পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ০১

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০১ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১

চাঁদনী রাতে এক অজানা রাস্তা ধরে পাগলের মতো ছুটছি আমি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, চাঁদনী রাত হলেও কোনো আলোর দেখা নেই। চারদিকে শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঝিঁঝি পোকা ও প্যাঁচার ডাক এই রাতকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। বুঝতে পারলাম, আমার পেছনে একটা বিশাল সাপ ধাওয়া করছে। আমার হৃদস্পন্দন বাড়ছে, শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। মাথায় শুধু একটা চিন্তা কীভাবে এই ভয়ংকর প্রাণী থেকে নিজেকে বাঁচাবো। কোনো কিছু না ভেবে আমি দৌড়াতে থাকি। বেশ কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর হঠাৎ করে উপলব্ধি করি যে, সাপটা আর আমার পেছনে নেই। একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই, ঘাড় নেড়ে পিছনে তাকাই এবং দেখি, ১০-১১ জন মানুষ আমার পেছনে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু অন্ধকারের কারণে তাদের চেহারা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আমি কিছুতেই সাহস পাচ্ছি না দাঁড়ানোর। আমার মনে হচ্ছে, এরা আসলে মানুষ নয়, বরং মানুষ রূপী কোনো শয়তান। ভয় ও আতঙ্কে আমি আরও জোরে দৌড়াতে শুরু করি। হঠাৎ করেই, আমার সামনে থেকে সেই বিশাল সাপটি এসে হাজির হয় এবং আমাকে পেঁচিয়ে ধরে। মনজুড়ে তখন শুধুই ভয় এবং বাঁচার আকুতি। আতঙ্কিত হয়ে আমি একটি চিৎকার দিয়ে উঠি। চিৎকার দিতেই আমার পিপি "মেহেনাকা" দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো...

মেহেনাকা:- আবারও সেই স্বপ্ন...?

এই বলে পিপি আমার নাভিটা চেপে ধরলো।

কারণ যখনই আমি এই স্বপ্নটা দেখতাম তখনই আমার নাভি দিয়ে রক্ত বের হতো।

হ্যালো, আমি চিশতি, জন্মগত পাকিস্তানি হলেও আমার পিতা-মাতা ও পরিবারের সবাই বাংলাদেশী।

বাংলাদেশে আমার আব্বু-আম্মু, দুই বোন [বড় আপু আয়েশা, ছোট আপু মরিয়ম] ও ভাইয়া[লাবিব] থাকে। আর পাকিস্তানে আমি আমার পিপির কাছেই থাকি।

কেনো পিপির কাছে থাকি সেটাও আস্তে আস্তে ক্লিয়ার হবে মূল গল্পে।

☞ প্রায় একই স্বপ্ন দেখতাম বলে পিপি ওইদিন রাতে আবারও ফুফাজি [মিনহাজ]কে ডাক দেয়, ফুফাজি এসে বলে...

মিনহাজ:- প্রায়ই তোহ একই স্বপ্ন দেখে, তুমি ওকে নিয়ে আবারও ইমাম সাহেবের কাছে যেও।

মেহেনাকা:- আচ্ছা, আমি কালকেও চিশতিকে নিয়ে আবারও ইমাম সাহেবের কাছে যাবো।

এই বলে পিপি ও ফুফাজি আমার রুম থেকে চলে গেলেন।

পরদিন পিপি আমাকে নিয়ে ইমাম সাহেবের কাছে এলেন, ইমাম সাহেব আমাকে দেখে বললে...

ইমাম সাহেব:- ক্যায়া হুয়া চিশতি ব্যাটা..? ফির স্য ওয়াহি স্বাপ্না..?

আমি:- হা ইমাম সাব। পাতা ন্যহি ম্যরে সাথ হ্যি কিয়্যু ব্যাইসা হোতা হ্য..?

ইমাম সাহেব:- তুম চিন্তা মাত কারো ম্য হু নাহ...

বহুত জাল্দহী তুম পেহল্য তারহা হো যাওগ্য...!

এই বলে ইমাম সাহেব আমাকে এক বোতল সরিষার তেল ও এক গ্লাস পানিতে ফুক দিয়ে দিলো।

তেল পড়া তিন বেলা নাভিতে মাখতে বললো ও পানি পড়া সারাদিনে যখন খুশি নিয়ম করে খেতে বললো।

আমি তার দেওয়া পানি পড়া ও তেল পড়া নিয়ম করে ব্যবহার করতে লাগলাম।

একদিন রাতে আমি পিপির রুমে যাচ্ছিলাম হঠাৎ আমার ডান পায়ে হাঁটুর উপর প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলাম যার ফলে আমি এগোতে পারছিলাম নাহ।

ব্যথায় জোড়ে জোড়ে পিপিকে ডাকতেই পিপি ছুটে আসে আমার কাছে, এসে দেখে আমি প্রচন্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছি।

পিপি:- কোথায় ব্যথা হচ্ছে ব্যাটা..?

আমি:- পিপি.! পিপি আমার ডান পায়ে অনেক ব্যথা হচ্ছে.!

[আমিসহ পিপিদের বাসার সবাই উর্দুতে কথা বলতাম, গল্প লিখার সুবিধার্থে বাংলায় ডাবিং করে দিয়েছি যাতে তোমাদের বুঝতে অসুবিধা নাহ হয়]

তারপর পিপি আমার ডান পায়ের কাপড়টুকু সরিয়ে দেখা মাত্রই একটা চিৎকার দিয়ে বললো...

পিপি:- একি চিশতি ব্যাটা তোর পায়ে যে জন্মচিহ্নটা আছে ওইটা থেকে আলো বের হচ্ছে...?

[বলতে ভুলে গেছি, আমার ডান পায়ে হাঁটুর উপর একটা জন্মচিহ্ন আছে দেখতে সাপের মতো]

আমি প্রচন্ড ব্যথায় কান্না করে যাচ্ছি ওদিকে পিপি আমার হাঁটুতে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, সে ভাবছে হাত বুলিয়ে দিলে হয়তো আমি কিছুটা স্বস্তি পাবো।

পিপি:- এত রাতে আমি একা মানুষ কি করবো বল তো..? বাসায়ও কেউ নেই, তুই একটু সহ্য কর বাবা আমি ইমাম সাহেবকে ডেকে আনছি।

কতক্ষণ যন্ত্রণায় ছটফট করেছি খেয়াল নেই।

অন্যদিকে পিপি ইমাম সাহেবের বাড়ি গিয়ে ইমাম সাহেবকে ডাকছে....

পিপি:- ইমাম সাহেব.! ওওও ইমাম সাহেব বাসায় আছেন..?

ইমাম সাহেব:- আসছি.... কে.? এতরাতে কে ডাকছে..?

পিপি:- জ্বি আমি মেহেনাকা.! আপনাকে একবার আমার সাথে যেতে হবে..

ইমাম সাহেব:- কি হয়েছে.? কোথায় যেতে হবে আমাকে তাও আবার এতরাতে.?

পিপি:- ইমাম সাহেব চিশতির শরীর অনেক খারাপ আপনাকে এক্ষুনি আমার সাথে যেতে হবে...

ইমাম সাহেব:- কি হয়েছে চিশতি ব্যাটার...?

পিপি:- এখন এতকিছু বলার সময় নেই ইমাম সাহেব.! আপনি তাড়াতাড়ি চলুন আমার সাথে..!

বেশ কিছুক্ষণ পর পিপি ইমাম সাহেবকে নিয়ে এলো....

পিপি:- ইমাম সাহেব, চিশতি আমাকে ডাকার জন্য ওর ঘর থেকে বের হয়েছিলো হঠাৎ করেই ওর পায়ে ব্যথা শুরু আর ফ্লোরে পরে যায় তারপর আমি ওর পায়ের কাপড় সরিয়ে দেখি ওর জন্মচিহ্ন থেকে আলো বের হচ্ছে।

ইমাম সাহেব:- কি.! জন্মচিহ্ন থেকে আলো বের হচ্ছে.?

পিপি:- হ্যাঁ.! এর আগে কখনো এমনটা হয়নি আজকেই হঠাৎ করে এমনটা হলো..!

ইমাম সাহেব:- কই দেখি ওর জন্মচিহ্নটা কেমন...?

তারপর পিপি ইমাম সাহেবকে আমার ডান পায়ের হাঁটুর উপরে থাকা জন্মচিহ্নটা দেখালো, জন্মচিহ্নটা থেকে ইমাম সাহেব বললো....

ইমাম সাহেব:- এটা দেখতে তোহ অবিকল সাপের মতো...? এই জন্মচিহ্নের জন্যই হয়তো চিশতি ব্যাটা মাঝে মাঝেই ওইরকম স্বপ্ন দেখে...

পিপি:- তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু জন্মচিহ্ন থেকে আলো বের হচ্ছে তার সাথে পায়ে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে কেনো..?

ইমাম সাহেব:- মেহেনাকা.! আজকে আকাশের দিকে খেয়াল করেছো..?

পিপি:- নাহ ইমাম সাহেব.! কেনো কি হয়েছে..?

ইমাম সাহেব:- যাও একটু আকাশটা দেখে আসো...

পিপি জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো...

পিপি:- ইমাম সাহেব আজকে তোহ পূর্ণিমা..?

ইমাম সাহেব:- হ্যাঁ, আজকে পূর্ণিমা.! আমার অভিজ্ঞতায় যা বুঝতে পারলাম চিশতি ব্যাটার সাথে সাপেদেরর কোনো একটা যোগসূত্র আছে...

পিপি:- কি বলছেন ইমাম সাহেব এমনটা হবে কেনো..?

চিশতি ব্যাটা একজন মানুষ ওর সাথে সাপেদের সম্পর্ক থাকতে যাবে কেনো..?

তাছাড়া চিশতি ব্যাটা তোহ ছোট থেকে আমার কাছে বড় হয়েছে..?

ইমাম সাহেব:- জানি নাহ, মেহেনাকা.! কিন্তু আমার মন বলছে কিছু তোহ একটা কাহিনি আছে যেটা তুমি, আমি এমনকি আমরা কেউ জানি নাহ.!

নয়তোবা কেনোই বা চিশতি ব্যাটার পায়ে সাপের মতো জন্মচিহ্ন হবে আর কেনোই বা সে তার স্বপ্নে সাপকে দেখবে আর আজকে পূর্ণিমার রাতেই বা কেনো ওর জন্মচিহ্ন আলোকিত হবে কেনোই বা সে তার জন্মচিহ্নে ব্যথা অনুভব করবে..?

পিপি:- আমিও জানি নাহ ইমাম সাহেব.! কি হচ্ছে আমার ব্যাটার সাথে.? আপনি কিছু একটা করুন যাতে চিশতি ব্যাটার ব্যথাটা একটু কমে যায়।

পিপির কথা মতো ইমাম সাহেব আমাকে একটু ঝাড়ফুঁক করলো এক গ্লাস পানি পড়ে দিলো...

আমি সেই পানিটুকু খাওয়ার পরেই ঘুমিয়ে পরলাম।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, পিপি আর হায়াতি [আমার ফুফাতো বোন] রান্নাঘরে রান্না করছে...

দোতলা থেকে নামতে নামতে বললাম...

আমি:- কিরে হায়াত কখন ফিরলি..?

হায়াতি:- হায়াতি:- এইতো চিশ কিছুক্ষণ আগেই এসেছি...!

আমি:- ওহ্ আচ্ছা তাহলে রান্নাঘরে কি করছিস..? পিপিকে হেল্প করছিস নাকী..?

হায়াতি:- নাহ.! আজকে আমি রান্না করবো আর আম্মি আমাকে হেল্প করবে..!

আমি:- কি.! তুই রান্না করবি আর ওই রান্না সবাই খাবে..? বলি খাওয়ার যোগ্য হবে তোহ..?

এই বলে আমি হাসতে লাগলাম..

হায়াতি:- আম্মি চিশ'কে কিছু বলে দাও বলছি..? ও কিন্তু আমাকে সাথে মজা নিচ্ছে..!

পিপি:- চিশতি ব্যাটা সবসময় সত্যি কথা বলে নাহ..!

হায়াতি:- আম্মি তুমিও...

পিপি:- আচ্ছা বাদ দে এসব এখন রান্নায় মনোযোগ দে..

আমি:- দেখিস চিনি ভেবে নুন দিয়ে দিস নাহ...

হায়াতি:- যাহ তোহ তুই তোর কাজে যাহ আমাকে রান্না করতে দে...

কিছুক্ষণ পর...

হায়াতি:- আম্মি রান্নাঘরে তোহ কাজু নেই এখন পায়েসে কি দিবো...?

আমি:- দাঁড়া, আমি কাজু এনে দিচ্ছি...

হায়াতি:- তুই এখন বাজারে যাবি কাজু আনতে...?

আমি:- আরে নাহ এখানে দাঁড়িয়ে থেকেই আনবো...

হায়াতি:- বাপরে তুই জাদুকর হলি কবে থেকে..? আচ্ছা জাদুকর মশাই পারলে কাজু এনে দেখান...

আমিও হায়াতির কথা মতো হাত বাড়িয়ে দিয়ে কাজু আসতে বললাম...

আমার কথা মতো সত্যি সত্যি আমার হাতে কাজু চলে এলো...

এটা দেখে আমি, হায়াতি ও পিপি তিনজনই অবাক হলাম কি করে এমনটা হলো..?

আমি তোহ হায়াতির সাথে মজা করতে করতে বললাম কাজু এনে দিবো কিন্তু সত্যি সত্যি কি করে চলে এলো..?

হায়াতি:- এটা কিভাবে সম্ভব..?

আমি:- আমি নিজেও জানি নাহ বিশ্বাস কর..!

পিপি:- চিশতি ব্যাটা তোমার ঘরে যাও...

পিপির কথা মতো আমি আমার ঘরে চলে এলাম...

কিছুক্ষণ পর হায়াতি আমাকে ডাকতে এলো...

হায়াতি:- আম্মি তোকে খেতে ডাকছে.. তাড়াতাড়ি আয়...

নিচে গিয়ে দেখি ফুফাজি এখনো ফিরেনি।

তাইমন ভাইয়া একটা লাগেজ নিয়ে এসেছে...

[তাইমন হলো আমার পিপির বড় ছেলে বয়সে আমার থেকে বড় হলেও আমরা বন্ধুর মতো, নাহ বন্ধুর মতো নাহ আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড]

আমি:- কিরে তাইমন ভাইয়া লাগেজে কি এনেছিস..?

তাইমন:- তোদের জন্য গিফট এনেছি...

আমি:- ওহ্ আচ্ছা.! তাহলে তাড়াতাড়ি দে...

হায়াতি:- হ্যাঁ ভাইয়া তাড়াতাড়ি দে নাহ আর অপেক্ষা করতে পারবো নাহ...

পিপি:- গিফট টিফট পরে হবে আগে খেতে এসো..

তারপর আমরা সবাই একসাথে খেতে বসলাম...

খাওয়ার মাঝখানে তাইমন ভাইয়া বললো..

তাইমন:- উমমম.! রান্নাগুলো দারুণ হয়েছে.! এসবের সাথে যদি খাসির গোস্তো হতো আরো জমে যেতো...

তখন আমি বললাম...

আমি:- তুই খাসির গোস্তো খাবি...?

তাইমন:- হ্যাঁ...!? হলে খারাপ হয় নাহ..

আমি:- দাঁড়া, এনে দিচ্ছি..?

পিপি:- তুমি কোথায় পাবে.? বাসায় তোহ আজকে খাসির গোস্তো রান্না হয়নি..? তুমি কি এখন বাইরে যাবে গোস্তো কিনতে..?

আমি:- আরে নাহ পিপি তুমি শুধু দেখোই নাহ...

এই বলে আমি আবারও হাতটা সামনে এগিয়ে দিয়ে রান্না করা খাসির গোস্তো চাইলাম ওমনি সাথে সাথে আমার হাতে খাসির গোস্তো চলে এলো...

আগের বারের মতো এবারও আমরা সবাই অবাক কি করে এমনটা হলো...

রীতিমতো আমি একদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।

তারমানে আমার মধ্যে কোনো সুপার ন্যাচার পাওয়ার আছে..?