পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ০৪

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৪ · ২৮ পর্বের মধ্যে ৪

নিশি রাত। চারপাশ অন্ধকার। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। পরিত্যক্ত গ্রামের এক পরিত্যক্ত পুকুর ঘাটের পাশে একা একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শত ভয় ভীতি মনের মধ্যে আকড়ে ধরেও আয়াত পুকুরের পাশের সেই বোর্ডটা পরিষ্কার করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো। বাম হাত দিয়ে বোর্ডটা পরিষ্কার করলো। অন্ধকারে কিছুই বুঝা যাচ্ছে নাহ বোর্ডে কি লিখা আছে। পকেট থেকে ফোন বের ফ্লাশ জ্বালিয়ে দেখলো বোর্ডের উপর বড় বড় অক্ষরে লিখা রয়েছে "যতন রাজার ঘাট"। নামটা কেনো জানি নাহ আয়াতের খুব পূর্বপরিচিত মনে হলো। কিন্তু এর আগে তোহ কখনোই আয়াত এই ধরনের নাম শুনেনি বা এমন জায়গায় আসেনি। তাহলে কি করে এই নাম তার পরিচিত হবে.? পুকুরের পানিতে নজর দিতেই আয়াত লক্ষ করলো পুকুরের ঠিক মাঝখানে পানির স্রোতের গতি উতলা হয়ে খেলা করছে। চারপাশ নোংরা হয়ে আছে তা সত্ত্বেও আয়াত মন্ত্রবশীভূতের মতো পুকুরের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকে। এক সিঁড়ি দুই সিঁড়ি করে নামতে নামতে আয়াত পুকুরের শেষ কিনারায় চলে এসেছে। শেষ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছে আয়াত। পুকুরে ঢেউ এসে বার বার আয়াতের পা ভিজিয়ে দিচ্ছে। আয়াতও এটা তৃপ্তসহ অনুভব করছে। যেনো এই স্বাদ তার বহুযুগ আগে থেকেই চেনা। হাতে হাত ভর দিয়ে একটা সিঁড়ির উপর বসে পা দু'খানা পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে গালে হাত দিয়ে অধীর আকাঙ্খায় ডুবে আছে আয়াত। এ যেনো হাজার বছর পর কোনো এক শখের জিনিস ফিরে পাওয়ার আনন্দের ছাপ ফুটে উঠেছে আয়াতের চোখে মুখে। পুকুর ঘাটের মৃদু বাতাসে আয়াতের সোনালী রঙের চুলগুলো খেলা করছে। ইচ্ছে করেই বেঁধে রাখা চুলগুলো খুলে দিলো আয়াত। পানির টলমল শব্দ আর বাসাতের শোঁশোঁ শব্দ আয়াতের মনকে যেনো আরো রঙিয়ে দিচ্ছে। সে নিজেও জানে নাহ, এই অচেনা জায়গায় তার মধ্যে এ কোন অচেনা অনুভূতি কাজ করছে। তার মনের মধ্যে কিসের এত চেতনা জেগে উঠছে। পুুকুরের দূর পাড় থেকে ভেসে আসছে একটা ফুটন্ত পদ্মফুল। আয়াতের সৌন্দর্যের কাছে যেনো এই পদ্মফুলের সৌন্দর্য একদম ফিকে। কিন্তু অন্য ফুলের তুলনায় এই ফুলটার সৌন্দর্য অমাহিক। ফুলটার সৌন্দর্যের আলোয় পুরো পুকুর ঘাট জ্বলজ্বল করছে।

-------------------------------

ঘন জঙ্গলে দূর দূর পর্যন্ত দুরুদের দীর্ঘশ্বাসের শব্দ আর দুরুদের পিছু নেওয়া লোকটার আত্ম চিৎকার ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছে নাহ। মানুষের শরীরে এমন ভয়ংকর রূপ দেখলে যেকোনো সাধারণ মানুষই এমন ভীতু হয়ে যাবে। দুরুদ আবারও বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে লোকটার দিকে তাকালো। লোকটা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে দুরুদের দিকে তাকিয়ে রইলো। লোকটার দিকে তাকিয়ে টকটকে লাল চোখ আর বড় বড় দাঁত দেখিয়ে দুরুদ এটাই বুঝাতে চাইছে আজ তোর জীবনের শেষ দিন। লোকটা বার বার হাত জোড় করে দুরুদের কাছে নিজের জীবন ভিক্ষা চাইছে। কিন্তু এই দুরুদ যেনো এক অন্য জগতের দুরুদ। এই মুহুর্তে ওর কানে কারো কান্নার শব্দ পৌঁছাচ্ছে নাহ। এক ক্ষুদার্ত হায়েনার মতো হাঁক তুলছে দুরুদ। লোকটা দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে মাটিতে পরে গেলো। পা দিয়ে মাটি ঠেলে ঠেলে পিছনে পালানোর চেষ্টা করছে। সামনে থেকে হায়েনা রূপী দুরুদ ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ধেয়ে আসছে লোকটার দিকে। আশেপাশের পরিস্থিতি বোঝার আগেই দুরুদ ঝাপিয়ে পরলো লোকটার উপর। আত্মরক্ষার এক ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো লোকটা।

------------------------------

পুকুরে ভেসে আসা ফুটন্ত উজ্জ্বল পদ্মফুলটা বাসাতের তালে তাল মিলিয়ে পুকুরের একপাশ ওইপাশ খেলা করে বেড়াচ্ছে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অনেকক্ষণ ধরে ফুলটার দিকে তাকিয়ে আছে আয়াত। তার বার বার মনে হচ্ছে ফুলটা যেনো তাকে ডাকছে। মোহ কাটিয়ে উঠে দাঁড়ালো আয়াত। মনোবল ধার্য্য করেছে যেভাবেই হোক ফুলটা তাকে আনতেই হবে।

পানির টলমল শব্দ আর শোঁশোঁ শব্দ করে বইতে থাকা বাতাসে পদ্মফুলের মিষ্টি গন্ধ। উতলা হয়ে উঠেছে আয়াতের মন ভাসমান পদ্মফুলটা ছুঁয়ে দেখার জন্য। নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মনের ইচ্ছার প্রবনতাকে প্রাধান্য দিয়ে নেমে পরলো পুকুর ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে পানিতে। এক সিঁড়ি দুই সিঁড়ি করে নামতে নামতে আয়াত হাঁটুজল অব্দি নেমে দাঁড়িয়েছে পদ্মফুল ধরতে। এদিকে পদ্মফুলটাও যেনো আয়াতের ছোঁয়া পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফুলটাও ভাসতে ভাসতে একদম আয়াতের বাহুডোরে এসে থামলো। ফুলটাকে স্পর্শ করার জন্য ডান হাতের পাঁচাঙ্গুলি বাড়িয়ে দিলো আয়াত। আয়াতের নরম আঙ্গুলের ছোঁয়া পেয়ে পদ্মফুলের উজ্জ্বলতা যেনো আরো বেড়ে গেলো। এই অমাবস্যার কালো ঘন অন্ধকার কাটিয়ে মুহুর্তেই আলোকিত হয়ে গেলো। চারিদিকে আলোর ছুটাছুটি সেই আলোর রশ্মিতে পদ্মফুলটা এক নীল আভা চক্র হয়ে হাওয়ায় ভাসতে থাকে। আয়াত অবাক দৃষ্টিতে নীল আভা চক্রের দিকে তাকিয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে দিলো সেই আভা চক্রকে ধরার জন্য। যেই নাহ আয়াতের আঙ্গুল সেই আভা চক্রকে স্পর্শ করলো সাথে সাথে আয়াতের নীল নয়না চোখের রঙ জ্বলজ্বল করতে শুরু করলো। এ যেনো এক নীলরত্নপ্রভার চোখ। চোখ থেকে তরতর করে অগ্নীভৌ ছুটছে। যেনো হাজার বছরের ক্ষোভ জমা হয়ে আছে এই চোখে। প্রতিশোধের আগুন, ঘৃণা, আর রয়েছে স্মৃতি ভুলতে নাহ পারার কষ্ট। টলটলে স্বচ্ছ পানিতে আয়াত স্পষ্ট নিজের চেহারা দেখতে পাচ্ছে। চোখ দু'টো নীল-ডোবানো মেঘপথে ভেসে যাওয়া লালরক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। হাতের নখগুলো অস্বাভাবিক ভাবে বড় হয়ে গেছে। আর রয়েছে শরীর জুড়ে ডোরাকাটা বিশিষ্ট তিনটি করে কালো দাগ। হঠাৎ করে কেউ দেখলে বাঘ ও মানুষের মধ্যে গুলিয়ে ফেলবে আয়াতকে। আয়াত নিজের চেহারা দেখে নিজেই অবাক। নিজের এ কেমন রূপ দেখতে পাচ্ছে সে।

জঙ্গলের ভিতর থেকে ছুটে আসছে মাফিয়া গ্যাং-এর এক লোক। চোখে মুখে ফুটছে গম্ভীরতার ছাপ। আয়াতকে আজ হাতের নাগালে পেলে মেরেই ফেলবে এই প্রতিজ্ঞা করে ছুটে এসেছে আয়াতের পিছনে। পিছু করতে করতে মাফিয়া গ্যাং-এর সেই লোকটা এখন জঙ্গলের সরু পথে এসে থেমেছে। সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যায়ে লোকটি সেই পরিত্যক্ত পুরনো গ্রামের কাছে এসে দাঁড়ালো। এত খোঁজার পরও যখন কাউকে পেলো নাহ তখন লোকটা এক আকাশ পরিমাণ ক্ষোভ নিয়ে আবারও ফিরে যেতে লাগে। পিছন ঘুরে সবেমাত্র এক কদম পা ফেলে তখনই দূর থেকে এক অদ্ভুত শুনতে গোঙ্গানির শব্দ ভেসে আসে লোকটির কানে। গোঙ্গানির শব্দের পিছু করতে করতে লোকটি যতন রাজার সেই পুকুর ঘাটে কাউকে বসে থাকতে দেখলো। দূর থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে নাহ ওখানে কে বসে আছে। লোকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনের মধ্যে একটু সাহস সঞ্চয় করলো এগিয়ে গিয়ে দেখার জন্য, যে ঘাটে কে বসে আছে। টিপ টিপ করে হেঁটে লোকটা ঘাটের সামনে আসতেই বুঝতে পারলো এটাই সেই মেয়ে যাকে এতক্ষণ ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছে সে। রাগ আর ক্ষোভ নিয়ে সামনপ এগিয়ে গেলো লোকটা। "এই মেয়ে! তুই এখানে কি করছিস.? তুই জানিস তোকে খুঁজতে খুঁজতে আমার হাল বেহাল হয়ে গেছে। তোদের জন্য আমাদের লিডার মারা গেছে। আমি তোহ তোকে খুঁজে পেলাম এবার তোর পার্টনারকেও খুঁজে বের করবো।" এই বলে লোকটা পিছন থেকে আয়াতের হাত খপ করে ধরে সামনের দিকে পা এগিয়ে দেয়। কিন্তু আয়াত শক্ত হয়ে এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক পা-ও নড়ছে নাহ। আয়াতের এমন দুঃসাহস দেখে লোকটার রাগে শরীরের রক্ত টগবগ টগবগ করছে। আয়াতকে মারবে নাহ ধরবে দিশা খুঁজে পাচ্ছে নাহ। আয়াতের হাত ছেড়ে দিয়ে আবারও বললো "তোর এত সাহস তুই এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস!" লোকটার মুখে এই কথার শোনার পর আয়াত পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে লোকটার দিকে চোখ তুলে তাকায়। আয়াতের আগ্নেয়গিরির মতো জলন্ত চোখ দেখে লোকটা অট্টহাসি দিয়ে বললো "বাহ্! ভয় দেখানোর জন্য ভালোই জাদু শিখেছিস! এই সত্যি করে বল তোহ এটা কোন প্রোডাক্ট নাকী চোখে ধূলো দেওয়ার জন্য ভেলকি দিচ্ছিস.?" এবার আয়াত কিছুটা রাগে বাঘের মতো হুংকার দিলো। একটা বাঘ যেমন ক্রোধে মুখ খুলে তার বড় বড় দাঁতগুলো বের করে বিচ্ছিরী এক হুংকার দেয় আয়াতও ঠিক তেমনই দুই পাশের বড় বড় দু'টো দাঁত বের করে জ্বলজ্বলে চোখ নিয়ে লোকটার দিকে তেরে গেলো। এমন ভাবে তেরে যেতে লাগলো যেনো একটা ক্ষুদার্ত বাঘ বহুদিন পর শিকারে নেমেছে। লোকটা এবার কিছুটা ভয় পেলো। পিছন ঘুরে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য ছুটে এক দৌড় দিলো।

পুকুর ঘাট থেকে অনেকটা দূরে চলে এসেছে লোকটা। এখন আয়াত চাইলেও লোকটাকে আর খুঁজে পাবে নাহ। এক দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো মাফিয়া গ্যাং-এর লোক। এক মুহুর্তের জন্য মনে হয়েছিলো এই বুঝি কোনো মানুষ রূপী ভয়ংকর জন্তুর হাতে প্রাণঘাতি হবে। কিন্তু ভাগ্যের কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া জানিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলো লোকটা। প্রাণ হারানোর ভয়ে লোকটার শরীর ঘেমে একাকার। মাথা থেকে টপটপ করে হিমশীতল ঠান্ডা স্রোত বইছে। অনেকক্ষণ দৌড়ে লোকটা ভিষণ ক্লান্ত। হাঁটুতে ভর দিয়ে থামলো একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য। মাথা উঁচু করে সামনে তাকিয়ে দেখে ঘাড় বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আয়াত। দেখে মনে হচ্ছে কোনো অশরীরী ভর করেছে আয়াতের মধ্যে। আগের বারের মতোই সেই অদ্ভুত গোঙ্গানি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। চোখের জ্বলজ্বল আলো দিয়ে যেনো এক্ষুনি লোকটিকে ভস্ম করে ফেলবে আয়াত। লোকটা আবারও পিছন ফিরে দৌড়াতে দৌড়াতে সেই পুকুর ঘাটের সামনে আসে। সামনে পুকুর পিছনে জঙ্গল মাঝখানে লোকটি একা নিজের জীবন নিয়ে পালাচ্ছে আয়াতের হাত থেকে। ভয়ে জড়সড় হয়ে এককোনায় চুপটি করে লুকিয়ে আছে সেই লোকটি। যেনো হাজার খুঁজেও আয়াত তাকে নাহ পায়। আশপাশে কোনো পাতা পড়ার শব্দ কানে ভেসে এলেও পিলে চমকানোর মতো অবস্থা হয়ে আছে লোকটার। এক কথায় আয়াতের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার ভয়ে কাঁপছে রীতিমতো। কারো পায়ের শব্দ শুনে লোকটা যেনো ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবে। কে এসেছে দেখার জন্য উঁকি দিয়ে দেখে কেউই নেই। যাক আবারও বাচলো। মাথা সরিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখে আয়াত ওর ভয়ংকর রূপ নিয়ে পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে লোকটা এক আত্ম চিৎকার দিয়ে পালাতে চেয়েও পালাতে পারছে নাহ। ভয়ে লোকটার শরীর অবশ হয়ে গেছে। ওদিকে আয়াত ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে লোকটার দিকে। একদম সামনে এসে শরীর ঝুঁকে দাঁড়াল আয়াত। ডান হাতের শাহাদাৎ আঙ্গুলটা লোকটার থুতনিতে ঘষতে ঘষতে ওর হাতের বড় বড় নখ দিয়ে লোকটার চেহারায় আঘাত করে। লোকটা দুই হাত দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল আঁকড়ে ধরে মাটিতে শুয়ে ছটফট করছে। লোকটার যন্ত্রণাদায়ক ছটফটানি আয়াতের মনকে শান্তি দিচ্ছে নাহ। আয়াত চাচ্ছে লোকটা আরো কষ্ট পাক। ঝাপিয়ে পরলো শরীরের সব শক্তি দিয়ে লোকটার উপর। একের পর এক নখ দিয়ে আঘাত করছে। সব শেষে লোকটার গলায় কামড়ে ধরলো আতায়। সে কি ভয়ংকর আত্ম চিৎকার দিয়ে সেখানেই জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো লোকটা।

-------------------------------

"কে আপনি.? আপনাকে তোহ এর আগে কখনো দেখিনি.? আ-আর এটা কোন শক্তি.? আ-আমি তোহ এই শক্তির সাথেও পরিচিত নই.? আ-আর আমার পঞ্চশক্তি কোথায়.?" আকুল জানার ইচ্ছে নিয়ে ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলছে আয়াত।মাফিয়া গ্যাং-এর লোকটাকে হত্যা করার পর যখন আয়াত নিজেই গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে পুকুর ঘাটে বসে বসে ভাবছিলো যে তার মধ্যে এই শক্তি এলো কোত্থেকে তখন পিছন থেকে এক বিশাল দানবীয় আকৃতির ছায়ামূর্তি আয়াতকে ডাক দেয়। এক মুহুর্তের জন্য মনে হয়েছিলো এই ছায়ামূর্তিই পারবে আয়াতের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে। তাই সাত পাঁচ নাহ ভেবে সেই ছায়ামূর্তির উদ্দেশ্যই প্রশ্ন ছুঁড়ে মারলো আয়াত।

"তুমি আমাকে চিনতে পারছো নাহ.?" বললো আয়াতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল ছায়ামূর্তিটা। "নাহ! নাহ! নাহ! আমি আপনাকে এবং এই শক্তি কোনোটাকেই চিনতে পারছি নাহ। এই শক্তি এর আগে কখনো উপলব্ধি করিনি আমি।৷ তবে এতটুকু বুঝতে পেরেছি, এই শক্তির ক্রোধ অনেক তীক্ষ্ণ। যে কাউকে মুহুর্তেই শেষ করে দিতে পারে। দোষ, নির্দোষ বিচার বিবেচনা করে নাহ এই শক্তি।" আবারও ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললো আয়াত। "তবে শুনো কে আমি আর কি বা এই শক্তি" এই বলে আয়াতের সামনে থাকা ছায়ামূর্তিটা প্রকাশ্যে এলো। এক বিশাল দানবীয় চেহারা তার। মাথার চুলে হাজারো জট লেগে আছে। টকটকে লাল চোখ। চোখের কোঠায় গাঢ় করে কালো লেপ্টে দেওয়া। শুষ্ক ত্বকে ফেটে যাওয়া ঠোঁট। এমনিতেই দেখতে ভয়ংকর লাগছিলো। তার কণ্ঠ যতটা ভয়ংকর তাকে দেখতে ছিলো তারচেয়েও বেশি ভয়ংকর। আবেগভূত হয়ে আয়াত তার দিকে চেয়ে রইলো। যেনো তাকে এক যুগ নাহ বরং বহুযুগ ধরে চিনে। যেনো শুরু থেকেই তার হাত ধরে যুদ্ধে নেমেছে আয়াত। মায়াভরা কণ্ঠে আয়াত আবারও জিজ্ঞেস করলো "সত্যি করে বলুন নাহ কে আপনি.?" আয়াত খেয়াল করে দেখলো ওর প্রশ্ন শুনে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়ামূর্তিটির চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ে পরলো। "আমি জটাক্ষী। ত্রেতা যুগ থেকে কলিযুগ পর্যন্ত সবাই আমাকে সাক্ষী নামেই চিনতো। তারপর৷ যখন চিশতি অর্থাৎ তোমার বাবা পঞ্চশক্তি ত্যাগ করলো তখন আমি এবং চিশতির মধ্যে থাকা আরো এক শক্তি যার নাম ছিলো জটায়ু আমরা দু'জনই তোমার বাবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাই। সময়ের সাথে সাথে আমাদের দু'জনের শক্তি একত্র হয়ে সৃষ্টি হয় এক নতুন শক্তির যার নাম 'জটাক্ষী'।৷ হ্যাঁ! আমি একা নই আমার মধ্যে রয়েছে আরো এক শক্তি। আর শুনে রাখো! এই যুদ্ধে তুমি একা নও তোমার সাথে 'জটাক্ষী' অর্থাৎ তোমার বাবার ডান হাত ও বাম হাতও আছে।" অবাক হয়ে শুধু শুনেই যাচ্ছে আয়াত। নতুন করে কিছুই বলার নেই তার কাছে। প্রশ্ন শুধু একটাই তার মধ্যে এটা কোন শক্তি আবির্ভূত হলো। যে শক্তি সম্পর্কে আয়াত নিজেও জানে নাহ। "তুমি হয়তো এটাই ভাবছো যে তোমার মধ্যে এ কোন শক্তির আবির্ভাব হলো যা তুমি নিজে কখনোই উপলব্ধি বা এর সম্পর্কে কখনোই শুনোনি। চিন্তা করো নাহ এটা তোমার বাবার উপাসনার ফল। ত্রেতা যুগে তোমার বাবা পঞ্চশক্তির বাহিরেও নিজের জন্য আলাদা করে শক্তির উপাসনা করেছিলো যার ফল হিসেবে ব্যাঘ্র শক্তি পেয়েছিলো। সেই ব্যাঘ্র শক্তি ত্রেতা যুগে লাভ করতে নাহ পারলেও যখন সে চিশতি রূপে দ্বিতীয় বার জন্ম নেয় তখন এই শক্তি পায়। সব শেষে যখন তোমার বাবা পরিবারের জন্য নিজের শক্তি বিসর্জন দেয় তখন হয়তো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলো যার কারণে তার মধ্যে থাকা এই ব্যাঘ্র শক্তিকে পদ্মফুলের মধ্যে সঞ্চয় করে রেখেছিলো আর বলে গিয়েছিলো এই ফুল সেদিনই ফুটবে সেদিন এই ব্যাঘ্র শক্তির আসল হকদার এই যতন রাজার ঘাটে পা রাখবে"

-----------------------------

এদিকে দুরুদ গভীর চিন্তা নিয়ে ছুটে চলেছে। একবার এদিকে একবার ওদিক। দিগদিগন্ত হয়ে শুধু ছুটেই চলেছে। হয়তো কাউকে খুঁজছে!! কিন্তু কাকে.? "আইদা! আইদা! কোথায় তুমি.? আমার ডাক শুনতে পাচ্ছো তুমি.? আইদা!! আইদা!!" আইদা নামে কাউকে খুঁজতে খুঁজতে দুরুদ ঘেমে একাকার। কিন্তু কোত্থাও খুঁজে পাচ্ছে নাহ। কিন্তু কে এই আইদা.? আর দুরুদের সাথেই বা তার কি সম্পর্ক.?