প্রাপ্তি (প্রথম অধ্যায়) — পর্ব ৩৩
লেখক: বিনতে ফিরোজ · বিভাগ: ইসলামিক · পর্ব ৩৩ · ৪৫ পর্বের মধ্যে ৩৩
রৌদ্রোজ্জ্বল দিন। খরখরে রোদ পানির তৃষ্ণা বাড়াচ্ছে হু হু করে। বাড়ির ছায়ায় দাঁড়িয়ে হাফ ছাড়লো আহমাদ। ছাতা বন্ধ করে কলিং বেলে চাপ দিলো। কপালে দল গঠন করা ঘামকে হাত দিয়ে সন্তর্পনে ছত্রভঙ্গ করলো। হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সময়ের কাঁটা তিনটার ঘরে। সময় ঠিকই আছে তাহলে। যাক! টিউশনিতে পান থেকে চুন খসলেই অভিভাবক মুখের লাগাম ছেড়ে দেয়। সেখানে সময়ের কাঁটা একটু এদিক ওদিক হওয়া খুব ভয়াবহ বিষয়। যদিও পরিচিত এই অভিভাবক কিছু বলেন না। তবুও আহমাদ তটস্থ থাকে। মনে হয় এক্ষুনি বলবেন, "এক মিনিট দেরি করার কারণে আপনার মাইনে থেকে একশো টাকা কেঁটে নেওয়া হলো।" একশো টাকাও এখন খুব বড়ো একটা অংক। বেলা তিনটার রোদে ভার্সিটি থেকে পুরো রাস্তাটুকু সে হেঁটে আসে মাত্র চল্লিশ টাকা বাঁচানোর জন্য। মাত্র? উহু! মাস শেষে এটা জমে হয় বারোশ। বছর শেষে হয় চৌদ্দ হাজার ছয়শ টাকা। মোটেই মাত্র নয়। টাকা এলেই আমরা বুঝতে পারি। বাঁচলে ধরতে পারি না। কিন্তু আহমাদ এখন প্রতি কাজের ফাঁক ফোকর থেকে টাকা বাঁচানোর চেষ্টায় আছে। পাশের বিল্ডিংয়েই নিজের বাড়ি। চাইলে একটু বিশ্রাম নিয়ে আসা যায়। কিন্তু তাতে এই টিউশনি হাত ছাড়া হয়ে যাবে। যেটা এখন আহমাদের জন্য ভয়াবহ ব্যাপার। আর কোন কোন জায়গা থেকে টাকা বাঁচানো যায় ভাবতে ভাবতেই বাড়ির দরজা খুলে গেলো। এই যে এতক্ষণ তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো এতে কিছুই বলা যাবে না। কারণ এখানে সে প্রার্থী। তাকে মুখ বুজে, হাত পেতে নিতে হবে। টু শব্দ করাও বারণ!
- কেমন আছেন আহমাদ ভাই?
- ভালো। রাজু কই?
দরজা খুলেছে রাজুর বড়ো বোন কলি। ক্লাস সেভেন পড়ুয়া রাজুকে সে পড়াচ্ছে মাস তিনেক হবে। কলি এবার এস এস সি পরীক্ষার্থী। পাশাপাশি থাকার সুবাদে চেনা জানা আছে। তবে বাড়ির ভেতরে আনাগোনা হওয়ার কারণে আহমাদ এই বাড়ির মানুষগুলোকে আরেকটু বেশি চিনেছে। তাতে বিশেষ লাভ না হলেও কলি মেয়েটার থেকে সতর্ক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এটা বেশ বুঝতে পেরেছে। মেয়েটার হাবভাব ভালো না। এটুকু একটা মেয়ে কেমন অন্যরকম করে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এই যে এখন ঘেমে গেঞ্জি বুকের সাথে লেগে গেছে সেদিকে একভাবে চেয়ে আছে। আহমাদের মন চায় একটা চাদর পড়ে আসতে। তাতে যদি মেয়েটার অস্বস্তি ভরা চাহনি থেকে বাঁচা যায়। কিন্তু এতেও সমস্যা আছে। পাগল বলে তাকে টিউশনি থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারে। তাই এই চিন্তাও বাতিল।
গলা খাঁকারি দেয় সে। ধ্যান ভাঙলে কলি বলে,
- ভেতরে আসুন।
ভেতরে ঢুকে সরাসরি নিজের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গায় বসে আহমাদ। চারপাশে সব বেড রুম। মাঝের এই ড্রয়িং রুমে একটা টেবিল চেয়ার রাখা। একদম খাপছাড়া ভাবে। আহমাদ বোঝে কেনো রাখা। মাঝে মাঝেই রাজুর মা মাথার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে। দেখতে থাকে আহমাদ কিভাবে পড়ায়, কি বলে। তখন ভীষণ অস্বস্তি হয় তার। বলতে ইচ্ছে করে, "আপনি প্লিজ লুকিয়ে দেখুন। এভাবে কাকতাড়ুয়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকলে আমার নিজেকে কাক মনে হয়।" কিন্তু সেটা বলা যায় না। অনেক কিছুই জীবনে ইচ্ছা হয়। কিন্তু সেগুলো সব করা যায় না। এতক্ষণেও রাজু বা তার মা কাউকেই চোখে পড়লো না আহমাদের। কলির সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছে না থাকেলও বলতে হয়। অনেক কিছুর ইচ্ছে থাকলেই যেমন করা যায় না তেমনই অনিচ্ছা সত্ত্বেও জীবনে অনেক কিছু করতে হয়। অন্যদিকে তাকিয়ে আহমাদ জিজ্ঞেস করে,
- রাজু কই? ওকে ডেকে দাও।
- রাজু তো বাসায় নেই।
কলির স্বাভাবিক উত্তর স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারে না আহমাদ।
- বাসায় নেই মানে?
- নেই মানে নেই। আম্মু আর রাজু খালা বাড়ি গেছে। আজকে আসবে না।
হেয়ালিপূর্ণ কথায় মেজাজ খারাপ হয়ে আসে আহমাদের। চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করে। চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে, "এটা কি আমাকে অন্তত ফোন করে জানানো যেতো না?"। কিন্তু চিৎকার করা যাবে না। তাহলে "আহমাদ মানুষের বাসায় যেয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে" এই কথা ছড়িয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না। তৎক্ষণাৎ উঠে বলে,
- তাহলে আমার থেকে কাজ নেই। আসি।
- দাঁড়ান! রাজু নেই তো কি হয়েছে? আমি আছি। আমাকে পড়ান।
বিরক্ত হয় আহমাদ। এই কথার কোনো প্রতি উত্তর করার প্রয়োজন বোধ করে না। মেয়েটা ভীষণ গায়ে পড়া। দরজার দিকে যেতে যেতে বলে,
- দরজা আটকে দাও।
হুট করে আহমাদের হাত ধরে কলি। তাড়াহুড়া করে বলে,
- এভাবে চলে যাচ্ছেন কেনো? আমি আপনার জন্য চা বসিয়েছি। অন্তত সেটুকু খেয়ে যান।
হকচকিয়ে যায় আহমাদ। একটা মেয়ে যে কোনো ছেলের হাতে এতো অবলীলায় ধরতে পারে এটা তার চিন্তার বাইরে ছিলো। অবশ্য আজকাল সে শুধু টাকা নিয়েই চিন্তা করছে। অন্য কিছু নিয়ে নয়।
আহমাদের বিস্মিত দৃষ্টি ধরে রাখা হাতের দিকে। সেটা খেয়াল করেই হাত ছেড়ে কলি বিব্রত হেসে বলে,
- বসুন না ভাইয়া। চাটুকু খেয়েই চলে যেয়েন।
মনের বিরুদ্ধে যেয়ে আবার আগের জায়গায় বসে আহমাদ। একটা মানুষ এভাবে বারবার বলার পরও সেটা না মেনে নেওয়াকে সে অভদ্রতা মনে করে। ভদ্রতা বজায় রাখতে যেয়ে চায়ের কাপে প্রথম চুমুক দিয়েই বুঝতে পারে অনেক বড়ো বোকামি করা হয়ে গেছে। রাজু আর তার মা বাড়ি নেই। স্বাভাবিকভাবেই রাজুর বাবা এ সময় বাড়িতে থাকেন না। তাহলে এখন বাড়িতে কারা আছে? শুধু আহমাদ আর কলি। এটুকু ভাবতেই গলা শুকিয়ে যায় তার। অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠার কারণে চা ছলকে পড়ে যায়। ছুটে আসে কলি। খালি হাতেই আহমাদের উরুতে পড়ে যাওয়া চা মুছতে মুছতে বলে,
- এতো তাড়াহুড়া করছেন কেনো? আস্তে ধীরে খান।
মেয়েটার কথা শেষ হওয়ার আগেই তার হাত ছিটকে সরিয়ে দেয় আহমাদ। চোখ রাঙিয়ে, গলা উচিয়ে ধমক দেয়।
- দূরে থাকো বেয়াদব মেয়ে! সবসময় গায়ে হাত দাও কেনো? অসহ্য!
শেষ কথাটা বলার সময় গলার স্বর আরো উচুঁ হয়। স্বাভাবিক ভাবে যে কারো ভয় পেয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কলি যেনো জানতোই এমন কিছু হবে। দূরে যাওয়ার বদলে আরো কাছে এসে বলে,
- একটু গায়ে হাত দিলে কি হয় আহমাদ ভাই? গা তো আছেই হাত দেওয়ার জন্য!
রাগে কাপতে থাকে আহমাদ। একটা মেয়ে কি পরিমান নির্লজ্জ হলে এমন কথা বলতে পারে? কলির নির্লজ্জতার স্তর মাপার থেকে এখান থেকে চলে যাওয়াকে নিজের জন্য নিরাপদ মনে করে আহমাদ। চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই কলি চরম নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়ে অভাবনীয় একটা কাজ করে ফেলে। দৌড়ে আহমাদের সামনে যেয়ে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- আহমাদ ভাই! আমি যে আপনাকে পছন্দ করি এটা নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পারেন? তাহলে আমাকে এড়িয়ে চলেন কেনো। আমি কি দেখতে সুন্দর না? একবার তাক..
শক্ত মুঠোয় কলির ডান বাহু ধরে সরিয়ে সপাটে এক চড় মে:রে দেয় আহমাদ। রাগে তার চোখের শিরা লাল হয়ে গেছে। জোরে জোরে দম ফেলছে ছেলেটা। বিরাট একটা ভুল করে ফেলেছে। খালি বাড়িতে চা খাওয়ার আতিথেয়তা গ্রহণ করাটাই চরম বোকামি হয়ে গেছে। এখন ভুগতে হচ্ছে। রাগে হুংকার দিয়ে বলে,
- নির্লজ্জ,বেহায়া মেয়ে কোথাকার! তুমি.. তুমি একদম থার্ড ক্লাস একটা মেয়ে! সরো সামনে থেকে!
টলমলে চোখে আহমাদের দিকে তাকিয়ে উল্টো গর্জন দেয় কলি।
- আমাকে থাপ্পড় মা:রলেন! পছন্দ করি দেখে ভাব নিচ্ছেন? আপনার ভাব বের করছি আমি!
মিলি সেকেন্ডের মাঝে ঝড়ের গতিতে দরজা খুলে সামনের ফ্ল্যাটের কলিংবেল চাপে কলি। ওপাশের মহিলা দরজা খুলতেই তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হু হু করে কান্না শুরু করে দেয়। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান মহিলা। ভয় পেয়ে বলেন,
- কি হয়েছে কলি? কাঁদছো কেনো?
কন্নামাখা মুখ তুলে কাঁপা কাঁপা হাতে আহমাদের দিকে ইশারা করে কলি। থেমে থেমে বলে,
- রাজু আর আম্মু বাসায় নেই। তাও উনি পড়াতে এসেছেন। বাসায় কেউ নেই। আর আমাকে একা পেয়ে...
কথা শেষ না করেই আবার কান্না শুরু করে কলি। অব্যক্ত ইঙ্গিত বুঝতে সময় নেন না মহিলা। অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে থাকেন আহমাদের দিকে। ভদ্র ছেলে হিসেবে পাড়ায় তার যথেষ্ট সুনাম আছে। আর সেই ছেলেই কি না!
ঘটনা এত দ্রুত ঘটে যায় যে সেটা আহমাদের মস্তিষ্ক ধারণ করতে একটু বেশি সময় নিয়ে ফেলে। যতক্ষণে বুঝতে পারে যা ঘটার ঘটে গেছে। রুদ্ধ কণ্ঠস্বরে কিছু বলতে পারে না ছেলেটা। প্রমাণ করতে পারে না নিজেকে নির্দোষ হিসেবে। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। মহিলা পাড়া-প্রতিবেশী জড়ো করে ফেলেন খুব দ্রুত সময়ে। কান্নামাখা অবলা চেহারার মেয়েটার কথা সবাই বিনা বাক্যে মেনে নেয়। ঘটনা সালেহা বেগমের কানে যেতেই তিনি ছুটে আসেন। ছুটে এসে নিজের বুকের মানিককে দেখতে পান ভরা আসরের মধ্যমনি হিসেবে। তাকে কি শাস্তি দেওয়া যায় সেই আলোচনা করছে সকলে। ভীষণ বড়ো ধাক্কা খান সালেহা বেগম। স্বামীর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। যদিও লোকটা চলে গেছে চার বছর হবে। কিন্তু চলে যেয়ে তাদেরকে অথৈ সাগরে ফেলে দিয়ে গেছে। পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলেছে ছেলেটা। শত ঝড় ঝাপটা সামলে পরিবারের সকলকে ভালো রাখার পণ করছে। সেই দায়িত্ব নেওয়া কাঁধে ওরা বিশ্রী অপবাদ দিচ্ছে! ভরা আসরের মাঝে কারো কোনো কথা কানে না নিয়ে ছেলের হাত ধরে শান্ত, দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
- যে কেউ যা ইচ্ছা বলবে আর সেটা আমরা মানবো কেনো? আমার ছেলে কিছু করেছে তার প্রমাণ আছে? নাকি ও আছড়ে পড়ে কাঁদতে পারছে না বলে সবাই ওকে জেঁকে ধরেছেন? আমার ছেলে যখন এতোই বাজে তাহলে বাড়িতে কেউ না থাকা সত্ত্বেও কলি কেনো দরজা খুললো?
কথা কাটাকাটি হয়। আহমাদ একটা টু শব্দও করে না। সালেহা বেগমের যুক্তির সামনে কেউ টিকতে পারে না। মানুষের মুখে তালা লাগিয়ে ছেলেকে ঐ ভিড় থেকে বের করে নিয়ে আসেন দৃঢ় অবস্থান নেওয়া সাহসী সেই নারী। আহমাদের হাত ধরে নিয়ে যান বাড়িতে। মনে হয় যেনো পাঁচ বছরের কোনো বাচ্চাকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে রাস্তা পার করছেন একজন মা। কি সুন্দর লাগে দৃশ্যটা!
বাড়ি ফিরে আহমাদ স্বাভাবিক হতে পারে না। সকল ঘটনা যেনো তার মাথায় জট পাকিয়ে স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনাকে থামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু যখন চিন্তার চাকা চলতে শুরু করে তখন আর নিজেকে আটকাতে পারে না। পুরুষ চোখের শক্ত বেড়ি পেরিয়ে অশ্রুগুলো মায়ের কোল ভিজিয়ে দেয়। সালেহা বেগমের কোলে মুখ গুঁজে কাদতে থাকে ছেলেটা। সমাজের সামনে তাকে একটা মেয়ে চরিত্রহীন প্রমাণ করেছে। অপবাদ দিয়েছে। জঘন্য ধরনের অপবাদ। তার তিলে তিলে গড়ে তোলা সম্মান কেড়ে নিয়েছে। সন্মানহীন জীবন নিয়ে কিভাবে বাঁচবে ছেলেটা? বাঁচতে পারেনি। থাকতে পারেনি সেই পরিচিত জায়গায়। বাবার স্মৃতি ভরা জায়গাটা ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে তাকে। সালেহা বেগমের তদারকিতে অন্য এলাকায় থাকতে শুরু করে। সম্মান নিয়ে, মাথা উঁচু করে।
••••••
তিক্ত সেই অতীত অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজ মুখে বলতে হয় আহমাদকে। প্রথমে সে বলে অফিসে ঘটে যাওয়া ঘটনা। তারপর বলে কলির ঘটনা। আজ রাস্তায় কলির সাথেই দেখা হয়েছে। তারপর থেকেই মেজাজ আরো উত্তপ্ত হয়েছে। সেই উত্তাপে পুড়েছে মাহিবা। তার কাছে সাফাই গাওয়ারই ছিলো। নিজেকে একটু হালকা করতে ভেতরে জমে থাকা সব কথা উগড়ে দেয় আহমাদ। তার চোখ টলমল করছে। এদিক সেদিক তাকিয়ে দৃষ্টি লুকোতে চায় ছেলেটা। মাহিবা স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। একটা মানুষের জীবনে এমন জঘন্য স্মৃতি থাকতে পারে! আহমাদকে কাঁদতে দেখে আরো খারাপ লাগা কাজ করে তার মাঝে। ছেলেটার হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,
- আপনি কষ্ট পাবেন না প্লিজ! আরো বড়ো কোনো বিপদ হতে পারতো। আর এই কষ্টের বিনিময়ে নিশ্চয়ই আল্লহ আপনাকে উত্তম কিছু দেবেন।
আহমাদের চোখ মুছে দেয় মাহিবা। ছেলেটা ভগ্ন কণ্ঠে বলে,
- আমার এখন কোনো চাকরি নেই মাহি! সম্পূর্ণ বেকার আমি।
- এটাও আল্লহর একটা পরীক্ষা। আমরা ধৈর্য্য ধরে থাকি। আল্লহর কাছে সাহায্য চাই। আল্লহ আমাদের ফিরিয়ে দিবেন না নিশ্চয়ই। আর এক দিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। ঐরকম লোকের আন্ডারে কাজ না করাই ভালো।
মাহিবার কথায় ভরসা পায় আহমাদ। ভেবেছিলো মেয়েটা বোধ হয় হা হুতাশ করবে। টাকা ছাড়া নাকি পুরুষ মানুষের দাম নেই? তাহলে নিশ্চয়ই মাহিবা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এমনটাই ভেবেছিলো সে। রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করে এমন জীবনসঙ্গিনী পাওয়ার জন্য। ভারী পরিবেশ হালকা করতে দুষ্টু হেসে ভ্রু নাচিয়ে বলে,
- এটা কি পড়েছো?
নিজের দিকে খেয়াল করে মাহিবা। সংকোচে পড়ে যায়। এটার কথা তো খেয়ালই ছিলো না! আমতা আমতা করে বলে,
- কিছু না।
- কিছু না?
- ধুর! দেখছেনই তো আপনার শার্ট পড়েছি।
মেয়েটা লজ্জা পাচ্ছে। লজ্জালু আভা মুখটায় প্রভাব ফেলছে। কি মনোরম লাগছে দেখতে!
- আচ্ছা! তাই? কেনো পড়েছো?
সংকোচ কাটিয়ে মাহিবা বলে,
- বরের প্রক্সি দিতে এনেছিলাম। বিয়ের পর থেকে বর ছাড়া আমার চলেই না! ভেবেছিলাম আপনি আসবেন না তাই আপনার শার্ট পড়ে রাত কাটানোর চিন্তা করেছি। দারুন আইডিয়া না?
মেয়েটার কথার ধরণ এবং বাচনভঙ্গি হাসতে বাধ্য করে আহমাদকে। হো হো করে হেসে ফেলে ছেলেটা। সেই হাসির দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে মাহিবা দুয়া করে,
- আপনাকে আল্লহ চিরকাল এমন রাখুন। হাসিখুশি প্রাণবন্ত!
অদৃশ্য কিছু সৃষ্টি ফিসফিসিয়ে দুয়ার পুনরাবৃত্তি করে। মাহিবার জন্যে একই দুয়া করে রবের বিশাল সৃষ্টির একাংশ। যেটা শুনতে পায় না আহমাদ, মাহিবা কেউ। কিন্তু ঠিকঠাকভাবে দুয়ার চিঠিটা পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট ডাকবাক্সে।
চলমান.
(বলুন তো কারা দুয়া করেছে মাহিবার জন্য?)