পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ০৯

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৯ · ২৮ পর্বের মধ্যে ৯

দুপুরের টাটকা রোদ মাথায় নিয়ে গরমের উত্তপ্ত তাপকে উপেক্ষা করে হিলমি চাচার গ্যারাজের দিকে হেঁটে চলেছে আইদা। একা একাই বিরবির করেছে আবার নিজেই নিজেকে বলছে। যে ছেলে কয়েক ঘন্টা আগেও আইদার পিছু পিছু ঘুরলো সে ছেলে আইদাকে ইগ্নোর করছে। রাগ তোহ হওয়ারই কথা। তার উপর চাকরি বাঁচাতে ওর কাছেই যেতে হচ্ছে স্যুটের মাপ আনতে। মিনিট পাঁচ এক হাঁটার পর৷ হিলমি চাচার গ্যারাজের সামনে এসে দাঁড়ালো আইদা। এসে দেখে গ্যারাজে হিলমি চাচা নেই। আছে শুধু আতিশ। গাড়ির নিচে শুয়ে আছে গাড়ি ঠিক করার জন্য। আইদার উপস্থিতি টের পেয়ে পা ঠেলে গাড়ির নিচ থেকে মুখ বের করলো আতিশ। " তুমি একটু বসো আমি কাজটা শেষ করে আসছি" আতিশের দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে তারপর ভিতরে একটা চেয়ার শব্দ করে টেনে বসলো আইদা। অনেকক্ষণ হয়ে গেলো আতিশের বের হবার কোনো নাম নেই। কিছুক্ষণ পর আবারও পা ঠেলে গাড়ির নিচ থেকে মুখ বের করে বললো "আইদা! একটু এদিকে এসো!" রাগে শরীর ঝাড়া দিয়ে উঠে আতিশের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো আইদা। "বলো কি হয়েছে.?" "ইয়ে মানে!! রেঞ্জটা একটু দিবে" ভীতি কণ্ঠে বললো আতিশ। আতিশের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো আইদা। "কোথায় আছে তোমার রেঞ্জ.?" বললো আইদা। "ও-ওইযে সোজা তাকিয়ে দেখো।" তোতলাতে তোতলাতে বললো আতিশ। ঠাশঠাশ শব্দ করে হেঁটে গিয়ে রেঞ্জ নিয়ে এলো আইদা। হাঁটার শব্দ শুনে আতিশ ঠিকই বুঝতে পারছে আইদা তার উপর রেগে আছে। এসবে আইদা খুব বিরক্ত হচ্ছে। তবে আতিশের খুব মজা লাগছে। আইদাকে এটা বুঝাতে চাইছে যে, ভালোবাসার মানুষটার কাছ থেকে পাওয়া অবহেলা কতটা ভয়ংকর। প্রিয় মানুষটার কাছে একটু সময় পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাটা কতটা কঠিন। "এইযে তোমার রেঞ্জ। এবার তাড়াতাড়ি এসব শেষ করে বেরিয়ে এসো আমার অনেক কাজ বাকি।" বিরক্তি কণ্ঠে বললো আইদা। "এইতো আর কিছুক্ষণ তুমি একটু বসো। আমি এক্ষুনি আসছি।" পা ঠেলে গাড়ির নিচে ঢুকতে ঢুকতে বললো আতিশ। আইদা আবারও ভিতরে গিয়ে বসলো। বেশ কিছুক্ষণ পর আতিশ বেরিয়ে এলো। আতিশ বের হওয়া মাত্র আইদার চোখ মুখ চকচক করতে লাগলো। একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে আতিশের দিকে তাকিয়ে রইলো আইদা। কিন্তু আতিশ কোনো কথা নাহ বলে বেসিনের সামনে চলে গেলো। আইদা ঠিকই বুঝতে পারছে যে আতিশ তাকে ইগ্নোর করছে। কিন্তু সে দাঁতে দাঁত চেপে সব সহ্য করছে। কোন অধিকারে আতিশকে৷ জিজ্ঞেস করবে, সে কেনো তাকে ইগ্নোর করছে। জিজ্ঞেস করার মতো তোহ কোনো সম্পর্ক হয়নি তাদের। আতিশের দিক থেকে চোখ নামিয়ে আনমনে কি যেনো বিরবির করতে থাকে আইদা। ওদিকে বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের হাত মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিচ্ছে আতিশ। ফ্রেশ হয়ে আইদার সামনে এসে দাঁড়ালো আতিশ। আতিশকে সামনে এসে দাঁড়াতে দেখে আইদা পার্স থেকে ফিতা, নোটপ্যাড আর কলম বের করলো। "আরে! আরে! দাঁড়াও! দাঁড়াও!! অ্যাপ্রোনটা খুলতে দাও" ম্লান কণ্ঠে বললো আতিশ। আইদা নিভু হয়ে চুপসে গিয়ে আবার সবকিছু পার্সে ঢুকিয়ে রেখে দিলো। আতিশ চুপচাপ অ্যাপ্রোন খুলে আইদার পিছনে উঁকি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখলো। আতিশকে নিজের এতটা কাছে আসতে দেখে আইদার ভিতরটা ধুক করে উঠলো। এক অজানা অনুভূতি কাজ করতে থাকে আইদার শিরায় শিরায়। মৃদু বাসাতে আইদার সামনের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেলো। আতিশ নিজের হাত দিয়ে খুব যত্নসহ চুলগুলো আইদার কানে গুঁজে দিলো। "ওহ্! হ্যালো ম্যাডাম.? কোথায় হারিয়ে গেলেন.?" চিৎকার করে বললো আতিশ। উফফফ!৷ তার মানে এটা ভ্রম ছিলো। সবটাই কল্পনা। "ইয়ে মানে!!" মিনমিনিয়ে বললো আইদা। "আর মানে মানে করতে হবে নাহ। এসে মাপ নিয়ে যান!" বিরক্তি কণ্ঠে বললো আতিশ। আতিশ খুব খেয়াল করছে, আতিশের এই ব্যবহারে আইদা কষ্ট পাচ্ছে। আইদার চোখ ছলছল করছে। যেকোনো মুহুর্তে চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে পারে। অসহায় কণ্ঠে বললো আইদা "সোজা হয়ে দাঁড়াও!" আতিশ অবাক হয়ে আইদার দিকে তাকিয়ে বললো "কি বললেন.?" আইদা চোখ তুলে আতিশের দিকে তাকিয়ে আবারও বললো "সোজা হয়ে দাঁড়াও!" আতিশ খুকুর খুকুর করে দুইটা কাশি দিয়ে বললো "এক্সকিউজ মী!! আমি আপনার ক্লায়েন্ট। আপনারা বুঝি আপনাদের ক্লায়েন্টদের সাথে এমন ব্যবহার করেন.?" আইদা চোখে আঙ্গুল ডলতে ডলতে বললো "কেমন ব্যবহার করলাম.?" পড়নের শার্ট খুলে দিয়ে বললো আতিশ "আমি আপনাকে আপনি করে বলছি আর আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন.? ব্যাপার কি.? ভালো টালো বাসেন নাকী আমাকে.?" আইদা চোখ সরিয়ে নিয়ে বললো "আশ্চর্য!! আমি আপনাকে ভালোবাসতে যাবো কেনো। তাছাড়া আমরা পূর্ব পরিচিত এজন্য.... " আইদাকে দ্বিতীয় কোনো কথা বলার সুযোগ নাহ দিয়ে আতিশ ওর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে নানান ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বললো "কই মাপ নিবে নাহ। কিভাবে মাপ নিবে, এভাবে! এভাবে! নাকী এভাবে.?" আতিশ এমন ব্যবহার এর আগে কখনো দেখেনি আইদা। তাই খুব অবাক হচ্ছে তার পাশাপাশি বিরক্তও হচ্ছে। আইদা বিরক্ত নিয়ে আতিশকে ঠেলে দূরে সরিয়ে বললো "দেখো আতিশ! তুমি খুব ভালো করেই জানো এসব আমার একদম পছন্দ নাহ। সুন্দর করে দাঁড়াও আমি আমার কাজ করে চলে যাচ্ছি। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করছি এরপর যেনো কোনোদিন তোমার সাথে দেখা নাহ হয়।" এই বলে আইদা নিজের চোখ মুছলো। আতিশ বুঝতে পারলো নাহ এটা কোন কান্না। আতিশের কাছ থেকে অবহেলিত হওয়ার নাকী আতিশের এমন উশৃংখল ব্যবহারে অপমানিত হওয়ার। আইদার চোখের পানিতে আতিশও কষ্ট পাচ্ছে। কেনো কষ্ট পাচ্ছে আতিশ নিজেও জানে নাহ। মাথা নত করে শার্ট পড়ে নিলো আতিশ। আইদা অভিমানী ভঙ্গিতে একের পর এক মাপ নিয়ে নিলো আতিশের। মাপ নেওয়া শেষ যখন আইদা চলে আসবে তখনই পিছন থেকে আতিশ ডাকে "হেই!! ওয়েট ওয়েট!!" আইদা পিছনে তাকায়। আতিশ দৌড়ে এগিয়ে আসছে। আইদা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। বুুঝতে পারলো আতিশ দৌড়ে এসে তাকেই জড়িয়ে ধরবে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো আইদা। আতিশও ছুটে এসে আইদার পাশ কাটিয়ে রাস্তার দিকে চলে গেলো। আইদা ছলছল নয়নে আতিশকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রাস্তায় তাকিয়ে দেখে। আতিশ দৌড়ে গিয়ে একটা মেয়ে জড়িয়ে ধরেছে। মেয়েটি দেখতে ফর্সা। ধূসর রঙের চোখ। লালচে চুল। পড়নে গোল্ডেন গাউন আর হাতে একটা দামী পার্স ব্যাগ। "ওহ্! মাই গড। আমি ভাবতেই পারছি নাহ এতদিন পর তোমার সাথে এখানে দেখা হয়ে যাবে। কোথায় যাচ্ছিলে.?" আগন্তুক মেয়েটিকে প্রশ্ন করলো আতিশ। আইদা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আতিশের দিকে। "নাথিং স্পেশাল। জাস্ট এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। আমিও ভাবতে পারিনি তোমার সাথে এভাবে এখানে দেখা হয়ে যাবে। তা এখানে কি করছো.?" বললো আগন্তুক মেয়েটি। "কি আর বলবো! আমার রেসের গাড়িটা অ্যাক্সিডেন্টে করেছে এটার জন্য যত দৌড়ঝাঁপ। পাপার কাছে নতুন গাড়ি চেয়েছিলাম কিন্তু দেয়নি। তবে বাম্মা বলেছে নেক্সট মান্থে একটা নতুন গাড়ি দিবে। তোহ দোয়া বিয়ে সাদী করেছো নাকী করবে.?" আগন্তুক মেয়েটিকে প্রশ্ন করলো আতিশ। আগন্তুক মেয়েটিকে নাম ধরে ডাকতে শুনে আইদা বুঝে গেলো মেয়েটির নাম দোয়া। কিন্তু এই দোয়া নামের মেয়েটাকে কেনো জানি আইদার বদদোয়া মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছে এই মেয়েটা বুঝি ওর আর আতিশের মাঝে জায়গা দখল করতে এসেছে। "হুহ! হুহ! সরি তোমাকে ইনভাইট করতে পারিনি। অ্যাকচুয়ালি রিসেন্টই আমার বিয়ে হয়েছে। হাসবেন্ড পেয়েছি একটা কপাল গুনে। আমি ব্যথা পাওয়ার আগেই ওর কান্না চলে আসে।" বললো দোয়া। একটু নিশ্চিত হলো আইদা। মেয়েটা তাহলে বিবাহিতা। তাহলে পরপুরুষের সাথে এত লেপ্টালেপ্টা কিসের অসভ্য মেয়ে কোথাকার। "হেই! দোয়া। চলো একসাথে লাঞ্চ করতে যাই।" দোয়াকে লাঞ্চের প্রপোজাল দেয় আতিশ। "কি বলছো! অফ কোর্স। কেনো নাহ। কতদিন পর তোমার সাথে দেখা অবশ্যই একসাথে লাঞ্চ করবো। তবে একটা কন্ডিশন আছে, ট্রিট আমার পক্ষ থেকে।" হাসতে হাসতে বললো দোয়া। "ওকে! ওকে! লেট'স সেলিব্রেট ইট ফর ইউর ম্যারেজ লাইফ।! হা!হা!হা!" উৎসুক কণ্ঠে বললো আতিশ। "ইয়াহ্! কাম অম!" বললো দোয়া। আইদার দিকে দুষ্টু এক মুচকি হাসি দিয়ে দোয়ার সাথে চলে গেলো আতিশ। আইদা নিচে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলো, কি নির্লজ্জ রে বাবা। এসব ন্যাকামি সইতে নাহ পেরে চলে আসে আইদা। আইদাকে চলে যেতে দেখে রাস্তার এদিকে ওদিক উঁকি দিয়ে বললো আতিশ "থ্যাংক ইউ দোয়া! আশা করি এতেই কাজ হয়ে যাবে।" দোয়া মুচকি মুচকি হেসে বললো "প্রেমিক দেখেছি তোমার মতো প্রেমিক খুব কমই দেখেছি। এভাবে কি ভালোবাসা যায়.? যাকে ভালোবাসো তাকে কষ্ট দিতে নিজের কষ্ট হয় নাহ.?" বললো দোয়া। "ভালোবাসা আদায় করার জন্য যদি এরচেয়ে জঘন্য কিছু করতে হয় তাহলে তাই করবো।" মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো আতিশ। "এরচেয়ে জঘন্য বলতে.?" আড়চোখে তাকিয়ে বললো দোয়া। "আরে! কথার কথা। আমি জানি আইদাও আমাকে ভালোবাসে কিন্তু প্রকাশ করছে নাহ। আমি চাই ও যেনো নিজের মুখে স্বীকার করুক ও আমাকে ভালোবাসে।" দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো আতিশ। "দেখো এসব করতে গিয়ে আবার যেনো দূরত্ব নাহ বেড়ে যায়।" আতিশকে সাবধান করে বললো দোয়া। "বাড়বে নাহ। এতটুকু ভরসা আছে আমাদের ভালোবাসার উপর!" আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললো আতিশ।

---------------

লাইট বন্ধ করে যে যার মতো ঘুমতে চলে গেছে হোস্টেলে। ডান পাশ থেকে বাম পাশ সবগুলো বেডের মেয়ে ঘুমে তলিয়ে গেছে। ঘুম নেই শুধু আইদার চোখে। কিছু দিন ধরে কি হয়েছে আইদা নিজেও জানে নাহ। রাতে ঘুমতে পারে নাহ, পড়ায় মন বসে নাহ এমনকি কাজেও মন বসে নাহ। সারাক্ষণ শুধু মাথায় একটা চিন্তাই ঘুরপাক খায় সেটা হলো আতিশ। কি জানি কি এমন জাদু করেছে এই ছেলেটা। উঠতে-বসতে, খেতে গেলে, ঘুমতে গেলে সারাক্ষণ শুধু ওর কথাই চিন্তা করে আইদা। শোয়া থেকে উঠে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে আইদা। কি করবে ভাবছে, আতিশকে যে সে ভালোবাসে এই কথা কি বলে দিবে.? পরক্ষণেই মনে পরলো, অনুভূতি প্রকাশ করলে কদর কমে যায়। কিন্তু মানুষকে নিয়ে ভাবতে এত ভালো লাগে কেনো আইদার। এই মানুষটার সাথে তোহ তেমন কোনো সম্পর্ক নেই তারপরও কেনো তাকে অন্য কারো সাথে সহ্য হয় নাহ। এরই নাম কি ভালোবাসা.?

অন্ধকারে ঘরে এতটুকু আলোর দেখা নেই। আশেপাশে কোনো মানুষ আছে কি-না তা দেখার সৌভাগ্যও হবে নাহ কারো। এত ঘণ অন্ধকার নিশিরাতেও হয় নাহ। দূর থেকে একজোড়া চোখ ভেসে আসছে। হাতে লন্ঠন। কাঁপা কাঁপা গলায় বললো আইদা "ক-কে.? ক-কে আপনি.? কথা বলছেন নাহ কেনো.? বলুন নাহ ক-কে আপনি.?" লন্ঠন হাতে থাকা লোকটা গম্ভীর কণ্ঠে বললো "আতিশ! আতিশ খান" এই অন্ধকারে আতিশের আগমন যেনো আইদার কাছে মরুভূমিতে ছায়া পাওয়ার সমান হনে হলো। ছুটে গিয়ে আতিশকে জড়িয়ে ধরলো আইদা। অথচ আতিশের কোনো সারা নেই। লন্ঠন হাতে নিয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকারে। আইদা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে আতিশকে জড়িয়ে ধরে। হঠাৎ আইদার পিঠে ছোঁড়া বিঁধিয়ে দিলো আতিশ। লন্ঠনের আলোয় আতিশকে এতটা ভয়ংকর লাগছিলো। আইদা নিজের দুই হাত দিলে আলতো করে আতিশের গালগুলো স্পর্শ করে বললো "কি দোষ ছিলো আমার.? ভালোই তোহ বেসেছিলাম তোমাকে.?" আতিশ কিছুই বলছে নাহ। মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে মানুষটা। মনে হচ্ছে কেউ আতিশকে বশ করে রেখেছে নিজের মায়াজালে। আইদা দ্বিতীয় কোনো কথা বলার আগেই পিছন থেকে ৮-১০টা হাত এসে আইদাকে আতিশকে বুক থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলো। "আতিশশশশশশশশশশশশশশ!" আচমকা চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠে কাঁদতে থাকে আইদা।