পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১৭
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৭ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১৭
সবাই চলে গেলো আমি একা কবরস্থানে বসে বসে কান্না করছি।
তখনই কেউ একজন আমার পিছন থেকে কাঁধে হাত দেয়......
আমি:- কে..?
হাসমি:- কিরে, বাড়ি যাবি নাহ? এখানে বসে কান্না করলে কি ওরা ফিরে আসবে..? চল বাড়ি চল!
ভাইয়ার সাথে বাড়ি ফিরে আসি, বাসায় ফিরে দেখি এখনো কান্নাকাটি করছে।
করবেই বা নাহ কেনো..?
জলজ্যান্ত দুইজন কম বয়সী ছেলে মেয়ে একদিনেই মারা গেলো।
সারাদিন কেউ কিচ্ছু খায়নি, এখানে নাকী কিসব নিয়ম আছে "বাসায় কেউ মারা গেলে নাকী নিজেদের বাড়িতে রান্না করে নাহ"
পাশের বাসা থেকে কারা যানো ভাত,মাংস, ডাল আর ভাজি দিয়ে গেলো কিন্তু কেউই মুখে খাবার তুলছে নাহ।
জিজু আর চিত্রা আপুনি সবাইকে বুঝিয়ে খাবার খাইয়ে তারাও নিজেরা বাড়ি ফিরে যায়।
ওইখানে নাকী আরো একটা নিয়ম আছে "মৃত বাড়িতে প্রথম রাত থাকলে একটানা ৪০ দিন ওই বাড়িতেই থাকতে হয়" এজন্য জিজু আর চিত্রা আপুনি চলে গেলো আর বলে গেলো পরদিন সকালে আবার আসবে।
পরদিন সকালে সবাই আবারও একত্রিত হলো,
আজে একত্রিত হওয়ার কারণ হলো দুইদিন পর তাইমন আর রুহানির রুহ্ মাগফেরাতের জন্য মিলাদের আয়োজন করা হবে সেই আয়োজনে কে কিভাবে সামিল হবে।
একে একে সবাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা দিলো, জিজু আমাদের তিনজনকে মেলায় ঘুরার জন্য ১০,০০০ করে টাকা দিয়েছিলো তার মধ্যে আমি মাত্র ২ হাজার খরচ করেছিলাম সেখান থেকে ৫হাজার টাকা ওদের মিলাদের আয়োজনে দিলাম।
---------------
---------------
আজ ওদের মৃত্যুর ৪দিন।
আজকে বাড়িতে বিশাল এলাহি আয়োজন করা হবে। ২৫শত মানুষের আয়োজন মুখের কথা নাহ।
বাড়িঘর মানুষ দিয়ে গমগম করছে, এত লোকের ভিড়ে আমার চোখ গিয়ে পড়লো বড় চাচ্চুর দিকে, দেখলাম উনি, ফুফাজিসহ আরো দুইজন মধ্যবয়স্ক লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন.!
উনাদের দেখে আম্মিকে জিজ্ঞেস করলাম......
আমি:- আম্মি ওই লোকগুলো কে.? আগে তোহ কখনো দেখিনি..?
আম্মু:- ওইযে তোর চাচ্চুর ডান পাশে যে লোকটি দাঁড়িয়ে আছে উনার নাম হাকিম আর তার পাশে যে লোকটি দাঁড়িয়ে আছে উনার নাম সামিদ৷ তাছাড়া ওরা হলো ফকির.!
আমি:- ফকির মানে.? উনারা ভিক্ষা করেন.??
আম্মু:- নাহ, যে সকল মানুষদের জ্বিন ভুতে ধরে ওরা তাদের টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা করে।
কিন্তু মানুষ ভালো কম খারাপটাই বেশি করে এক একটা জানোয়ার।
নিজের সয়তানি শক্তি বাড়ানোর জন্য ওরা প্রত্যেকটায় নিজেদের মাকে রক্ত বাণ মারে ফলে সবাই মারা গেছে
ওদের সাথে থাকতে থাকতে তোর চাচ্চুটাও জানোয়ার হয়ে গেছে।
আমি:- চাচ্চুর বিষয়ে আর বলতে হবে নাহ, উনার বিষয়ে সবটাই জানি!
আম্মু:- মানে.?
আমি:- নাহ, তেমন কিছু নাহ। চলো অনেক কাজ বাকি আছে।
সারাদিন কাজের ব্যস্ততায় ছিলাম, প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম যে আম্মির সাথে বড় আপুনির বিষয়ে কথা বলতে হবে।
থাক সমস্যা নেই, রাতে আম্মির কাছে জিজ্ঞেস করবো।
মেহমানদের সবাইকে আপ্যায়ন করে খাওয়ানো হয়ে গেছে এবার বাকি রইলাম আমরা বাড়ির লোকজন।
সবাই একসাথে বসে খেয়ে ঝামেলা মুক্ত হলাম।
ফুফাজি:- ভাগ্যিস একটা কাজে বাংলাদেশে এসেছিলাম নয়তো আমার ছেলের শেষ দেখাটাও পেতাম নাহ।
চিত্রা:- থাক ফুফাজি, যা হওয়ার হয়ে গেছে এসব নিয়ে আর মন খারাপ করবেন নাহ, পিপি এসব ব্যাপারে কিছু জানে..?
আব্বু:- হ্যাঁ, আমি ওইদিনই সবটা বলেছিলাম ওর কাছে।
আমি:- পিপি কিছু বলেনি..?
আব্বু:- ও তোহ তাইমনের মৃত্যুর কথা শুনেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো, শেষ মুহুর্তে হায়াতির সাথে কথা হয়েছিলো..
আম্মু:- হায়াতি কি বলেছে..?
আব্বু:- ও তেমন কিছুই বলেনি, বললো আব্বু যেহেতু ওখানে আছে তাহলে আব্বুকেই সামলাতে বলুন আর আমরা রাতারাতি কিভাবে কি করবো, ফ্লাইট টিকিট, ভিসা, পাসপোর্ট এখন আমাদের হাতে কিছুই নেই তাছাড়া এসব সম্পর্কে আমাদের তেমন কোনো ধারণাও নেই, আমরা বোধহয় আসতে পারো নাহ।
তারপর আর ওদের সাথে কোনো যোগাযোগ হয়নি।
ওইদিনের মতো কথাবার্তা ওখানেই শেষ হয়ে গেলো।
তারপর যে যার মতো চলে গেলো, আমিও আমার ঘরে চলে গেলাম।
এখন আর আগের মতো কিছুই নেই, আমাকে আর কেউই বিরক্ত করে নাহ, সারাক্ষণ শুধু ওইদিনটার কথাই ভাবি, কি থেকে কি হয়ে গেলো।
আমিও কারো সাথে এখন আর আগের মতো কথা বলি নাহ, নিশ্চুপ হয়ে গেছি প্রায়।
কিছুক্ষণ পর আম্মি আমার ঘরে এলো....
আম্মু:- চিশতি, বাড়িতে তোহ এখন তোর সমবয়সী কেউই নেই, তুই কি চিত্রার বাসায় গিয়ে থাকবি..?
ওখানে চিত্রা সাইফ আর ওদের ছেলে মেয়ের সাথে থাকলে তোর মনটাও ভালো থাকবে।
যাবি! ওদের তাহলে বলবো ওদের সাথে যেনো কালকে তোকে নিয়ে যায়..?
আমি:- আম্মি বড় আপুনি সাথে কি হয়েছিলো..?
আম্মু:- কি! কি হবে আর ওকে ভুতে ধরেছিলো...
আমি:- তুমি আমার কাছে সত্যিটা লুকচ্ছ আম্মি, সত্যি সত্যি বলো কি হয়েছিলো....?
আম্মু:-আচ্ছা তাহলে শোন..
এই জায়গায় সবার আগে আমরা এসেছিলাম, জায়গাটা তখন এত উন্নত ছিলো নাহ, অনেকটা অজপাড়া গ্রামের মতো।
আস্তে আস্তে জনবসতি বাড়তে থাকে, হয়ে উঠে একটা ছোটখাটো শহর।
যখন হোক আমাদের আসার অনেক পরে এখানকার আশেপাশের লোকজন আসে তাদের মধ্যে একটা ফ্যামিলি এসেছিলো যাদের বলা হতো শেখ পরিবার।
ওই শেখ পরিবারের ছোট ছেলে ইকবাল দেখতে কালো হলেও কাজকর্মে, পড়াশোনায় সবদিক দিয়ে এগিয়ে ছিলো, ইকবালের বাবা মা দুইজনই বেঁচে ছিলো।
কিন্তু একদিন হঠাৎ ইকবালের মায়ের নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে, রক্ত পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে ইকাবালের মা মারা যায়।
সবাই সন্দেহ করেছিলো ইকবালের মাকে রক্ত বাণ মারা হয়েছিলো।
ইকবালের মায়ের মৃত্যুর এক বছর পর, সবাই খেয়াল করে ইকবাল নিজের ঘর থেকে সহজে বের হয় নাহ যদিও বা কখনো বের হয় তাহলে কারো সাথে কথা বলে নাহ।
যাই হোক সবটাই ওর ইচ্ছা, ওর কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে নাহ তাই কথা বলে নাহ, তারপর একদিন আমি ওদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন শুনতে পাই ভিতর থেকে কেউ কোরআন পাঠ করছে দরজার সামনে গিয়ে দেখি ইকবাল কোরআন পড়ছে কিন্তু.....
কোনো দিক দিয়ে এটা আরবি বলে মনে হচ্ছে নাহ, মনে হচ্ছে আরবি ভাষাকে উল্টো করে পড়ছে। চলে এলাম ওখান থেকে।
ওইযে আমাদের বাড়ির তিন ঘর পরে যে হিন্দু বাড়িটা দেখছিস ওই বাড়ির ছোট মেয়ে মণি যে কিনা নিজের বাবা মায়ের কথার অমান্য করে নাহ কখনো এমনকি বাড়ি থেকেও কোনোদিন বের হয়নি সেই মেয়েটি৷ ইকবালকে বিয়ে করার জন্য পাগল অথচ মণি কোনোদিন ইকবালকে নিজের চোখে দেখেনি।
প্রতিদিন ইকবালের সাথে এসে বসে থাকতো, ওর বাবা মা বাঁধা দিলে মণি তাদের কথায় কোনো পাত্তাই দিতো নাহ।
এভাবে দিনের পর দিন কাটতে থাকে মণি যেনো ইকবালের জন্য আরো বেশি পাগল হতে লাগলো।
এবার সবাই ইকবালের বাবার কাছে এসে নালিশ দিলো "আপনার ছেলে আমার মেয়েকে কি করেছে, আমার মেয়ে আপনার ছেলেকে কোনোদিন দেখিনি অথচ ও আপনার ছেলেকে বিয়ে করতে পাগল হয়ে গেছে"
এভাবে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিদিনই তর্ক বিতর্ক হতে থাকে কিন্তু মণির কোনো উন্নতি হয় নাহ।
মণি ইকবালকে বিয়ের জন্য পাগল অথচ ইকবাল বলে আমি মণিকে বিয়ে করবো নাহ।
অপরদিকে মণির পরিবার এমনকি ইকবালসহ ইকবালের পরিবারের কেউই মণিকে ইকবালের সাথে বিয়ে দিবে নাহ কিন্তু মণি ইকবালকে নাহ পেলে আত্মহত্যা করবে।
তখন তোর বাবা আর আমি মণি পিতা মাতার সাথে দেখা করি....
আব্রাহাম:- কুন্ড মশাই আমার মনে হয় আপনার মেয়েকে ওই ইকবাল কিছু একটা করেছে নয়তো ওমন লক্ষী মেয়ে কেনো হঠাৎ করে এমন আচরণ করবে...
তীর্থ কুন্ড:- জানি নাহ কুরেশি সাব, কি থেকে কি হয়ে গেলো আমার মেয়েটার। ওকে সুস্থ করবো কিভাবে..?
আমি:- কুন্ড মশাই, অনুমতি দিলে একটা কথা বলবো..?
তীর্থ কুন্ড:- হ্যাঁ বলো ফাতিমা বিবি এতে আবার অনুমতির কি আছে...
আমি:- আমি একজন ভালো বৈদ্য মহিলাকে চিনি, যদি কেউ কারো উপর কালো জাদু করে তাহলে উনি রোগীর নাভি থেকে কালো জাদুর উপকরণ বের করে দিতে পাবে, এবং একটা তাবিজও দেয় যাতে পরবর্তীতে ওর উপর আর কোনো কালো জাদু নাহ হয়।
তীর্থ কুন্ড:- কোথায় থাকে ওই মহিলা....?
আমি:- আপনি মণিকে একদিন আমার সাথে পাঠান আমি ওকে আমার সাথে নিয়ে যাবো।
তীর্থ:- খরচা কত হবে..?
আমি:- কি বলছেন কুন্ড মশাই, মণি আমার ছোট বোনের মতো ওর এইটুকু উপকার আমি নিজেই করতে পারবো এর জন্য আপনাকে খরচ দিতে হবে নাহ।
তীর্থ কুন্ড:- তা হয় নাহ ফাতিমা বিবি, খরচের কত টাকা লাগে তুমি আমার কাছ থেকে নিয়ে নিও আর কালকেই তুমি মণিকে তোমার সাথে নিয়ে যাবে।
আমি:- আচ্ছা কুন্ড মশাই।
পরদিন ভোর সকালে আমি গিয়ে কুন্ড মশাইকে ডাক দি....
আমি:- কুন্ড মশাই! ওও কুন্ড মশাই! দরজা খুলুন...!
তীর্থ কুন্ড:- খুলছি! কে এসেছে..?
আমি:- আমি গোহ আমি ফাতিমা বিবি
তীর্থ:- ওহ্ তুমি! তা এখনই রওনা হবে নাকী..?
আমি:- হ্যাঁ, আর একটা কথা শুনুন আমি নেত্রকোনা যাচ্ছি আমার বাপের বাড়ি যদি কেউ মণির কথা জিজ্ঞেস করে তাহলে বলবেন ওকে আপনি আপনার কোনো আত্মীয়র বাড়ি পাঠিয়েছেন ভুলেও আমার সাথে পাঠিয়েছেন এই কথা বলবেন নাহ..!
তীর্থ কুন্ড:- আচ্ছা! আচ্ছা! সে নাহয় বুঝলাম কিন্তু তুমি নেত্রকোনা যাবে কেনো..?
আমি:- ওই মহিলা আমার বাপের বাড়িরই, তাই মণিকে নিয়ে আমাকে ওখানেই যেতে হবে, আপনি তাড়াতাড়ি মণিকে রেডি করে পাঠিয়ে দিন।
কিছুক্ষণ পর মণির হাতে একটা ছোট্ট ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে এলো সাথে তীর্থ কুন্ডও এলো...
তীর্থ কুন্ড:- ফাতিমা বিবি এই টাকাগুলো রাখো, যত টাকা লাগে লাগুক তুমি আমার মেয়েটাকে সুস্থ করে ফিরিয়ে এনো।
আমি:- কুন্ড মশাই ওকে সুস্থ করার মালিক আমি নই ওকে একমাত্র আল্লাহ চাইলেই সুস্থ করতে পারেন তাই আমার কাছে নাহ উপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করুন।
আমরা গেলাম তাহলে, দোয়া করবেন, আল্লাহ হাফেজ।
তারপর আমি আর মণি বেরিয়ে পরলাম, প্রায় ৮-৯ ঘন্টা পর আমরা নেত্রকোনা গিয়ে পৌঁছাই, তখন যানবাহনের এতটা উন্নত ছিলো নাহ, লঞ্চে করে যাতায়াত করতে হতো আমাদের তখন মোবাইল ফোনও এতটা ছিলো নাহ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চিঠি পাঠাতে হতো সেই চিঠি পৌছুতে পৌছুতে ২-৩ দিন সময় লাগতো।
যাই হোক আমরা নেত্রকোনা পৌঁছে, একটা দিন বিশ্রাম নি, কথা হলো পরদিন সকালে আমি মণিকে নিয়ে ওই বৈদ্য মহিলার কাছে যাবো তারপর চৈতীকে নিয়ে একেবারে ফিরে আসবো, চৈতী ছোট থেকে নেত্রকোনাই বড় হইছে এখন তোর তোর চৈতীকে আর নানু বাড়ি থাকতে দিবে নাহ তাই আমাদের সাথে নিয়ে আসতে বলেছে।
পরদিন সকালে আমরা ওই বৈদ্য মহিলার কাছে যাই, উনি মণিকে বিছানায় শুইয়ে দিলো তারপর ওর নাভির মধ্যে ২ ফোটা তেল দিয়ে একটু হাত বুলিয়ে দিয়ে নাভির উপর একটা পিতলের বাটি বসিয়ে দেয়।
বাটিটা বসিয়ে দিয়ে সে কিছুটা দূরে সরে এসে মনে মনে কিছু দোয়া পড়তে থাকে।
বেশ কিছুক্ষণ পর সে মণির নাভি থেকে বাটিটা উঠিয়ে দেখে ওর নাভির মধ্যে, ওর মায়ের ব্যবহৃত কাপড়ের টুকরো, ওর হাতের নখ, চুল, আর ইগলের গোস্তো সবগুলোই যেনো পচতে শুরু করেছে, দেখতে কেমন বিশৃ লাগছিলো
এগুলো দেখে আমি ছুটে বাইরে এসে বমি করতে থাকি।
তারপর ওই মহিলাটি আমাকে ডেকে বলে...
-- ওর উপর কালো জাদু করা হয়েছিলো, এমন ভাবে জাদু করেছিলো যাতে ও পাগল হয়ে যায়।
এখন আর কোনো সমস্যা নেই আমি আল্লাহর হুকুমে সবকিছু পরিত্রাণ করে দিয়েছি, শুধু একটা তাবিজ দিবো ১৫০ টাকা লাগবে ওইটা দিলে ওর উপর আর কেউ কখনো এমন জাদু করতে পারবে নাহ যদি কেউ এমনটা দ্বিতীয় বার করতে চায় তাহলে যেই জিনিসগুলো দিয়ে এই পাপ কাজ করবে ওই জিনিসগুলো ওই পাপীর ভাতের প্লেটে গিয়ে পরবে।
আমি:- আচ্ছা তাহলে আপনি ওকে তাবিজ দিন, ওর যেনো আর কখনো এমন সমস্যা নাহ হয়
-- আল্লাহর উপর ভরসা রাখ মা আর কখনো কিছু হবে নাহ
পরদিন সকালে আমরা আবারও নেত্রকোনা থেকে মুন্সিগঞ্জ ফিরে আসি।
বাড়ি ফিরে তীর্থ কুন্ডের টাকা আর উনার মেয়ে দু’টোই উনার হাতে বুঝিয়ে দিলাম।
ওইদিনের পর থেকে মণি একদম আগের মতো সুস্থ হয়ে যায়।
তখন প্রমাণ হয়ে যায় মণির উপর কালো জাদু ইকবালই করেছিলো।
দুইদিন পর ইকবালদের বাড়ি থেকে চিল্লাচিল্লির শব্দ ভেসে আসছিলো তাই আমি আর তোর বড় বোন চৈতী ওদের বাড়ি যাই, গিয়ে শুনতে পাই আজকে সকাকে ইকবাল যখন খেতে বসেছে তখন ওর ভাতের প্লেট থেকে মানুষের নখ, চুল, কাঁচা মাংস আর চুল পাওয়া গেছে যার জন্য ইকবাল রেগে গিয়ে চিল্লাচিল্লি করছে।
তার মানে আবারও প্রমাণ হলো মণিকে সুস্থ হতে দেখে ইকবাল আবারও ওর উপর কালো জাদু করেছিলো কিন্তু এবার সে ব্যর্থ তাহলে ওই মহিলাটি সত্যি বলেছিলো।
এভাবেই দিন কাটতে থাকে, প্রায় ২-৩ মাস পর, ইকবাল কি মনে করে যেনো আমাদের বাড়ি আসে, মানবতার খাতিরে আমি ইকবালকে বসতে বলি....
আমি:- আরে ইকবাল! কি মনে করে! বসো, কিছু খাবে.?
ইকবাল:- নাহ কাকী আমি কিছু খাবো নাহ!
আমি:- এই কাকী বলছো কেনো, তোমার মাকে তোহ আমরা ফুফু বলতাম তাহলে তুমি আমাকে ভাবি বলবে...
ইকবাল:- নিজের হবু শ্বাশুড়িকে কেউ ভাবি বলে..?
আমি:- ইকবাল! কি উল্টাপাল্টা বলতাছো, তোমার ভাইয়া এসব শুনলে তোমাকে কি করতে পারে তোমার কোনে আন্দাজ আছে...
ইকবাল:- দেখ, আমি জানি মণিকে তুই তোর সাথে নিয়ে সুস্থ করে এনেছিস, এর প্রতিশোধ তোহ আমি নিবোই। তোর বাড়িতে দাঁড়িয়ে বলে গেলাম তোর মেয়েকে আমি বিয়ে করবো যেভাবেই হোক।
একটা কথা মাথায় রাখিস তুই নিজে তোর মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে যাবি।
আমি:- ছিহ্ ইকবাল, এই তোমার শিক্ষা, কি সব মুখের ভাষা, তোমার মায়ের তোমাকে নিয়ে এই গর্ব ছিলো, আজকে যদি উনি বেঁচে থাকতেন তুমি এসব অসভ্যতা করতে পারতে..?
ইকবাল:- এজন্যই তোহ অনেক আগেই রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি
আমি:- মানে! তোমার মাকে তুমি মেরেছো..?
ইকবাল:- সে কথা একবারও বলিনি
এই বলে ইকবাল চলে গেলো।
ইকবাল চলে যাওয়ার পর সারাদিন আমার কাজে মনে বসছিলো নাহ, কি বলে গেলো ও এসব..?
আমি জানি ও এমন জাদুটোনা করে, য়দি আমার চৈতীর উপরের এসব করে বা আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি করে তাহলে কি হবে..?
রাতে তোর বাবার কাছে সবকিছু বলি...
আমি:- আজকে ইকবাল আমাদের বাসায় এসেছিলো..
আব্রাহাম:- কেনো..?
আমি:- জানি নাহ, কিন্তু এসে আমাকে শাসিয়ে গেছে ও নাকী জেনে গেছে আমরা মণিকে সাহায্য করেছি তাই বলেছে চৈতীকে যেভাবেই হোক ও বিয়ে করবে...
আব্রাহাম:- দেখা যাবে ও কি করতে পারে, ওকে মেরে ফেলবো যদি উল্টাপাল্টা কিছু করে তোহ
সপ্তাহ খানেক সবকিছু ঠিক ছিলো কিন্তু তারপর থেকে সবকিছু উলটপালট হতে শুরু করে...
যে চৈতী ইকবালকে চিনে নাহ সে ইকবালের জন্য পাগল ওকে ছাড়া নাকী চৈতী মরেই যাবে।
তোর বাবা চৈতীকে কত মার মেরেছে বলার বাহিরে কিন্তু তারপরও চৈতী ইকবালকেই বিয়ে করবে।
কত বড় বড় জায়গা থেকে সমন্বয় আসতো কিন্তু তোর বোন নাহ করে৷ দিতো
শেষমেশ টিকতে নাহ পেরে ওকে নিয়ে আমি আবারও নেত্রকোনা ফিরে যাই, ভেবেছিলাম ওই মহিলার কাছে গেলে হয়তো চৈতীও সুস্থ হয়ে যাবে কিন্তু নেত্রকোনা গিয়ে শুনি গতরাতে নাকী ওই মহিলা মারা গেছে।
কিছু বুঝতে পারছি নাহ এখন কি করবো, তাই জন্য চৈতীকে নেত্রকোনা রেখে আমি ফিরে আসি।
তখন তোর বড় মামীর টিভি রোগ হয়েছিলো, মাঝে মাঝে তোর বড় মামীকে নিয়ে চৈতী ডাক্তারের কাছে যেতে, একদিন তোর বড় মামী একা ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলো তারপর ওই ডাক্তার তোর মামীর কাছে চৈতীর জন্য সমন্বয়ের কথা বলে, তোর বড় মামী জানায় মেয়ে আমার নাহ, আমার ননদের যদি উনারা রাজি হয় তাহলে আপনি বিয়ে করতে পারেন।
তারপর তোর বড় মামা আমাদের চিঠি পাঠায় সেই চিঠিতে লিখা ছিলো, তোর নানু আমাকে আর তোর বাবাকে দেখতে চেয়েছেন, দুইদিন পর চিঠি হাতে পেয়ে এমন খবর শুনে তাড়াতাড়ি করে নেত্রকোনা চলে যাই।
গিয়ে শুনি এক ডাক্তার চৈতীকে পছন্দ করেছে, আমাদের সাথে কথা বলবে এজন্য আমাদের মিথ্যা বলে ডেকে আনা হয়েছে।
যাই হোক ভালো সমন্বয় এসেছে আমরা সবাই রাজি কিন্তু চৈতী রাজি নাহ।
চৈতী গলায় দড়ি দিয়ে চলে গিয়েছিলো, সে ইকবালকেই বিয়ে করবে যদি ইকবালকে নাহ পায় তাহলে সে আত্মহত্যা করবে তারপর অনেক বুঝিয়ে এসব করতে মানা করি কিন্তু সে আমাদের কসম কাটিয়ে বলে যে আমরা যদি ওর বিয়ে ইকবালের সাথে দি তাহলে ও এমন পাগলামি করবে নাহ।
আমরাও ওর কথায় রাজি হয়ে যাই, ওকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।
তারপর চৈতীকে দেওয়া কথা রাখতে আমাকেই যেতে হয় ইকবালের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে।
ইকবালও বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। আগামী সপ্তাহেই বিয়ের দিন তারিখ পাকা হলো।
বিয়ের আয়োজন করা হলো, সুন্দর মতো বিয়েটাও সম্পূর্ণ হলো।
চৈতীর বিয়ের কিছুদিন পর চিত্রার অনেক দাঁতে ব্যথা শুরু হয় তখন ইকবাল চিত্রাকে কোথা থেকে যেনো একটা তাবিজ এনে দিয়ে বলে....
ইকবাল:- আজ শনিবার, বিকেলে সূর্য ডোবার আগে বাম হাতে পড়ে নিও তাহলে দেখবে ২দিনের মধ্যেই দাঁতের ব্যথা কমে যাবে।
ঠিকই ২-৩দিনের মধ্যে চিত্রার দাঁতের ব্যথা কমতে শুরু করে, তার মানে সয়তানটা বোধহয় ভালো হয়ে গেছে আমাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমার মেয়েকে তোহ বিয়ে করেই ফেললো এখন তাহলে আর কোনো ঝামেলা করবে নাহ কিন্তু আমি ভুল ছিলাম ওর সয়তানি খেলা এখানেই শেষ হয় নাহ বরং এখান থেকে শুরু হলো ওর আরো একটা কুৎসিত খেলা....
বিয়ের কিছুদিন পর চৈতী একদম পাগল হয়ে যায়, সবাই বলতে থাকে চৈতীকে ভুলে ধরেছে এজন্য ইকবাল ওকে আমাদের কাছে রেখে যায়।
চৈতী রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে শুরু করে কিন্তু হাসমি অনেক খুঁজে খুঁজে বাড়ি নিয়ে আসতো
আমার নতুন নতুন শাড়িগুলো টেনে টেনে ছিড়ে তারপর ওইগুলো খেয়ে ফেলতো,
হুটহাট কি হতো কিছুই বুঝতাম নাহ কিন্তু হঠাৎকরে চৈতী এক দৌড় দিয়ে চোখ বন্ধ করে সাঁকো বেয়ে কোথায় কোথায় চলে যেতো আবারও হাসমি কোথায় কোথায় গিয়ে খুঁজে নিয়ে আসতো।
একদিন তোহ সিলিং এর সাথে ফাঁসি দিয়ে ঝুলে পড়েছিলো কিন্তু আল্লাহরই মেহের তোর বাবা সময় মতো ঘরে এসেছিলো।
পাগলের মতো উৎপাদ করতো যে ওর সামনে যেতো তাকেই মারতো, চোখগুলো লাল হয়ে থাকতো সবসময় আর বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতো চুলগুলো এলোমেলো যেনো জট পাকিয়ে যাবে।
মাছ ধরার টেটা দিয়ে নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করতো, বাড়ির পোষা হাস মুরগী ওর সামনে গেলে ওগুলো ধরে জীবন্তই কামড়ে খেতে শুরু করতো।
একদিন ওকে খুঁজে পাচ্ছিলাম নাহ, কোথায় গেলো চিন্তায় পাগল পাগল হয়ে যাচ্ছি।
আমি, তোর বাবা আর হাসমি খুজে একাকার কিন্তু কোত্থাও খুঁজে পাচ্ছিল নাহ।
সন্ধ্যার পর কোত্থেকে যেনো এসে তীর্থ কুন্ডের বাড়ি গিয়ে বসেছে....
তীর্থ কুন্ড:- কিরে দিদিভাই এখন কেমন আছিস..?
চৈতী:- এই কুন্ড তোদের যে পুঁজো হচ্ছে তুই জানিস নাহ..?
তীর্থ:- কোথায় পুঁজো হচ্ছে..?
তারপর অনেকগুলো মন্দিরের নাম বললো, আরো বললে ও নাকী সবগুলো মন্দির থেকে প্রসাদ খেয়ে এসেছে।
যখন ওকে ভাত দি ও ভাত খেতে খেতে পাতিলার সমস্ত ভাত খেয়ে ফেলছিলো তখন পর থালায় একটু গরুর তেল দিতেই ও অজ্ঞান হয়ে যেতো।
একে তোহ চৈতীকে নিয়ে একটা জ্বালা তার মধ্যে ইকবাল আরেকটা নতুন ঝামেলার সৃষ্টি করে...
ইকবাল:- আমি চিত্রাকে বিয়ে করবো....
আমি:- মানে তোমার কি মাথা খারাপ যা ইচ্ছা বললেই হলো...?
ইকবাল:- চৈতীকে বিয়ে করেছিলাম আপনাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য কিন্তু আমার পছন্দ ছিলো চিত্রা আমি চিত্রাকে বিয়ে করবো
আমি:- কুত্তার বাচ্চা তুই আমাদের জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছিস এখন আবার আরেকটা আহ্লাদ নিয়ে এসেছিস, তোকে খুন করবো শু***রের বাচ্চা।
ইকবাল:- সে যাই বলেন চিত্রাকে আমি বিয়ে করবো মানে ওকেই বিয়ে করবো।
এরপর থেকে প্রতিদিনই দেখতাম চিত্রা কার সাথে যেনো লুকিয়ে লুকিয়ে ফোনে কথা বলতো কিন্তু আমাদের বাসায় তোহ কোনো মোবাইল নেই এত দাম দিয়ে কখনো মোবাইল কেনা হয়নি তাহলে চিত্রা মোবাইল পেলো কোথায়।
চিত্রাকে যদি মোবাইলের কথা জিজ্ঞেস করতাম কিছুই বলতো নাহ, কার সাথে কথা বলে এসবও কিছু বলতো নাহ।
দুই মেয়ের চিন্তায় আমি আর তোর বাবা প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম।