পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১৬
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৬ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১৬
পঞ্চমার সাথে কথা বলে চন্দ্রা নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে।
চন্দ্রা:- হঠাৎ জানালায় টোকা, কি ব্যাপার এত রাতে জানালার বাইরে কে..?
চন্দ্রা জানালা খুলতেই দেখে আয়াশ চন্দ্রাবতীর জন্য ১০০ গোলাপ নিয়ে হাজির।
চন্দ্রা:- তুমি এত রাতে..?
আয়াশ এক হাতে গোলাপ আর অন্য হাতে চন্দ্রার মুখ চেপে ধরে বলে....
আয়াশ:- চুপ সবাই শুনতে পাবে তোহ..!
চন্দ্রাবতী:- শুনুক! তোমাকে এত রাতে এমন পাগলামি করতে কে বলেছে..?
আয়াশ:- এটা তোহ শুধু গোলাপ তোমার জন্য যদি আমাকে আরো কিছু করতে হয় তোহ তাই করবো।
চন্দ্রাবতী:- আহারে আমার পাগলা প্রেমিক।
তেমন কিছুই করতে হবে নাহ শুধু আমাকে সারাজীবন ভালোবাসায় জড়িয়ে রাখলেই হবে।
আয়াশ:- তোমাকে তোহ আমার ভালোবাসায় জড়িয়েই রাখতে চাই কিন্তু তুমিই তোহ দেরি করাচ্ছো..?
চন্দ্রাবতী:- আর তোহ মাত্র কয়েকটা দিন তারপর আমার ২৫ বছর পূর্ন হবে আমি সব আমার মায়ের সব শক্তি পেয়ে যাবো তারপর তোমার আর আমার বিয়ে হবে তখন আমাকে ইচ্ছে মতো ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখো কেউ বাধা দিবে নাহ।
এখন যাও....
আয়াশ:- উফ তোমার এই শক্তি অর্জন করাটা আমার কাছে এখন বিরক্ত বলে মনে হচ্ছে..
একটা মুহুর্তও তোমার সাথে কাটাতে পারি নাহ!
দরকার নেই কোনো শক্তির তুমি যেমন আছো তেমনই ঠিক আছে এভাবেই তোমাকে ভালোবাসি আমি।
চন্দ্রাবতী:- কিন্তু আয়াশ তুমি বুঝতে পারছো নাহ..?
আয়াশ:- আমার বুঝতে হবে নাহ, তুমি এই সব শক্তির ধার কাছেও যাবে নাহ
চন্দ্রাবতী:- কি বলছো এসব, আচ্ছা বাদ দাও এসব তুমি খেয়েছো..?
আয়াশ:- হ্যাঁ খেয়েছি, তুমি..?
চন্দ্রাবতী:- হ্যাঁ, আচ্ছা আয়াশ আমাদের বিয়েটা কি তোমাদের ধর্মের রীতিমতো হবে নাকী আমাদের..?
আয়াশ:- জানি নাহ তোমার বাবা যেভাবে চান ওইভাবেই হবে
চন্দ্রাবতী:- কিন্তু আমার বাবা তোহ তোমার আর আমার সম্পর্ক এখনল মেনে নেয়নি, উনি আমাকে কিছুতেই একজন বেদ[হিন্দু] ধর্মের ছেলের কাছে দিবে নাহ।
আয়াশ:- তা বেশ তোহ, আমাকে বিয়ে করতে হবে নাহ তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করো
চন্দ্রাবতী:- আয়াশ তুমি তোহ জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি, তুমি কিভাবে এই কথা বলছো..?
আমি অবশ্যই আমার বাবাকে রাজি করাবো আমি প্রমাণ করে দিবো ভালোবাসা ধর্ম/বর্ণ/জাত/উঁচু/নিচু মানে নাহ
আয়াশ:- অপেক্ষায় রইলাম
এই বলে আয়াশ চলে গেলো....
চন্দ্রাবতী:- আমি কি আয়াশকে রাগীয়ে দিলাম..?
ও হয়তো অভিমান করেছে..?
আর তোহ মাত্র কয়েকটা দিন তারপর আমরা এক হয়ে যাবো, তখন কেউ আলাদা করতে পারবে নাহ আমাদের।
একা একা নিজের সাথে কথা বলতে বলতে চন্দ্রাবতী ঘুমিয়ে পড়ে।
এভাবেই দিনের পর দিন কাটতে লাগলো, আজ চন্দ্রাবতীর জন্মদিন সে হয়তো ভাবতেও পারবে নাহ আজ তার জন্য কি কি চমক অপেক্ষা করছে...!
রাজপ্রাসাদে রাজকন্যার জন্মদিনের উৎসবের বিশাল আয়োজন করা হলো অপর দিকে সেই ১০ কালো জাদুকর আবারও ফিরে এসেছে যাদের প্রায় ১৫০ বছর আগে পঞ্চমা জলবন্দী করেছিলো।
কিন্তু তাদের এখানে কে নিয়ে এলো..?
তারা কিভাবে পঞ্চমাকে খুঁজে পেলো..?
কালো জাদুকরগুলো রাজ্যে প্রবেশ করা মাত্র একের পর এক মাসুম ও নিষ্পাপ মানুষদের হত্যা করতে শুরু করলো।
এক কান দুই কান হতে হতে খবর এসে পঞ্চমার কাছে পৌঁছায় কিন্তু আজ যে পঞ্চমা সব শক্তি তার মেয়েকে অর্পণ করবে এই সময় সে কিছুতেই এটার ব্যবহার করতে পারবে নাহ তাছাড়া আজ যদি চন্দ্রাবতী এই শক্তি অর্জন করে তাহলে সে অনেক দূর্বল থাকবে ফলে কালো জাদুকররা খুব সহজেই তাকে হারিয়ে এই শুভশক্তি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে যাবে।
পঞ্চমা:- চন্দ্রাবতী এদিকে এসো..
চন্দ্রাবতী:- হ্যাঁ মা বলো..?
পঞ্চমা:- তোমাকে সেদিন যে ১০জন কালো জাদুকরের কথা বলেছিলাম ওরা মুক্তি পেয়ে গেছে
চন্দ্রাবতী:- কিন্তু কিভাবে..? তুমি যে বলেছিলে ওদের তোমার দৈব শক্তি দ্বারা বন্দী করে রেখেছো তাহলে কিভাবে মুক্তি পেলো..?
পঞ্চমা:- সেটাই তোহ বুঝতে পারছি নাহ, কে এমন কাজ করলো আর কিভাবে সে তাদের খোঁজ পেলো, যাই হোক তুমি আমার কথা মনোযোগ সহকারে শুনো...
চন্দ্রাবতী:- হ্যাঁ বলো...
পঞ্চমা:- সাক্ষী! সাক্ষী! আবির্ভূত হও আজ এই পৃথিবীকে তোমার প্রয়োজন, মানব জাতি ও শুভ শক্তির তোমাকে প্রয়োজন।
তখন ওই ঘরে একটা ছায়ামূর্তি এসে হাজির হয়....
পঞ্চমা ওই ছায়ামূর্তিটির মাথায় হাত রাখলো এবং সাথে সাথে ছায়ামূর্তিটি এক বিশাল সাপ হয়ে গেলো তারপর পঞ্চমা নিজের সমস্ত শক্তি ও চন্দ্রাবতীর ভেতরে থাকা সুদ্ধ ভূমিষ্ট হওয়ায় দৈবকোষ একটি পাথরের মধ্যে সমর্পণ করে ওই সাপটির কাছে দিয়ে দেয় এবং বলে....
পঞ্চমা:- এই পৃথিবীতে চন্দ্রাবতী আবারও ফিরবে নিজের অপূর্ণ শক্তিকে পূর্ণতা দিতে ততদিন এই শক্তি তোমার হেফাজতে রাখবে, মনে রেখো এই শক্তির উপর যেনো কোনো আচ নাহ আসে।
কালে কালে বহু বিপদ আসবে তোমার তার সম্মুখীন হতে হবে তারপরও হাল ছাড়তে পারবে নাহ।
এই কালো জাদুকরদের এই যুগে কে বিনাশ করবে তা আমি জানি নাহ কিন্তু এই কালো জাদুকরদের কাছে চন্দ্রাবতীকে বিনাশ হতে হবে।
তাতে আমার আফসোস নেই, তারপরও যেনো ওদের হাতে এই শুভ শক্তি নাহ যায়।
তারপর সাক্ষী ওই পাথরটি নিজের মধ্যে নিয়ে ওখান থেকে চলে যায়।
চন্দ্রাবতীও নিজের কক্ষে চলে গেলো, হঠাৎ সে লক্ষ করে তার সারা ঘরে আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে।
কিন্তু কে এমনটা করলো..?
কার এমন দুঃসাহস.?
তখনই চন্দ্রাবতীর কক্ষে আয়াশ এসে হাজির...
চন্দ্রাবতী:- আয়াশ আমি এখানে আটকে গেছি আমাকে বের করো...
আয়াশ:- হা!হা!হা! কোথায় গেলো তোমার সেই পঞ্চশক্তি..? তোমার পঞ্চশক্তিকে বলো তোমাকে রক্ষা করতে..?
চন্দ্রাবতী:- আয়াশ...
আয়াশ:- আমি তোমাকে আগেও বলেছিলাম তোমার আর আমার মাঝে আমি কাউকেই সহ্য করতে পারবো নাহ কিন্তু তুমি বার বার তোমার মায়ের শক্তিকে টেনে এনেছিলো কোথায় গেলো তোমার ওই শক্তি আজ তোমাকো রক্ষা করতে বলো..?
ধীরে ধীরে আগুন বাড়তে থাকে কিন্তু আয়াশ চন্দ্রাবতীকে বাঁচাবে নাহ সে বুঝে গেছে।
হঠাৎ চন্দ্রাবতীর কক্ষে আরো ১০জন কালো পোশাক পড়নে লোক এসে হাজির তাদের কারো মুখ দেখা যাচ্ছিলো নাহ।
-- তুই আমাদের মিথ্যা বলেছিস..?
এই মেয়ের মধ্যে কোনো পঞ্চশক্তি নেই..?
পঞ্চমা, তুই আর এই মেয়ে মিলে আমাদের বোকা বানিয়েছিস এই মেয়ে তোহ মরবেই সাথে তুইও মরবি..!
চন্দ্রাবতী:- আয়াশ! তার মানে তুমিই ওদের এখানে এনেছো..?
আয়াশ:- হ্যাঁ, আমিই ওদের এনেছি তোমার আর তোমার ওই পঞ্চশক্তির উপর আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম তাই এটার একটা সুরাহা বের করেছিলাম।
চন্দ্রাবতী:- কিন্তু! তুমি ওদের খোঁজ পেলে কোথায়..?
আয়াশ:- ওইদিন রাতে তুমি আর তোমার মা যখন ওদের বিষয়ে কথা বলছিলে তখন আড়াল থেকে আমি সবটাই শুনছিলাম। কিন্তু এখন দেখি তুমি আর তোমার আমার সাথে এমনকি এই রাজ্যের সবার সাথে বিশ্বাসঘতকা করলে, কোথায় তোমার সেই পঞ্চশক্তি..? সব মিথ্যা সব!
-- আমাদের মিথ্যা বলার অপরাধ করেছিস তুই, তোকে তোহ শাস্তি পেতেই হবে।
এই বলে ওরা আমাদের দুইজনকেই আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলে।
--------------
সবকিছু বলা শেষ আমিও কান্না করতে শুরু করি.....
সাক্ষী:- কান্না করছো কেনো..?
আমি:- তোহ কি করবো বলো..? যে স্মৃতি এতগুলো বছর অজানা ছিলো সেই সব স্মৃতি আজ আমার মনে ঝড় তুলে দিয়েছে আর এদিকে আমার দুইজন কাছের মানুষের মৃত্যু লাশ আমারই চোখের সামনে পরে আছে.!
আমার কি দোষ আমি কেনো শাস্তি পাচ্ছি..?
সাক্ষী:- এটা শাস্তি নাহ এটা প্রশান্তি, মনে রেখো সোনা পুড়তে পুড়তেই খাটি হয় আর তুমিও পুড়তে পুড়তে খাটি হবে।
আমি:- ওদের এই অবস্থার কথা বাসায় জানাবো কিভাবে..?
কোন মুখে সবার কাছে সত্যিটা বলবো...?
-------------------------
--চিশতি ব্যাটা....
আমি:- কে..? ফুফাজি তুমি.....
দৌড়ে গিয়ে ফুফাজিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলি....
আমি:- ফুফাজি! ফুফাজি তাইমন ভাইয়া...
হঠাৎ ফুফাজি আমার পেটে ছুড়ি দিয়ে একটা আঘাত করে....
আমি:- ফুফাজি...?
ফুফাজি:- আমি সবটা জানি! আরে আমিই তোহ ওই ১০জন কালো জাদুকরের মধ্যে একজন।
আমি যদি আগে জানতাম আমার ছেলেই তোর আগের জন্মের প্রেমিক তাহলে খেলাটা ঘুরিয়ে দিতাম...
কিন্তু কি করার বল, ভবিষ্যৎ তোহ আর সবাই বলতে পারে নাহ, তোর জন্মের জন্য আমরা বহু অপেক্ষা করেছি, তোর পিপি থেকে শুরু করে তোর বড় বোন, তারপর তুই কেউই আমাদের সন্দেহ থেকে রক্ষা পায়নি.!
কিন্তু আমরা কখনো শিওর ছিলাম নাহ কে আসল চন্দ্রাবতী অথচ! অথচ! অথচ! আজ আমি চন্দ্রাবতীর সামনে দাঁড়িয়ে আছি হা!হা!হা!
ওইযে ওই সাক্ষী ও আমাদের সবাই বার বার ধোঁকা দিয়েছে, প্রথমে তোর পিপির পিছনে ঘুরঘুর করে আমাদের সন্দেহ তোর পিপির দিকে করায় কিন্তু তোর পিপি আসল চন্দ্রাবতী নাহ।
ও যে মেহেনাকার পিছনে ঘুরঘুর করতো এটা তোহ আমার ভাই নাহ থাকলে জানতেই পারতাম নাহ, আমার ভাইয়ের সন্দেহের জন্যই আমি মেহেনাকাকে বিয়ে করি কিন্তু আমি প্রতারিত হই।
ওহ্ তোকে তোহ বলাই হয়নি আমার ভাই কে...?
আমার ভাই হচ্ছে তোরই চাচ্চু আমজাদ আলী।
আমি:- কি!
[যে বোন আমাকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিলো তার বাবা একজন কালো জাদুকর, কি বলবো আজ আমি বেঁচে থেকেও যেনো মৃত, কাদের এতদিন আপন ভেবেছিলাম, আমার চাচ্চু নিজের আপন বোনের উপর সন্দেহ করে তার জীবনটাও নষ্ট করেছে..? তাহলে আমার বড় বোনকে সন্দেহ করে তারও কি কোনো ক্ষতি করেছে..? কি হচ্ছে আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি নাহ, আমি আর সহ্য করতে পারবো নাহ আমি হয়তো মরে গেলে ভালো হতো]
ফুফাজি:- হ্যাঁ!
তখনই ফুফাজির পিছন থেকে চাচ্চু এক সয়তানি হাসি দিয়ে বেরিয়ে এলো...
চাচ্চু:- এবার আর তাড়াহুড়ো করবো নাহ, ধীরে ধীরে পঞ্চশক্তি দখল করবো আগের জন্মে তোহ রাগের বশে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সবটা বিফলে গিয়েছিলো কিন্তু এবার আর এমনটা হবে নাহ এবার খুব সুন্দর ও নিখুঁত ভাবে চাল চেলেছি আমরা।
তুই কল্পনাও করতে পারবি নাহ।
আমি:- আমার বড় আপুনির সাথে কি করেছো তোমরা...?
চাচ্চু:- বাড়ি ফিরে তোর মায়ের কাছেই জিজ্ঞেস করিস কি হয়েছিলো তোর বড় বোনের জীবনে...?
ফুফাজি:- তুই হয়তো ভাবছিস তুই তাইমনকে মেরেছিস বলে আমি তোকে ছুড়ির আঘাত করলাম কিন্তু আসলে তেমনটা নাহ, আমি তোকে আঘাত করেছি যাতে তুই এই ব্যথাটা অনুভব করিস আর তোর ভিতরে থাকা শক্তিটাকে আরো বৃদ্ধি করিস।
আর আমি তোহ ভেবেছিলাম তাইমন তোর বেস্ট ফ্রেন্ড তোর কোনো বিপদে যদি ও আগ বাড়িয়ে আসে তাহলে ওকেও রাস্তা থেকে ছেটে ফেলবো কিন্তু আমি ছাটার আগেই তুই ছেটে দিলি বাহ্
তখন চাচ্চু বাসায় কল করে কান্না করতে করতে বলে.....
চাচ্চু:- হ্যালো! এখানে একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে তাইমন আর রুহানি আর বেঁচে নেই কিন্তু খোদার অশেষ মেহেরবানিতে চিশতি বাবা বেঁচে আছে..
আমরা কিছুক্ষণ পর ফিরছি.....
ফুফাজি:- যাহ, এবার তোর বাড়ি ফিরে যাহ, মনে রাখিস সামনে তোর বিশাল বড় যুদ্ধ হতে চলেছে আমাদের সাথে। আমরা ১০জন আর তুই একা পেরে উঠতে পারবি তোহ আমাদের সাথে..?
আমি:- একটা কথা মনে রেখো ফুফাজি, সয়তান যতই শক্তিশালী হোক নাহ কেনো পরাজিত তাকে হতেই হবে
আমি হাল ছাড়বো নাহ, আমার বিশ্বাস আছে শেষ হাসিটা আমিই হাসবো
ফুফাজি:- আচ্ছা দেখা যাবে....
তোর পিপির সাথে আমার বিয়ের কাহিনিটা শুনবি নাহ...?
ওই সয়তান সাক্ষী কোথা থেকে যেনো এসে মেহেনাকার পিছন পিছন থাকতো।
এটা তোর চাচ্চু আমজাদ আলী লক্ষ করে তারপর আমাকে জানায় আমিও প্রথম এটা স্বাভাবিক নিয়েছিলাম কিন্তু আস্তে আস্তে যেনো ওই সাপের আনাগোনা বেড়ে যায়।
তারপর আমজাদ আর আমি বুদ্ধি করি মেহেনাকাকে আমি বিয়ে করে ওকে নিয়ে পাকিস্তানে চলে যাবো তারপর দেখবো ওর মধ্যে কোনো দৈব শক্তি পাওয়া যায় কি নাহ কিন্তু ওর সাথে বিয়ের পর ওর মধ্যে কোনো দৈব শক্তির প্রকাশ পায়নি।
বরং ওই সাপের আনাগোনা তোর বড় বোনের দিকে চলে যায়......
আমি:- বড় আপুনির সাথে কি করেছো বলো নাহ প্লিজ...?
চাচ্চু:- এখন এসব বলার সময় নাহ চলো বাড়ি ফিরতে হবে
আমি:- নাহ আমি তোমার সাথে কোত্থাও যাবো নাহ
চাচ্চু:- তোমাকে আমার সাথেই ফিরতে হবে, তাড়াতাড়ি চলো
কিছু জোড় করে চাচ্চু আমাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন.....
বাসায় এসে দেখি সবাই কান্নাকাটি করছে, আমরা তাইমন আর রুহানির লাশ নিয়ে ফিরেছি দেখে বাড়িতে যেনো আরো বেশি কান্নার ঝড় উঠে গেলো।
সবার কান্না ও ভেতরে থাকা হাজারটা প্রশ্ন সাথে চাপা কষ্ট আটকাতে নাহ পেরে আমিও কান্না করতে থাকি।
কি করবো এখন কান্না করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
তাইমনের মাথা বিহীন লাশ এবং রুহানির আধ পোড়া লাশটি যখন গাড়ি থেকে নামানো হলো তখন বাড়িতে যেনো এক দুঃখের বন্যা বয়ে গেলো।
সবার চোখের বেদনার অশ্রু, কাকিয়া তোহ বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে।
আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে"আমি অপরাধী, আমার জন্যই এসব হয়েছে, কেনো এসেছিলাম বাংলাদেশে, কেনোই বা আবার জন্ম নিয়ে ফিরলাম, আমার সাথে জড়িত প্রত্যেকটা প্রিয় মানুষ প্রত্যেকটা কাছের মানুষ এতটাই আঘাত করছে যেগুলো সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নাহ তার সাথে রয়েছে নিজের হাতেই তাদের শাস্তি দেওয়া ও তাদের চেন মুখগুলো অচেনায় পরিবর্তন হওয়ার কষ্ট "
তখনই মনে হলো পিপিকে হয়তো এখনো এসব জানানো হয়নি, যদি পিপি জানতে পারে তখন তার কি অবস্থা হবে..?
সত্যি আমি যেনো আজ প্রকৃতির কাছে হেরে যাচ্ছি, নিজেকে সামলানোর ক্ষমতাটুকু আমার নেই।
গাড়ি থেকে নেমে হাঁটু গেড়ে মেইন গেটের সামনে বসে বসে এক নির্বাক দৃষ্টিতে কান্না করে যাচ্ছি, আমি কেনো সবার মতো চিৎকার করে কান্না করতে পারছি নাহ।
সময় হয়ে এলো রুহানি আর তাইমনকে গোসল করানোর, হাল্কা তাকিয়ে দেখলাম বাড়ির দুই পাশে মশারী টানিয়ে তার চারিদিকে কাপড় পেচিয়ে ওদের দুইজনকে গোসল করাচ্ছে।
যে ভাইয়ের সাথে ছোট থেকে বড় হলাম সে ভাই আজ আমাকে একা রেখে চলে গেলো।
শুধু তাই নাহ, তাকে আমিই মেরেছি এমন সত্যি কার কাছে বলবো..?
আমি খুনি একটা নাহ ২টা খুন করেছি, রুহানি আমার জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিলো ওকেও আমিই খুন করেছি হ্যাঁ! হ্যাঁ! ওকে আমিই মেরেছি কারণ ও আমার জন্য ওর জীবন দিয়েছে।
গোসল করানো শেষে দেখলাম দুইজনকে খাটিয়ার মধ্যে শুইয়ে দিলো।
আমি এখনো বাড়ির ভিতরে ঢুকিনি, সেই কখন থেকে বাড়ির মেইন গেটের সামনে বসে আছি।
হঠাৎ কেউ আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললো.....
সাইফ:- যা হওয়ার হয়ে গেছে শালাবাবু, চলো লাশ দাফন করতে যেতে হবে....
আমি উঠে জিজুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলাম।
কি করবো যাদের সাথে এত সুন্দর সুন্দর মুহুর্ত কাটিয়েছি কি করে আজ তাদের লাশ দাফন করতে যাবো।
জিজু আমাকে কিছুটা শান্তনা দিলো, তারপর তাইমন ভাইয়ার লাশের খাটিয়া আমি, জিজু, হাসমি আর এলাকার একজন ছেলে কাঁধে করে কবরস্থানের উদ্দেশ্য রওনা হলাম।
অপর খাটিয়াটি যেটাতে রুহানির লাশ ওইটা আব্বু, চাচ্চু, ফুফাজি আর রুহানির বড় মামা কাওসার আহমেদ কাঁধে করে কবরস্থানে নিয়ে আসছে।
কিছু রাস্তা যাওয়ার পর আমরা লাশের খাটিয়া নিচে নামিয়ে দিলাম, এবার এলাকার অন্য ৪জন এসে খাটিয়াটি নিজেদের কাঁধে তুলে নিলো, আমি ঘাড় নেড়ে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম রুহানির খাটিয়াটিরও লোক পরিবর্তন হলো।
আবারও কিছু রাস্তা যাওয়ার পর আমরা আগের ৪জন খাটিয়া নিজেদের কাঁধে তুলে নিলাম।
এবার আর কোথাও খাটিয়া নামানো হলো নাহ, সোজা কবরস্থানের পাশে যে মাদ্রাসার মাঠেটি আছে ওখানে নামানো হলো।
বাজারের মেইন রোডের পাশে কবরস্থান, আর কবরস্থানের পিছনে একটা মাদ্রাসা।
অন্যদিকে আমাদের বাড়ির দিক থেকে মাটির রাস্তার পর একটা বিশাল মাদ্রাসা, আর মাদ্রাসার পিছনে কবরস্থান।
মাদ্রাসার মাঠে রুহানি আর তাইমন ভাইয়ার লাশ দু'টো রাখা হলো।
প্রথমে জানাজা দেওয়ার জন্য তাইমন ভাইয়ার লাশটি সামনে আনা হলো এবং রুহানির লাশটি সাইডে রাখা হলো।
তাইমন ভাইয়ার জানাজা শেষ হলে রুহানির জানাজা দেওয়া হলো।
তারপর ওদের খাটিয়া দু'টো কবরস্থানে নিয়ে গেলাম।
কবরস্থানের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি কবরে দুই দিকে দুইটা নতুন কবর খনন করা হয়েছে বুঝলাম এই দুটেই তাইমন ভাইয়া আর রুহানির কবর।
তারপর সবাই বলাবলি করছে, ডান পাশের কবরটা রুহানির আর বাম পাশের কবরটা তাইমন ভাইয়ার।
আমি এক এক করে দুইজনের কবর দু'টোই দেখলাম, খেয়াল করলাম রুহানির কবরটা খুব সুন্দর হয়েছে এত সুন্দর কবর হয়তো কখনো দেখিনি এর আগে অপরদিকে তাইমন ভাইয়ার কবরটি যেনো বার বার ভেঙ্গে পড়ছিলো যার ফলে কবরের আকৃতিটা খুব খারাপ দেখাচ্ছে।
সবশেষে দুইজনকেই দাফন করা হলো, সবাই আস্তে আস্তে চলে যেতে লাগলো কিন্তু আমার মন মানছে নাহ এখান থেকে যেতে।
সবাই চলে গেলো আমি একা কবরস্থানে বসে বসে কান্না করছি।
তখনই কেউ একজন আমার পিছন থেকে কাঁধে হাত দেয়......