পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২১
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২১ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২১
চিত্রা আপুনির সাথে কথা বলে আম্মু আব্বুকে খুঁজতে থাকে কিন্তু আব্বুকে সারা বাড়ি ডেকেও খুঁজে পাচ্ছিলাম নাহ......
হুট করে দেখি আব্বু সামিদ চাচ্চুকে নিয়ে হাজির।
আম্মু:- কি গো! তুমি সামিদ ভাইকে কখন আনতে গেলে..?
আব্বু:- রূপার মা যখন তোমাকে সামিদ ভাইকে আনার কথা বলছিলো তখন আমার মনে হলো উনাকে ডেকে আনাটা প্রয়োজন তাই কাউকে কিছু নাহ জানিয়ে আমি সামিদ ভাইকে আমার সাথে করে নিয়ে এসেছি।
তারপর দেখলাম সামিদ চাচ্চু হাসমি ভাইয়ার মাথার পাশে গিয়ে বসলো।
হাসমি ভাইয়ার হাতের শিরা ধরে কি যেনো করলেন তারপর আবার চোখগুলো টেনে টেনে দেখলেন।
তারপর আম্মুকে বললেন "একটা কাচের গ্লাসে করে তাকে পানি দিতে"
আম্মু পানি আনতে যাবে তখনই চিত্রা আপুনি দৌড়ে গিয়ে পানি নিয়ে এলো কিন্তু চিত্রা আপুনি ভুল করে প্লাস্টিকের মগে করে পানি নিয়ে আসে, এতে সবাই একটু রাগান্বিত হলো আর সামিদ চাচ্চুও চিত্রা আপুনির দিকে ভ্রু কুচকে তালাকো।
তারপর আম্মু গিয়ে কাচের গ্লাসে করে পানি নিয়ে আসে।
সামিদ চাচ্চু আমাদের সামনে তার ব্যাগ থেকে একটা বই বের করলেন, বইটা মিনি সাইজের এই যেমন ধরো ৫-৬ ইঞ্চি হবে বইটা।
দেখতে বই মনে হলেও এটা আসলে কোনো বই ছিলো নাহ, হয়তো তাদের তন্ত্র বিদ্যার কোনো খাতা ছিলো ওইটা।
যাই হোক, সামিদ চাচ্চু ওই বইটাতে লাল কলম দিয়ে একে একে ৩টা পৃষ্ঠায় আরবিতে কি যেনো লিখলো তারপর ওই পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ে গ্লাসে থাকা পানিতে ভিজিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে কাগজগুলো পানিতে তলিয়ে গেলো।
তারপর সামিদ চাচ্চু হাসমি ভাইয়ার বাম হাতে কনিষ্ঠ আঙ্গুলের নখে স্বজোড়ো চাপ দিয়ে ধরেলেন এবার কিছুটা অবাক হলাম, হাসমি ভাইয়ার নখে চাপ দেওয়ার সাথে সাথে গ্লাসে তলিয়ে যাওয়া কাগজগুলো নিজে থেকে ভেসে উঠলো আর সেই ভেজা কাজগুলো এখন দেখে মনে হচ্ছিল একদম শুকনো।
সামিদ চাচ্চু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন...
সামিদ:- তেমন কিছু হয়নি, একটু ভয় পেয়েছে এই আরকি। সমস্যা তেমন জটিল নাহ কবরস্থান থাকা কোনো এক বদ জ্বিনের নজর পড়েছে, আমি ঝাড় ফুক আর পানি পড়ে দিয়ে যাচ্ছি আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।
যদি তারপরও ঠিক নাহ হয় তাহলে ওকে নিয়ে বৈঠক বসাতে হবে [গ্রাম অঞ্চলে যেকোনো কবিরাজের দ্বারা শরীরে জ্বীন হাজির করাকে বৈঠক বলে]
এখন আমি কিছু মন্ত্র পড়ে ওকে ফুক দিবো তার জন্য ওর মায়ের পেটের ভাইকে ওর সাথে থাকতে হবে আর বাকিরা সবাই বাইরে যান।
সামিদ চাচ্চুর কথা মতো সবাই রুম থেকে বেড়িয়ে গেলে সামিদ চাচ্চু আমাকে ডেকে নিয়ে বলে....
সামিদ:- হাসমির পাশে বসে ওর শরীরটা একটু শক্ত করে ধরো যাতে ওর সাথে থাকা বদ জ্বিনটা যাওয়ার সময় ওর কোনো ক্ষতি করতে নাহ পারে।
আমি মন্ত্র পড়া শুরু করলে যখন হাসমির শরীর কেঁপে উঠবে তখন ওই গ্লাসে থাকা পানি কিছুটা ওকে খাইয়ে দিবে।
সামিদ চাচ্চুর কথা মতো আমি হাসমি ভাইয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি আর সামিদ চাচ্চু বিরবির করে দুরুদ আর মন্ত্র যাই বলে থাকি উনি পড়তে থাকে।
আমার কেমন যেনো লাগছিলো, কারণ আমি অনেক হরর মুভিতে দেখছিলাম জ্বিন হাজির করার রিচুয়ালসগুলো আলাদা হয়ে থাকে কিন্তু এত সাধারণ ভাবে জ্বিন হাজির করতে আজ প্রথমবার দেখছি।
হয়তো সে এসব বিষয়ে অনেক পারদর্শী এজন্যই এত সহজে কাজটা করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বেশ কিছুক্ষণ সামিদ চাচ্চু বিরবির করে কি যেনো পড়ছে আর হাসমি ভাইয়ার উপর দম ফুক করছে, অনুভব করলাম তার দম ফুকের হাল্কা মৃদু হাওয়া আমার শরীরেও এসে লাগছিলো। যাই হোক এরপর হাসমি ভাইয়ার শরীর কাঁপতে শুরু করতে আমি তাড়াতাড়ি করে ভাইয়াকে পানি পান করাই।
পানি পান করানোর সাথে সাথে ভাইয়া বমি করে দিলো, কিন্তু তার বমির সাথে কালো কালো জমাট বাধা রক্তের চাকা পড়ছিলো যা দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই।
সামিদ:- যাক, এখন থেকে হাসমি সম্পূর্ণ সুস্থ। পানির গ্লাসটা দাও আমার হাতে।
আমি গ্লাসটা সামিদ চাচ্চুর হাতে দেওয়ার পর তিনি গ্লাসে থাকা ওই কাগজগুলো তুলে নিজের পকেটে ভরে নিলেন। আর সবাই ভেতরে ডেকে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে..
"হাসমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ, জ্বিনটা তেমন শক্তিশালী ছিলো নাহ যার জন্য সে অল্পতেই ওর শরীর ছেড়ে পালিয়েছে, আমি পানি পড়া দিয়ে যাচ্ছি নিয়ম করে খাইয়ে দিও এরপর থেকে আর কোনে সমস্যা হবে নাহ"
"আর কুরেশি সাব তোমাকে বলি, ছেলের বয়স প্রায় ত্রিশের উর্ধ্বে এবার বিয়ে দাও আজ যদি ওর বিয়ে হয়ে যেতে তাহলে এমনটা হতো নাহ"
আব্বু:- আপনি তোহ সবটাই জানেন, কম চেষ্টা তোহ করিনি ওর বিয়ের জন্য কিন্তু কোনো ভাবেই বিয়ে হয় নাহ, বিয়ে ঠিক হয়ে গেলেও তার আগের দিন ভেঙ্গে যায় নয়তো বিয়ের দিন বউ শূন্য বরযাত্রী নিয়ে ফিরতে হয়।
সামিদ:- যাই হোক, আমিও তোহ কম চেষ্টা করিনি তোমার ছেলেকে ঠিক করার কিন্তু কি করার যে এই কাজটা করেছে সে খুব শক্তপোক্ত করেই কাজটা করেছে। আমি তাহলে এখন যাই বুঝলে, কাল আবার ভাদ্র মাসের ভেলা ভাসানীর জন্য এক জায়গায় যেতে হবে। আর হ্যাঁ তোমার ছেলে এখন সুস্থ আছে আর কোনো চিন্তা নেই।
আব্বু:- ধন্যবাদ সামিদ ভাই, হাদিয়া কত দিবো..?
সামিদ:- হাদিয়া বলতে, সামনের বছর আমার আসনে যখন মেলা হবে [ওই সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে তাদের জ্বিনে ধরা রোগী নিয়ে] তখন তোমার খুশি মতো কিছু দিও।
আব্বু:- আচ্ছা ঠিক আছে, এগিয়ে দিতে হবে.?
সামিদ:- নাহ! নাহ! আমি যেতে পারবো।
তারপর সামিদ চাচ্চু চলে গেলেন।
সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমোর জন্য চলে গেলো, আমার তখনও শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল।
যাই হোক, রাতে আব্বু আম্মু হাসমি ভাইয়ার সাথেই থাকবে কারণ রাতে যদি ভাইয়া আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন তোহ কেউ টের পাবে নাহ। সামিদ চাচ্চু তোহ বলে গেলেন আর ভয়ের কিছু নেই তারপরও বাবা মায়ের মন কি মানতে চায়।
এদিকে আমার শরীর দূর্বল দেখে আব্বু জিজুকে বললো আমার সাথে ঘুমতে, জিজুও রাজি হয়ে গেলো।
চিত্রা আপুনি ওর বাচ্চাদের নিয়ে আমার পাশের রুমেই ঘুমতে চলে গেলো, যেখানে ওরা আগে থাকতো মানে যখন ওরা বেড়াতে আসতো তখনকার কথা বললাম আরকি।
আব্বু আম্মু হাসমি ভাইয়ার সাথেই থেকে যায়, চিত্রা আপুনিও ওর মতো করে চলে গেলো, আমি আর জিজুও আমার রুমে চলে এলাম।
আমার রুমে আসার পর আমি আর জিজু কিছুক্ষণ হাসমি ভাইয়ার অসুস্থতা নিয়ে গল্পগুজব করলাম, আবার কিছুক্ষণ রুহানি আর তাইমনের কথা মনে করে মন খারাপ করলাম। এসব নিয়ে কথা বলতে বলতেই আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। জিজু দেওয়ালের পাশে ঘুমোয় আর আমি ফ্লোরের পাশে।
হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙ্গে কেমন একটা ফুস ফুস আওয়াজে। আওয়াজটা মনে হচ্ছে আমার মাথার উপরে খাটের নিচ থেকে আসছে!
আমি দেখার জন্য নত হয়ে খাটের নিচে তাকিয়ে দেখি...
একটা ধবধবে সাপ, আমি ভয়ে সোজা হয়ে বসে পড়ি। দেখলাম সাপটা খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে এসে আস্তে আস্তে খাটের উপরে উঠে। কিছুক্ষণ মনে হলো আমি আর সাপটা চোখাচোখি করলাম আমিও অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি সাপটার দিকে সাপটাও তাকিয়ে আছে আমার দিকে। কিন্তু এই চাহনি কোনো মিত্রতার চাহনি নাহ দেখে মনে হচ্ছে এটা আমাদের কোনো এক হিংসা প্রতিহিংসার চাহনি।
এভাবেই তাকিয়ে থাকার এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই সাপটা যেনো এক প্রকার উড়ে এসে আমার মুখের ভিতর ঢুকে যায়। সাপটা আমার মুখের ভিতর ঢুকে যাওয়ায় যেনো মনে হচ্ছে আমি দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছি। তখনই কেউ আমাকে সজোরে ধাক্কা দিতে থাকে, বুঝলাম জিজু ধাক্কা দিচ্ছে।
জিজুর ধাক্কা পেয়ে যেনো আমার ঘোর কাটে। তার মানে আমি এতক্ষণ স্বপ্ন দেখেছিলাম..?
সাইফ:- কি হলো চিশতি..? কি হয়েছে তোমার..? ঘুমের মধ্যে এমন ছটফট করছো কেনো ঠিক আছো তোহ তুমি..?
আমি জিজুর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি নাহ কারণ আমার শ্বাসকষ্ট যেনো অনেক বেড়ে গেছে।
আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে, শ্বাস নেওয়ার জন্য পাগলের মতো ছটফট করতে থাকি কিন্তু এক ফোটা নিশ্বাস ফেলতে পারছিলাম নাহ, মনে হচ্ছিল আমি মারা যাচ্ছি।
জিজু আস্তে আস্তে আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়। আমাকে পানি খেতে দেয়, আমি কোনো রকম পানি পান করলাম এখন মনে হচ্ছে কিছুটা স্বস্তি বোধ করছি।
সাইফ:- এখন ঠিক আছো আছো তোহ..?
চিশতি:- হ্যাঁ! এখন অনেকটা বেটার ফিল হচ্ছে।
সাইফ:- তাহলে ঘুমিয়ে পড়ো।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি জিজু পাশে নেই, তার মানে জিজু হয়তো ঘুম থেকে অনেকক্ষণ আগেই উঠে গেছে। আমিই দেড়ি করে ঘুম থেকে উঠলাম।
ঘড়ির দিতে তাকিয়ে দেখি ১১:১৮। এত বেলা অব্দি ঘুমিয়েছি অথচ কেউ আমাকে ডাকেনি কেনো..?
রুহানি আর তাইমনের মৃত্যুর পর এখন ঠিক মতো নামাজটাও পড়া হচ্ছে নাহ, তার উপর এখন আবার হাসমি ভাইয়াও অসুস্থ নামাজের জন্য কে-ইবা ডেকে নিয়ে যাবে।
রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে দাঁড়াতেই আম্মু বলে....
আম্মু:- এখন কেমন আছিস..? সাইফ বললো রাতে নাকী শ্বাসকষ্ট হয়েছিলো..?
চিশতি:- হ্যাঁ ওই আরকি! এখন ঠিক আছি। ভাইয়া কেমন আছে..?
পিছন থেকে ভাইয়া বলে উঠে...
হাসমি:- আমি একদম ঠিক আছি, তুই খেয়ে গোসল করে নে তোকে নিয়ে আমি আর দুলাভাই ডাক্তারের কাছে যাবো।
ভাইয়াকে দেখে খুব অবাক লাগলো, এত তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে গেলো.! সামিদ চাচ্চু এতটা পারদর্শী এসব বিষয়ে আম্মু তোহ এসব সম্পর্কে আমাকে কিছুই বলেনি.! যাই হোক ভাইয়াকে দেখে মনে হচ্ছে একদম সুস্থ হয়ে গেছে, যাক ভালোই হয়েছে।
তখনই ভাইয়ার কাঁধে জিজু হাত রেখে বলতে থাকে....
সাইফ:- হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও আজকে তোমাকে বাংলাদেশের আরো অনেক কিছু ঘুরিয়ে দেখাবো। জানো আজকে তোমাকে নিয়ে কোথায় যাবো..?
চিশতি:- নাহ! কোথায় যাবো আমরা..?
সাইফ:- আজকে ঢাকা যাবো, শেরেবাংলা জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট জেনেটিক্সে যাবো, আমার মনে হচ্ছে তোমার অ্যাজমার কোনো প্রবলেম আছে! ওখানকার ডাক্তার এসব বিষয়ে খুব ভালো যদি বেশি সিরিয়াস কন্ডিশান হয় তাহলে কয়েকদিন হসপিটালে এডমিট রাখবো।
যাও তাড়াতাড়ি খেয়ে দেয়ে রেডি হয়ে আসো।
ডাইনিং থেকে আম্মুর ডাক আসে....
আম্মু:- আয়! চিশতি, খেতে আয়!
আম্মুর কাছে যাওয়ার জন্য কয়েক পা হাঁটার পর পরই কেউ পিছন থেকে আমার ঘাড়টা খুব শক্ত করে ধরে রেখেছে মনে হচ্ছিল। আমি পিছনে তাকিয়ে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমার হার্টবিট যেনো বাড়তে শুরু করছে, মনে হচ্ছে আমি এখনই জ্ঞান হারাবো, আমার পায়ের নিচের মাটি যেনো নিমেষেই খসে পড়ছে।
এটা কি আদোও সত্যি নাকী আমার মনের ভুল বুঝতে পারছিলাম নাহ, আমি চিৎকারও দিতে পারছিলাম নাহ। আমার চোখগুলো বড় বড় হয়ে যাচ্ছে ঘাড়ের রগগুলো সটান হয়ে যাচ্ছে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে, টপটপ করে মাথা থেকে ঘাম বেয়ে বেয়ে পড়ছে।
আমি যা দেখছি তা কি সত্যি এখনো বুঝতে পারছি নাহ!
পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি সেই আধপোড়া রুহানি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সে আমার কাঁধ এমন ভাবে ধরে রেখেছে মনে হচ্ছে আমার হাতটা ছিঁড়ে নিয়ে যাবে।
আমি তার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আর রুহানি আমার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে আছে।
রুহানির মুখে শুধু তার চোখগুলোই অক্ষত ছিলো বাকি চেহারাটা সম্পূর্ণ বিভৎস ভাবে পুড়ে গিয়েছিলো, তাকে দেখতে এতটাই কুৎসিত লাগছিলো যে, আমার জায়গায় যে কেউ থাকলে হয়তো সহ্য করতে পারতো নাহ।
সে আমার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে থেকে বলে "চল আমার সাথে" এই বলে রুহানি কাল রাতে দেখা সেই সাদা সাপ হয়ে আমার মুখের ভিতর ঢুকে যায়।
ওই সাদা সাপটা আমার মুখে প্রবেশ করার পর যেনো আমার শ্বাসকষ্ট আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেলো।
এবার মনে হচ্ছে আমি নিজেকে আর সামলাতে পারবো নাহ।
আমি মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছি যন্ত্রণায়, মনে হচ্ছে এই যন্ত্রণার চেয়ে মৃত্যুও ভালো।
সবকিছু যেনো আমার কাছে ঘোলাটে মনে হচ্ছে, আমি কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম নাহ আবার বোধহয় দেখতে পাচ্ছিলাম, চারিদিকে চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম কিন্তু কারা চিৎকার করছে বুঝে উঠতে পারছিলাম নাহ। [যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে শুধুমাত্র তারাই এই কষ্টটা উপলব্ধি করতে পারবে]
বার বার মনে হচ্ছে আমি বোধহয় এখনই মারা যাবো।
এই অবস্থায়ও পাশ থেকে কানে একটা শব্দ ভেসে এলো...
-- একবার সামিদ ভাইকে ডেকে আনো।
কে বলছিলো এই কথাটা আমি আজও জানতে পারিনি, তখনও মনে হচ্ছিল সামিদ চাচ্চু এলে হয়তো তিনি হাসমি ভাইয়ার মতো আমাকেও সুস্থ করে দিবেন।
আমার বার বার মনে হতে থাকে আমি এই যন্ত্রণা ভোগ করছি কেনো..?
এত যন্ত্রণার পরও আমি অজ্ঞান হচ্ছি নাহ কেনো..?
হয়তো অজ্ঞান হয়ে গেলে এই কষ্টটা অনুভব করতে পারবো, এই মুহুর্তে হয়তো অজ্ঞান হওয়াটা আমার জন্য খুব বেশি প্রয়োজন।
ইয়া আল্লাহ আমাকে অজ্ঞান করে দাও নয়তো এই কষ্ট থেকে মুক্তি দাও। আমি আর সহ্য করতে পারছি নাহ।
বেশ কিছুক্ষণ ছটফট করার পর কেউ একজন আবারও বলে..
- কি গোহ সামিদ চাচ্চু কি আসবে নাহ..?
- নাহ! উনি বললো কালকে হাসমিকে যে পানি পড়া দিয়েছে ওইটা খাইয়ে দিলতে, কারণ ওরা এক মায়ের পেটের সন্তান তাই একজনেরটা অন্যজন ব্যবহার করতে পারবে। তারপরও যদি ঠিক নাহ হয় তাহলে ওকে নিয়ে সামিদ ভাইয়ের বাসায় যেতে বলেছে....
এরপর আমাকে কিছু পানি পান করানো হলো, কিন্তু তারপরও আমার শ্বাসকষ্ট কমছিলো নাহ, এবার যেনো শ্বাসকষ্টের সাথে সাথে বুকের বাম পাশেও চিনচিন ব্যথা করছে। মনে হচ্ছে বুকটা ছিঁড়ে যাবে এক্ষুনি।
আমি যন্ত্রণায় চিৎকার করে কান্না করতে চেয়েও চিৎকার করতে পারছি নাহ, আমার অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
আমার শরীরের অবস্থা খারাপ দেখে বাসার মানুষ সামিদ চাচ্চুর বাসায় লোক পাঠায় সে যেনো একবার এসে দেখে যায় কিন্তু সে একই কথা বলে " আমাকে নিয়ে যেনো তার কাছে যায়" নয়তো সে আসবে নাহ।
তারপর হয়তো সবাই ঠিক করে আমাকে নিয়ে সামিদ চাচ্চুর বাসায় যাবে। মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে দেখলাম আমাকে ৩জন লোক ধরাধরি করে সামিদ চাচ্চুর কাছে নিয়ে গেলো।
আমারও কিছুটা স্বস্তি হচ্ছিল, সামিদ চাচ্চু যেহেতু হাসমি ভাইয়াকে সুস্থ করেছে সে নিশ্চয়ই আমাকেও সুস্থ করে দিবে। আমাকে নিয়ে যাওয়ার পর সামিদ চাচ্চু তাদের ঘরে নিয়ে যেতে বললো।
সবাই আমাকে নিয়ে তাদের ঘরে গেলো এরপর সামিদ চাচ্চু আমাকে একটু ঝাড় ফুক করলো, জানি নাহ উনি কি কি বলছিলো তবে আমার স্পষ্ট কিছু শব্দ মনে আছে, জানি নাহ কেউ বিশ্বাস করবে কি নাহ তারপরও শব্দগুলো শেয়ার করি [পার্ট-১৭ থেকে সত্যি ঘটনা শেয়ার হচ্ছে] শব্দগুলো কিছুটা এমন ছিলো "ওম: জাগে জাগে নম: জাগে মহাকালী মহাদেবায় নম: ওম: মাতালাক্সমী জামে মনসায়ে নম:" এসব মন্ত্রের বাইরেও আরো অনেক কিছু বলছিলো যেগুলো আমার পক্ষে মনে রাখা বা শোনা সম্ভব হয়নি।
[অনেকেই ভাববে এমন অবস্থায়ও কিভাবে কবিরাজের তন্ত্র মন্ত্রের দিকে মনোযোগ ছিলো, আগের দিন রাতে হাসমি ভাইয়াকে সুস্থ করতে দেখে আমার খুব বেশি কিউরিওসিটি হচ্ছিল আসলে উনি কি কি বললেন যে হাসমি ভাইয়া এত তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে গেলো এজন্য আমি এত কষ্টের মধ্যেও উনার উচ্চারিত মন্ত্র শোনায় ব্যস্ত ছিলাম]
যাই হোক উনি মন্ত্র বলে আমাকে দম ফুক করার পর আমি একদম সুস্থ হয়ে যাই।
উনি তেমন কিছু বললো নাহ আমার কেনো এমনটা হয়েছে, তবে সবাই বলাবলি করছিলো, "কাল রাতে হাসমি ভাইয়ার উপরে থাকা ওই জ্বিনটা যাওয়ার সময় আমার ক্ষতি করে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি"
তবে যাই সামিদ চাচ্চুর এলেম আছে নয়তো এত সহজে কেউ কিভাবে কোনো রোগীকে সুস্থ করতে পারে।
সামিদ চাচ্চু ঝাড় ফুকের আমি নিজেই পায়ে হেটেই বাসা অব্দি আসি।
[কি আমি একদম সুস্থ হয়ে গেছি তাই তোহ.? এত সহজেই সুস্থ হবো.! গল্প তোহ সবে মাত্র শুরু এরপর কি হবে সবটাই জানতে পারবে]