পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ১৩
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৩ · ২৮ পর্বের মধ্যে ১৩
আকাশ সেজে উঠেছে গোধূলি রঙে। পশ্চিম আকাশের টকটকে লাল সূর্যটা ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে। দিনের আলো নিভু নিভু হয়ে ঘনিয়ে আসছে সন্ধ্যার আভাস। আইদার বানানোর ড্রেসের গাড়িটা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ হলো ক্যাম্পাসের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তানভীর। অপেক্ষা শুধু আইদার। কখন আইদা ক্যাম্পাসে আসবে আর তারা ভিতরে যাবে। হঠাৎ তানভীরের সামনে দুইজন লোক এসে দাঁড়ায়। লোক নয় ছেলে বললেই চলে তাদের। বয়স আনুমানিক ২৫-২৬ হবে। একজন একদম শুটকির মতো চিকন আর একজন হাতির মতো মোটা। এদের দুইজনের কাউকেই এর আগে কখনো ক্যাম্পাসে বা কলেজের আশেপাশে দেখেনি তানভীর। নিজের সামনে এভাবে দুইজন অপরিচিত লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তানভীরের অস্বস্তি হতে থাকে। অস্বস্তিবোধ থেকে তাদের প্রশ্ন করলো তানভীর "কে ভাই তোমরা?? এভাবে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে রইলে কেনো??" তানভীরের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিচ্ছে নাহ ছেলে দুইটা। তখনই সেখানে আইদা, আতিশ আর আজরাফ চলে আসে। আইদাকে আসতে দেখে খুশিতে হাত উঁচু করে ইশারা দিয়ে ওদের দিকে এগিয়ে যেতে লাগে তানভীর। এগোতে এগোতে বলে "ফাইনালি তুমি এলে। সেই কখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। চলো ফিতরে চলো" আইদা মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো "ইয়ে মানে! ভাইয়া, আপনাকে আর কষ্ট করতে হবে নাহ। আআআ! আতিশ আমার মডেল হিসেবে রেম্পওয়াল্ক করবে।" আইদার কথা শুনে তানভীর কষ্ট পেলেও হাসি মুখে বললো "যাক বাবা বাঁচা গেলো। আমার তোহ ভয় হচ্ছিলো। যাই হোক আতিশ ভাই যথেষ্ট হ্যান্ডসাম আছেন। আমরা আপনাকে নিয়ে আশাবাদী। বিশ্বাস আছে আপনি জিতবেনই।" তানভীরের কথা শুনে সবাই মুচকি হাসি দিলো। ওদের কথোপকথন শুনে তখনই সেখানে ক্যাম্পাসের কিছু ছ্যাঁচড়া মার্কা মেয়ে চলে আসে। ওরা বুঝতে পারে যে আতিশই হবে আইদার মডেল। ওরা এসেই আতিশের গাঁয়ের উপর হুমড়ি খেয়ে পরে। আর একেক জন একেক কথা বলতে লাগে। "ওহ মাই গড! এটাই তাহলে আইদার মডেল।" "কি হ্যান্ডসাম রেহ ভাই!" "এইযে মিস্টার হ্যান্ডসাম! তোমার নাম্বারটা পাওয়া যাবে?" "হ্যালো! আমি কিন্তু এখনো সিঙ্গেল আছি তুমি চাইলে আমরা মিঙ্গেল হতে পারি" আতিশ অনেকক্ষণ ধরেই বুঝতে পারছে আইদা এসব সহ্য করতে পারছে নাহ। যেকোনো মুহুর্তে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। ঝড় শুরু হওয়ার আগে যেমন চারিদিকের পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায় ঠিক তেমনই আতিশের আশেপাশে ছ্যাঁচড়া মার্কা মেয়েগুলো দেখে আইদাও নিশ্চুপ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিগড়ে যাওয়ার আগেই আতিশ সবকিছু সামলে নিয়ে সবাইকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। সেই সুযোগেই তানভীরকে বিরক্ত করা ছেলে দুইটা গাড়ির ভিতরে ঢুকে গাড়ি স্টার্ট করে ওখান থেকে গাড়ি নিয়ে পালায়। সবাই হা করে তাকিয়ে রইলো কি থেকে কি হয়ে গেলো মুহুর্তের মধ্যে। ওই গাড়ির ভিতরেই আইদার বানানোর সকল ড্রেসের কালেকশন। ওগুলো পাওয়া নাহ গেলে আইদা কিভাবে মডেল শো করবে। আইদাকে মন খারাপ করতে দেখে আতিশ আর আজরাফ ছুটে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে পরলো চোর ধরার জন্য। বের হওয়ার সময় আইদা আর তানভীরকে বলে গেলো সবকিছু সামলে নেওয়ার জন্য। অনেকক্ষণ হয়ে গেলো আতিশদের আসার কোনো নাম নেই। এদিকে একের পর এক কনটেস্টেন্ট পারফর্ম করে যাচ্ছে। আর একজনের পরই আইদার পালা। লাস্ট মডেলটাও মনোরম পারফর্ম করে সকলের মন জয় করো নিলো। এবাট আইদার পালা। কি করবে আইদা?? এখনো তোহ ওর ড্রেস আর মডেল কেউই এসে পৌঁছালো নাহ। এদিকে তানভীর বার বার আইদার ভেজা চোখে তাকায় আর মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে। স্টেজে বার বার করে আইদার নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। আইদা লজ্জা আর ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে সেই মুহুর্তেই তানভীর সাহস করে স্টেজে উঠে। স্টেজে দাঁড়িয়ে সর্বপ্রথম মাথা ঝুঁকে সবাইকে সালাম জানায়। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো "আমি কখনো রেম্পওয়াল্ক করিনি! আজ এখানে আমার আসার কথাও ছিলো নাহ। কিন্তু আমি এসেছি। এসেই যখন পরেছি পারফর্মেন্স অবশ্যই করবো। এতক্ষণ সব মডেলদের পারফরম্যান্সই দেখলাম, বিশ্বাস করুন আমি উনাদের মতো হাঁটতে পারবো নাহ তবে আমি নাচতে পারবো। খুব সুন্দর নাহ হলেও মোটামুটি চেষ্টা করতে পারি" এই বলে তানভীর থীম সোংগুতেই কোমর দুলিয়ে, হাত-পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেভাবে পারছে নেচে যাচ্ছে। নাচগুলো নাচ কম আর মঞ্চ নাটকের হাস্যকর দৃশ্য বেশি মনে হচ্ছিল। কেউই বিরক্ত হয়নি, সবাই তানভীরের হাস্যকর নাচটাকে বেশ উপভোগ করছিলো। ততক্ষণে মেইন ডোর দিয়ে প্রবেশ করলো আতিশ। পড়নে আইদার বানানো ড্রেস। আতিশকে এই ড্রেসে বেশ মানিয়েছে। সকলেই হা করে তাকিয়ে আছে আতিশের দিকে। আতিশকে দেখে আইদা যেনো চোখই ফেরাতে পারছে নাহ। ওদিকে স্টেজে নাচতে থাকা তানভীরও খুশিতে নাচ থামিয়ে দৌড়ে আসে আতিশের দিকে। আতিশ সময়কে উপেক্ষা করে ছুটে গিয়ে স্টেজে উঠে পরে। শুরু করে দেয় নিজের প্রতিভাযুক্ত হাঁটাচলা। শার্টের পকেটে গুঁজে রাখা কালো চশমাটা বের করে চোখে পড়ে নিলো আতিশ।একবার প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে সুদর্শন ভঙ্গিতে সামনের দিকে হেঁটে আসে আবার কখনো খোলা হাওয়ায় হাত মেলে হাঁটছে আতিশ। অন্যান্য প্রতিযোগিদের তুলনায় সবাই আতিশের পারফরম্যান্সটাই বেশি পছন্দ করেছে এবং উপভোগ করেছে। তারচেয়ে বড় কথা সবাই আইদার মডেল পছন্দ করেছে তার কারণ আইদার স্ক্রিপ্ট ছিলো সবচেয়ে আলাদা। রেম্পওয়াল্কের শুরুতেই ছিলো অসাধারণ নাচ সবশেষে এক সুদর্শন যুবকের রেম্পওয়াল্ক। মন জয় করেছে সকল জর্জদের।
----------------------
"কি বলেছিলাম নাহ, আতিশ কখনো হারতে শিখেনি। হলো তোহ বিশ্বাস??" চাঁদনী রাতের গাছ তলায় আইদার পাশে গিয়ে বসতে বসতে বললো আতিশ। "হ্যাঁ! বিশ্বাস তোহ আমার প্রথম থেকেই ছিলো তোমার উপর।" মুচকি হেসে আকাশের দিকে মুখ করে বললো আইদা। "প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে কেমন লাগছে??" হাল্কা উঁকি দিয়ে আইদার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো আতিশ। "হুম ভালোই! এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার স্বপ্ন ছিলো আমার। আর আজ তোমার জন্য সেটা পূরণ হলো।" আতিশের চোখের দিকে তাকিয়ে মুহুর্তেই চোখ নামিয়ে বললো আইদা। "বলেছিলাম নাহ, আমরা একসাথে থাকলে পৃথিবীর সকল কাজ সহজ হয়ে যাবে?" আইদার হাতে হাত রেখে বললো আতিশ। আচমকা হাতে কারো স্পর্শ পেয়ে চমকে উঠলো আইদা। সাথে সাথে হাত ঝাড়া দিয়ে আতিশের হাত সরিয়ে দিলো আইদা। "সে যাই হোক! এবার আমার পাওনা আমাকে বুঝিয়ে দাও" উঠে দাঁড়িয়ে বললো আতিশ। "মানে??" জেনেও নাহ জানার মতো বললো আইদা। "চ্যালেঞ্জ করেছিলে নাহ, আমি যদি জিততে পারি তাহলে যা চাইবো তাই দিবে?" আড়চোখে তাকিয়ে বললো আতিশ। "ওহ্! হ্যাঁ। বলো কি চাও?" বললো আইদা। "ভালোবাসা! ভালোবাসো আমাকে। তোমার সবটা দিয়ে ভালোবাসতে হবে আমাকে। নিঃশ্বাস প্রশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস করো আমাকে।" এক দমে বললো আতিশ। আতিশের চোখের দিকে ভেজা ভেজা চোখে তাকিয়ে নরম কণ্ঠে বললো আইদা
"ভালো তোহ বাসতে চাই তোমাকে কিন্তু ভয় হয় যদি ছেড়ে চলে যাও। বিশ্বাসও করতে চাই তোমাকে সবটা দিয়ে তবে আতঙ্কে থাকি যদি প্রথম দিনের মিথ্যা অভিনয়ের মতো সারাজীবন এভাবেই ঠকাও।"
"তুমি একটা বার শুধু বলো আমাকে ভালোবাসো, আমি সবকিছু ছেড়ে দিবো শুধু তোমারই জন্য"
"আচ্ছা আতিশ! তুমি কি সত্যি সত্যি ওইদিন চলে যাচ্ছিলে?"
"কোনদিন??"
"ওইযে যেদিন আমার অফিসে আগুন লাগলো"
"হ্যাঁ! আগুন নাহ লাগলে আর কখনোই ফিরতাম নাহ। নাাহ মিথ্যা কথা!! তুমি যদি একটা বার ডাক দিতে আমি ফিরতাম।"
"আতিশ! আমাকে কোনোদিন কষ্ট দিও নাহ প্লিজ" এই বলে আতিশের কাঁধে মাথা রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো আইদা।
--------------------
ডেভিল বেলিয়ালকে হারানোর সাথে মার্থাও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো আরিয়ানের কোলে। মারা যাওয়ার পূর্ব মুহুর্তে মার্থার শেষ কথা ছিলো, "ওহ্ মাই গড!!শী ইজ কামিং ইন দ্য প্যারালাল ইউনিভার্স। সে এসে গেছে আমার ফিরে আসার নতুন অধ্যায় নিয়ে আসছে। আমার শক্তির উৎস এসেছে এবার আমাকে যেতে হবে। গুড বাই দ্য হলি স্পরিট। মেই গড সেভ ইউ।" তারপরেই ইহকাল ও পরকালের মধ্যবর্তী জীবন থেকে রঙিন আভার মতো বিদায় নিলো মার্থা।
"আয়াত! আমি আয়াত! চিশতি কুরেশির একমাত্র মেয়ে এবং পঞ্চশক্তির উত্তরাধিকারী আইদার পুনর্জন্ম। আমি সময়ের চক্র ঘুরে ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে এসেছি আপনার হাতে থাকা রহস্যময় বইটির সাহায্যে শীতাক্ষীকে হত্যা করার উপায় জানতে। বাকি পরিচয়টুকু অজানাই থাক, আপনি নিজেই জানতে পারবেন আমি কে। তবে আমার চেহারা ভুলবেন নাহ কিন্তু। আইদার সাথে আপনারও দেখা হবে।" আইদাআআআআআআআ!!! হঠাৎ চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে আরিয়ানের। ৩০ বছর আগের সেই রাতের ঘটনাগুলো এখনো মাঝে মাঝে সাড়া জাগিয়ে তোলে আরিয়ানের মনে। আরিয়ানের চিৎকারে পাশ থেকে চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসলো অরিন "কি হলো! এত রাতে চিৎকার করছো কেনো?" কাঁপা কাঁপা গলায় উত্তর দিলো আরিয়ান "কে জানে সেই মেয়েটির সাথে কবে দেখা হবে আমাদের?" বিরক্তি সুরে বললো অরিন "কোন মেয়েটির কথা বলছো তুমি?" "আইদা!! চিশতি কুরেশির একমাত্র মেয়ে। যে হবে পঞ্চশক্তির উত্তরাধিকারী।" ফিসফিসিয়ে বললো আরিয়ান। "উফফ! আরিয়ান তুমি এসব বন্ধ করবে কবে বলো তোহ?? রাত কয়টা বাজে খেয়াল আছে কোনো?? এখন একটু শান্তি দিবে প্লিজ" চেঁচাতে চেঁচাতে বললো অরিন। "তুমি তোহ আগে এমন ছিলে নাহ অরিন! আগে তোহ আমার সব কথা মন দিয়ে শুনতে। হঠাৎ কি হলো তোমার?? তুমি এমন বদলে গেলে কিভাবে??" অবাক দৃষ্টিতে অরিনের দিকে তাকিয়ে বললো আরিয়ান। "দেখো এসব কথা বলে সময় নষ্ট করতে পারবো নাহ। আর তোমার ছেলে কোথায়?? ফিরেছে সে??" চোখ রাঙিয়ে বললো অরিন। "আমার ছেলে মানে? আতিশ কি তোমার কিছু হয় নাহ??" আস্তে করে জবাব দিলো আরিয়ান। "ও আমি কিছু হবে কেনো?? ও যার সন্তান সে তোহ ওকে জন্ম দিয়েই মারা গেছে তোমাকে ভালোবেসে বাধ্য হয়ে ওকে বড় করতে হয়েছে আমাকে।" উল্টো পাশে শুয়ে জবাব দিলো অরিন। "বড় তুমি করোনি অরিন। ভাগ্যিস ইরিন আর সিমনও আমাদের সাথেই রয়ে গেছে নয়তো আমার ছেলেটা কোনোদিন মায়ের আদর পেতো নাহ। ইরিনের জন্যই আতিশ আজ এই পর্যন্ত এগিয়েছে। তুমি তোহ সারাজীবন নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থেকে গেলে। আর আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছো হাজারটা নিয়ম।" বুক ফাটা কষ্ট নিয়ে বললো আরিয়ান। "অন্যের সন্তান নিয়ে পরে আছে বলেই তোহ তোমার শালীর কোনো সন্তান নেই!" মুখ বাকিয়ে বললো অরিন। "তোমারও কিন্তু কোনো সন্তান নেই অরিন। তোমাদের দুই বোনের কারোরই সন্তান নেই তবে তোমাদের মধ্যে পার্থক্য কি জানো?? ইরিন সবাইকে ভালোবেসে আপন করতে জানে আর তুমি তার বিপরীত।" মুখের উপর কড়া জবাব দিলো আরিয়ান। "দেখো রাত করে তোমার সাথে মুখ লাগাতে চাই নাহ। যাও তোহ এখান থেকে আমাকে ঘুমাতে দাও" আরিয়ানও অরিনের কথার কোনো উত্তর নাহ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে যায়। অল্প সময়েই শহরের ধনী ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছে আরিয়ান এবং তার পুরো পরিবার। ইরিন আর ইরিন দুই বোন এবং তাদের হাসবেন্ড একই সাথে বিশাল অট্টালিকা বানিয়েছে শহরের বুকে। ৩ বছর আগে ডিবি পুলিশ থেকে রিটায়ার্ড হয়েছে অরিন বাকি জীবনটা পেনশন দিয়েই কাটিয়ে দিবে। তার উপর আরিয়ান হলো শহরের বড় বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন। তাদের এত অর্থ সম্পদ আছে যে অরিনের পেনশনের টাকা নাহ নিলেও কিছুই হবে নাহ। অন্য দিকে সিমন এখনও ডাক্তারি করে যাচ্ছে। তার পাশাপাশি আরিয়ানের সাথে কিছু বিজনেস সামলাচ্ছে এবং নিজের নামে ও ইরিনের নামে অনেকগুলো ফান্ডও করেছে। সবাই যে যার মতো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত আর এদিকে ইরিন পরে আছে সংসার নিয়ে। নার্সিং ছেড়ে দিয়ে জীবন কাটিয়ে দিলো আতিশ এবং তাদের পুরো বাড়ি ও বাড়ির সদস্যদের হাসি খুশির কথা ভেবেই। তাদের বিশাল অট্টালিকার নাম দিয়েছে "খান আনসারী ভিলা" আরিয়ান এবং সিমনের বংশ অনুযায়ী এটার নামকরণ হয়েছে। অরিনের সাথে ঝগড়া করে রুম থেকে গার্ডেনে এসে দাঁড়ালো আরিয়া। এসে দেখে দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে সিমন। সিমনকে দেখে আরিয়ান গুটিগুটি পায়ে হেঁটে সামনে গিয়ে বললো "কি ব্যাপার ঘুমাওনি এখনো??" "নাহ! আতিশ এখনো ফেরেনি। আর এমনিতেও ভালো লাগছে নাহ তাই একটু বাইরে এসে বসলাম। তুমি ঘুমাওনি কেনো?" আরিয়ানের আগমনে দোলনা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো সিমন। "অরিনের সাথে আবারও ঝগড়া করলাম। বাদ দাও এসব, ইরিন কোথায়?" একটু কাছে এগিয়ে সিমনের কাঁধে হাত রেখে দোলনায় বসতে বসতে বললো আরিয়ান। "ইরিনকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে এলাম। আতিশকে বড্ড ভালোবেসে ফেলেছে ইরিন। ছোট থেকে কোলে পিঠে করে বড় করেছে। ছেলেটা তোমার হলে আমার এবং ইরিনের চোখের মণি হলো আতিশ। এসব আর নতুন করে কি বলছি তোমাকে তুমি তোহ সবটাই জানো, তা কি হয়েছে আবার নতুন করে? রাগারাগি করেছে কেনো তোমরা??" দোলনায় আরিয়ানের এক পাশে বসে বললো সিমন। "রাজা এলাহাবাদের প্রাসাদের সেই ঘটনা'টা এখনো মাঝে মাঝে আমার স্বপ্নে আসে। অরিনকে তাই বললাম, কি জানি সেই মেয়েটার সাথে কবে আমাদের দেখা হয়? ব্যস রাগারাগি শুরু করে দিলো!" শান্ত গলায় বললো আরিয়ান। "সেই মেয়েটা মানে?? চিশতির মেয়ের কথা বলছো?" আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো সিমন। "হ্যাঁ! চিশতির মেয়ের কথাই বললাম। মেয়েটা বলেছিলো, ওর চেহারা যেনো আমি নাহ ভুলি। আর ও হবে পঞ্চশক্তির উত্তরাধিকারী। শীতাক্ষীকেও সেই মারতে পারবে।" স্থির হয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে বললো আরিয়ান। "পঞ্চশক্তি আর শীতাক্ষীর বিষয়টা আমি এখনো ক্লিয়ার নাহ। আরিয়ান!! তুমি ওই রহস্যময় বইটা থেকে জানতে পারবে এগুলোর কাহিনী কি??" উৎসুক সুরে বললো সিমন। "কিভাবে সম্ভব? সেদিনের পর বইটা অরিন কোথায় রেখেছে আমি নিজেও জানি নাহ।।" দোলনা থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতে বললো আরিয়ান। "তাহলে আর কি করার!! সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের" সিমনও দোলনা থেকে নেমে আরিয়ানের সাথে হাঁটতে হাঁটতে বললো।