পুনর্জন্ম (পঞ্চশক্তি ও নাগমণি) — পর্ব ১৯
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৯ · ৩০ পর্বের মধ্যে ১৯
মুফতি আল মূসার কাছ থেকে ওইদিন চলে আসি।
পরদিন সকালে আমি আর আব্রাহাম হুজুরের নির্দেশ মতো সবকিছু যোগাড় করি।
এসব যোগাড় করতে করতে বিকেল হয়ে যায় তাই চিন্তা করি সন্ধ্যার পরেই চৈতীকে নিয়ে হুজুরের কাছে যাবো।
সন্ধ্যার পর ঠিক আমি, আব্রাহাম আর হাসমি আমরা তিনজন চৈতীকে নিয়ে যাবো।
আমরা বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার সময় ইকবাল বলে উঠে....
ইকবাল:- কোথায় যাচ্ছেন চৈতীকে নিয়ে..?
যেখানেই যান নাহ কেনো ও কি সুস্থ হবে..?
আব্রাহাম:- জানোয়ার, আমার মেয়েকে আমি যেখানে খুশি নিয়ে যাবো তোকে তার কৈফিয়ত দিতে যাবো কেনো..?
ইকবাল:- কৈফিয়ত তোহ দিতেই হবে কারণ আমি ওর স্বামী।
আমি:- যদি সত্যিই তুই নিজেকে ওর স্বামী মনে করতি তাহলে এমন জঘন্য কাজ করতে পারতি নাহ ছিহ্ঃ
হাসমি:- আহা তোমরা কি শুরু করলে বলো তোহ..?
তাড়াতাড়ি চলো দেড়ি হয়ে যাচ্ছে....
ইকবাল:- আপনারা যেখানে যাওয়ার যান কিন্তু আমিও আপনাদের সাথে যাবো...
আব্রাহাম:- তোকে নিয়ে যাবো কেনো...? ওহ্ যাতে করে আমাদের সাথে গিয়ে সবকিছু পন্ডল করতে পারিস, কি তাই তোহ..? নেবো নাহ তোকে...
আমি:- যেতে চাইছে যখন আর মানা করো নাহ...
আব্রাহাম:- কিন্তু....
হাসমি:- কোনো কিন্তু ফিন্তু করতে হবে নাহ এখন চলো তোহ....
তারপর আমি, আব্রাহাম, হাসমি, আর ইকবাল চৈতীকে নিয়ে মূসা হুজুরের কাছে যাই।
-------------
আমাদের দেখে মূসা হুজুর বললেন...
আল মূসা:- আসসালামু আলাইকুম, আপনারা এসেছেনে..?
আমি তোহ ভেবেছিলাম আপনারা বোধহয় আর আসবেন নাহ..!
আব্রাহাম:- ওয়া আলাইকুম সালাম!
আসলে ইমাম সাহেব সবকিছু যোগাড় করতে করতে একটু সময় লেগে গেলো আরকি।
আল মূসা:- সবটাই বুঝলাম, তা ওই লোকটি কে.?
আব্রাহাম:- ও আমার মেয়ের জামাই, ইকবাল!
আল মূসা:- আসসালামু আলাইকুম, ভালো আছেন আপনি.?
ইকবাল:- ওয়া আলাইকুম সালাম! হ্যাঁ আমি ভালো আছি আপনি.?
আল মূসা:- আমিও ভালো আছি, তা আপনার স্ত্রীর কতদিন যাবৎ এই সমস্যা..?
ইকবাল:- তা তোহ প্রথম ৬-৭ মাসেরও বেশি
আল মূসা:- এতদিনে কি আপনি উনাকে কোথাও চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাননি..?
ইকবাল:- আমি কোথাও নি' নাই ওর বাবা মা'ই যা করার করেছে এতদিন...
আল মূসা:- বিয়ের পর মেয়ের দায়িত্ব কি বাবা মায়ের নাকী আপনার..?
ইকবাল:- আপনার কাছে যে কাজে এসেছি সে কাজটা করুন নাহ এত কথা বলছেন কেনো..?
আমি:- থাক নাহ ইমাম সাহেব ওর সাথে এসব কথা বলার কি দরকার, আপনি চৈতীর চিকিৎসা করুন।
আল মূসা:- মা চৈতী, আমার কথা শুনতে পাচ্ছো..?
চৈতী:- হি!হি!হি! আসবে! সে আসবে! আমাকে নিয়ে যাবে হি!হি!হি!
চৈতীর সাথে কথা বলে আল মূসা আমাকে আর আব্রাহামকে সাইডে ডেকে নিয়ে বলে...
আল মূসা:- আপনারা একদম শেষ সময়ে ওকে নিয়ে এসেছেন...
ওর রুহ্ এর সাথে যে জ্বিনের বিনিময় হয়েছে সে খুব নিকটে এসেছে আমাদের হাতে খুব কম সময় আছে, আমি জানি নাহ এই কাজটাতে সফল হতে পারবো কি নাহ তবে আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও চৈতীকে রক্ষা করার চেষ্টা করবো।
আব্রাহাম:- এই কয়েকটা মাস বহু হুজুর কবিরাজের কাছে গিয়েছি কিন্তু কারো কথায় এতটুকু ভরসা পাইনি কিন্তু আপনার কথায় অনেক ভরসা পাচ্ছি আমাদের বিশ্বাস আপনি পারবেন!
আল মূসা:- এই জ্বিন খুব ভয়ংকর, এটাকে ঠিক জ্বিন বলা যায় নাহ এটা জাহান্নামের রাজাদের একজন, ওকে সবাই সয়তান নামেই চিনে।
আমি:- ইমাম সাহেব এই জ্বিনকে কি মারা সম্ভব নাহ..?
আল মূসা:- এই জ্বিনকে মারা কখনোই সম্ভব নাহ, একে বন্দী করা যাবে বা মানুষের রুহ্ এর বিনিময়ে অন্য কোনো প্রাণীর রুহ্ উৎসর্গ করতে হয়, যদি এই সয়তানের অন্য কোনো প্রাণীর রুহ্ উৎসর্গ পছন্দ হয় তাহলে সে চৈতীকে ছেড়ে দিবে নয়তো চৈতীকে ওর সাথে নিয়ে যাবে...
আমি:- কি বলছেন ইমাম সাহেব, আমার মেয়েকে বাঁচান যেভাবেই হোক! ও গর্ভবতী, ওর সন্তান আর ও দু'জনই যেনো সুস্থ থাকে, আপনি দয়া করে কিছু একটা করুন!
আল মূসা:- আপনারা চিন্তা করবেন নাহ আল্লাহ আমাদের পাশে আছেন, সয়তান যতই শক্তিশালী হোক নাহ কেনো আল্লাহর কালামের কাছে ওকে হার মানতেই হবে, আমি তোহ আগেই বলেছিলাম এই জ্বিন ছেলেদের প্রতি দূর্বল তাই মনে হচ্ছে আমরা এই কাজে সফল হতে পারবো কারণ চৈতী একজন মেয়ে, এই জ্বিন কিছুতেই কোনো মেয়ের শরীরে প্রবেশ করতে চায় নাহ কিন্তু কোনো শক্তিশালী কালো জাদুর প্রভাবে তাকে পৃথিবীতে ডেকে আনা হয়েছে, এটা মোটেও কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নাহ, যে এই কাজটা করেছে সে পাক্কা খিলাড়ি।
আব্রাহাম:- সে যাই হোক, এখন আমরা কি করবো ইমাম সাহেব..?
আল মূসা:- চৈতীসহ আপনারা সবাই অযু করে আসুন....
একে একে সবাই অযু করে এসে হুজুরের সাথে একটা ঘরে গেলাম।
খেয়াল করলাম হুজুর তার হাতে করে কিছু বরই পাতা নিয়ে এসেছে, তাকে সাহস করে আর জিজ্ঞেস করতে পারলাম নাহ পাতাগুলো কেনো এনেছে।
প্রথম দিন যখন এসেছিলাম তখন এই ঘরটা দেখিনি, মনে হয় সবসময় এটাতে কাউকে আনেন নাহ।
ঘরটা বেশি বড় নাহ, ঘরটির ফ্লোরে সাদা রঙের একটা বৃত্ত অঙ্কন করা ছিলো, সেই বৃত্তের ভিতরে আবার একটা তারা অঙ্কন করা ছিলো।
দেওয়ালগুলোতে আরবী ভাষায় কিছু লিখা।
পাশেই একটা বুকস্টল ওখানে নানান ধরনের বই ছিলো, আর ঘরের পশ্চিম দিকে একটা কাঠের তৈরি কোনো আসন জাতীয় কিছু ছিলো যেটাতে ছিলো মোমবাতি আগরবাতি ইত্যাদি ইত্যাদি।
আল মূসা:- কুরেশি সাব এই আসনে খুচরা ১০১টাকা দিন।
আব্রাহাম:- হুজুর এটা তোহ কোনো ফকির বাড়ির আসনের মতো মনে হচ্ছে!
আপনি কি আপনার উপরে জ্বিন হাজির করাবেন..?
আল মূসা:- নাহ, এটা আমার দাদার আসন, কথিত আছে এখানে জটায়ু থাকে আমার বাবাও এই আসনের মালিককে নিজের শরীর দেয়েছিলো কিন্তু আমি এই আসনকে নিজের শরীর দি নাই কারণ আমি একজন হুজুর।
আব্রাহাম:- তাহলে আসনে টাকা দিতে বললেন..?
আল মূসা:- এই আসন বংশ পরম্পরার কারণে আমার পিছনে লেগে আছে, আমার দাদার পর আমার বাবার শরীরে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও বসবাস করেছিলো তারপর যখন আমার বাবার মৃত্যু হয় তখন সে আমার শরীর দখল করতে চাইতো কিন্তু আমি আল্লাহওয়ালা লোক থাকার জন্য সে আমাকে নিজের বশে নিতে পারেনি, কিন্তু একদিন রাতে স্বপ্নে দেখি "এক বিশাল দেহি মানুষ কিন্তু ঠিক মানুষ নাহ, চুলগুলো অনেক বড় বড় একদম জট পাকিয়ে গেছে, পড়লে ছেঁড়া জামা কাপড়, শরীরে কাঁদা মাখানো চোখগুলো দেখতে খুব ভয়ংকর একবার দেখলে দ্বিতীয় বার দেখার সাহস হবে নাহ কারো"
লোকটি আমাকে বললো, "তুই আমাকে স্বীকার কর বা নাহ কর, আমার আসনে প্রতিদিন মোমবাতি জ্বালিয়ে দিবি, তোর কাছে কোনো মানুষ সাহায্য চাইতে এলে আমার আসনে ১০১ টাকা হাদিয়া দিতে বলবি তাহলে আমি সবসময় তোর পাশে থেকে তোর রোগীর উপকার করবো, তুই আমাকে স্বীকার কর বা নাহ কর ওই ১০১ টাকা হাদিয়ার জোরে আমি তাদের সাহায্য করবো, কিন্তু তোকে একটা অভিশাপ দিলাম তুই আমাকে অস্বীকার করার জন্য তুই কখনো কোনো সন্তানের মুখ দেখতে পারবি নাহ তবে এই পৃথিবীতে একটা আদিশক্তির আবির্ভাব হবে, ওই আদিশক্তি আসার পর পৃথিবীর অনেক পাপিষ্ঠাদের শাস্তি দিবে সেদিন আমিও থাকবো তার পাশে, সাধারণত আমি বংশ পরম্পরায় মানুষের শরীর দখল করে থাকি কিন্তু সেদিন আমি কারো শরীর দখল করবো নাহ বরং সেই আদিশক্তিই আমাকে তার শরীরে টানবে এবং আমি হবো তার বাম হাত।
আমি যেদিন ওই আদিশক্তির গোলাম হতে পারবো সেদিনই তুই সন্তান প্রাপ্ত করবি আর আগে নাহ"
সেদিনের পর আজ আমার বিয়ে ৪ বছর হতে চললো কিন্তু আমার এখনো কোনো সন্তান নেই।
তবে আমার ভরসা আছে ওই আদিশক্তির উপর, সে নিশ্চয়ই এই পৃথিবীতে আসবে এবং পৃথিবীর দুষ্কর লোকজনদের শাস্তি দিবে তার আর্বিভাবের পরেই আমি সন্তান লাভ করবো ইনশাআল্লাহ।
যাই হোক আপনি আসনে ১০১ টাকা দিয়ে বৃত্তের বাইরে সবাইকে নিয়ে বসুন।
তারপর মূসা হুজুর চৈতীকে ওই বৃত্তে থাকা তারার মাঝে নিয়ে বসালো এবং উনিও চৈতীর মুখোমুখি হয়ে বসলো, অন্যদিকে আমরা আসনে ১০১ টাকা রেখে সবাই বৃত্তের বাইরে বসে আছি।
তারপর দেখলাম মূসা হুজুর আমাদের নিয়ে যাওয়া ৫ রকমের ৫টা ফল, ৫টা পান, ৫টা ধান, দুব্বা আর ওই ৫টা কাঁচা পয়সা চৈতীর সামনে সাজিয়ে দিলো।
এবার আমাদের সংগ্রহ করা ওই ২১ ধরনের ২১টা করে নিয়ে যাওয়া কাটা আর সেই জোয়ার ভাটার পানি মাটির হাঁড়িতে রেখে লাল গামছা দিয়ে হাঁড়ির মুখটা বেঁধে দিলো, খেয়াল করলাম উনি এই কাজগুলো করার সময় বিরবির করে কিছু পড়ছিলেন।
হাঁড়িটা হাতে নিয়ে মূসা হুজুর চৈতীর পিছনে চলে এলো, পিছনে এসে চৈতীর মাথার উপর ওই হাঁড়িটা উপুড় করে ধরলেন কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে হাঁড়ি থেকে এক ফোটাও পানি পড়ছে নাহ...!
হুজুর জোড়ে জোড়ে আয়াত পড়তে থাকে, চৈতী যেনো আয়াতের শব্দে কষ্ট পাচ্ছিলো তাই বার বার নিজের হাত দিয়ে কান চেপে ধরছিলো।
হঠাৎ করে ঘরটিতে প্রচুর বাতাস বইতে থাকে, এত বাতাস মনে হয় কোনো ঝড়ের আগেই হয় কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু একদম শান্ত হয়ে যায়।
বেশ কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর ঘরটিতে উটের পায়ের শব্দ ভেসে আসছিলো "ঠক ঠক" অনবরত "ঠক ঠক" শব্দ ভেসেই আসছিলো।
আল মূসা:- সাবধান সে আসছে, আপনারা সবাই দুরুদ পড়তে থাকুন
ইকবাল:- কিচ্ছু হবে নাহ, আপনারা চৈতীকে এখান থেকে নিয়ে চলুন, উনাকে আমার এক ফোটাও বিশ্বাস হচ্ছে নাহ
আব্রাহাম রাগে ইকবালকে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলে...
আব্রাহাম:- তোর কথা মতো আমি আমার মেয়েকে এখান থেকে নিয়ে যাবো..? তোর ইচ্ছে হলে তুই চলে যা....
আমরা সবাই দুরুদ পড়তে শুরু করি তখন হঠাৎ করেই ঘরটি কাঁপতে শুরু করে, মনে হচ্ছে ঘরটি এক্ষুনি দুই ভাগ হয়ে যাবে এবং তার দ্বিখণ্ডিত অংশ আমাদের গিলে খাবে।
কিছুক্ষণ এভাবেই কম্পন হওয়ার পর আবার সবকিছু শান্ত হয়ে গেলো, হঠাৎ করে দেখি মূসা হুজুরের বলা সেই জটায়ু নিজের সশরীরে চৈতীর সামনে বসে আছে।
জটায়ুকে দেখে আমরা সবাই অবাক, এটা কি করে সম্ভব..?
স্বয়ং জটায়ু নিজের সশরীরে এখানে এলো কেনো.??
যাই হোক জটায়ুকে দেখে মূসা হুজুর বললো...
আল মূসা:- আপনি.! আপনি নিজের সশরীরে এত লোকের সমানে এখানে কেনো এলেন..?
আমরা তোহ আপনাকে আহ্বান করিনি.?
আমরা পাইমনকে ডেকেছি আপনি কেনো এলেন..?
এর আগে তোহ কখনো আপনাকে সশরীরে আসতে দেখিনি..?
জটায়ু:- এই সয়তান অনেক ভয়ংকর তুই ওর সাথে একা পেরে উঠতে পারবি নাহ তাই আমাকে নিজের সশরীরে আসতে হলো, যেহেতু এই মেয়েটির বাবা মা আমার আসনে ১০১টা হাদিয়া দিয়েছে সেক্ষেত্রে ওকে বাঁচানো আমারও কর্তব্য।
আর কোনো কথা বাড়াস নাহ, কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইমন হাজির হবে তুই আর আমি একসাথে ওর সাথে লড়াই করবো এই নিরীহ মেয়েটাকে যে করেই হোক আমাদেরকে ওই সয়তানের হাত থেকে বাঁচাতে হবে।
ইকবাল:- আমি চৈতীকে এখানে রাখবো নাহ, ওকে এক্ষুনি আমার সাথে নিয়ে যাবো।
আব্রাহাম আবারও রেগে গিয়ে ইকবালকে থাপ্পড় দিয়ে বলে জানোয়ারের বাচ্চা তোর কথা শুনে কি আমার মেয়েকে সয়তানের হাতে মরতে দিবো, চেষ্টা নাহ করে মরার চেয়ে চেষ্টা করে মরা অনেক ভালো।
হঠাৎ করে ঘরের মধ্যে কিছু গোলাপি রঙের চিকন রশ্মি ভেসে আসছিলো, আর ক্রমশ "ঠক ঠক" শব্দ বেড়েই যাচ্ছিল আমাদের আর বুঝতে বাকি রইলো নাহ পাইমন খুব নিকটে।
এবার যেনো চৈতীর পাগলামি আরো বেড়ে গেলো, পাগলের মতো হাসতে শুরু করে এক পর্যায়ে চৈতীর উপর গিয়োে ওই গোলাপি রশ্মি পড়ে এবং চৈতীর চোখগুলো সাথে সাথে কালো হয়ে যায় ওর চেহারায় যেনো অন্য কোনো চেহারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল।
চৈতীর সামনে জটায়ু পিছনে মূসা হুজুর, তারা নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছে আর তাদের মাঝখানে চৈতী রূপী পাইমন।
জটায়ু:- শোন মূসা, যত যাই হোক তুই ওর পিছন থেকে নড়বি নাহ তোর জানা যত আয়াত আছে সব পড়তে থাক আমি ওর সামনে থেকে লড়াই করবো।
আল মূসা:- আপনারা সবাই ৪কূল আর আয়াতুল কুরসি পড়ে নিজেদের প্রটেক্ট করে নিন আগে এ সয়তান আমাদের সাথে পেরে উঠতে নাহ পারলে আপনাদের ক্ষতি করতে পারে।
আর আপনাদের জানা যত দোয়া দুরুদ আছে সবগুলো পড়তে থাকুন, আল্লাহ আমাদের সাথে আছে, আজ হয় এই সয়তানকে হারাবো নয়তো আমরা মরবো।
জটায়ু আর মূসা হুজুরের মাঝে থাকা পাইমন এক পর্যায়ে তাদের পথভ্রষ্ট করার জন্য মূসা হুজুরকে বলে....
পাইমন:- কিরে মূসা, তুই যে এখানে এসেছিস তোর বিবির কথা কি একবারও ভেবে দেখিস তোর কিছু হলে সে কি করবে, পিছনে তাকিয়ে দেখ তোর বিবি আগুনে পুড়ে যাচ্ছে.....
জটায়ু:- খবরদার মূসা পিছনে তাকাবি নাহ, ও তোকে পথভ্রষ্ট করতে চাচ্ছে....
আমরা মূসা হুজুরের পিছনে তাকিয়ে দেখি তার স্ত্রী আগুনে পুড়ে যাচ্ছে, আমরা সবাই চিৎকার করতে থাকি....
জটায়ু:- চুপ... একদম চুপ এই সয়তান তোদের ভয় দেখাচ্ছে, তোরা তোদের মতো আমল করতে থাক, ওর ধোঁকায় পড়িস নাহ
পাইমন:- মূসা তুই তোহ তোর স্ত্রীর মায়া ত্যাগ করে ফেললি, মূসা রে তোকে তোহ আমার মনে ধরেছে এই মেয়েটিকে এখানেই মেরে তোকে আমার সাথে নিয়ে যাবো
মূসা:- দোজখের সয়তান, তুই কোনোদিন আমার কেনো এই মেয়েটিরও কোনো ক্ষতি করতে পারবি নাহ, আজ তোকে এখান থেকে পরাজিত হয়ে যেতেই হবে
পাইমন:- মূসা ভুল জায়গায় যুদ্ধ করতে এসেছিস তুই, আমি কোনো সাধারণ জ্বিন বা সয়তান নাহ, আমি ইবলিশের বংশধর জাহান্নামের রাজার রাজা মহারাজাদের মধ্যে একজন তুই কেনো কেউই আমার কিচ্ছু করতে পারবি নাহ।
আমার কাছে এই মেয়ে রুহ্ উৎসর্গ করা হয়েছে আমি ওর রুহ্ আমার সাথে জাহান্নামে নিয়ে যাবো কেউ আটকাতে পারবে নাহ আমাকে।
জটায়ু:- এদিকে দেখ সয়তান, আদিশক্তির বাম হাত আমি, আজ দ্বিশক্তি একত্রিত হয়েছি তোর বিনাশ নিশ্চিত।
পাইমন:- হা!হা!হা! কিচ্ছু করতে পারবি নাহ আমার আমি এক্ষুনি ওর রুহ্ নিয়ে এখান থেকে চলে যাবো পারলে আটকে দেখা
জটায়ু:- তুই পারলে এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে দেখা হা!হা!হা!
শোন রেহ সয়তান তুই হয়তো শক্তিতে সেরা কিন্তু বুদ্ধিতে শূন্য, তুই কি ভেবেছিস এখানে আসবি আর একটা নিরিহ মেয়ের রুহ্ তোর সাথে জাহান্নামে নিয়ে যাবি.? হা!হা!হা
আমরা থাকতে তোর এই উদ্দেশ্য কোনোদিন সফল হতে পারবে নাহ
তুই এখানে এসেছিস নিজের ইচ্ছায় যাবি আমাদের ইচ্ছায়
মূসা হাঁড়িটা শক্ত করে ধর এক্ষুনি ওর খেলা শেষ করবো
মূসা হুজুর জটায়ুর কথানুযায়ী হাঁড়িটা শক্ত করে ধরলো এবং হুট করে জটায়ু চৈতীর সামনে থেকে উধাও হয়ে যায় আর ওই হাঁড়ির মুখে বাঁধা গামছাটা লাল থেকে সাদা হয়ে গেলো, এতক্ষণ যে হাঁড়ি থেকে এক ফোটাও পানি পড়ছিলো নাহ এখন ওই হাঁড়ি থেকে নীল রঙের পানি চৈতীর শরীরে পড়ছে আর চৈতী চিৎকার করছে....
পাইমন:- আহ্! কি করেছিস তোরা আমার সাথে আমার শরীরে এত জ্বালাপোড়া করছে কেনো...?
আল মূসা:- ওরে সয়তান তুই কি ভেবেছিস আমরা তোর কমজোরি নাহ জেনেই তোর সাথে লড়াই করতে এসেছি..?
যদি এমনটা ভেবে থাকিস তাহলে তুই ভুল!
পাইমন:- মূসা কাজটা তুই ঠিক করলি নাহ, তোকে পস্তাতে হবে
আল মূসা:- সে নাহয় পস্তালাম কিন্তু এখন তুই কি করবি সয়তান, তোকে কে বাঁচাবে এখন..?
পাইমন:- মূসা আমাকে ঠিক করে দে
আল মূসা:- আচ্ছা ঠিক করে দিবো কিন্তু তার বিনিময়ে আমি কি পাবো..?
পাইমন:- কি চাস তুই..?
আল মূসা:- এই নিষ্পাপ মেয়েটির রুহ্ মুক্ত করে দিতে হবে...
পাইমন:- নাহ! ওর রুহ্ আমার কাছে উৎসর্গ করা হয়েছে আমি ওকে ছাড়তে পারবো নাহ
আল মূসা:- ওর রুহ্ এর বিনিময়ে কি দিলে খুশি হবি..?
পাইমন:- আমার ওর রুহ্'ই চাই
আল মূসা:- আচ্ছা বেশ, তাহলে এই বৃত্তের ভিতরেই সারাজীবন পরে থাক এভাবেই তোর শরীর জ্বালাপোড়া করতে থাকবে, একদিন নাহ একদিন তোহ এই মেয়েটি মারা যাবে এই বৃত্তের ভেতরে থাকতে থাকতে তখন তুই কি করবি..?
তখন তোহ কোনো শরীর পাবি নাহ আর নাইবা তোর জাহান্নামের সিংহাসন কি করবি তখন..?
কাক হয়ে পরে থাকবি এখানে ভালো হবে তোহ তখন...?
পাইমন:- নাহ! নাহ! আমি ওর রুহ্ আমার সাথে নিবো নাহ তারপরও তুই আমাকে মুক্তি করে দে
আল মূসা:- আচ্ছা দিলাম মুক্তি করে, কিন্তু বল ওর রুহ্ এর বিনিময়ে কি নিবি নয়তো কিছুদিন পর তোর করা প্রতিজ্ঞা ভুলে আবারও ওর রুহ্ নিতে আসবি তোরা প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারী তোদের আমরা বিশ্বাস করি নাহ
পাইমন:- ওর রুহ্ এর বিনিময়ে আমাকে তিনটা গরু আর দুইটা পাঠা দিবো সাথে ১০৩কেজি মিষ্টি ২০০লিটার দুধ আর ৮০ কেজি ফল
আল মূসা:- তুই কি আমাদের সাথে খেলা করছিস..?
একে তোহ নিজেকে মুক্তি করতে পারছিস নাহ তার উপর এতকিছু চাচ্ছিস তুই কি ভেবেছিস তুই এতকিছু চাইবি আর আমরা দিয়ে দিবো..?
পাইমন:- তুইই তোহ বললি ওর রুহ্ এর বিনিময়ে কি চাইবো.?
আল মূসা:- হ্যাঁ বলেছি তাই বলে মনে যা আসবে তাই চাইবে.??
পাইমন:- আচ্ছা তাহলে একটা গরু দিস এবার আমাকে মুক্তি দে...
আল মূসা:- হ্যাঁ দিবো কিন্তু তুই যে এখান থেকে একেবারে চলে যাবি তার প্রমাণ কি..?
পাইমন:- তোর বাড়ির বড় পেয়ারা গাছটা ভেঙ্গে যাবো
আল মূসা:- ওইটা আমার শখের পেয়ারা গাছ ওই গাছ ভাঙ্গলে আমি পেয়ারা খাবো কিভাবে..?
তাইমন:- তাহলে বল কিভাবে যাবো.?
আল মূসা:- তোর কাছে যে এই মেয়েটির রুহ্ উৎসর্গ করেছে তার বুকে কামোর দিয়ে গোস্তো ছিড়ে যেতে হবে
পাইমন:- ঠিক আছে এবার আমাকে মুক্তি কর
তারপর মূসা হুজুর আবারও বিরবির করে কিছু একটা পড়তে শুরু করলো, হাঁড়িটা হঠাৎ করে ভেঙ্গে গেলো আর চৈতী দৌড়ে এসে ইকবালের বুকে কামোর দিয়ে গোস্তো ছিড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেই অজ্ঞান হয়ে গেলো।
তাহলে আমরাই এতদিন ঠিক ছিলাম এই কুত্তার বাচ্চাই আমার মেয়ের জীবনটা নষ্ট করতে চেয়েছিলো আজকে তা প্রমাণ হলো।
যাই হোক এখন ওর সাথে কথা বলতেও আমাদের ঘৃণা করছিলো।
মূসা হুজুরও আমাদের দিকে তাকিয়ে রইলো কিভাবে কি..?
যাই হোক বুঝা গেলো পাইমন আমার মেয়েকে মুক্তি দিয়েছে, কিন্তু চৈতীর তোহ এখনো জ্ঞান ফিরছে নাহ।
আব্রাহাম:- হুজুর ওই সয়তানকে এত সহজে কাবু করলেন কিভাবে..?
আল মূসা:- কুরেশি সাব, আমি কালকে চৈতীর হাত দেখেই বলেছিলাম ওর সাথে পাইমনের যোগ আছে তাই জন্য আপনাকে ২১ ধরনের কাটা আনতে বলেছিলাম, আমি অনেক বার বলেছি তাইমন সয়তান মেয়েদের মতো ওর শরীরে কোনো আঘাত সহ্য করতে পারে নাহ, তাইমনকে চৈতীর শরীরে আনার জন্য ওর সামনে ফলমূল ইত্যাদি ইত্যাদি দেওয়া হয়েছিলো আর তাইমন এসেও পড়েছে ও ভেবেছিলো আমরা শুধু ওর সাথে কথা বলার জন্যই ওকে ডেকেছি কিন্তু ও ভুল ভেবেছিলো, আমার সাথে জটায়ু থাকায় কাজটা আরো সহজ হয়ে গেলো, পাইমন বৃত্তে প্রবেশ করা মাত্র জটায়ু বৃত্তের চারপাশে কুন্ডলী রেখা টানে যেটা পাইমন বুঝতেও পারেনি।
আপনারা হয়তো অনেকেই খেয়াল করেছিলেন আমি হাতে করে বরই পাতা নিয়ে এসেছিলাম.?
হাঁড়িতে সবকিছুর সাথে বরই পাতাও রেখে দিয়েছিলাম, একটা কথা মনে রাখবেন বরই পাতার পানি হচ্ছে দূরবর্তী দেশগুলোর জন্য জমজম কূপের পানির সমান আর এসব সয়তান জমজম কূপের পানিকে খুব ভয় পায়।
হাঁড়িতে আমি জমজম কূপের পানিও দিয়েছিলাম সাথে বরই পাতা তার সাথে তোহ ২১ ধরনের কাটা ছিলোই যা পাইমনকে দূর্বল করতে সাহায্য করেছে।
সবশেষে জটায়ু হাঁড়ির মধ্যে ঢুকে পানিগুলো পাইমনের শরীরে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে এবং আমরা সফল হই।
আব্রাহাম:- চৈতী এবার ঠিক হয়ে যাবে তোহ..?
আল মূসা:- ইনশাআল্লাহ এবার আর কোনো ভয় নেই, কিন্তু ওর এখন অনেক বিশ্রামের প্রয়োজন, ওকে একদম কোনো কাজ করতে দেওয়া যাবে নাহ, একটু ভালো মন্দ খাওয়ান একটা ভালো গাইনী ডাক্তার আর একটা নিউরোলজিস্ট ডাক্তার দেখাবেন আশা করি আল্লাহর রহমতে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।
তারপর আমরা সবাই চৈতীকে নিয়ে চলে আসি, মাস খানেক পর চৈতীর একটা ছেলে সন্তান হয় ওর নাম রাখা হয় মিয়াদ।
চৈতীর ছেলে হওয়ার কিছুদিন পর তোর সৎ দাদীও এখানে চলে আসে।
তখন আমজাদ আর হালিমা নিজেদের বাড়ি বানিয়েছে, দু এক মাস পর হালিমারও গর্ভপাত হবে তাই তোর দাদী তাড়াতাড়ি করে চলে ভালুকা থেকে মুন্সিগঞ্জ চলে আসে।
তারপর চৈতীও সুস্থ হয়ে যায়, ইকবাল আর মিয়াদকে নিয়ে ওর শ্বশুর বাড়িতেই থাকতো।
হঠাৎ একদিন চৈতী আমাদের বাড়ি এসে হাজির...
চৈতী:- আম্মু, আব্বু কোথায়.?
আমি:- কেনো কি হয়েছে..?
চৈতী:- মিয়াদের আব্বু বলেছে আমার ভাগের ওয়ারিশ আজকের মধ্যে তার নামে লিখে দিতে সে ব্যাপারে আব্বুর সাথে কথা বলতে এসেছি..
আমি:- তোর সাহস তোহ কম নাহ, তোর পিছনে যা টাকা খরচ করেছি তারপরও তোর ওয়ারিশ চাই..?
চৈতী:- আমি এতকিছু বুঝি নাহ, আমি আব্বুর সাথে কথা বলতে এসেছি যা বলার আব্বুর সাথেই বলবো
এই বলে চৈতী আমার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘরের ভিতরে গিয়ে বসে পরলো।
কিছুক্ষণ পর তোর বাবা এলে আমি তাকে সবটা জানাই সে ঘরে গিয়ে চৈতীর সাথে কথা বলে....
আব্রাহাম:- কিরে মা আমার সাথে কথা বলতে এসেছিস শুনলাম...? তা কি কথা বলবি বল
চৈতী:- দেখো বাবা আমি যা বলতে এসেছে মন দিয়ে শুনবে, আমি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি তোমাদের মতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা আমার ভালো লাগে নাহ, তোমরা আমার বিয়েতে কি কি দিয়েছো বা আমি অসুস্থ থাকা কালীন কি কি খরচ করেছো তা আমি জানতে চাই নাহ, আমাকে মিয়াদের আব্বু পাঠিয়েছে তোমার সাথে কথা বলতে তাই এসেছি
আব্রাহাম:- হ্যাঁ বুঝলাম তা কি বলতে পাঠিয়েছে..?
চৈতী:- মিয়াদের আব্বু বলেছে আমার ভাগের ওয়ারিশ আমাকে দিয়ে দিতে আর যদি তা দিতে নাহ পারো তাহলে চিত্রাকে মিয়াদের আব্বুর সাথে বিয়ে দিতে
চৈতীর মুখে এই কথা শুনে আব্রাহাম চৈতীকে একটা থাপ্পড় দেয়, আর বলে...
আব্রাহাম:- তুই আমার মেয়ে এটা ভাবতে আমার ঘেন্না করছে ছিহ্ জানোয়ারের সাথে থাকতে থাকতে নিজেকে জানোয়ার বানিয়ে ফেলেছিস
এভাবেই অনেকক্ষণ কথা কাটাকাটি হতে হতে এক পর্যায়ে চৈতী নিজের পায়ের জুতা খুলে তোর আব্বুর মুখের সামনে নিয়ে গিয়ে বলে....
চৈতী:- তোমার মতো বাবাদের জুতা দিয়ে পেটানো উচিৎ, চিত্রাকে যদি মিয়াদের আব্বুর সাথে বিয়ে নাহ দাও তাহলে আমার ওয়ারিশের ভাগ দিয়ে দিও
আব্রাহাম:- জানোয়ারের বাচ্চা আজকে এই মুহুর্তে তোকে আমি ত্যাজ্য করলাম আজ থেকে আমার একটাই মেয়ে আর সেটা হলো চিত্রা
চৈতী:- ত্যাজ্য করো আর যাই করো আমার ওয়ারিশের ভাগ কিন্তু এক চুল পরিমাণ ছাড়বো নাহ এই বলে গেলাম।
এই বলে চৈতী চলে যায় আর তোর বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।
আমিই বা কি করবো কি বলে তাকে শান্তনা দিবো, এমন মেয়ে আমার গর্ভে জন্ম নিয়েছে ভাবতেই নিজের জীবন শেষ করে দিতে হচ্ছে করছিলো।
ওইদিন রাতে আমি আর হাসমি তোর বাবাকে বুঝাই....
আমি:- চৈতীর ভাগের সম্পদ চৈতীকে দিয়ে দাও যাতে আমদের কাছে ও কোনো দাবীর ভাগীদার হতে নাহ পারে
আব্রাহাম:- ফাতিমা তুমি বুঝতে পারছো তুমি কি বলছো..? এখন যদি চৈতীকে ওয়ারিশ দিতে যাই তাহলে হাসমি চিত্রা আর আমাদের ছোট ছেলের ভবিষ্যত কোন দিকে যেতে পারে কোনো ধারণা আছে তোমার..? এমনিতেই চৈতীর পিছনে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে ইকবাল কি এক টাকা দিয়েছিলো.? এক টাকাও দেয়নি! এখন আবার ওয়ারিশ দিতে বলছে তার উপর তোমার মেয়ের এমন আচরণ আমি আর নিতে পারছি নাহ ফাতিমা আর নিতে পারছি নাহ
হাসমি:- বাবা তুমি পর ভাগের ওয়ারিশ ওকে দিয়ে দাও, আমাদের ভবিষ্যতের কথা তোমাকে চিন্তা করতে হবে নাহ, চিত্রা তোহ এখন নানু বাড়ি আছে আর আমিও তোমার সাথে রোজগার করা শুরু করবো তাহলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো নাহ।
আব্রাহাম:- তাহলে ওর ওয়ারিশের ৩ ভোরি সোনার দাম হিসাব করে টাকা দিয়ে দিবো নাকী ৩ ভোরি সোনা দিবো
আমি:- টাকা দেওয়ার দরকার নেই সোনা দিও
আব্রাহাম:- আচ্ছা কালকেই ব্যবস্থা করছি, হাসমি আমি সোনা এনে দিলে তুমি গিয়ে ওদের হাতে পৌঁছে দিবে
হাসমি:- আচ্ছা
২দিন পর আব্রাহাম ৩ ভোরি সোনা এনে দিলো আর ওইগুলা হাসমি গিয়ে চৈতীর হাতে পৌঁছে দিয়ে আসে।
ওয়ারিশের সম্পদ নিয়ে চৈতী আর ইকবাল নারায়ণগঞ্জ চলে যায় আজ পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ ফিরেনি।
এভাবেই ২ মাস কেটে গেলো, হালিমার একটা মেয়ে সন্তান হলো। দেখতে একদম চাঁদের টুকরা ছিলো মেয়েটা কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই চাঁদের টুকরা মেয়েটা আজ আমাদের মাঝে আর নেই।
যাই হোক রুহানির জন্মের যখন ১৭দিন তখন তোর দাদির নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে উনি মারা যাওয়ার সময় আমার হাতে ধরে ক্ষমা চান আর বলেন....
-- মা রেহ তোমাকে অনেক জ্বালিয়েছি পারলে মাফ করে দিও, আমজাদ ও হালিমা তোমার বড় ভাসুর আর জা হলেও ওদের আর্থিক অবস্থা তোমাদের থেকে অনেক করুণ তাই বলছি যত যাই হোক তোমাদের দুই জা'য়ের সংসার সবসময় এক রাখবে কোনোদিন সংসার ভাগ করবে নাহ।
এই বলে তোর দাদি পরলোক গমন করেন।
ইন্না-নিল্লাহী ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিওন
আর তোর দাদির মৃত্যুর রহস্য তোহ আগেই বলেছিলাম তোকে।
যাই হোক তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের সংসার এক, আজ পর্যন্ত কোনোদিন এই সংসার আলাদা করিনি।
এখন ঘুমিয়ে পড় অনেক রাত হয়েছে...
___
আমি:- আচ্ছা আম্মি, চৈতী আপুনির সাথে আর কোনো যোগাযোগ রাখোনি..?
আম্মু:- নাহ
আমি:- মূসা হুজুর এখন কোথায় থাকে.?
আম্মু:- আগে যেখানে থাকতো সেখানেই হয়তো
আমি:- তোমার কাছে একটা সত্যি কথা বলতে চাই আম্মি
আম্মু:- হ্যাঁ বল কি বলবি..?
আমি:- আচ্ছা কালকে বলবো, এখন ঘুমাই
আম্মু:- আচ্ছা ঠিক আছে ঘুমিয়ে পড় তাহলে
আম্মি চলে যাওয়ার পর আমিও ঘুমিয়ে পড়ি।