পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ০৩

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৩ · ২৮ পর্বের মধ্যে ৩

সুনশান পরিবেশ। পুরনো বাড়ি। চারিদিকে ধুলোবালি আর ময়লার ছড়াছড়ি। পুরো বাড়ি জুড়ে মাকড়শার জাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বাড়ির বাইরে কুকুরের ঘেউঘেউ ডাক আর শান্ত পরিবেশে গাছের ডালে বসে ডেকে যাচ্ছে লক্ষী-প্যাঁচা। এদিকে আয়াত ও দুরুদ মাফিয়া গ্যাং'দের বুঝানোর অনেক চেষ্টা করছে যে এভাবে কারো অপারেশন করা সম্ভব নাহ। কিন্তু মাফয়া গ্যাং ওদের কথা শুনতে নারাজ। তাদের কথা একটাই দুরুদকে যেভাবেই হোক তাদের লিডারকে বাঁচাতে হবে নয়তো আয়াত ও দুরুদ দুজনকেই জ্যান্ত কবর দিবে। আয়াত তোহ বার বার দুরুদের দিকে আড়দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে কারণ সে আসতে চায়নি দুরুদ আসার জন্য তাকে জোড় করেছে। এখন ওর জন্য আয়াতকে এই মহাবিপদে পরতে হলো।

-----------------------

দুরুদকে যখন কেউ পিছন থেকে কেউ ডাকে তখন আয়াত ও দুরুদ দু'জনেই পিছনে তাকিয়ে দেখে কিছু লোক একটা কালো গাড়ির জানালার কাঁচ নামিয়ে তাদের ডাকছে। ওরা দু'জনই এক পা দু পা করে গাড়ির দিকে এগিয়ে দেখে ভিতরের লোকগুলো সবাই কালো শার্ট, ব্লেজার আর চোখে কালো সানগ্লাস পড়া। ওদের গাড়ির আসনে আসতে দেখে ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা৷ লোকটা কর্কশ গলায় বললো "সময় নষ্ট করবেন নাহ। তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠুন!" "কিন্তু আপনাদের সাথে কেনো যাবো.?" বললো দুরুদ। "আপনাকে কেনো আসতে বলা হয়েছে.?" বললো ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা লোকটা। "আমাকে তোহ বলা হয়েছিলো একজন পেসেন্টের বাসায় গিয়ে তাকে ড্রেসিং করে দিতে হবে।" জিজ্ঞাসা সুরে আবারও বললো দুরুদ। "হ্যাঁ! পেসেন্টের কাছেই যাচ্ছি আমরা।" কিছুটা ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বললো ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা লোকটা। "তাহলে আমাদের এখানে আসতে বলা হয়েছে কেনো.?" রাগ দেখিয়ে বললো দুরুদ। " পেসেন্ট এখানেই ছিলো কিন্তু আমরা জায়গা পরিবর্তন করেছি তাই এখন আপনাদেরকে আমাদের সাথেই যেতে হবে।" নরম কণ্ঠে জবাব দিলো ড্রাইভিং সিটের লোকটা। তারপর গাড়ি থেকে আরো দুইজন লোক নেমে আয়াত ও দুরুদকে গাড়িতে উঠতে বললো কিন্তু ওরা উঠতে চাইছে নাহ। অনেকক্ষণ জোড়াজুড়ি করার পরও যখন ওরা রাজি হচ্ছিল নাহ তখন ড্রাইভিং সিটের লোকটা পিস্তল বের করে হুকমি দিলো। যদি গাড়িতে নাহ উঠে তাহলে এখানেই ওদের লাশ ফেলে দিবে। জীবনের ভয়ে গাড়িতে ওঠে বসলো আয়াত ও দুরুদ। এদিকে আয়াত তোহ মনে মনে দুরুদকে খুন করে ফেলছে। এই অসভ্য ছেলেটার জন্য আয়াত এত বড় একটা বিপদে পরলো। নাহ জানি সামনে আরো কি কি অপেক্ষা করছে ওদের জন্য। দুরুদ ক্ষমা দৃষ্টিতে আয়াতের দিকে তাকিয়ে দুই হাত দিকে কান ধরলো। আয়াত রাগে চোখগুলো বড় বড় করে তাকিয়ে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে দিলো দুরুদের গলার দিকে। এক্ষুনি ইচ্ছে করছে দুরুদের গলা টিপে ধরবে। আপন গতিতে গাড়ি ছুটে চলেছে এদিকে আয়াত ও দুরুদ চোখে চোখে কথা বলছে। একজন আরেকজনকে চোখের ইশারায় খুন করছে তোহ অপরজন চোখের ইশারায় নিজের ভুল স্বীকার করে হাজারো চেষ্টায় ক্ষমা চাইছে। কিছু সময় পর একটা সুনশান জায়গায় এসে গাড়ি থামলো। দেখেই গা শিউরে উঠার মতো। পরিবেশটা একদম নিরব, জনশূন্য আর শীতল। ভয়ে আয়াতের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। গলা শুকিয়ে গেছে পিপাসায়। ওদিকে দুরুদও চিন্তায় তলিয়ে যেতে লাগলো, কোথায় চলে এসেছে ওরা। কি হতে চলেছে ওদের সাথে। সামনে আয়াত ও দুরুদকে হাঁটতে দিয়ে গাড়ির ভিতর থেকে সেই বডিবিল্ডার চারজন লোক নেমে ওদের পিছন পিছন পিস্তল তাক করে হেঁটে হেঁটে আসছে। আয়াত ও দুরুদ হাত উপরে উঠিয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখের ইশারায় কথা বলতে বলতে হাঁটছে। বাড়ির মূল দরজার সামনে আসতেই পিছন থেকে একজন লোক ছুটে এসে দরজা খুলে দিয়ে ওদের ভিতরে ঢুকতে বললো। সেই লোকের কথা মতো ওরা ভিতরে প্রবেশ করলো। প্রবেশ করার পর পরই একজন সেই বাড়ির দরজা আবারও বন্ধ করে দিলো। এরপর একজন ফোন হাতে নিয়ে আয়াত ও দুরুদের সামনে এসে বলে এদিকে তাকান। দুরুদ তাকিয়ে দেখে ফোনে ক্যামেরা অন করা। ফোনে ক্যামেরা অন দেখে মজার ছলে দুরুদ বললো "আরে! আরে! আমরা তোহ কোনো সেলিব্রিটি নাহ। আমাদের সাথে সেল্ফি তোলার কি প্রয়োজন" দুরুদের মুখে এমন কথা শুনে আয়াতও মিটিমিটি হাসলো। ফোন হাতে থাকা লোকটা বললো "আপনাদের সাথে সেল্ফি তুলতে নাহ, এই কাজ শেষ হওয়ার পর যদি কোনো বিপদ হয় তাহলে যাতে আপনাদের খুব সহজে খুঁজে বের করতে পারি তাই আপনাদের ছবি তুলবো" নিমিষেই আয়াত ও দুরুদের মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো। এরপর ওই লোকটা আয়াত ও দুরুদকে দাঁড় করিয়ে ওদের ছবি তুলে। চারিদিক আবারও নিস্তব্ধতায় ভরে গেলো। কারো মুখে কোনো রা নেই। নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে আয়াত সাহস করে বললো "আচ্ছা আমাদের এখানে কেনো আনা হয়েছে সেটা তোহ বলবেন.?" আয়াতকে মুখ খুলতে দেখে দুরুদও বললো "হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলবেন প্লিজ আমাদের এখানে আনার কারণটা কি.?" তারপর কালো পোশাক পড়া লোকদের মধ্যে একজন বললো "আমাদের টিম লিডারের বুকে গুলি লেগেছে উনার অপারেশন করে বুক থেকে সেই গুলি বের করতে হবে" অপারেশনের কথা শুনে আয়াত ও দুরুদ দু'জনের মাথায়ই যেনো আকাশ ভেঙ্গে পরলো। তার উপর বুকে গুলি লেগেছে। নিশ্চয়ই এরা কোনো দূর্নীতির সাথে জড়িত। নাহ জানি আজ ওদের অবস্থা কি হতে চলেছে। "আ-আপনারা কিছু মনে নাহ করলে একটা কথা বলতাম" ভয়ে ভয়ে বললো দুরুদ। "হ্যাঁ! বলুন ডাক্তার সাহেব" উত্তর দিলো বিপরীত পক্ষের লোকেদের একজন। "আপনারা কারা আর কেনোই বা আমাদেরই এখানে এনেছেন.?" বললো দুরুদ। "এখন এতকিছু বলার সময় নাহ। আপনাদের আনা হয়েছে আমাদের লিডারের অপারেশন করার জন্য এতটুকুই জেনে রাখুন" আমতা আমতা করে একটু ক্রোধান্ধ কণ্ঠে আয়াত চেঁচিয়ে বললো "সত্যি কথা নাহ বললে আমরা পুলিশের কাছে যাবো আর আপনাদের লিডারেরও অপারেশন করবো নাহ!" "বেশ শুনুন তবে, আমরা মাফিয়া গ্যাং। হয়েছে.? আর কিছু জানতে চান.?" উনাদের মুখে মাফিয়া গ্যাং-এর কথা শুনে আয়াত ও দুরুদ একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিললো। তারপর সবার উদ্দেশ্যে দুরুদ বললো "ইয়ে মানে! একটু বুঝার চেষ্টা করুন এখানে এভাবে অপারেশন হয় নাহ। এই জায়গাটা দেখেছেন একবার কত নোংরা। আর একটা পেসেন্টের জন্য এটা অনেক বিপদজনক। তাছাড়া অপারেশনের জন্য কতকিছুর প্রয়োজন। ওগুলো নাহ হলে আমরা অপারেশন শুরু করবো কিভাবে। তাছাড়া বড় কথা হলো আমরা এখনো পেসেন্টকেই তোহ দেখলাম নাহ।" এরপর উনাদের মধ্যে একজন আয়াত ও দুরুদের দিকে পিস্তল ধরে ওদের দু'জনকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে বলে। আয়াত ভয়ে দুরুদের হাত খামচে ধরে। দুরুদ নিজের ডান হাত আয়াতের হাতের উপর রেখে অভয় দেয় কিচ্ছু হবে নাহ। যা হবে সবকিছু দুরুদ সামলে নিবে। এরপর এক পা দু পা করে ওরা দুজনই সিঁড়ি গুনতে থাকে। দোতলায় উঠে ওদের কপালে চোখ উঠার মতো অবস্থা। এটা যেনো কোনো অপারেশন থিয়েটারে এসে ঢুকলো ওরা। একে অপরের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। "এই নিন! আর কোনো সমস্যা নেই তোহ উনার অপারেশন করতে। আর হ্যাঁ! অপারেশন সাকসেস করতে পারলে আপনাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ইনাম আছে। আপনারা অপারেশন শুরু করুন আমি এখানেই দাঁড়িয়ে আছি" বললো মাফিয়া গ্যাং-এর লোক। "কি বলছেন.? কোনো ডাক্তার কি পেসেন্টের বাড়ির লোকের সামনে অপারেশন করে নাকী.? আপনি বাইরে যান যদি কোনো প্রয়োজন হয় আমরা আপনাকে ডেকে নিবো। আর হ্যাঁ বার বার উঁকি দিয়ে ডিসটার্ব করবেন নাহ।" চেঁচাতে চেঁচাতে বললো আয়াত। "এক মিনিট! মিস্টার দুরুদ। আপনার সাথে এই মেয়েটা কে.? উনার আসার কথা তোহ ছিলো নাহ তাহলে উনি কেনো আপনার সাথে এসেছে.?" পাল্টা প্রশ্ন করলো মাফিয়া গ্যাং-এর লোকটা। বড় বড় চোখ করে দু'জন দু'জনের দিকে তাকিয়ে দুরুদ বললো "ওহ্ হোহ্ আপনাদের হয়তো বলেনি এটা আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট। আমি যেখানেই যাই ওকে আমার সাথে নিয়ে যাই।" দুরুদের কাছ থেকে উত্তর শুনে সেই লোকটা আর কোনো কথা নাহ বাড়িয়ে বাইরে গিয়ে পাহারায় দাঁড়ালো।

লোকটা বাইরে যেতেই আয়াত রাগে গজগজ করতে করতে দুরুদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় গলা টিপে ধরার জন্য। দুুরুদ পাশ কাটিয়ে ঠান্ডা গলায় বললো "এখন মাথা গরম করার সময় নাহ। আমি নিজেও তোহ জানি নাহ যে এমন একটা সিচুয়েশন ক্রিয়াট হবে। যেহেতু বিপদে পরেই গেছি এখন উচিৎ আমাদের দু'জনকেই এটার সমাধান করার" "আমি এসবের মধ্যে নেই। কি করবেন কিভাবে করবেন এটা আপনার ব্যাপার। আমি শুধু এই বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চাই ব্যস" মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললো আয়াত। "এখন এসব ছেড়ে চলুন অপারেশন শুরু করি।" বললো দুরুদ। "এক মিনিট! আপনি তোহ মেডিকেল স্টুডেন্ট, প্রফেশনাল ডাক্তার তোহ নন.? তাহলে অপারেশন করবেন কিভাবে.?" বললো আয়াত। "তাহলে আপনি করুন। আমি তোহ তাও মেডিকেল স্টুডেন্ট আপনি তোহ তাও নন!" খোঁচা দিয়ে বললো দুরুদ। "ওহ্! হ্যালো। আপনি জানেন আমি কে.?" ভাব নিয়ে প্রশ্ন করলো আয়াত। "আপনি যেই হোন নাহ কেনো, ডাক্তার তোহ নাহ"। "এক্সকিউজ মী! আই এম এ্য ডাক্তার ওকে।" বললো আয়াত। "ওহ্! রিয়ালি। তাহলে অপারেশন করে দেখান।" চ্যালেঞ্জ করে বললো দুরুদ। "চ্যালেঞ্জ করছেন.?" বললল আয়াত। "হ্যাঁ করলাম।" "আমি এক্সেপ্ট করলাম নাহ হা!হা!হা! আপনার কাজ আপনিই করুন"

"ইয়ার কোনো মতে যদি বুকের পাজরটা একটু খোলা যেতো তাহলেই গুলিটা বের করতে পারতাম। হ্যালো ম্যাডাম!! একটু হেল্প করুন নাহ! আপনাকে অপারেশন করতে হবে নাহ, আপনি শুধু এই দামড়া লোকটার পাজর খুলতে হেল্প করুন" চেঁচাতে চেঁচাতে বললো দুরুদ। দুরুদের চেচামেচি শুনে বাইরে থেকে মাফিয়া গ্যাং-এর লোকটা উঁকি দিয়ে বললো "সবকিছু ঠিক আছে তোহ.? আমাদের লিডার সুস্থ হবে তোহ.?" "হ্যাঁ! হ্যাঁ! আপনি একদম চিন্তা করবেন নাহ। গুলিটা বের হলেই উনি সুস্থ হয়ে যাবে" এক গাল হাসার চেষ্টা করেও হাসতে পারলো নাহ দুরুদ। "ওহ্ ম্যাডাম একটু এদিকে আসুন নাহ! দেখুন আমি তিনটা গুলি বের করে ফেলেছি। এখন শুধু হার্টের পাশের গুলিটাই ভেজাল করছে। পাঁজরের দুই পাশের হার দুইটা সড়াতে পারলে ওটাও বের করে ফেলবো। এটার ট্রেনিং এখনো পাইনি আমি। নাহ মানে ট্রেনিং পেয়েছি আমিই শেখার ট্রাই করিনি।" দুরুদের কথা শুনে হাসতে হাসতে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এলো আয়াত।

এরপর দু'জন মিলে পাঁজরের হাড় লুস করে গুলি বের করলো। ফাইনালি দু'জনের মুখে জয়ের হাসি ফুটলো কিন্তু এই হাসি কতক্ষণ স্থায়ী থাকার সেটা তাদের জানা ছিলো নাহ। মুহুর্তেই তাদের হাসি মিলিয়ে গেলো। কারণ মাফিয়া গ্যাং-এর লিডারের অপারেশন সাকসেস হয়েছে ঠিকই কিন্তু উনার হার্টবিট অফ করে গেছে। এখন কি করবে কিছু বুঝতে পারছে নাহ আয়াত এবং দুরুদ। এমন মুহুর্তে রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা আবারও উঁকি দিয়ে বলে "সবকিছু ঠিক আছে তোহ" আয়াত হার্টবিট সিসম্যাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে পরলো যাতে করে লোকটা তাদের লিডারের হার্টবিট দেখতে নাহ পারে। তারপর দুরুদ লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলে "হ্যাঁ! হ্যাঁ! আপনি আর একটু অপেক্ষা করুন আমরা আপনাকে ডেকে নিবো" দুরুদের কথা মতো লোকটা বাইরে দাঁড়ালো। লোকটা বের হতে নাহ হতেই আয়াত মাফিয়া গ্যাং-এর লিডারের বুকে জোরে জোরে ঘুষি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে হার্টবিট চলতে লাগে। আর এক মুহুর্তও সময় নষ্ট নাহ করে আয়াত ও দুরুদ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার কাছে তাদের লিডারের দায়িত্ব দিয়ে নিচে নেমে আসে। নিচে নেমে সবাইকে বলে অপারেশন সাকসেস। উনাদের লিডারের কিছুক্ষণ পরেই জ্ঞান ফিরবে। সবাই খুশিতে পঞ্চমুখ হয়ে ব্রিফকেস ভর্তি টাকা তুলে দেয় আয়াত ও দুরুদকে। ওরা ব্রিফকেস খুলে দেখে টাকার বান্ডিল দিয়ে ভর্তি পুরো ব্রিফকেস। তৎক্ষনাৎ উপর থেকে লোকটার চিৎকার ভেসে আসে "আমাদের লিডার আর নেই। মারা গেছে উনি। ওদের দু'জনকে আটকা। যেতে দিবি নাহ একদম।" ওই লোকটার চিৎকার কান অব্দি পৌঁছানো মাত্র আয়াত ও দুরুদ ব্রিফকেসে থাকা টাকাগুলো হাত দিয়ে সবার মুখে ছুড়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বাইরের দিকে দিলো এক দৌড়। দুইজন একসাথে হাতে হাত ধরে বের হলেও মাঝ পথে এসে দুজনের পথ হয়ে যায় আলাদা। নিজের জীবন বাঁচাতে কে কোন দিকে ছুটেছে কেউই জানে নাহ।

---------------------------------

অন্ধকার রাত। ঘন জঙ্গল। চারিদিকে শুধু শেয়াল কুকুরের হুংকার। আর মাঝে মাঝে ভেসে আসছে ঝিঁঝি পোকা আর লক্ষী-প্যাঁচার ডাক। মৃদু বাতাসে গাছ গাছালির কলকাকলি আর জোনাকির খেলা। রাস্তা দিয়ে ছুটতে ছুটতে অচেনা জায়গায় কোথায় এসে পৌঁছেছে আয়াত তা সে নিজেও জানে নাহ। অনেকটা পথ ছুটে চলার পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ধীরে ধীরে পা ফেলতে শুরু করে। আস্তে আস্তে পথ ধরে সামনে এগোতে থাকে। যত এগোয় ততই যেনো গভীর জঙ্গলে তলিয়ে যাচ্ছে। দূর দূরান্ত পর্যন্ত কোনো মানুষ বা বসতির দেখা নেই। চারিদিকে শুধু ঘন জঙ্গল আর সরু রাস্তা। সরু রাস্তা ধরেই হেঁটে চলেছে অনেকক্ষণ ধরে আয়াত। আশা শুধু একটাই হয়তো সামনে কারো দেখা মিলবে। যার জন্য এত বড় বিপদে পরলো এখন সেও উধাও। একা একা একজন মেয়ে মানুষ কোথায় যাবে কিছুতেই সাহসে কুলচ্ছে নাহ আয়াতের। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে যা বুঝলো এখানে বহুযুগ আগে হয়তো জনবসতি ছিলো কিন্তু এখন জায়গাটা পরিত্যক্ত হয়ে আছে। সামনে অসংখ্য পুরোনো ঘরবাড়ি। দেখে কোনো গ্রাম মনে হচ্ছিল। সেখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হলো ওখানে থাকা পরিত্যক্ত এক বিশাল অট্টালিকা। দেখে প্রায় ৫০০ বছর পুরোনো এমন মনে হচ্ছিল। কিন্তু আসলেই কি ৫০০ বছর আগে এখানে লোকজন বসবাস করতো.? কয়েক কদম পা ফেলতেই সেই অট্টালিকার পাশেই একটা পুকুর ঘাট দেখতে পেলো। ঘাটের পাশেই একটা বোর্ড ভেঙ্গে পরে আছে। হয়তো কোনো একসময় এই বোর্ডটাকেও যত্ন করা হতো। অথচ এখন এই বোর্ডে নোংরা আর ময়লায় মাখামাখি। বাম হাত বাড়িয়ে দিলো বোর্ড মোছার উদ্দেশ্যে।

---------------------------------

চারিদিকে বাঁশ ঝাড় আর বড় বড় গাছপালার ভিড়ে কোনো মানুষের দেখা নেই। দূর দূরান্ত পর্যন্ত এই নিস্তব্ধ পরিবেশে শুধুমাত্র দুরুদের দীর্ঘশ্বাস ফেলার শব্দ আর শেয়াল কুকুরের হুংকার ব্যাতিত ঝিঁঝি পোকার ডাকই শোনা যাচ্ছে। জঙ্গলের৷ রাস্তা ভেদ করে দৌড়ে পালাচ্ছে দুরুদ। দুরুদের পিছু নিয়েছে আবার মাফিয়া গ্যাং-এর একজন। নিজের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে ছুটে চলেছে দুরুদ। এভাবে আর কতক্ষণ.? ক্লান্ত শরীর নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে হাঁটুতে ভর দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে থেমে গেলো দুরুদ। পিছনে মাফিয়া গ্যাং-এর সেই লোকটাও হাঁপাতে হাঁপাতে পিছন থেকে পিস্তল বের করে দুরুদের দিকে তাক করে ধরলো। দুরুদ ক্লান্ত চোখে লোকটার দিকে তাকালো। তারপরও লোকটার মায়া হলো নাহ। পিস্তল হাতে এগিয়ে যাচ্ছে দুরুদের দিকে। হঠাৎ দুরুদ বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে লোকটার দিকে তাকালো। লোকটা দুরুদকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। মুহুর্তেই দুরুদের চোখের রঙ পাল্টে লাল হয়ে গেলো। শরীর থেকে যেনো অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে। চোখ দিয়ে যেনো টকটকে লাল রক্ত ঝড়ছে। দুরুদের এরূপ দেখে লোকটা ভয়ে পিস্তল ফেলে পিছন ঘুরে দৌড় দিবে তখনই দুরুদ আকাশের দিকে তাকিয়ে স্বজোরে এক চিৎকার দিলো। এ চিৎকার কোনো সাধারণ মানুষের নাহ। শুনেই মনে হচ্ছে কোনো ক্ষুধার্ত হায়েনা বহু বছর পর খাঁচা থেকে ছাড়া পেয়েছে শিকারের উদ্দেশ্যে। লোকটা দৌড়াতে গিয়েও ভয়ে পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখে দুরুদ উনার দিকে টকটকে লাল বর্ণের চোখ নিয়ে হা করে তাকিয়ে আছে। মুখের ভিতরের দুই পাশের দাঁতগুলো বড় বড় যেনো মানুষের শরীরে কোনো হায়েনার রূপ।