোমার আর তাইমনের মধ্যে পার্থক্য করিনি বরং তাইমনের চেয়ে তোমাকে বেশি ভালোবেসেছি।
আমি সবসময় বলতাম আমার একটা নাহ দুইটা ছেলে।
তোমাকে এখান থেকে পাঠিয়ে দিতে আমারও কষ্ট হচ্ছে কিন্তু কিছু করার নেই।
সবশেষে দেখা যাবে তোমার কিছু একটা হয়ে গেলে তোমার আব্বু আম্মু আমাদের দোষারোপ করবে...
আমি:- নাহ, ফুফাজি এমনটা কিছুই হবে নাহ প্লিজ...
ফুফাজি:- সরি ব্যাটা, কাল পরশু তোমার ফ্লাইটের টিকিট কেটে পাঠিয়ে দিবো আর হ্যাঁ তুমি একা যাবে নাহ তোমার সাথে তাইমনকেও পাঠাবো তুমি যেদিন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে সেদিন তাইমন তোমাকে আবার নিয়ে আসবে।
আমি:- সত্যি..!
ফুফাজি:- হ্যাঁ সত্যি।
আমি খুশিতে ফুফাজিকে জড়িয়ে ধরে বললাম...
আমি:- তাহলে ঠিক আছে আমি রাজি।
কিছুক্ষণ পর ফুফাজিও চলে গেলো।
আমিও কিছুটা মন খারাপ নিয়ে শুয়ে পরলাম।