পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ১৪
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৪ · ২৮ পর্বের মধ্যে ১৪
সকাল সকাল পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে আইদার। ঘুম থেকে উঠতেই জানালা দিয়ে দেখতে পেলো পূর্ব দিগন্তে নতুন দিনের নতুন সূর্য উদয় হলো। চোখ ডলতে ডলতে ওয়াশরুমে গিয়ে ব্রাশের মধ্যে পেস্ট টিপে বের করে দাঁত ব্রাশ করতে আরম্ভ করলো আইদা। যেহেতু হোস্টেলে থাকে তাই সবাইকেই রুলস এন্ড টাইম মেইনটেইন করে থাকতে হয়। আইদাও নিজের পর্যাপ্ত পরিমাণে সময় অতিবাহিত করে নিজেকে পরিপাটি করে বেরিয়ে এলো। পুুরো ফ্রেশ হয়ে হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজের ফোন বুঝে নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো আইদা সাথে ছিলো তাইয়্যেবাসহ আরো কয়েকজন। কলেজ হোস্টেল থেকে কিছুটা দূরে থাকার কারণে তারা প্রতিদিন হেঁটেই কলেজে যায় আজও তার ব্যতিক্রম করলো নাহ। সবাই হেঁটে হেঁটে কলেজের দিকে এগোচ্ছিলো তখনই আইদার ফোনে কল আসে। ব্যাগের পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে বাসা থেকে কল দিয়েছে। আইদা খুশিতে চকমকি কলটা রিসিভ করে বললো "আসসালামু আলাইকুম! কেমন আছো তোমরা??" অপর প্রান্ত থেকে জবাবে অলিভিয়া বললো "ওয়া আলাইকুমুস সালাম মেরি জান। আলহামদুলিল্লাহ আমরা ঠিক আছি তবে তোমার বাবা তবিয়াত একটু খারাপ আছে" আইদা চিন্তিত সুরে বললো "কি বলছো?? কি হয়েছে বাবার?" অলিভিয়া কোনো জবাব নাহ দিয়ে বললো "আজকে তুমি আসছো তোহ?" গতকাল কম্পিটিশনে প্রথম হওয়ার খুশিতে ভুলেই গেছে আজকে যে তাকে বাড়ি ফিরতে হবে। আইদা আমতা আমতা করে বললল "ইয়ে মানে আম্মি! তোমাকে বলতে ভুলে গেছি, আমি গতকাল কম্পিটিশনে ফার্স্ট হয়েছি। আর সেই খুশিতে ভুলেই গেছি আজকে যে আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে। তুমি টেনশন করো নাহ আমি কিছুক্ষণ পর রেডি হয়ে গাড়িতে উঠেই তোমাকে জানাবো।" আইদার বাড়ি ফেরা এবং কম্পিটিশনে ফার্স্ট হওয়ার কথা শুনে অলিভিয়া অনেক খুশি হয়ে গেলো। "মাশাল্লাহ! আমার মালুম ছিলো যে তুমি কম্পিটিশনে ফার্স্ট হবেই। ওহ্ তোমার বাবা কথা বলবেন তোমার সাথে!" বাবার সাথে কথা হবে শুনে আইদাও খুশি হয়ে বললো "ঠিক আছে দাও" চিশতি অপর প্রান্ত থেকে কাঁপা কাঁপা গলায় আইদাকে উদ্দেশ্য করে বললো "হ্যালো! আইদা মামনি কেমন আছো ব্যাটি?" অনেক দিন পর বাবার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলো আইদা। তাও আবার অসুস্থ কণ্ঠস্বর। কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো আইদার। ইচ্ছে করছিলো এক্ষুনি ছুটে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরবে। তারপরও নিজেকে সামলে নিয়ে জবাব দিলো "আসসালামু আলাইকুম বাবাজান! শুনলাম আপনার তবিয়ত নাকী খারাপ। আপনি টেনশন করবেন নাহ আমি আজকেই আসছি আর যে কয়দিন থাকবো আপনাকে দেখভাল করবো। আরর আমাকে নিয়ে চিন্তা করবেন নাহ আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।" এতদিন পর মেয়ের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে যেনো চিশতিরও চোখে অশ্রু আসে আসে অবস্থা। বাম হাতে চোখের পানি মুখে উত্তর দিলো চিশতি "ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আচ্ছা মামনি তুমি সাবধান মতো এসো। তোমাকে একটা কথা বলতাম, তোমাকে নাহ জানিয়ে তোমার বাবা, আম্মি একটা ডিসিশন নিয়েছি!" আইদা ইতস্তত কণ্ঠে বললো "কি এমন ডিসিশন নিয়েছেন যা আমাকে জানাতে হবে। আর আমার জীবনে আপনারা যে ডিসিশন নিয়েছেন আমি কি কখনো আপত্তি করেছি বলুন? আগেও করিনি এবারও করবো নাহ। আমি জানি আমার বাবা, আম্মি আমার জন্য যেটা সঠিক সেটাই করবে। তাও যদি আপনার সংকোচ হয় তোহ বলতে পারেন!" অপর প্রান্ত থেকে মনকে শক্ত করে জবাব দিলো চিশতি "আমরা তোমার বিয়ে ঠিক করেছি ব্যাটি" আইদা মাথায় আকাশ ভাঙ্গা অবস্থায় পরে গেলো। কি হলো নিজেও বুঝতে পারলো নাহ। সে কল্পনাও করতে পারেনি তার বাবা মা তাকে নাহ জানিয়ে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিবে। কাঁপা কাঁপা গলায় বললো আইদা "বি-বি-বিয়ে?" চিশতিও অপর প্রান্ত থেকে বললো "হ্যাঁ বিয়ে! উৎসকে তোহ চিনোই! আমরা ওর সাথেই তোমার বিয়ে ঠিক করেছি। তোমার কোনো আপত্তি নেই তোহ??" আইদা কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে নাহ। আজ পর্যন্ত কোনোদিন সে বাবা মায়ের অবাধ্য হয়নি আর অন্য দিকে গতকালই সে আরেকজনকে কথা দিয়েছে তার সাথে সারাজীবন কাটাবে। দুইজন দুইজনকে নিয়ে বুনেছে এক অকল্পনীয় কল্পনার জগৎ। আইদা নিশ্চুপ সুরে মিনমিনে কণ্ঠে জবাব দিলো "আপনাদের যা ভালো মনে হয়" এই বলে কল কেটে দিয়ে মন খারাপ করে হোস্টেলের দিকে পা বাড়ায় আইদা। আইদাকে হোস্টেলে ফিরে যেতে দেখে তাইয়্যেবা প্রশ্ন করে "কিরে হোস্টেলে চলে যাচ্ছিস কেনো? কলেজে যাবি নাহ??" আইদা ঘাড় নাড়িয়ে জবাব দিলো "নাহ" আইদাকে হঠাৎ এমন মনমরা হয়ে যেতে দেখে সবাই টেনশনে পরে গেলো "কেনো? কি হয়েছে? খুল বল আমাদের?" আইদা হাল্কা সুরে বললো "বাড়ি যেতে হবে সামনেই আমার বিয়ে" আইদার জবাব শুনে সবাই যেনো আকাশ থেকে পড়লো। সবাই একে অপরের দিকে তাকাতাকি করছে ওদিকে আইদা কারো সাথে কথা নাহ বাড়িয়ে সোজা হোস্টেলে চলে যায়। অন্য দিকে চিশতিকে উদ্দেশ্য করে বললো অলিভিয়া "সবকিছুতে কি একটু তাড়াহুড়ো হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে নাহ?" চিশতি অলিভিয়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো "৩০ বছর আগে পঞ্চশক্তি ত্যাগ করার পর টানা ৫টা বছর আমার সাথে কি কি ঘটেছে এগুলো তুমি ভুলে গেলেও আমি ভুলিনি অলিভিয়া। তোমার মনে রাখার কথাও নাহ কারণ প্রথম ৫ বছর তোহ তুমি আমার পাশে ছিলে নাহ, তোমার সাথে তোহ পঞ্চশক্তি ত্যাগ করার ৫ বছর পরেই আমার পরিচয় হয়। তারপর সেসব নাহয় বাদই দিলাম, বিদেশে যাওয়ার পর আমার কষ্টে কামানো টাকাগুলো নিয়ে আমার ফ্যামিলি আমার সাথে কি কি করেছে এগুলো তোহ তোমার মনে থাকার কথা? আমি চাই নাহ আমার মেয়ের উপর এসবের কোনো ছায়া পরুক।"
গল্প শুরু এক নতুন অধ্যায়, ৩০ বছর আগে...........
চাঁদনী রাত। শান্ত হয়ে আছে যতন রাজার ঘাট। চারিদিক জ্বলজ্বল করছে আলোয়। আজই একসাথে নিজের শত্রু তালিকা থেকে চারজনকে শাস্তি দিলো রাজকন্যা চন্দ্রাবতীর পুনর্জন্ম নেওয়া মানব চিশতি কুরেশি। তার সাথে ফিরে পেয়েছে তার অসম্পূর্ণ নাহ পাওয়া পঞ্চশক্তি ও হারিয়ে যাওয়া ব্যাঘ্র শক্তি। শক্তি অর্জনের সাথে ফিরে পেলো তার হারিয়ে ফেলা ভালোবাসার মানুষকে। কিন্তু তারপরও উচাটন হয়ে আছে চিশতির মন। শান্ত পরিবেশে অশান্ত মন নিয়ে যতন রাজার ঘাটের দিকে ছুটে এসেছে চিশতি। "সাক্ষী! জটায়ু! তোমরা এক্ষুনি একবার আমার সাথে দেখা করো।" সাক্ষী আর জটায়ুকে উদ্দেশ্য করে বার বার ডেকে যাচ্ছে চিশতি। মুহুর্তেই যতন রাজার ঘাটের পানি টলতে শুরু করে বইতে থাকে প্রবল হাওয়া। চিশতির সামনে এসে দাঁড়ালো সাক্ষী আর জটায়ু। "কি হয়েছে? এত জরুরী তলব কেনো?" বললো জটায়ু। "ডেকেছে যেহেতু নিশ্চয়ই কোনো নাহ কোনো কারণ আছে, একটু ধৈর্য ধরো জানতে পারবে। তোমাকে একা নয় আমাকেও ডেকেছে ভুলে যেও নাহ।" জটায়ুকে উদ্দেশ্য করে বললো সাক্ষী। "উফফ! এই সময়েও তোমরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে যাচ্ছো। মনোযোগ সহকারে আমার কথা শুনো।" উচ্চস্বরে ধমক দিকে মুহুর্তেই মিনমিনে কণ্ঠে বললো চিশতি। "হ্যাঁ বলো কি জন্য ডেকেছো।" একসাথে বললো সাক্ষী আর জটায়ু। "আজ তোমাদের সাহায্যে চারজন কালোজাদুকে একসাথে শাস্তি দিতে পেরেছি আমরা। কিন্তু এখনো ২জন বাকি আছে। আমার মন বলছে ওই ২জন কোনো নাহ কোনো ভাবে আবারও পঞ্চশক্তি হাসিল করতে আসবে। তবে আমার মন বলছে পঞ্চশক্তি আর ব্যাঘ্র শক্তি একে অপরের রক্ষাকবচ। এজন্য আমি ঠিক করেছি পঞ্চশক্তির সুরক্ষার জন্য ব্যাঘ্র শক্তিকে লুকিয়ে রাখবো।" সাক্ষী আর জটায়ুকে উদ্দেশ্য করে বললো চিশতি। "আমরাও এটাই মনে হয় পঞ্চশক্তি আর ব্যাঘ্র শক্তি একে অপরের রক্ষাকবচ।" বললো সাক্ষী। "তাহলে আর কি করার তোমরা যেহেতু এটাই ভাবছো তাহলে আমি আর বাধা দিয়ে কি করবো। যেভাবে ভালো হয় করো" বললো জটায়ু। যেনো সে ভবিষ্যতের অনেক কিছুই আভাস করতে পারছে নাহ চিশতি কিংবা সাক্ষী কেউই আভাস পাচ্ছে নাহ। "আজ, এখন, এই মুহুর্তে এই যতন রাজার ঘাটের হাজারটা পদ্মফুলের মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র যে ফুলটি সেই ফুলটির মধ্যে আমি আমার ব্যাঘ্র শক্তিকে অর্পণ করলাম। ঠিক ততদিন নিজের মধ্যে এই শক্তিকে আগলে রাখবে যতদিন নাহ এই ব্যাঘ্র শক্তির আসল উত্তরাধিকারী এই যতন রাজার ঘাটে পা নাহ রাখে।" মুহুর্তেই চিশতির কপাল চকমে উঠলো। কপাল বেয়ে পরছে উজ্জ্বল খয়েরী রঙের আলো। হঠাৎ চিশতির কপাল থেকে সেই আলো বেরিয়ে এক পদ্মফুলের মধ্যে স্থান গড়ে নিলো। আর সাথে সাথে ওই ফুলটার আলোয় আলোকিত হয়ে গেলো চারপাশ। আবার মুহুর্তেই নিভু হয়ে গেলো গেলো সাথে যতন রাজার ঘাট থেকে হারিয়ে গেলো সেই পদ্মফুল।
রাতের অন্ধকারে যতন রাজার প্রাসাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে তিনটি ছায়া মানব। ২জনকে অস্পষ্ট মনে হলেও চাঁদের আলোয় একজনের মুখ ঠিকই দেখা যাচ্ছে। সে হলো নূরী। নূরীর বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো ক্ষিপ্ত কণ্ঠে নূরীকে বললো "তুই চিশতির সাথে মিলিত হয়ে কাজটা ঠিক করলি নাহ নূরী। এর জন্য তোকে পস্তাতে হবে।" কর্কশ গলায় বললো প্রথম ছায়া মানবটি। কণ্ঠ শুনে বুঝা যাচ্ছে এটা কোনো মহিলা কণ্ঠ। "হা!হা!হা! পঞ্চশক্তির জন্য শুধু ওদের কেনো তোদেরকেও মারতে আমার হাত কাঁপবে নাহ।" অট্টহাসিতে হাসতে হাসতে বললো নূরী। নূরীর হাসি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে দ্বিতীয় ছায়া মানবটি বললো "তুই হয়তো ভুলে গেছিস তোর এই শক্তি, এই রূপ সবকিছু আমাদের ২জনের কালো জাদুর ফলেই পেয়েছিস নয়তো এখনো তুই মিরানের অভিশাপে পুড়তে থাকতি।" দ্বিতীয় ছায়া মানবটির কণ্ঠ শুনেও মনে হচ্ছে এটাও কোনো মহিলা। কিন্তু কারা এরা?? কি এদের পরিচয়? এরাই কি সেই বাকি দুই কালোজাদুকর নাকী এদেরও রয়েছে নতুন কোনো পরিচয়। হাসি থামিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ছায়া মানবটিকে উদ্দেশ্য করে বললো নূরী "শোন! পঞ্চশক্তির জন্য আমি সব করতে পারি। এই শক্তির জন্যই আমি শীতাক্ষীর সাথে হাত মিলিয়েছি। আররর ওরা তোহ শীতাক্ষীর লোক হয়েও আমার কাছে প্রতারিত হলো, তাহলে ভাব তোরা তোহ শীতাক্ষীর বিপক্ষের তোদের মারতে আমার একটুও বাঁধবে নাহ।" রাগে গজগজ করতে করতে প্রথমজন বললো "সেদিন তোর শীতাক্ষী কোথায় ছিলো যেদিন মিরান তোকে অভিশাপ দিয়েছিলো? তুই তোহ প্রথম থেকেই ওদের দলে ছিলি তাহলে কেনো তোকে নতুন রূপ দিলো নাহ? কেনো তোকে আলাদা করে দিয়েছিলো নিজেদের দল থেকে? তুই আমাদের সাথে চুক্তি করেছিলি!! তুই আমাদের সাথেও বেইমানি করলি। এর ফল তোকে ভোগ করতে হবে নূরী। আর চিশতিকে তোহ আমরা দেখে নিবো। ওকে শান্তিতে থাকতে দিবো নাহ আমরা।" নূরী কিছুটা দূরে এসে হাসতে হাসতে বললো "তোরা চিশতির সাথে কি করবি নাহ করবি তোদের ব্যাপার! শীতাক্ষীর দলে এখন আমিসহ তিনজন আছি বাকি একজনকেও ছলেবলে কৌশলে পথ থেকে সরিয়ে দিবো আর থাকবো আমি আর শীতাক্ষী। একবার পঞ্চশক্তি আদায় করতে পারলে শীতাক্ষীকেও পথ থেকে সরিয়ে দিবো।" মুহুর্তেই প্রসঙ্গ পাল্টে দ্বিতীয়জন প্রশ্ন করলো "এক মিনিট!! চিশতির যখন মিরান আর সঙ্খিনী কথা মনে পরেছিলো তখন এটাও তোহ মনে পরার কথা ছিলো যে তুইই মিরানকে হত্যা করেছিস??" নূরী আবারও হাসতে হাসতে বললো "হা!হা!হা! আমি এতটাও কাঁচা কাজ করি নাহ। চিশতি যখন ওর শত্রু নিধন করছিলো তখন আমি ওর মাথায় ছিলাম। আস্তে আস্তে ওর স্মৃতি থেকে মিরান হত্যার স্মৃতি শুষে নিয়েছি। এজন্যই চিশতি বুঝতেও পারেনি আমিই ছিলাম মিরানের হত্যাকারী। ততদিন মনে পরবে নাহ যতদিন আমি চাইবো নাহ!"