পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ০৬

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৬ · ৩০ পর্বের মধ্যে ৬

ফুফাজি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমিও কিছুটা মন খারাপ নিয়ে শুয়ে পরলাম

সকালে ঘুম থেকে উঠে পিপির সাথে দেখা করলাম..

আমি:- পিপি! ডাক্তার সিমনের নাম্বারটা কি প্রেসক্রিপশনে দেওয়া আছে..?

পিপি:- আছে হয়তো দেখতে হবে..

কেনো রেহ শরীরটা কি আবার খারাপ লাগছে নাকী..?

আমি:- নাহ, কালকে উনার সাথে শুধু শুধু মিস বিহেভ করলাম সরি বলতাম আরকি.!

পিপি:- ওহ্! ব্রেকফাস্ট করে নেহ তারপর প্রেসক্রিপশন চেক করে দিচ্ছি।

আমি:- আচ্ছা পিপি।

তারপর ডাইনিং-এ গিয়ে বসলাম, হায়াতি আর তাইমন ভাইয়াও এলো।

তাইমন:- কিরে আব্বু আর কিছু বলেছিলো কালরাতে..?

আমি:- হ্যাঁ!

তাইমন:- কি বললো..?

আমি:- তোকেও আমার সাথে পাঠাবে, যতদিন নাহ আমি পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছি তুই আমার সাথে থাকবি।

তাইমন:- সত্যি! আব্বু সত্যি সত্যি এই কথা বলেছে..?

আমি:- হ্যাঁ!

হায়াতি:- এটা কিন্তু ঠিক হলো নাহ...?

তাইমন:- কেনো..?

হায়াতি:- তোকে চিশতির সাথে পাঠাবে কেনো..?

আমি:- ফুফাজির ইচ্ছা, আর তাইমন ভাইয়া তুই কি যাবি নাহ আমার সাথে..?

তাইমন:- হ্যাঁ যাবো৷ তোহ্

হায়াতি:- নাহ্! নাহ্! এটা মানি নাহ??

আমি:- তোর মানা নাহ মানা দিয়ে কি আসে যায় রেহ তুই যাহ ঘুমা..

হায়াতি:- আব্বুর সাথে আমার আর কোনো কথা নেই, আমিও তোহ কোনোদিন বাংলাদেশ যাইনি আমাকেও তোহ তোদের সাথে পাঠাতে পারে কিন্তু শুধু তোদেরকেই পাঠাবে..?

পিপি:- এখন এসব বাদ দাও তোমরা চুপচাপ খেয়ে নাও..

সকালে ব্রেকফাস্ট করে পিপির কাছ থেকে ডাক্তার সিমনের নাম্বারটা নিলাম...

সিমন:- হ্যালো! কে বলছেন..?

আমি:- হ্যাঁ, হ্যালো! আমি চিশতি বলছি...

সিমন:- কোন চিশতি.?

আমি:- ওইযে কালকে আপনার সাথে মিস বিহেভ করলাম...

সিমন:- জ্বি ঠিক মনে পড়ছে নাহ...?

আমি:- আরে কালকে যে আপনাকে সাইকো বলেছিলাম এবার মনে পড়েছে..?

সিমন:- জ্বি, হ্যাঁ! হ্যাঁ! তা বলুন আপনার কি হেল্প করতে পারি..?

আমি:- কোনো হেল্প লাগবে নাহ..

মিট করা যাবে.? আপনি কি হসপিটালে আছেন..? আমি আসবো..?

সিমন:- নাহ, আজকে তোহ অফ ডে আপনি এক কাজ করুন হসপিটালের পিছনে যে ল্যাক পার্কটা আছে ওইখানে আসুন।

আমি:- আচ্ছা ঠিক আছে।

তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে বের হবো তখনই পিপি পিছন থেকে ডেকে বলে...

পিপি:- কালকে সবেমাত্র হসপিটাল থেকে ফিরলে এখন বাইরে একা একা বের নাহ হলেই নয়.?

আমি:- পিপি তুমি টেনশন করো নাহ আমি যাবো আর আসবো।

পিপি:- তাড়াতাড়ি ফিরবে..

আমি:- ওকে!

পিপির সাথে কথা বলে বেরিয়ে পরলাম..

ল্যাক পার্কে এসে দাঁড়িয়ে আছি অথচ সিমন ভাইয়ের খবর নেই, কল করতে যাবো তখনই দেখি উনি এসে হাজির...

সিমন:- হ্যাঁ! বলুন কি জন্য আসতে বলেছিলেন...?

আমি:- আসলে ভাইয়া কালকের বিহেভিয়ারের জন্য আই এম এক্সট্রিমলি সরি.!

আসলে কালকে আপনাকে নিয়ে একটা বাজে স্বপ্ন দেখেছিলাম যার জন্য আপনাকে আমার কাছে নেগেটিভ পারসোন বা টক্সিক মনে হয়েছিলো...

সিমন:- ওয়েট! ওয়েট! কি..? আমাকে নিয়ে স্বপ্ন.?

তা কি দেখেছিলেন..?

আমি:- আপনি আমাকে জবাই করছিলেন..

সিমন:- কি? সিরিয়াসলি?

আমি:- জ্বি সত্যি।

সিমন:- ইট'স ওকে আমি কিছু মনে করিনি।

আমি:- আর একটা কথা..

সিমন:- কি.?

আমি:- আপনি বলেছিলেন নাহ, যে আমি ফার্স্টেশনে আছি আসলে আমি সত্যি সত্যি ফার্স্টেশনে আছি....

আসলে কিছুদিন ধরে আমার সাথে কেমন প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিস হচ্ছে...

সিমন:- কি! প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিস.?[হঠাৎ চমকে গিয়ে]

আমি:- প্যারানরমাল কথা শুনে চমকে গেলেন..?

সিমন:- আসলে আমার লাইফেও কিছু প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিস ছিলো যার কারণে আমার লাইফে একটা কালো দাগ পরে গেছে...

আমি:- জানতে পারি..?

সিমন:- পরে কোনো একদিন বলবো..!

আমি:- কিন্তু আমি তোহ দু-একদিনের মধ্যে বাংলাদেশ চলে যাবো....

সিমন:- বাংলাদেশে কেনো.? বাংলাদেশে কে আছে আপনার.??

আমি:- আসলে আমি এখানে আমার পিপির কাছে থাকি, আর বাংলাদেশেই আমার আব্বু আম্মি সবাই থাকে।

এখন আমাকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে।

সিমন:- এখানে আছেন কত বছর..?

আমি:- আমার জন্মের পর থেকেই এখানে!

সিমন:- তাহলে চলে যাবেন কেনো..?

আমি:- এত প্রশ্ন নাহ করে আপনার লাইফ স্টোরি বলুন আমার খুব কিউরিওসিটি হচ্ছে...

সিমন:- আচ্ছা শুনুন...

বাণীতে সিমন:-

ডাক্তারি পড়ার জন্য ইসলামাবাদ ভার্সিটিতে ভর্তি হই।

লাহোর থেকে ইসলামাবাদ যাতায়াতে প্রবলেমের৷ জন্য ইসলামাবাদই একটা ছোট্ট ফ্ল্যাট রুম ভাড়া নিয়ে ওখানে থেকেই পড়াশোনা চালাতে হয়।

এইদিন ভার্সিটির কিছু স্টুডেন্ট মিলে সবাই কাশ্মীরে ট্যুরে যাই।

অনেক মজা করি, অনেক সেল্ফি তুলি, খাওয়া দাওয়া, ঘুরাঘুরি তোহ আছেই।

তারপর সন্ধ্যার আগে কাশ্মীর থেকে সবাই ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।

সবাই সবার মতো যে যার বাসায় পৌঁছে গেলো আমিও আমার রুমে চলে এলাম।

রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমার ফোনে তোলা ছবিগুলো দেখতে থাকি।

আমার প্রত্যেকটা ছবিতেই একটা সুন্দরী মেয়েকে দেখতে পাই, মেয়েটা এমন ভাবে ছবির মধ্যে তাকিয়ে আছে যেনো ও স্বেচ্ছায় ছবি তুলেছে অথচ এমন দেখতে কোনো মেয়েকেই আমি আমার আশেপাশে দেখিনি।

ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়ে ঘুমিয়ে পরি।

পরদিন ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় রাস্তার পাশে ড্রেনে একটা সাদা ধবধবে বিড়াল পরে থাকতে দেখে ওইটাকেও আমার সাথে বাসায় নিয়ে আসি।

ভাবলাম আমিও একা থাকি আর ওরও কেউ নেই আমরা একসাথেই থাকবো।

বাসায় এনে ভালো মতো পরিষ্কার করালাম, তারপর বিড়ালটির নাম রাখলাম "মিলি"।

এভাবে অনেক দিন চলে যায়।

কিছুদিন পর ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় আমার বাড়িওয়ালা আমাকে দাঁড় করিয়ে বলে...

বাড়িওয়ালা:- দেখো বাবা, এই শহরটা এখন আর আগের মতো নেই, চুরি, ডাকাতি, ভণ্ডামি, নষ্টামি দিয়ে ভরে গেছে।

অনেক জোড়াজুড়ির কারণে তোমাকে ফ্ল্যাটে থাকতে দিয়েছি কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে কিন্তু তোমাকে আমার ফ্ল্যাটে রাখা সম্ভব নাহ..

আমি:- কি হয়েছে আঙ্কেল?? কি করেছি আমি..?

বাড়িওয়ালা:- তুমি ভার্সিটি থেকে ফেরার কিছুক্ষণ পরেই একটা অল্প বয়সী মেয়ে প্রতিদিন তোমার রুমে গিয়ে ঢুকে...

আমি:- কি বলছেন এসব..? আমার রুমে আমি আমার একাই থাকি..! এখানে আর কেউ আসে নাহ বিশ্বাস করুন আমাকে...

বাড়িওয়ালা:- কি জানি এখন কাকে বিশ্বাস করবো আর কাকে অবিশ্বাস।

কিন্তু বাবা তোমাকে দেখে ভালো মনে হয়, ভালো৷ জানি আশা করি ভালোই থাকবে...

বাড়িওয়ালার কথা শুনে চিন্তায় পড়ে গেলাম..

কি হলো.? কিছুই বুঝলাম নাহ..?

রাতে পড়াশোনা শেষ করে, ডিনার করে ঘুমিয়ে পরলাম।

হঠাৎ চোখ খুলে দেখি একটা ধবধবে ফর্সা মেয়ে উলঙ্গ অবস্থায় আমার পাশে কুঁকড়ি দেয়ে শুয়ে আছে, আমি মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক...

এটা তোহ সেই মেয়েটি যাকে আমার প্রত্যেকটা ছবির পাশে দেখেছিলাম..?

কিন্তু ও এখানে কি করে এলো..?

আমাকে সজাগ হতে দেখে আহ্লাদী সুরে বললো...

-- উফ শীত করছে তোহ, কম্বলটা দাও..

আমার শরীর থেকে কম্বলটা নিয়ে নিজের শরীর ঢেকে নিলো।

প্রায় প্রতিদিনই এমনটা হতো..

একদিন চিন্তা করলাম আজ আমি ঘুমবো নাহ, ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকবো তারপর দেখবো এই মেয়েটি কোত্থেকে আসে..?

রাত যখন ২টার কাছাকাছি তখন দেখি দরজা হাল্কা ফাঁক করে আমার রুমের মধ্যে মিলি ঢুকলো। আস্তে আস্তে মিলি আমার খাটে উঠলো।

খাটে উঠতেই মিলি প্রতিদিন দেখা সেই মেয়েটি হয়ে গেলো।

আজকে কোনো আহ্লাদী সুরে নাহ, বরং ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে তেরে এলো....

তারপর সিমন ভাইয়া চুপ হয়ে গেলো...

আমি:- তারপর কি হলো.?

সিমন:- তারপর থেকে নেমে এলো আমার জীবনের কালো মেঘ...