পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২৬
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২৬ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২৬
মূসা হুজুরের সাথে কথা শেষ করে ওইদিনের নতুন সকাল শুরু করি।
যাক অবশেষে আমিও সুস্থ হলাম সাথে সাথে মূসা হুজুরের উপর থেকে জটায়ুর অভিশাপও কেটে গেলো। এবার আমাকে জটায়ু আর সাক্ষীর সাথে কথা বলতে হবে, সত্যি সত্যি কি ওদের আমার পাশে পাবো নাকী এতেও কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে তা জানতে হবে আমাকে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত একজন জাদুকরকেও শাস্তি দিতে পারিনি আমি।
যাই হোক, এখন আমার কি করা উচিৎ..?
আম্মির কাছে আমার এই শক্তি সম্পর্কে জানানো উচিৎ নাকী সবটা গোপন রাখা উচিৎ..?
আচ্ছা, আপাতত সবার কাছ থেকে এই সত্যিটা লুকিয়ে রাখি সময় হলে জানাবো।
আরেকটা প্রশ্ন, আমি জটায়ুকে ডাকবো কিভাবে..?
সাক্ষীকে ডাকলে ও আমার সামনে যেভাবে এসে হাজির হয় সেভাবেই আসবে..?
আচ্ছা এসব পরে ভাবা যাবে, সবকিছুর উর্ধ্বে আমি একজন মানুষ আমাকে আগে মানুষের কর্তব্য পালন করতে হবে পরে ওইসব কিন্তু এটা তোহ আমারই প্রতিশোধ! যাই হোক কোনো কিছুকেই সহজ ভাবে নেওয়া চলবে নাহ। আমাকে এখন চোখ কান খোলা রাখতে হবে। আমার চারপাশের প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে রহস্য আছে। কাউকেই সহজে বিশ্বাস করা চলবে নাহ। পাকিস্তানে থাকা কালীন হুজুর আমাকে বলেছিলো "আমি যার কাছে সাহায্য চাইবো সে-ই আমার বিপদ হবে" এখন যা করতে হবে সবটাই আমাকে একা করতে হবে।
একা একা নিজের সাথে কথা বলতে বলতে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।
ওইদিনটা খুব ভালো ভাবে কেটেছিলো। বাংলাদেশে আসার পর যতগুলো দিন সুন্দর ভাবে কাটিয়েছি তার মধ্যে আজকের দিনটাও একটা।আজকেও দিনটাও আমার জন্য সবচেয়ে সুন্দর ও সৌখিন ছিলো।
অনেক মজা করলাম, আম্মির সাথে অনেকক্ষণ কথাবার্তা বলেছিলাম। চাচ্চু আর ফুফাজির সাথে তেমন কথা বলতাম নাহ। মাঝে মাঝে লক্ষ করতাম তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে নিজেদের মধ্যে কি যেনো বিরবির করে বলে।
দিন শেষ হয়ে রাত চলে এলো। রাতটাও সুন্দর মতোই কাটছিলো কিন্তু আমার তখন কেমন লাগছিলো তাই জটায়ু আর সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে ডাকতে থাকি "জটায়ু তুমি যদি সত্যি সত্যি আমার পাশে থাকতে চাও তাহলে দেখা দাও" "সাক্ষী আমার এখন তোমাকে দরকার। আমি চাই তুমিও এখন আমার সাথে দেখা করো"
এরপর আমার রুমে অনেক ধোঁয়া আর হাওয়া বইতে শুরু করে। প্রচন্ড হাওয়ার মাঝে দুইটা অবয়ম দেখতে পাচ্ছিলাম।
হঠাৎ একটা অবয়ম আরেকটা অবয়মের গলা চেপে ধরে বলছে "সত্যি করে বল নাগমণি কি করেছিলি" অপর অবয়মটা বলছে "বিশ্বাস কর আমি কিছু জানি নাহ"
তাদের মধ্যে এমন কথা শুনে একটু অবাক হলাম। কারা এরা..? সাক্ষী আর জটায়ু কোথায়.??
আমি আস্তে আস্তে তাদের সামনে যাই। তাদের সামনে যেতেই দেখি আম্মির মুখে শোনা সেই বিশাল দেহি জটায়ু সাক্ষীর গলা চেপে ধরে আছে।
তার মানে সত্যি সত্যিই জটায়ুকে আমারে পাশে পেয়েছি।
কিন্তু জটায়ু সাক্ষীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে কি করাণে..?
যাই হোক ওরা যেহেতু আমার সামনে এসেছে এবার আমাকেই জানতে হবে কি কারণে ওরা লড়াই করছে আর নাগমণির কাহিনি কি..?
চিশতি:- কি হয়েছে..? তোমরা লড়াই করছো কেনো..? আর তুমিই জটায়ু তাই তোহ..?
জটায়ু:- আসসালামু আলাইকুম আদিশক্তি
চিশতি:- ওয়া আলাইকুম সালাম। এবার বলো কি হয়েছে..?
সাক্ষী:- আমি আগেই জানতাম জটায়ু তোমার পাশে এসে দাঁড়ালেই আমার উপর সবার আগে আক্রমণ করবে
চিশতি:- কিন্তু কি কারণে আক্রমণ করবে সেটা তোহ বলবে
সাক্ষী:- আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে আমার কাছ থেকে নাগমণি নিমেষেই উধাও হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু কোথায় গেছে জানি নাহ
জটায়ু:- চুপ মিথ্যাবাদী! তুইই এই ষড়যন্ত্র করেছিস। ত্রেতাযুগ থেকে তোরই তারার পঞ্চশক্তির উপর কুনজর ছিলো তারপর যখন সুযোগ পেলি নাগমণি সরিয়ে দিলি যাতে এই নাগমণি আর পঞ্চশক্তির আসল উত্তরাধিকারী কখনোই তার প্রাপ্য শক্তি নাহ পায়
সাক্ষী:- আমাকে বিশ্বাস করো আমি এসবের কিছুই জানি নাহ। তাছাড়া শেষ মুহুর্তে তারা নিজেই আমাকেই পঞ্চশক্তির দায়িত্ব দিয়েছিলো।
চিশতি:- চুপ! চুপ! চুপ! তোমরা তর্ক বিতর্ক বন্ধ করে আমাকে সবটা বুঝিয়ে বলবে দয়া করে.!
সাক্ষী:- আমি বলছি
চিশতি:- হ্যাঁ বলো
সাক্ষী:- তোমার মা আর তুমি যখন আমার কাছে পঞ্চশক্তির দায়িত্ব দিয়েছিলে তখন ওই পঞ্চশক্তিকে একটা পাথরের মধ্যে স্থাপিত করে দিয়েছিলে।
চিশতি:- সেটা তোহ আমিও জানি কিন্তু এখনে নাগমণি এলো কোত্থেকে..?
সাক্ষী:- ওই পাথরটাই যুগের সাথে সাথে আরো শক্তিশালী হয়ে নাগমণিতে পরিনত হয়েছিলো।
চিশতি:- তাহলে আমার নাভিতে কি আছে যেটা নেওয়া জন্য তাইমন আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো..?
সাক্ষী:- তুমি হয়তো ভুলে গেছো, ত্রেতাযুগে পঞ্চশক্তির সাথে তোমার শক্তি কোষও আমার দায়িত্বে দিয়েছিলে। সেই শক্তি কোষই তোমার নাভিতে আছে।
চিশতি:- তাহলে নাগমণি কোথায়.? আর ওই নাগমণিই হচ্ছে পঞ্চশক্তি.?
জটায়ু:- হ্যাঁ! ওই নাগমণিই তোমার আর তোমার মায়ের পঞ্চশক্তি। ওই নাগমণি ছাড়া তুমি পঞ্চশক্তি অর্জন করতে পারবে নাহ। ওই নাগমণিকে তোমার নাভিতে থাকা শক্তি কোষে স্থাপন করলেই তোমার মধ্যে পঞ্চশক্তি জাগ্রত হবে।
চিশতি:- তার মানে আমি এখনো পঞ্চশক্তি পাইনি.? এটা কি ওই জাদুকরগুলো জানে..?
সাক্ষী:- নাহ! ওরা কেউই জানে নাহ যে তুমি এখনো পঞ্চশক্তি পাওনি। ওরা সবাই জানে তোমার আগের জন্মের কথা যেহেতু মনে পড়েছে তাহলে নিশ্চয়ই পঞ্চশক্তিও অর্জন করেছো।
চিশতি:- তাহলে ওই নাগমণি রূপী পঞ্চশক্তি কোথায়..?
জটায়ু:- সেটা এই লোভী সাক্ষী ভালো জানে.! সত্যি করে বল ক্ষমতার লোভে তুই নাগমণিকে লুকিয়ে রেখেছিস যাতে জাদুকররা চিশতিকে হত্যা করলে ওর নাভির শক্তি কোষ চুরি করে নিয়ে তুই সেই পঞ্চশক্তিকে নিজের মধ্যে স্থাপন করবি।
সাক্ষী:- ব্যস! আমার যদি এতই ক্ষমতার লোভ থাকতো তাহলে বিগত ৩৩কোটি বছর ওই পঞ্চশক্তি আর শক্তি কোষ আমার কাছেই ছিলো চাইলেই কি আমি নিজের মধ্যে ওই শক্তিকে স্থাপিত করতে পারতাম নাহ.?
কি কারণে এতগুলো বছর আর দ্বিযুগ অপেক্ষা করেছি বলো..?
চিশতি:- আচ্ছা! তোমরা এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াই করা বন্ধ করো। এখন যা করার আমাদের তিনজনকে মিলেই করতে হবে।
আর সাক্ষী তুমি আমাকে খুলে বলো কি হয়েছিলো দেড়শ বছর আগে..?
সাক্ষী:- আচ্ছা বলছি! কিন্তু আমি তোমাদের একটা মিথ্যা কথা বলেছি
জটায়ু:- আমি জানতাম তুই আমাদের মিথ্যা বলছিস। তোর মধ্যে এখনো লোভ আছে আমি জানি
চিশতি:- আহা জটায়ু! ওকে বলতে দাও.. সাক্ষী তুমি বলো কি মিথ্যা বলেছো আমাদের..?
সাক্ষী:- নাগমণি আমার কাছ থেকে এমনি এমনি উধাও হয়নি, এই নাগমণি আমি এক রাজকন্যাকে দিয়েছিলাম তার অভিশাপ কাটানোর জন্য...
চিশতি:- মানে.? কিভাবে কি করেছো বুঝিয়ে বলো..?
সাক্ষী
------------
দেড়শ বছর আগে একবার এক রাজপ্রাসাদে সব নাগ নাগিন একত্র হয়েছিলো। যেহেতু আমিও ত্রেতাযুগ থেকে সাপ হয়ে আছি সেজন্য আমাকেও ওখানে উপস্থিত হতে হয়েছিলো।
ওইদিন ওই রাজপ্রাসাদে যতন রাজা ও যৌথার বিয়ে হচ্ছিল। তাদের বিষয়ে আগেও অনেক ঘটনা ঘটেছিলো সেগুলো আগে বলছি....
বর্তমান বাংলাদেশে বগুড়া জেলার গাং গাইট নামে যে গ্রামটি অবস্থিত আছে সেখানে যতন নামে একজন রাজা ছিলেন এবং পাশের রাজ্যেই থাকতো হিরতাকি রাজা।
যতন রাজা ছিলেন মুসলিম আর হিরতাকি রাজা ছিলো ছিলো হিন্দু।
হিরতাকি রাজার ও যতন রাজার বাবার মধ্যে একসময় বিশাল যুদ্ধ হয়েছিলো ফলে যতন রাজার বাবা সেই যুদ্ধেই প্রাণ হারায় পরে যতন রাজাকেই সেই রাজ্য পরিচালন করতে হয়।
হিরতাকি রাজার একজন সুন্দরী কন্যা ছিলো তার নাম যৌথা।
দুই রাজার মধ্যে অনেক ঝামেলা থাকার পরও যতন রাজার রাজ্যে যৌথার এক সখির বিয়ে হয়।একদিন যৌথা তার বাবাকে মিথ্যা বলে সখির সাথে দেখ করতে ছদ্মবেশ নিয়ে যতন রাজার রাজ্যে চলে যায়।
সখির সাথে দেখা হয়ে গেলে যৌথা যখন নিজ রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয় তখন যতন রাজাকে হরিণ স্বীকার করতে দেখে সে যতন রাজার প্রেমে পড়ে যায়।
যৌথা যতন রাজার কাছে নিজের পরিচয় গোপন রাখলেও যতন রাজা জানতো যে যৌথা হিরতাকি রাজার একমাত্র কন্যা।
হিরতাকি রাজার সাথে সব দন্দ বিবাদ মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে যতন রাজা যৌথার সাথে প্রেম বিনিময় করে।
দিন যত কাটতে থাকে যতন রাজার সাথে যোথার প্রেম তত বাড়তে থাকে।
যতন রাজার প্রেমের টানে যৌথা প্রতিদিন নিজের রাজ্য থেকে পালিয়ে যতন রাজার সাথে দেখা করতে যেতো।
এভাবেই যখন একদিন যোথা রাজ্য থেকে ছদ্মবেশে বের হচ্ছিল তখন হিরতাকি রাজার মন্ত্রী সেটা দেখে ফেলে আর যৌথার পিছু নেয় এটা দেখতে যে যৌথা প্রতিদিন কোথায় যায়।
যৌথার পিছু পিছু এসে দেখে যৌথা যতন রাজার সাথে দেখা করার জন্য প্রাসাদ থেকে প্রতিদিন ছদ্মবেশে বের হয়। হিরতাকি রাজার মন্ত্রী এই খবর গিয়ে হিরতাকি রাজাকে জানায়।
তারপর যৌথা যখম প্রাসাদে ফিরে তখন হিরতাকি রাজা ওকে বলে আগামী তিন দিনের যৌথার বিয়ে হবে মন্ত্রীর ছেলের সাথে আর এই তিন দিন যৌথা ঘর বন্ধি থাকবে সে যেনো ঘর থেকে এক পা-ও নাহ বের হয়।
যৌথা মনে মনে নিজেকে যতন রাজার স্ত্রী ভাবতো তাই সে অনেক আগেই ইসলাম ধর্মকে গ্রহন করে নিয়েছিলো।
এই তিন দিন যৌথা নিজের ঘরে নামাজ পরতো আর পালানো জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতো।
এভাবেই ২ দিন কেটে যায়। বিয়ের দিন যৌথা পালাতে সফল হয় এবং যতন রাজার রাজ্যে চলে আসে।
যতন রাজাও খবর পেয়েছিলো যৌথার বিয়ে হচ্ছে। সে মনে মনে ভাবছিলো যৌথা তার সাথে এতদিন মিথ্যা ভালোবাসার নাটক করেছিলো। সে তাকে কোনোদিন ভালোই বাসেনি। যৌথার বিয়ের কথা শুনে যতন রাজার ভিষন মন খারাপ হয় সেজন্য সে নিজের মন ভালো করার জন্য শিকারে গিয়েছিলো।
যৌথা প্রাসাদে এসে জানতে পারে যতন রাজা শিকারে গেছে। যৌথাও জঙ্গলের দিকে যাওয়ার জন্য রওনা হয় আর রাস্তায়ই যতন রাজাকে দেখতে পায়।
তারপর যৌথা যতন রাজাকে সবটা বলে যে সে আসলে হিরতাকি রাজার মেয়ে তখন যতন বলে "আমি সব জানি তোমায় কিছু বলতে হবে নাহ"
হিরতাকিও যতনের রাজ্যে আসে তার মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে। তখন যতন বলে
যতন:- আমার বাবা নেই আপনি আমার বাবা সমতূল্য। আপনার মেয়ে যদি আপনার সাথে যেতে চায় আমি বাধা দিবো নাহ আর যদি যৌথা এখান থেকে যেতে নাহ চায় তাহলে আল্লাহ ব্যতীত আমাকে কেউ আটকাতে পারবে নাহ।
হিরতাকি:- যৌথা আমি তোর জন্মদাতা পিতা। তুই আমার সাথে চল
যৌথা:- নাহ! বাবা আমায় ক্ষমা করবেন আমি উনাকে ভালোবাসি। আমি যাবো নাহ আপনার সাথে। আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। আপনি চলে যান এখান থেকে....
হিরতাকি:- তুই নিজের ধর্ম ত্যাগ করলি! হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়ার স্বপ্ন দেখছিস! একজন পিতাকে কষ্ট দেওয়ার মতো দুঃসাহস করেছিস, আমি তোকে অভিশাপ দিলাম তুই কোনদিন মাতৃত্বের স্বাধ পাবি নাহ।
যৌথা নিজের পিতার অভিশাপ গ্রহণ করেও যতন রাজাকে বিয়ে করে।
ওইদিন আমরা সকল নাগ নাগিনরা ওই প্রাসাদে উপস্থিত ছিলাম। কেনো উপস্থিত ছিলাম জানো...?
"যতন রাজার পিতা উনাদের প্রাসাদের বাইরে যে ঘাট ছিলো ওই ঘাটে সকল নাগ নাগিনদের বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো। কারণ তখন সমগ্র দেশে কালো জাদুকরদে উৎপাদ বেড়ে গিয়েছিলো তারা সকল নাগ নাগিনদের ধরে নিজেদের তন্ত্র মন্ত্রের কাজে মেরে ফেলতো। আর ওই সব কালো জাদুকরদের বসবাস ছিলো হিরতাকি রাজার রাজ্যের। নাগ নাগিনদের রক্ষা করার জন্য যতন রাজার পিতা রতন রাজা ও হিরতাকি রাজার মধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধ হয়। রতন রাজা প্রাণ হারালেও অধিকাংশ কালো জাদুকরদের হত্যা করে এবং হিরতাকি রাজার সাথে তাদের রাজ্যের সকল সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে। ওই জাদুকরদের মূল নিশানা ছিলো আমার উপর এটা রতন রাজার কাছে আমি সবকিছু খুলে বলি, সে আমাকে সাপ থেকে মনুষ্য রূপে আসতে দেখে অবাক হলেও তিনি আমাকে বুঝতে পেরেছিলো। তাই সে আমাকে রক্ষা করার জন্য সমগ্র দেশের নাগ নাগিনদের একত্র করেছিলো যাতে আমার উপর কোনো আচ নাহ আসে। রতন রাজা আমার জীবন রক্ষা করার জন্য আমি তার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলাম তার এবং তার রাজ্যের যেকোনো বিপদে আমি পাশে থাকবো"
মূল ঘটনায় আসি, যতন আর যৌথার বিয়ের ৬ হয়ে গেলো কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত কোনো সন্তানের মুখ দেখেনি।
বিয়ের ৬ বছর পরে যৌথার মনে পরে তার বাবার দেওয়া অভিশাপের কথা।
যৌথা মন খারাপ করে বসে থাকে পুকুর ঘাটে বসেছিলো তখন পানি থেকে একটা ছোট সাপের বাচ্চা উঠে এসে যৌথার পায়ে ছোবল দেয়।
যৌথার চিৎকারে দাস দাসী ছুটে এসে সাপটাকে মারতে চাইলে যৌথা বলে...
যৌথা:- ওকে মেরো নাহ, ও-ও হয়তো কারো নাহ সন্তান। একটা মায়ের কোল ফাকা হোক এটা আমি চাই নাহ।
তারপর যৌথাকে প্রাসাদে নিয়ে এসে কবিরাজকে খবর দেওয়া হয়। কবিরাজ যৌথার শরীর থেকে সাপের বিষ নামায়। শরীর থেকে বিষ নামানোর পর যৌথা সুস্থ হয়ে যায়। শরীরের অসুখ ঠিক হলেও মনের অসুখ ঠিক হয় নাহ। সে এখন প্রতিদিন মা ডাক শোনার জন্য ছটফট করে।
রাত যখন গভীর হয়ে যায় তখন যৌথা শুনতে পায় কে যেনো ওই পুকুরের পাশ থেকে মা মা করে কান্না করছে।
যৌথা মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে দেখে যতন ঘুমিয়ে আছে, তারপরও সাহস করে যতনকে ডেকে তুলে ওই পুকুর ঘাটে যায়।
পুকুর ঘাটে আসার পর কাউকে দেখতে নাহ পেয়ে যৌথা আর যতন চলে আসছিলো তখন আমি তাদের পিছন থেকে ডাক দি....
সাক্ষী:- যৌথা...
যৌথা:- কে[ভেজা চোখে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে]
সাক্ষী:- আমি সাক্ষী! এই পুকুর ঘাটেই আমার বসবাস। যতন রাজার পিতা আমাকে সহ দেশের সকল নাগ নাগিনদের এই ঘাটে থাকার সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
যৌথা:- যতন! তুমি উনাকে চিনো.? কে উনি.? উনি কি কোনো সাপ..?
যতন:- হ্যাঁ! আমি উনাকে চিনি। আর হউনি একজন সাপ এটাও সত্যি। উনাকে বাঁচানোর জন্য আমার পিতা তোমার পিতার সাথে যুদ্ধ করেছিলো।
যৌথা:- মানে.?
যখন:- আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে যখন আমার বয়স ১০ বছর ছিলো তখন তোমাদের রাজ্যের কিছু কালো জাদুকর আমাদের রাজ্যে হামলা করে।
যৌথা:- কেনো..?
যতন:- আমাদের রাজ্যে তখন সাক্ষীর আর্বিভাব হয়, কোথা থেকে যেনো সে এখানে এসেছিলো কেউ জানে নাহ কিন্তু সে এসেছিলো হঠাৎ করেই। উনার কাছে নাগমণি আছে যেটা তোমাদের রাজ্যের কালো জাদুকরসহ তোমার পিতা হাসিল করতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমার পিতা এটা মেনে নিতে পারেনি তাই সমগ্র দেশের নাগ নাগিনদের আমাদের রাজ্যে আমন্ত্রণ জানায় সাক্ষীকে রক্ষা করার জন্য। আমাদের রাজ্যে সমগ্র দেশের নাগ নাগিন একত্র হওয়ার খবরটাও তোমাদের রাজ্যে পৌঁছে যায় এবং শুরু হয় ভয়ংকর যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে অনেক নাগ নাগিনসহ তোমাদের রাজ্যর অধিকাংশ কালো জাদুকর এবং আমার পিতাও প্রাণ হারায়।
যৌথা:- তার মানে উনি নাগরানী..?
যতন:- হয়তো সেরকনই কেউ
যৌথা:- আপনি যে-ই হোন নাহ কেনো আপনি কি পারবেন আমার কোল আলো করে একটা ফুটফুটে সন্তান এনে দিতে
সাক্ষী:- আমি তোহ তোমাকে সন্তান এনে দিতে পারবো নাহ যৌথা
যৌথা:- তাহলে কেনো এসেছেন আপনি..? চলে যান আপনি, চলে যান[রাগ ও কষ্টে কান্নামাখা গলায়]
সাক্ষী:- আমি এসেছি তোমাকে একটা উপায় বলতে...
যৌথা:- কি উপায়..?
সাক্ষী:- আজকে তুমি আমাদের নাগলোকের একজন ছোট শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছো যদিও অপরাধটা তারই ছিলো কিন্তু তুমি ওর অপরাধ নাহ দেখে ওর শিশুত্ব দেখেছো তাই আমি চাই আমার মধ্যে থাকা নাগমণিটা তোমাকে দিতে
যৌথা:- নাগমণি দিতে কি হবে..? আপনার নাগমণি কি পারবে আমার পিতার দেওয়া অভিশাপ কাটাতে.??
সাক্ষী:- হ্যাঁ! এই নাগমণিই পারবে তোমার পিতার দেওয়া অভিশাপ কাটাতে।
আমি আমার শরীর থেকে নাগমণি বের করবো তখন ওই নাগমণি তোমার গর্ভাগারে পৌঁছে যাবে এবং ওই নাগমণির গুণেই তুমি সন্তান লাভ করতে পারবে।
যতন:- সাক্ষী! তুমি কি ভুলে গেছো এই নাগমণির কারনেই তুমি এই পুকুর ঘাটে থাকতে পারছো। নাগমণিটা যদি যৌথার গর্ভাগারে চলে যায় তখন তোমাকে এই রাজ্য ত্যাগ করতে হবে
সাক্ষী:- আমি তোমার পিতাকে কথা দিয়েছি তোমাদের যেকোনো বিপদে আমি পাশে থাকবো। আজ যদি তোমাদের সাহায্য করতে পারি তাহলে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করবো। এর জন্য যদি আমাকে এই রাজ্য ত্যাগ করতে হয় তাহলে তাই করবো।
যৌথা:- যতন দয়া করে আমার কাছ থেকে মা হওয়ার সুযোগটা কেড়ে নিও নাহ, তোমাকে আমাদের ভালোবাসার দোহাই।
যতন:- যৌথা!
সাক্ষী:- যৌথা তোহ ঠিকই বলছে, ওর কাছ থেকে এই সুযোগটা কেড়ে নিও নাহ
যতন:- আচ্ছা! তুমি যৌথার গর্ভাগারে নাগমণি স্থাপন করো।
তারপর আমার শরীর থেকে নাগমণি বের করে যৌথার গর্ভাগারে স্থাপিত করে আমি ঘাটের জলে চলে যাই। পরদিন আমাকে ওই রাজ্য ত্যাগ করতে হয়। এরপর যতন রাজার কোনো সন্তান হয়েছে কি নাহ আমি জানি নাহ।
কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি নিজের স্বার্থে কোনো কাজ করিনি।
[গল্পে আরো একটা রহস্য মিক্স করে দিলাম, এখন কেমন লাগছে..? আশা করি নেক্সট পার্টে আরও একটা রহস্য বের হবে]