পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২৩

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২৩ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২৩

হুজুরকে বিদায় জানিয়ে আমরা ইয়ামিন ভাইদের বাসায় চলে আসি।

তাদের বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, চিত্রা আপুনি ওর বাসায় যেতে চাইলে সামিনা ভাবি কিছুতেই যেতে দিতে রাজি হচ্ছিল নাহ কিন্তু চিত্রা আপুনি অনেক জোড়াজুড়ি করে বাসায় ফিরে আসে।

হুজুরের কথা মতো নিয়ম করে তেল পড়া আর পানি পড়া ব্যবহার করার পর এই দুই দিন কোনো সমস্যা হয়নি। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি চিত্রা আপুনি বাইরে চিৎকার করে কান্না করছে। ওর কান্নার শব্দ শুনে আমিও দৌড়ে বাইরে গেলাম, আমাকে বের হতে দেখে চিত্রা আপুনি মাটিতে গড়াগড়ি করে কান্না করছে।

ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন অদ্ভুত মনে হচ্ছে, আমি পা টিপে টিপে চিত্রা আপুনির কাছে গিয়ে বসলাম। কিন্তু তারপরও চিত্রা আপুনি গড়িয়ে চিৎকার করেই যাচ্ছে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো চিত্রা আপুনির কান্না শব্দে আমি ছাড়া আর কেউ বাইরে আসেনি। যাই হোক এতশত নাহ ভেবে চিত্রা আপুনিকে ডাক দিলাম "আপুনি, কি হয়েছে তোর..?" চিত্রা আপুনি আমার দিকে ঘুরে তালাকো।

ওর দিকে তাকিয়ে আমি নিজেকে সামলাতে পারছিলাম নাহ, আমি কি সত্যি দেখছি নাকী কোনো স্বপ্ন! এটাও সম্ভব হয় কি করে..?

চিত্রা আপুনি চেহারায় কোনো চোখ নেই, জিহ্বাটা দেখে মনে হচ্ছে এক হাত লম্বা বের হয়ে গেছে। মুখের অংশগুলো পঁচে গলে গলে পড়ছে আর কি বাজে দুর্গন্ধ।

চিত্রা আপুনি আমার ডাক শুনতে পেয়ে আমার দিকে ভয়ংকর চোখে তাকিয়ে রইলো, মনে হচ্ছে আমাকে মেরে ফেলবে।

আমিও ভিতু হয়ে তাকিয়ে আছি যেনো আমি একদম অবশ হয়ে গেছি নড়ার কোনো শক্তি পাচ্ছি নাহ।

চিত্রা আপুনি হাঁটু গেড়ে হেঁচড়ে হেঁচড়ে আমার দিকে আসছে আমিও নিশ্চুপ হয়ে ওর দিকেই তাকিয়ে আছি কি করবো..?

আমি উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকু পাচ্ছি নাহ।

ওদিকে চিত্রা আপুনি ক্রমশ আমার দিকে এগিয়ে আসছে, আজকে বোধহয় আমাকে মেরেই ফেলবে। কিন্তু চিত্রা আপুনির এমন অবস্থা হলো কিভাবে..?

নাহ আমার মাথা কাজ করছে নাহ, আমি অবশ হয়ে যাচ্ছি কি করবো এখন।

মুহুর্তেই চিত্রা আপুনি আমার সামনে এসে জোড় করে আমার মুখটা হা করিয়ে ওর এক হাত লম্বা জিহ্বাটা আমার মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিলো।

আমি কোনোরকমে একটা চিৎকার দিয়ে শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে থাকি তারপর কি হয় খেয়াল নেই।

যখন চোখ খুলি তখন দেখতে পাই আমি গফফার হুজুরের বাসায় শুয়ে আছি।

চিত্রা:- কিরে কি হয়েছিলো আবার..? সকাল সকাল বাইরে বের হয়েছিলি কেনো..?

গফফার হুজুর:- ও কি প্রতিবারই এমন ভাবেই ঘন্টারও বেশি অজ্ঞান হয়ে থাকে..?

চিত্রা:- হ্যাঁ! আজকে তোহ তাও তাড়াতাড়ি জ্ঞান ফিরেছে এর আগে যখন অজ্ঞান হতো তখন তোহ ২ ঘন্টা হয়ে গেলেও জ্ঞান ফিরতো নাহ।

চিশতি:- কি হয়েছিলো আমার..?

চিত্রা:- সকালে তোর চিৎকার শুনে আমরা বাইরে গিয়ে দেখি তুই শ্বাসকষ্টে ছটফট করছিলি। কিন্তু তুই এত সকালে বাইরে কেনো বপর হয়েছিলি সেটা বল আগে..?

তারপর চিত্রা আপুনি আর গফফার হুজুরকে সবটা খুলে বলি।

গফফার হুজুর:- সবই বুঝলাম, এই দুই দিন যেহেতু কোনো সমস্যা হয়নি আজকেও সমস্যা হওয়ার কথা ছিলো নাহ, কিন্তু সমস্যা যেহেতু হয়েই গেছে তাহলে তোহ এটার কোনো নাহ কোনো উপায় বের করতেই হবে।

আচ্ছা, আমরা আগে গোসলটা সেরে ফেলি।

তারপর বাকি কাজ করা যাবে, আমি আশা করছি৷ গোসল দেওয়ার পর আর কোনো সমস্যা হবে নাহ। যদি তারপরও সমস্যা হয় তাহলে ওই জ্বীনকে হাজির করাতে হবে।

চিত্রা:- যেভাবে ভালো হয় সেভাবেই করুন। আমার ভাইকে সুস্থ করে দিলেই হবে।

চিশতি:- আম্মি কোথায়..?

চিত্রা:- আমরা এখন ওর সুস্থতা নিয়ে কথা বলছি আর ও জিজ্ঞেস করে আম্মু কোথায়..!

আম্মুকে সকালেই বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি, উনি শুধু শুধু এখানে থেকে কি করবে, তাই পাঠিয়ে দিয়েছি।

চিশতি:- ওহ্ আচ্ছা।

চিত্রা:- যাই হোক, হুজুর আমার ভাই সুস্থ হবে তোহ..?

গফফার হুজুর:- সুস্থ করার মালিক আল্লাহ। আপনারা আল্লাহর কাছে শেফা কামনা করুন উনিই পথ দেখাবেন।

তারপর আমাকে গোসল করানোর জন্য হুজুরের বাড়ির দক্ষিণ দিকে নিয়ে গেলো। ওইখানে শুধু আমি আর হুজুরই গেলাম আর কাউকে সাথে আসতে মানা করলেন হুজুর সাব।

যাই হোক ওখানে গিয়ে আমার পড়নের পাঞ্জাবিটা খুলে নতুন গামছাটা পিঠে পেচিয়ে রাখতে বললেন আমিই তাই করলাম।

তারপরে হুজুর আমার সামনে আগরবাতি আর মোমবাতি জ্বালিয়ে দিলো।

এবার আমার শরীরে গোলাপজল ছিটিয়ে দিয়ে উনি জোড়ে জোড়ে কিছু আয়াত পড়তে থাকলেন।

আয়াতগুলো শুনে আরবি মনে হচ্ছিল কিন্তু আরবি নাহ আবার এগুলো কোরআনেরও কোনো আয়াত ছিলো নাহ। কোরআনের আয়াত হলে আমি বুঝতাম কারণ আমি কোরআন ও আরবি পড়া পারতাম। ওই মুহুর্তে কেনো জানি নাহ হুজুরকে আমার খুব সন্দেহ হচ্ছিল কারণ উনি যখন আয়াতগুলো পড়ছিলো তখন একটা সন্দেহজনক হাসি দিচ্ছিল।

উনার আয়াতগুলো শুনে আমার যা মনে হচ্ছিল, সূরা ইখলাসকে উল্টো করে পড়ছিলেন, তার সাথে আরো কিছু সূরা ছিলো যেগুলো উল্টো উচ্চারণ করা হচ্ছিলো [নামগুলো বলতে চাচ্ছি নাহ কারণ এটা যে কেউ কৌতুহল বসত পড়তে পারে তখন হিতে বিপরীত হবে]

এসব আয়াত পড়তে পড়তে হুজুর আমার উপর এক মগ পানি ঢেলে দিলেন, পানিগুলো কনকনে ঠান্ডা ছিলো অথচ আমার শরীরে ঢালার পর পানিগুলো গরম হয়ে নিচে পড়ছিলো।

আস্তে আস্তে আমার গোসল সম্পূর্ণ হলে, লক্ষ করে দেখলাম হুজুর তার পকেট থেকে একটা লোহার পেরেক বের করে লেবুর মধ্যে গেথে লেবুটা তার কাছেই রেখে দিলো।

এবারও কেনো জানি নাহ হুজুরকে আমার সন্দেহ হচ্ছিল।

এবার আপেলটা দুই টুকরো করে এক টুকরে আমাকে দিয়ে বললো "আমি যেখানে দাঁড়িয়ে গোসল করলাম সেখানে দাঁড়িয়ে পিছন নাহ তাকিয়ে আপেলের টুকরোটা যেনো পিছনে ফেলে দি" আর বাকি এক টুকরো আমাকে খেতে দিলো। হুজুরের কথা মতো বাকি অর্ধেক আপেলটুকু খেয়ে ফেললাম।

গোসল সেরে হুজুরের সাথে তাদের ওয়াশরুমে গিয়ে জামা কাপড় চেঞ্জ করে আসলাম। তারপর হুজুরকে তার হাদিয়ার টাকা বুঝিয়ে দিয়ে তাকে বিদায় জানিয়ে আমরা চলে এলাম।

রাস্তায় আসার পথে চিত্রা আপুনিকে জিজ্ঞেস করলাম.....

চিশতি:- আপুনি একটা প্রশ্ন করবো..?

চিত্রা:- হ্যাঁ বল..?

চিশতি:- সামিনা ভাবি হুজুরের বাসায় যেতে চাইছিলো নাহ কেনো..?

চিত্রা:- সে অনেক কথা, তোকে পরে সব বুঝিয়ে বলবো.!

চিশতি:- এখন বল..........

চিত্রা:- আচ্ছা বাসায় গিয়ে বলি.? রাস্তাঘাটে এত কথা বলা উচিৎ নাহ

চিশতি:- আচ্ছা ঠিক আছে

তারপর আমরা বাসায় ফিরে আসি, বাসায় আসার পর চিত্রা আপুনি ফ্রেশ হয়ে রান্না করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অথচ আমাকে কিছু একটা বলবে বলেছিলো কিন্তু সে ভুলে গেছে।

চিত্রা আপুনিকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য রান্নাঘরে গেলাম। গিয়ে দেখি চিত্রা আপুনি ফ্রিজ থেকে মাছ বের করে ভিজিয়ে রাখলো। মাছ ভিজিয়ে রেখে পেয়াজ কাটছে, ওকে কাজ করতে দেখে আমি কিছুটা গজগজ করে বললাম....

চিশতি:- কিরে!

চিত্রা:- আরে তুই.? আয় বস

চিশতি:- হ্যাঁ বসছি কিন্তু তুই আমাকে কিছু একটা বলবি বলেছিলি মনে আছে..?

চিত্রা:- কি বলবো বলেছিলাম যেনো.? মনে পড়ছে নাহ রেহ....

চিশতি:- সামিনা ভাবি কেনো হুজুরের বাসায় যেতে চায়নি.!

চিত্রা:- ওহ্ হ্যাঁ! শোন তবে, ওইযে তোর জিজুর মামাতো ভাই ইয়ামিন ভাই উনার উপরে কালো জাদু করা হয়েছিলো

চিশতি:- কে করেছিলো..?

চিত্রা:- ইয়ামিন ভাইয়ের প্রাক্তন প্রেমিকা। কথা ছিলো ইয়ামিন ভাই ওই মেয়েকে বিয়ে করবে কিন্তু পরিবারের চাপে পড়ে তখন ইয়ামিন ভাই সামিনা ভাবিকে বিয়ে করে যার জন্য ইয়ামিন ভাইয়ের প্রাক্তন প্রেমিকা "তানিয়া" গফফার হুজুরের মাধ্যমে ইয়ামিন ভাইকে বাণ মারে।

তার চেয়ে বড় কথা হলো, গফফার হুজুর ছিলো সামিনা ভাবির আব্বু সৎ ভাই মানে সামিনা ভাবির চাচ্চু।

সামিনা ভাবির রাগ হলো এই কারণে যে, সে উনার চাচ্চু হয়েও কি করে একটা মেয়ের কাছ থেকে টাকা খেয়ে ইয়ামিন ভাইয়ের উপর কালো জাদু করলো।

এজন্য সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত সামিনা ভাবি গফফার হুজুরের বাসায় যাওয়া তোহ দূর তার সাথে কথা পর্যন্ত বলে নাহ।

চিশতি:- সামিনা ভাবি তোহ জানেন যে গফফার হুজুর ভালো নাহ তারপরও আমাকে উনার কাছে নিয়ে যেতে বললেন কেনো..?

চিত্রা:- ভালো নাহ এমনটা নয়, সামিনা ভাবির রাগ উনি আপন মানুষ হয়ে কেনো এমন কাজ করলো তাছাড়া তোহ কোনো কারণ নেই।

আর হুজুররা সবাই যে ভালো আর সবাই যে খারাপ এমনটাও নাহ, তারা সবাইকে সাহায্য করতে চায় কিন্তু কে কোন উদ্দেশ্যে সাহায্য চাইতে আসে সেটা তোহ তারা জানে নাহ।

যাই হোক গোসল দেওয়ার পর এখন কেমন লাগছে..?

চিশতি:- হুম ভালোই। কিন্তু আমার নাহ হুজুরকে বিশ্বাস হচ্ছে নাহ! লোকটা সুবিধার নাহ

চিত্রা:- তোর আবার উনাকে সন্দেহ হচ্ছে কেনো..?

চিশতি:- আমাকে গোসল করানোর সময় উনি কিছু আয়াত পড়ছিলো

চিত্রা:- হুম তোহ..?

চিশতি:- ওই আয়াতগুলো একটাও আমার কাছে আরবি বলে মনে হচ্ছিল নাহ, তার মধ্যে কয়েকটা আয়াত ছিলো যেগুলো কিছু বিশেষ বিশেষ সূরাকে উল্টো করে পড়া হচ্ছিল।

হুজুর কি আমার উপর কোনো ভাবে কালো জাদু করলো..?

চিত্রা:- ধূর! আমরা উনার কাছে সাহায্য চাইতে গিয়েছি, উনি উল্টো আমাদের ক্ষতি করবে কেনো..? এসব তোর মনের ভুল।

চিশতি:- হয়তো! হয়তো নাহ! কিন্তু আমার মনে একটাই প্রশ্ন, সামিনা ভাবির স্বামীর উপর যে লোক কালো জাদু করতে পারে তার কাছে কেনো আমাকে নিয়ে যেতে বললেন..?

চিত্রা:- হুজুর মানুষটা তোহ খারাপ নাহ, উনাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে উনি কাজ করেছেন।

তাছাড়া উনাকে দ্বারা তোহ কত মানুষ উপকৃত হয়েছিল এজন্যই সামিনা ভাবি উনার সন্ধান দিয়েছে। তারপরও কার মনে কি আছে আমরা তোহ জানি নাহ, মনে বিশ্বাস রাখ ভালো কিছু হবে।

চিশতি:- হ্যাঁ সেটাই, যাই হোক বাদ দে ওইসব।

চিত্রা আপুনি উত্তর শুনে কেনো জানি নাহ আমার মন ভরলো নাহ, এক বুক সন্দেহ নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাচ্চাদের সাথে বসে কার্টুন দেখতে লাগলাম।

হঠাৎ কি মনে করলে যেনো আমি রুম থেকে বেরিয়ে আবারও রান্নাঘরে গেলাম..

চিত্রা:- কিরে! কিছু বলবি..?

আমি চিত্রা আপুনি কথার কোনো উত্তর নাহ দিয়ে ভিজিয়ে রাখা কাঁচা মাছগুলো খেতে শুরু করি।

আমাকে কাঁচা মাছ খেতে দেখে চিত্রা আপুনি ঠাস করে একটা থাপ্পড় বসায় আমার গালে.!

চিত্রা:- কিরে কি হয়েছে তোর, এমন পিশাচের মতো কাঁচা মাছ খাচ্ছিস কেনো..?

আমিও কিছুই বুঝতে পারছিলাম নাহ, আমি কাঁচা মাছ কেনো খাচ্ছিলাম..?

আমি সবটাই দেখছিলাম, সবটাই অনুভব করতে পারছিলাম কিন্তু নিজেকে কিছুতেই কন্ট্রোল করতে পারিনি যেনো কোনো এক অজানা শক্তি আমাকে দিয়ে এসব করাচ্ছিল।

চিত্রা আপুনি আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে রইলো, আমিও চিত্রা আপুনির দিকে লজ্জা নিয়ে তাকিয়ে রইলাম।

কিছু নাহ বলে রান্নাঘর থেকে আবারও রুমে চলে আসি। রুমে এসে আবারও বাচ্চাদের সাথে কার্টুন দেখতে থাকি। অথচ আমি কখনো কার্টুন পছন্দ করতাম নাহ [ওই সমস্যার পর থেকে আমি আজ পর্যন্ত কার্টুন প্রেমী]

যাই হোক কার্টুন দেখতে দেখতে কখন যেনো ঘুমিয়ে পড়ি খেলাম ছিলো নাহ। হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গে চিত্রা আপুনি ডাকে...

চিত্রা:- কিরে খাবি নাহ.? আর কত ঘুমাবি..? উঠ এবার

চিশতি:- হ্যাঁ উঠছি, আমারও খুব ক্ষুধা লেগেছে রেহ, কি রান্না করেছিস..?

চিত্রা:- বাহ্ কিছুক্ষণ আগে রান্নাঘরে কাঁচা মাছ খেয়ে এখন জিজ্ঞেস করছিস কি রান্না করেছি..?

তুই কি মজা করছিস নাকী বুঝি নাহ, যাই হোক সরপুঁটি রান্না করেছি তাড়াতাড়ি আয়।

চিশতি:- ওই শোন

চিত্রা:- আবার কি হলো

চিশতি:- খাইয়ে দিবি[কিছিটা আহ্লাদী সুরে]

চিত্রা:- তুই কি এখনো ছোট যে তোকে খাইয়ে দিতে হবে..? আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও নিজের হাতে খায় আর তুই ২০ বছরের বুড়া হয়েও বলিস খাইয়ে দিতে! আচ্ছা দিবো তারপরও আয়

চিতশি:- আচ্ছা তুই যা আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি..

চিত্রা আপুনির সাথে কথা বলে ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হতে।

বেসিনের কল অন করতেই দেখি কল দিয়ে নর্দমার পানি বের হচ্ছে এসব নোংরা পানি দেখে ঘৃণিত হয়ে চিত্রা আপুনিকে ডাক দিলাম....

চিশতি:- আপুনি! আপুনি! ওই আপুনি!

চিত্রা:- আরে কি হয়েছে কি আবার.? খাবার রেডি করছিলাম! আবার কি হয়েছে বল

চিশতি:- এই দেখ বেসিন থেকে নর্দমার পানি বের হচ্ছে! তোদের লাইনের পানিতে কি এমন সমস্যাই হয় নাকী.?

চিত্রা:- কই নর্দমার পানি.? একদম স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পড়ছে পানিই তোহ পড়ছে!

চিত্রা আপুনির সাথে চেচামেচি করতে করতে কলের দিকে তাকিয়ে দেখি আসলেই পরিষ্কার পানি বের হচ্ছে।

তার মানে আমি আবারও ডে ড্রিম করলাম।

চিশতি:- হ্যাঁ তাই তোহ! [অবাক হয়ে নির্বাক সুরে] তাহলে বোধহয় আমিই ভুল দেখেছি.! আচ্ছা তুই যা আমি আসছি

চিত্রা:- হ্যাঁ! এবার তাড়াতাড়ি আয় আর নতুন কোনো বাহানা করিস নাহ।

চিত্রা আপুনি যাওয়ার পর আমি দুই তিন বার কল অন/অফ করে দেখলাম আসলেই এক ফোটাও নর্দমার পানি বের হচ্ছিল নাহ। তাহলে আমি ভুল দেখেছিলাম।

যাকগে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে খেতে যাই আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে।

ফ্রেশ হয়ে খেতে গেলাম, গিয়ে দেখি চিত্রা আপুনি আমার জন্য একটা প্লেট ভর্তি ভাত নিয়েছে। প্লেট ভর্তি ভাত দেখে আমি চমকে গিয়ে বলি...

চিশতি:- আল্লাহ! আমি এত ভাত খাই নাহ। আর কিছু কমিয়ে নে

চিত্রা:- চুপচাপ এখানে বস, এইটুকু ভাত খেতে পারবি

চিত্রা আপুনির ধমক শুনে চুপচাপ খেতে বসলাম, বাহ্! কি আশ্চর্য আজকে এই প্লেটের সবটুকু ভাত খেলাম।

চিত্রা:- আর একটু আনবো..?

চিশতি:- হ্যাঁ অল্প

চিত্রা আপুনি আবারও প্লেট ভর্তি ভাত নিয়ে এলো

এবারও বললাম এতগুলো খেতে পারবো নাহ কমিয়ে দিতে কিন্তু এবারও সবটুকু ভাত খেলাম।

এভাবেই আমি ভাত খেতে শুরু করি। প্রতি বারই একই কথা বলি অথচ প্লেট ভর্তি ভাত সবটুকু খেয়ে ফেলি। আরেকটা আশ্চর্যের বিষয় হলো এতবার খাওয়ার মাঝে আমি এক ফোটাও পানি পান করিনি। যাই হোক, আমাকে এত ভাত খেতে দেখে চিত্রা আপুনি হয়তো কিছু একটা আন্দাজ করতে পেরেছিলো...

চিত্রা:- এবার একটু পানি খা..?

চিশতি:- উহু আরো ভাত খাবো..!

চিত্রা:- এই দেখ পাতিলের সব ভাত শেষ আর কোত্থেকে দিবো..?

চিশতি:- ওহ্! এগুলো আমি একা খেলাম.?

চিত্রা:- তা নয়তো কে.??

চিশতি:- কিন্তু আমার তোহ এখনো পেট ভরেনি।

চিত্রা:- আচ্ছা এখন পানি খেয়ে নে আমি আবার রান্না বসাই। রান্না শেষ হলে তারপর বরং আবার খেয়ে নিস

চিশতি:- আচ্ছা

তারপর দেখলাম চিত্রা আপুনি গফফার হুজুরের দেওয়া সেই পড়া পানির বোতল থেকে পানি খেতে দিলো আমিও ওই পানিটাই খেলাম।

কি আশ্চর্যের বিষয়, পড়া পানি খাওয়ার পর আমার ক্ষুধা একদম কমে গেলো।

মনে হচ্ছিল আমার পেট একদম টইটম্বুর হয়ে আছে আর একটু কিছু খেলেই পেট ফেটে যাবে..!

[কি কিছু৷ আন্দাজ করতে পারছো কাহিনিতে কোন কোন জায়গায় রহস্য লুকিয়ে আছে..? জানতে পারবে আসল রহস্য কোথায় আছে শুধু অপেক্ষা করতে থাকো]