পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ০৮
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৮ · ২৮ পর্বের মধ্যে ৮
নতুন একটা দিনের শুরু। নতুন এক সূর্যোদয়। বাতাসে বইছে বসন্তের মিষ্টি তাজা গন্ধ। এদিকে দুশ্চিন্তায় সারারাত ঘুমতে পারেনি চিশতি। চিশতিকে সারারাত দুশ্চিন্তা করতে দেখে ঘুমাতে পারেনি অলিভিয়া। অলিভিয়া জন্মগত অস্ট্রেলিয়ান। ভিন্ন ধর্মী থাকা সত্ত্বেও চিশতিকে ভালোবেসে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে। শুধু তাই নয় চিশতির জন্য ছেড়েছে নিজের জন্মভূমিও। ফ্যামিলির বিরুদ্ধে গিয়ে চিশতির হাত ধরে এসেছে বাংলাদেশে। অভাবের সংসারে যেনো এদের ভালোবাসাটাই একমাত্র অটুট রয়েছে। আর রয়েছে ওদের দু'জনের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও নৈতিকতা যা সবসময় আইদা বহন করে চলেছে। মহা চিন্তা মাথায় বহন করা সত্ত্বেও নিজেকে সামলে নিয়ে আইদাকে কল করলো চিশতি। একের পর এক রিং হয়ে চলেছে কিন্তু কেউই কল রিসিভ করছে নাহ। এভাবে অনেকক্ষণ রিং হওয়ার পর কল রিসিভ হয়। "হ্যালো!! আসসালামু আলাইকুম। 'New Life Girls Hostel' থেকে বলছি" কণ্ঠে ভেসে আসলো অপর প্রান্ত থেকে। "হ্যাঁ, হ্যালো!! ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আ-আমি চিশতি বলছি। ফার্স্ট ইয়ারের আইদার বাবা। ওকে একটু দেওয়া যাবে??" বললো চিশতি। "হ্যাঁ! হ্যাঁ! আপনি একটু লাইনে থাকুন আমি এক্ষুনি ওকে ডেকে দিচ্ছি।" বললো অপর প্রান্তের মেয়েটা। বেশ কিছুক্ষণ পর আইদা এলো। "হ্যালো!! আসসালামু আলাইকুম। বাবা!! কেমন আছেন.? আর আম্মি কেমন আছেন.? এতদিন পর আমার কথা মনে পরলো আপনাদের। আমাকে তোহ ভুলেই গেছেন। ভুলেই গেছেন যে আমাদের একটা মেয়ে আছে" কাঁদো কাঁদো গলায় অভিমানী সুরে বললো আইদা। "ওয়া আলাইকুমুস সালাম!! আলহামদুলিল্লাহ আমরা সবাই ভালো আছি মা। তুই কেমন আছিস.? আর আমাদের ভুল বুঝিস নাহ মা, আমরা তোকে ভুলিনি। তুই তোহ জানিসই তোর৷ আম্মি অসুস্থ ওর যত্ন নিতে নিতে অন্য কোনো দিকই সামলাতে পারি নাহ।" অসহায় কণ্ঠে বললো চিশতি। "বুঝতে পেরেছি বাবা!! আপনি একদম চিন্তা করবেন নাহ আমি এখানে খুব ভালো আছি। আর আমি একটা টেইলর শপ জব পেয়েছি। এখন থেকে সেখানেই পার্টটাইম জব করবো।" এক গাল মুচকি হেসে জবাব দিলো আইদা। "এই!! আমার কাছে দাও নাহ একটু!! আমিও একটু কথা বলবো।" চিশতির কান থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে বললো অলিভিয়া। "হ্যালো!! আইদা মা কেমন আছিস.?" বললো অলিভিয়া। "আসসালামু আলাইকুম আম্মি! কেমন আছেন.? আর আমাকে নিয়ে একদম চিন্তা করবেন নাহ আমি ঠিক আছি।" বললো আইদা। "ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ মা আমিও ভালো আছি। তোর সাথে জরুরি কথা ছিলো!" বললো অলিভিয়া। "হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলুন নাহ, কি কথা.?" অগাধ জানার ইচ্ছে নিয়ে বললো আইদা। "তুমি হয়তো ভুলে গেছো, সামনেই তোমাদের বাপ বেটির জন্মদিন। আজ ১৫ই ফেব্রুয়ারী। আগামী ২১শে ফেব্রুয়ারী যে তোমাদের জন্মদিন ভুলে যেও নাহ কিন্তু। ১৯শে ফেব্রুয়ারী সকাল সকাল চলে আসবে বলে দিলাম।" টিপিটিপি হেসে বললো অলিভিয়া। "দেখেছেন!! আমি একদমই ভুলে গেছি। আচ্ছা ঠিক আছে আমি ১৯ তারিখেই আসবো। আআ!! আহহ্!! আম্মি!! কলেজে যেতে হবে। এখন রাখি।" এই বলে কল কেটে দিলো আইদা। আইদার সাথে কথা বলা শেষ হলে অলিভিয়া হাসি মুখ নিয়ে চিশতির দিকে তাকিয়ে বলে "দেখেছো!! তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছিলে, আমাদের মেয়ে একদম ঠিক আছে। আর শুনো ১৯ তারিখ ও আসছে। তুমি এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দাও তোহ। তোমাদের জন্মদিন কিভাবে সেলিব্রেট করবে সেটা চিন্তা করো। ২১ তারিখ আমাদের মেয়ে ২০ বছর পূর্ণ হবে আর তোমার ৫১! হা!হা!হা!" হাসতে হাসতে বললো অলিভিয়া। "অলিভিয়া!! বিষয়টা তুমি যতটা সহজ ভাবছো ততটাও সহজ নাহ! যাই হোক এসব বাদ দাও তুমি বুঝবে নাহ। একটা কথা শুনো, এবার আইদা হোস্টেল থেকে আসলে ওর বিয়ে দিয়ে দিবো।" বললো চিশতি। "মানে.? এভাবে হুট করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেই হলো নাকী.? আইদারও তোহ মতামতের প্রয়োজন আছে নাকী.?" ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললো অলিভিয়া। "আমার মেয়ের উপর আমার আস্থা আছে, ও জানে আমি যা করবো ওর ভালোর জন্যই করবো। আর ছেলে আমাদের জানা শোনাই। আমি জানি আইদারও পছন্দ হবে।" মলিন কণ্ঠে বললো চিশতি। "জানা শোনা মানে.? ছেলের নাম কি.? বাবা কি করে.?" আড়দৃষ্টিতে চিশতির দিকে তাকিয়ে থেকে বললো অলিভিয়া। "হুজুর আল মূসাকে মনে আছে তোমার.?" অলিভিয়াকে প্রশ্ন করলো চিশতি। "হ্যাঁ মনে আছে! কিন্তু হঠাৎ উনার কথা জিজ্ঞেস করলে কেনো.?" বললো অলিভিয়া। "উনার ছেলে উৎসের কথা মনে আছে তোমার। দেখতে শুনতে কিন্তু খারাপ নাহ। আমাদের আইদার সাথে মানাবে কিন্তু।" বললো চিশতি। "উৎস!! ছেলে তোহ ভালোই কিন্তু ও আইদার থেকে ১০ বছরের বড়।" বললো অলিভিয়া। "আজকাল বয়স কোনো ব্যাপার নাহ। ছেলে প্রতিষ্ঠিত। ভালো ব্যাবসা করে। ভালো ফ্যামিলির। তাছাড়া ওর বাবা মারা যাওয়ার আগে বলে গেছিলো আমি যেনো আমাদের আইদার সাথে উৎসের বিয়ে দি।" দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো চিশতি। "তাহলে আর কি!! আমারও কোনো আপত্তি নেই। আইদাকে জিজ্ঞেস করে দেখো যদি ও রাজি হয় তাহলে ওদের বিয়ে দিয়ে দিও। তার আগে উৎসের মায়ের সাথে কথা বলে নিতে হবে। যতই মূসা হুজুর আর তোমার সাথে কথা হোক নাহ কেনো, যদি কোনোমতে উৎস আর উৎসের মা এই বিয়েতে রাজি নাহ হয়.?" সাবধান করে বললো অলিভিয়া। "এটা নিয়ে তুমি চিন্তা করো নাহ। আমি আজকেই উনার সাথে কথা বলবো এই বিষয়ে।" অলিভিয়াকে অভয় দিয়ে বললো চিশতি।
---
কলেজের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে ভেবে তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ করে ড্রেস চেঞ্জ করে বেরিয়ে পরলো আইদা। কোনোদিনই সকালে হোস্টেল থেকে ব্রেকফাস্ট করে বের হয় নাহ। প্রতিদিনই কলেজের ক্যান্টিন থেকে কিছু নাহ কিছু খায়। আজও অন্য দিনের মতোই নাহ খেয়ে বেরিয়ে গেলো আইদা। হাফ টাইম কলেজ করে তারপর আবার টেইলর শপে যেতে হবে। ৩দিন পর কলেজে ফ্যাশন শো কম্পিটিশন আছে। সেখানে অনেকেই নাম লিখিয়েছে। তার সাথে আইদাও। সেজন্য কিছু ড্রেস ম্যাক করবে। মডেল আগে থেকেই যোগাড় করা আছে। এবার শুধু ড্রেস শেলাই আর কম্পিটিশনের অপেক্ষা। তার উপর সকাল সকাল বাবা মায়ের সাথেও কথা হয়েছে। আজ আইদার খুশি কে দেখে। মায়া মাখা মুখে এক গাল হেসে বেরিয়ে গেলো কলেজের উদ্দেশ্যে। হোস্টের পথ অতিক্রম করে মেইন রোডে এসে পা রাখতে নাহ রাখতে সামনে থেকে আতিশ ওর পথ আটকায়। এক পা দু পা করে পিছতে পিছতে দেওয়ালের সাথে আইদার পিঠ ঠেকে যায়। আইদা যেনো কোথাও পালাতে নাহ পারে সেজন্য আতিশ ওর দুই হাত দুই দিকে দিয়ে আটকে রেখেছে। "তুমি!! এখানেও.? তুমি বুঝতে পারছো নাহ, আমি তোমাকে জাস্ট সহ্য করতে পারি নাহ। আর আজ তোহ তুমি লিমিট ক্রস করে ফেলেছো। আমার হোস্টেলের সামনে চলে এসেছো। তুমি জানো, যদি কেউ আমাদের এভাবে দেখে ফেলে সবাই কি ভাববে.?" এক দমে বললো আইদা। "কুল! কুল! মাই ডিয়ার। তুমি কেনো বুঝো নাহ, তোমাকে নাহ দেখলে আমার মনে শান্তি লাগে নাহ। তোমার এই জেদ, এই রাগান্বিত কণ্ঠ। রসগোল্লার মতো বড় বড় দুইটা চোখ এগুলোই তোহ বার বার তোমার কাছে আমাকে টেনে আনে। তুমি জানো আমার বাবাও এক নীল নয়না মেয়ের প্রেমে পরেছিলো। আজ বুঝলাম নীল নয়না মেয়েদের চোখে আসলেই জাদু আছে তা নাহলে এত মেয়ে থাকা সত্ত্বেও আমি কেনো তোমার কাছে আসি। কানেকশন তোহ আছেই" বললো আতিশ। "কোনো কানেকশন ফানেকশন নেই। পথ ছাড়ো, আমাকে কলেজে যেতে হবে।" মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললো আইদা। "আচ্ছা! ঠিক আছে চলে যাও।" দেওয়াল থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে বললো আতিশ। আইদা এক পলক আতিশের দিকে তাকিয়ে তারপর চলে আসছিলো। দুই পা এগোতেই পিছন থেকে আইদার হাত টেনে ধরে ফেলে আতিশ। " উফফ!! আতিশ!!! লাগছে। ছাড়ো বলছি" ফিসফিস কণ্ঠে বললো আইদা। "যদি নাহ ছাড়ি কি করবে.? সারাজীবন এভাবেই ধরে রাখতে চাই তোমাকে। প্লিজ মানা করো নাহ। ভালোবাসি তোমাকে বুঝো নাহ কেনো??" আকুল মিনতি কণ্ঠে বললো আতিশ। "দেখো! এসব শোনার টাইম নেই আমাকে যেতে হবে। কলেজের জন্য লেইট হয়ে যাচ্ছে।" বললো আইদা। "বেশ যাও তবে।" এই বলে আইদার হাতে একটা কগজের টুকরো ধরিয়ে দিলো আতিশ। "কি এটা.?" অবাক হয়ে আতিশের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো আইদা। "আমার নাম্বার। আমার কথা মনে পরলে কল দিও!" মুচকি হেসে বললো আতিশ। আইদা কাগজের টুকরোটা কুচিকুচি করে ছিড়ে আতিশের মুখের উপর ছুড়ে দিয়ে বললো"দরকার নেই আমার। অন্য কোনো মেয়ে দেখো যে তোমার এসব ফালতু নাটকের অংশীদার হতে পারে। আমার জীবনে মিথ্যাবাদীদের কোনো জায়গা নেই। আর জায়গা নেই তাদের যারা অন্য ফিলিংস এর সাথে খেলা করে।" আতিশকে কথা শুনিয়ে চলে গেলো আইদা। যেতে যেতে ডান হাতের উল্টো পাশ দিয়ে নিজের চোখ মুখে মনে মনে বললো "বিশ্বাস তোহ তোমাকে মন থেকে করতে চাই আতিশ। কিন্তু ভয় হয় যদি তুমি সেই বিশ্বাস ভেঙ্গে ফেলো। তোমরা বড়লোক মানুষ তোমাদের কাছে আমাদের মতো গরীবরা শুধু খেলার পাত্র। তারপরও কেনো জানি নাহ তোমাকে খুব করে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় আমার। জানি নাহ তোমার জন্য আমার কিসের এত টান। যেটুকু সময় তুমি আমার সাথে কথা বলো ওইটুকু সময় আমার অনেক আনন্দ হয়। ইচ্ছে হয় সারাজীবন তোমাকে আমার জীবনের সাথে বেঁধে রাখি।"
-----
কলেজ শেষে অফিসে এসে পা রাখতে নাহ রাখতেই আজরাফ ভাই আইদাকে ডাক দেয়। "আইদা!! কথা আছে এদিকে এসো।" একটু ইতস্তত হয়ে ঢোক গিলে দাঁড়িয়ে রইলো আইদা। কি জানি আবার কোনো ভুল করেছে নাকী। হঠাৎ এভাবে কেনো ডাকলো বুঝতে পারছে নাহ আইদা। পা টিপে টিপে আজরাফ ভাইয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো আইদা। "জ্বি আজরাফ ভাই। বলুন!!" মিটিমিটি কণ্ঠে বললো আইদা। "আতিশ স্যারের স্যুট কমপ্লিট হয়েছে.?" বললো আজরাফ। "ইয়ে মানে, নাহ ভাইয়া এখনো হয়নি। আমি এক্ষুনি বানিয়ে দিচ্ছি।" বললো আইদা। "ওহ্! কালকেই কিন্তু উনার স্যুট বানিয়ে দিতে হবে। একটু তাড়াতাড়ি বানানোর চেষ্টা করো।" নরম কণ্ঠে বললো আজরাফ। আজরাফ ভাইয়ের সাথে কথা বলে নিজের রুমে চলে গেলো আইদা। কিছুক্ষণ রুমের মধ্যে হাটাহাটি করে কি করবে ভাবতে থাকে আইদা। নখ খুঁটতে খুঁটতে ভাবলো আতিশকে কল করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। মেশিনের সামনে গিয়ে চেয়ারে বসে ফোনে আতিশের নাম্বারটা তুললো। একবার ভাবলো কল করবে আরেকবার ভাবলো কল করবে নাহ। ভারি দুটানায় পরে গেলো আইদা। চাকরি রাক্ষা করার স্বার্থে একটা দর্জি হিসেবে কাস্টমারকে কল করাই যেতে পারে। নিজেকে এসব বুঝ দিয়ে আতিশের নাম্বার ডায়াল করলো আইদা। প্রথম বার রিং হতেই কল রিসিভ হয়ে গেলো। "হ্যালো!! কে বলছেন.?" ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জবাব দিলো আতিশ। কোনো কথা নাহ বলে চুপ করে আছে আইদা। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে নাহ। "হ্যালো!! কে বলছেন.? হ্যালো!!!" তারপরও আইদা চুপ করে আছে। এপাশ থেকে কোনো জবাব নাহ পেয়ে আতিশ কল কেটে দিলো। আইদা পরে গেলো মহা সংশয়ে। কি করবে এবার ভেবে কূল পাচ্ছে নাহ। মনে মনে আবারও নিজেকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আতিশের নাম্বারে আবারও কল দিলো। এবারও প্রথম বার রিং হতেই কল রিসিভ হয়ে গেলো "এইযে দেখুন কথা নাহ বললে শুধু শুধু কল দিয়ে ডিসটার্ব করবেন নাহ!" বললো আতিশ। "আতিশ!!" জবাব দিলো আইদা। "আইদা!! নাম্বার কোথায় পেলে.? আমি জানতাম আমাদের মধ্যে কোনো নাহ কোনো কানেকশন তোহ আছেই তা নাহলে দেখো তুমি আমার নাম্বার খুঁজে বের করে আমাকে কল দিলে।" উদগ্রীব হয়ে বললল আতিশ। "ফালতু কথ বাদ দিবে। একটা দরকারে কল করেছি।" গম্ভীর কণ্ঠে বললো আইদা। "সে যে কারণেই কল দাও নাহ কেনো। কল তোহ করেছো। এবার বলো কি দরকার..?" মুচকি হেসে বললো আতিশ। "তোমার স্যুট বানাতে হবে। একটু অফিসে আসতে পারবে তোমার মাপটা লাগবে।" শান্ত কণ্ঠে বললো আইদা। "হুহ! হুহ! আব আয়া উট পাহাড় কে নিচে। তখন যে কাগজে লিখে দিলাম তুমি তোহ ছিড়ে আমার মুখে ছুঁড়ে মারলে।" বললো আতিশ। "কি!! ওইটাতে তোমার কোর্টের মাপ ছিলো? তাহলে বললে কেনো ওটাতে তোমার নাম্বার ছিলো?" অবাক কণ্ঠে বললো আইদা। "কেনো বলতে পারি নাহ.? যাই হোক!! আমি এখন ব্যস্ত আছি যদি মাপ নিতে হয় তাহলে আঙ্কেল হিলমির গ্যারাজে এসে মাপ নিয়ে যাও আমি আসতে পারবো নাহ।" এতটুকু বলেই কল কেটে দিলো আতিশ। আইদা তোহ তেলে বেগুনে একাকার। মনে মনে ভাবছে এই ছেলেটা নাকী তার জন্য জন্য পাগল। আর এতটুকু করতে পারছে নাহ। তার উপর মুখের উপর কলটা কেটে দিলো। এরপর থেকে বুঝাবো ইগ্নোর কি জিনিস। আমাকে ইগ্নোর করা।