নির্বাসিত কৃষ্ণচূড়া — পর্ব ২৮

লেখক: সাদিয়া তিন্তি · বিভাগ: রহস্য · পর্ব ২৮ · ৪৭ পর্বের মধ্যে ২৮

সকাল গড়িয়ে যায়। জিকুর ল্যাবে তখনো আড্ডা লেগে থাকে। গবেষণার টেবিল আড্ডার আঙিনায় রূপ নেয়। দু’জনের মাঝে এক কাপ, দুই কাপ, তিন কাপ চা শেষ হয়, অথচ আলোচনার কোনো শেষ নেই। ছোটবেলার গল্প, কলেজের স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়া কিছু দুঃখ, আর আকস্মিকভাবে ফিরে আসা কিছু সব মিলিয়ে একটা ব্যস্ত দুপুর জেগে ওঠে রঙিন আলোর অবসাদে।

দুপুর গড়িয়ে যখন সূর্য কিছুটা নরম হয়, শহরের ধোঁয়াশা আর ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে তূর্য বাইকে চেপে ঘরে ফেরে। আজ তার মন ভার নয়, বরং অদ্ভুতভাবে হালকা। কিছু খুঁজতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত কিছু ফিরে পাবার এক খুশি। একই সাথে বুকপকেটে রাখা পরিচয় লেখা কাগজটুকু যেন তাকে নতুন ভাবাচ্ছে।

বাড়িতে ঢোকার সময় তূর্যর চোখ যায় ডাইনিং টেবিলের পাশে বসে আছেন আব্দুর রুশান মোহাম্মদ। টেবিলে দুপুরের খাবার সারি সারি সাজানো। তাও তিনি অপেক্ষা রত। তূর্যর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

তূর্য একটু হাসে এরপর চুপচাপ এসে বসে পড়ে। চেয়ারের শব্দে রুশান মোহাম্মদ তাকান। মুখে কৌতূহলের ছায়া, কিন্তু চোখে প্রশান্তি। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ বলেন, "সকাল থেকে কতবার ফোন দিয়েছি তোমাকে? কোথাও একটা গেলে একবার জানিয়ে তো যেতে হয়। আমার তো চিন্তা হয়... তাই না!"

তূর্য একটু হেসে বলে, "আমি একদমই বুঝতে পারিনি যে ফোনটা মিউট হয়েছিল। বাড়িতে এসে আপনার সাথে খাবো বলেই তো বাইরে না খেয়েই চলে এলাম। ভেবেই নিয়েছিলাম যে আপনি আমার জন্য অপেক্ষায় থাকবেন।"

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ ভনিতা না করে বললেন, "যাও আগে ফ্রেশ হয়ে নাও অপেক্ষা করছি।"

তূর্য চেয়ার ছেড়ে উঠে বলে, "মাত্র ২ মিনিট লাগবে, জাস্ট হাত মুখটা ধুয়ে আসছি। রাশেদা খালা তুমি ভাত বেড়ে দাও।"

বলেই তূর্য ছুটে বেরিয়ে যায় খাবার ঘর থেকে। ঠিক মিনিট দুয়েক পরেই আবার ফিরে আসে। খাবারের সময়টা চুপচাপ নিঃশব্দ কাটে। দুপুরের খাবার শেষে যে যার ঘরে ফেরে। তূর্য ঘরে ফিরে প্রথমেই কাগজের ঠিকানা নেহালকে পাঠায়। এ সময়ে নেহাল ছাড়া আর কাউকেই বিশ্বাস করা যায় না। তূর্যের হিসেবে নেহাল হচ্ছে সর্ব ঘাটের কাঁঠালি কলা ধরনের একজন মানুষ। যার দক্ষতা সব বিষয়ে পরিপূর্ণ। খুব সহজে মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া থেকে শুরু করে, কোন খবর কি করে কার কাছ থেকে কৌশলে বের করে আনতে হবে সে বিষয়ে দক্ষ নেহাল‌।

তূর্য ফোনটা ছোট্ট টেবিলটায় রাখে। জানালার ধারে দাঁড়িয়ে মাঠের রৌদ্রপ্লাবিত সবুজে চোখ রাখে তূর্য। রোদের ফাঁকে ফাঁকে ঘাসের উপর ঝিলিক খেলে যায়, হাওয়ার সঙ্গে খেলে বেড়ায় পাতারা তবু সেই রঙ আর হাওয়ার ভেতরেও কোথায় যেন ফাঁকা লাগে। এই ফাঁকা যেন এক অষ্টাদশীর অস্তিত্ব তার মনে গভীর আবেশ টানছে। তূর্য নিজের অজান্তেই যেন ফোনটা হাতে তুলে হিয়ার একখানা স্থিরচিত্রে চোখ বোলায়।

চোখের সামনে স্পষ্ট হয় তার মনকুঠোরিতে দমকা হাওয়া আনতে সক্ষম নারীর শাড়িতে মোড়ানো রুপ। তূর্যের বুকের ভেতর কেমন একটা করে ওঠে।

তূর্য ধীরে মেসেজ অপশনে পৌঁছায়, কিছুক্ষণ চুপ করে টাইপ করতে শুরু করে, " হিয়া জানিস, আমি মাঝেমধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করি একাকী চার দেয়ালের মাঝে। কখনো বা মহাশূন্যে। সবথেকে অবাক করা বিষয় হলো, আমি নিজেকে যেখানেই আবিষ্কার করি না কেন। আমি নিজেকে একাই পাই। রিক্ত শূন্য!

তবে আজ... এই রিক্ততায় একটা নতুন উপস্থিতি পাচ্ছি। একটা গন্ধ, একটা মায়া আর কাজলে মোড়ানো একজোড়া ভয়ংকর চোখ।"

শেষ দাঁড়ি টানার পর, মেসেজটা পড়ে তূর্য নিজেই কিছুক্ষণ স্থির হয়ে থাকে। এসব কি লিখছে সে? কেনই বা লিখছে?

তূর্য ম্যাসেজটা কাটতে যাবে তার আগেই ঘরের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ ভেসে আসে।

তূর্য মেসেজটা ওভাবেই রেখে ফোনটা টেবিলের ওপরে রাখে। তবে সব যেন এক অদৃশ্য পরিকল্পনায় চলতে থাকে। মেসেজটা সন্তোর্পনে পৌঁছে যায় হিয়ার দোর গোড়ায়। তূর্য ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলতেই আব্দুর রুশান মোহাম্মদের মুখটা দেখা যায়। চোখে সেই চিরচেনা কোমল দৃষ্টি।

তিনি বলেন, “তোর সাথে একটু বসতে ইচ্ছে করছে, কী বলিস? আয়, আমার ঘরে। কাল তো সকাল সকাল আবার তোকে ফিরতেও হবে।”

তূর্য এক মুহূর্ত চুপ করে থাকে, তারপর হেসে ফেলে, "আমি ভাবছিলাম আপনি বিশ্রাম করছেন। তাই আরেকটু বিকেল ঘন হলেই আপনার ঘরের দিকে যাব ভেবেছিলাম।"

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ বলেন, "এ বয়সে সারাদিনই বিশ্রাম।" কথাটার সমাপ্তি টেনেই তিনি নিজের কক্ষের দিকে পা বাড়ান। তূর্য ধীরে পা ফেলে তার পিছু এগিয়ে চলে আব্দুর রুশান মোহাম্মদের ঘরের দিকে।

ঘরটার জানালার ফাঁকে দুপুরের শেষ আলো জেগে আছে নিঃশব্দে। রাশিদা গরম চায়ের কাপ রাখে খুব যত্নে। তূর্য খানিকটা অপলক তাকিয়ে থমকে থাকে আঁকাবাঁকা কারুকার্যে উড়তে থাকা চায়ের কাপের ধোঁয়া রাশির দিকে। এরা এদের কারুকার্য দেখাচ্ছে নিঃশব্দে। জানালার গায়ে আলোটা যেন একটু কেঁপে ওঠে। ঘরের দেয়ালে আলো-ছায়ার খেলা। দুই প্রজন্মের দুটি মানুষ মুখোমুখি বসে আছে, কিন্তু তাদের মাঝে যেন জড়িয়ে আছে কয়েক দশকের একটা অনুরণন, এক অব্যক্ত বোঝাপড়া।

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ চায়ের কাপে এক চুমুক দিয়ে ধীরে বলেন, “নতুন কোনো খোঁজ মিললো? চিঠিটার ব্যাপারে কিছু জানতে পারলি?”

তূর্য চুপ করে থাকে কয়েক সেকেন্ড। চোখে একধরনের ভাবনার ছায়া খেলে যায়। তারপর নিচু গলায় বলে, “পেয়েছি ঠিকানাটা। পুরোটা না হলেও অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। কলকাতার, বউবাজার, নর্থ কলেজ স্ট্রিট। চিত্রাঙ্গদা হাউস নামক একটা বাড়ি থেকে চিঠিটা এসেছিল।”

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ কপালে হাত রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তারপর বলেন,

“চিত্রাঙ্গদা হাউস... নামটা অদ্ভুতভাবে পরিচিত লাগছে। তবে কই যেন শুনেছি, মনে করতে পারছি না ঠিকঠাক।”

তূর্য একটু সামনে ঝুঁকে আসে, “আপনি কি নিশ্চিত? আপনার পরিচিত কেউ নয় তো? হতেই পারে এতো বছর আগের সব যেহেতু... ভুলে যাওয়া তো অস্বাভাবিক নয়!” তূর্য থামে, একটু ভেবে আবার বলে, “বড় দাদা, শঙ্খ কোন ছদ্মনাম নয় তো..!”

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ একটুখানি মাথা নাড়েন। এরপর বলেন, “শঙ্খ নামের কাউকে যে চিনি না এটা স্পষ্ট। ছদ্মনাম হলেও সন্দেহ কাকেই বা করবো? তুহুরার বন্ধু বান্ধব পরিচিত কারা ছিল এ সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। আর এই চিত্রাঙ্গদা হাউস নামটা খুব পরিচিত লাগছে। কোথায় যেন শুনেছি চিত্রাঙ্গদা নামটা। হতেই পারে এটা কাকতালীয়। এক নামে তো কত কিছুই থাকে, হয়তো তেমন কোথাও থেকে শুনেছি।"

তূর্য এবার ভাবনার গভীরে যায়, খুব ধীরে বলে, "চিত্রাঙ্গদা কি কোন মানুষের নাম? নাকি অন্য কোন জায়গায় সংযুক্ত.."

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ তূর্যর এই আকিবুকি ভাবনা এড়িয়ে ধীর গলায় জিজ্ঞেস করেন, "এখন তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কি? ঠিকানাটা দিয়ে কি করতে চাইছো?"

তূর্য এবার নিঃশ্বাস ফেলে বলে, “দেখছি একটু খোঁজ নিয়ে। যদি কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তথ্য না মিললে ভাবছি ঠিকানায় চিঠি পাঠাবো। যোগাযোগ করতে চাইবো। এখন তো কলকাতায় যাওয়া সম্ভব নয়। যা করার এদেশে থেকেই করতে হবে।”

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মতি জানান তারপর বলেন, “চেষ্টা, এটাই একমাত্র উত্তর... বাকিটা সময় ঠিক করে দেবে। কে জানে কোথায় কি মেলে…।”

চায়ের কাপে শেষ চুমুক পড়ে। তূর্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আড়চোখে আব্দুর রুশান মোহাম্মদকে একবার দেখে নেয়। কিছু সময় নিঃশব্দ কাটায়।

তূর্যের চায়ের কাপটা তার হাতে তখন নিঃশব্দ, ঠোঁটে ছোঁয়ানো নয়, শুধু ধরে রাখা। জানালার ফাঁকে বাইরে তাকিয়ে থাকে সে, আলো একটু ফ্যাকাশে হয়েছে, হয়তো হাওয়ার ঘ্রাণে সন্ধ্যা ঢুকে পড়ছে। তূর্য ধীরে মাথা ঘুরিয়ে আব্দুর রুশান মোহাম্মদের দিকে তাকায়। স্বরে কোনো রাগ নেই, নেই আঘাতের স্পষ্ট ভাষা, কিন্তু প্রশ্নটা উঠে আসে গভীর কোথাও থেকে। তূর্য বলে, “একটা কথা জিজ্ঞেস করবো, বড়দাদা?”

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ একটু চমকে তাকান, তারপর গম্ভীরভাবে বলেন, “অনুমতি নিতে হবে না। কি জানতে চাস বল।”

তূর্য গলা নামিয়ে জিজ্ঞেস করে, “গতদিন আপনি শুনলেন, প্রকৃতির মাথায় সিঁদুরে রাঙা ছিল। অথচ আপনার কোন প্রতিক্রিয়া কিংবা অভিব্যক্তি খুঁজে পাওয়া গেল না। আমি ভেবেছিলাম অন্ততঃ মাসুম সাহেবের মতোই একটা প্রতিক্রিয়া পাবো আপনার কাছ থেকেও। অন্ততঃ একটা হতবাক হওয়া, বা একটা বিরক্তি...

কিন্তু আপনি ছিলেন চুপ। এতোটা স্বাভাবিক ছিলেন কিভাবে আপনি?”

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ চুপ করে যান। চোখ নামিয়ে রাখেন কিছুক্ষণ। চায়ের কাপটায় আঙ্গুল নিয়ে নাড়েন খানিক, যেন উত্তরের শব্দ খুঁজে বেড়াচ্ছেন কাপের তলায়। তারপর আস্তে করে বলেন, "সিঁদুরের ঘটনা আমি সেই কলকাতায় প্রকৃতিকে খুঁজতে যাবার সময় থেকেই জানি। অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই অরবিন্দ আর মুক্তির কথপকথন শুনে নিয়েছিলাম সেদিন। তবে এসব অপ্রকাশ্য সুন্দর। সব সত্য প্রকাশ পেতে নেই তূর্য।"

তূর্য চুপ হয়ে যায়। শব্দরা যেন তাকে ফাঁকি দিচ্ছে। মস্তিষ্কে প্রশ্ন আছে তবে করার মতো শব্দ নেই‌। তাও সে শব্দ গুছিয়ে বলে, "সবটা জানার পরও এতো লম্বা অপেক্ষা..?"

আব্দুর রুশান মোহাম্মদের মুখে একটা অদ্ভুত প্রসন্নতা জেগে উঠে, তিনি বলেন, "তূর্য... আমি তাকে ভালোবেসেছি কোনো স্বার্থের জন্য না। কোন প্রাপ্তির জন্য না। আর তাকে ভালোবাসার পিছনে আমি স্বার্থ খুঁজিও না। শুধু তাকে ভালো না বেসে থাকা যায় না। এই সামান্য না থাকতে পারার জন্যই যুগ কেটে যাচ্ছে। এই তো এখন… যুগটা কাটাতেই অপেক্ষা করছি।"

তূর্যের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে একটু। কী বলবে সে, তার শব্দরা আবার হারায়। পাশের দেয়ালে তখন নিঃশব্দে একটা ঘড়ি টিকটিক করে এগিয়ে চলেছে। আর দুই মানুষের ভেতর, শব্দহীন কিছু সত্য ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সন্ধ্যা হয়ে।

রাশিদা নিঃশব্দে ঘরে ঢোকে। হাতে ধরা ট্রেটায় আরও দুটো কাপ, যার থেকে গরম ধোঁয়া উড়ছে ধীরে ধীরে। সেই ধোঁয়ায় যেন কিছু অপূর্ণ কথা, হারিয়ে যাওয়া প্রশ্ন আর অপার্থিব এক স্মৃতির ঘ্রাণ মিশে আছে। কাপ দুটো খুব যত্নে নামিয়ে দিয়ে খালি কাপ গুলো তুলে নিয়ে রাশিদা চলে যায় নিঃশব্দে, যেমন এসেছিল।

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে একটু চুপ করে থাকেন। জানালার ধারে বিকেলের আলো আরেকটু ফ্যাকাশে হয়ে এসেছে, যেন রাত নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হঠাৎ, তিনি তূর্যের দিকে তাকিয়ে এক প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “তোর কি মনে হয় তূর্য... আমার আর প্রকৃতির বিয়েতে যে আমার আব্বা রাজি ছিলেন। এ বিষয়ে রবি কখনো কিছু বলেনি কেন? ... আব্বা যদি প্রকৃতির সাথে দেখাই করে থাকেন তবে তো বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের জানার কথা। এমনকি মিনুরও। এতো বছরে একটা মানুষ আমার সামনে মুখ খুললো না!”

প্রশ্নটা যেন তূর্যের বুকের মধ্যে ধাক্কা দেয়। একটা নিঃশব্দ অস্বস্তি জমে ওঠে গলার নিচে। সে কিছু বলে না, চুপ করে থাকে। তার মনে ছুরিকাঘাত করতে থাকে সেই বিকেলের কথা, মিনু রহমানের সেই স্বীকারোক্তি, লুকিয়ে রাখতে চাওয়া সেই পাপ।

তূর্য এখনো সেই শব্দগুলোর উত্তর খুঁজছে। কারো সামনে সে উচ্চারণ অব্দি করেনি সেদিনের শোনা একটা শব্দও। সে শুধু একটু হাসে, একটা বিষণ্ণ, ভারী হাসি। তারপর নিচু গলায় বলে, “এই বাড়ির পরোতে পরোতে রহস্য। কে কী মনে লুকিয়ে বসে আছে, কে কী সত্য চুপ করে বয়ে বেড়াচ্ছে তা আমরা কেউ জানি না। সবাই কিছু না কিছু লুকিয়ে রেখেছে নিজের মতো করে। আর ঠিক সেই কারণেই… কেউ কাউকে পুরোপুরি চিনতে পারে না। এ বাড়িতে মানুষের থেকে মুখোশ বেশি।”

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ ধীরে মাথা নাড়েন। তার মুখে কোনো উত্তরের তাড়া নেই। শুধু চোখে একটা বিস্ময় আর স্বীকারোক্তির মিশেল। যেন এক দীর্ঘশ্বাস জমে আছে চোখের কোণেই। তিনি খুব শান্ত ভাবে জিজ্ঞেস করেন, "কাল কখন বের হবি?"

তূর্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, সকালেই বের হবো বিকেলে একটা ক্লাস আছে। যদি ধরা যায়।"

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ আবারো জিজ্ঞেস করেন, "আবার ফিরবি কবে?"

তূর্য স্মিত হেসে বললো, "দেখি, পকেট ভর্তি কিছু নিয়ে ফেলা যায় কিনা। গিয়েই এই ঠিকানাটায় কিছু চিঠি পাঠাবো ভাবছি। যদি কোন ফিরতি চিঠি আসে! অন্ততঃ কারো রহস্য সমাধান হোক।"

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ সামান্য হাসেন, তবে সেই হাসিতে কোন রহস্য নেই, কোন ইচ্ছে নেই। চায়ের কাপ দুটো নিঃশব্দে শেষ হয়ে আসে। ঘরের দেয়াল ঘড়ির কাঁটা একটু এগিয়ে যায়। বাতাসে ভেসে থাকে ধোঁয়া, আর কথার গন্ধ। একটা সময়, কথাবার্তা থেমে আসে। দুজনেই চুপ। যেন কেউ কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে ফেলেছে।

_______________

চলবে.... ❤️