পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ০৪
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৪ · ৩০ পর্বের মধ্যে ৪
আমি যদি ৩দিন ধরে অজ্ঞান হয়ে থাকি তাহলে এতদিন আমি কোথায় ছিলাম...
আর আমার মধ্যে থাকা ওই অলৌকিক শক্তি ওইগুলা কি সত্যি নাকী ওইগুলাও স্বপ্ন..?
আমি সত্যি কিছুই বুঝতে পারছি নাহ কি হচ্ছে আমার সাথে..?
এত সুন্দর নিখুঁত স্বপ্ন, স্বপ্নের মধ্যে আরো একটি স্বপ্ন সবকিছু যেনো আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
যদি এগুলো স্বপ্ন হয়ে থাকে তাহলে অনেক ভালো হবে কারণ যদি একটা মানুষের মধ্যে এইরকম সুপার ন্যাচার পাওয়ার থেকে থাকে এটা লোক জানাজানি হলে তার জন্য অনেক বিপদজনক হতে পারে।
আশা করছি আমার মধ্যে এমন কোনো সুপার ন্যাচারা পাওয়ার নেই।
হঠাৎ করে আমার রুমে অদৃশ্য কোনো এক মহিলার হাসির শব্দে মেতে উঠলো, আমি হাসির পিছু করতে করতে ছুটে নিচে চলে এলাম আমার পিছু পিছু আবার পিপি, হায়াতি ও তাইমন ভাইয়াও নিচে নেমে এলো।
পিপি:- কিরে কি হলো..?
আমি:- নাহ পিপি তেমন কিছু নাহ।
পিপি:- ওহ্ আচ্ছা, তাইমন ব্যাটা এদিকে আয় তোহ...
তাইমন:- হ্যাঁ, আম্মি বলো...
পিপি:- যা তোহ বাবা বাজার মিষ্টি নিয়ে আয়..
আমি:- মিষ্টি কেনো পিপি...
পিপি:- আজকে ডাবল ডাবল খুশির খবর পেয়েছি একটু তোহ মিষ্টি মুখ করতে হয়..
যা ব্যাটা তুই মিষ্টি কিনতে যা....
তাইমন:- আচ্ছা আম্মি যাচ্ছি..
আমি:- ডাবল ডাবল খুশির খবর মানে.?
পিপি:- প্রথমত তায়ব সাহেব আমাদের জমিটা আমাদেরকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছেন আর দ্বিতীয়ত তোর ৩ দিন পর জ্ঞান ফিরেছে...
আমি কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম, কিছুদিন আগেও ফুফাজি বললো তায়ব আঙ্কেল নাকী জমি ছাড়তে চাইছেন নাহ আর আজ হঠাৎ জমি আমাদের নামে করে দিচ্ছে,..?
যাই হোক এর থেকে খুশির খবর আর কি হতে পারে।
হায়াতি:- চিশ..
আমি:- হ্যাঁ বল
হায়াতি:- এদিকে আয়
আমি:- হুম বল
হায়াতি:- খালি হুম বল হুম বল নাহ করে আমার রুমে চল তোকে একটা জিনিস দেখাবো..
আমি:- আমাকে আবার কি দেখাবি..?
হায়াতি:- তুই চল গেলেই দেখতে পাবি..
আমি:- আচ্ছা চল..!
হায়াতির রুমে প্রবেশ করতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম..
এটা কি করে সম্ভব.?
এটা তোহ সেই ড্রেস যেটা আমি হায়াতিকে এনে দিয়েছিলাম যদি ওইটা স্বপ্ন হতো তাহলে এই ড্রেস বাস্তবে এলো কি করে...?
হায়াতি:- দেখ তোহ ড্রেসটা সুন্দর নাহ.??
আমি:- হ্যাঁ সুন্দর কিন্তু তুই কোথায় পেলি..?
হায়াতি:- সেটাই তোহ তোকে জানানোর জন্য উপরে নিয়ে এলাম..
আমি:- মানে.?
হায়াতি:- এত মানে মানে করিস নাহ তোহ, আমি কি বলি শোন...
আমি:- আরে বলবি তোহ, আমি শোনার জন্যই তোহ এসেছি..
হায়াতি:- কাল আমার এক বান্ধবীর জন্মদিন ছিলো আর আমার কাছেও কোনো ভালো ড্রেস ছিকো নাহ, কি পড়ে যাবো ভাবছিলাম হঠাৎ একজন ডেলিভারি বয় এসে আমাকে এটা দিয়ে গেলো।
কোনো এক অচেনা লোক নাকী আমার জন্য এটা পাঠিয়েছে, তাকে চিনি নাহ জানি নাহ অথচ সে আমার জন্য ড্রেস পাঠিয়েছে।
এই ড্রেস আসতে দেখে তোহ সবাই আমাকে সন্দেহ করছে, সবাই ভাবছে আমি বোধহয় রিলেশনে আছি। হা! হা! হা!
হায়াতির কথা শুনে আমি বার বার অবাক হচ্ছি।
তাহলে কি আমি ফিউচার থেকে ঘুরে এলাম.?
যদি ফিউচার থেকে ঘুরে আসি তাহলে ওই সবগুলো কাজে আমি কেনো ইনভলভ থাকছি..?
কি জানি আমার মাথা কাজ করছে নাহ কি হচ্ছে এগুলো।
তারপর নিচ থেকে পিপি আমাদের ডাকছে..
পিপি:- এই তোরা তাড়াতাড়ি নিচে আয়..
হায়াতি:- আসছি আম্মি...
আমরা তাড়াতাড়ি নিচে গেলাম..
পিপি:- খেতে বসো তোমরা..
আমি:- কিন্তু পিপি তাইমন ভাইয়া তোহ বাজারে গেলো ও আসুক একসাথেই খেতে বসি।
পিপি:- ও এসে পড়বে মহল্লার মিষ্টির দোকানে গেছে হয়তো বেশি সময় লাগবে নাহ, তোমরা খেতে বসো..
আমরা দুইজন খেতে বসলাম খেয়াল করলাম আজকে পিপি আমার প্লেটে খাবার দিয়ে ঢেকে রেখেছে।
আমি ঢাকনাটা সরাতেই দেখি প্লেট ভর্তি কেঁচো আর জোক এসব দেখে আমার বমি চলে এলো আমি ছুটে গিয়ে বেসিনে বমি করলাম পিপি আর হায়াতিও আমার পিছু পিছু এলো..
পিপি:- কি হলো চিশতি ব্যাটা..?
আমি:- প্লেটে কি দিয়েছো পিপি..?
পিপি:- চাউমিন.? তোমার নাহ অনেক প্রিয়..?
আমি:- প্লেট ভর্তি কেঁচো আর জোক ওইগুলা মানুষ খায় কি করে..?
পিপি:- কি বলছো.? আমি কি তোমাকে কেঁচো আর জোক খেতে দেবো নাকী..?
আমি:- নাহ! নাহ! আমি তা বলিনি.? তুমি প্লেটের খাবারগুলো দেখো তাহলেই বুঝতে পারবে..
আমরা ডাইনিং-এ গিয়ে প্লেট চেক করে দেখি প্লেটের মধ্যে আসলেই চাউমিন ছিলো..
তাহলে কি আমি ভুল দেখলাম.?
আমি সত্যি এবার পাগল হয়ে যাবো.?
আমি আর সহ্য করতে পারছি নাহ।
আমি:- সরি পিপি আমি হয়তো ভুল দেখেছি..!
পিপি:- ইট'স ওকে ব্যাটা, অসুস্থ ছিলে তোহ তাই হয়তো এমনটা হয়েছে.. ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা করো নাহ।
আমি:- হুমমম।
আমরা কথা বলতে বলতে ফুফাজি আর তাইমন চলে এলো...
ফুফাজি এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো...
ফুফাজি:- ওলে আমার সোনা ছেলের জ্ঞান ফিরে এসেছে।
আমি:- হ্যাঁ ফুফাজি
তারপর সবাই একসাথে খেতে বসলাম...
খাওয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন আমি আবারও সেই অদৃশ্য মহিলার হাসির শব্দ পাচ্ছি...
এবার হাসিটা যেনো আস্তে আস্তে আমার কানের কাছে চলে আসছে, প্রচন্ড শব্দে মনে হচ্ছে আমার কান ফেটে যাবে।
আমি কানগুলো দু-হাত দিয়ে চেপে ধরে একটা চিৎকার দিলাম।
পিপি আমাকে তার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বললো...
পিপি:- আবার কি হলো ব্যাটা..? অসুস্থ ফিল করছো.?
আমি:- পিপি....
ব্যস আবারও অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
জ্ঞান ফিরতেই দেখি আমি একটা বন্ধ ঘরে আটকা পড়ে আছি চারিদিকে অন্ধকার আর অন্ধকার।
এক পা দু-পা করে হাটতে হাটতে দেখি সামনে লাভার আগুন গলে গলে পড়ছে আর সেই আগুন থেকে ভেসে আসছে হাজারো মানুষের আর্তনাদ।
যেনো তাদের কেউ জীবন্ত অবস্থায় কেউ লাভার আগুনে ছুড়ে ফেলে দেয়েছে...
আমি আবারও এক পা দু'পা করে হাটতে হাটতে লাভার আগুনের কাছে চলে এলাম কওছুটা আগুন মনে হলো আমার পায়ে এসে লাগলো কিন্তু আমার কিছুই হলো নাহ।
এটা কি করে সম্ভব.?
আগুনে আমার কিছুই হলো নাহ কেনো..?
আবারও ঘরটির শেষ প্রান্তে একটা আলোকিত রশ্মি দেখতে পেলাম।
কি জানি কি মনে করে আমি সেই আলোকিত রশ্মির কাছে গিয়ে পৌঁছালাম।
আগের বারের মতো এবারও সেই আলোকিত রশ্মিটা হাত দিয়ে স্পর্শ করলাম এবারও আমার শরীরটা প্রচন্ড ভাবে কেঁপে উঠলো...
মনে হলো আমি অনেক উপর থেকে ধপাস করে নিচে পরে গেলাম আর সাথে সাথে আমার ঘুম ভাঙ্গে।
চোখ খুলে দেখি এবার আমি হাসপাতালে ভর্তি।
আমার ডান হাতে ক্যানোলা।
ইনজেকশন দেখে আমি ভয়ে একটা চিৎকার দিলাম পিপি দরজার বাইরে থেকে ভিতরে আসার জন্য ছটফট করছে কিন্তু নার্সরা তাকে বাঁধা দিলো তারপর একজন ২৬-২৭ বছরের পুরুষ ডাক্তার আমার বেডে আসলো।
দেখে বুঝলাম নতুন ডাক্তারি পাশ করেছে হয়তো কিন্তু উনার হাতে তোহ দেখি ইনজেকশন আছে।
তার মানে আমাকে আবারও ইনজেকশন দিবে।
ইনজেকশন দেওয়ার ভয়ে আরো ছটফট করতে লাগলাম তখন ডাক্তার আমাকে ধমক দিয়ে বললো...
ডাক্তার:- চুপ একদম চুপ..
এমন করছেন কেনো..?
আমি:- আমার ইনজেকশনে ভয় করে..[একটু কাঁদো কাঁদো গলায়]
ডাক্তার:- বয়স কত আপনার.?
আমি:- ২০
ডাক্তার:- বিয়ের বয়স হয়ে গেছে এখনো নাকী ইনজেকশনে ভয় পায়।
আমি:- ভয় কোনো বয়সমাপেক জিনিস নাহ, এটা স্বাভাবিক সবাই ভয় পায় কিন্তু সবার ভয়ের বস্তু এক নাহ আমি যেমন ইনজেকশনে ভয় পাই আপনিও হয়তো অন্য কোনো জিনিসে ভয় পান।
ডাক্তার:- কথা তোহ ভালোই বলতে পারেন..
তা জানেন আমি কে.?
আমি:- আপনি কি কোনো সেলিব্রিটি.?
ডাক্তার:- নাহ্, আমি একজন ডাক্তার.?
আমি:- আপনি কোনো সেলিব্রিটি নাহ তার উপর আপনাকে আমি কোনোদিন দেখিওনি তাহলে আপনাকে চিনবো কিভাবে..?
ডাক্তার:- ওহ্ হ্যাঁ তাই তোহ।
আমি ডাক্তার মোহাম্মদ সিমন।
আর আপনি তোহ খুব সুন্দর কথা বলতে পারেন তাহলে এত ভিতু কেনো।
ইনজেকশনে ভয় পেলে হবে নাহ, এটা কোনো ভয় পাওয়ার জিনিস নাহ, ইনজেকশন দিলে শুধু একটু ব্যথা হবে মনে হবে যেনো পিঁপড়ায় কামোর দিলো, এই দেখুন আপনাকে এখন ইনজেকশন দিলাম আপনি টেরই পাননি..
এই বলে ডাক্তার চলে গেলো...
কিছুক্ষণ পর পিপি আমার বেডে এলো..
পিপি:- ব্যাটা এখন কেমন ফিল করছো..?
আমি:- বেটার।
পিপি:- আজকে রাতটুকু হসপিটালে থাকো আমরা কালকেই তোমাকে নিয়ে বাড়ি চলে যাবো।
আমি:- আচ্ছা পিপি।
পিপির সাথে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লাম হয়তো ডাক্তার সিমন তখন আমাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছিলো।