পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১২

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১২ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১২

আম্মু চলে যাওয়ার পর আমিও ঘুমিয়ে পড়ি।

চোখ খুলতেই দেখি আমার চারিদিকে আগুন দাউদাউ করছে।

একটু ভালো মতো লক্ষ করে দেখলাম এটা আমি নই এটা সেই মেয়েটি যাকে আমি প্ল্যানে বসে স্বপ্নে দেখেছিলাম কিন্তু এই মেয়ের মধ্যে আমি নিজেকে অনুভব করছি কিভাবে...?

যাই হোক, এটা তোহ আমাদের ঘর নাহ তাহলে এটা কোন জায়গা, আর আমি এখানে এলামই বা কি করে...?

হঠাৎ করে ঘরটিতে ১০-১১ জন মানুষ এলো, ঘরে প্রবেশ করেই তারা অট্টহাসিতে মেতে উঠলো।

ভালো মতো সবাইকে এক এক করে গুনে দেখলাম তারা মোট ১১ জন তার মধ্যে ১০জনই বড় কালো পোশাক পড়ে আছে মুখটাও ঢাকা আর বাকি একজনের চেহারা আগুনের জন্য বুঝা যাচ্ছে নাহ।

আগুন যেনো ধীরে ধীরে আরো বেড়ে যাচ্ছে, এবার যেনো আগুন আমার শরীরে লেগে গেছে।

আমি পুড়ে যাচ্ছি, আগুনে পোড়ার মতো যন্ত্রণা অনুভব করছি, নাহ! অনুভব করছি নাহ আমি সত্যি সত্যি আগুনে পুড়ে যাচ্ছি।

আমাকে আগুনে পুড়ে যেতে দেখে ওই লোকগুলো যেনো আরো বেশি করে হাসতে লাগলো।

এবার তারা হাসতে হাসতে এক এক করে নিজের মুখে থাকা মুখোশগুলো খুলতে লাগলো আর আমিও ঘুমের ঘোর থেকে বেরিয়ে এলাম।

তার মানে এতক্ষণ আমি স্বপ্ন দেখছিলাম..?

কিন্তু! ওই মেয়েটি কে..? যার শরীরের ৯০ শতাংশ গঠন আমার মতো.?

আর ওই ১১ জন লোকগুলোই বা কে..?

মেয়েটিকে তারা আগুনে পোড়াচ্ছিলো কেনো..?

হাজারটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে...

ভাবলাম দুঃস্বপ্ন দেখেছি একটু চোখ মুখে পানি দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ি।

চোখ মুখে পানি দেওয়ার জন্য বিছানা থেকে নামতেই আমার রুমে সেই বিশাল সাপটা এলো যাতে এতদিন আমি স্বপ্নে দেখতাম।

সাপটাকে দেখে যেনো আমি মোহিত হয়ে গেলাম, আমার সাথে সাপটার যেনো বহুযুগ আগের সম্পর্ক।

এক পা দু পা করে সাপটার কাছে গিয়ে নিজের হাতটা সাপটির মাথায় রাখলাম।

আমার হাতটি সাপের মাথায় রাখার সাথে সাথে সাপটি এক ছায়ামূর্তি হয়ে গেলো।

এবার যেনো আমার হুশ ফিরলো, কি হলো আমার আর এই সাপটি ছায়ামূর্তি হয়ে গেলো কিভাবে..?

তখনই ওই ছায়ামূর্তিটি বলে উঠলো...

সাক্ষী:- ভয় পেয়ো নাহ, আমি সাক্ষী! তোমার সাথে আমার বহুযুগ আগের সম্পর্ক।

কি সম্পর্ক ছিলো সেটা তুমি নিজেই জানতে পারবে শুধু সময়ের অপেক্ষা।

আমি:- মানে..?

সাক্ষী:- কোনো মানে নেই..

আমি:- তারমানে এতদিন আমার সাথে যা যা হচ্ছিল সবটা তুমি করিয়েছো..?

সাক্ষী:- নাহ! আমি কিছুই করাইনি, সবটাই তোমার নিয়তি করিয়েছে..

এতদিন তোমার সাথে যা যা হয়েছিলো তার মাধ্যমে তোমার মধ্যে পঞ্চশক্তিকে জাগ্রত করা হয়েছে...

তোমার স্বপ্নে সাপ দেখার ফলে তোমার মধ্যে সর্পশক্তিকে স্থাপিত করা হয়েছে।

বাথরুমে ঝর্ণার পানিতে স্থির হয়ে যাওয়ার ফলে তোমার মধ্যে জলমৎস শক্তিকে স্থাপিত করা হয়েছে।

আকাশের উপরে একাকী ঘরের মধ্যে বন্দী থাকার ফলে তোমার মধ্যে নূরানী শক্তিকে স্থাপিত করা হয়েছে।

মাটির নিচে অন্ধকার ঘরে বন্দী থাকার ফলে দানব শক্তিকে স্থাপিত করা হয়েছে।

আর হাজরও মানুষের ভিড়ে নিজের ডাক কেউ শুনতে পাচ্ছে নাহ মনে হওয়ার কারণে তোমার মধ্যে মানবশক্তিকে পুনরায় স্থাপিত করা হয়েছে।

এসব কিছু সেদিনই জাগ্রত হবে যেদিন তুমি তোমার আগের জন্মের কথা সব মনে করতে পারবে।

আমি:- আগের জন্ম মানে..? আমি এসব বিশ্বাস করি নাহ, আর আমার এসব কোনো শক্তির দরকার নেই, আপনি চলে যান....

সাক্ষী:- বিশ্বাস করতে নাহ চাইলেও তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে কারণ তুমি নিজের অপূর্ণ শক্তি এবং অজানা প্রতিশোধের জন্য আবার ফিরে এসেছো।

তুমি এই শক্তিকে স্বীকৃতি নাহ দিতে চাইলেও এই শক্তি তোমাকে বেছে নিয়েছে, নিয়তি তোমাকে বেছে নিয়েছে তোমার ভাগ্য তোমাকে বেছে নিয়েছে তুমি চাইলেও এসবের থেকে পিছতে পারবে নাহ।

আমি:- আচ্ছা ধরে নিলাম এটা আমার পুনর্জন্ম, তাহলে বলুন আমি কে ছিলাম আগের জন্মে..?

আর আমি কেনোই বা প্রতিশোধ নিতে আবার জন্ম নিয়েছি..?

আচ্ছা, এগুলো পরে আগে বলুন ওই মেয়েটি কে যাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে..?

সাক্ষী:- ওই মেয়েটি তুমি! হ্যাঁ, ওই মেয়েটি ছিলো তোমার আগের জন্মের রূপ এই জন্মে তুমি ছেলে হয়ে জন্ম নিয়েছো কিন্তু তোমার আগের জন্মের শক্তি ঠিক আগের মতোই রয়েছে যা তুমি আগের জন্মে প্রাপ্ত করতে পারোনি কিন্তু এই জন্মে তোমার সেই নাহ পাওয়া শক্তি নিজে থেকেই তোমাকে বেছে নিয়েছে।

আর তোমার প্রতিশোধ নিতে হবে তাদের কাছ থেকে যারা তোমার শক্তির লোভে তোমাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে...

তুমি ভয় পেয়ো নাহ, তুমি এই যুদ্ধে একা নও আমিও আছি তোমার পাশে, তোমার পাশে থাকার জন্যই তোহ দ্বিযুগ পরেও তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।

ত্রেতাযুগ থেকে কলিযুগ অব্দি তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি।

এবার তোমাকে জিততে হবে, সেই মুখোশধারী কালো জাদুকরগুলোকে এক এক করে তোমাকে শাস্তি দিতে হবে...

আমি:- কালো জাদুকর..?

সাক্ষী:- হ্যাঁ! কালো জাদুকর, যারা নিজেদের আরো শক্তিশালী করার জন্য তোমার পঞ্চশক্তি কেড়ে নিতে চেয়েছিলো কিন্তু তুমি আর তোমার মা পৃথিবীতে থাকা নিষ্পাপ লোকদের কথা ভেবে কিছুটা চালাকি করেছিলে, এসবকিছুই তোমার মনে পরবে শুধু সময়ের অপেক্ষা।

যেদিন তুমি সবকিছু মনে করতে পারবে সেদিন তোমার মধ্যে পঞ্চশক্তির আবির্ভূত হবে শুধু তাই নয় তুমি আলাদা করে নিজের জন্য শক্তির উপাসনা করেছিলে যার কারণে তুমি তুমি পঞ্চশক্তির সাথে সাথে নিজের উপাসনা ফলও পাবে।

এই বলে সাক্ষী উধাও হয়ে যায়, আমি রীতিমতো অবাক হয়ে যাচ্ছি, কি হচ্ছে আমার সাথে..?

আসলেই কি পুনর্জন্ম বলে কিছু হয়..?

আর কালো জাদুকর, এই কালো জাদুকরগুলো কে..?

আমি তাদের খুঁজে পাবো কিভাবে..?

আর আমিই কেনো, কিছুই বুঝতে পারছি নাহ...

আমি কি কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছি..?

দেখি তোহ হাতে একটা চিমটি কেটে...

-- উফ, নাহ এটা তাহলে সত্যি, এতক্ষণ আমি যা যা দেখলাম যা যা শুনলাম সবটা সত্যি।

কিন্তু আসলেই কি পুনর্জন্ম বলে কিছু হয়..?

যাই হোক, এসব ভেবে লাভ নেই যা হওয়ার পরে দেখা যাবে এখন ঘুমাই।

চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে বিছানা শুয়ে পরলাম।

কিছুক্ষণ পর লাফ দিয়ে উঠলাম, আমি তোহ তাহলে সুস্থই কি নাহ কি শক্তির জন্য এতদিন আমার সাথে এমনটা হয়েছে তাহলে কি আমি এবার পিপির কাছে ফিরে যেতে পারবো..?

নাহ, আমি আর কখনোই পাকিস্তান ফিরে যাবো নাহ।

আর কোনোদিন হায়াতির মুখোমুখি হবো নাহ।

এই রেহ, পিপিকে তোহ কল করতেই ভুলে গেছি.!

এত রাতে কল করলে কি ভাববে, কয়টা বাজে দেখি তোহ...

ফোনটা হাতে নিতে যাবো তখনই মসজিদ থেকে আযানের সুর ভেসে আসছে...

আযান যখন দিয়েছে তাহলে যাই সবাইকে জাগিয়ে তুলি, নামাজ আদায় করে তারপর পিপিকে কল দিবো.।

যেই ভাবা সেই কাজ, এক এক করে সবাইকে নামাজ পড়ার জন্য ডাক দিলাম, সবাই উঠলো।

বাড়ির পুরুষরা সবাই মিলে মসজিদে চলে গেলাম জামায়াতে নামাজ পড়তে আমার মহিলারা বাড়িতেই নামাজ পড়লো।

নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে এলাম।

চিত্রা:- আম্মু, বুঝলে একটা জিনিস..?

আম্মু:- কিরে..?

চিত্রা:- তোমার ছোট ছেলেকে দেখে রুহানির মনে ঘন্টা বেজেছে..

আম্মু:- মানে...?

চিত্রা:- উফ, তুমিও নাহ বুঝেও নাহ বুঝার ভান করো...

কাকিয়া:- রুহানির পছন্দ হলেই হবে..?

ওর বাবা আর আনারও তোহ পছন্দ হতে হবে নাকী..?

চিত্রা:- কেনো কাকিয়া.? চিশতি কোন দিক দিয়ে কম বলো তোহ..?

আম্মু:- আরে বাদ দে নাহ, ওরা ছোট মানুষ ওদের আবার পছন্দ অপছন্দ...

চিশতি এলোই তোহ কালকে এর মধ্যে এসব কি শুরু করলি তোরা...

আর একদিনে কেউ কাউকে কিভাবে পছন্দ করে বল তোহ...

চিত্রা:- তুমি বুঝবে নাহ মনের ব্যাপার, দেখোনি বড় দুলাভাই কি করেছিলো..?

আম্মু:- চিত্রা....!!!

কাকিয়া:- ওটা যার যার নিচ মন মানসিকতা।

ও তোহ একটা জানোয়ার এজন্যই এসব করেছিলো...

আম্মু:- হালিমা, চুপ করবি তুই...

যে সত্যিটা এত বছর নিজেদের মধ্যে আগলে রেখেছিস ওই সত্যিটা কি আর কিছুদিন আগলে রাগা যায় নাহ...

চিত্রা:- আম্মু...

চোখের ইশারায় দেখালো আমি ওদের সব কথাই দূর থেকে শুনছিলাম কিন্তু ওরা খেয়াল করেনি।

আম্মু:- আরে চিশতি বাবা, নামাজ হয়ে গেছে...

আমি:- কোন সত্যির কথা বলছো তোমরা..?

আর জিজু কি করেছিলো..?

চিত্রা:- তুমি বাংলা কথা বুঝলি কি করে আর স্পষ্ট বাংলায় কথা বলছিস কিভাবে..?

চিত্রা আপুনির কথা শুনে আমিও অবাক হয়ে গেলাম, আমি বাংলা ভাষা কিভাবে বুঝলাম আর এত অল্প সময়ে বাংলা শিখলাম কিভাবে..?

আম্মু:- কি যে বলিস নাহ, চিশতি পাকিস্তানে বড় হলেই কি ওর শরীর থেকে বাঙালির রক্ত মুছে যাবে নাকী....

চিত্রা:- কিন্তু, তারপরও এত তাড়াতাড়ি কি করে শিখলো..?

আম্মু:- বাদ দে তোহ এসব...

দেখ গিয়ে সাইফ, তাইমন ওদের কিছু লাগবে কি নাহ...?

আর হালিমা তুই একটু আটা গুলিয়ে ফেল পরটা ভাজবো...

চিশতি পরটা খাস তোহ..?

আমি:- জ্বি, নাহ, হ্যাঁ কি বললে..?

আম্মু:- পরটা খাবি তোহ..?

আমি:- হ্যাঁ।

আম্মু:- তুই যা হালিমা আটা গুলিয়ে ফেল গিয়ে।

আমি কিছুই বুঝতে পারছি নাহ কি হচ্ছে আমার সাথে।

সত্যিই কি ওই ছায়ামূর্তি ওয়ালা সাপটি সত্যি বলছিলো..?

এসব ভাবতে ভাবতে আমি আমার রুমে চলে যাবো তখনই আম্মু ডাক দিয়ে বলে....

আম্মু:- চিন্তা করিস নাহ বাবা, আমি তোহ তখনই বললাম তুই বিশেষ কেউ তুই সবার মতো সাধারণ নাহ।

আমি:- আম্মু একটা কথা বলবো...?

আম্মু:- হ্যাঁ বল নাহ কি বলবি....

হাসমি:- আরে চিশতি তুই এখানে..?

তোকে সেই কখন থেকে দুলাভাই আর তাইমন খুঁজছে...

আমি:- আসছি..

আম্মু:- কি যেনো বলছি বলছিলি...?

আমি:- পরে বলবো আম্মু, এখন যাই..

আম্মু:- আচ্ছা।

হাসমি ভাইয়ার সাথে বিল্ডিং ঢোকার পর ভাইয়া আমাকে বলে...

হাসমি:- কিরে কাল রাতে আযান আগ মুহুর্তে কার সাথে কথা বলছিলি..?

ভাইয়ার কথায় কিছুটা ইতস্তত হয়ে গেলাম কি করবো ভাইয়ার কাছে সবটা বলবো..?

কিন্তু আমি এখনো ভাইয়ার সম্পর্কে ভালো ভাবে কিছুই জানি নাহ, তার কাছে বলাটা ঠিক হবে..?

সে কি আমাকে বিশ্বাস করবে..?

হাসমি:- কিরে, কি ভাবছিস..?

কোনো সমস্যা নেই, তুই আমাকে সবটা বলতে পারিস, এখানে তোর ভাই বলিস আর বন্ধু বলিস একমাত্র আমিই।

আমি:- আচ্ছা ভাইয়া বলছি...

হাসমি:- হ্যাঁ বল...

আমি:- কিন্তু কাহিনি অনেক বড় এখন বলে শেষ করা যাবে নাহ, ব্রেকফাস্টের পর সব বলবো।

এখন চলো জিজু আর তাইমন ভাইয়ার কাছে যাই...

হাসমি:- আচ্ছা বলিস তাহলে...

চিত্রা আপুনির রুমে গিয়ে দেখি রুহানি, চিত্রা আপুনি আর জিজু হাসাহাসি করছে।

আমাদের দেখে জিজু বললো..

সাইফ:- আরে শালাবাবু এসো এসো...

চিত্রা:- তুই ভাবতেও পারবি নাহ, তোর জিজু আর রুহানি তোকে কতটা মিস করছিলো...

রুহানি:- এটা কিন্তু ঠিক নাহ আপু, আমি একবারও তোমার ভাইয়ের কথা বলিনি...

জিজু:- তোমাদের জন্য একটা গিফট এনেছিলাম...

তাইমন:- আরে জিজু, এই কথাটা আপনি সেই কখন থেকে বলছেন..

আমরা সেই কখন থেকে জিজ্ঞেস করছি কি গিফট এনেছেন সেটাই তোহ বলছেন নাহ...

সাইফ:- আরে বলছি বলছি...

চিশতি, রুহানি আর তাইমন তোমাদের জন্য কাল রাতে একটা নাইট বুক ফেয়ারের টিকিট কেটেছি।

ভাবলাম দুই শালা আর শালির জন্য এর চেয়ে ভালো গিফট আর কি হতে পারে।

রুহানি তোহ ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছে, ওখানে গেলে ওর অনেক সুবিধা হবে আর তোমাদেরও ঘুরিয়ে আনতে পারবে...

হাসমি:- এটা কিন্তু ঠিক হলো নাহ, শুধু ওরা তিন জনই...?

সাইফ:- তোমার কথা ভুলে গেছি, লাস্ট ৩টা টিকিটই ছিলো, ভেবেছিলাম আমরা সবাই যাবো কিন্তু ৩টা টিকিটই ছিলো বিদ্বায় ওদের ৩জনকেই দিতে হচ্ছে।

আমি:- আচ্ছা বুক ফেয়ারটা কবে..?

জিজু:- ৭দিন পর।

আমি:- কোথায়..?

জিজু:- নেত্রকোনা, ভালুকা শহরে..

আমি:- নানু বাড়ির পাশেই তোহ তাহলে..

চিত্রা:- তুই কি করে জানলি নেত্রকোনা আমাদের নানু বাড়ি..?

আমি:- আম্মু বলেছিলো কাল রাতে..

চিত্রা:- ওহ্

আমি:- হ্যাঁ! আচ্ছা তোমরা আড্ডা দাও আমি একটু পিপির সাথে কথা বলে আসছি...

চলে আসবো তখনই তাইমন ভাইয়া বলে..

তাইমন:- হ্যাঁ! ওই জায়গায় প্রতি বছর বিশাল বই মেলা হয়। বহুযুগ যুগান্তরের বইও পাওয়া যায় ওই মেলায়।

কথিত আছে ওই মেলায় পঞ্চমা ও ১০ কালো জাদুকরের বইগুলোর বেশি বিখ্যাত।

আমি:- কিন্তু তুই এসব সম্পর্কে জানলি কি করে..?

তুই তোহ কোনোদিন বাংলাদেশে আসিসনি এমনকি ওই জায়গা সম্পর্কেও জানিস নাহ..?

তাইমন:- আরে আমি অনলাইনে অনেক রিসার্চ করেছি এসব নিয়ে..

আমি:- তোকে তোহ কোনোদিন বই অথবা বই মেলা নিয়ে উদগ্রীব দেখিনি তাহলে এসব নিয়ে কবে রিসার্চ করলি..?

আর যাই হোক, তোমরা খেয়াল করেছো তাইমন ভাইয়াও কিন্তু স্পষ্ট বাংলায় কথা বলছে..?

চিত্রা:- হ্যাঁ সেটা তোহ আমি সকালেই খেয়াল করেছি, ভেবেছিলাম ও হয়তো পাকিস্তানে বাংলায় কথা বলে এজন্য বাংলা পারে...

আমি:- নাহ, ও তোহ কখনো বাংলা বলতো নাহ

তাইমন:- আমি বাংলা অনেক আগে থেকেই পারি, কিন্তু তোকে কখনো বলিনি, কলেজে আমার অনেক বাঙালী ফ্রেন্ডস আছে ওদের মাধ্যমেই বাংলা শিখেছি।

আমি:- ওহ্ কিন্তু তুই তোহ আমাকে সবকিছু শেয়ার করতি তাহলে এটা লুকলি কেনো..?

তাইমন:- তোকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য..

আমি:- হ্যাঁ, সত্যিই আমি সারপ্রাইজড।

সাইফ:- তোমরা ঝগড়া করছো নাকী মান অভিমানের বাংলা সিরিয়াল কিছু বুঝতে পারছি নাহ।

চিত্রা ব্রেকফাস্টের পর আমরা বেরিয়ে পরবো বুঝলে...

আমি:- জিজু তোমরা কি চলে যাবে..?

সাইফ:- হ্যাঁ

রুহানি:- এই নাহ! নাহ! জিজু আর কিছুদিন থেকে যাও

চিত্রা:- তোদের জিজু বিজনেস ম্যান বুঝিসই তোহ, কতটা বিজি থাকে এর মধ্যে যে সময় বের করে এখানে এসেছে এটাই অনেক।

তোরা আমাদের বাসায় বেড়াতে যাস কেমন।

আমি:- অনেক কথা বলে ফেললাম অথচ কাল থেকে পিপির সাথে কথা বলবো বলবো ভাবছি কিন্তু কথা বলা হচ্ছে নাহ, আমি গেলাম এবার..

রুহানি:- তাড়াতাড়ি আসবে, সবাই একসাথে ব্রেকফাস্ট করবো..

তাইমন:- শালা, আসতে নাহ আসতে চাচাতো বোনকে পটিয়ে ফেললি কি এমন জাদু করেছিস বল নাহ..

আমি:- আমি কিছুই করিনি, আমার মন বলছে ও এগুলো নাটক করছে...

তাইমন:- তুই যাই বলিস তোর চাচাতো বোন কিন্তু অনেক কিউট তোর ভালো নাহ লাগলে আমার সাথে সেটিং করিয়ে দে যতই হোক আমার মামাতো বোন আমাকেও একটু চান্স দিতে পারে...

আমি:- তুই শ্লা সিঙ্গেলই মরবি তোর কপালে এ জন্মেও বিয়ে হবে নাহ..

তাইমন:- সত্যিই রেহ, আগের জন্মের ভালোবাসার মানুষকে নাহ পেয়ে মরে গেলাম এ জন্মে যেভাবেই হোক আমাকে বিয়ে করতে হবে! হা! হা! হা!

আমি:- ভালো হয়ে যা এখনো..

তাইমন:- তুই কি ভেবেছিলি সত্যি সত্যি আগের জন্ম বলে কিছু হয়..?

আমি:- জানি নাহ এত কিছু, সর তোহ পিপির সাথে কথা বলতে হবে...

তাইমন:- আচ্ছা যাহ...