নির্বাসিত কৃষ্ণচূড়া — পর্ব ২৬
লেখক: সাদিয়া তিন্তি · বিভাগ: রহস্য · পর্ব ২৬ · ৪৭ পর্বের মধ্যে ২৬
মাসুম সাহেব চুপচাপ পকেট থেকে পুরনো চশমার বাক্সের ভেতরে রাখা একটা কাগজ টেনে বের করেন। সেটার কোণায় ছোট অক্ষরে লেখা একটা নাম আর নম্বর। মাসুম সাহেব বলেন, “এটা অরবিন্দের নম্বর। এটা এখন ওর ছেলে ইন্দ্র ব্যবহার করে। শেষবার এ নাম্বারেই আমার কথা হয়েছে ওদের সবার সাথে।”
তূর্য নম্বরটা নিয়ে দ্রুত ডায়াল করে স্পীকার অন করে। কয়েকবার রিং হয়। আর তারপর অন্য প্রান্তে একটা ভারি গলা শোনা যায়, “হ্যালো? নমস্কার। কে বলছেন?”
মাসুম সাহেবের কণ্ঠে একরাশ স্মৃতি, একরাশ মায়া। তিনি বলেন, “তুমি কি ইন্দ্র? আমি মাসুম ইকবাল, তোমার বাবা মায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো বন্ধু। আমার চিনেছো বাবা?"
লোকটি মুহূর্তেই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠে, "হ্যাঁ মাসুম কাকাবাবু ভালো আছেন? কতোদিন পর ফোন করলেন। মা আপনার কথা খুব জিজ্ঞেস করে। আপনার নাম্বারটা হারিয়ে ফেলেছি তাই যোগাযোগ করতে পারছিলাম না।”
একটা স্মিত হাসি ফুটে ওঠে মাসুম সাহেবের মুখে, “আসলে তোমার মাকে একটু ফোনে পেলে ভালো হতো। অনেক দিন কথা হয় না ...”
ইন্দ্র কণ্ঠে শ্রদ্ধা মিশিয়ে বলেন, “মা এখন ফোন তেমন ব্যবহার করেন না। তবে আমি বাসার নম্বর দিচ্ছি। ওটায় কল করলেই মা’কে পাবেন। ইন্টারনেটেও কল দিতে পারেন। আমি এখনই জানিয়ে দিচ্ছি মা’কে।”
ইন্দ্র কল কেটে, সাথে সাথেই নম্বরটা পাঠিয়ে দেন। তূর্য নিজের ফোন থেকে সেই নম্বরে অনলাইনে কল কিছুক্ষণের মধ্যেই ইন্দ্র একটি নম্বর পাঠিয়ে দেয়। তূর্য সেটা সংরক্ষণ করে, তারপর নিজের ফোন থেকেই কল দেয় ইন্টারনেটে। আবারও কয়েকবার রিং, তারপর ওপাশে এক কণ্ঠ। সময় বয়ে গেছে কণ্ঠে, কিন্তু তবুও সে কণ্ঠে আছে এক প্রাচীন সুর, স্পষ্ট, আত্মিক, “হ্যালো?”
মাসুম সাহেব দম নিয়ে বলেন, “মুক্তি শার্নাল? আমি মাসুম ইকবাল। চিনতে পারছো?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর যেন একবারে বহু বছর পেরিয়ে যাওয়া সময় ফিরে আসে কণ্ঠে, “মাসুম…? এতদিন পর…! তোমার বন্ধু চলে যাওয়ার পর এই খোঁজ হলো?"
মাসুম সাহেব হেসে ওঠেন, নরম কৌতুকে বলেন, "আজ একা নই। পুরান ঢাকার দেবদাস ও সাথে আছে।"
ওপাশে হঠাৎ করেই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে যেন। তারপর এক বিস্ময় মিশ্রিত আবেগে কণ্ঠে বলেন,
“রুশান...? রুশান কি…?”
এইবার আব্দুর রুশান মোহাম্মদ নিজেই হেসে বলেন, “এই তো, এখনো বেঁচে আছি মুক্তি। … তাহলে মনে রেখেছো এখনো?”
মুক্তি দেবীর চোখ জলে ভরে ওঠে। তার কন্ঠ আরো জড়িয়ে ওঠে, "আজকাল সব খুব মনে পড়ে। কতো সুন্দর ছিল দিন গুলো…। কলকাতায় আর ভালো লাগে না। খুব দেশে যেতে ইচ্ছে করে। খুব মনে হয় যদি সবাইকে একবার দেখতে পেতাম। বয়স বেড়েছে তো এখন সব কিছুর মর্ম বুঝি।"
আব্দুর রুশান মোহাম্মদ চুপ করে গেলেন। মাসুম সাহেব বললেন, “চলে এসো একবার। দেশে ঘুরেই যাও। ক'দিন বা আর বেঁচে থাকবো।”
মুক্তি দেবীর গলা কাঁপছে, কিন্তু তবু কথাগুলো বলে যান, যেন বুকের ভিতরে জমে থাকা এক দীর্ঘ নিশ্বাস আজ অবশেষে মুক্তি পেল। মাসুম সাহেব আর দ্বিধা করেন না, সরাসরি প্রশ্ন করেন, “তোমার থেকে একটা বিষয় জানার ছিল। তোমার মনে আছে একবার অরবিন্দ আর তুমি প্রকৃতিকে কলকাতায় দেখেছিলে। সে খবর শুনে রুশান আর আমি গিয়েছিলাম কলকাতায়।”
ওপাশে কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর মুক্তি দেবীর কণ্ঠে এক দীর্ঘশ্বাস ভেসে আসে, "হ্যাঁ, স্পষ্ট মনে আছে। সেই তো এলে। আর দেখা কোথায়! না আর আমাদের দেশে যাওয়া হলো…"
মাসুম একটু থেমে বলেন, "তোমরা প্রকৃতিকে কি আর কখনো দেখেছিলে? বা কোন খোঁজ? আর… ঐ দেখার বিস্তারিত আবার বলতে পারবে?"
মুক্তি দেবীর গলা আবার নরম হয়ে ওঠে, "তোমরা এখনো প্রকৃতিকে খুঁজছো?"
মাসুম সাহেব হাসেন, "বলতে পারো মৃত্যুর আগে শেষ চেষ্টা।"
মুক্তি দেবী হালকা হাসেন। হয়তো প্রকৃতির ভাগ্যে পরিহাস করেন। নিজেকে ধাতস্থ করে বললো, "অরবিন্দ আর আমি বারাসাতে থাকতাম তখন। অরবিন্দ রিয়েস্ট্রেটের নতুন ব্যবসা শুরু করেছিল। একদিন বাজারে গিয়েই প্রকৃতির সাথে দেখা। ওর সাথে অন্য কেউ ছিল। মাথা ভর্তি সিঁদুর, লাল শাড়ি পড়া, দেখেতে নতুন বউ লাগছিল।"
মাসুম চমকে উঠে বলে, "সিঁদুর? এটা তো তখন বলো নি?"
আব্দুর রুশান মোহাম্মদের মুখের কোন প্রতিক্রিয়া বোঝা গেল না। তিনি যেন একটু বেশিই স্বাভাবিক হয়ে উঠলেন।
মুক্তি দেবী বলেন, "অরবিন্দ তো ঠিক ভাবে দেখেইনি। আমি এক নজর মাত্র দেখেছিলাম প্রকৃতিকে। আমার বলায় অরবিন্দ ছুটেছিল প্রকৃতির পিছু। ওই এক নজরে লক্ষ্য করেছিলাম, মাথা ভর্তি সিঁদুর। আমরা অনেক বার পেছন থেকে ডেকেও ছিলাম। তবে ভিড়ে মিশে গিয়েছিল সে।
অরবিন্দ খুব চেয়েছিল প্রকৃতির সাথে রুশানের সোজাসাপটা দেখা করাতে। খুব চেষ্টাও করে ছিল।
আমরা সবাই তো জানতাম রুশানের পাগলামি। আর তাছাড়া তখন প্রকৃতিকে না খুঁজে পেয়ে রুশান যেভাবে ভেঙে পড়েছিল। অরবিন্দ আর বলার আরো সাহস পায় নি যে আমি তার মাথায় সিঁদুর দেখেছি। হয়তো অরবিন্দ ভেবেছিল আমি ভুল দেখেছি। তাই আর এ কথা বাড়াতে চায়নি। তোমরাও তো হুট করে এসে আবার তাড়াহুড়া করেই দেশে ফিরলে।
… আর এরপর তো অরবিন্দের ব্যাবসা সম্পূর্ণ শুন্যে নেমে যায়। আমরাও বারাসাত ছেড়ে, নর্থ বেঙ্গলে শিফট হয়ে গেলাম।"
ঘরটা নিঃশব্দে থমকে যায়। স্ক্রিনের দু’প্রান্তে ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান হলেও সেই মুহূর্তে অতীত এক হয়ে দাঁড়ায়। কথারা যেন আর শব্দ খুঁজে পায় না। মাসুম সাহেব তাও সৌজন্য বিদায় জানায়। সংযোগটা কেটে যায়।
ঘরে অবস্থানরত তিনজন, ভিন্ন অবস্থায়, ভিন্ন দুনিয়ার, ভিন্ন অনুভূতিতে আচ্ছন্ন। কিন্তু তিনজনেই আজ এক বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে। যেখানে প্রশ্নগুলো পাথরের মতো ভারী আর উত্তরগুলো বালির মতো ক্ষয়মান। অন্তর্জালে স্তব্ধতা জমে উঠেছে। জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকছে ফ্যাকাশে সকাল। আলো না, যেন কোনো স্মৃতি ফিকে হয়ে এসে পড়ছে দেয়ালের গায়ে।
তূর্য ধীরে তাকায় আব্দুর রুশান মোহাম্মদের দিকে। মাসুম সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে আব্দুর রুশান মোহাম্মদের পাশে এসে বসেন। তিনি শুধু কাঁধে হাত রেখে নিশ্চুপ বুঝে নিতে চায় অনেক কিছু। কিন্তু আব্দুর রুশান মোহাম্মদের চোখে কোনো ঝড় নেই। মুখে না আছে বিস্ময়, না আছে দুঃখ, না আছে ব্যথা। একপ্রকার নিরেট অনূভুতি, শূন্যতা যেন ছায়া হয়ে বসেছে তাঁর চারপাশে।
তূর্য খানিকটা দ্বিধা নিয়ে বলে, “আপনি ঠিক আছেন তো?”
রুশান মোহাম্মদ মৃদু হাসেন। এরপর বলেন, “আমার আবার কি হবে। আমি একেবারেই ঠিক আছি।"
তাঁর কণ্ঠ এমন শান্ত, যেন কোন অনুভূতি তাকে স্পর্শ করতে পারছে না। ধীরে তাঁর চোখজোড়া জানালার দিকে যায়। বাইরে সকাল একটু গাঢ় হয়ে উঠেছে। শহরের কোলাহল শোনা যাচ্ছে, কিন্তু সেই শব্দ এই ঘরে পৌঁছাতে পারে না। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ মৃদু হেসে আবদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন,
“তূর্য, যুগের পর যুগ কেটে গেছে। আজ যদি আগ্রহ চিত্তে এক আকাশ পরিমাণ অভিমান নিয়ে আমি ভাবি আসলে আমরা কই..! ধর, হঠাৎ করে মোড় পেড়িয়ে এগিয়ে দেখি আমাদের অবস্থান। তবে দেখব সেখানে কিচ্ছু নেই। এক গোলক ধাঁধায় অস্তিত্বের মিছিলে হারিয়ে বসেছি আমরা সবাই।
স্মৃতির মিছিলে এগিয়ে থাকা আমি বড্ড খুঁজেছি। তবে চারদিকে খাঁ খাঁ শূন্যতা... আমি মনক্ষুণ হইনি। আমি আনন্দ পেয়েছি তাকে নিজেতে ধারন করে।
বিশ্বাস কর, আমি কিছু চাই না। আমি চাই শুধু তার অস্তিত্ব। সে আছে এটাই হয়তো আমার জন্য অনেক।”
মাসুম সাহেব নির্বাক। এই মানুষটাকে সে যতই জানে, তার ভেতরের অনুভূতি যেন আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে প্রতিবার। এই আবেগ এতটাই নিঃস্বার্থ, এতটাই নির্মল, যেটা কোনো কবিতায় বাঁধা যায় না। তূর্য কেবল মাথা নিচু করে বসে থাকে। কী বলবে, কী ভাববে, তার কোনো ঠিক নেই। তার মনে হয়, এই মানুষটার ভালোবাসা পৃথিবীর সমস্ত শুদ্ধতার থেকেও বিশুদ্ধ, সমস্ত অপেক্ষার থেকেও দীর্ঘ, আর সমস্ত ক্ষমার থেকেও উদার।
একটা দীর্ঘ, নরম নিঃশ্বাস ভেসে আসে আব্দুর রুশান মোহাম্মদের ঠোঁট থেকে। তিনি বলেন, "মানুষ মানুষের জন্য বাঁচে না, মানুষের জন্য কাঁদে না। মানুষ খুব স্বার্থপর। মানুষ যা করে নিজের জন্য করে। মানুষ নিজে নিঃসঙ্গ হবার ভয়ে কাঁদে। স্মৃতি আর অবস্থান হারানো শূন্যতার ভয়ে মানুষ কাঁদে।
মানুষ বাঁচে আশায়, অপেক্ষায়, স্বপ্নে।”
ঘরটা নিঃশব্দ। একটা ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। শব্দ নেই, বাক্য নেই, প্রশ্ন নেই। শুধু অদৃশ্য কিছু ভার মাথার ওপরে ঘুরছে, যেগুলোর ওজন না মাপা যায়, না ফেলা যায়।
তিনজন মানুষ, তিনটি চুপচাপ বসে থাকা শরীর। কিন্তু প্রতিটির ভেতর একেকটা সমুদ্র, একেকটা বিস্ফোরণ। মাসুম সাহেব জমে বসে আছেন। তূর্যের বুকের ভেতরে গুমোট একটা অস্থিরতা। কী যেন ঠিক অনুভূতি, যার ভাষা নেই, ব্যাখ্যা নেই। তবে আব্দুর রুশান মোহাম্মদ এখনো শান্ত। তাঁর চোখে একটা চূড়ান্ত অবসানের সম্মতি। একরকম স্থিরতা যা কেবল সে মানুষই ধারণ করতে পারে। প্রকৃতির সিঁথি ভর্তি যে সিঁদুর মুক্তি দেবী দেখেছিলেন সে কথা তো তিনি আজ মাত্র জানলেন না…! এটা তো তিনি সেই পঁচাত্তরের বারাসাতের সেই ছোট ভাঁড়ার ঘরের কোনায় দাঁড়িয়ে নবদম্পতির কথোপকথনেই জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু সে কথা স্বীকার করার সেটুকু সাহস আজও হয়নি তার। কিছু সত্য হয়তো গিলে নিতে হয়, না হয় সেই সত্যগুলো আমাদেরকে যখম দিতে দিতে ধ্বংস করে দেয়।
সকালটা কখন যেন কেটে যায়। দাবদাহ কাটিয়ে দেয় দুপুর। সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ে। শহরের আলোয় একটু ধোয়াশা মিশে থাকে, বিকেল এসে জানায় তার নিঃশব্দ আগমন। মাসুম সাহেব তার বাড়িতে ফিরেছেন অনেকক্ষণ। তূর্য এবার প্রস্তুতি নেয় নেহালের সাথে দেখা করতে যাবার। এ যেন বড্ডো জরুরি। তার মাথার ভেতর ভার, চোখে অভ্যস্ত জেদ। নেহাল তূর্যের ছোট বেলার বন্ধু, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতিরে তার অবস্থান ঢাকায়। ছেলে চঞ্চল হলেও বেশ কাজের।
তূর্য তার বাইক নিয়েই পৌঁছায় নেহালের ক্যাম্পাস চত্ত্বরে। দুই বন্ধুর সৌজন্য আলাপ থামতেই নেহাল বলে, “অনেক খোঁজ করে বের করেছি। কিছু তো পেয়েছি। তবে তুই নিজে না পড়লে বুঝবি না।”
নেহাল একটা বাদামি খামে ভরা কাগজপত্র এগিয়ে দেয়। তূর্য খামের মুখটা খুলে এক এক করে সব বের করে। পুরনো কিছু রেকর্ড, নামের তালিকা, কিছু অফিসিয়াল চিঠিপত্রের কপি।
তূর্য হাঁ করে তাকিয়ে থাকে পাতার পর পাতায়। তার মাথার ভেতর কেমন যেন একটা শ্বাসরুদ্ধ ভাব। নেহাল পাশে দাঁড়িয়ে বলে, “এগুলো ছাড়া আর কিছুই জোগাড় করতে পারলাম না।”
তূর্য একটা বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়ে। একে একে পাতা উল্টাতে থাকে। চোখ আটকে যায় একটা পাতায়। তূর্যের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে যায়। সবকিছু একে একে, ধীরে ধীরে গেঁথে যাচ্ছে একটা জালে।
যে জাল হয়তো বহু আগেই বোনা হয়েছে, শুধু কেউ সুঁইটা তার হাতে তুলছিল না।
বিকেলের আলো একটু একটু করে ঢলে পড়ছে পাশের বিল্ডিংয়ের দেয়ালে। ক্যাম্পাসের মাঠে ফুটবল খেলা শেষ, ঘামে ভেজা কিছু ছেলেরা জার্সি খুলে বেঞ্চে বসে জিরিয়ে নিচ্ছে। পেছনে উঁচু গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া আলো ঠিক যেন প্রাচীন কোনো স্মৃতির মতো মৃদু আর স্থির। সেই আলোয় তূর্য বসে আছে এক কোণার বেঞ্চে, তার সামনের কোলজুড়ে খুলে রাখা কাগজের পাতাগুলো। তূর্য দুটো নাম আর ঠিকানা আলাদা করে নোট করে। নাম গুলোয় তার অদ্ভুত অক্ষরভঙ্গি মনে হয়, পরিচয়েও যেন ছায়াময়তা, কোন বিস্তারিত বর্ননা নেই। শুধু ঠিকানা দেয়া কলকাতা।
নেহাল তখনো পাশে দাঁড়িয়ে, শুধু দেখছে মাত্র। তূর্য সেই নোট করা পাতার অংশ ছিঁড়ে নেহালকে এগিয়ে দিয়ে বলে, “আপতত সাসপিসিয়াস লাগছে এই দুইটা নাম। এদের ডিটেইলস বের করার চেষ্টা কর তো।”
নেহাল পাতাগুলো হাতে নিয়ে একবার পড়ে নেয়, তারপর মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, “এক সপ্তাহ সময় দে। কলকাতার ব্যপারটা কঠিন। তাও চেষ্টা করছি।”
তূর্য কেবল একবার মাথা নাড়ে। তার চোখে এখনো সেই পাতার প্রতিচ্ছবি। তারপরও ফাইলগুলো আবার গুছিয়ে খামে ভরে, সে উঠে দাঁড়ায়। নেহালকে বিদায় জানিয়ে ফেরার পথে এগোয়। ঘরে ফেরে সন্ধ্যা নাগাদ।
__________
চলবে......❤️