পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১৪
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৪ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১৪
নানান ধরনের চিন্তা করতে করতে কখনো ঘুমিয়ে পড়ি খেয়াল নেই।
ঘুম ভাঙ্গে হাসমি আর তাইমন ভাইয়ার ডাকে...
হাসমি:- চিশতি, কিরে এখনো ঘুমবি নাকী...?
উঠ আযান হয়ে গেছে, চল নামাজ পড়তে যেতে হবে।
তাড়াতাড়ি করে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সব পুরুষরা চলে গেলাম মসজিদে।
কিন্তু তখনও কেনো জানি নাহ তাইমন ভাইয়ার প্রতি আমার একটা অস্বস্তি কাজ করছিলো।
ওকে কেনো জানি নাহ আমার খুব বিরক্ত মনে হতে লাগলো।
ওকে কেমন সন্দেহ হতে লাগছিলো।
কিন্তু কেনো এমন মনে হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি নাহ।
তখনই মনে হলো, আমরা তোহ কিছুদিন পর ভালুকা যাচ্ছি, আমি শিওর ওখানে গেলেই আমি আমার সব প্রশ্নের উত্তর পাবো।
কিন্তু তার আগে আমাকে রুহানির সাথে কথা বলতে হবে।
সবার সাথে নামাজ পড়ে বাসায় চলে এলাম।
বাসায় এসে আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম...
আমি:- আম্মি রুহানি কোথায় আছে বলতে পারো..?
আম্মু:- হ্যাঁ! ওকে তোহ কিছুক্ষণ আগেই এখানে দেখলাম, দাঁড়া ডেকে দিচ্ছি।
আমি:- আচ্ছা।
রান্নাঘর থেকে কাকিয়া গজগজ করতে করতে বেরিয়ে এলো...
কাকিয়া:- দেখেন ভাবি, আপনার ভাসুর কখনোই রুহানি আর চিশতির সম্পর্ক মানবে নাহ, তাই সময় থাকতে ওদের একে অপরের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলে দিবেন।
আম্মু:- তোর সমস্যা কোথায় রেহ হালিমা, আর তুই ভাবলি কি করে আমার ছেলেকে আমি এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিবো তাও বাড়ির মেয়ের সাথে।
আমি:- আম্মি! কাকিয়া! কি শুরু করলে তোমরা..?
আমি অথবা রুহানি কি একবারও বলেছি আমরা একে অপরকে পছন্দ করি আমরা বিয়ে করতে চাই..?
আমাদের পরিচয়ই তোহ হলো ২দিন আগে.??
তাছাড়া ওর সাথে ট্যুরে যাওয়া নিয়ে একটু কথা ছিলো তাই জন্য ওর কথা জিজ্ঞেস করেছি।
আর কাকিয়া আপনি হয়তো ভুল বুঝছেন, আমরা বন্ধুর মতো ভাই বোন কিন্তু তাই বলে আমাদের মাঝে কোনো সম্পর্ক আসতে পারে নাহ।
আমি যেনো এই বিষয়ে আর কোনো কথা নাহ শুনি।
কাকিয়া:- এত বড় বড় কথা বলো নাহ, বন্ধু থেকেই প্রেম পিরিতি হয়ে যায়
আমি:- আপনার যদি এত প্রবলেম হয় তাহলে নিজের মেয়েকে আটকে রাখলেই তোহ পারেন..
কাকিয়া:- দু'দিনও হয়নি এখানে এসেছো তার মধ্যেই এত বড় বড় কথা...
আমি:- কোথায় কত দিন হলো এসেছি এটা দিয়ে আমার কিছু যায় আসে নাহ কাকিয়া...
আমি শুধু উচিৎ কথা বলি, যেটা অন্যায় সেটার বিরুদ্ধে কথা বলি এতে যদি আপনার বড় বড় কথা মনে হয় তাহলে দয়া করে আমার সাথে কথা বলবেন নাহ।
আম্মু:- আহ্ চিশতি তুই ঘরে যাহ, রুহানিকে দেখলে তোর সাথে দেখা করতে বলে দিবো, আর হালিমা সময় আছে এখনো চিন্তা ভাবনা পাল্টা।
কাকিয়া:- এজন্যই লোকে পর কোনোদিন আপন হয় নাহ..
আমি:- পর মানে..? আম্মি এখানে আপন আর পরের কথা আসছে কোত্থেকে..?
আম্মু:- তুই চল ভিতরে চল..
আর হালিমা মুখে লাগাম দে, কার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হয় এখনো শিখে উঠতে পারলি নাহ।
ভুলে যাস নাহ এই সংসারে তোর আগে আমি এসেছি, সংসারটা আমার নিজের হাতে গড়া এই সংসারে ফাটল ধরাস নাহ।
আম্মি আমাকে নিয়ে রুমে চলে এলো...
আমি:- কাকিয়া আমাদের পর বললো কেনো আম্মি..?
আম্মু:- তোর দাদা দুই বিয়ে করেছিলো..
প্রথম স্ত্রীর গর্ভে ২ সন্তান আর দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে ১ সন্তান।
প্রথম স্ত্রীর সন্তান হলো তোর চাচ্চু আর পিপি আর দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে ছিলো তোর আব্বু।
আমি:- পিপি আমার আপন পিপি নাহ..?
আম্মু:- নাহ
আমি:- কোনোদিন এক মুহুর্তের জন্যও মনে হয়নি পিপি আমার আপন পিপি নাহ।
আপন নাহ হয়েও একটা মানুষ কিভাবে এতটা আগলে রাখতে পারে সেটা পিপিকে নাহ দেখলে বুঝতেই পারতাম নাহ।
আমার মনে হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পিপি হচ্ছে আমার পিপি।
আম্মু:- হ্যাঁ, মেহেনাকা অনেক ভালো মনের মানুষ কিন্তু তোর চাচ্চুটা হচ্ছে একটা জানোয়ার।
আমি:- মানে..?
আম্মু:- ওই জানোয়ারে তোর বড় দাদি মানে ওর নিজের মায়ের উপর ব্ল্যাক ম্যাজিক করেছিলো।
তোর দাদির উপর রক্তবাণ মারে ফলে কালো জাদু করার ৩দিন পরই তোর দাদি মারা যায় শুধু তাই নাহ তোর দাদির লাশ দাফন করার পর রাতের বেলা কাউকে নাহ জানিয়ে কবর ঘুরে তোর দাদির লাশ চুরি করতে গিয়েছিলো কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবান তখন এলাকাবাসী টের পেয়ে যায়।
আমরা সবাই এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকি তখন দেখি তোর চাচ্চু সারা শরীরে মাটি মাখামাখি করে কোত্থেকে যেনো দৌড়ে আসছে, তারপর আমাদের আর বুঝতে বাকি রইলো নাহ ও কি করতে গিয়েছিলো, তখনও তোর চাচ্চু বিয়ে করেনি।
আমি:- তারপর
আম্মু:- সে অনেক কথা আস্তে আস্তে সব বলবো তুই বস আমি রান্না করতে গেলাম।
আজকেও পরটা আর ডিম ভাজা দিলে হবে নাকী অন্যকিছু খাবি..?
আমি:- তোমার যা পছন্দ
ঘন্টা খানেক পর......
রুহানি:- চিশতি ভাইয়া, কাকিয়া খেতে ডাকছে তাড়াতাড়ি নিচে এসো....
আমি:- এই রুহানি, এদিকে এসো তোমার সাথে কথা আছে....
রুহানি:- কি কথা..?
আমি:- ভিতরে এসো..
রুহানি:- হ্যাঁ বলো
আমি:- তুমি তোহ বিভিন্ন ধরনের যৌক্তিক বই সংগ্রহ করো এবং ইতিহাস সম্পর্কে ঘাটাঘাটি করো
রুহানি:- হ্যাঁ! তোহ.?
আমি:- একটা কাজ করতে পারবে..?
রুহানি:- আমার মতো ইউজলেস মানুষ করবে তোমার কাজ.! হা!হা!হা!
আমি:- ফান করছি নাহ, আমি কিন্তু সিরিয়াস
রুহানি:- আচ্ছা বলো কিভাবে তোমার হেল্প করতে পারি
আমি:- কিছুদিন পর তোহ আমরা ভালুকা যাবো, ওখানে সব ধরনের বই পাওয়া যাবে,তুমি ওখন থেকে পঞ্চমা, চন্দ্রাবতী, সেনাপতি আয়াশ, আর ১০জন কালো জাদুকরের যতগুলো বই পাবে সবগুলো কালেক্ট করবে দরকার হলে আমার কাছ থেকে টাকা নিও তারপরও সবগুলো বই কালেক্ট করবে।
তারপর সবগুলো বই নিয়ে কিছুক্ষণ রিসার্চ করে আমাকে এই বইয়ের সত্যতা কতখানি জানাবে যদি সম্ভব হয় ওই জায়গার মানুষদের কাছেও জিজ্ঞেস করবে এই বিষয়ে।
রুহানি:- সবকিছুই বুঝলাম, কিন্তু তুমি এই বই সম্পর্কে জেনে কি করে, তাছাড়া এদের নামগুলো কিভাবে জানলে..?
এতদিন ধরে ইতিহাস ঘাটাঘাটি করেও এদের নাম কোনো বইয়ে পাইনি আর তুমি এদের ইতিহাস উদঘাটন করতে বলছো
আমি:- তুমি আমাকে হেল্প করবে কি নাহ..?
রুহানি:- আরে! আরে! করবো তোহ, কিন্তু কারণটা জিজ্ঞেস করেছি..?
আমি:- শুধু এইটুকু জেনে রাখো এদের সাথে আমার যোগসূত্র আছে...
আর একটা কথা এই কথাগুলো যেনো সিক্রেট থাকে কাউকে বলবে নাহ।
রুহানি:- আচ্ছা, তা নাহয় বললাম নাহ, কিন্তু কি যোগসূত্র ওইটা যদি...
আমি:- ওইটা আমি নিজেও জানি নাহ, কি যোগসূত্র আছে তা জানার জন্যই তোমাকে রিসার্চ করতে বলছি..
তখন দরজায় তাইমন ভাইয়ার নক...
তাইমন:- হ্যালো! লাভ বার্ডস, কি অবস্থা খেতে যাবে নাহ নাকী কথা বলেই পেট ভরবে আজকে..?
আমি:- তুইও নাহ যা তা বলিস, আয় নিচে যাই
আমি ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলাম তখনই আমার কানে ভেসে এলো..
তাইমন:- তোমাকে সাবধান করে দিচ্ছি, চিশতির আশেপাশে যেনো তোমাকে নাহ দেখি।
কালকে যে ভুলটা করেছো এই ভুল দ্বিতীয় বার যেনো নাহ হয় যদি দ্বিতীয় বার এমন কোনো ভুল করো তোমার শরীর থাকবে ঠিকই কিন্তু শরীরে প্রাণ থাকবে নাহ..
রুহানি:- মানে, তুমি কি আমাকে থ্রেট দিচ্ছো.?
তাইমন:- আরে মেরি বেহনা আই এম জাস্ট জোকিং, চলো খেতে চলো
রুহানি:- তুমি যেভাবে বললে আমি তোহ ভয় পেয়ে গেছিলাম।
তাইমন:- হা!হা!হা! সময় হলে ভয়টাও সত্যি হতে পারে
রুহানি:- কি বললে..?
তাইমন:- নাহ কিছু নাহ
তাইমন:- কিরে, তুই এখনো যাসনি..?
আমি:- নাহ, তোদের কথা শুনছিলাম
রুহানি:- তাইমন ভাইয়া কিন্তু অনেক মজার মানুষ হা!হা!হা!
তাইমন:- হ্যাঁ! তেমনই ভয়ংকর
আমি:- দেরি হয়ে যাচ্ছে আম্মু উপরে চলে আসবে ডাকতে ডাকতে তাড়াতাড়ি চল
সবাই একসাথে ব্রেকফাস্ট করলাম।
যে যার মতো ব্যস্ত, রুহানি চলে গেলো ভার্সিটিতে, হাসমি ভাইয়া চলে গেলো কাজে, আব্বু আর চাচ্চু ব্রেকফাস্ট নাহ করে সকালে আমাদের সাথে নামাজ পড়েই বড় বাজারে চলে গেছে ফিরতে নাকী সন্ধ্যা হবে।
বাসায় আমি, তাইমন ভাইয়া, আম্মি আর কাকিয়া আছি।
এভাবেই দিন কাটতে লাগলো, রুহানি আর আমার মধ্যে দিন দিন সুন্দর একটা সম্পর্ক হতে লাগলো।
সময় এলো আমাদের ভালুকা যাওয়ার। ঠিক করলাম প্রথম ট্যুরটা বাসেই হবে।
কারণ আমি কখনো বাসে উঠিনি তাই বাস জার্নি উপভোগ করতে চাচ্ছিলাম।
রুহানি:- চিশতি ভাইয়া..?
আমি:- হ্যাঁ! তাড়াতাড়ি বলো, বাসে জিনিসপত্র উঠাতে হবে..
রুহানি:- আচ্ছা, আমিও তোমাকে হেল্প করছি তাহলে
আমি:- তুমি বলো কি যেনো বলবে..?
রুহানি:- থাক, ভালুকা থেকে ফিরেই বলবো
আমি:- তোমার ইচ্ছা
তাইমন:- এই সর সর আমাকে জানালার পাশের সিটে বসতে দে
আমি:- এটা কিন্তু ঠিক হলো নাহ, জানালার পাশের সিট'টা আমার ছিলো
রুহানি:- তুমি পিছনে আমার সিটে বসো আমি এখানে বসছি
তারপর তাইমন ভাইয়া আমার সিটে বসে৷ আমি ওর পিছনে জানালার পাশের সিটে বসি আর রুহানি আমার পাশের সিটে বসে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস ছেড়ে দিলো, মাঝ পথে যাওয়ার পর এমন এক ভয়ংকর জ্যামে পরলাম ওখানে মনে হয় ১০-১৫ মিনিট লেট হইছে।
জ্যামের মধ্যে কি করবো কিছু ভেবে নাহ পেয়ে...
আমি:- আসসালামু আলাইকুম, আমি চিশতি
রুহানি:- ওয়া আলাইকুম সালাম, আমি রুহানি
আমি:- ওয়াও নাইস নেম, তা কোথায় যাচ্ছেন আপনি...?
রুহানি:- জ্বি আমি ভালুকা যাচ্ছি, বই মেলায়। আপনি কোথায় যাচ্ছেন..?
আমি:- আরে আমিও তোহ ভালুকাই যাচ্ছি বই মেলায়
রুহানি:- ওহ্ মাই গড, তাই নাকী.! তা আপনি থাকেন কোথায়..?
আমি:- আপাতত মুন্সিগঞ্জ থাকি, আপনি..?
রুহানি:- আমিও.. কোন উপজেলা..?
আমি:- মেবি সিপাহীপাড়া, আপনি.??
রুহানি:- আরে আমিও তোহ ওখানেই থাকি, ইন্টারেস্টিং তোহ যাই হোক কোন গ্রাম..?
আমি:- মিরাপাড়া, আপনি কোন গ্রামে থাকেন..?
রুহানি:- ওয়াও, আমিও তোহ..?
আমি:- সত্যি! কোন বাড়ির নাম কি আপনাদের...?
রুহানি:- কুরেশি ভিলা...
আমি:- আমিও তোহ কুরেশি ভিলায়ই থাকি
রুহানি:- আমি কুরেশি ভিলার নিচ তলায় থাকি আপনি
আমি:- আমি দোতলায়
আমাদের কথা শুনে পিছনের লোক বলছে...
-- আপনরা একই জেলার, একই উপজেলার, একই গ্রামের একই বাড়ি উপর তলা আর নিচ তলায় থাকেন অথচ কেউ কাউকে চিনেন নাহ..?
তাইমন:- ভাই আপনি বুঝবেন নাহ, জ্যামে পড়ে ওদের স্মৃতিশক্তি হারিয়ে গেছে
এমনিতে তোহ বাসায় লাভ বার্ড আর জ্যামে পড়ে কেউ কাউকে চিনে নাহ
-- মানে.??
তাইমন:- ওরা এতক্ষণ মজা করছিলো, আসলে ওরা একে অপরের চিনে।
আমাদের আজাইরা কথোপকথন শেষ হওয়ার ২-৫ মিনিট পর বাস আবার নিজ গতিতে চলতে থাকে।
আর আমি একটা আকাইম্মা ভেবেছিলাম বাস ট্যুর উপভোগ করবো কিন্তু আমি বাসেই ঘুমিয়ে পড়ি।
বিকেল ৫টার দিকে আমরা ভালুকা এসে পৌছাই।
রুহানি:- চিশতি ভাইয়া, এই চিশতি ভাইয়া, আল্লাহ গোহ এই ছেলের মাথাটা এত ভাড়ি ক্যান, জাগেও নাহ, এই চিশতি ভাইয়া উঠো
তাইমন:- এই শালা উঠ, মেয়ে মানুষের কাঁধ দেখলেই ঘুমতে ইচ্ছে করে, এতক্ষণ ডাকার পরও ঘুমের ভান ধরে ঘুমিয়ে আছে, উঠ শালা
আমি:- উহ্যা আমি কোথায়..?
উরি আমরা এসে গেছি..?
রুহানি:- হ্যাঁ অনেক আগে, এবার তাড়াতাড়ি নামো।
বাস থেকে সবাই অনেক আগেই নেমে পড়েছে, আমরা তিনজনই বাস থেকে এখনো নামিনি।
হেল্পার চেঁচাচ্ছে, তাড়াতাড়ি নামার জন্য।
ওরা দুইজন আমাকে রেখে এক এক করে নেমে পড়লো।
আমি যখনই বাস থেকে নামলাম তখনই যেনো চারিদিকে আচমকা জোড়ে বাসাত বইতে লাগলো।
কিছুক্ষণের জন্য যেনো মনটা খারাপ হয়ে গেলো, হয়তো আজকে আর মেলায় ঘুরা হবে নাহ, মেলায় ঢুকতে নাহ পারলে তোহ আমার সবকিছুই অজানা থাকবে।
আল্লাহ এই ঝড় যেনো থেমে যায়।
কিছুক্ষণ পর আবার সবকিছু স্থির হয়ে গেলো।
যাক কোনো তুফান বা বৃষ্টি হয়নি শুধু একটু জোড় বাতাস বইছে।
ভাবলাম রাতে মেলায় ঘুরে একটা ক্যাম্পাসে রুম বুক করবো আর নয়তো কোনো স্টুডেন্ট হোস্টেলে কারণ এই দুইটা জায়গা ছাড়া আর কোনো কিছুই আমার কাছে নিরাপদ মনে হলো নাহ।
যাই হোক থাকার ব্যবস্থা নাহয় ৮টার পর করা যাবে, আগে মেলার চারপাশটা ঘুরে আসি।
চলে এলাম মেইন গেইটের সামনে, সিকিউরিটি গার্ডদের কাছে টিকিট দিলাম, উনারা বললো এখন মেলায় প্রবেশ করা যাবে নাহ, এখন আমাদের ট্যুর ক্যাম্পে থাকতে হবে, সন্ধ্যার পর সবাই মেলায় যেতে পারবে তার আগে নাহ।
যাই হোক এতদিন অপেক্ষা করেছি আর কিছু মুহুর্ত অপেক্ষা করবো।
চলে এলাম ট্যুর ক্যাম্প রেস্ট রুমে, এখানে তেমন কিছুই নেই, একটা বিশাল রুম যার ভিরতে ২০০-৩০০ মানুষ বসে আড্ডা দেওয়া যায়।
আমরা তিনজনই এক কথায় ওই জায়গায় নতুন, তেমন কিছুই চিনি নাহ।
আমি একটু বুদ্ধি করে ওই জায়গার হোস্টের সাথে কথা বললাম যিনি এই বুক ফেয়ারটা অর্গানাইজড করেছে।
যেহেতু আমাকে দেখতে বিদেশিদের মতো সে জন্য হোস্টকে কনভিন্স করতে কোনো প্রবলেম হলো নাহ।
উনি আমাদের তিনজনের দেখাশোনা করার দায়িত্ব একজন ট্যুরিজমকে দিলেন কিন্তু শর্ত হলো আমরা তিনজন ওই ট্যুরিজমকে ৩ হাজার টাকা দিবো তারপরও রাজি হলাম কজ এই অপরিচিত জায়গায় একজন ট্যুরিজম থাকা দরকার।
ট্যুরিজমের দায়িত্ব হলো আমরা যতক্ষণ মেলার বাইরে থাকবো ততক্ষণ আমাদের দেখে রাখবে আর আমরা মেলার ভিতরে থাকলে উনি উনার মতো থাকবে।
যাই হোক ৩হাজার টাকার মধ্যে ট্যুরিজম পেয়েছি এটাই অনেক।
আর আমরা তোহ মেলায় থাকবো এর বাইরে তোহ কোথাও যাবো নাহ।
সন্ধ্যা হয়ে গেলো, আমরাও একসাথে মেলায় ঘুরতে গেলাম।
আমি চুপসে রুহানিকে একটু ইশারা দিলাম, রুহানি আমাদের উদ্দেশ্য করে বললো...
রুহানি:- তোমরা এদিকটা ঘুরে দেখো আমি আমার স্টাডি সাবজেক্টের কিছু বই কিনে আনি।
আর আসতে দেড়ি হলে তোমরা চিন্তা করো নাহ আমি ট্যুরিজমের সাথে থাকবো।
আমি:- আচ্ছা সমস্যা নাই, তুমি যাও
তাইমন:- তোমাকে তোহ আনতেই মন চায়নি, তারপরও অনিচ্ছা সত্ত্বেও এনেছি
রুহানি:- কিছু বললে
তাইমন:- নাহ, তুমি যাও আর সাবধানে থেকো
রুহানি:- হ্যাঁ টেনশন করো নাহ
রুহানি চলে গেলো পঞ্চমা বিষয়ক সবক বই কালেক্ট করতে। আমি আর তাইমন একা একা মেলায় ঘুরছি।
হঠাৎ তাইমন ভাইয়া বলে....
তাইমন:- চিশতি একটা জিনিস দেখবি..?
আমি:- কি.?
তাইমন:- আয় আমার সাথে..
আমি:- কোথায়..?
তাইমন:- গেলেই দেখতে পারবি
এই বলে তাইমন ভাইয়া আমার হাত ধরে টানতে টানতে মেলার বাইরে চলে এলো
আমি:- কিরে মেলার বাইরে এলি কেনো, রুহানি খুঁজবে তোহ...?
অন্তত ট্যুরিজমকে বলে আসি চল...
তাইমন:- কাউকে কিচ্ছু বলতে হবে নাহ, আমরা যাবো আর আসবো
আমি:- কিন্তু কোথায় যাবো..?
তাইমন ভাইয়া আমার৷ হাত ধরে টেনে নিয়ে এলো একটা খোলা মাঠে, যেখান থেকে আকাশের চাঁদটা খুব সুন্দর দেখা যাচ্ছিল।
চারিদিকটাও অনেক সুন্দর, হাল্কা মৃদু বাতাস, ফাঁকে ফাঁকে কিছু জোনাকি দেখা যাচ্ছে।
আমি:- কিরে এখানে নিয়ে এলি..?
তাইমন:- জায়গাটা দেখ চন্দ্রা...
আমি:- চন্দ্রা..? চন্দ্রাটা কে রেহ..?
তাইমন:- তুই
আমি:- মানে..?
তাইমন ভাইয়া ওর দুই হাত দিয়ে আমার গাল দুটো ধরে বললো....
তাইমন:- মনে কর চন্দ্রা, তুই আমার চন্দ্রা আমি তোর আয়াশ
এই জায়গায় একটা ছোট্ট নদী ছিলো যেখানে আমরা প্রতিদিন দেখা করতাম, তুই আমাকে প্রতিজ্ঞা করেছিলি আমাদের ভালোবাসা থাকবে জন্ম জন্মান্তরে কিন্তু তাহলে কেনো তুই তোর কথা রাখলি নাহ, তুই কেনো ছেলে হয়ে জন্ম নিয়েছিস..?
আমি:- দেখ তোর কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি নাহ আমি, এসব বাদ দে আগের জন্ম বলে কিছু হয় নাহ, আর দেখ আমরা কত ভালো বন্ধু, তুই ওইসব উল্টাপাল্টা চিন্তা করিস নাহ।
[আমার কেমন একটু একটু ভয় করতে লাগলো তাইমন উল্টাপাল্টা কিছু করবে নাহ তোহ]
আমার গাল থেকে তাইমনের হাত দুটো ছাড়িয়ে চলে আসছিলাম তখনই পিছন থেকে তাইমন আমার হাত টান দিয়ে কিছুটা অনুরোধ করতে লাগলো...
তাইমন:- প্লিজ চন্দ্রা এমন করিস নাহ, আমি তোকে আগের জন্মে পাইনি কিন্তু এই জন্মে হারাতে চাই নাহ, তুই মনে কর আমি তোর আয়াশ।
তোর সবকিছু মনে পড়লে আমরা এখান থেকে অনেক দূরে চলে যাবো আমাদের কেউ খুঁজে পাবে নাহ, তুমি যেমন আছিস আমি তোকে সেভাবেই স্বীকার করে নিবো তারপরও তুই আমাকে ছেড়ে যাস নাহ।
আমি:- তুই পাগল হয়ে গিয়েছিস, আমি তোর পাগলামোতে এক মত নই, আমি গেলাম।
আর কখনো এসব কথাবার্তা বলবি নাহ, আমি যেমন আছি বেশ আছি তুইও নিজেকে নিয়ে খুশি থাক।
যদিও আমি আগের জন্মকে বিশ্বাস করি নাহ তারপরও বলছি, হয়তো কোনো কারণ ছিলো যার জন্য তোর সাথে আমার সম্পর্ক হয়নি আর এটাও সত্যি তোর সাথে আগের জন্মে যেহেতু আমার মিল হয়নি এজন্মে যেনো মিল নাহ হয় সেজন্যই হয়তো আমি ছেলে হয়ে জন্মেছি।
এটা বিশ্বাস কর আর সব ভুলে যা।
আমি চলে আসবো ঠিক তখন আমার চারিদিকে আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠতে লাগলো।
কিন্তু হঠাৎ এভাবে চারিদিকে আগুন জ্বলে উঠলো কিভাবে, তখনই পিছন থেকে তাইমন হাসতে শুরু করে...
তাইমন:- হা!হা!হা! তুই কি ভেবেছিলি তোকে এত সহজে আমি ছেড়ে দিবো, তোকে ছেড়ে দিবো বলে তোহ এখানে আনিনি...
আজ এখানে তোর সাথে আমার বিয়ে হবে...
আমি:- মানে..? তুই কি পাগল হয়ে গিয়েছিস..?
এমন ভুল করবি নাহ
তাইমন:- তুই কি ভাবছিস তোর সাথে সংসার করার জন্য আমি বিয়ে করবো..?হা!হা!হা!
আমি:- প্লিজ ভাই আমার এমন করিস নাহ
তাইমন:- চুপ! একদম চুপ! আজকে তোর সাথে আমার বিয়ে হবে তারপর তোর নাভি থেকে ওই পঞ্চশক্তিকে হাসিল করবো, ওই পঞ্চশক্তিকে হাসিল করে আমি ওই ১০জন বেইমানকে মারবো যারা আমার সাথে বেইমানি করেছে..
আমি বাইরে আসার অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু কিছিতেই বের হতে পারছি নাহ,, আগুন যেনো আরো বেড়ে যাচ্ছে।
তখনই তাইমন আমার উপর কি যেনো করলো আমি একদম ওর বশে চলে গেলাম।
আমি সবকিছু দেখতে পারছি, সবকিছু বুঝতে পারছি কিন্তু কিছুই করতে পারছি নাহ।
তখনই ওই জায়গায় একটা বৃদ্ধ মহিলা এসে হাজির...
বৃদ্ধ:- ওহে পাপাত্মা, এই পাপ কার্য করিস নে
ধ্বংস হয়ে যাবি ধ্বংস
তাইমন:- আজ প্রকৃতি নিজেও আমাকে আটকাতে পারবে নাহ, আর তুই বুড়ী এসেছিস আমাকে আটকাতে
কিচ্ছু করতে পারবি নাহ, এই মায়া আগুন কেউ নিভাতে পারবে নাহ আর চন্দ্রাও এখান আমার বশে ওর মধ্যে এখনো কোনো শক্তি জাগ্রত হয়নি।
ওর সাথে বিয়ে হয়ে গেলে ওকে হত্যা করে ওর সব শক্তি আমি নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসবো হা!হা!হা!
বৃদ্ধ:- ভুলে যাসনে পাপি! আগের জন্মেও তোরা একই ভুল করেছিলি কিন্তু সফল হতে পারিসনি এবারও পারবি নাহ।
তাইমন বৃত্ত আকৃতির আগুনের ভিতরে আগুন জ্বালিয়ে হিন্দু শাস্ত্রানুযায়ী আমার সাথে বিয়ে করছে, আমি সবকিছু দেখতে পারছি কিন্তু কিছুই করতে পারছি নাহ।।
তাহলে কি এই ছিলো আমার ভাগ্যে..?
এই ছিলো আমার প্রতিশোধ..?
আমার এই জন্মও বৃথা..?
তাইমন আমাকে নিয়ে আগুনের চারপাশে ঘুরতে শুরু করে।
একে একে ৩বার ঘোরা শেষ।
তখনই ওই জায়গায় রুহানি আসে....
রুহানি:- তাইমন ভাইয়া! কি করছো তুমি..?
চিশতি ভাইয়া আমি ওই পঞ্চমা আর কালো জাদুকরদের বিষয়ে সবকিছু জেনেছি
তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে, তুমি ওর কাছ থেকে এদিকে এসো
বৃদ্ধ:- লাভ নেই, চিশতি এখন ওই পাপির বশে, হাজার ডাকলেও সে শুনতে পারবে কিন্তু জবাব দিতে পারবে নাহ
রুহানি:- কিন্তু কিভাবে এমনটা হলো..?
বৃদ্ধ:- ওই পাপাত্মা সয়তান ওর উপর তন্ত্র মন্ত্র করেছে ওকে৷ মায়া আগুনে আটকে রেখেছে
রুহানি:- চিশতি ভাইয়াকে ওই আগুন থেকে বের করবো কিভাবে আর ও সজ্ঞানে আসবে কিভাবে তাছাড়া ওই আগুনটাই বা নিভাবো কিভাবে..?
বৃদ্ধ:- এটা মায়া আগুন এটা শুধুমাত্র ২টা উপায়েই নিভবে..
রুহানি:- কি কি
বৃদ্ধ:- এক এই বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর চিশতিকে হত্যা করার পর
দুই যদি কেউ এই আগুনে নিজের জীবন আহুতি দেয়
তখন রুহানি আমার দিকে তাকিয়ে দেখে তাইমন ৭পাক সম্পূর্ণ করেছে এবার হয়তো বিয়েটাও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
রুহানি দৌড়ে আগুনের সামনে গিয়ে চিৎকার করে বলে....
রুহানি:- চিশতি ভাইয়া, জানি নাহ তুমি আমার কথাগুলো শুনছো কি নাহ, কিন্তু তোমাকে একটা কথা বলবো বলেছিলাম সেটা বলে দিচ্ছি, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি জানি নাহ তোমাকে এক দেখাতে কেনো এত ভালোবেসেছিলাম তোমার সাথে থাকলে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি মনে হতো।
হয়তো কোনোদিন তোমার আর আমার সম্পর্কটা কেউ মেনে নিতো নাহ কিন্তু আমি তোমাকে এক দেখাতে কেনো জানি নাহ এত ভালোবেসেছিলাম তোমার সাথে থাকলে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি মনে হতো।
হয়তো কোনোদিন তোমার আর আমার সম্পর্কটা কেউ মেনে নিতো নাহ কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি এটা সত্যি।
আজকের পর হয়তো তোমাকে কখনো এই কথাগুলো বলা হবে নাহ তাই বলে দিলাম, আমার জীবন তোমার নামে উৎসর্গ করলাম মনে রেখো আমাকে সারাজীবন।
এই বলে রুহানি আগুনের মধ্যে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো চোখের পলকে রুহানি আগুনে পুড়ি ছাই হয়ে গেলো সাথে সাথে আমার মোহ কেটে গেলো এবং চারিদিকের আগুনও নিভে গেলো।
আমি তাকিয়ে দেখি তাইমন নিজের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে সেই রক্ত আমার মাথার উপর লাগাবে কিন্তু তখনই আমি নিজেকে সামলাতে নাহ পেরে তাইমনের উপর একটা ঝাপ দিলাম।
ঝাপ দিয়ে কোনো মানুষ নাহ বাঘ রূপী আমি পড়লাম তাইমনের উপর।
তাইমনের উপরে পড়েই ওর গলা কামড়ে ছিড়ে ফেললাম।
শরীর থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে গেলো।
এবার আমি মানুষ রূপ ফিরলাম।
কি হলো...?
আমি মানুষ থেকে বাঘ হলাম কি করে..?
এটা তোহ পঞ্চশক্তি নাহ তাহলে এটা কোন শক্তি..?
তখনই ওই বৃদ্ধ আমার সামনে আসে...
বৃদ্ধ:- সত্যি! সত্যি! সত্যি তোমার আগের জন্মের কথা সব মনে পড়েছে..?
আমি:- হ্যাঁ সব কথা মনে পড়েছে কিন্তু এটা কোন শক্তি এটা তোহ পঞ্চশক্তির কোনো অংশ নয়..?
বৃদ্ধ:- এটা তোমার উপাসনা ফল, এটা তোমার ষষ্ঠ শক্তি।
আমি:- কিন্তু আমার উপাসনা তোহ সম্পূর্ণ হয়নি
বৃদ্ধ:- তোমার মায়ের দেওয়া পঞ্চশক্তির ফলে তোমার উপাসনা অল্প কিছু দিনেই সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো যা তুমি বুঝতে পারোনি
আমি:- তাহলে তুমি কে..?
বৃদ্ধ:- আমি সাক্ষী
আমি:- সাক্ষী!
সাক্ষী:- হ্যাঁ আমি....তোহ কিভাবে তোমার সব কথা মনে পড়লো..?