পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ১৫
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৫ · ২৮ পর্বের মধ্যে ১৫
তখনও রাত ১২টা বাজেনি। আকাশের চাঁদটা একদম গোল বৃত্তান্ত আকার ধারণ করে আলোকিত হয়ে উঠেছে। চারিদিকে সুরে সুরে বাতাস বইছে। হাল্কা হিম শীতল আবহাওয়া। শীতের শেষ সময়টা হয় যেমন। জায়গাটা দেখে কোনো হসপিটাল মনে হচ্ছে। ঠকঠক শব্দ করে কেউ হেঁটে চলেছে। কিন্তু কোথায় যাচ্ছে কেউই জানে নাহ। পরমুহূর্তেই দূর থেকে অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে একজন লোক ডাক্তারের সাথে কথা বলছে। কথাগুলো স্পষ্ট উর্দুতে ছিলো। তার মানে এটা পাকিস্তানের ঘটনা। "এখানে পাঁচ লাখ টাকা আছে। লাগলে আরো দিবো। ছেলে হোক বা মেয়ে বাচ্চাটা যেনো জন্মের পর দুনিয়ার আলো দেখতে নাহ পারে।" আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা ডাক্তারের হাতে একটা টাকা ভর্তি ব্রিফকেসে ধরিয়ে দিয়ে বললো। ডাক্তারের মুখটাও অস্পষ্ট। কে এই ডাক্তার? আর কোন বাচ্চাকে মারার জন্য ডাক্তারকে টাকা দেওয়া হচ্ছিল? আর এই লোকটাই বা কে? কেনো সে এই বাচ্চাটাকে মারতে চাইছে? ডাক্তারও লোকটার কথায় সাই জানিয়ে ব্রিফকেস নিয়ে চলে গেলো। হঠাৎ চারিদিক ঝাপসা হতে শুরু করে, সবকিছুই ঝাপসা হয়ে গেলো। কারো চেহারা বুঝা যাচ্ছে নাহ। অপারেশন থিয়েটারে একই সাথে দু'জনে নরমাল ডেলিভারি হলো। বাচ্চা দুইটা জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে আকাশের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে শুরু হলো তুফান। এমন তুফান লাহোর সিটিতে এর আগে কখনো হয়নি। যাই হোক, হসপিটালে একজনের গর্ভে জন্ম নিলো মৃত সন্তান এবং অন্য জনের গর্ভে জন্ম নিলো ফুটফুটে একটা পুত্র সন্তান। বাচ্চা ডেলিভারির পর পরই সকল নার্স ও স্টাফরা বেরিয়ে গেলেই ডাক্তার চিন্তায় পরে যায়। এত সুন্দর ফুটফুটে ফুলের মতো শিশুটাকে সে হত্যা করবে কিভাবে। সারাজীবনে অনেক পাপ করেছে। টাকা খেয়ে অনেকের কোল খালি করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে আজকেই কেনো তার সব পাপের কথা মনে পরছে। ডাক্তার নিজের কথা পাপের কথা চিন্তা করে মৃত বাচ্চাটার সাথে সেই বাচ্চাটা পাল্টাপাল্টি করে দিলো। যখন সে বাচ্চাটাকে কোলে নিচ্ছিলো বাচ্চাটা তার দিকে তাকিয়ে এক মায়াবী হাসি দিয়ে ডাক্তারের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ধরেছিলো। বাচ্চাটার এমন কান্ড দেখে ডাক্তার আরো মায়ায় পরে যায়। সে কিছুতেই এই বাচ্চাকে মারতে পারবে নাহ। কেনো জানে নাহ, ডাক্তারের মনে হতে থাকে এই বাচ্চাকে বাঁচাতে পারলে তার জীবনের পাপ কিছুটা হলেও কমবে৷ তার পাপ খন্ডানের একটা সুযোগ সে পেয়েছে এটা কিছুতেই সে হাত ছাড়া করতে পারবে নাহ। মুহুর্তেই সে মৃত বাচ্চার সাথে ওই বাচ্চাটাকে পাল্টাপাল্টি করে দিলো। সাথে সাথে বাচ্চার চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। বাচ্চার কান্না এতটাই তীক্ষ্ণ ছিলো যে সেই কান্নার শব্দে চিশতি আর ঘুমিয়ে থাকতে পারলো নাহ। চিৎকার করে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে। ঘুম থেকে উঠতেই বুঝতে পারলো এটা তার স্বপ্ন ছিলো। মাথাটা প্রচুর ব্যাথা করছে চিশতির। মাথা চেপে ধরে আছে, তখন সেখানে চিত্রা ছুটে এসে বলে "সর্বনাশ হয়ে গেছে চিশতি!" চিশতি অবাক দৃষ্টিতে চিত্রার দিকে তাকিয়ে বললো "কেনো আপুনি? কি হয়েছে?" চিত্রা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো "হাসমি ভাইয়া বিয়ে করে এসেছে। এটা খুশির খবর হলেও কাল রাত থেকে রমজান মামা, ফুফাজি আর চাচ্চুকে কোত্থাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে নাহ" এই বলেই চিত্রা সেখান থেকে চলে গেলো। গতরাতে তোহ চিশতি নিজেই ওই তিনজনের সাথে নিজের বড় বোনের স্বামীকে শাস্তি দিলো। নিজের হাতে ওই চাররজনকে হত্যা করেছে। বিনাশ করেছে পৃথিবীর বুক থেকে লোভী চার কালোজাদুকর'দের। মুছে ফেলেছে নিজের জীবন থেকে ওই চার জনের নাম। কিন্তু তারপর কি হয়েছিলো। হাসমির বিয়েটা কিভাবে হলে? সবকিছু কেমন ঝাপসা ঝাপসা লাগছে চিশতির কাছে। গতরাতে আর কি কি হয়েছিলো মনে করার জন্য মাথায় একটু জোর দিতেই তার মনে পরলো। মধ্যরাত। চাঁদটাও মাঝ আকাশে এসে থমকে গেছে। চারিদিকে বসন্তের ঘ্রাণ। ঝিঁঝি পোকাদের ঝিঁঝি ডাক আর শীতল হাওয়া। তার সাথে আকাশ ভরা তারা। এক মনোরম পরিবেশে শত্রু নিধন করে মাত্রই ঘরে প্রবেশ করলো চিশতি। চোখ নিভু নিভু হয়ে আসছে ঘুমে। মাত্রই চোখ লেগে গেছিলো তখনই দরজায় কারো টোকার শব্দে ঘুম ছুটে যায় চিশতির। চিশতি ঘুম ঘুম চোখগুলো আঙ্গুল দিয়ে ডলতে ডলতে গিয়ে দরজা খুলে দেখে হাসমি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। চিশতিকে দরজা খুলতে দেখে তড়িঘড়ি করে রুমের ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চিশতির উদ্দেশ্যে হাসমি বললো "চিশতি!" হঠাৎ হামিকে এমন করতে দেখে চিশতি ঘাবড়ে গিয়ে বললো "হ্যাঁ! ভাইয়া! বলো..?" হাসমি নবাম হাত দিয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো "তোকে একটা কথা বলবো..? কাউকে বলবি নাহ..?" চিশতি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো "কি.? বলো.." হাসমি আমতা আমতা করে বললো "আমি আজকেই বিয়ে করতে চাই.." হাসমির কথা শুনে চিশতি যেনো আকাশ থেকে পরলো "মানে..?" চিশতিকে বুঝিয়ে বলার জন্য হাসমি আবারও বললো "আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসি! ও এখানেই থাকে। আমরা অনেক দিন ধরে বিয়ে করবো ভাবছি কিন্তু যতবারই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নি ততবারই কিছু নাহ কিছু অঘটন ঘটে। তুই প্লিজ কিছু একটা কর যাতে এবার বিয়ে করে বউ সাথে করে বাড়ি ফিরতে পারি।" হাসমির কথা শুনে চিশতির ভিতরটা কেমন করে উঠলো। এর আগে হাসমিকে কোনোদিন এমন বাচ্চাদের মতো করতে দেখেনি চিশতি। চিশতি কোনো কিছু নাহ ভেবে আবেগের বশে হাসমিকে কথা দিয়ে বলে "আচ্ছা! আমি কথা দিলাম কালকেই তোমার বিয়ে হবে..." হাসমি খুশিতে পঞ্চমুখ হয়ে"সত্যি!" বলে চিশতিকে জড়িয়ে ধরলো। হাসমিকে রুম থেকে বের করে দিয়ে চিশতি সাক্ষী আর জটায়ুকে ডাকে। "সাক্ষী! জটায়ু! এক্ষুনি আমার সাথে এসে দেখা করো" মুহুর্তেই চারিদিকে মৃদু হাওয়া বইতে শুরু করলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে সাক্ষী আর জটায়ু এসে হাজির হয়। "বলো.." চিশতির ডাকে সারা দিয়ে বললো জটায়ু। "আমার ভাইয়ের বিয়ে দিতে চাই" বললো চিশতি। "কিন্তু ওর তোহ বিয়ে হবে নাহ কখনো.?" জবাবে বললো সাক্ষী। "হ্যাঁ! জানি সেজন্যই তোহ তোমাদের ডেকেছি। কিছু একটা উপায় বলো কিভাবে ওর বিয়ে দেবো" একদমে কথাগুলো বললো চিশতি। "ওর উপর ভয়ংকর কালোজাদু করা হয়েছে, এই কালোজাদু আমাদের পক্ষে কাটানো সম্ভব নাহ।" উত্তর দিলো জটায়ু। "তাহলে উপায়.?" নিরাশ হয়ে বললো চিশতি। "উপায় একটা আছে..?" মিনমিনে কণ্ঠে বললো সাক্ষী। "সাক্ষী! এবার কোনো ঝামেলা করবি নাহ্। তুই খুব ভালো করেই জানিস কত কষ্টের পর পঞ্চশক্তি চিশতির মধ্যে স্থাপিত হয়েছে।" ক্রোধান্বিত কণ্ঠে বললো জটায়ু। "কিন্তু এটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই" দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো সাক্ষী। "কি বলছো তোমরা..? কোন উপায়ের কথা বলছে.? যেকোনো উপায়েই হোক ভাইয়ার বিয়ে দিবো। তোমরা শুধু উপায়টা বলো..." জানার আগ্রহ নিয়ে বললো চিশতি। "তোমাকে হয় প্রতিশোধ আর নাহয় দায়িত্ব যেকোনো একটা বেছে নিতে হবে.." বললো জটায়ু। "মানে!" জটায়ুর কথার মানে নাহ বুঝে বললো চিশতি। "পঞ্চশক্তির সমস্ত বল প্রয়োগ করে তারপর হাসমির বিয়ে দিতে হবে। এর ফলে...." ইতস্তত হয়ে বললো সাক্ষী। "এর ফলে কি..?" একবার সাক্ষীর দিকে আরেকবার জটায়ুর দিকে তাকিয়ে বললো চিশতি। "তোমাকে পঞ্চশক্তি বিসর্জন দিতে হবে। এই কাজটা করলে পঞ্চশক্তি তোমার মধ্যে আর থাকবে নাহ।" সাফ জানিয়ে দিলো জটায়ু। "এই ব্যাপার! তবে তাই হোক! আমার পরিবারের উর্ধ্বে কখনোই আমার প্রতিশোধ বড় নাহ। আমি আমার পরিবার নিয়েই সুখে থাকতে চাই। এসব মরণ খেলা এবার বন্ধ করতে চাই।" চিশতিও সাফ উত্তর জানিয়ে দিলো। "ভুলে যেও নাহ, এখনো আরো ২জন শত্রু বেঁচে আছে এবং তাদের পরিচয়ও তুমি জানো নাহ।" সতর্ক করে বললো জটায়ু। "যাই হোক, এতকিছু ভাবার সময় নেই। আমি আমার সমস্ত শক্তি বিসর্জন দিতে রাজি। কি করতে হবে আমায়..?" বললো চিশতি। "শুধুমাত্র ৩বার বলতে হবে “পঞ্চশক্তি আমি তোমায় ত্যাগ করলাম„ এতটুকুই" বললো জটায়ু। "ঠিক আছে " উত্তর দিলো চিশতি। "তুমি এমনটা করলে কিন্তু আমরাও হারিয়ে যাবো..." দ্বিতীয় বার সতর্ক করে বললো জটায়ু। "আমার পরিবারের সুখের জন্য তোমাদের হারাতেও রাজি" মরিয়া হয়ে বললো চিশতি। "বেশ তবে তাই হোক। কিন্তু মনে রেখো, আজ যেখান থেকে তুমি প্রতিশোধ নেওয়া স্থগিত করেছো ঠিক সেখান থেকেই এই প্রতিশোধ আবার শুরু হবে। এই প্রতিশোধ এখানেই থেমে থাকবে নাহ। আমরা চলে যাচ্ছি, অপেক্ষা করো ৩০ বছর পর আমরা আবারও ফিরবো....." শেষ বারের মতো বললো জটায়ু। জটায়ু বাঁধা দেওয়ার পরও চিশশতি বললো "পঞ্চশক্তি আমি তোমাকে ত্যাগ করলাম,পঞ্চশক্তি আমি তোমাকে ত্যাগ করলাম,পঞ্চশক্তি আমি তোমাকে ত্যাগ করলাম" সাথে সাথে চারিদিকে জোড় হাওয়া বইতে থাকলো। চিশতির নাভি দিয়ে টগবগিয়ে রক্ত পড়তে লাগলো। একসময় নাভি থেকে নাগমণি বেরিয়ে কোথায় যেনো মিলিয়ে গেলো। প্রচুর হাওয়ার মাঝে চিশতি লক্ষ করে দেখলো সাক্ষী আর জটায়ু একত্র হয়ে একটা স্বর্ণ সর্প হয়ে নাগমণির মতোই কোথাও একটা মিলিয়ে গেলো। গতরাতে এতকিছু হয়ে গেছে সেটা ভাবতেই চিশতির গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। কেনো সে এমনটা করলো নিজেও জানে নাহ। সে তোহ চায়নি তার প্রতিশোধ এত তাড়াতাড়ি থেমে যাক। তাহলে কেনো সে এমনটা করলো? নিজের সজ্ঞানে করেছে নাকী কারো বশে? নিজের কাছে নিজেকে প্রশ্ন করলো চিশতি। রুম থেকে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে গেলো চিশতি কি হয়েছে সেটা জানার জন্য। চিশতি বাইরে গিয়ে শুনতে পায় হাসমি বিয়ে করে ফেলছে। গাংগাইট গ্রামের রহমান নামে এক ভদ্রলোকের বড় মেয়ে নাম ইসামতি নামের এক সুশ্রী সুদর্শনা নারীকে। হাসমির মুখে হাসি দেখে চিশতিরও খুব ভালো লাগছে। কিন্তু খেয়াল করে দেখলো চিশতির কাকিয়া হালিমা আর নূরীর মা হাজেরার চোখে মুখে দুশ্চিতার ছাপ। চিশতি কি বলবে ভেবে পাচ্ছে নাহ। আরেকটু লক্ষ করলো সবাই-ই চিন্তিত। কিন্তু কাউকে বুঝতে দিচ্ছে নাহ। হাসমির বিয়ের খুশিতে মিথ্যা হাসির অভিনয়ের আড়ালে দুশ্চিন্তাগুলো লুকিয়ে রেখেছে। সবাইকে চিন্তিত দেখে চিশতিও চিন্তায় মগ্ন হয়ে যায়। তখন পিছন থেকে নূরী এসে ডাক দেয় "জানেমান!" আচমকা নূরী ডাকে ঘাবড়ে যায় চিশতি। "ক-কি হয়েছে??" থতমত খেয়ে বললো চিশতি। "কি এমন চিন্তা করছো তুমি? কি হয়েছে বলো আমাকে??" চিশতিকে প্রশ্ন করলো নূরী। এদিকে পঞ্চশক্তি ত্যাগ করার বিষয়টা সম্পূর্ণভাবে নূরীর কাছ থেকে লুকিয়ে যাচ্ছে চিশতি। "নাহ! নাহ! তেমন কিছু হয়নি।" কথা ঘুরিয়ে বললো চিশতি। "আআআ! জানেমান আমাদের বিয়ের কথা সবাইকে বলবে কখন?" আঙ্গুল দিয়ে নিজের চুল প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে বললো নূরী। "কি বলছো তুমি? সবার মনের অবস্থা বুঝতে পারছো? এখন এসব কিভাবে বলবো?" নূরীর দিকে তাকিয়ে বললো চিশতি। "তোহ কি হয়েছে? ভালোবাসা কি অপরাধ নাকী? ভালোবেসে ভালোবাসার কথা বলতে পারবে নাহ সবাইকে?" বললো নূরী। "অবশ্যই বলতে পারবো। কিন্তু সঠিক সময় আর সেসময়ের পার্থক্যটা তোহ বুঝো, নাকী?" নূরী কিছু বলতে যাবে তখনই সেখানে চিশতির মা আমিনা বিবি এসে হাজির। "কি এত গুজুরগুজুর ফুসুরফুসুর হচ্ছে শুনি? অনেকক্ষণ অনেকক্ষণ ধরে তোমাদের দু'জনকে লক্ষ করছি কিছু একটা নিয়ে কথা বলছিস? কিসের ভালোবাসার কথা শুনলাম মনে হয়? কি হয়েছে বল তোহ আমাকে!" বললো আমিনা বিবি। "ইয়ে মানে আন্টি, চিশতি আর আমি একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছি!" বললো নূরী। "কি! একদিনেই তোমাদের মধ্যে প্রেম ভালোবাসা হয়ে গেলো? ভালোবাসার মানে বুঝো তোমরা?" বললো আমিনা বিবি। "আম্মি! তোমার বড় ছেলের ভালোবাসা এবং ভালোবাসার মানুষকে এক্সেপ্ট করতে পারলে আমারটা পারবে নাহ কেনো?" প্রশ্ন করলো চিশতি। চিশতির কথা শুনে আমিনা বিবি আর কিছুই বললো নাহ। অনেকক্ষণ চুপ থেকে বললো "ঠিক আছে আমি নূরী মায়ের সাথে কথা বলছি" আমিনা বিবির মুখে এই কথা শুনে চিশতি আর নূরী দু'জনই অনেক খুশি হলো। সারাদিন পর সন্ধ্যাবেলা সবাই একত্র হয়ে কথা বলাবলি করছিলো তখন সেখানে আমিনা সবাইকে বিবি চিশতি আর নূরীর কথা জানায়। প্রথম বার বলাতেই সবাই রাজি হয়ে যায়। কিছুক্ষণ সবকিছু ঠান্ডা হয়ে এলে হালিমা সবার উদ্দেশ্যে একটা কথা বলে "যেহেতু ভাইজানকে আর চিশতির চাচ্চুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে নাহ তাই আমি ঠিক করেছি নূরী এবং ভাবি আমাদের সাথে আমার কাছেই থাকবে। তাছাড়া চিশতির আর নূরীর যেহেতু একটা সম্পর্ক হয়েই গেছে তাহলে আশা করছি কেউ অমত করবে নাহ। যতদিন নাহ ভাইজান ফিরছে ততদিন ভাবি আর নূরী আমার কাছেই থাকবে। আর সবার মত থাকলে সামনের মাসেই চিশতি আর নূরীর বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।" হালিমার কথায় সবাই সহমত জানায়। পরদিন বিকেলে সবাই ব্যাগ প্যাক করে মুন্সিগঞ্জে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নেয়।