প্রাপ্তি (প্রথম অধ্যায়) — পর্ব ৪১

লেখক: বিনতে ফিরোজ · বিভাগ: ইসলামিক · পর্ব ৪১ · ৪৫ পর্বের মধ্যে ৪১

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দু মিলে যেমন একটা মহাসাগর তৈরি করতে পারে তেমনই ভাবে ছোট ছোট অভাব মিলে অগ্রিম হাহাকারের দৃশ্য তৈরি করছে সালেহা বেগম এবং মাহিবার সামনে। তিন তরকারির বদলে দুই তরকারি দিয়ে চালিয়েও যখন মাস শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তখন অসীম প্রশ্নের বাঞ্ছনীয় চিন্তা নিয়ে তারা হাজির হয় আহমাদের কাছে। সব শুনে আহমাদ গম্ভীর হয়েছে। নীরবতা অবলম্বন করেছে। কিই বা বলবে সে? বাড়িওয়ালী মহিলার আগমন বেড়ে গেছে। তিনি খেয়াল রাখছেন আহমাদ কতোটা সুস্থ। উদ্দেশ্যটা মোটামুটি স্পষ্ট। সুস্থতার ক্রমধারায় আহমাদের কাজের খোঁজ পাওয়া যাবে। তার কাজ ছাড়া অর্থের আর কোনো উৎস নেই। বাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে তার কাজের মাধ্যমেই। সেটা যখন অস্পষ্ট তখন বাড়ি ভাড়া পাওয়াটাও অস্পষ্ট। সেটা সালেহা বেগমের নজর এড়িয়ে যায়নি। মাথার উপরে থাকা ছাদ নিয়েও তিনি চিন্তিত। কিছুক্ষণ ইতিউতি আহমাদের করে সেটাও প্রকাশ করলেন ছেলের কাছে।

- কি করবো মা? কিছুই তো বুঝতে পারছি না।

- অল্প ভাড়ার মধ্যে একটা বাসা দেখ।

- সেটাই করতে হবে। সেভিংসে হাত দিতে হবে। এছাড়া তো আর কোনো উপায় দেখছি না।

নীরবতা পালন করেন সালেহা বেগম। ইফাদকে ফোন করে আহমাদ। কুশল বিনিময়ের পর বলে,

- একটা বাসা খুঁজে দে তো ইফাদ। দুটো রুম হলেই হচ্ছে। যতো কমের ভেতর পারা যায়।

- ক্যান? কারা থাকবে?

- আমরা।

- কোনো সমস্যা?

- টাকা না থাকলে সবই সমস্যা। এই বাড়ির ভাড়া এখন কই থেকে দিবো? আমার সেভিংসও আহামরি কিছু না। সেটায় হাত দিলে কয়েকদিনের ভেতরেই শেষ হয়ে যাবে। তাই যতো কম খরচ করে পারা যায়।

চুপ করে থাকে ইফাদ।

- কিরে? চুপ করে গেলি কেনো?

- আন্টি পাশে আছে?

- আছে।

- ভাবি?

- আছে।

- ফোনটা লাউডে দে।

- কেনো?

- দিতে বলছি দে।

- দিয়েছি।

- আন্টি, ভাবি আপনাদের কাছে একটা প্রস্তাব রাখতে চাচ্ছি। আপনারা যখন বাড়ি পাল্টানোর কথা ভাবছেন তাহলে আপাতত মায়াবাড়িতে এসেই থাকতে পারেন। অন্য কোথাও থাকতে হলেও সেখানে কতদিন থাকতে পারবেন বা আহমাদ কবে কাজ পাচ্ছে সেটাও নিশ্চিত না। তাই একটা ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এখানে এসে থাকুন। বাকিটা পরে দেখা যাবে।

দুপাশেই নীরবতা ছেয়ে যায়। আহমাদ ভাবতে বসে। ইঙ্গিতের আশায় তাকায় মা এবং স্ত্রীর দিকে। সালেহা বেগম বলেন,

- আমাদের একটু সময় দাও বাবা। ভেবে চিন্তে তোমাকে জানাই।

- ঠিকাছে আন্টি।

ফোন রাখার পর সালেহা বেগম বলেন,

- আহমাদ, ইফাদের প্রস্তাবটা কিন্তু মন্দ না। ওখানে থাকলে কিন্তু আপাতত আমাদের একটা টেনশন কমবে। ওকে না হয় প্রতিমাসে ভাড়া হিসেবে কিছু টাকা দেব। আর না পারলেও তখন অন্তত ঘর ছাড়ার টেনশন থাকবে না। কি বলিস মাহিবা?

- আপনার যেটা ভালো মনে হয় মা। ওখানকার পরিবেশ ভালো। আমার কোনো আপত্তি নেই।

- বেশ! তাহলে তো হলোই। তুই ভাব আহমাদ। তোর কাছে ঠিক মনে হলে ইফাদকে জানিয়ে দিস আমরা ওখানে যেতে চাচ্ছি।

সালেহা বেগমের প্রস্থানে আহমাদ মাহিবার দিকে তাকায়।

- তোমার কি মনে হয়?

- আমার কেনো জানি ভালোই লাগছে।মনে হচ্ছে ওখানে গেলে আমাদের জন্য ভালো হবে। কেনো জানিনা।

ভাবনার সাগরে ডুব দেয় আহমাদ। জীবনের জটিল সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছেলেটা।

চলমান.