পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ১০
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১০ · ২৮ পর্বের মধ্যে ১০
সোনালি একটা দিনের শুরু হলো সোনালি সূর্যোদয়ের সাথে। বসন্তের মিষ্টি হাওয়া বইছে শহরের আনাচে-কানাচেতে। কলেজ শেষ করে ক্যাম্পাসের সামনে এসে দাঁড়াতেই আইদার নজর কাড়লো একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক দল মেয়ে। সবাই কি নিয়ে যেনো গুজুরগুজুর ফুসুরফুসুর করছে। কৌতুহল বসৎ পা বাড়ায় সেদিকে। কি হচ্ছে জানতে। সামনে গিয়ে দেখে সেখানে ওর রুমমেট তাইয়্যেবাও আছে। সবাইকে উপেক্ষা করে তাইয়্যেবাকেই জিজ্ঞেস করলো " তাইয়্যেবা আপু!! কি হয়েছে গো.? কি নিয়ে আলোচনা করছো তোমরা.?" দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আইদার হাত টেনে একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে এলো তাইয়্যেবা "তুই আসলেই কিছুই জানিস নাহ.?" তাইয়্যেবার মুখে এমন প্রশ্ন শুনে আইদার বাজ পড়া অবস্থা। "আশ্চর্য!! তোমরা কি নিয়ে কথা বলছো আমি কিভাবে জানবো.?" তাইয়্যেবা গলা নামিয়ে নিচু কণ্ঠে জবাব দিলো "তোদের ইয়ারের আস্থার কথা শুনেছিস নাহ.?" আইদা ঝেড়ে কেশে জবাব দিলো "হ্যাঁ! শুনেছিলাম তোহ। মেয়েটা ৪-৫দিন ধরে নিখোঁজ। কোনো খোঁজ খবর নেই। তা ওর বিষয়ে কি কথা বলছিলে তোমরা.?" তাইয়্যেবা আবারও আইদার হাত টেনে আরেকটু দূরে সরিয়ে দিয়ে গেলো। "কাল রাতে ডিবি পুলিশ জঙ্গল থেকে আস্থার লাশ উদ্ধার করেছে। হসপিটালের মর্গে আছে ওর লাশ। আমরা সবাই দেখতে যাবো।" আইদার মনেও কৌতুহল জাগলো আস্থাকে দেখার জন্য। কোনো কিছু চিন্তা নাহ করে তাইয়্যেবার উদ্দেশ্যে আইদা বললো "আমিও যাবো! তাইয়্যেবা আপু!! আস্থার বাসার কেউ খবর পায়নি.?" তাইয়্যেবা আড়চোখে আইদার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো "তুই জানিস নাহ, আস্থা এতিম। ছোট থেকেই অনাথাশ্রমে বড় হয়েছে।" আইদার কেনো জানি নিজেকে অপরাধ মনে হতে থাকে। খুব আফসোস হচ্ছে আস্থার জন্য। কলেজের বাকি মেয়েদের সাথে আইদাও যোগ দিলো। আইদা সহ প্রায় ৭-৮জন মেয়ে আস্থাকে দেখার জন্য জন্য হসপিটালে যায়। কলেজের আইডি দেখিয়ে সবাই মর্গে যায়। তাদের সাথে ছিলো হসপিটালের একজন কর্মী। যে তাদের সবাইকে আস্থার লাশ দেখা শেষে আবারও নিয়ে আসবে। মর্গে প্রবেশ করে সবার একটা জিনিসই মনে হলো, এটা যেনো কোনো ব্যাংকের লকার। বিশাল বড় বড় ড্রয়ার। হসপিটালের কর্মীটা গিয়ে ৩০৭ নাম্বার ড্রয়ার খুলে। ড্রয়ারটি খোলার সাথে সাথে ভিতর থেকে বরফের ঠান্ডা হাওয়ার সাথে বেরিয়ে আসে একগুচ্ছ ধোঁয়া। আস্থার লাশটা একদম ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। কি সুন্দর নাহ ফেরার দেশে চলেে গেছে হাসিখুশি থাকা একটা প্রাণবন্ত মানুষ। এইযে ঘুমিয়েছে আর কখনোই নতুন কোনো ভোরের দেখা পাবে নাহ আস্থা। আস্থার লাশ দেখে সবার চোখ ছলছল করছে। সবাই চোখ মুছছে। এদিকে সবাইকে উপেক্ষা করে আইদা চলে আসে লাশের একদম কাছে। ডান হাত বাড়িয়ে দেয় আস্থাকে ছোঁয়ার জন্য। "বাঁচাও! বাঁচাও! কেউ আমাকে বাঁচাও! আমি বাঁচতে চাই! প্লিজ! প্লিজ! আমাকে মেরো নাহ!" মাটিতে পা ঠেলতে ঠেলতে আত্ম চিৎকার দিচ্ছে আস্থা। সামনে থেকে একজন মানুষ রূপী অমানুষ এগিয়ে আসছে আস্থার দিকে। প্রাণ বাঁচাতে আবারও মাটি থেকে উঠে দাঁড়ালো আস্থা। জঙ্গলের ভেতরে ছুটে চলেছে। এদিক সেদিন দৌড়াচ্ছে কিন্তু কোনো দিক খুঁজে পাচ্ছে নাহ। "আমাকে মেরো নাহ প্লিজ! কি দোষ ছিলো আমার.? ভালোই তোহ বেসেছিলাম তোমাকে এটাই কি একমাত্র দোষ ছিলো আমার.?" করুন কণ্ঠে বললো আস্থা। আস্থার এই করুন কান্নায়ও যেনো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার মন গলছে নাহ। আস্থাকে দ্বিতীয় কোনো কথা বলার সুযোগ নাহ দিয়েই সামনের লোকটা ঝাঁপিয়ে পড়ে আস্থার উপর। নিজেকে রক্ষার এক ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো আস্থা। "নাহহহহহহহহহহহহহ! আস্থা! আস্থা!" আস্থার লাশ ধরতে গিয়েও দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে পিছনে আসে আইদা। "কি হলো.? আইদা!! আইদা!! কি হলো তোর.?" আইদার কাঁধে শক্ত করে ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলছে তাইয়্যেবা। আইদার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কি হলো এটা.? এটা কি শুধুই তার কল্পনা নাকী সত্যি সত্যি সে আস্থার মৃত্যুকে নিজের চোখে দেখলো.? আইদা নিজেও বুঝতে পারছে নাহ এই মুহুর্তে কি হলো তার সাথে। এই ঘটনা অবিশ্বাস্য। কেউ শুনলেও বিশ্বাস করবে নাহ। তার চেয়ে ভালো হবে কাউকে নাহ বলাই। "আপনারা এবার বেরিয়ে আসুন, পুলিশ এসেছে। উনাদেরকে ইনভেস্টিগেশন করতে দিন" বললো হসপিটালের কর্মী লোকটা। উনার কথা মতো সবাই মর্গ থেকে বেরিয়ে গেলেও আইদা দরজার এক কোণে উঁকি পেতে দাঁড়িয়ে থাকে। "ওহ্ মাই গড!! একেও সেইম একই ভাবে মারা হয়েছে। একে নিজে গত ২ বছরে ৮টা মেয়েকে সেইম একই নিয়মে হত্যা করা হয়েছে। এটা নিশ্চয়ই কোনো সিরিয়াল কিলারের কাজ। প্রত্যেকটা মেয়ের শরীর থেকে রক্ত চুষে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটা মেয়ের ঘাড়েই ভয়ংকর দুইটা দাগ পাওয়া গেছে। এটা কোনো মানুষ নাকী পশুর কাজ বুঝা বড় মুশকিল। এত জটিল কেইস এর কখনে দেখিনি" প্রথম পুলিশটা দ্বিতীয় পুলিশটাকে বলছে। "গত ২ বছরে আমরা অনেক ট্রাই করেছি এই খুনিকে ধরার কিন্তু কেউই খুনির নাম গন্ধও পাইনি। অনেক জটিলতায় ভরপুর এই কেইসটা। তবে এই কেইসটা একজনই সমাধান করতে পারতো.?" বললো দ্বিতীয় পুলিশটা। "কে সেই ব্যক্তি যে এমন জটিল কেইসের সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে.?" প্রশ্ন করলো প্রথম পুলিশ। "ডিবি ওসি অরিন খান। এরচেয়ে বড় বড় কেইস উনি হ্যান্ডেল করেছেন।" মাথার ক্যাপ ঠিক করতে করতে বললেন দ্বিতীয় পুলিশটা। "কিন্তু স্যার!! উনি তোহ গত তিন বড়চ আগে রিটায়ার্ড হয়েছেন।" জিজ্ঞাসা সুরে বললো প্রথম পুলিশটা। "উনার পেশা স্থগিত হতে পারে কিন্তু নেশা এখনো তীক্ষ্ণই আছে।" মুচকি হেসে বললো দ্বিতীয় পুলিশটা। "মানে.?" ঢোক গিলে বললো প্রথম পুলিশটা। "তুমি বুঝবে নাহ! এই কেইস সমাধান করতে হলে আমাদের অরিন খানের সাহায্য প্রয়োজন।" কথপোকথন শেষ করে দু'জন পুলিশই বেরিয়ে এলো মর্গ থেকে। "কে তুমি.? এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এতক্ষণ আমাদের কথা শুনছিলে কেনো.?" ধমকে জিজ্ঞেস করলেন দ্বিতীয় পুলিশটা। "স্যার আপনাদের আমি কিছু বলতে চাই.?" ইতস্তত হয়ে বললো আইদা। আইদার কথা শুনে পুলিশ দুজন চমকে যায়। পরক্ষণেই তারা আইদাকে প্রশ্ন করে "কি বলতে চাও.?" আইদা কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে বলে "স্যার! এই খুন একজন ছেলে করেছে।" আইদার কথা শুনে পুলিশরা তোহ প্রায় অবাক। এত বছরে উনাকে ধারণাও করতে পারেনি এই খুন কোনো ছেলে করেছে নাকী মেয়ে সেখানে এই মেয়ে এক দেখায় বলে দিলো এই খুন একজন ছেলে করেছে। কিভাবে সম্ভব.? "কি যা-তা বলছো.? তুমি জানো পুলিশের সময় নষ্ট করার অপরাধে তোমার জেল হতে পারে।" বললো প্রথম পুলিশটা। "আপনাদের দায়িত্ব আমজনতার মতামত শোনা। আর আমজনতার নিজের মতামত প্রকাশ করার অপরাধে যদি আপনারা তাদের জেলে পুরে দেন তাহলে বলবো দেশের আইনে এখনো ঘাটতি আছে।" অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে বললো আইদা। "তোমার মধ্যে সাহস আছে বটে। আচ্ছা বলো কি বলবে.?" বললো দ্বিতীয় পুলিশ। "আমি জানি নাহ আপনারা আমার কথা বিশ্বাস করবেন কি-না তবে এটা সত্যি যে আমি নিজের চোখে আস্থার মৃত্যুকে উপলব্ধি করেছি।" চোখ মুছে বললো আইদা। "উপলব্ধি করেছো মানে.?" বললো প্রথম পুলিশটা। "আমি যখন ওর লাশটা স্পর্শ করার জন্য হাত বাড়াই তখন দেখতে পাই, আস্থা জঙ্গলে দৌড়াচ্ছে আর একটা ছেলে ওর পিছু নিয়েছে। যতটুকু আমি শুনতে পেয়েছি, আস্থা ছেলেটাকে ভালোবাসতো। ছেলেটার কাছে ও নিজের জীবন ভিক্ষা চেয়েছিলো কিন্তু ওই জানোয়ারটা ওকে মেরেই ফেললো!" এই বলে কাঁদতে শুরু করে আইদা। পুলিশরা রীতিমতো অবাক হয়ে যাচ্ছে। এটাও তাদের বিশ্বাস করতে হবে.? এই সমাজে সবাই প্রমাণ খুঁজে কেউ আধ্যাত্মিক জিনিসে বিশ্বাস করে নাহ। আইদাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলতে দেখে দ্বিতীয় পুলিশটা আইদাকে আশ্বাস দিয়ে বলে "আমরা অবশ্যই তোমরা বলা সাক্ষের উপর ভিত্তি করে কেইস আগাবো।" "কিন্তু স্যার...!!" অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো প্রথম পুলিশটা। "কোনো কিন্তু নেই....!" বললো দ্বিতীয় পুলিশ।
দুপুরের উত্তপ্ত গরমে চারদিক চকচক করছে। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় গরমের আভাস। শান্তি নেই কোথাও। জানালা মেলে ঠান্ডা বাতাসের আশায় স্যুটে বোতাম সেলাই করছে আইদা। জানালা দিয়ে মৃদু বাসাত এসে আইদার উষ্ণ শরীরকে শীতল করে দিচ্ছে। তার সাথে এলোমেলো করে দিচ্ছে আইদার চুলগুলো। বারে বারে সুই হাতে নিয়ে চুলগুলো কানে গুঁজছে আইদা। গোলাপি ঠোঁটে মুচকি হেসে কাজ করেই যাচ্ছে আইদা। মনে কোনো ভাবনা নেই কার সাথে কি হচ্ছে, নিজের সাথে কখন কি হচ্ছে। আনমনে কাজ করছে। মাঝে মাঝে দাঁত দিয়ে সুতো কাটছে। আবার সুচে সুতো পড়িয়ে কাজে মন দিচ্ছে। আইদা যখন মনোযোগসহ কাজ করছিলো তখনই হুট করে কোথা থেকে যেনো আতিশ চলে আসে। এসেই আইদার মাথায় ফুলের মুকুট পড়িয়ে দিয়ে বলে "আমার ফুলের জন্য এই সামান্য ফুল" আইদা মুচকি হেসে উঠে দাঁড়িয়ে বলে "কি করছো আতিশ.? কেউ দেখে ফেলবে.?" আতিশ এদিক সেদিন তাকিয়ে আইদার কমোর টেনে নিজের বহুপৃষ্ঠে লাগিয়ে বললো "আমার ফুলকে আমি ফুল দিয়েছি এতে কে দেখলো নাহ দেখলো আমার দেখে লাভ নেই" আচমকা টান দেওয়ায় আইদা হাত থেকে সুই পরে যায়। আতিশের কাছ থেকে কোনো রকম নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মাটি থেকে সুুই তুলে নিলো। হঠাৎ মনে পরলো গতকালই তোহ আতিশ তাকে ইগ্নোর করলো আজ আবার ফুল নিয়ে এসেছে রাগ ভাঙ্গাতে। আইদাও কত সস্তা র মতো আতিশের এই কোমল ব্যবহারে গলে যাচ্ছে। উঠে দাঁড়িয়ে গলা ঝেড়ে দুইটা কাশ দিয়ে বললো আইদা "দেখো আতিশ! আমি চাই নাহ তোমার জন্য আমার পার্সোনাল লাইফে কোনো প্রবলেম হোক। আমি চাই তুমি তোমার মতো আর আমি আমার মতো থাকি।" এই বলে আইরন মেশিন দিয়ে আতিশের স্যুটটা আইরন করতে থাকে আইদা। "বেশ! তুমি যেহেতু চাও আমি তোমার কাছ থেকে দূরে থাকি তাহলে তাই হোক। আমি চাই নাহ আমার জন্য আমার প্রিয় মানুষটার জীবনে কোনো বাঁধা আসুক।" এই বলে সেখান থেকে আতিশ বেরিয়ে আসলো। আইদা নিজেও বুঝতে পারেনি আতিশ এই কথাটায় এতটা কষ্টে পাবে। অসহায় দৃষ্টিতে আতিশের চলে যাওয়া দেখছে আইদা। ওদিকে আতিশ এক আকাশ পরিমাণ আশা নিয়ে বের হয়েছে যে আইদা নিশ্চয়ই তাকে ডাকবে। "আইদা প্লিজ একটা বার ডাক দাও! তুমি কেনো বুঝো নাহ, তোমার আশেপাশে নাহ থাকলে আমার মনে শান্তি মিলে নাহ। প্লিজ আইদা একটা বার ডাক দাও" একা পথে বিরবির করে হেঁটে চলেছে আতিশ। এদিকে আইরন টেবিলে স্যুটের উপরেই আইরন মেশিন রেখে ছুটে দরজার কাছে চলে এসেছে আইদা। মনে মনে বলছে "প্লিজ আতিশ যেও নাহ! তুমি কেনো বুঝো নাহ, তুমি আমার আশেপাশে থাকলে আমি মন খুলে হাসতে পারি। মন ভরে নিশ্বাস নিতে পারি। ভুলে যাই এই জগৎ সংসারের কথা। সাজিয়ে ফেলি তোমার আমার এক আলাদা দুনিয়া। আতিশশশশ" মনে মনে বলছে তবুও প্রকাশ করছে নাহ আইদা। বলতে নাহ পারা ভালোবাসা বুঝি এভাবেই কাঁদায় সবাইকে.? আতিশ ও আইদা দু'জনের চোখ দিয়েই আলাদা হয়েে যাওয়ার কষ্টে অশ্রু ঝড়ছে। হঠাৎ ভেতর থেকে আজরাফ ভাইয়ের চিৎকার "আগুন! আগুন! আইদা বেরিয়ে এসো। তোমার রুমে আগুন লেগেছে.। আইদা এদিকে এসো" হঠাৎ আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখে আইদার শরীর পাথর হয়ে যায়। মাথা কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়। কি করবে বুঝতে পারছে নাহ। অফিসে শুধুমাত্র আজরাফ ভাই আর আইদাই আছে। আগুন নেভানোর চেষ্টায় নিয়োজিত আছে আজরাফ। কিন্তু কিছুতেই আগুন নিভছে নাহ। বাইরে থেকে আগুন লেগেছে চেচামেচি শুনে আতিশ ছুটে আসে। অফিসের দরজায় পা রেখে দেখতে পায় আইদার রুমেই আগুন লেগেছে আর সেই রুমে আইদা আটকে আছে। দৌড়ে অফিসে ঢুকতে ঢুকতে বললো আতিশ "আজরাফ ভাই আপনি ফায়ার সার্ভিসে কল করুন আমি আইদাকে বের করছি" এই কথাটুকু বলেই আতিশ নিজের জীবনের পরোয়া নাহ করে আগুনে ঝাপিয়ে পরলো। রুমের ভিতরে তেমন কিছুই পাচ্ছে নাহ যা দিয়ে আইদাকে পেচিয়ে রুম থেকে বের করবে। একটু চোখ বুলিয়ে দেখার পর পাশেই একটা মোটা কাপড় দেখতে পেলো আতিশ। সেই কাপড়ে নিজেকে এবং আইদাকে একসাথে পেচিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো ওরা। রুম থেকে বেরিয়ে তিনজনই আগুন নিভানোর চেষ্টা করছে। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও নিভেনি আগুন। হঠাৎ আইদার মনে হলো ওর পার্সটা ভিতরেই রয়ে গেছে "আমার পার্স!! আমার পার্স!!" চিৎকার করতে করতে একদম আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে আইদা। আতিশ কোনো রকম আইদাকে সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করে "কি এমন আছে তোমার পার্সে ভিতর যার জন্য নিজের জীবনকে বাজি রেখে ভিতরে চলে যাচ্ছো পার্স আনতে.?" আইদা বাচ্চাদের মতো কান্না করতে করতে বলে "আমার মেকআপ বক্স!!" সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আতিশ আর আজরাফ দু'জনই খুক করে হেসে ফেলে আইদার কথা শুনে। ততক্ষণে ফায়ার সার্ভিসের লোক এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেছে।