পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১০

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১০ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১০

আমাদের লাগেজগুলো গাড়িতে রেখে যে যার মতো করে গাড়ি উঠে বসলাম...

গাড়িটা কিছু দূর যাওয়ার পর আব্বু হঠাৎ করে উঠে....

আব্বু:- ভাই গাড়িটা সামনে থামান..

গাড়ির ড্রাইভার আব্বুর কথামতো গাড়িটা থামিয়ে দিলো...

হাসমি:- কি হলো আব্বু গাড়ি থামাতে বললে কেনো..?

আব্বু:- চিশতি, তাইমন এসো কিছু খেয়ে নিবে, বেলা প্রায় ১১টার কাছাকাছি এখনো কারো সকালের নাস্তা করা হয়নি...

আব্বু কথামতো আমরা সবাই ওইখানে থাকা একটা হোটেলে গেলাম...

হোটেলে গিয়ে আব্বু সবার জন্য পরোটা আর অমলেট অর্ডার করে, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের অর্ডার চলে আসে।

আমরা সবাই খারাব খাচ্ছিলাম তখন ভাইয়া আমাকে জিজ্ঞেস করে...

হাসমি:- কিরে চিশতি তোর কি প্রবলেম হচ্ছে..?

আমি:- নাহ! ভাইয়া, কেনো..?

হাসমি:- তাহলে খাচ্ছিস নাহ কেনো..?

আমি:- আসলে আমার কিছু প্রশ্ন করার ছিলো, কথাগুলো এখানে বলবো নাকী বাড়ি গিয়ে সেটাই ভাবছি...?

আব্বু:- কি প্রশ্ন বাবা..? এখানেই বলো..!

তাইমন:- তোর আবার কি প্রশ্ন করার আছে, বাচ্চা মানুষ চুপচাপ খা..

আমি:- চুপ করবি শ্লা, তোর খাওয়ার তুই খা নাহ..

তাইমন:- হ্যাঁ, খাবোই তোহ কারণ আমার ক্ষুধা লেগেছে তোর মতো আজাইরা সময় নষ্ট করবো নাহ, আগে পেট পূজা পরে দুনিয়া...

আমি:- চুপচাপ খা, খালি আমার পিছনে লাগাটা তোর স্বভাব হয়ে গেছে...

চিত্রা:- কিরে, তোর একে অপরের সাথে কি এত ফুসুরফাসুর করছিস..?

আমি:- তেমন কিছু নাহ আপুনি..

চিত্রা:- তাহলে বল তোর কি প্রশ্ন..

আমি:- আম্মু তোমাদের সাথে এলো নাহ কেনো..?

হাসমি:- আরে, আম্মু তোহ আসতে....

আব্বু:- উত্তরটা আমি দি...

হাসমি:- আচ্ছা আব্বু..

আব্বু:- তোমার আম্মু আসতে ছেয়েছিলো কিন্তু আমিই উনাকে আসতে বারন করেছি..

আমি:- কেনো..?

আব্বু:- তোমার আম্মু যদি আমাদের সাথে আসে তাহলে তোমার জন্য রান্নাবান্না কে করতো বলো তোহ...

আমি:- ওহ্, কিন্তু আম্মুকে সাথে নিয়ে এলেও পারতে...

একটা দিন রান্নাবান্না নাহ করলে এমন কিছু হতো নাহ..

চিত্রা:- তা ঠিক, কিন্তু ঘরের ছেলে এত বছর পর ঘরে ফিরছে নিজের হাতে রান্না করে নাহ খাওয়ালে হয় বল...

আমি:- আচ্ছা, সবটাই বুঝলাম আমার আরেকটা প্রশ্ন আছে...

চিত্রা:- আবার কি প্রশ্ন.? আগে খেয়ে নে বাড়ি যেতে যেতে সব শুনবো...

আমি:- কিন্তু উত্তরটা আমার এখনো দরকার

তাইমন:- এই শ্লা, তুই কি এখানে গোয়েন্দাগিরী করতে এসেছিস, চুপচাপ খা নাহ এত প্রশ্ন করার কি আছে...

আমি:- তুই কি একটা মিনিটও চুপ থাকতে পারিস নাহ..?

তাইমন:- যাহ, তোর যা ইচ্ছা কর আমি আর কিছুই বলবো নাহ...

আমি:- হ্যাঁ একদম চুপ..

আব্বু:- বলো আর কি জানতে চাও তুমি...

আমি:- আমি পাকিস্তানে থাকা কালীন পিপি বলেছিলো আমার বড় ভাইয়ার নাম লাবিব, বড় আপুনির নাম আয়েশা আর ছোট আপুনির নাম মরিয়ম কিন্তু এখানে আসার পর শুনলাম তুমি ওদের হাসমি আর চিত্রা বলে ডাকছো..?

তাহলে ওদের কোন নামটা আসল..?

আব্বু:- ওদের দুইটা নামই আসল, ওদের পরিচয় পত্রে দেওয়া আছে, আয়েশা, মরিয়ম, লাবিব আর আমরা ওদের চৈতী, চিত্রা ও হাসমি বলেই ডাকি।

আমি:- ওহ্ তাহলে কি আমারও অন্য কোনো নাম আছে...?

আব্বু:- নাহ! নাহ! তোমার তোহ একটাই নাম।

এবার খেয়ে নাও খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে...

খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবারও গাড়িতে গিয়ে বসলাম।

আজ প্রথম বারের মতো বাংলাদেশটা দেখছি, কত সুন্দর এই দেশ, কত সুন্দর এই দেশের প্রকৃতি।

জানালার কাচ নামিয়ে দিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়ি।

আসলে আমি লং ড্রাইভ বা কোনো কার ট্যুর দিলে আমার ঘুম চলে আসে।

যাই হোক, কিছুক্ষণ পর তাইমন আমাকে ধাক্কাতে থাকে...

তাইমন:- ওই, উঠ! ওই, আরে উঠ!

আমি:- আবার কি হয়েছে..?

তাইমন:- গাড়িতেই সংসার করার ইচ্ছে আছে নাকী..?

আমি:- মানে..?

তাইমন:- তোদের বাড়ি চলে এসেছি...

আমার কেমন লজ্জা লাগছে...হিঃ হিঃ হিঃ

আমি:- শ্লা বিয়ে করতে এসেছিস নাকী যে তোর লজ্জা লাগবে...

তাইমন:- হ্যাঁ, করতেও পারি যদি ভালো কোনো বাঙালী মেয়ে পেয়ে যাই....

এই তোর ছোট আপুনির কি বিয়ে হয়ে গেছে..?

আমি:- শ্লা ভন্ড, আপুনি তোর খালার বয়সী...

তাইমন:- হয়েছে! হয়েছে! এবার গাড়ি থেকে নাম, সবাই চলে গেছে আমরা কি এভাবেই গাড়িতে থাকবো....

হাসমি:- কিরে, তোরা এখনো গাড়িতেই থাকবি নাকী..?

আমি:- আসছি ভাইয়া...

তাইমন:- চল, তাড়াতাড়ি নাম...

তুই আগে আগে চল আমি পিছু পিছু আসছি...

আমি:- তুই নাহ নিজেকে বাঘ ভাবিস তাহলে এবার আগে আগে গিয়ে প্রমাণ কর...

হাসমি:- কিরে, তোরা কি লজ্জা পাচ্ছিস নাকী..?

গাড়ি থেকে নামবি নাহ..?

আমরা গাড়ি থেকে নেমে এলাম, তাইমন ভাইয়া আমার আগে আর আমি ওর পিছনে, আমাদের পথ দেখিয়ে ভাইয়া নিয়ে যাচ্ছে।

আমরা ভাইয়ার পিছু পিছু বাসার ভিতরে প্রবেশ করলাম....

বাড়িটা তেমন বড়ও নাহ আমার ছোটও নাহ।

একটা ২তলা বিল্ডিং নিচ তলা সম্পূর্ণ কমপ্লিট আর দোতলার কিছু কাজ বাকি।

পাশে আরেকটা টিন সেট বিল্ডিং ওটাতে ৫টি রুম আছে।

সামনে একটা উঠোন, উঠোনের চারিদিকে নানানরকম গাছপালা।

হাসমি:- আম্মু! আম্মু!

আম্মু:- আসছি....

আম্মু ছুটে এসে আমাকে আর তাইমন ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।

আমিও যেনো কান্না করে দিলাম।

খেয়াল করলাম পাশ থেকে ভাইয়া আর আপুনিও কান্না করছে।

আজকেই এই কান্না যেনো একটা পরিবার সম্পূর্ণ হওয়ার সুখের কান্না।

কতগুলো বছর এই আপনজনগুলো ছেড়ে কত দূরে ছিলাম আজ তাদের কাছে পেয়ে যেনো চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে "আজ আমি প্রকৃত সুখী কারণ আজ আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছি"

খেয়াল করলাম আমাদের বাড়িতে তেমন মানুষের আনাগোনা নেই, হয়তো এখানকার মানুষজন কেউ কারো বাড়ি তেমন যাতায়াত করে নাহ।

কিছুক্ষণ পর টিন সেট বিল্ডিং থেকে একজন মহিলা বেড়িয়ে এলো, আপুনি কানে কানে বললো এটা নাকী আমাদের কাকিয়া।

ওমা, আস্তে আস্তে দেখি বাড়ির উঠোনে মানুষের ভিড় লেগে গেলো।

প্রতিবেশী:- চিত্রার ছোট ভাই এসেছে পাকিস্তান থেকে...

- কোনটা তোর ভাই..?

- ওমা এত সুন্দর চেহারা আব্রাহামের ছোট ছেলের, একদম চাঁদের টুকরা।

- আব্রাহাম আর ওর বউ তোহ এত ফর্সা নাহ তাহলে ওদের ঘরে এমন বিদেশি সন্তান এলো কি করে..?

- যাই বলো, ছেলে কিন্তু লাখে একটা।

- পাশে ছেলেটা কে..?

- পাশের ছেলেটাও মনে হয় আব্রাহামের জমজ সন্তান।

- আরে নাহ নাহ এটা তোহ আব্রাহামের বোনের ছেলে মনে হয়...

তাদের এসব কথার আগামাথা কিছুই নাহ বুঝে আপুনিকে জিজ্ঞেস করি...

আমি:- কি বলছেন উনারা..?

চিত্রা:- তুই বুঝবি নাহ উনাদের কথা, উনারা সব পাগল..

আমি:- তাহলে, এখানে কি করছে উনাদের তোহ মেন্টাল হসপিটালে থাকা উচিৎ..?

চিত্রা:- আরে এই পাগল সেই পাগল নাহ, ওরা সবাই ভবের পাগল....

আমি:- ভবের পাগলটা আবার কি...?

চিত্রা:- তুই বুঝবি নাহ...

যা তুই ফ্রেশ হয়ে নে....

চিত্রা আপুনি আমাকে ওয়াশরুম দেখিয়ে দিলো।

আমি ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করলাম,

ওয়াশরুমের দরজা বরাবর একটা বেসিন যেটাতে আয়না সহ আর একটু ভিতরের দিকে আরেকটা বেসিন ওইটাতে কোনো আয়না নেই।

হঠাৎ শুনতে পেলাম কেউ যেনো আমার নাম ধরে ডাকছে, বার বার শব্দটা আমার কানে আসছিলো, আমি শব্দটার পিছু করতে করতে দেখি ওয়াশরুমের একটু ভিতরে যে বেসিনটা ওইটার ভিতর থেকে শব্দটা আসছে আমি একটু নত হয়ে বেসিনের ভিতর চোখ দিতেই দেখি বেসিনের ভিতর থেকে একটা লাল টকটকে চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে...

আমি ভয়ে পিছনে চলে এলাম...

তারপর আয়না সহ বেসিনে এসে হাত মুখ ধুয়ে দরজা খুলবো তখনই দেখি আয়নার ভিতরে আমার প্রতিচ্ছবিটি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে...

এটা দেখে আমি ভয়ে তাড়াতাড়ি করে দরজা খুলে বাইরে বেড়িয়ে আসি...

বাইরে বেরোনোর পর তাইমন ভাইয়া ওয়াশরুমে গেলো, আমি ভয়ে ওকে কিছুই বলতে পারছি নাহ ও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে ওয়াশরুমে চলে গেলো...

তাইমন ভাইয়া ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে...

তাইমন:- কিরে তুই এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস...

আমি:- এইতো তোর জন্য ওয়েট করছিলাম..

চিত্রা:- কিরে এতক্ষণ লাগে ফ্রেশ হতে, আয় আমার সাথে

তারপর আমরা চিত্রা আপুনির সাথে গেলাম।

যাই হোক, বাংলাদেশে একজন ফরেনার আসলে যে এভাবে জনসঙ্গম হয় আগে জানা ছিলো নাহ।

আমি, তাইমন ভাইয়া, চিত্রা আপুনি আর হাসমি ভাইয়া বাইরে বসে আছি...

ওহ্ একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, বাড়ির বাইরে সিমেন্ট দিয়ে একটা বড় করে বসার জায়গা বানানো আছে ওইখানে নাকী বাড়ির সবাই একত্রে বসে আড্ডা দেয়।

আমরা এখানে বসে আছি, ওদিকে দেখলাম আম্মু আর কাকিয়া প্রতিবেশীদের সবাইকে মিষ্টি দিচ্ছে।

কেউ কেউ মিষ্টি হাতে নিয়ে চলে যাচ্ছে আবার কেউ কেউ বসে আম্মু আর কাকিয়ার সাথে কথা বলছে।

আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন কাকিয়া চিত্রা আপুনিকে ডাক দেয়...

কাকিয়া:- এই চিত্রা তোর মেয়ে জেগে গেছে....

চিত্রা:- আসছি...

তাইমন:- চিত্র আপুর বিয়ে হয়ে গেছে..?

হাসমি:- হ্যাঁ, ওর ২টা ছেলে ১টা মেয়েও আছে।

আমি:- বাহ্ অথচ আমাকে কেউ একটা বারের জন্য বলোনি...

হাসমি:- তুই আমাদের ভুল বুঝসিছ...

আমি:- ভুল এতদিন বুঝে ছিলাম, ভেবেছিলাম তোমরা আমাকে ভালোবাসো কিন্তু এখন বুঝলাম তোমরা আমাকে ইচ্ছে করে দূরে সরিয়ে রেখেছো...

ভাইয়ার সাথে রাগারাগি করে ঘরের দিকে চলে আসছিলাম তখনই একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খাই...

রুহানি:- আজব মানুষ তোহ আপনি, দেখে চলতে পারেন নাহ..?

দেখে তোন ফরেনার মনে হচ্ছে..?

তা ট্যুর ক্যাম্প হিসেবে আমাদের বাড়িটাই খুঁজে পেলেন..?

সারা বাংলাদেশে কি আর কোনো বাড়ি খুঁজে পাননি..?

কাকিয়া! কাকিয়া!

হাসমি:- আহা, রুহানি কথাটা তোহ শোন আগে..

রুহানি:- তুমি কোনো কথা বলবে নাহ, এসব কারসাজি তোমরাই..

তুমিই এমন অপরিচিত লোকজনকে বাড়ি বয়ে আনো...

কাকিয়া! কোথায় গেলো সবাই...

আম্মু, কাকিয়া, আর চিত্রা আপুনি একটা দেড় বছরের মেয়ে বাবুকে কোলে নিয়ে ছুটে বাইরে বেড়িয়ে এলো...

আম্মু:- কি হয়েছে রুহানি মা..?

রুহানি:- তোমাকে কতদিন বলেছি, তোমার ছেলে যতই অপরিচিত লোকজনকে বাড়ি বয়ে আনুক তুমি তাদেরকে বাড়িতে রাখবে নাহ...

আম্মু:- হ্যাঁ! কিন্তু হয়েছেটা কি..?

রুহানি:- সেটা তোমার ছেলেকেই জিজ্ঞেস করো..

চিত্রা:- রুহানি কথা নাহ বাড়িয়ে সোজাসুজি বল কি হয়েছে..?

কাকিয়া:- আরে হয়েছেটা কি সেটা তোহ বলবি...

রুহানি:- এই লোকটা আমার গায়ের সাথে এসে ধাক্কা দিয়েছে...

ইচ্ছে করছে উনাকে...

কিন্তু হামসি ভাইয়ার জন্য কিছু করতে পারলাম নাহ..

উনাকে বলে দাও আজকের মধ্যে যেনো আমাদের বাড়ি থেকে চলে যায়...

আম্মু:- তুই কাকে কি বলছিস..?

রুহানি:- দেখো কাকিয়া একজন ফরেনারের জন্য যদি তুমি আমাকে ভুল বুঝো এতে আমার কিছু৷ করার নেই, তুমি উনাকে চলে যেতে বলো...

আমি আপুনির কাছে আর তাইমন ভাইয়ার কাছে জিজ্ঞেস করছি কে এই মেয়েটা আর কি বলছে ও....?

দুইজনই বললো...

- এটা আমাদের চাচাতো বোন, তোমরা চুপ করে থাকো একটু পর ও নিজেই তোমাদের কাছে সরি বলবে, এক কাজ করো তোমরা ঘরে যাও।

আমরা ঘরে চলে যাচ্ছিলাম তখনই পাশ থেকে কাকিয়া রুহানিকে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিয়ে বললো...

কাকিয়া:- তুই জানিস ও কে..?

রুহানি:- আমি কি করে জানবো উনি কে..?

কাকিয়া:- উনি কে এটা নাহ জেনে এত বড় একটা কাহিনি ঘটিয়ে ফেললি...

আজ তোর বাবা আসুক...

শুধু ও নাহ এই বাড়িতে কোনো অতিথি এলেই তুই এমন করিস যেখানে ও কোনো অতিথিই নয়..

রুহানি:- উনি অতিথি নয় তোহ কি..?

চিত্রা:- ও আমাদের ছোট ভাই আর আমাদের পরিবারের ছোট ছেলে..

রুহানি:- কি..? এই কথাটা তোমরা আমাকে আগে বলবে নাহ..?

ইশশ কি বাজে ব্যবহারটাই নাহ করলাম উনার সাথে...

কাকিয়া:- যদি ভালো চাস তোহ সরি বলিস নয়তো তোর আব্বুর কাছে বলে দিবো...

রুহানি:- কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন..

আম্মু:- কি প্রশ্ন..?

রুহানি:- তোমার ছেলে এত ফর্সা কিভাবে হলো...হিঃ হিঃ হিঃ

চিত্রা:- কেনো তোর হিংসা হয় নাকী...

রুহানি:- আরে নাহ, তোমরা সবাই তোহ দুধে আলতা গায়ের রঙ তাহলে ওর গায়ের রঙ এত বেশি উজ্জ্বল কিভাবে..?

আম্মু:- ও তুষার বর্ণ...

রুহানি:- হ্যাঁ, একদম আমেরিকানদের মতো, চোখ দুটে নীল, ইশশ ওর চোখগুলো যদি আমার থাকতো...

এই ভালো কথা

চিত্রা:- তোর ভালো কথা নিয়ে তুই যা তোহ আমাদের কাজ আছে...

রুহানি:- ওও চিত্রা আপু শুনো নাহ...

চিত্রা:- বল...

রুহানি:- তোমার ভাই তোহ পাকিস্তানে ছিলো, ও কি বাংলা ভাষা বুঝে, নাহ মানে কতকিছু বললাম ও কিছু বুঝেনি নাহ..?

চিত্রা:- বুঝুক আর নাহ বুঝুক তুই ওরে সরি বলবি ব্যস...

ঘড়ির দিকে খেয়াল আছে তোর, যা ফ্রেশ হয়ে আয় সবাইকে খেতে দিবো..

রুহানি:- দুলাভাই কখন আসবে গোহ...?

চিত্রা:- সন্ধ্যার পর আসবে হয়তো..

রুহানি:- দুলাভাই কি তোমাকে আজকেই নিয়ে যাবে নাকী...?

চিত্রা:- জানি নাহ, আগে আসুক তারপর দেখা যাবে...

এখন তুই যা, ওই ছেলেগুলোও নাহ খেয়ে আছে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাচ্ছে...