পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ২২

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২২ · ২৮ পর্বের মধ্যে ২২

এই ডুবো ডুবো লালচে সন্ধ্যাগুলো সুন্দর। কারো মনে করায় অতীত কারো বা ভবিষ্যতের স্বপ্ন। দোতলার বারান্দায় বসে বসে আপন মনে সাঝের বেলায় পাখিদের ঘরে ফেরা দেখছে চিশতি। গোধূলি বিকেল বেলায় যখন সন্ধ্যা নেমে আসে তখনই যেনো সবাই আড্ডায় মগ্ন হয়ে যায়। আজ আর এই বেলায় আড্ডা দিতে ইচ্ছে করছে নাহ চিশতির। কারো ফেলে যাওয়া স্মৃতি নিয়ে মনের অগোচরে বাসা বুনছে তার হৃদয় আঙ্গিনায়। অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো নিয়ে যখন ঘর বাঁধতে ব্যস্ত তখন কেউ চিশতির নাম ধরে ডাকে। " চিশতিইই" চিশতি যেনো তার ডাকের আশায়ই পথ চেয়ে ছিলো। "আমি জানতাম তুমি আসবে" মুচকি হেসে বললো চিশতি। "জানতে মানে? এটা কিভাবে সম্ভব? আমি কিভাবে তোমাদের বাসার ফিরতে আসতে পারলাম, আমার তোহ ভাবতেই অবাক লাগছে?" বিস্মিত সুরে বললো নিমু। "কাজটা তাহলে ঠিকঠাক ভাবেই হয়েছে" পিছন ফিরে নিমুর দিকে তাকিয়ে বললো চিশতি। "কাজ? কিসের কাজ?"

-----------

আমিনা বিবি আর হাসমির সাথে করে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ অব্দি আসার পর হঠাৎ গাড়ি থেকে নিজ তাগিদে নেমে যায় চিশতি। নিমুর বলা কিছু কথা আর নিজের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার সত্যিটা জানার জন্য তাকেই কিছু একটা করতে হবে। রহস্য উদঘাটনের জন্য চিশতি চলে গেলো মূসা হুজুরের বাড়ি। বাড়িটা একদম আগের মতোই আছে। প্রথম দিনও সে মূসা হুজুরের ঘরের ভিতর প্রবেশ করেনি আর আজও করবে নাহ। বাইরে থেকেই মূসা হুজুরকে ডাকলেন। "ইমাম সাহেব! ইমাম সাহেব বাসায় আছেন??" বাইরে থেকে কারো ডাকের আওয়াজ শুনতে পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন মূসা হুজুর। "কে??" পিছন ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে চিশতি। মূসা হুজুরের আগমন আঁচ করতে পেরে তার দিকে ফিরে তাকালো। চিশতিকে আবারও এখানে দেখে মূসা হুজুর খুশিতে আত্মহারা। "তুমি!! আমি ভাবতেই পারছি নাহ তুমি সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছো। আলহামদুলিল্লাহ!! শরীর কেমন এখন? ভিতরে এসে বসো" মূসা হুজুরকে ব্যস্ত হতে নাহ বলে মুদ্দা কথায় আসলো চিশতি। "আপনি একদম ব্যস্ত হবেন নাহ! আপনার সাথে কিছু দরকারি কথা আছে যার জন্য আমি হসপিটাল থেকে বাসায় নাহ গিয়ে সোজা আপনার বাসায় চলে এসেছি" চিশতির কথায় কিছুটা আন্দাজ করতে পেরে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো মূসা হুজুর। এরপর পায়চারি করতে করতে সেই ঘরটির সামনে যায় যে ঘরটির সাথে জড়িয়ে আছে চিশতি এবং চৈতীর অতীত। কোমর থেকে চাবি বের করে ঘরের তালা খুলে চিশতিকে নিয়ে ভিতরে গেলেন। "আমি ওইদিনই বুঝতে পেরেছি তোমার উপর আবারও কালো আধারের নজর পরেছে। সেই কালো আধার খন্ডন করার জন্য আলোর রশ্মিও এসেছে তোমার জীবনে। তবে এসব এতটা সহজ নাহ যতটা সহজ ভাবছো। আলোর রশ্মিও কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে। কিন্তু আমাদের এখন কালো আধারকে দূর করতে হবে। স্বল্প আয়োজনে আজ তোমার রুকাইয়া করবো চিন্তা করো নাহ" মূসা হুজুরের কথা শেষ হলে চিশতি বলতে শুরু করে "ইমাম সাহেব আমাদের বাসায় দুইটা তাবিজ আছে। একটা আমার ঘরের দরজায় আরেকটা আমাদের বাড়ির শেষ সীমানার বরই গাছের নিচে। ওইগুলো উঠানোর আগ পর্যন্ত আমি সুস্থ হতে পারবো নাহ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি নিজে ওই তাবিজ উঠাতে পারছি নাহ। বাড়ির ভিতরে গেলেই আমার সবকিছু উলটপালট হয়ে যায়।" সবকিছু শোনার পর মূসা হুজুর বললো "তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো নাহ! কে বা কারা এসব করছে এটাও বের হবে আর তোমার বাসায় থাকা তাবিজগুলোও তোলা হবে। সময় মতো আমিই সব করে দিবো।" মূসা হুজুরের দিকে তাকিয়ে বললো চিশতি "কবে? আর কিভাবে?" মূসা হুজুর মুচকি হেসে বললো "২দিন পর অমাবস্যার রাত। ওইদিন কাউকে নাহ জানিয়ে আমি তোমার বাসায় গিয়ে সব তাবিজ তুলবো এরপর তোমার সাথে সেই জ্বিনটা দেখা করতে আসবে। ওর কাছে সবকিছু খুলে বলবে, আমাদের তিনজনকে একত্র হয়েই বাকি কাজটা করতে হবে। যারা কালোজাদু করে তাদের জন্য অমাবস্যার রাত একটি বিশেষ রাত। ওইদিন রাতের বেলা তোমার বাড়ির সকলকে কড়া নাড়তে রাখতে হবে আমাদের। প্রত্যেকটা মানুষকে চোখে চোখে রাখতে হবে। রাত ১২টার পর কে কোথায় যাচ্ছে সব খেয়াল রাখতে হবে। কাউকে বুঝতে দেওয়া যাবে নাহ আমাদের প্ল্যানের কথা।" সবকিছু শুনে চিশতি বললো "ঠিক আছে! এখন তাহলে রুকাইয়া করুন। আমার উপর চালান করা সয়তানটাকে আগে সরানো উচিৎ এটার জন্য আমার জীবনটা ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে।" এরপর মূসা হুজুর এক বালতি পানি নিয়ে এলো। "চিশতি এই বালতির পানিতে তোমার দুই হাত চুবিয়ে রাখো। আর মনে মনে আল্লাহু!আল্লাহু! জিকির করো" মূসা হুজুরের কথা মতো বালতির পানিতে হাত চুবিয়ে রেখে মনে মনে জিকির করছে চিশতি। এরপর মূসা হুজুর জোরে জোরে রুকাইয়া তেলাওয়াত করতে আরম্ভ করে।

"বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদিউ, ওয়া আলা আলি মুহাম্মদিম, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা, ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন।

আররহমা-নির রাহি-ম।

মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।

ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-ন

ইহদিনাস সিরাতা’ল মুসতাকি’-ম

সিরাতা’ল্লা যি-না আনআ’মতা আ’লাইহিম গা’ইরিল মাগ’দু’বি আ’লাইহিম ওয়ালা দ্দ-ল্লি-ন।[আমিন]

বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তা'খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইন্দাহূ ইল্লা বি ইযনিহ। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম। ওয়া ইয়ুহীতুনা বিশাইইম মিন এলমিহি ইল্লা বিমা শা'আ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওলা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল আলিইউল আজীম।

বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।

বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

কুল্ আ’ঊযু বিরব্বিল্ ফালাক্ব্। মিন্ শাররি মা-খলাক্ব্। ওয়া মিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-ওয়াক্বাব্। ওয়া মিন্ শাররিন নাফ্ফাছাতি ফিল উক্বাদ্। ওয়া মিন্ শাররি হা-সিদিন ইযা-হাসাদ্।

বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,মালিকিন্না-ছ,ইলা-হিন্না-ছ।মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদিউ, ওয়া আলা আলি মুহাম্মদিম, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা, ওয়া আলা আলি ইবরাহিমা, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।"

মূসা হুজুর আয়াত পাঠ শেষ করে চিশতির দিকে তাকিয়ে দেখে ওর চোখ লাল টকটকে হয়ে কোটর থেকে যেনো বের হয়ে আসছে। ক্ষিপ্ত চোখ মুখ নিয়ে তাকিয়ে মূসা হুজুরের দিকে। "এই! কে তুই! নাম কি তোর? কার কুমন্ত্রণায় ওর শরীরে এসেছিস? কার হুকুমের গোলামী করতে এসে ওর ক্ষতি করছিস? বল কে তুই? বল!!" চিশতির ভিতরে থাকা বদজ্বিনটা মূসা হুজুরের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুসফুস করছে। "হা!হা!হা! তুই তোহ নিজেকে মহা পন্ডিত ভাবিস। তাহলে খুঁজে নে আমার পরিচয়!" মূসা হুজুর জোরে জোরে আয়াতুল কুরসি পড়তে আরম্ভ করলো।

বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তা'খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইন্দাহূ ইল্লা বি ইযনিহ। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম। ওয়া ইয়ুহীতুনা বিশাইইম মিন এলমিহি ইল্লা বিমা শা'আ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওলা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল আলিইউল আজীম।

এরপর বালতির পানিতে দম ফুক করলো। "এই! মূসা কি করলি তুই আমার শরীর জ্বালাপোড়া করছে কেনো? মূসা ঠিক করে! ঠিক করে দে মূসা! ঠিক করে দে!" ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলছে সয়তানটা। "তোর আসল পরিচয় বল! কে তুই কেনো এসেছিস তুই?" মূসা হুজুরের আল্লাহ কালামের কাছে হার মেনে সয়তান নিজের আসল পরিচয় দিলো। "আমি নাস নাস জ্বিন! আমাকে ওর ক্ষতি করার জন্য পাঠানো হয়েছে। আমাকে শু*করের রক্ত উৎসর্গ করে ডেকেছে। আমাকে প্ররোচিত করেছে ওর রুহ্‌ আমাকে নরকে নিয়ে যেতে দিবে। আমি সেই লোভে পরে বারংবার ওকে আত্মহত্যা করার জন্য প্ররোচন দিয়েছি। ও আত্মহত্যা করেও ছিলো কিন্তু প্রতি বারই বেঁচে ফিরেছে। ওর রুহ্ এর জোর আছে। এমন শক্তিশালী রুহ্'কে নরকে নিয়ে যেতে পারলে মনে শান্তি লাগে।" নাস নাস জ্বিনের কথা শোনার পর মূসা হুজুর বললো "বুঝলাম! এবার এটাও বল তোকে কে ডেকে এনেছে? তার পরিচয় কি?" ভ্রুক্ষেপ করে জবাব দিবো নাস নাস জ্বিন। "নাম বলতে পারবো নাহ! তাদের দেওয়া আহার পান করেছি আমি। বেইমানি করতে পারবো নাহ তাদের সাথে।" উত্তর শোনার পর এক গাল মৃদু হেসে বললেন মূসা হুজুর "বেশ! তোর বলতে হবে নাহ। তাহলে তুই ওকে ছেড়ে চলে যা" অট্টহাসি দিয়ে বললো নাস নাস জ্বিন "যাবো নাহ! কি করবি তুই?" চোখ বন্ধ করে বললেন মূসা হুজুর "যাবি নাহ!" নাস নাস জ্বিন আবারও বললো "নাহ! যাবো নাহ!" মূসা হুজুর মুচকি হেসে বললেন "বেশ! তবে আমাকে আমার কাজ করতে হবে। তোরে তাড়ানোর উপায়ও খুব ভালো করেই জানা আছে আমার। তোকে বোতল বন্দী করে ছাড়বো দেখিস।" এই বলে কিছু আয়াত পাঠ করতে লাগলেন মূসা হুজুর।

"ওয়া আযামতু আ'লাইকুম বিরব্বি জিবরাঈলা ওয়া মীকা-ঈলা ওয়া ইসরাফীলা ওয়া আজরাঈলা। আমনাহনাল্লাযী জাআ'লাল আরশা, আ'যামতু আ'লাইকুম বিল্লাযী আজাবা ওয়া আযহাবা লাহু ঈসাবনা মারইয়ামা ওয়া আইয়্যাদনাহূ বিরূহিল ক্বুদুছে। আযামতু আ'লাইকুম বিখাতামি সুলাইমানাবনি দাউদা আলাইহিসসালামা, আল্লাযী সাখখারনা লাহুর রিইয়াহা ওয়াল জ্বিন্না ওয়াশশাইত্বানা সারীআ।"

আয়াত পাঠ শেষের একটা কাঁচের বোতলের ক্যাপ খুলে চিশতির দিকে তাক করে ধরার সাথে সাথে এক কালো ধোঁয়া চিশতির কান দিয়ে বের হয়ে বোতলে ঢুকে গেলো। বোতলেরর ভিতরে ধোঁয়া প্রবেশ করার সাথে সাথে বোতলের ক্যাপ দিয়ে বোতলটা আটকে ফেলেন। তৎক্ষনাৎ চিশতিও জ্ঞান হারায়। এরপর চিশতির জ্ঞান ফিরলে চিশতিকে সবকিছু বুঝিয়ে বলেন। চিশতিকে নাস নাস জ্বিন সম্পর্কে কিছু তথ্য দিলেন। "নাস নাস জ্বিন এর ভিন্ন শক্তিশালী জ্বিন। এদের শরীরের একপাশ জ্বিন এবং অন্য পাশ জীবজন্তুর ন্যায়। এদের শরীরের উপরাংশ দেখা যায় এবং নিচ অংশ অদৃশ্য, ধোঁয়া প্রভৃতি। এরা নোংরা জায়গায় বেশি থাকে। এরা বরাবরই মানুষের ক্ষতি করে থাকে। এদের বিশেষ ক্ষমতা নাহ থাকলেও এরা অনেক অজানা খরব দিতে পারে। জ্বিনদের মধ্যে দূর্বল প্রজাতির জ্বিন হচ্ছে নাস নাস জ্বিন। এরা বুদ্ধির দিক দিয়ে অনেক পটু এবং ধূর্ত। এই জ্বিনকে শিক জ্বিনের বংশধরও বলা হয়। কথিত আছে শিক জ্বিনকে লালসার লোভ দেখিয়ে মানুষের সাথে দৈহিক মিলনের ফলে নাস নাস জ্বিনের বংশবিস্তার হয়।" মূসা হুজুরের সাথে বাকি কথা পাকা করে বাড়ি ফিলে এলো চিশতি।

-------

"এতকিছু হয়ে গেলো আর আমি টেরই পেলাম নাহ" অবাক সুরে বললো নিমু। "এখন যেনো কেউ টের নাহ পায় সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে। আজকেই গোপন শত্রুর নাশ করতে হবে। যদিও লড়াইটা সহজ নাহ। তবুও আমাদের লড়তে হবে। অপেক্ষা শুধু মধ্যরাতে।" আকাশ পানে তাকিয়ে বললো চিশতি।

আজকের রাতটা অমাবস্যার। বাইরে গাঢ অন্ধকার। চতুর্পাশে ঝিঁঝি পোকার বিকট শব্দ উপভোগ করার জন্য জেগে আছে চিশতি। এই রাতে ঘুম নাহ আসার প্রতিজ্ঞা করেছে নিজের কাছে। যেভাবেই হোক বাড়ির ভিতরে সেই গোপন শত্রুকে ধরবেই। জোর করে সারা রাত জেগে থাকবে আর কানের ভেতর উপুর্যুপরি ছুঁড়ে মারবে অন্ধকার কিছু শব্দ। কান ফেটে যায়। কিন্তু ভলিউম কমে নাহ। কান ফাটলে ফাটুক। তবুও থামুক! থামুক মগজের ভেতরে চলতে থাকা ঘুর্ণিঝড়টা। মগজের ভিতরে চলতে থাকা ঘূর্ণিঝড় থামানোর জন্য হলেও আজ সারারাত জেগে থাকতে হবে। অমাবস্যার চিন্তাকে আবার ধরতে পারা যায় নাহ। কখনো প্রেম, কখনো বা মৃত্যু, কখনো সময়, কখনো বা সত্য। আর কখনো বা হারিয়ে যাওয়া চাঁদ এই অমাবস্যার রাতে। ঘুমে চোখ জ্বলতে থাকে চিশতির, মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। তবুও মনে তীব্র আকাঙ্খা যেনো বুকের ভেতর বাস করে জীবন্ত এক মহাকাশ। যে মহাকাশে সাঁতরাতে ভয় পায় চিশতি। আজ যেভাবেই হোক ভয়কে জয় করতেই হবে। "চিশতি! আমিও এসেছি!" ফিসফিস করে বললো নিমু। "হুশশশ! সতর্ক থাকতে হবে আজ সারারাত। প্রতিটা মানুষকে নজর রাখতে হবে। রাত বারোটার বেশি হয়ে গেছে। দেখতে হবে কে এত রাতে বের হয়।" ফিসফিস করে বললো চিশতি। অনেকক্ষণ লুকিয়ে থাকতে থাকতে কোমরে ব্যথা অনুভব করছিলো চিশতি। শরীর নাড়ানোর জন্য একটু ঝেকে বসার জন্য উঠতেই দেখতে পেলো ঘর থেকে আমিনা বিবি বেরিয়ে এলো। "চিশতি!" বিস্মিত সুরে ডাকছে নিমু। "নাহ! এটা হতে পারে নাহ। আমরা ভুল দেখছি" কাঁদো কাঁদো গলায় বললো চিশতি। "কিন্তু এটাই তোহ সত্যি" বললো নিমু। "দেখি কি করে। আম্মি কখনো এমনটা করতে পারে নাহ। এই মানুষটাই তোহ আমাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।" চোখ মুছতে মুছতে বললো চিশতি। ওদিকে আমিনা বিবি ঘরে থেকে বের হয়ে সোজা রান্নাঘরের দিকে গেলো। চিশতির চোখের ইশারা পেয়ে নিমু পর্যবেক্ষণ করার জন্য রান্নাঘরের দিকে গেলো। নিমু রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো আমিনা বিবি পানি পান করার জন্য এসেছে। ঘুমে টলতে টলতে রান্নাঘর থেকে পানি পান করে আবারও নিজের ঘরে ফিরে গেলো। অবশেষে চিশতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। রাত প্রায় একটা বেজে গেলো এখনো কোনো আশার আলো পাচ্ছে নাহ। নিরুপায় হয়ে ঘরে ফিরে যাওয়ার জ্বেদ করা মাত্রই কানে ঘুঙুরের শব্দ এসে লাগে। শব্দটা কোথা থেকে আসছে বুঝার জন্য কান খাড়া করে চিশতি। গাছের আড়াল থেকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে সিঁড়ি বেয়ে লাল শাড়ি পড়নে খোঁপা র চুল মেলে দিয়ে এক নারী নেমে আসছে। কি কে নারী? মুখটা তোহ দেখা যাচ্ছে নাহ! মাটিতে আঁচল বিছিয়ে বারান্দার গন্ডি পার করে বাড়ির শেষ সীমানার বরই গাছ অতিক্রম করে চলে গেলো বাড়ির পিছনে। চিশতিও তার পিছু করতে করতে চলে গেলো বাড়ির পিছনে। সাথে নিমু। মুখটা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে চিশতি। পিছনে গিয়ে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলো মহিলাটি। সুযোগ বুঝে চিশতিও নিজেকে আড়াল করে নিলো। মহিলাটি হাতের ইশারায় কিছু একটা করলো এরপর নিচে ঝুঁকলো মাটি থেকে কিছু একটা তোলার জন্য। কিছু সময় পর বুঝতে পারলো মাটির নিচে কোনো এক গুপ্ত দরজা খোঁজার জন্য ঝুঁকেছে। মহিলাটি মাটির নিচে থাকা দরজাটা খোলার সাথে সাথে ভিতর থেকে ভেসে আসা আলোর বেগ তার মুখ ছুঁয়ে গেলো। পুরো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তার চেহারা। এই মানুষ প্রথম থেকেই চিশতিকে উপরে উপরে ভালোবেসেছে। এটা মেনে নিতে পারছে নাহ চিশতি। চেনা মুখগুলো এত সহজে কিভাবে অচেনা হয়ে যায়? "চ-চি-চিশতি!! এটা তোহ??" নিমু বিস্মিত চোখে চিশতির দিকে তাকিয়ে বললো। "হ্যাঁ! এটাই হলো নূরীর মায়ের আসল রূপ। এতদিন তার আসল পরিচয় আমাদের সকলের আড়ালে ছিলো। কিন্তু আজ সব সত্যি আমাদের সামনে।" এতটুকু বলে থামলো চিশতি। ওদিকে হাজেরা মাটির নিচে গোপন দরজার পথ ধরে নিচে নামছে। সুযোগ বুঝে চিশতিও তার পিছু নিতে শুরু করলো। মাটির নিচে প্রবেশ করে চিশতির মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পরলো। নিজের বাড়িতে এমন এক রহস্য জায়গা আছে এটা ভাবতেই পারছে নাহ চিশতি। জায়গাটা সম্পূর্ণ কালো রঙের, চারিদিকে হাড় দিয়ে সাজানো। গা ছমছমে পরিবেশ। হাজেরা কিছুটা সামনে গিয়ে মাটিতে ধ্যানরত অবস্থায় বসলো। সামনে একটা কাপড়ের পুতুল রেখে দুই হাত করজোড় করে চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে তন্ত্রমন্ত্র পাঠ করছে। হঠাৎ করে নিমুর চিৎকার "চিশতিইইইইইইইইইই!" নিমুর দিকে পলক ফেলতেই চিশতি বুঝতে পারলো নিমু হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। বাঁচার জন্য চিশতির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নিমু। চিশতিও নিমুকে বাঁচানোর জন্য নিজের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় কিন্তু শেষ রক্ষা হলো নাহ। মুহুর্তেই নিমু মিলিয়ে গেলো আবছা আলোয়। অশ্রুমুখী চোখে ক্রন্দনে লিপ্ত হয়ে পরলো চিশতি। হাঁটু গেড়ে বসে মাথা নত করে নিমুর নাম ধরে কাঁদতে থাকে চিশতি। সামনে থেকে খিটমিট করে হাসতে হাসতে কেউ একজন এগিয়ে এলো "হা!হা!হা! তুই তোহ মরবিই, তোকে যে সাহায্য করতে আসবে তাকেও মরতে হবে" মাথা তুলে তাকিয়ে যা দেখলো সেটা দেখার জন্যও প্রস্তুত ছিলো নাহ চিশতি। "কা-কাকিয়া! তুমি??" মাথা তুলে হালিমার নাম ধরে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে সুযোগ বুঝে পিছন থেকে হাজেরা চিশতির মাথায় আঘাত করে। মাথায় আঘাতের ফলে মাটিতে লুটিয়ে পরে চিশতি। "আম্মিইইইই! আআআ!" চিশতির আত্ম চিৎকারে যেনো হাজেরা এবং হালিমা এক পৈশাচিক শান্তি খুঁজে পাচ্ছে। চিশতির চোখের পানি টপটপ করে মাটিতে ঝড়ে পরছে। হালিমা এবং হাজেরা পৈশাচিক হাসিতে মাতিয়ে তুলেছে গোপন কক্ষ। "চিশতি বাবা! আমাকে চিনতে পেরেছো আমি তোমার প্রাণ সজনীর মা বলছি। হা!হা!হা!" অট্টহাসিতে হাসতে হাসতে বললো হাজেরা। "এই চিশতি! এদিকে দেখ, আমি তোর কাকিয়া। মনে আছে তোর জন্য আমার মেয়ে নিজের জীবন দিয়েছে? তুই আমার স্বামীকে মেরেছিস?? মনে আছে? মনপ আছে! তুই একই দিনে আমার বড় ভাইকেও হত্যা করেছিস? তুই কি ভেবেছিস, আমরা এত সহজে তোকে ছেড়ে দিবো? আরে!! তোকে মারার জন্য কম চেষ্টা করিনি আমরা কিন্তু তুই কিসের তৈরি কে জানে, মরতেই চাস নাহ! কিন্তু আজ তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে নাহ। এমন মরণ বান মারবো তোকে পালিয়ে কুল পাবি নাহ" ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললো হালিমা। "বাবা! তোমার প্রাণের নূরীর সম্পর্কে শুনবে নাহ? এটা তোহ জানো নিশ্চয়ই নূরীই হচ্ছে শঙ্খিনী!! তবে শঙ্খিনীর কোনো পুনর্জন্ম হয়নি। শঙ্খিনী শীতাক্ষীর সাথে হাত মিলিয়ে আমজাদ আর রমজানে সাহায্যে মিরানকে মেরেছিলো। মরতে মরতে মিরান শঙ্খিনীকে অভিশাপ দিয়েছিলো নূরী ঠিক ততদিন নিজের শক্তি আর রূপ ফিরে পাবে নাহ যতদিন নাহ তোর মধ্যে পঞ্চশক্তি জাগ্রত হচ্ছে। কিন্তু মিরানের অভিশাপ খন্ডন করে আমি আর হালিমা শঙ্খিনীকে নতুন রূপ দিয়ে নতুন পরিচয়ে গড়ে তুললাম নূরী করে। কিন্তু ওর হারিয়ে যাওয়া শক্তি ফিরিয়ে দিতে পারিনি কারণ ওটা ছিলো পঞ্চশক্তির মধ্যে। উহ!উহ! হয়তো এটাই ভাবছো এসব তোমার কেনো মনে পরেনি? হা!হা!হা! মনে পরবে কিভাবে? নূরী যখন ওর সব শক্তি ফিরে পায় তখন তোহ তুই নিজেই ওর স্থান তোর মাথায় করে দিয়েছিলি। ব্যস তখনই তোর মাথা থেকে মিরান হত্যার সকল স্মৃতি মুছে দিয়েছে। মেয়েটার এলেম আছে বলতে হবে। আমাদেরকেও টেক্কা দিয়ে দিলো। হা!হা!হা! নূরীকে তোহ খুঁজে পেলাম নাহ কিন্তু তোকে তোহ চোখের সামনেই পেয়ে গেছি। তোকে মরতে হবে চিশতি। তোকে মরতে হবে। কেউ বাঁচাতে পারবে নাহ তোকে।" এরপর ওরা দু'জনই চোখ বন্ধ করে সাত রঙের সাত সুতা হাতে নিয়ে বিড়বিড় করে তন্ত্রমন্ত্র পাঠ করে সেই সুতায় দম ফুক করে। এরপর সুতা গুলো একত্রে সেই কাপড়ের পুতুলটার হাত, পা এবং মাথায় বেঁধে দেয়। একটা ধারালো সুচ পুতুলটা বুকে বিধিয়ে দেয়। কিন্তু চিশতির কিছুই হলো নাহ। "আশ্চর্য! কি হচ্ছে এসব? ওর কিছুই হচ্ছে নাহ কেনো? এই মরণ বানের হাত থেকে বাঁচার সাধ্য কারো নেই তাহলে চিশতির কিছু হচ্ছে নাহ কেনো?" রাগে ফুসফুস করতে করতে বলছে হালিমা। "হা!হা!হা! তোরা আমার কিচ্ছু করতে পারবি নাহ। কি ভেবেছিস তোরাএ একাই চালাকি করতে জানিস! হা!হা!হা! তোরা শক্তির বলে লড়াইয়ে এগোতে পারিস কিন্তু আমরা বুদ্ধির জোরে। উল্টো গুণা শুরু কর"

-------

"চিশতি! অমাবস্যার রাত যত ঘনিয়ে আসছে ততই কিন্তু বিপদও ঘনিয়ে আসবে। আমাদের সাবধান হতে হবে। কিছু তদবির আছে যেগুলো তোমাকে দুশমনের সকল প্রকার অপঘাত থেকে রক্ষা করবে। ওগুলো নিয়ম অনুসরণ করে পাঠ করবে আল্লাহর ইচ্ছায় দুশমন তোমার উপর কোনো প্রকার আক্রমন করতে পারবে নাহ।

-নাছরুম্‌ মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন ক্বারীব। ফাল্লহু খাইরুন হা-ফিযাওঁ ওয়া হুয়া আরহামুর র-হিমীন [৪১ বার]

এই আয়াতটা দুশমনের সাথে দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত ৪১বার পাঠ করার পর ১০০১ বার বিসমিল্লাহ পাঠ করবে। এরপর তিনবার সূরা ফাতিহা পাঠ করবে এবং আরো একটি আয়াত পাঠ করবে এতে দুশমনের কোনো অপঘাত তোমার ক্ষতি করতে সক্ষম হবে নাহ। ওই দোয়া পাঠ শেষে আর একটি দোয়া আছে যেটা তিন বার খাস দিলে পাঠ করতে হবে। এবং ওটাই চূড়ান্ত আয়াত।

বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন।

আররহমা-নির রাহি-ম।

মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।

ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-ন

ইহদিনাস সিরাতা’ল মুসতাকি’-ম

সিরাতা’ল্লা যি-না আনআ’মতা আ’লাইহিম গা’ইরিল মাগ’দু’বি আ’লাইহিম ওয়ালা দ্দ-ল্লি-ন।[আমিন][৩বার]

-আল্লা-হু হাফীযুন'লাতীফুন ক্বাদীমুন্ রাব্বি হায়্যুন্ কায়ুমুন্ লা ইনামু।

- ইয়া হাকীমু ইয়া কারীমু ইয়া হাফিযু ইয়া হাফীযু ইয়া নাসিরু ইয়া রাক্বীবু ইয়া ওয়াকীলু ইয়া আলল্ল-হু ইয়া আল্লহু বিহাক্বকৃবি কাফ-হা-ইয়া-আইন-সোয়াদ হা মীম আ-আন'-সীন-কাফ হরয করদাম খোদ রা বা লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু হেসার করদাম খোদ রা বা মুহাম্মাদ রাসুলুল্লা-হ। [৩বার]

এরপর যদি কোনো ভাবে তোমার দুশমনের সাথে দেখা হয়ে যায়। তাদের মোকাবিলা করার উর্বে উক্ত আয়াত পাঠ করবে। তাহলে দুশমন তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে নাহ।

- ইন্না-জাআ'লনা-ফী-আ'না-ক্বিহিম্ আগলা-লান্ ফাহিয়া ইলাল্ আযক্বা-নি ফাহুম। মুক্বুমাহূন। ওয়া জাআ'লনা মিম্ বাইনি আইদীহিম্ সাদ্দাওঁ ওয়া মিন খালফিহিম্ সাদ্দান্ ফাআগশাইনা-হুম্ ফাহুম্ লা-ইয়ুবছিরূন।"

---------

"আআআআআ! চিশতি! তুই যাই করিস নাহহ কেনো আজকে তোকে মরতেই হবে!" এই বলে বিশাল এক খাঁড়া নিয়ে ছুটে আসে হাজেরা। আজকে চিশতিকে জবাই করে ফেলবে এটাই তার উদ্দেশ্য। ছুটে এসে যখনই চিশতির গর্দানে কোপ বসাবে তখনই কেউ একজন লম্বা কাঠের টুকরো ছুড়ে মারে হাজেরার দিকে। আঘাত পেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে যায় হাজেরা। কে বা কার এত দুঃসাহস দেখার জন্য হালিমা উক্ত স্থানে যেতে চাইলে চিশতি হালিমার পা ধরে রাখে। হালিমা সেখানে যাওয়ার জন্য একের পর এক লাথি দিয়েই চলেছে চিশতির বুকে। হেঁচকা টানে হালিমাকে ফেলে দিলো চিশতি। পরিস্থিতি বুঝে মূসা হুজুর এসে সেখানে হাজির হয়। হাতে থাকা মোটা লাঠি দ্বারা হালিমা এবং হাজেরাকে আঘাত করে চলেছে। "চিশতি! তোমার পালা। যেগুলো শিখিয়েছি এখন কাজে লাগানোর সময় এসেছে" চিশতির উদ্দেশ্যে বললো মূসা হুজুর। মূসা হুজুরের শেখানো কিছু আয়াত জোরে জোরে পাঠ করতে শুরু করলো চিশতি "ছুম্মুন্ বুকমুন উ'মইয়ুন্ ফাহুম্ লা-ইয়ারজিউ'ন্। আল্লাহুম্মা ছল্লি আ'লা-মুহাম্মাদিন সাইয়্যদিল ক্বা-হেরীনা আ'লা আ'দায়ে রব্বিল আ'লামীন।" উক্ত আয়াত পাঠ করে দুই হাতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ালো চিশতি। মাটিতে পরে থাকা খাঁড়াটা তুলে নিলো। "হ্যাঁ! তুমি পারবে চিশতি! তুমি পারবে। আজকে এরা বেঁচে ফিরলে হয়তো হাজারো মানুষের জীবন এভাবেই নষ্ট করবে। সেই সুযোগ ওদের আর দিও নাহ চিশতি।" মূসা হুজুরের অনুপ্রেরণা পেয়ে নিজের মধ্যে এক উদ্দীপনা খুঁজে পেলো চিশতি। অশুভ নাশ শক্তি অনুভব করছে নিজের মধ্যে। চোখ বন্ধ করে খাঁড়ার এক কোপে ধর থেকে মাথা আলাদা করে দিলো হাজেরার। ছিটকে গিয়ে রক্ত পরলো হালিমার মুখে। "কাকিয়া! আমার প্রিয় কাকিয়া! এবার তোমার পালা" খাঁড়ার একাংশ মাটিতে ঘষতে ঘষতে হালিমার দিকে এগিয়ে গেলো চিশতি। "আর সময় নষ্ট করো নাহ চিশতি। শেষ হাসিটা যেনো আলোই হাসে। কোনো আধার যেনো শেষ হাসি নাহ হাসে।" হালিমা ক্রুদ্ধ চোখে মূসা হুজুরের দিকে তাকিয়ে থেকে কোমর থেকে ছোঁড়া বের করে মূসা হুজুরের বুকে বিধিয়ে দিলো। কালক্রমে তখনই চিশতিও চোখ বন্ধ করে হালিমার ধর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এক বছর পর...........

"আমার রাত্রি মামুনি কই রেহ! উলে বাবা কত্ত কিউত আমার মামুনি ত্যাহ্! ভাবি ওকে দেখে রেখো। ওর যত্ন নিও। আল্লাহর রহমতে আবার যখন দেশে ফিরবো তখন আমার রাত্রি মামুনি আমাকে চাচ্চু বলে ডাকবে।" রাত্রিকে নিজের কোল থেকে ইছামতীর কোলে দিয়ে বললো চিশতি। "তুমি একদম চিন্তা করো নাহ চিশতি ভাইয়া! তোমার ভাতিজি এই সংসারের চোখের আলো। সবাই-ই ওকে খুব যত্নেই রাখবে। তুমি নিজের খেয়াল রেখো। সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে বিদেশ যাচ্ছো। ওখানে তোহ তোমাকে দেখে রাখার মতো কেউ নেই। নিজের খেয়াল নিজেকেই রাখতে হবে।" রাত্রিকে কোলে নিতে নিতে বললো ইছামতী। "কি দেবর ভাবির কথা বলা শেষ হলে এবার আমরা বের হই?" তড়িঘড়ি করে ডাকতে এলো হাসমি। "কিরে হলো তোদের! আছরের আযান হয়েছে সেই কখন। বারোটায় ফ্লাইট এখনো তোরা এখানেই বসে আছিস। এয়ারপোর্টে গিয়ে বসে থাকা ভালো তাও লেইট করা ভালো নাহ" চেঁচাতে লাগলো আমিনা বিবি। "এ-এ-এইতো আম্মি আসছি! চলো ভাইয়া!! মূসা হুজুর কি এয়ারপোর্টে আসবেন?" জিজ্ঞেস করলো চিশতি। "হ্যাঁ! আসবে হয়তো। তুই তোহ প্রথম দিনই বলেছিলি আসতে আমি আবার আজকে আসার জন্য বললাম। উনি বললো, আসবে। এখন চল দেরি হয়ে যাচ্ছে।" বললো হাসমি।