পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ০৬
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৬ · ২৮ পর্বের মধ্যে ৬
কলেজ থেকে বেরিয়ে হোস্টেলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আপন মনে হাঁটছে আইদা। কলেজ আর হোস্টেল পাশাপাশি হওয়ায় প্রতিদিন পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করে আইদা। রাস্তা দিয়ে যখন আনমনে হেঁটে চলছিলো আইদা তখনই সামনে থেকে তানভীর নামে এক ছেলে পথ আঁটকায়। তানভীর হচ্ছে কলেজের ফোর্ড ইয়ানের স্টুডেন্ট। আর আইদা এবার ফার্স্ট ইয়ারে এডমিশন হলো। ধবধবে ফর্সা তুষার বর্ণের গায়ের রঙ আর নীল নয়না চোখের কারণে কলেজের সকল ছেলেরাই আইদার রূপের দিওয়ানা। আইদা ওর দিকে মনযোগ দিতেই তানভীর হাঁটু গেড়ে বসে পকেট থেকে কলম বের করে বলে " আ-আই-দা উইল ইউ ম্যারি মী!! তোমাকে প্রপোজ করার জন্য এই কলমটা ছাড়া আমার কাছে আর কিছুই নেই। হয়তো এখন আমার কাছে কিছু নেই কিন্তু বিশ্বাস করো বিয়ের পর আমি মন দিয়ে কাজ করবো আর তোমাকে রাজরানী করে রাখবো।" আইদা মনে মনে হাসছে কিন্তু তানভীরকে বুঝতে দিচ্ছে নাহ। এই নিয়ে আজ ১৭ বার তানভীর তাকে প্রপোজ করলো। প্রতিবার একই কথা। তবে এবারের প্রপোজালটা ভিন্ন তার কারণ হলো বাকি ১৬ বার সে খালি হাতে এসেছে প্রপোজ করতে কিন্তু আজ সে কলম নিয়ে এসেছে। আইদা বিরবির করে বলতে লাগলো "কতটা আনরোমান্টিক হলে একটা মানুষ কলম নিয়ে প্রপোজ করতে আসে। অন্তত একটা গোলাপ তোহ নিয়ে আসতে পারতো। গোলাপ আনলে হয়তো রাজি হয়ে যেতাম। দেখতে এতটাও খারাপ নাহ।" কল্পনা থেকে বাস্তবে এসে আইদা জোর গলায় চেঁচাতে চেঁচাতে বললো "আরেএএ! আরেএএ! কি করছেন.? কি করছেন.? উঠুন! উঠুন!" তানভীরও বাধ্য ছেলের মতো উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে হাতের উপর হাত দিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। আইদা মিটিমিটি হেসে বললো "আপনি জানেন! আমার সাথে কতগুলো জ্বীন আছে। আপনি যে এতদিন ধরে আমার পিছু নিচ্ছেন এগুলো কিন্তু ওরা সব জানে। আমি এতদিন আপনাকে কিচ্ছু বলিনি কারণ ভেবেছিলাম আপনি ভয় পাবেন। কিন্তু আজ নাহ বললে আপনার বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে এজন্য এই কথাটা জানিয়ে দিলাম।" তানভীর সবসময় কার জন্য একটু ভীতু টাইপের। আইদার মুখে জ্বীন ভুতের কথা শুনে তানভীরের চোখগুলো টসটসে রসগোল্লার মতো হয়ে গেলো। তানভীর শুধু হা করে আইদার দিকেই তাকিয়ে রইলো আর ভাবতে লাগলো। "মেয়েটা আসলেই সুন্দরী। ওর সাথে জ্বীন থাকতেই পারে। কিন্তু জ্বীনগুলো যদি আমার কোনো ক্ষতি করে.?" তানভীর আমতা আমতা করে কিছু বলতে যাবে তখনই আইদা৷ আবারও বললো "এই দেখুন আমার পাশে কালো লম্বা মাস্তানের মতো দেখতে ১১টা জ্বীন দাঁড়িয়ে আছে। কই দেখতে পাচ্ছেন.?" তানভীর ভীতি কণ্ঠে বললো "কই নাহ তোহ দেখতে পাচ্ছি নাহ!" আয়াত কড়া কণ্ঠে বললো "ওহ্ রেহ!! আপনি দেখবেন কি করে। ওরা তোহ আমার সাথে থাকে ওদের শুধু আমিই দেখতে পাবো। এইরে!! পালান! পালান! একজন আপনাকে মারার জন্য রেগে গেছে। ভবিষ্যতে যদি আপনাকে আমার সামনে দেখে তাহলে নাকী আপনাকে মেরে ফেলবে।" এই কথা শোনা মাত্র তানভীর মাটিতে কলম ফেলে দিয়ে দিক পাছ নাহ দেখে এক দৌড়ে ছুটে পালালো। তানভীরকে এভাবে পালাতে দেখে আইদার হাসি কে দেখে। ফাঁকা রাস্তায় পাগলের মতো একা একা হাসতে হাসতে পেট খিল বেঁধে ফেললো আইদা। আইদা বানিয়ে বলা মিথ্যে কথাটা তানভীর এভাবে সত্যি মনে করবে আইদা কখনোই ভাবতে পারেনি। এসব জ্বীন ভুতে নিজে বিশ্বাস নাহ করলেও ওর আগে পিছে ঘুরঘুর করা ছেলেপেলেদের এসব বলে ভয় দেখাতে খুব মজা পায় আইদা। তানভীরকে ভয় দেখনো শেষ এবার আইদা নিজের গন্তব্য স্থানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আইদা রোড ক্রাস করার আগেই কোত্থেকে যেনো একটা কুচকুচে কালো বিড়াল এসে আইদার সামনে দিয়ে চলে গেলো। এসব কুসংস্কার আইদা কখনোই বিশ্বাস করে নাহ তবে আজকে সে যা দেখলো তাতে করে জ্বীন ভুত যে সত্যি সত্যি হয় এটা তার বিশ্বাস হয়ে গেছো। কালো বিড়ালটা আইদার সামনে দিয়ে চলে যাওয়ার পর পরই আইদাও সেই পথ ধরে এগোচ্ছিল হঠাৎ পিছনর দিকে আইদার চোখ পরতেই দেখে কালো বিড়ালটার চোখগুলো থেকে ফকফকে হলুদ রঙের আলো বের হচ্ছে। প্রথমে মনের ভুল ভাবলেও দ্বিতীয় বার যায় মনোযোগ সহকারে দেখে তখন বিড়ালটা অস্বাভাবিক ভাবে বড় হয়ে যাচ্ছিল। বড় হতে হতে এক পর্যায়ে এমন আকৃতি ধারণ করেছে যেনো বিড়ালটা এক্ষুনি আইদাকে ক্ষপাট করে ধরে খেয়ে ফেলবে। এমন সিচুয়েশনে আজ প্রথম বার মুখোমুখি হলো আইদা। ভয়ে আইদার পিলে চমকানো অবস্থা। তরতর করে কাঁপছে আইদা। কি করবে ভেবে দিশা পাচ্ছে নাহ। এক জায়গায়ই মূর্তির মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আইদা। বিড়ালটাও পিছনে বিশাল আকৃতিতে বড় হয়ে চলেছে।পিছনে কি হচ্ছে দেখার জন্য আলতো করে ঘাড় নাড়ালো আইদা। কিছু বুঝে উঠার আগেই বিড়ালটা এক মহিলা কণ্ঠে বললো "আইদা! সময় হয়ে এসেছে। আমাকে স্বীকৃতি দাও" এই কথা শোনার পর ওখানে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি আর হলো নাহ আইদার। ভয়ে দৌড়ে পালালো আইদা। বিড়ালটাও হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।
সংসারের টান টান অবস্থা। বাবা মা মুখ ফুটে নাহ বললেও সংসারের অভাবের কথা আইদা ঠিকই বুঝতে পারে। এজন্যই বাড়তি কোনো খরচা করে নাহ আইদা। বাবা মায়ের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পড়াশোনার পাশাপাশি বুটিকসের কাজ করে আইদা। হোস্টেলে নিজেরই একটা সেলাই মেশিন আছে। পুরো হোস্টেলের মেয়েদের ড্রেস আইদা নিজেই শেলাই করে দেয়। হোস্টেলের বাইরেও ওর কলেজ ফ্রেন্ডরাও ওর কাছ থেকে ড্রেস শেলাই করে নিয়ে পড়ে। সবার মুখে একটাই কথা আইদার হাতের কাজ নাকী ফ্যাশন হাউসের ডিজাইনারের থেকে কোনো অংশে কম নাহ। সময় বেশি লাগলেও সবাই আইদার কাছেই নিজেদের ড্রেস শেলাই করতে দিবে। আজ কলেজ থেকে যাওয়ার পথে রেশমার ড্রেসটাও ওর বাবার গ্যারাজে দিয়ে আসবে। এজন্য রেশমার ড্রেসটা নিজের কাছে নিয়েই বেরিয়েছে হোস্টেল থেকে।
রাস্তা দিয়ে নাক বরাবর হেঁটে আসছে আইদা। রেশমার ড্রেসটা কমপ্লিট হয়ে গেছে তাই মানবতার খাতিরে নিজেই দিয়ে যাচ্ছে। রেশমার বাবার নাম হিলমি। আইদার সাথে রেশমা ও তার পরিবারের খুব ভালো সম্পর্ক। রেশমার বাবা মা আইদাকে খুব আদর করে। এজন্যই আইদার যখনই মন খারাপ হয় বা বাসার কথা মনে পরে তখনই হিলমি চাচার গ্যারাজে এসে বসে থাকে। তবে আজ সে নিজের কাজে এসেছে। কাজ শেষ হলে আবারও নিজের হোস্টেলে ফিরে যাবে। আড্ডা দেওয়ার একদমই সময় নেই। অনেক কাজ জমে আছে তার সাথে পড়াশোনাও চাঙ্গে উঠে গেছে।
গ্যারাজের সামনে এসে পা রাখলো আইদা। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে কিছুক্ষণ হিলমি চাচাকে খুঁজলো কিন্তু পেলো নাহ। নিচের দিকে চোখ পরতেই দেখতে পেলো হিলমি চাচা গাড়ির নিচে শুয়ে গাড়ি ঠিক করছে। "আরে হিলমি চাচা! একটু বের হোন!! রেশমার ড্রেসটা কমপ্লিট হয়ে গেছে। এটা কোথায় রাখবো। আর হিলমি চাচা শুনুন নাহ!! ভেবেছিলাম আজকে এখানে বেশিক্ষণ সময় দিবো নাহ কিন্তু বিশ্বাস করুন, মাথাটা প্রচুর ধরেছে আপনার হাতের চা খেয়ে তারপরই যাবো" হিলমি চাচাকে গাড়ির নিচে শুয়ে দেখে বললো আয়াত। আইদার কণ্ঠ শুনে গাড়ির নিচ থেকে বেরিয়ে এলো লোকটা। লোকটাকে গাড়ির নিচ থেকে বের হতে দেখে আইদা রীতিমতো ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো কারণ এটা হিলমি চাচা ছিলো নাহ। এটা অন্য একজন লোক যাকে এর আগে কখনোই দেখেনি আইদা। বয়স আনুমানিক ২৪-২৫ হবে। ৬ফিট লম্বা লোকটার ফর্সা গায়ের রঙ। চাপ দাঁড়ি ফ্রান্সি কাট দেওয়া। বাউলদের মতো লম্বা লম্বা চুল। পড়নে গাড়ি ম্যাকানিক্সের ড্রেস। কপালে কালি লেগে আছে। লোকটাকে দেখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আইদা। এর আগে কোনো ছেলের দিকে এভাবে তাকায়নি আইদা। "হ্যালো!! আমি আতিশ। আপনার পরিচয়টা জানতে পারি.?" গাড়ির নিচ থেকে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়ে আইদার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো আতিশ। "উমমম! আ-আমি আ-ই-দা!!" আইদাও বন্ধুদের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো। এক দৃষ্টিতে আতিশের দিকে তাকিয়েই রয়েছে আইদা। আর মনে মনে ভাবছে, কে এই ছেলে! এর আগে তোহ কখনো দেখিনি। হিলমি চাচা গ্যারাজে নতুন লোক রেখেছে অথচ একবারও আইদাকে জানালো নাহ। আবার ভাবছে, এত সুন্দর ছেলে এই গ্যারাজে কাজ করতে এসেছে। ইশশশ!! কি মায়াবী চেহারার অধিকারী এই ছেলেটা। নিশ্চয়ই ওর জীবনটাতেও অনেক কষ্টের কাহিনী রয়েছে যার কারণে গ্যারাজে কাজ করতে এসেছে। এসব ভাবতে ভাবতে আতিশের হাতটা ছাড়তেই ভুলে গেছে আইদা। "এক্সকিউজ মী! মিস। হাতটা কি সারাজীবনের জন্য ধরলেন নাকী.?" মজার ছলে বললো আতিশ। "আ!! আহ!! সরি! সরি!! আর, এইযে মিস্টার শুনুন!! আমার কোনো শখ নেই আপনার হাত সারাজীবনের জন্য ধরার।" ইতস্তত হয়ে বললো আইদা। "ওহ্ তাই বুঝি!! এজন্যই হয়তো এত শক্ত করে আমার হাতটা ধরেছিলেন।" আইদাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলতে ভালোই লাগছে আতিশের। এদিকে আইদা তোহ রাগে ফুলে একাকার। "এক্সকিউজ মী!! লিসেন!! ফালতু কথা বাদ দিন আর বলুন আপনি এখানে কি করছেন, আর হিলমি চাচা কোথায়.?"। "হিলমি চাচা তোহ নেই তবে আতিশ আছে। আররররর!! হিলমি চাচার বানানো চা-ও আছে। আপনি চাইলে আতিশের সাথে বসে এক কাপ চা খেতে পারেন ততক্ষণে হিলমি চাচা চলে আসবে।" আইদার উদ্দেশ্যে বললো আতিশ। এদিকে আইদাও মনে মনে চাইছিলো আতিশের সাথে একটু সঙ্গোপন আলাপ করতে। হয়তো মনে মনে আতিশকে পছন্দ করে ফেলেছে আইদা। কিন্তু আইদা নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞা করেছে কোনো ছেলের প্রতি তার অনুভূতি কাজ করলে তাকে সে বুঝতে দিবে নাহ। "ইয়ে!! মানে!! হিলমি চাচা কোথায় গেছে আপনাকে কিছু বলে যায়নি.?" বললো আইদা। "নাহ! নাহ! হিলমি চাচা কখন কোথায় যায় তা তোহ আর আমাকে বলবে নাহ। আছে হয়তো এখানেই আশেপাশে কোথাও। চলে আসবে আপনি বসুন!" আইদাকে এই কথা বলে ভিতরে চলে গেলো আতিশ চা আনতে। একটু পর দুই হাতে দুই কাপ রঙ চা নিয়ে বেরিয়ে এলো আতিশ। "হুহ! হুহ! ম্যাডাম!! এই নিন ধরুন আপনার হিলমি চাচার বানানো স্পেশাল রঙ চা"। " হা!হা! থ্যাংক ইউ। থ্যাংক ইউ। উমমম! তোহ আপনাকে তোহ ঠিক চিনলাম নাহ। এখানে কি নতুন কাজে লেগেছেন নাকী.? আগে তোহ কখনো দেখিনি।" চায়ে চুমুক দিয়ে এক গাল মুচকি হেসে বললো আইদা। "হ্যাঁ! হ্যাঁ! আমি নতুনই। হিলমি চাচার সাথে যোগাযোগ করে আজ থেকেই কাজে জয়েন হয়েছি।" বললো আতিশ। "তা বেশ তোহ!! কিন্তু আপনাকে দেখে তোহ ভালো ফ্যামিলির সন্তান মনে হচ্ছে তাহলে আপনি এই কাজে কেনো এসেছেন.?" জানার অগাদ ইচ্ছা নিয়ে তাকিয়ে রইলো আতিশের দিকে। "আসলে ছোট থেকে আমার গাড়ি ম্যাকানিক হওয়ার স্বপ্ন ছিলো। একটা ছোট কাহিনী বলি, ছোটবেলায় আমার খেলনা গাড়িগুলো নিজে নিজে ভেঙ্গে আবার নিজে নিজেই ঠিক করতাম। ভালোই লাগতো। তখন থেকেই আমার খুব ইচ্ছে বড় হয়ে যদি কোনো প্রফেশন বাছি তাহলে সেটা হবে গাড়ি ম্যাকানিক।" আইদার প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আতিশের উক্তি। "কিছু মনে নাহ করলে একটা প্রশ্ন করতাম.?" জানার ইচ্ছে নিয়ে বললো আইদা। "হ্যাঁ! হ্যাঁ! অবশ্যই।" বললো আতিশ। "আপনার বাসায় কে কে আছে.? আরর!! আপনার বাবা কি করে.?" প্রশ্ন করলো আইদা। "প্রথম পরিচয়েই সবকিছু জানতে নেই। সব বলবো সবে মাত্র তোহ পরিচয় হলো। তবে শুনে রাখুন আমাকে দেখে ধনী মনে হলেও আমি কিন্তু ধনী নাহ। আমার জীবনটাতে অনেক কষ্ট। এতগুলো বছরে আমি আজও আমার জীবনের কষ্ট ভুলতে পারিনি।" বললো আতিশ। "আ! আহ!! আপনাকে প্রথম দেখায়ই বুঝে গেছি যে আপনার জীবনে নিশ্চয়ই কোনো নাহ কোনো কষ্ট আছে তা নাহলে আপনি এই কাজে কখনোই আসতেন নাহ। যাই হোক আপনার জীবনে কি সেই কষ্ট.? জানতে পারি.?" আতিশকে আবারও প্রশ্ন করে মনে মনে ভাবে, ছেলেটাও জীবনে অনেক অভাব দেখেছে। সে নিশ্চয়ই অভাবে থাকার কষ্টটা জানে। প্রথম দেখায়ই আইদা আতিশের মায়ায় পরে গেছে। তার উপর দুইজনেরই জীবনে অভাব, অনটন, দুঃখ, কষ্ট আছে। আতিশ কিছু বলার আগেই সেখানে হিলমি চাচা চলে আসে। "আরে আতিশ বাবা!! তুমি কখনো এলে.?" আইদা তোহ অবাক হয়ে একবার হিলমি চাচার দিকে তাকায় আরেকবার আতিশের দিকে তাকায়। "আআ! আঙ্কেল হিলমি!! এইতো কিছুক্ষণ আগেই এসেছি। এসে দেখি আপনি গ্যারাজে নেই তাই আমিই গাড়ি ঠিক করতে শুরু করে দিয়েছি। আর আঙ্কেল হিলমি এইযে আপনার অ্যাপ্রোন। সরি আপনার পারমিশন ছাড়াই পড়েছি।" গা থেকে অ্যাপ্রোন খুলে হিলমি চাচার হাতে দিয়ে বললো আতিশ। "হিলমি চাচা উনি আপনার এখানে কাজ করে নাহ.?" হিলমি চাচাকে প্রশ্ন করলো আইদা। "কি বলছো মা!! উনার বাবা এই শহরে সবচেয়ে ধনী ব্যাবসায়ীদের মধ্যে একজন। উনি আমার এখানে কাজ করবে কেনো। আর তুমি উনাকে চিনো নাহ.? উনি হচ্ছে একজন কার রেসার। দুর্দান্ত গাড়ি চালায়।" হিলমি চাচার মুখে এসব শুনে যেনো আইদার মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। তার মানে লোকটা এতক্ষণ ধরে ওর সাথে মিথ্যা বললো। রাগে গজগজ করতে করতে রেশমার ড্রেসটা গ্যারাজের ভিতরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে জোর গতিতে পা চালিয়ে চলে আসছিলো আইদা। পিছন থেকে আতিশ ওর হাত ধরে বলে "আইদা! আইদা! আমার কথা শুনো। আমি তোহ জাস্ট..." আতিশ দ্বিতীয় কোনো কথা বলার আগেই আইদা ওর গালে থাপ্পড় মেরে বলে "তোমার কাছে হয়তো আমাদের কষ্টটা মজা মনে হচ্ছে। কিন্তু আমরা যে কষ্টটা করছি সেটা আমি এবং হিলমি চাচা বুঝি। এটা বুঝার ক্ষমতা তোমার নেই। তোমরা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছ তোমরা তোহ এসব অভাব অনটনকে তোহ মজাই মনে করবে।" আতিশের উপর একটু রাগারাগি করে সেখান থেকে চলে গেলো আইদা।