পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ০৯

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৯ · ২৩ পর্বের মধ্যে ৯

এরপর অরিন ও রাশেদ আঙ্কেলকে নিয়ে মাওলানা আলতাফ সাহেবের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা মাওলানা আলতাফ সাহেবের বাড়ি গিয়ে পৌঁছাই। ওখানে গিয়ে জানতে পারি সে কোনো কারণে গতকাল রাতে গ্রামের বাইরে গেছে। তাছাড়া উনি আজকেই ফিরে আসবে তবে কখন আসবে কেউ শিওর হয়ে বলতে পারছে নাহ।

বেশ অনেকক্ষণ কেটে গেলো কিন্তু মাওলানা আলতাফ সাহেবের কোনো দেখা পাচ্ছি নাহ। নিরাশ হয়ে যখন ফিরে আসছিলাম তখন....

"আরে! সাব!! আপনি আবারও এসেছেন.? সাথে এরা কারা.?"

আমি, অরিন ও রাশেদ আঙ্কেল একসাথে বলে উঠলাম...

"কে.?"

আলতাফ সাহেব:- আমি! আমি! সাব! আমি! মাওলানা আলতাফ সাহেব।

আরিয়ান:- ওহ্ আপনি! ভালো হয়েছে আপনি ফিরে এসেছেন। আমরা আপনার কাছেই এসেছিলাম।

আলতাফ সাহেব:- কেনো.? কি হয়েছে সাব.? কোনো.. কোনো বিপদ হয়নি তোহ.?

রাশেদ আঙ্কেল:- আ-আপনিই তাহলে মাওলানা আলতাফ সাহেব!

আলতাফ সাহেব:- হ্যাঁ! আমিই আলতাফ সাহেব কিন্তু আপনাকে তোহ ঠিক চিনলাম নাহ..?

আরিয়ান:- ইমাম সাহেব, উনি রিশার বাবা।

আলতাফ সাহেব:- রিশার বাবা.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! কিন্তু, আপনার সাথে আমাদের দরকারী কথা আছে। আপনার কাছে কি সময় আছে.?

আলতাফ সাহেব:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! কেনো নাহ.? অবশ্যই সময় আছে। বলুন আপনাদের কিভাবে সাহায্য করতে পারি। কিন্তু এই মেয়েটা কে.?

আরিয়ান:- ও অরিন! ভুজঙ্গপুর গ্রামের পুলিশ অফিসার।

আলতাফ সাহেব:- ওহ্! তা বলুন আপনারা কেনো এসেছেন.?

আরিয়ান:- এখানে বলা যাবে নাহ! আমরা কি ভিতরে বসে কথা বলতে পারি.?

আলতাফ সাহেব:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! চলুন! আমরা ভিতরে বসেই কথা বলি।

এরপর আমরা তিন জনসহ আলতাফ সাহেব একটা ঘরের ভিতরে গিয়ে বসলাম। এবার কোথা থেকে আলতাফ সাহেবকে বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম নাহ, আমাকে ঘাবড়াতে দেখে আলতাফ সাহেব বললো...

আলতাফ সাহেব:- কি হলো সাব! এভাবে ঘাবড়াচ্ছেন কেনো.? আমাকে সবকিছু খুলে বলুন.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলছি। ইমাম সাহেব.. ১৬ বছর আগে এখানে যে মহিলাটিকে তার সন্তানসহ পুড়িয়ে মারার জ্ঞান গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিল ওই মহিলাটি কে ছিলো...?

আলতাফ সাহেব:- সাব! আ-আপনি ওর ব্যাপারে কিভাবে জানেন.?

আরিয়ান:- সবকিছু বলছি! আগে বলুন ওই মহিলাটি কে ছিলো.? কি তার আসল পরিচয়.?

আলতাফ সাহেব:- মেয়েটি আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই ছিলো। নাম ছিলো তার রোকসানা! বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে, খুব চঞ্চল প্রকৃতির ছিলো কিন্তু হঠাৎ করে কি হলো কি জানি, একদিন রাতে নদীর ধারে পানি আনতে গিয়ে হুট করে মেয়েটি উধাও হয়ে যায়, পরদিন সকালে মেয়েটিকে অজ্ঞান অবস্থায় গ্রামের নিষিদ্ধ স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়। মেয়েটির পরনের জামা কাপড় ছেঁড়া ফাটা ছিলো, হয়তো সবাই ভেবেছিলো মেয়েটি কোনো বাজে লোকের চক্করে পরেছিলো আর সেই বাজে লোকটিই মেয়েটার এই হাল করেছে। সবাই তখন ওই মেয়েকেসহ ওর পরিবারকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে থাকে। মেয়েটি বার বার সবাইকে বুঝানোর চেষ্টা করে যে ও কোনো বাজে লোকের চক্করে পরেনি। ওর এমন অবস্থা কিভাবে হয়েছে ও নিজেও জানে নাহ কিন্তু গ্রামের কেউই ওর কথা বিশ্বাস করেনি একমাত্র আমিই মেয়েটিকে বিশ্বাস করে ওর পাশে দাঁড়াই এবং ওর হয়ে গ্রামবাসীদের বুঝাই। সবাই আমার কথা বুঝেও ছিলো। তারপর গ্রামের এক ধনী ব্যক্তির ছেলের সাথে ওর বিয়ে দি। বিয়ের পর স্বামীর সাথে এক রাত এক দিন সংসার করেছিলো পরদিন রাতেই ওর স্বামীর অজ্ঞাত কোনো কারণে মৃত্যু হয়। আজও কেউ ওর স্বামীর মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে পারেনি।

তখন ওর স্বামীর মৃত্যুর ৫ দিন হয়েছিল আর ওদের বিয়ের ৭ দিন। অস্বাভাবিক ভাবে রোকসানার পেট গর্ভবতী নারীদের মতো বড় হতে থাকে। গ্রামের দায়ী মহিলারা ওর নারী পরীক্ষা করে জানতে পারে রোকসানা সত্যি সত্যি গর্ভবতী। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব.? বিয়ের পর মাত্র এক রাত এক দিন সংসার করেছিলো এর মধ্যে কোনো মেয়ের পক্ষে গর্ভবতী হওয়া কিছুতেই সম্ভব নাহ.?

আস্তে আস্তে দিন যত বাড়ছিলো রোকসানার পেটও বাড়তে থাকে। সবাই রোকসানাকে ভয় পেতে শুরু করে। সবাই রোকসানাকে ডাইনি রাক্ষসী ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। এরপর পরিস্থিতি আরে বেশি ভয়ংকর হয় যখন রোকসানার একসাথে জমজ সন্তান জন্ম হয়।

ওর সন্তান জন্মের পরেই গ্রামবাসীরা ওর উপর আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে কারণ, অজানা কারণে একদিন রাতে হুট করে উধাও হয়ে গেলো তারপর বিয়ের দ্বিতীয় দিনই ওর স্বামীর অজানা কারণে মৃত্যু তার উপর ওর উধাও হওয়ার ১ মাাসের মাথায়ই সন্তান জন্ম দেওয়াটা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নাহ। সবাই ওকে মারার জন্য একজোট হয়। সেদিন আমি আর আমার স্ত্রী ওকে পালাতে সাহায্য করেছিলাম। কারণ আমাদের বিশ্বাস ছিলো ওর উপর। ছোট থেকে আমাদের সাথে থেকেই মেয়েটি বড় হয়েছে। বড় মায়া জন্মে গিয়েছিলো তাই গ্রামবাসীর হাত থেকে ওর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিলাম। ও পালিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই গ্রামে প্রচুর বেগে ভূমিকম্প হয় এতে করে অনেকে মারা যায়। আর আশ্চর্য করা বিষয় হলো যারা মারা গিয়েছিলো তাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই ছিলো রোকসানার বিরুদ্ধে। যারা ওর ক্ষতি করতে চেয়েছিল তারাই ভূমিকম্পে মারা গিয়েছিলো।

কিন্তু কি জানেন, আজ, রোকসানা আর ওর সন্তানরা কে কোথায় আছে কিছুই জানি নাহ। মাঝে মাঝে ওদের কথা খুব মনে পরে কিন্তু ওদের খুঁজে বের করার কোনো উপায় নেই।

আরিয়ান:- ইমাম সাহেব! রোকসানা আন্টি আর৷ বেঁচে নেই।

আলতাফ সাহেব:- মানে.? আপনি ওর খবর জানলেন কিভাবে.? আর আপনাকে কে বলেছে ও আর বেঁচে নেই.?

আরিয়ান:- ইমাম সাহেব! রোকসানা আন্টি আমার গাড়িতে এক্সিডেন্ট করেই মারা গেছে!

আলতাফ সাহেব:- আপনি কিভাবে জানেন যে ওটা রোকসানা.?

আরিয়ান:- আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি.!

আলতাফ সাহেব:- তাহলে ওর সন্তানরা কোথায়.?

রাশেদ আঙ্কেল:- উনার এক সন্তান আমার কাছে ছিলো!

আলতাফ সাহেব:- মানে.?

আরিয়ান:- ইমাম সাহেব! রিশা, রোকসানা আন্টির ই সন্তান ছিলো। সেদিন রোকসানা আন্টি গ্রাম থেকে পালানোর পথে রাশেদ আঙ্কেলের কাছে রিশাকে রেখে গিয়েছিলেন।

আলতাফ সাহেব:- তাহলে ওর আরেক সন্তান কোথায়.?

আরিয়ান:- আমরা ওর ব্যাপারে কিছুই জানি নাহ! আমরা রোকসানা আন্টির দাফন কাজ শেষ করে উনার মেয়েকে উনারই কুটিরে রেখে এসেছিলাম। এখন হয়তো ও ওদের কুটিরেই আছে।

[আমার সাথে অরিন ছিলো বলে আলতাফ সাহেবকে বলতে পারলাম নাহ যে হরিণী আমার কাছেই আছে আর ও সুরক্ষিত আছে।]

রোকসানা আন্টির আরেক সন্তান তাদের কুটিরে আছে শুনে আলতাফ সাহেব কিছুটা রাগান্বিত কণ্ঠে বলে উঠলেন...

"কিন্তু! ও তোহ ওদের কুটিরে নেই!"

আরিয়ান:- মানে.? আপনি কি করে জানলেন যে ও ওদের কুটিরে নেই.?

আলতাফ সাহেব:- ইয়ে! আপনি তোহ জানেনই আমি ওই সবকিছু দেখতে পারি যা অন্য কেউ পারে নাহ।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! কিন্তু ইমাম সাহেব আপনার সাথে এর বাইরেও আমাদের জরুরি কথা আছে...

আলতাফ সাহেব:- কি কথা..?

আরিয়ান:- আপনি তোহ জানেনই এখানে আসার পর আমি আমার ভালোবাসার সকল প্রিয় মানুষগুলোকে হারিয়েছি।

আলতাফ সাহেব:- হ্যাঁ! আপনার জীবনের কালো অধ্যায়ের আমিই একমাত্র সাক্ষী।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! তবে ইমাম সাহেব যেটা বলার ছিলো সেটা শুনুন...

আলতাফ সাহেব:- হ্যাঁ বলুন!

আরিয়ান:- রিশা মৃত্যুর পরেও ফিরে এসেছে.!

আলতাফ সাহেব:- কি! এটা কিভাবে সম্ভব.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! এটাই সত্যি! রিশা আবারও ফিরে এসেছে কিন্তু সেটা ওর নিজের ইচ্ছায় নাহ। ওকে আবারও ফিরে আসতে কোনো এক খারাপ শক্তি বাধ্য করেছে।

আলতাফ সাহেব:- এক মিনিট! আপনি কিভাবে বলছেন যে রিশা আবারও ফিরে এসেছে.? আপনি কি রিশাকে দেখেছেন.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! শুধু আমি নাহ রাশেদ আঙ্কেলও দেখেছে.!

আলতাফ সাহেব:- উফফ! এটা কিভাবে সম্ভব.? [বিড়বিড় করে]

আরিয়ান:- ইমাম সাহেব! কিছু বললেন.?

আলতাফ সাহেব:- নাহ! নাহ! তারপর বলুন, আপনি জোড় গলায় কিভাবে বলছেন যে ওকে আবারও ফিরতে কোনো খারাপ শক্তি বাধ্য করেছে.?

আরিয়ান:- রিশা যেদিন আমাদের সাথে দেখে করেছিলো সেদিন বলেছিলো ওকে সরদার নামে কেউ নিজের বশে করে রেখেছে। ওর আসল পরিচয় জানার আগ পর্যন্ত ওর আত্মার মুক্তি হবে নাহ।

রাশেদ আঙ্কেল:- আরিয়ান! আরিয়ান! শুনো..

আরিয়ান:- হ্যাঁ! আঙ্কেল, বলুন.?

রাশেদ আঙ্কেল:- এখন তোহ রিশার আসল পরিচয় সবাই জেনে গেছো তাহলে কি আমার মেয়েটা এখনো মুক্তি পাবে নাহ.?

আরিয়ান:- জানি নাহ আঙ্কেল! হয়তো মুক্তি পেতেও পারে কিন্তু....

অরিন:- কিন্তু কি আরিয়ান.?

আরিয়ান:- সরদার কি চায়.? রিশার আসল পরিচয়ের সাথে সরদারের কি কাজ.?

অরিন:- সেটাই তোহ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো নাহ। এখন এটা ভাবো রিশা আপুকে মুক্তি করবে কিভাবে..?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! ভাবতে হবে কি করা যায়...

রাশেদ আঙ্কেল:- আলতাফ সাহেব! আপনি কিছু করতে পারবেন নাহ.? আপনি কি পারবেন নাহ আমার মেয়ের আত্মাকে মুক্তি দিতে.?

আলতাফ সাহেব:- আ-আপনারা একদম চিন্তা করবেন নাহ! আমি দেখছি কি করা যায়। আপনারা একদম নিশ্চিন্ত থাকুন। রিশা ম্যাডাম অবশ্যই মুক্তি পাবে। আমি মুক্তি করবো তাকে, আমি!

আরিয়ান:- প্লিজ ইমাম সাহেব, কিছু একটা করুন। প্রথম বারের মতো এবারও আমাদের এই কঠিন বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করুন প্লিজ!

আলতাফ সাহেব:- আহা! এভাবে বলছেন কেনো.? আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, ব্যাপারটা দেখছি আমি। আপনারা এক কাজ করুন..

রাশেদ আঙ্কেল:- কি করতে হবে বলুন! আমরা সব করতে রাজি!

আলতাফ সাহেব:- আপনারা এখন চলে যান! কাজ শেষ হলে আমিই আপনাদের খবর দিবো।

আরিয়ান:- কিন্তু.?

আলতাফ সাহেব:- কোনো কিন্তু নাহ সাব! আপনারা সবকিছু আমার উপর ছেড়ে দিন। আমি সবকিছু সামলে নিবো।

অরিন:- আমারও মনে হচ্ছে আলতাফ সাহেবের উপর সবকিছু ছেড়ে দেওয়াটাই ভালো হবে। কারণ আমরা এসবের কিছুই জানি নাহ, উনিই এসব ভালো বুঝবেন তাই উনাকে সবকিছু সামলাতে দেওয়াটাই ভালো হবে।

রাশেদ আঙ্কেল:- ঠিক আছে! তবে আমার রিশা মামনী যেনো মুক্তি পায়।

আলতাফ সাহেব:- একদম নিশ্চিন্ত থাকুন!

আরিয়ান:- তাহলে আমরা চলে যাচ্ছি! কাজ শেষ হলে আমাদের জানাতে ভুলবেন নাহ কিন্তু!

আলতাফ সাহেব:- নিঃসন্দেহে যেতে পারেন আপনারা!

আলতাফ সাহেবের উপর সবকিছু ছেড়ে আমরা নিশ্চিন্তে চলে গেলাম। আমি আর অরিন ফিরে গেলাম ভুজঙ্গপুর গ্রামে আর রাশেদ আঙ্কেল শহরপ চলে গেলেন।

রাস্তায় রাশেদ আঙ্কেল আমাকে শহরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেক ভাবে বুঝায় কিন্তু আমি তার কাছ থেকে কিছুটা সময় চেয়েছি। বলেছি, আমি শহরে ফিরবো কিন্তু একটু সময় লাগবে। রাশেদ আঙ্কেলও আমাকে সময় দিয়ে নিজের মতো করে শহরে চলে গেলেন।

রাশেদ আঙ্কেলকে বিদায় জানিয়ে আমি আর অরিন ভুজঙ্গপুর গ্রামে ফিরে গেলাম। ভুজঙ্গপুর গ্রামে আসার পর আমি অরিনদের ফার্ম হাউসে ফিরে গেলাম আর অরিন নিজের অ্যাপার্টমেন্টে।

যাওয়ার সময় অরিন বলে গেলো...

"কাল সকালে তোমাকে নিয়ে আমার বাবা মায়ের কাছে যাবো, রেডি হয়ে থেকো"

"ঠিক আছে, তুমি বের হয়ে আমাকে একটা কল দিও"

"ঠিক আছে! তুমি এক কাজ করো, তুমি রেডি হয়ে পুলিশ স্টেশনে অপেক্ষা করবে আমি ওখান থেকেই তোমাকে ড্রপ করবো"

"ওকে! এখন যাই তুমিও যাও কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে"

"ওকে! আল্লাহ হাফেজ! সী ইউ সুন"

এরপর অরিনকে বিদায় জানিয়ে আমিও ওদের ফার্ম হাউসে চলে গেলাম।

ফার্ম হাউসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। ওখানে গিয়ে দেখি, হরিণী সারাদিন কিচ্ছু খায়নি। নাহ খেয়ে আমার ঘরে কুঁকড়ি দিয়ে বসে বসে কান্না করছে। আমি ছুটে গিয়ে ওকে শান্ত করে জিজ্ঞেস করলাম...

"কি হয়েছে.? কান্না করছো কেনো.?"

হরিণী:- ক-কিছু নাহহ!!

আরিয়ান:- বলো কি হয়েছে.? আর তুমি কিছু খাওনি কেনো.?

হরিণী:- একা একা ভয় করছিলো!

আরিয়ান:- কি বলছো.? ভয় কেনো পাচ্ছিলে.? কি হয়েছে.? বলো আমাকে!

হরিণী:- পরে বলবো!!

আরিয়ান:- আচ্ছা! ঠিক আছে, এখন চলো খাবার খাবে।

হরিণীকে সোফায় বসিয়ে রেখে আমি ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করলাম। আমারও প্রচুর খিদ পেয়েছিলো কারণ আমিও সারাদিন কিচ্ছু খাইনি। খাবার গরম করে সোফায় গিয়ে হরিণীকে খাবার দিলাম আর আমার জন্যও খাবার নিলাম।

খাবার খেতে খেতে টিভি অন করলাম। খেয়াল করলাম টিভির ভিতরে মানুষ চলাচল করতে দেখে হরিণী অনেক অবাক হয়েছে। হুট করে খাবার রেখে হরিণী টিভির সামনে গিয়ে তার ভিতরে থাকা মানুষদের খুঁজতে থাকে, তারা এটার ভিতর কিভাবে গেলো.?!

ওকে এমন ছেলে মানুষী করতে দেখে আমি হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলাম...

"কি হলো.? কি করছো.?"

হরিণী:- এ-এটার ভিতর মানুষ গেলো কিভাবে.?

আরিয়ান:- এটার ভিতর কোনো মানুষ নেই!

হরিণী:- তাহলে.?

আরিয়ান:- তুমি বুঝবে নাহ! ছাড়ো এসব!! এইখানে এসো খাবার খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি !

টিভির সামনে থেকে হরিণী কিছুতেই আসতে চাইছিলো নাহ! টিভিতে থাকা মানুষগুলোকে ও খুঁজে বের করবেই! ওর কান্ড দেখে আমি হাসতে হাসতে প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম।

কিছুক্ষণ ওর ছেলে মানুষী দেখে জোড় করে ওকে সোফায় এনে বসালাম। সোফায় বসিয়ে একটু ধমকের সুরে বললাম...

"চুপচাপ করে তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে নাও"

আমাকে রাগী কণ্ঠে কথা বলতে দেখে হরিণী কিছুটা সংকোচিত হলো। বার বার খাবারে হাত নাড়ছিলো কিন্তু কিছুই খাচ্ছিলো নাহ।

বুঝতে পারলাম ধমকের সুরে কথা বলার কারণে সে অভিমান করেছে। এই প্রথম হরিণীকে অভিমান করতে দেখলাম। কিছুটা অনুশোচনা বোধ করলাম। কিছুদিন আগেই মেয়েটা নিজেড মাকে হারালো তার উপর গতরাতে কে বা কারা যেনো ওকে ধরে নিয়ে যেতে এসেছিলো। ওর সাথে এখন রাগ দেখানোটা উচিৎ হয়নি! একটু মিষ্টি কণ্ঠে ডাক দিয়ে বললাম...

"কি হলো হরিণী.? রাগ করেছো বুঝি! আচ্ছা বাবা, সরি! আর বকবো নাহ। এবার এদিকে এসে আমি খাইয়ে দি"

হরিণীর হয়তো ওর মায়ের কথা পরছিলো তখন, ও কিছু নাহ বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলে...

"আমার আম্মাজানও একদম তোমার মতোই আমার খেয়াল রাখতো"

এবার যেনো আমারও একটু খারাপ লাগতে শুরু হলো। মেয়েটার এখন আমি ছাড়া আর কেউই নেই খেয়াল রাখার মতো।

তারপর হরিণীকে বুঝিয়ে শান্ত করে নিজের হাতেই খাবার খাইয়ে দি।

ওকে খাওয়ানোর পর আমি সোফায় বসে বসে টিভি চ্যানেল চেঞ্জ করতে থাকি। তখনও হরিণী আমার পাশেই বসে ছিলো। আমি একের পর এক চ্যানেল চেঞ্জ করছিলাম একেক চ্যানেলে একেক রকম মানুষ দেখে হরিণী আবারও আগের মতো অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো।

চ্যানেল চেঞ্জ করতে করতে এক পর্যায়ে একটা কার্টুন চ্যানেল আসে তখনই হরিণী আমার হাত থেকে রিমোটটা টান দিয়ে নিয়ে যায়। আবারও ধমকের সুরে বললাম...

"কি হলো হরিণী! এমন করলে কেনো.?"

"এগুলো কি! এদের তোহ মানুষের মতো লাগছে নাহ!"

"এগুলোকে বলে কার্টুন! এরে মানুষ নাহ!"

"ওদের দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। আমি কি ওদের দেখতে পারি!"

"হ্যাঁ! হ্যাঁ! তুমি ওদের দেখতে পারো কোনো সমস্যা নেই।"

"আচ্ছা! কিন্তু তুমি যখন চলে যাবে তখন আমি ওদের খুঁজে বের করবো কিভাবে.?"

"দাড়াও আমি শিখিয়ে দিচ্ছি"

এরপর হরিণীকে রিমোট দিয়ে কিভাবে টিভি অফ ও অন করতে হয় এটা শিখিয়ে দিলাম। তারপর কিভাবে চ্যানেল চেঞ্জ করতে হয় এটাও শিখিয়ে দিলাম।

মেয়েটা একদম বাচ্চা। এভাবে নিরব হলেও ওর মনটা অনেক চঞ্চল।

যাই হোক, সেদিন রাতে হরিণীকে টিভি দেখতে বসিয়ে রেখে আমি ঘুমতে চলে যাই। এবং যাওয়ার সময় বলে যাই...

"তোমার টিভি দেখা শেষ হলে টিভি অফ করে তুমিও ঘুমতে চলে যেও, আমি ঘুমতে গেলাম। কাল সকালে আমাকে একটা কাজে র জন্য বের হতে হবে!"

হরিণী মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো।

যাকগে, সারাদিন অনেক অজানা সত্যের মুখোমুখি হয়েছি এখন আমি প্রচুর ক্লান্ত আর এক মুহুর্ত দাঁড়িয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নাহ। হারিণীর টিভি দেখা শেষ হলে যেনো ঘুমিয়ে পরে এতটুকু বলে আমি আমার রুমে ঘুমাতে চলে যাই।