পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ০১
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০১ · ২৮ পর্বের মধ্যে ১
তুফানি রাত। চারিদিকে কালো ঘন অন্ধকার। বাতাসে মাটির গন্ধ আর আকাশে বাজ ভাঙ্গার শব্দ। প্রবল গতির হাওয়ায় গাছপালাগুলো একবার এদিকে তোহ আরেকবার সেদিকে তুলছে। বিয়ে বাড়ির সবাই কনে খুঁজতে ব্যস্ত। এই তুফানি রাতে, বাইরে প্রবল হাওয়া বইছে তার মধ্যে একজন সাধারণ মানুষ কোথায় যেতে পারে। সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কেউ নূরীকে পেলো নাহ। সবাই ভেবে নিলো নূরীকে কেউ অপহরণ করেছে। অপহরণ নাহ করলে নূরী কোথায় যাবে, এমনটাও নাহ যে, তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাই জন্য সে বিয়ে নাহ করে পালাবে। তার পছন্দ মতোই তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সে যাকে পছন্দ করতো তার সাথেই বিয়ে ঠিক হয়েছে। হুট করে বিয়ে বাড়ি থেকে কনে উধাও হয়ে যাওয়াটা মোটেও কারো ভালো ঠেকছে নাহ। সকলের চোখে মুখে গভীর চিন্তা। সবার মাথায় একটাই প্রশ্ন, আজ যদি নূরীকে খুঁজে পাওয়া নাহ যায় তাহলে তারা চিশতির বাড়ি অর্থাৎ বরের বাড়িতে কি জবাব দিবে।
বাইরে প্রচন্ড তুফানের মাঝে মাঝে বাজ পড়ার আলোয় চারিদিক স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই আলোয় দেখা যাচ্ছে কিছুটা দূরে দু'জন ছায়া মানব একে অপরের সাথে কথা বলছে।
"তুমি যেই শক্তি লোভে চিশতিকে বিয়ে করতে চাচ্ছো সেই শক্তি কিন্তু চিশতির মধ্যে আর নেই। চিশতি হাজার চেষ্টা করলেও ওর হারিয়ে যাওয়া শক্তি আর ফিরে পাবে নাহ। এখনো সময় আছে যা করার ভেবে চিন্তে করো। পরে আফসোস করবে বলে দিলাম।" সতর্ক করার জন্য দ্বিতীয় লোকটির উদ্দেশ্যে প্রথম লোকটির বাণী ছিলো কিছুটা এই রকম। "আপনাকে কে বলেছে আমি চিশতির শক্তির লোভে ওকে বিয়ে করছি..? আপনি হয়তো ভুলে গেছেন ওর আর আমার জন্ম জন্মান্তরের বন্ধন। আমাদের জন্মই হয়েছে একে অপরের জন্য।" রাগে ক্রুদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় লোকটি প্রথম লোকটির মুখের উপর জবাব দিলো। "হা!হা!হা! এই মেয়ে! তুমি নিজেকে অনেক চালাক ভাবো তাই নাহ.? তুমি হয়তো ভুলে গেছো শীতাক্ষীকে ধোঁকা দেওয়া এত সহজ নাহ। তুমি যে গোপনে শীতাক্ষীর সাথে যুক্তি করেছো এটা আমিও জানি" দ্বিতীয় লোকটির গোপন সত্যি ফাঁস করে দিয়ে প্রথম লোকটি হাসতে শুরু করে। আমতা আমতা করে দ্বিতীয় লোকটি জবাব দিলো "আ-আ-রেএ আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন! আ-আমি তো-হ আগে থেকেই জানি আপনি আ-মার ব্যাপারে সব জানেন। আ-মি শুধু একটু মজা করলাম। তোহ যাই বলুন, আমি কিন্তু সত্যি সত্যি চিশতিকে ওর শক্তির জন্যই বিয়ে করছি। আর যেহেতু ওর মধ্যে কোনো শক্তি নেই সেক্ষেত্রে ওকে বিয়ে করাটা বিলাসিতা" প্রথম লোকটি আবারও হাসতে হাসতে বললো "তাহলে! চলো আমার সাথে। আমাদের কালো শক্তির ডেরায়। যেখানে আমরা সবাই মিলে শীতাক্ষীর গোলামী করতে পারবো।" দ্বিতীয় লোকটিও হাসতে হাসতে বললো "চলুন" তখন আকাশ ভেঙে বাজ পড়লো আর সেই বাজ পড়ার আলোয় স্পষ্ট ওই দুই ব্যক্তির মুখ দেখা গেলো। প্রথম জন সাদিয়া। যে ছিলো চিশতির সবচেয়ে কাছের বন্ধু আর দ্বিতীয় ছিলো নূরী। যাকে নিয়ে চিশতি ঘর বাঁধার স্বপ্ন বুনছিলো। নিমিষেই যে তার এই স্বপ্ন এভাবে ভেঙে যাবে সেটা এখনো চিশতি বুঝতে পারেনি। সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে নূরী সাদিয়ার সাথে তাদের কালো শক্তির ডেরায় চলে গেলো শীতাক্ষীর গোলামী করতে।
------------------------------
৬০ বছর পর.....
আজ অমাবস্যার রাত। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তার মধ্যে লোডশেডিং। অন্য দিনের তুলনায় আজ একটু বেশিই গরম পড়েছে। সিলেট থেকে বগুড়ায় আসতে নাহ আসতেই বিপদের মুখোমুখি হতে হলো আয়াতের। হ্যাঁ! আয়াত যেখানেই যাক নাহ কেনো ছোট ছোট বিপদ ওর পিছু ছারবেই নাহ। আসার পথে বাসে ওড়না আটকে গিয়ে মুখ থুবড়ে বাস থেকে পরেছে। ফ্লাটে শিফট হওয়ার সময় পাশের ফ্লাটের ছেলের সাথে প্রথম দিনই ঝগড়া। বাবা মায়ের ইচ্ছে মেয়েকে ডাক্তারি পড়াবে। বক্ষব্যাধি ও পালমোনোলজিস্ট ডিপার্টমেন্টের সার্জন ডাক্তারের ডিগ্রি অর্জন করার পর ডাক্তারি লাইন ছেড়ে বগুড়া চলে এসেছে রান্নার শেফ হতে। ছোট থেকেই তার রাধুনি হওয়ার খুব ইচ্ছে কিন্তু বাবা মায়ের কড়া শাসনে হয়ে উঠেনি। এবার সবকিছু উপেক্ষা করে নিজের স্বপ্ন পূরণের আশায় চলে এসেছে রাধুনি হতে। এমনিতে আয়াতের রান্নাও সবার প্রিয়। একবার যে ওর রান্না খেয়েছে সে দ্বিতীয় বার অন্য কারো রান্নায় স্বাদ খুঁজে পায়নি। বগুড়ায় তেমন কাউকেই চিনে নাহ। এক কথায় এখানে আয়াতের আপন বলতে একমাত্র নিজের অস্তিত্ব ছাড়া আর কেউ নেই। একটা ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টে শেফ প্লাস ওয়েটারের জব পেয়েছে। এটার তাগিদেই সবকিছু ছেড়ে এখানে চলে আসা।
রুমের মধ্যে ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিজের ফর্সা শরীর ছাড়া আর কিছুই আয়াতের চোখে পরছিলো নাহ। হঠাৎ মনে পরলো আজ ১২টার তার জন্মদিন। এই সময়টা সে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে চায়। এই প্রথম সে একা একা জন্মদিন সেলিব্রেট৷ করবে। কিন্তু এই অন্ধকারে কিভাবে কি করবে সেটাই চিন্তা করছে। একবার ভাবলো কারেন্ট আসলে রান্নাঘরে গিয়ে নিজের জন্য কেক বানাবে আবার ভাবলো কখন নাহ কখন কারেন্ট আসে কে জানে। এতক্ষণ সময় নষ্ট নাহ করে বাইরে কোনো ক্যাফেতে বসে নিজের জন্মদিন সেলিব্রেট করাটাই বেটার। পড়ার জন্য আলমারিতে রাখা সবচেয়ে সুন্দর ড্রেস বের করার জন্য আলমারির সামনে যেতেই ভিতর থেকে খুটুরমুটুর করে হার চিবোনোর শব্দে পুরো ঘর মেতে উঠলো। মুহুর্তেই গরমের তাপ মিলিয়ে গিয়ে পুরো ঘর শীতার্ত হয়ে গেলো। একে তোহ অমাবস্যার রাত তার মধ্যে অন্ধকার রুম। এসবের উর্ধ্বে গিয়ে পৌঁছেছে আলমারির ভিতর থেকে হার চিবোনোর শব্দ। সাহস করে আয়াত এখনো আলমারির সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ মনে হলো তার পাশ কাটিয়ে ঠান্ডা হাওয়া ছড়িয়ে দিয়ে কোনো মানুষ আকৃতির কেউ হেঁটে গেলো। কিন্তু রুম তোহ ভিতর থেকে লক করা তাহলে ভিতরে কে ঢুকবে। ভয়ে আয়াতের হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। বার বার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজাচ্ছে। আজ প্রথম আয়াতের সাথে এমনটা হলো ভয় তোহ পাওয়ারই কথা। মনের মধ্যে সাহস সঞ্চয় করে দুই হাত আলমারিতে বাড়িয়ে দিলো খোলার জন্য। আধুনিক যুগের মানুষ তারা, দোয়া-কালাম, নামাজ, রোজা কি জিনিস ভুলেই গেছে। যাই হোক আলমারির দরজা খুলতেই ভিতর থেকে কেউ একজন ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে আয়াতের উপর ঝাপিয়ে পরলো। আয়াতও আত্মরক্ষার জন্য চিৎকার দিয়ে বিছানায় ছিটকে পরলো। বিছানায় শুয়ে আছে অনেকক্ষণ। সাহস করে মাটিতে পা নামাতে পারছে নাহ। যখনই সাহস করতে যায় তখনই মনে হয় কেউ হয়তো তাকে টেনে নিয়ে যাবে। মন দিয়ে বাইরের দিকে কান পেতে শুনতে পায়, ঝিঁঝি পোকা বাইরে ঝিঁঝি করে ডাকছে। দূর থেকে শেয়াল হুক্কাহুয়া করছে। যেহেতু অ্যাপার্টমেন্টের পাশেই নদী ছিলো আর পিছনের জানালা দিয়ে স্পষ্ট নদীর তীর দেখা যায়। নিস্তব্ধতায় সে নদীর স্রোতও শুনতপ পাচ্ছিলো। আরেকটু মন দিয়ে শোনর চেষ্টা করলে বুঝতে পারে তার খাটের নিয়ে কেউ কাঁদছে। খাটের উপর থেকে কান পেতে শোনার চেষ্টা করলে বার বার ব্যর্থ হয়। মনে সাহস জুগিয়ে খাট থেকে নেমে উঁকি দেয় দেখার জন্য। কিন্তু কাউকে দেখতে পায় নাহ। পিছন থেকে কেউ আয়াতের কাঁধে হাত দিতেই সে বড় বড় চোখ নিয়ে ঢোক গিলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পিছন ঘুরে তাকাতেই একটা বিচ্ছিরি প্রতিবিম্ব হাউমমমম করে একটা চিৎকার দেয়। আয়াতও ওটার সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।
--------------------------
অমাবস্যার রাত। নদীর ঢেউ যেনো অন্য দিনের তুলনায় আজ একটু বেশি খেলা করছে। চারিদিকে স্নিগ্ধ ঠান্ডা বাসাত। এখানে এসে দাঁড়ালে যে কারো মন খারাপ দূর হয়ে যাবে। একটা ঢেউ পারে এসে মিলাতে নাহ মিলাতে আরেকটা ঢেউ এসে বারি মারে। শূন্যতা শুধু একটা পূর্ণিমা চাঁদের। এত সুন্দর রাত সাথে পূর্ণিমার চাঁদ। উফফ! আর কি লাগে.? কিন্তু এই সুন্দর একটা রাতেই ভাঙ্গতে চলেছে দুইটা হৃদয়!
"দেখো দারিয়া! তুমি যা করেছো তারপপর আমার পক্ষে তোমার সাথে সম্পর্ক রাখা সম্ভব নাহ" রাগান্বিত কণ্ঠে দারিয়ার উপর চেঁচিয়ে উঠলো দুরুদ। দুরুকে শান্ত করার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বার বার একই সুর গাইছে দারিয়া "প্লিজ দুরুদ! এমনটা করো নাহ ভুল তোহ মানুষেরই হয়, আর আমিও তোহ মানুষ" দুরুদ এবার আরো রেগে গিয়ে হাতে থাকা গ্লাসটা ফেলে দিয়ে চিল্লাতে চিল্লাতে বললো "তুমি মানুষ নাহ! রাক্ষস তুমি, রাক্ষস! আমার জীবনে আসার পর থেকে আমার সুখ শান্তি সব খেয়ে ফেলেছে। এখন বলছো ভুল তোহ মানুষেরই হয়। তুমি কি ভেবে আরেক লোকের সন্তানকে আমি আমার পরিচয়ে বড় করবো.? কোথায় গেলো তোমার সেই বয়ফ্রেন্ড যাকে ভালোবেসে সবটা উজাড় করে দিয়েছো। যাও তার কাছে। গিয়ে বলো তোমার এবং তোমার সন্তানের দায়িত্ব নিতে। আমার কাছে এসেছো কেনো.? আমাকে দেখে কি এতিমখানার প্রফেসর মনে হয় নাকী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মনে হয়.?" দারিয়া আবারও কান্না করতে করতে বললো "এভাবে বলছো কেনো.? তুমি নাহ আমাকে ভালোবাসো.?" দুরুদ এবার ক্রোধে আগুন হয়ে দারিয়ার দুই কাঁধে হাত দিয়ে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বললো "এটা তোমার মনে ছিলো নাহ, একটা মানুষ তোমাকে ভালোবাসে তারপরও তুমি কিভাবে এই মানুষটাকে ধোঁকা দিয়ে আরেকজনের সাথে শুতে গেলে। ছিহ্! আমার ভাবতেও লজ্জা লাগে। আমি চলে যাচ্ছি আর কোনোদিন আমার সামনে আসবে নাহ। আর হ্যাঁ! আমার নতুন গার্লফ্রেন্ড হয়েছে। কোনো একদিন সময় হলে সাক্ষাৎ করিয়ে দিবো।" দুরুদ চলে আসবে তখনই দারিয়া কর্কশ কণ্ঠে বলে "আমি সুখে নাহ থাকলে কাউকে সুখে থাকতে দিবো নাহ" দুরুদ কিছুটা হেসে বললো "সেটা তোমার নতুন বয়ফ্রেন্ডের সাথে শোয়ার আগে মনে ছিলো নাহ" ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসির দাগ টেনে দুরুদ বেরিয়ে গেলো। আর দারিয়া সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাগে ফোসফাস করছে।
দুরুদ হচ্ছে বগুড়া জেলার বড়লোক বাপের বিগড়ে যাওয়া ছেলে। মানে নিজে কাজ কাম করবে নাহ অথচ বাপের টাকায় ফুটানি করতে ভালোবাসে তাছাড়া এমনিতে বাজে কোনো নেশা নেই। সেও একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট। ৬ বছর ধরে মেডিসিন ও হার্ট সার্জারি ডিপার্টমেন্টে এক্সাম দিয়ে আসছে কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ ৬ বছর ধরেই ফেইল করে আসছে। তারপরও দুরুদ নিজেকে নিয়ে গর্ভ করে সে নাকী একজন বড় ডাক্তার।
দায়িরা দুরুদের নতুন গার্লফ্রেন্ড। এক কথায় প্রতি মাসে মাসে গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করাটা দুরুদের কাছে পানি ভাতের মতো। দারিয়া দুরুদকে ধোঁকা দিয়ে আরেকজনের সন্তানের দায়িত্ব দুরুদের কাঁধে দিতে চাইছে কিন্তু দুরুদ এটা মানতে নারাজ।
----------------------------
চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ফ্লাশ জ্বালিয়ে হাতে ফোন নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আয়াত। সাহস পাচ্ছে নাহ ভিতরে ঢুকে ড্রেস চেঞ্জ করে পার্স নিয়ে বের হওয়ার। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা মানুষ কি আর আধ্যাত্মিক জিনিসে বিশ্বাস করতে পারে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও আজ সে নিজে এটার প্রত্যক্ষদর্শী। বিশ্বাস করতেই হবে তাকে। নিজের মনটা নয়ছয় বুঝিয়ে বললো এটা তার মনের ভুল এসব কিছুই বাস্তবে নেই। তারপর ভিতরে ঢুকলো। এবার সত্যি সত্যি ভিতরে ঢোকার পর আর কোনো সমস্যা হলো নাহ। আলমারি খুলে চিন্তায় পরে গেলো কি পড়ে বাইরে বের হবে। আলমারি ভর্তি তার জামা কাপড় অথচ পছন্দ হচ্ছে নাহ কিছুই। সবকিছুতে হাত বুলিয়ে চলেছে কিন্তু একটাও তার মনে ধরছে নাহ। বাছতে বাছতে শেষমেশ নেভি কালারের জিন্স আর পিঙ্ক কালারের একটা ফুল হাতা টপস বের করলো। ফ্লাশের মিটিমিটি আলোয় ড্রেস চেঞ্জ করে বের হলো। নাহ! দেখতে খারাপ লাগছে নাহ। ফর্সা মানুষ যাই পড়বে তাতেই মানায়। নীল নীল চোখের নিচে হাল্কা কালো কাজল আর চোখের পাতায় হাল্কা গোলাপী আইশ্যাডো, মাসকারা দেওয়ায় তার চোখগুলো যেনো আরো ফুটে উঠেছে। ঠোঁটে সবসময় হাল্কা করে লিপস্টিক পড়তেই ভালোবাসে আয়াত। প্রতিবারের মতো এবারও ঠোঁটে হাল্কা গোলাপী লিপস্টিক দিলো। টান টান লম্বা চুলগুলো খোলা। বাইরের হাওয়া চুলে লাগলেই চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাবে। সাজুগুজু করা শেষ তারপরও কারেন্টের কোনো দেখা নেই। রাগে গজগজ করতে করতে পার্সের ভিতর মেকআপ ঢুকিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পরলো ভালো কোনো ক্যাফের খোঁজে।
রাত প্রায় ৯টার কাছাকাছি। চারিদিকে অন্ধকার। রাতের অন্ধকারে ঝিঁঝি পোকার ডাক ভেসে আসছে আশপাশ থেকে। নদীর স্নিগ্ধ বাতাস এসে শরীরে শিহরণ জাগিয়ে দিচ্ছে। খুঁজতে খুঁজতে একটা ক্যাফেতে এলো আয়াত। চারিদিকে অন্ধকার হলেও এই ক্যাফেটা খুব আলোকিত। ছোট ছোট লাইট দিয়ে ডেকোরেট করা। টেবিলগুলো সাজানোটাও আয়াতের পছন্দ হয়েছে। প্রতিটি টেবিলে ৪টা করে চেয়ার। কিন্তু একটা টেবিলও খালি পাচ্ছে পাচ্ছে নাহ আয়াত। পা টিপে টিপে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্যাফের মাঝে এসে দেখতে পেলো একটা টেবিল ফাঁকা পরে আছে। মনে মনে ঠিক করে ফেললো এটাতেই তাকে বসতে হবে তাও অন্য কেউ আসারর আগে। টেবিলের দিকে পা বাড়াতেই আয়াত লক্ষ করলো সামনে থেকে ৩জন ছেলে টেবিলটার দিকে এগিয়ে আসছে। বাকি ২জন নজর নাহ কাড়লেও মাঝের ছেলেটা বেশ নজর কাড়লল আয়াতের। কালো জিন্স আর ফুল হাতা সাদা গেঞ্জিতে ফর্সা চেহারার ছেলেটা একদম ফুটে উঠেছে। চুলগুলো বড় বড়। সন্ন্যাসী হওয়ার ইচ্ছে আছে নাকী। চুল কাটে নাহ কেনো.? দেখো তোহ মনে হচ্ছে বড়লোক বাপের বিগড়ে যাওয়া ছেলে। এই প্রথম আয়াত কোনো ছেলের দিকে এভাবে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেনো মনে হচ্ছে কতশত বছর পূর্বের পরিচয় তাদের।
ওদিকে দুরুদও দূর থেকে লক্ষ করছে তার নাক বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা অনেকক্ষণ ধরে ওকে দেখছে। আয়াতকে দেখে দুরুদও কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো আয়াতের দিকে। যেনো একে অপরেকে কত বছর ধরে চিনে। চারিদিকে অল্পস্বল্প আলোয় আয়াতের তুষার বর্ণের গায়ের রঙ যেনো চাঁদের আলোর মতো আলো ছড়াচ্ছে। আয়াতের চোখের চাহনিতে দুরুদের শান্ত মনকে মুহুর্তেই অশান্ত করে দিচ্ছে। এ যেনো পূর্ণিমার আলোয় যেমন নদীর স্রোতের গতি বেড়ে যায়। তেমনই আয়াতের চাহনিতে দুরুদের মনে উতালপাতাল ঝড় বইতে শুরু করে।
এক পা দু পা করে আয়াত আর দুরুদ দু'জনই টেবিলের দিকে এগোচ্ছে। হুট করে আয়াত নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে টেবিলের দিকে ছুটে দৌড় দিলো আয়াতের দৌড় দেখে দুরুদ দৌড় দিলো। দুজনেরই একটাই উদ্দেশ্য, এই অবশিষ্ট একটা টেবিলে তাদের বসতে হবে। একই সাথে দুজনই টেবিলে এসে চেয়ারের উপর হাত রাখলো। দু'জন দু'জনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে চেয়ে রইলো চোখের দিকে।