প্রাপ্তি (প্রথম অধ্যায়) — পর্ব ১২
লেখক: বিনতে ফিরোজ · বিভাগ: ইসলামিক · পর্ব ১২ · ৪৫ পর্বের মধ্যে ১২
অগোছালো মেজাজ নিয়ে আফিয়ার দিকে দৃষ্টি দিলে তাকে নির্বিকার দেখতে পায় মাহিবা। খানিকটা অবাকই হয় সে। কোনো মেয়েকে এমন মন্তব্য করা হলে তার একটু মেজাজ খারাপ হওয়া তো স্বাভাবিক। যেখানে তার নিজেরই রাগ হচ্ছে সেখানে মেয়েটা এতো শান্ত কিভাবে! তবে এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয়, ছেলেদের দলটা তাকে "খালাম্মা" ডেকে গেছে। এবং এই বিষয়টা নিয়েই ভাবতে বসেছে আফিয়া।
বোনের প্রতি অযাচিত বাক্যবাণ রোধ করতে না পেরে বেশ অপরাধবোধে ভোগে আহমাদ। সন্ধ্যার আগমনে বাড়ির রাস্তা ধরে। তবে যাওয়ার পথে মেলার প্রান্তে এসে মাহিবার ডাকে থামতে হয় তাকে।
- কী হয়েছে?
- একটু চানাচুর মাখা নিতাম।
বিরক্তি প্রকাশ পায় আহমাদের আদলে।
- এসব জিনিস কেউ খায় নাকি! আশ্চর্য!
মিনমিন করে মাহিবা বলে,
- একটু খেলে কিছু হয় না।
- একটু খেলেই এ ঘর ও ঘর দৌড়াদৌড়ি করা লাগবে।
প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বেশ বুঝতে পারে মাহিবা। আয়িশার দিকে অসহায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই ছোট্ট মেয়েটা ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,
- দাদাভাই! দাও না একটু কিনে। আজকে দৌড়াদৌড়ি করতে হলে আর তো চাইবে না বলো!
কথা বাড়ায় না আহমাদ। এমনিতেই তার এখানে থাকতে আর মন টিকছে না। তার উপরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। বেশ খানিকটা চানাচুর মাখা কিনে মাহিবার হাতে দিতেই আবরণের আড়ালে তার ছোট হয়ে আসা চোখ জোড়া নজরে বিধে। যেগুলো দৃষ্টিপাত করে ছিলো তার দিকেই। দৃষ্টি মেলায় না আহমাদ। এক অদ্ভুত জড়তা ঘিরে ধরে তাকে। দ্রুত রাস্তার দিকে যায়।
• • • • •
নামাজ পড়েই আসর জমিয়েছে মাহিবা। আয়িশাকে ডাকতে হয়নি। সে তো ভাবিমণির আঁচল ধরেই ঘোরে। তবে আফিয়াকে ডাকলে সেও বারণ করেনি। আজ মাহিবার উপরে তার একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
নিয়ে আসা চানাচুর মাখার সাথে মুড়ি মাখিয়ে সন্ধ্যার নাস্তা তৈরি করে ফেলে মাহিবা। শাশুড়ির সামনে নিয়ে যেতেই মহিলা বাচ্চাদের মতো খুশি হয়ে ওঠেন। চোখে হাসি হাসি ভাব নিয়ে বলেন,
- জানিস! তোর শ্বশুর থাকতে মেলায় গেলেই চানাচুর মাখা কিনতাম। লোকটা গেলো সাথে আমার সব শখ আহ্লাদও নিয়ে গেলো..
শেষের দিকে গলার কাপন টের পায় আফিয়া, মাহিবা।
শাশুড়ির জন্যই মূলত এই জিনিসটা কিনে আনা। সেদিন ঝাল জিনিসের প্রতি তার আগ্রহ খেয়াল করেছে মাহিবা। আজ সেই ভাবনা থেকেই খাবার নিয়ে আসা। তবে মাহিবার এসব খাবার তেমন পছন্দ না। তাই সে খাওয়ার থেকে বেশি মনোযোগ দিলো শাশুড়ির সাথে আলাপে।
হৈ চৈ এর শব্দ শুনে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল আহমাদ। মায়ের ঘরের সামনে আসতেই ভেতরের মনোরম দৃশ্য দেখে চোখ জুড়ায় ছেলেটা। পরিবারের শান্তি, একজন পুরুষের কাছে এই বোধহয় বহু আকাঙ্খিত প্রাপ্তি। এমন আসর আগেও দেখেছে আহমাদ। কিন্তু মায়ের উচ্ছসিত চেহারাটা এভাবে দেখা হয়নি। বাবা চলে যাওয়ার পর সেই ক্রান্তির সময় নিজেকে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে। মাঠে মাঠে ঘুরে বেড়ানোর বয়সে ছোটো বোন দুটোর দায়িত্ব নিতে হয়েছে। মাও কম করেননি। ঘরে থেকে কতটা সম্ভব করে গেছেন। সেই সংগ্রাম থেকে মায়ের শখের দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়নি। এই ক্ষণে খুব করে বাবার কথা মনে হলো আহমাদের। বাবা থাকলে নিশ্চয়ই শত কষ্টের মাঝেও মায়ের প্রতি খেয়াল রাখতো! সাথে মাহিবার প্রতিও শ্রদ্ধার পারদ উচুঁ হয়। ছেলে হয়ে যে জিনিসটা সে খেয়াল করতে পারেনি, দুদিন হতে না হতেই মাহিবা সেটা নখদর্পণে নিয়ে এসেছে। হুট করে তার মনে হয় বিয়ে করে খুব একটা ভুল করেনি। এগিয়ে যায় ঘরের দিকে। এমন একটা আড্ডায় না থাকতে পারলে আফসোস হবে বৈ কি!
আহমাদকে দেখে সরে গিয়ে নিজের পাশে জায়গা করে মাহিবা। অবচেতন মনের এক টুকরো ইচ্ছে তার একান্ত ব্যক্তিগত পুরুষ তার পাশে বসুক। সে ইচ্ছা পূরণে হোক বা অন্য কোথাও জায়গা না পেয়েই হোক, আহমাদ মাহিবার পাশেই বসে। প্রচ্ছন্ন এক দ্যুতি খেলে যায় মাহিবার চোখে মুখে। সেই দ্যুতির দিকে দৃষ্টি দেয় না আহমাদ। আপাতত ঘোর লাগানোর ইচ্ছে নেই।
আহমাদ আড্ডায় বসতে অভ্যস্ত হলেও আড্ডা জমানো তার কাজ নয়। ভরা মজলিস দেখতে তার ভালো লাগে। আর সেটা যদি হয় পরিবারের মানুষদের নিয়ে তাহলে তো কথাই নেই! এখানেও সে দর্শক। পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষের হাস্যোজ্জ্বল মুখচ্ছবি দেখে ছেলেটা চোখ জুড়ায়, মন ভরায়। আসর জমিয়ে রাখতে মাহিবা এবং আয়িশাই যথেষ্ট। সালেহা বেগম আজ প্রাণ খুলে হাসছেন, মন খুলে কথা বলছেন। আফিয়া অতোটা চুপচাপ না হলেও মাহিবার সাথে যেহেতু তার জড়তা কাটেনি তাই সেও আপাতত চুপচাপ আছে। মাহিবা একের পর এক প্রশ্ন করে চলেছে। সালেহা বেগম বলে চলেছেন তার শৈশবকালের কথা, বিয়ের স্মৃতি, আহমাদ হওয়ার সময়কার সুখোচ্ছবি..সব! মায়ের মুখের দিকে চেয়ে যেনো সেই সময়ে ফিরে যায় আহমাদ, যখন বাবা ছিলো। বাবার হাত ধরে হেঁটে বেড়ানো, বায়না ধরা, বকা খাওয়া সবটা যেনো চোখে ভেসে ওঠে। এক পর্যায়ে সালেহা বেগম আলমারিতে থাকা স্বামীর ছবি এনে দেখান মাহিবাকে। পরিচয় করিয়ে দেন বাড়ির সাবেক কর্তা, আশরাফ ইয়াসিরের সাথে। মুহূর্তে যেনো পরিবেশটা ভারী হয়ে ওঠে। আয়িশা উৎসুক চোখে চেয়ে থাকে ছবির পানে। বাবার সাথে কোনো স্মৃতিই নেই তার! বাবার কোলটুকুতে ওঠার সুযোগও সে পায়নি। আহমাদ, আফিয়া নির্নিমেষে চেয়ে থাকে। বাবা....বাবা....
মাহিবা খুব করে চায় কিছু একটা করতে যেনো কষ্টের পাল্লাটা একটু কম হয়। খুঁজে পায়না কি বলবে, কি করবে। তক্ষুনি ছুটে যেয়ে চুড়িগুলো নিয়ে আসে। মেলার ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করে সকলের মন ঘুরিয়ে দিতে চায়। সালেহা বেগম বোঝেন। অভিজ্ঞ মননে হেসে তাল মেলান ছেলে বৌ এর সাথে। আহমাদও বোঝে, চেয়ে থাকে ওই ছোট্ট মুখটায়।
আয়িশা চাদরের ঘটনা বলতেই আহমাদ বলে,
- কৃপণ কোথাকার!
জড়তা যেনো এক নিমেষে পালায় মাহিবার মন থেকে। গর্জে উঠে বলে,
- কখনোই না! মা আপনিই বলুন এক হাজার টাকার চাদর কেনো তিন হাজার টাকা দিয়ে কিনবো?
সায় দেন সালেহা বেগম।
- তাইতো!
মুখ ঘুরিয়ে আহমাদের দিকে তাকিয়ে মাহিবা বলে,
- এটাকে কৃপণ বলেনা। মিতব্যয়ী বলে বুঝেছেন!
- হুহ!
ছেলে যে তার একটু একটু করে বৌ এর কাছে বাঁধা পড়ছে বোঝেন সালেহা বেগম। যাক! দুটোতে মিলে ভালো থাকলেই ভালো!
• • • • •
রাতের খাবার শেষে ঘরে ঢুকতেই কি কেনো একটা ভিন্ন লাগে। তবে ধরতে পারে না আহমাদ। ভালো করে চারপাশে খেয়াল করতেই দেখতে পায় তার বুকশেলফ আর টেবিল ভরা বই। এগিয়ে যেয়ে বুঝতে পারে এগুলো সব মাহিবার আনা।
মাহিবা আসতেই তাকে লক্ষ্য করে বলে,
- আমার টেবিল আর বুকশেলফ যে এভাবে এঁটে রেখেছেন এদের শ্বাসকষ্ট হলে কি আপনার ইনহেলার দেবেন?
- অ্যা!
কথার ইঙ্গিত বুঝতেই এগিয়ে আসে মাহিবা। এক পলক আহমাদের দিকে চেয়ে শুধায়,
- বিয়ের সাথে সাথেই আপনার সব জিনিসের উপর আমার অলিখিত অধিকার এসে গেছে। বুঝেছেন?
সরু চোখে মাহিবার দিকে তাকায় আহমাদ।
- তাই?
- জী।
- কি কি এসেছে আপনার অধিকারে?
- যা আপনার সেসব। আপনার খাট, টেবিল, চেয়ার, বুকশেলফ, এই পুরো রুম।
একটু থেমে আবার বলে,
- আপনার সুখ, দুঃখ, কষ্ট, খুশি সব।
ধীরে বলা কথাগুলো সুরের ন্যায় বাজে আহমাদের কানে। একদৃষ্টিতে চেয়ে রয় সুর বাজানো সেই আদলে। সেই দৃষ্টির ধারে টিকতে না পেরে কথা ঘোরায় মাহিবা।
- মা বললো কাল থেকে আপনার অফিস শুরু?
পলক না ফেলেই উত্তর দেয় আহমাদ।
- হুম।
- কখন যাবেন?
- নয়টায়।
- আর আসবেন কখন?
কোমল কণ্ঠের প্রশ্নের সাথে আশান্বিত চাহনি যেনো বশ করে ফেলে আহমাদকে। দৃষ্টি টেনে হিঁচড়ে সরায় আহমাদ। মেয়েটা তাকে কাবু করে ফেলছে।
- কখন আসবেন?
তাকায় না আহমাদ। আর বশীভূত হতে চায় না সে।
- ছয়টার দিকে চলে আসি।
- আচ্ছা।
বলতে চাওয়া কথা ওঠানোর সুযোগ খুঁজছিলো মাহিবা। আহমাদকে বেশ নরম লাগছে। মেজাজ বোধহয় ভালোই আছে। এখন বলা যায়।
- একটা কথা বলতাম।
বিছানায় যেয়ে বসে আহমাদ। বালিশে হেলান দিয়ে বলে,
- বলুন।
আহমাদের পা বরাবর বসতেই পা গুছিয়ে নেয় সে। বেশ কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে মাহিবা বলে,
- আজকে মেলায় ছেলেগুলো যে আফিয়াকে উদ্দেশ্য করে বাজে কমেন্ট পাস করলো সেই বিষয়ে কি আপনি কিছু ভেবেছেন?
মনোযোগী হয় আহমাদ।
- কি ভাববো?
- কিছু ভাববেন না?
- পথ চলতে গেলে এমন কতো কথাই তো শুনতে হয়। সবাইকে কি চুপ করানো যাবে?
আহমাদের উত্তরে বেশ ধাক্কা খায় মাহিবা। তার কাছ থেকে এমন উত্তর সে আশা করেনি। আশাহত কণ্ঠে বলে,
- তাহলে যার যেমন ইচ্ছা তেমন আমাদের বলে যাবে আর আপনি কিছুই করবেন না?
মেয়েটা আমাদের বলতে কাদের বুঝিয়েছে আহমাদ বেশ ভালোভাবেই বোঝে।
- আমি সবার চোখ নামতে পারবো নাকি মুখ বন্ধ করতে পারবো?
- সবার খবর তো জানিনা। কিন্তু নিজেদের ব্যবস্থা করতে তো পারবেন?
- মানে?
নিজেকে গুছিয়ে বেশ গুরুত্বের সাথে মাহিবা বলে,
- যেদিকে সবাই চোখ দিতে চায় সেদিকটা ঢেকে ফেললেই তো আর ওরা কিছু দেখতেও পারে না, বলতেও পারে না।
কথাগুলোও বেশ প্যাঁচানো লাগে আহমাদের কাছে।
- সোজা করে বলুন তো কি বলতে চান।
- দেখুন আমি বুঝি যে আমার পোশাকের ধরণ আপনার পছন্দ না। বাইরে যাওয়ার সময় যে আমি বোরখা, হাত মোজা, পা মোজা পড়ি এগুলো আপনার তেমন ভালো লাগে না। তারপরও আপনি যে আমাকে কখনো বাঁধা দেননি বা কিছুতে জোর করেননি সেজন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করুন। আপনি একজন ছেলে। একটা মেয়ের প্রতি একটা ছেলের দৃষ্টিভঙ্গি, তাকে নিয়ে ভাবনা কতদূর পর্যন্ত গড়াতে পারে সেটা আমার চেয়ে আপনি কয়েকগুণ বেশি জানেন।
নড়েচড়ে বসে আহমাদ। মাহিবার পরের কথা শোনে।
- আপনার ফ্রেন্ড সার্কেল আছে। সেখানে অবশ্যই কোনো না কোনোদিন মেয়েদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন সেই আলোচনা কোন পর্যায়ে যেতে পারে সেটা আমি শুধু ধারণা করতে পারি কিন্তু আপনি তো এসব বিষয়ে বেশি বলতে পারবেন। তো সেখান থেকেই ভাবুন, কেউ যদি ঐ পর্যায়ে আফিয়াকে বা আয়িশাকে নিয়ে ভাবে তাহলে কি আপনার ভালো লাগবে? আজকের ঐ ছেলেটার শেষ কথাটাই ধরুন। কোনভাবে দেখলে একটা মেয়েকে ওরকম একটা কথা বলা যায় ভেবে দেখেছেন!
সবচেয়ে কাছের বন্ধু ইফাদ হলেও জীবন চলার পথে অনেকের সাথে ওঠা বসা হয়েছে আহমাদের। সে জানে ছেলেদের আড্ডায় মেয়েদের অবস্থান কেমন হয়। একটা ছেলে কোন স্তর পর্যন্ত কল্পনা করতে পারে এটাও তার জানা। কিন্তু নিজের বোনকে কেউ ঐ পর্যায়ে, ওভাবে ভাববে এমনটা ভাবতেই শিউরে ওঠে সে। ছেলেটার কথা মনে হতেই ক্রোধ জমে। ক্রোধ এবং ভয়ের মিশ্রিত চাহনি মাহিবার দিকে দিতেই সে কোমল হেসে বলে,
- আমি ভেবেছিলাম আপনি আপনার বোনেদের নিয়ে অনেক সতর্ক। কিন্তু এটা বলতেই হচ্ছে যে তাদের মেইন বিষয়ে আপনি খামখেয়ালী করেছেন।
বলার কিছু খুঁজে পায় না আহমাদ। কি বলা উচিত তার!
আহমাদকে চুপ থাকতে দেখে মাহিবা নিজেই বলে,
- এখন যদি কেউ আফিয়াকে অযাচিত স্পর্শ করতে চায় বা এমন কিছু করে তাহলে আপনি কি করবেন? অবশ্যই তার বিরুদ্ধে স্টেপ নেবেন! উচিৎও বটে। কিন্তু একটা কথা ভাবুন, ঐ পর্যন্ত আফিয়া যাবেই বা কেনো! আমাদের কি উচিত না ওকে এমন পরিবেশ থেকে বাঁচিয়ে রাখা?
- হুঁ।
আহমাদের সায় পেয়ে ফের শুরু করে মাহিবা।
- কিন্তু সবসময় যেহেতু ওর সাথে সাথে থাকা সম্ভব না তাই আমাদের উচিত ওর জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। একটা জিনিস খেয়াল করেছিলেন? আজকে ঐ ছেলেগুলো আমাকে খালাম্মা বলে ডেকেছিলো। তার মানে আমার বয়স কতো, বডি স্ট্রাকচার কেমন এটা ওরা ধরতে পারেনি সেজন্য আমাকে আফিয়ার মা ভেবে বসেছে এবং আমাকে উদ্দেশ্য করে কোনো কথাও বলেনি। সেমভাবে আফিয়া যদি এমন বোরখা পড়ে থাকতো তাহলে কি ওরা কিছু বলতে পারতো?
ভাবুক হয় আহমাদ। বেশ ভেবে সমীকরন মেলানোর চেষ্টা করে। মাহিবার দিকে চাইতেই সে বলে,
- আপনার কেনো পর্দা পছন্দ না আমি জানিনা। কিন্তু এটা আল্লাহর নির্দেশ। আপনি যেহেতু নিয়মিত নামাজ আদায় করেন এটা আপনাকে বোঝানো সহজ হবে আশা করি।
মেয়েরা এমনই যে ছেলেদের আকর্ষণ করে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু এই আকর্ষণকে ব্যবহার করে শয়তান তার কার্যসিদ্ধি করে এবং ছেলে মেয়েদের বিপথে যেতে ইন্ধন যোগায়। এই ক্ষেত্রে আল্লাহ একটা সীমানা টেনে দিয়েছেন। আপন নারী ব্যতীত ছেলেরা তাদের দৃষ্টিতে লাগাম টানবে এবং আপন পুরুষ ছাড়া মেয়েরা নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না। এবং এই বিষয়টা আপনি বিস্তারিত পাবেন সূরা নূরের একত্রিশ আর বত্রিশ নাম্বার আয়াতে। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কি বলছি?
- হ্যাঁ।
আহমাদের মনোযোগ খেয়াল করে সে আবার বলে।
- এর মানে কিন্তু এই না যে সব পরপুরুষ বা পরনারী থেকে বিপদ আসতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ বিপদ যেহেতু এদিক থেকেই আসে তাই একটা নিয়মের মাধ্যমে বিষয়টা এনশিওর করা হয়েছে যেনো আমরা সংযত থাকি। আর এখন যে দিনকাল চলছে নিজেদের মামা চাচার সাথেও তো সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
শেষের কথাটা বেশ অশ্লেষের সাথে বলে মাহিবা। আহমাদ তার প্রত্যেকটা কথা শোনে। শ্রোতা হিসেবে তার জুড়ি মেলা ভার।
- আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর দেওয়া কোনো বিধান যদি আপনি না মানেন, মানে নিজ জীবনে প্রয়োগ করছেন নাকি সেটা না, যদি এমন ভাবেন যে এই নিয়মের কোনো দরকার নেই, এখনকার সময়ে ভ্যালু নেই, ফালতু ব্লা ব্লা তাহলে কিন্তু আপনার ঈমান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে। আপনি মেনে চলতে পারছেন কিনা সেটা পরের বিষয় কিন্তু আপনি অন্তরে অন্তত এটুকু ভাবছেন যে আল্লাহ্ বলেছে মানেই ঠিক এটা দেখতে হবে। নাহলে কিন্তু মুসলিমের তালিকা থেকে নাম বাতিল। বিষয়টা কিন্তু খুব সিরিয়াস। ভেবে দেখার অনুরোধ রইলো।
আহমাদকে ভাবনার সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে ঘুমের দেশে পাড়ি দেয় মাহিবা। কিন্তু আহমাদ কাঁটায় এক নির্ঘুম রাত। কুরআন, তাফসীর থেকে হাতের কাছে সব বই ঘেঁটে ফেলে। আশ্চর্য! এগুলো আগে দেখেনি কেনো!
চলমান.
(আমি এতো বড়ো করে একেকটা পর্ব লিখি আপনারা কি একটু ছোটো করে ভালো লাগা বলে যেতে পারেন না! এতো কৃপণ কেনো আপনারা হুঁ!)