পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ২৪

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২৪ · ৩০ পর্বের মধ্যে ২৪

দুপুরের খাবার খেয়ে চিত্রা আপুনির সাথে ওদের মহল্লা ঘুরতে বের হলাম। ওদের মহল্লাটা বেশ সুন্দর। ওদের বাড়ি থেকে বের হয়ে একটা চৌরাস্তার মোড় আছে। চৌরাস্তার নাক বরাবর যে রাস্তাটা ওখান দিয়ে মেইন রোডে বের হতে হয় মেইন রোডে গেলেই সামনে একটা বিশাল মসজিদ আছে ওখানে প্রায় দুই-তিন মহল্লার লোক একসাথে হয় জুম্মার দিন আর ডান পাশের রাস্তা দিয়ে গেলে একটা প্রাইভেট স্কুল যেখানে কিন্ডারগার্টেন থেকে ইন্টারের স্টুডেন্ট পর্যন্ত স্টাডির জন্য এডমিশন নিয়েছে। ডান পাশের রাস্তা দিয়েও মেইন রোডে যাওয়া যায়, ওই রাস্তার একটা বিশেষ দিক হচ্ছে ওইখানে খ্রিস্টানদের একটা গির্জা আছে। পিছনের রাস্তা দিয়ে ওদের বাসায় যেতে হয় এবং ওদের বাসার পিছনে ছোট একটা মার্কেটের মতো আছে যেখানে সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়।

আমরা ওইদিন ঠিক করলাম গির্জা ভ্রমণ করতে যাবো যদিও গির্জাটা এখন স্থগিত আছে, আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে গির্জাটা নির্মাণ হয়েছিলো এখন প্রায় ৬০-৭০ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে।

কেনো বন্ধ হয়েছে সেটারও কোনো যুক্তিপূর্ণ কারন নেই।

যাই হোক আমরা গির্জার চারিদিকটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম, গির্জাটা বেশ বড়সড় কিন্তু মেইন গেটে একটা বিশাল তালা ঝুলানো।

গির্জার সামনাসামনি মুখ করে কিছুটা দূরে হিন্দুদের একটা মন্দির আছে যেখানে প্রতিদিনই পূজা আর্চনা করা হয়।

আমি যে অসুস্থ সে কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম ঘুরতে গিয়ে। জায়গাগুলো বেশ সুন্দর ও রহস্যময় যদি এগুলোর সাথে আমাদের এই গল্পের কোনো যোগসূত্র নেই তবে জায়গাগুলো খুব সুন্দর বিশেষ করে গির্জাটা ছিলো একদম ভৌতিক।

ঘুরাঘুরি শেষ করে আমরা সন্ধ্যার আগে আগে বাড়ি ফিরে আসি। সন্ধ্যার নাস্তা হিসেবে চিত্রা আপুনি কফি আর সিঙ্গারা ভাজলো।

ওগুলো খেতে খেতে কথা বলছিলাম তখন জিজু বাড়ি আসে।

জিজু বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে আমাদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল ঠিক ওই মূহুর্তে চিত্রা আপুনি জিজুকে বলে....

চিত্রা:- আজকে কি হয়েছিলো জানো..?

সাইফ:- কি হয়েছিলো আবার

চিত্রা:- চিশতি আজকে কাঁচা মাছ খেয়ে ফেলছে

সাইফ:- কি!? কিভাবে খেলো..? বিশ্বাসই হচ্ছে নাহ..?

চিত্রা:- আরে একদম সত্যি! আমার চোখের সামনে খেয়েছে

সাইফ:- তাহলে আমার সামনে খেতে বলো তোহ দেখি

চিত্রা:- পাগল নাকী.? বাদ দাও এসব! আবার কি করেছে জানো.?

সাইফ:- কি করেছে..?

চিত্রা:- এই হাড়ি ভাত ও একাই খেয়ে ফেলেছে

সাইফ:- আমার এবার সত্যি খুব কিউরিওসিটি হচ্ছে, তুমি কাঁচা মাছ নিয়ে এসো দেখবো তোমার ভাই কি সত্যি সত্যি কাঁচা মাছ খায় নাকী তোমরা দু'জন মিলে আমাকে বোকা বানাচ্ছো

চিশতি:- দেখ আপুনি তুই কিন্তু আমাকে অপমান করছিস! আমি কিন্তু নিজেও জানি নাহ আমি কেনো কাঁচা মাছ খেয়েছিলাম আর আমি কি ইচ্ছে করে এত ভাত খেয়েছি

চিত্রা:- আরে রাগ করছিস কেনো.? আমি তোহ জাস্ট তোর জিজুকে বললাম

সাইফ:- ওকে! ওকে! এসব বাদ দাও, চিত্রা যাও তুমি কাঁচা মাছ নিয়ে এসো

চিত্রা:- কিরে আনবো

চিশতি:- হ্যাঁ আন আমিও দেখিয়ে দিবো যে আমি ইচ্ছে করে কাঁচা মাছ খাইনি

তারপর চিত্রা আপুনি গিয়ে কাঁচা মাছ নিয়ে এলো, মাছগুলো এনে আমার সামনে রাখলো। আমি চুপ করে মাছের দিকে তাকিয়ে বসে আছি কিন্তু ধরছিলাম নাহ। কেনো জানি নাহ মাছগুলো দেখে আমার খুব লোভ হচ্ছিল। যাই হোক, এভাবে মাছগুলো সামনে রেখে বসে থাকতে থাকতে এক পর্যায়ে খাপাস করে একটা মাছ ধরেই মুখে ঢুকিয়ে দিলাম। আমার এই কান্ড দেখে জিজু আর আপুনি রীতিমতো ভেবাচেকা খেয়ে গেলো। আমিও কেমন যেনো একটা নেশায় পড়ে গেলাম। মাছগুলো সামনে দেখে জিজু বা আপুনিকে তোয়াক্কা নাহ করে এক এক করে সবগুলো মাছ খেয়ে ফেললাম।

সবশেষে ওরা অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো....

জিজু:- এ আমি কি দেখলাম, এটাও কি সম্ভব..?

চিত্রা:- দেখলে! বলেছিলাম তোহ ওর সাথে কিছু একটা আছে

জিজু:- তাহলে যে হুজুরের কাছে গিয়ে গোসল দিয়ে আনলে তাতে কি কোনো কাজ হলো নাহ..?

চিত্রা:- কি জানি! গোসল দেওয়ার পর থেকে অজ্ঞান হওয়াটা বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু এসব উদ্ভিট কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে।

জিজু:- আচ্ছা দেখি কাল কি করতে পারি..!

চিশতি:- বিশ্বাস করো জিজু আমি ইচ্ছে করে কাঁচা মাছ খাইনি, মাছগুলো আমার সামনে আনার পর কেমন যেনো লোভ হচ্ছিল কিছুই বুঝতে নাহ পেরে খেয়ে ফেললাম।

সাইফ:- বুঝেছি, রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো তোমরা। ভালো কথা এখন কি আবার এক হাড়ি ভাত সব খাবে নাকী.?[ইয়ার্কি সুরে]

চিশতি:- জিজু তুমি কি আমাকে খোঁচা দিচ্ছো

চিত্রা:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! তুমি কিন্তু ওর পিছনে লেগে আছো

চিশতি:- তুই একদম কথা বলবি নাহ, তোর জন্যই তোহ এমনটা হলো

সাইফ:- আচ্ছা ঝগড়া থামাও এবার যাও তোমরা খাওয়া দাওয়া সেরে নাও।

রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে আমরা ঘুমতে চলে যাই। এবার এক হাড়ি ভাত খাইনি কারণ চিত্রা আপুনি বুদ্ধি করে পড়া পানি খাইয়ে দিয়েছিলো।

রাতে আমি চিত্রা আপুনি আর জিজুর সাথেই থাকতাম কারণ আমার শরীর কখন কেমন হয়ে যায় কেউ বলতে পারে নাহ।

সেজন্য আপুনি আমাকে ওদের সাথে রেখে দেয়। [প্রথম দিন থেকেই]

ওর দুই ছেলের জন্য আলাদা রুম, চিত্রা আপুনি, জিজু আর ওদিক মেয়ে আলাদা রুমে থাকে।এখন ওদের তিন জনের সাথে আমিই থাকবো।

জানালার পাশে জিজু, তারপর আদিশা[চিত্রা আপুনির মেয়ে] তারপর চিত্রা আপুনি আর ফ্লোরের সাইডে আমি ঘুমবো।

যে যার জাগয়া মতো ঘুমিয়ে পড়লো। মাঝ রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। কেনো ভেঙ্গে গেলো জানি নাহ কিন্তু এতটুকু জানি আমার কিছু একটা খাওয়ার নেশা ধরেছে।

আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে রান্নাঘর গিয়ে ফ্রিজ থেকে কাঁচা মাছ বের করলাম আর কিছু কন্টেইনার থেকে খুঁজে খুঁজে শুটকি বের করে ওইগুলা পাগলের মতো খেতে থাকি।

রান্নাঘর থেকে শব্দ শুনতে পেয়ে চিত্রা আপুনি আর জিজু দৌড়ে গিয়ে দেখে আমি কাঁচা মাছ আর শুটকি খাচ্ছি। ওদের দেখে একটা বিশ্রি হাসি দিলাম।

ওরা আমাকে ডাকছে কিন্তু আমি শুনেও শুনছি নাহ কারণ আমার নেশা তখন মাছ আর শুটকির দিকে। এতবার ডাকার পরও যখন সারা দিচ্ছিলাম নাহ তখব চিত্রা আপুনি আমাকে দুপুরের মতো আবারও থাপ্পড় দেয়। সাথে সাথে আমার হুশ ফিরে আসে।

চিশতি:- আবার! বিশ্বাস করো আমি এসবের কিচ্ছু জানি নাহ

সাইফ:- আমরা জানি, তুমি চিন্তা করো নাহ যাও ঘুমতে যাও

আমি রুমে আসার সময় শুনি চিত্রা আপুনি জিজুকে বলছিলো...

চিত্রা:- ওর সাথে করে আমাদের এই বাড়িতে কিছু একটা এসেছে..

সাইফ:- মানে! কি বলছো তুমি.? কি এসেছে..?

চিত্রা:- প্রথমে তোহ চিশতি বার বার জ্ঞান হারাতো এখন আবার ওর এসব উদ্ভট কর্মকাণ্ড তার উপর আজকে কি দেখেছি জানো..

সাইফ:- কি দেখেছো..?

চিত্রা:- আমরা সবাই যখন গভীর ঘুমে তখন দেখি মশারীর বাইরে এক বিশাল কালো অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে যার চুলগুলো উড়ছে। সে চিশতির দিকে হাত বাড়াতেই আমি চিশতিকে আমার দিকে টান দিয়ে এনে সূরা পড়তে থাকি আর সাথে সাথে ওই অবয়মটা উধাও হয়ে যায়।

সাইফ:- কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি নাহ, আচ্ছা শুনো ইউনুস দেওয়ানের কথা মনে আছে তোমার..?

চিত্রা:- হ্যাঁ! ওইযে একবার বলেছিলে লাবনী[চিত্রা আপুনির ভাসুরের মেয়ে] যখন ছোট ছিলো তখন ওর উপর কোনো একটা বদ জ্বিনের আছর ছিলো যার কারণে ও হাঁটতে পারতো নাহ ওর পা দুইটা অবশ হয়ে ছিলো। তারপর ইউনুস দেওয়ানের মাধ্যমে ওকে সুস্থ করেছিলে।

সাইফ:- হ্যাঁ! উনার কথাই বলছি

চিত্রা:- তাহলে কি উনার কাছে চিশতিকে নিয়ে যাবো ভাবছো..?

সাইফ:- নিয়ে যাবো নাহ

চিত্রা:- তাহলে..?

সাইফ:- উনি নিজেই আসবে এখানে..! কারণ উনি এই বাড়িতে নাহ এলে এই সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন নাহ। তোমার ভাইয়ের সমস্যাটা অনেক জটিল মনে হচ্ছে আমার কাছে

চিত্রা:- আচ্ছা তোমার যেভাবে ভালো মনে হয় করো

ওদের কথাগুলো আড়াল থেকে শুনে রুমে চলে এলাম। আমার বোনটা আমার জন্য কত ভাবে, আমি সত্যি খুব ভাগ্যবাণ এজন্যই এমন বোন পেয়েছি।

আমি চলে আসার পর হয়তো ওরা আরো কিছুক্ষণ কথা বলেছিলো যেগুলো আমি শুনতে পাইনি কিন্তু আমি আসারও বেশ খানেক পর ওরা রুমে এসেছিলো।

এরপর রাতে আর কোনো সমস্যা হয়নি। রাতটা ভালো ভাবেই কেটে যায়। সকালে ঘুম উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করলা। জিজু কাজে চলে গেলো। রুহান আর তিহান স্কুলে চলে যায় [রুহান তখন ক্লাস ফোরে আর তিহান ক্লাস ওয়ানে পড়তো। রুহান সকালে টিউশন করতো এজন্য তিহানের সাথেই বেরিয়ে যেতো] বাসায় আমি, চিত্রা আপুনি আর আদিশা ছিলাম।

সকাল থেকে আমার কোনো সমস্যা ছিলো নাহ, হঠাৎ যখন দুপুর ঘনিয়ে এলো তখনই আমার ঘাড়ে অনেক ব্যথা অনুভব করলাম। মনে হচ্ছে আমার ঘাড়ে কেউ চিকন রড গরম করে লাগিয়ে দিয়েছে। ব্যথা চিৎকার করতে করতে মাটিতে শুয়ে পড়ি, আমাকে এমন করতে দেখে চিত্রা আপুনি ছুটে এসে জিজ্ঞেস করে "কি হয়েছে" আমি কিছুই বলতে পারছিলাম ঘাড়ে হাত দিয়ে শুধু মাটিতে ছটফট করছিলাম। তারপর চিত্রা আপুনি ঘাড় থেকে আমার হাতটা সরিয়ে দেখে "সাপে ছোবল দিলে যেমন দুইটা দাঁতের চিহ্ন হয় ঠিক ওইরকম দুইটা চিহ্ন হয়ে আছে"

চিত্রা আপুনি ঘাড় থেকে চোখে ফেরাতে নাহ ফেরাতে আমি আবারও চিৎকার দিয়ে উঠি "আমার হাত" চিত্রা আপুনি আমার হাত থেকে কাপড় সরিয়ে দেখে হাতেও ঠিক একই চিহ্ন।

পর পর দুইটা ছোবলের চিহ্নে যেনো চিত্রা আপুনির চোখ কপালে উঠে গেলো, ঘরে কোনো সাপ নেই অথচ আমার শরীরে সাপের ছোবলের চিহ্ন কিভাবে এলো।

অনেকক্ষণ যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে এক পর্যায়ে আমি স্থির হয়ে যাই। দুধের মতো ধবধবে শরীর আস্তে আস্তে কালো হতে শুরু করে কিন্তু তখনও আমার শরীরে মোটামুটি ভালোই শক্তি ছিলো। নিজে নিজেই চলাফেরা করতে পারতাম।

বিকেলে জিজু একজন মধ্যবয়স্ক লোক নিয়ে এলেন।

জিজু:- চিত্রা! ইউনুস ভাইকে নিয়ে এসেছি

চিত্রা:- আসসালামু আলাইকুম ভাইজান ভালো আছেন

ইউনুস:- ওয়া আলাইকুম সালাম! আমি ভালো আছি। আসতে আসতে সাইফ আমার কাছে সবটাই বলেছে সবই বুঝলাম।

চিত্রা:- আপনি যা যা শুনেছেন তার বাইরেও আরো একটি ঘটনা ঘটেছে..

ইউনুস:- আবার কি ঘটেছে..?

চিত্রা আপুনি আমাকে তার কাছে নিয়ে গিয়ে ঘাড়ে ও হাতে থাকা সেই চিহ্নগুলো দেখিয়ে বললো...

চিত্রা:- দুপুরবেলা হঠাৎ করেই চিৎকার করতে করতে মাটিতে ছটফট করছিলো, আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি ঘাড়ে ও হাতে সাপে ছোবল দিলে যেমন দাগ পরে যায় ঠিক তেমনই দুইটা দাগ পরেছে।

চিত্রা আপুনির কাছ থেকে সব কথা শুনে ইউনুস দেওয়ান একটা সন্দেহজনক হাসি দিয়ে বললো...

ইউনুস:- চিন্তা করো নাহ, সব ঠিক হয়ে যাবে।

এখন তোমাদের একটা কাজ করতে হবে...

চিত্রা:- কি কাজ.?

ইউনুস:- তোমাদে বাড়ির উঠানে একটা বড় বসার চেয়ার[সোফা] বের করবে, সাত রঙেন সাতটা সুতা, আর একটা কাঁচের গ্লাস ভর্তি পানি এসবকিছু সংগ্রহ করে রাখবে, আমি সন্ধ্যার পর আসবো।

ইউনুস দেওয়ানের কথা মতো সবকিছুই যোগাড় করা হলো। এমনিতে ওদের মহল্লায় এত বেশি লোকজন দেখা যায় নাহ অথচ ওইদিন যেনো ওদের উঠান থেকে মানুষ যেতেই চাইছিলো নাহ। সবার মুখে একটাই কথা "আজকে চিত্রা ভাবির ছোট ভাইয়ের উপরে জ্বিন হাজির করা হবে"

সন্ধ্যার পর ইউনুস দেওয়ান এসে সবকিছু দেখে বললো...

ইউনুস:- হ্যাঁ সবকিছু তোহ ঠিকঠাকই আছে, তোমার ভাইয়ে ওই চেয়ারে বসিয়ে দাও।

ইউনুস দেওয়ানের কথা মতো আমাকে চেয়ারে বসতে বললো, আমি এমনভাবে গিয়ে সোফায় বসলাম যেমন ভাবে কোনো সিনেমায় রাজা মহারাজারা সিংহাসনে গিয়ে বসে।

আমাকে এভাবে বসতে দেখে সবাই নিজেদের মধ্যে কি যেনো ফিসফিস করে বলছিলো। আমিও অবাক হলাম কারণ আমি কখনো এভাবে কারো সামনে বসিনি আজ হঠাৎ করে এভাবে বসলাম কেনো..?

তারপর ইউনুস দেওয়ান চিৎকার দিয়ে বলে উঠে...

ইউনুস:- এবার ওর সামনে কাঁচা মাছ আর শুটকি এনে রাখো.!

উনার কথা মতো চিত্রা আপুনি ঘর থেকে শুটকি এনে আমার সামনে রাখতেই আমি ক্ষুধার্ত বিড়ালের মতো শুটকিগুলো খেতে শুরু করি।

শুটকিগুলো খেতে খেতে খেয়াল করলাম, ইউনুস দেওয়ান সাত রঙের সাতটা সুতা একত্র করে কাঁচের গ্লাসে ভিজিয়ে রাখলেন।

ইউনুস:- আপনারা সবাই দূরে যান, ওর সাথে আমি একা কথা বলতে চাই

উনার কথা মতো সবাই চলে গেলো। এবার উনি ওই সাত রঙের সুতাগুলো আমার বাম হাতে বেঁধে দিয়ে আমার কানে কানে বলে

ইউনুস:- "চন্দ্রা"

আমি অবাক হয়ে গেলাম উনি কি করে এই নাম জানলেন..?

আমি কিছু বুঝে উঠার আগে উনি আবারও বললেন...

ইউনুস:- কিরে অবাক হয়েছিস! হা!হা!হা! তোর নিয়তি শেষ পর্যন্ত আমাদের সামনে এনেই তোকে দাঁড় করিয়েছে....

খুব শীঘ্রই তোর ওই পঞ্চশক্তি আমাদের হবে। একটা কথা সবসময় মনে রাখিস কাটা দিয়ে কাটা তুলতে হয় আমরাও সেটাই করছি.!

এই বলে ইউনুস দেওয়ান আমার কপালে তার হাত দিয়ে শক্ত করে ধরলেন এরপর আমার আর কিচ্ছু মনে নেই.....

যখন চোখ খুলি তখন নিজেকে এক নতুন জায়গায় দেখতে পাই, জায়গাটা নতুন হলেও কেমন চেনা চেনা লাগছিলো হয়তো এই জায়গার সম্পর্কে এর আগেও শুনেছি কিন্তু মনে পড়ছে নাহ। ওখানে আমি সহ আম্মি, হাসমি ভাইয়া আর একজন অপরিচিত লোক ছিলো দেখতে হুজুর মনে হচ্ছিল বয়স আনুমানিক ৪০-৪৫ বছর হবে।

আমাকে চোখ খুলতে দেখে আম্মি বলে বলে....

আম্মু:- জ্ঞান ফিরেছে তোর। এখন কেমন আছিস বাবা.?

চিশতি:- হুম ভালো! কিন্তু শরীর প্রচুর ব্যথা করছে। আর এটা কোন জায়গা..? আর আমি এখানে এলাম কিভাবে..?

আম্মু:- তোকে মূসা হুজুরের কথা বলেছিলাম মনে আছে..?

চিশতি:- হ্যাঁ!

আম্মু:- উনিই সেই মূসা হুজুর।[ওই ৪০-৪৫ বছর বয়সী লোকটিকে দেখিয়ে বললো]

চিশতি:- আসসালামু আলাইকুম।

আল মূসা:- ওয়া আলাইকুম সালাম।

আম্মু:- ওইদিন চিত্রার বাসায় ইউনুস দেওয়ান তোকে সাত রঙের সুতা দিয়ে যাওয়ার পর থেকে তোর শরীরে অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হতে থাকে। তোর সাদা চামড়া কালচে হয়ে যাচ্ছিল, শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছিলি, মাঝরাতে একা একা কথা বলতি। হঠাৎ হঠাৎ বাইরে বসে কান্না করতি। আবার রুহান আর তিহানের নোটবুক খুঁজে নাহ পাওয়া গেলে ওইগুলো তোর বালিশের নিচ থেকে পাওয়া যেতো। ওই নোটবুকের প্রত্যেকটা পৃষ্ঠায় কিসব অদ্ভুত ও ভয়ংকর ছবি আঁকা ছিলো যেগুলো দেখে বাচ্চারাসহ তোর জিজু আর চিত্রাও ভয় পেতো।

তাই তোকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসি। বাসায় আনার পরও তোর সমস্যার কোনো উন্নতি নাহ হয়ে বরং দিন দিন আরো সমস্যা বাড়তে থাকে। প্রতিদিন মাটিতে ছটফট করতি, আর সারা শরীর ভর্তি সাপের ছোবলের চিহ্ন পাওয়া যেতো।

আমি আর তোর আব্বু আবারও মূসা হুজুরের সন্ধান করতে থাকি। অনেক কষ্টের পর উনার ঠিকানা খুঁজে পাই এবং তোকেও উনার কাছে নিয়ে আসি।

[সবশেষে কি চিশতি সুস্থ হয়েছিলো.? যদি সুস্থ হয়েই থাকে তাহলে কিভাবে হলো.? সবটাই জানতে পারবে নেক্সট এপিসোডে]