পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ০৬

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৬ · ২৩ পর্বের মধ্যে ৬

সবকিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আবারও গোসল করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ওয়াশরুমের সামনে যেতেই যেনো আমি আকাশ থেকে পরলাম।

একটু আগেই ওয়াশরুমের দরজা ভেঙ্গে আমাকে টেনে বাইরে নিয়ে গেলো এখন দরজাটা দেখে তোহ একদম ঠিকঠাক মনে হচ্ছে। দরজা ভাঙ্গার কোনো চিহ্নও নেই। এক মুহুর্তে কি থেকে কি হয়ে গেলো।

নাহ! এখন এসব নিয়ে মাথা ঘামালে চলবে নাহ।

আবারও গোসল করতে ঢুকে পরলাম। এবার সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলো। তাড়াতাড়ি করে গোসল শেষ করে বেরিয়ে পরলাম।

এখন এসব নিয়ে নাহ ভেবে একটা নিশ্চিতে ঘুম দি, কাল অনেক কাজ করতে হবে। তারপর যদি বেঁচে থাকি দু'এক দিনের মধ্যে শহরে চলে যাবো নিউজ চ্যানেলে জব খুঁজতে। যদি ভাগ্যে থাকে অবশ্যই কোনো নাহ কোনো জব পেয়েই যাবো কিন্তু তার আগে আমাকে আবারও পাহাড়িতলা গ্রামে যেতে হবে।

ওইদিনও নিজেকে নিজেই কথা দিয়েছিলাম আর কোনোদিন পাহাড়িতলা গ্রামে ফিরবো নাহ। কিন্তু আমার ভাগ্য আমাকে আবারও সেই গ্রামে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ওই পাগল মহিলাটির বলা কথা আবারও সত্যি হয়ে গেলো। কিন্তু কে ওই মহিলা.? আমার সাথে কি সম্পর্ক উনার.?

সে হবে কোনো এক সম্পর্ক, এখন এসব নাহ ভেবে আমার ঘুমনো উচিৎ।

কিন্তু একটা জিনিস বুঝে গেলাম, গতবারের চেয়েও বেশি ভয়ংকর কিছু হতে চলেছে আমার সাথে। আজকের মতো ভয় আমি কোনোদিনও পাইনি৷ একটা সময় ছিলো যখন আমি ভুতপ্রেত, পুনর্জন্ম এসব কিছুই বিশ্বাস করতাম নাহ। আর আজ আমি এসবের সাক্ষী। এগুলোও হয়। আল্লাহর হুকুমে প্রকৃতি সবকিছু করতেই বাধ্য।

থাকগে, এখন এসব ভেবে লাভ নেই, ঘুমা আরিয়ান ঘুমা। গুড নাইট। বেঁচে থাকলে কালকে দেখা হবে।

আমি সত্যিই পাগল হয়ে গেছি, একা একা নিজের সাথে কথা বলছি। উফফ! আল্লাহ! হেফাজত করো আমায়।

কখন ঘুমিয়ে পড়ি নিজেও বুঝতে পারিনি।

"ধর! ধর! ধর! ও একটা ডাইনী! ওকে পুড়িয়ে মারতে হবে! যেভাবেই হোক ওকে খুঁজে বের করতে হবে! কোথায় গেলে ডাইনীটা...? বিয়ের ২ দিন পরই নিজের স্বামীর জীবন নিয়ে নিলো। তার উপর বিয়ের ১ মাসের মধ্যেই গর্ভবতী হয়ে সন্তানও জন্ম হয়ে গেলো.!

এটা কোনো সাধারণ মানুষ হতেই পারে নাহ.! ও নিশ্চয়ই কোনো ডাইনী, আর এই গ্রামে ডাইনীদের একটাই শাস্তি, সেটা হলো মৃত্যু। আজ ওকে সহ ওর বাচ্চাকেও পুড়িয়ে মারবো। ডাইনীর কোনো চিহ্ন এই গ্রামে রাখবো নাহ।

এই! সবাই ভালো করে খোঁজ, দেখ কোথায় গেলো.?

ডাইনী একটা! শুধু একবার হাতে পাই ওকে।

“আম্মু ওই আন্টিটা কি সত্যি সত্যি ডাইনি.?”

“জানি নাহ বাবা! তবে এতটুকু জানি আজকে যদি গ্রামবাসীরা ওকে খুঁজে পায় তাহলে ওকে সহ ওর বাচ্চাকেও পুড়িয়ে মারবে”

“আম্মু! আমরা কি ওই আন্টিটাকে সাহায্য করতে পারি নাহ!”

“নাহ! বাবা, তুমি এখনো খুব ছোট, এসব সম্পর্কে তোমার ধারণা নেই, যদি একবার গ্রামের লোকেরা জানতে পারি আমরা ওকে সাহায্য করেছি তাহলে আমাদেরকেও ওর সাথে পুড়িয়ে মারবে”

“কেনো আম্মু! ওই আন্টিটা কি করেছে.?”

“তুমি বুঝবে নাহ বাবা! ও নিজের স্বামীকে খুন করেছে”

“কেনো”

“জানি নাহ!”

“আম্মু! সবকিছু এমন কাঁপছে কেনো.?”

“আরিয়ান! বাবা এদিকে আয়, ভূমিকম্প হচ্ছে!”

“আম্মু! আব্বু কোথায়?”

“আসিফ! আসিফ! কোথায় তুমি?”

“আমি এখানে আছিয়া! তুমি আরিয়ানকে নিয়ে বাইরে যাও আমিও আসছি!”

“আসিফ! রাশেদ ভাই আর ইশানা কোথায়!”

“আম্মু!!!!! আমি পরে যাচ্ছি!!!!!!”

"আহহহহহহহহহহহহহহ্!" একটা চিৎকার দিয়ে আমার ঘুম ভাঙ্গলো।

কি হলো এটা! এত বছর পর আজ আবার সেই স্বপ্নটা কেনো দেখলাম!

প্রায় ১৬ বছর আগে আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন আমাদের ফ্যামিলি ও রাশেদ আঙ্কেল আর ইশানা আন্টিও আমাদের সাথেই পাহাড়িতলা গ্রামে এসেছিলো।

সেদিন গ্রামের লোকেরা কাকে যেনো মারার জন্য খুজছিলো! পরে কি হয়েছিলো কিছুই জানি নাহ, সেদিন ভূমিকম্পের সময় আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম তারপর যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি আমি হসপিটালে। পাশে আব্বু আম্মু কান্না করতে করতে বলেছিলো ইশানা আন্টি নাকী মারা গেছে। ইশানা আন্টি মারা যাওয়ার পর রাশেদ আঙ্কেল আমাদের সবাইকে নাহ জানিয়ে কোথায় যেনো চলে যায় তারপর ৮ বছর পর সে আবারও ফিরে আসে। উনার সাথে সেদিন রিশাও এসেছিলো। তারপর থেকেই আমি আর রিশা একে অপরের দুঃখ কষ্ট সবকিছুর ভাগীদার ছিলাম।

১৬ বছর আগের কথা নিয়ে ভাবনায় যখন ডুবে ছিলাম তখনই মনে হলো কেউ একজন আমার রুমের বাইরে দৌড়াদৌড়ি করছে। এক পাশ থেকে আরেক পাশে ছুটে গেলে যেমন শব্দ হয় ঠিক তেমনই। বিছানা থেকে উঠে দাড়িয়ে দরজা খুলে দেখি বাইরে কেউ নেই।

হাঁটতে হাঁটতে বাকি রুমগুলোতে গেলাম দেখার জন্য।

নাহ! সবগুলো রুম খুঁজেও কাউকে পেলাম নাহ।

আবারও নিজের রুমে ফিরে এলাম। রুমে ঢুকতেই আমি অবাক হয়ে গেলাম

আমার খাটের এক কোণে কুঁকড়ি মেরে বসে আছে হরিণী। আমি দৌড়ে গিয়ে হরিণীকে জড়িয়েও ধরে জিজ্ঞেস করলাম....

"কি হয়েছে! এত ভয় পেয়ে আছো কেনো.? তোমাকে নাহ তোমাদের কুটিরে রেখে এলাম তাহলে আবার এখানে কেনো এলে"

হরিণে দেখেই মনে হচ্ছে, ও খুব ভয় পেয়ে আছে। মনে হচ্ছে কারো হাত থেকে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু ও নাহ বললে তোহ কিছুই জানতে পারবো নাহ। আমি আবারও জিজ্ঞেস করলাম....

"কি হলো! বলো কি হয়েছে!"

একটু পর হরিণী কাপা কাপা কণ্ঠে কান্না করতে করতে বললো.....

"কালকে আপনি আমাকে কুটিরে রেখে আসার পর যখন মাগরিব ওয়াক্তের সময় হলো তখন আমি বালতিতে পানি আনার জন্য পুকুরে গেছিলাম, বালতি ভরে পানি নিয়ে আমি কুটিরের ভিতরে চলে যাই। কিছুক্ষণ পর বাইরে থেকে ৩-৪ জন মানুষের কথপোকথন শুনতে পাই। ওরা একে অপরের সাথে কথা বলছিলো আমাকে ওদের সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

ওদের সামনে যখন আমাদের কুকুরগুলো ঘেউঘেউ করছিলো তখন ওরা আমাদের কুকুরগুলোকে গুলি করে মেরে ফেলে। আমি গুলির শব্দে ভয় পেয়ে ওখান থেকে পালিয়ে আসি। সারা রাত এদিক সেদিক ঘুরেছি কিন্তু এই বাড়িটা খুঁজে পাইনি তারপর যখন ভোরের আলো ফুটলো আমি এখানে এসে লুকিয়ে পরি। আমাকে দয়া করে তারিয়ে দিবেন নাহ তাহলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে"

[সবাই তোহ জানো হরিণী ভালো করে কথা বলতে পারে নাহ তাই গল্প লিখার সুবিধার্থে হরিণীর বলা কথাগুলো সুন্দর ভাবে লিখেছি]

হরিণীর কথাগুলো শুনে আমার সন্দেহ আরো বাড়তে থাকে। এবার যে করেই হোক রিশার সত্যিটা বের করতেই হবে। রিশার সত্যিটা বের হলেই আমি সরদারকে খুজে পাবো। আমি শিওর যে ওই সরদারই আমাদের পিছু করে হরিণীকে খুঁজে বের করেছে। হরিণী যে এখানে আছে এটা যেনো কেউ জানতে নাহ পারে। ওকে এখানেই লুকিয়ে রাখতে হবে।

হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে কিচেনে গিয়ে একটু আকটু রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিলাম।

তারপর হরিণী আর আমিও ব্রেকফাস্ট করলাম। আমি বের হওয়ার আগে হরিণীকে বললাম...

"শুনো! আমি একটু বাইরে যাচ্ছি, আসতে আসতে রাত হতে পারে। রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিয়েছি তোমার যখনই খিদে লাগবে তখনই ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খেয়ে নিও"

এরপর আমি বেরিয়ে পরলাম। আমার গাড়িটাও নষ্ট ছিলো তার উপর আমার ফোনটাও পাহাড়িতলা গ্রামেই রয়ে গেছে। এই মুহুর্তে কিছুতেই হেঁটে হেঁটে পাহাড়িতলা গ্রামে যাওয়া যাবে নাহ। গাড়ি দিয়েও যেতে পারবো নাহ কারণ অরিন আমাকে যা টাকা দিয়েছিলো কালকেই সবটা শেষ হয়ে গেছে। এখন পাহাড়িতলা গ্রামে যেতে হলে অরিনের হেল্প প্রয়োজন।

চলে গেলাম পুলিশ স্টেশনে। গিয়ে শুনি অরিন কার সাথে যেনো কথা বলছে, শুনে বুঝলাম অরিন ওর মায়ের সাথে কথা বলছে...

"হ্যাঁ! হ্যাঁ! মা! তুমি তোহ জানোই এই মানুষটার জন্য আমি কত অপেক্ষা করেছি আর আজ সেই মানুষটা আমার আশেপাশেই আছে।"

"তুমি বুঝতে পারছো নাহ মা! ওই জায়গায় ইবাদতের ফলেই আমি ওর মুখ দেখতে পেয়েছিলাম। এসব যদি মিথ্যা হতো তাহলে কখনোই ও আমার সামনে আসতো নাহ! আমি আজকে সবটা বিশ্বাস করেছি কারণ এসব মিথ্যা হলে ও কখনোই আমার সামনে আসতো নাহ!"

"উফফ! মা! তোমারও এখন এটা বিশ্বাস করে নেওয়া উচিৎ, আশা৷ করছি তুমি অতীতের সবকিছু এত সহজে ভুলে যাওনি! আমি যদি কাউকে বিয়ে করি তাহলে ওকেই করবো! ওকে ছাড়া যদি কারো সাথে আমার বিয়ে ঠিক করো তাহলে আমি সুইসাইড করতেও দ্বিতীয় বার ভাববো নাহ!"

"সত্যি! ওওওওও মা! থ্যাংকস এ্য লট! আমি খুব শীঘ্রই ওকে তোমাদের সাথে দেখা করাতে নিয়ে আসবো!"

অরিনের কথা শেষ হলে আমি ওকে ডাক দি....

"অরিন!"

অরিন:- আরে! আরিয়ান ভাইয়া আপনি!

আরিয়ান:- হ্যাঁ!

অরিন:- কখন এসেছেন.?

আরিয়ান:- এইতো অনেকক্ষণ! আন্টিকে কার কথা বললে.? আমাকেও বলো কে সেই ভাগ্যবান ব্যক্তি!

অরিন:- বলবো! বলবো! ধৈর্য ধরুন! মনে রাখবেন ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয়!

আরিয়ান:- আচ্ছা! তা নাহয় বুঝলাম! এখন শুনো, তোমার সাথে জরুরি কথা আছে...

অরিন:- হ্যাঁ! বলুন...

আরিয়ান:- এখানে নাহ! বাইরে আসো...

অরিন:- চলুন...

অরিনকে বাইরে নিয়ে এসে বললাম...

"অরিন! তোমার হেল্প দরকার!"

অরিন:- জ্বি! বলুন, কিভাবে হেল্প করতে পারি।

আরিয়ান:- আসলে! আমার ফোনটা পাহাড়িতলা গ্রামে ফেলে এসেছি। ওটা আনতে হবে। কিন্তু! আমার গাড়িটাও নষ্ট হয়ে গেছে তার উপর তোমার দেওয়া টাকাগুলোও সব শেষ।

অরিন:- হ্যাঁ! তোহ কি হয়েছে.? চলুন আমিও আপনার সাথে যাবো।

আরিয়ান:- আরে নাহ! নাহ! তোমাকে কষ্ট করতে হবে নাহ! আমাকে আপাতত কিছু টাকা দাও আমি কোনো জব পেলে তোমার সব টাকা পরিশোধ করে দিবো।

অরিন:- সমস্যা নেই! চলুন আমিও যাবো কারণ আপনার সাথে আমার অনেক কথা আছে।

আরিয়ান:- কি কথা.?

অরিন:- সেটা নাহয় যেতে যেতে বলবো.?

আরিয়ান:- ওকে! তোমার যেমন ইচ্ছা।

এরপর আমরা গাড়িতে উঠে বসলাম। কিছু পথ যাওয়ার পর অরিন বললো...

"একটু মনে করে দেখুন তোহ আপনি কিছু ভুলে যাচ্ছেন নাহ তোহ.?"

আরিয়ান:- কই! নাহ তোহ, আমার তোহ সবকিছুই মনে আছে।

অরিন:- মনে করে দেখুন! আমার আপনাকে কিছু বলার ছিলো আর আপনারও আমার কাছ থেকে কিছু জানার ছিলো।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! মনে পড়েছে! তুমি বলেছিলে তুমি নাকী আমাকে অন্য কোনো পরিচয়ে চেনো.?

অরিন:- হ্যাঁ!

আরিয়ান:- তা কোন পরিচয়ে চিনো.?

অরিন:- কোথা থেকে শুরু করবো.?

আরিয়ান:- যেখান থেকে বললে আমি সবকিছু বুঝবো সেখানে থেকে।

অরিন:- আচ্ছা! শুনুন তাহলে....

"১৮শতকে এই গ্রামে একজন রাজা ছিলেন উনার নাম ছিলো রাজা "এলাহাবাদ"। উনার একমাত্র কন্যা "ইলাহ" তিনি ছিলেন একজন ধর্ম বিশেষজ্ঞ। উনি বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছেন। তারপর সেগুলোর উপর অনেক এক্সপেরিমেন্ট ও রিসার্চও করেন। উনার লিখা অনেক বইও পাবলিশড হয়।"

আরিয়ান:- কিন্তু! এসবের সাথে আমার কি সম্পর্ক.?

অরিন:- আপনিই তোহ বললে যেখান থেকে বললে আপনি বুঝবেন আমি যেনো সেখান থেকেই বলি...

আরিয়ান:- আচ্ছা! তারপর...

অরিন:- হ্যাঁ! বলছি...

"রাজা এলাহাবাদ এর মৃত্যুর পর রাজকন্যা ইলাহ'র উপর বিয়ের জন্য চাপ আসতে থাকে কিন্তু উনি তখনও বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন নাহ কারণ উনি তখন উনার জীবনের শেষ বইটি লিখার পেছনে ছুটছিলেন।"

আরিয়ান:- মানে! এসবের আগামাথা কিছুই বুঝছি নাহ! দয়া করে একটু বুঝিয়ে বলবে.?

অরিন:- উফফ! আপনি কি একটু চুপ করতে পারেন!

আরিয়ান:- আচ্ছা! তোমার বলা শেষ হলে বলবে আমিও কিছু প্রশ্ন করবো..

অরিন:- শুনুন আগে...

"রাজকন্যা ইলাহ একটা পত্রিকায় বলেছিলেন উনার জীবনে যা কখনো করেনি সেটা এখন করতে যাচ্ছে, উনি এমন একটা বই লিখতে চলেছেন যেটা দিয়ে বেহেশত ও দোজখের যেকোনো শক্তিকে পৃথিবীতে ডাকা যাবে এবং পৃথিবীতে থাকা যেকোনো খারাপ অথবা ভালো শক্তিকে হারানো যাবে। ওই বইটির নাম দিয়েছিলেন " The Another Dimension" কিন্তু সে বইটি কখনোই পাবলিশড হয়নি বরই ওই বইয়ের সাথে সাথে উনিও উধাও হয়ে যায়। তারপর থেকে রাজা এলাহাবাদের প্রাসাদে প্রায় দেড়শ মৃত লাশ পাওয়া যায় আর রাজকন্যা ইলাহ'কে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি! সবাই ধারণা করে নিয়েছে উনি মারা গেছেন। কিন্তু উনি পত্রিকায় আরো একটা কথা বলেছিলেন, উনি যদি এই কাজে সফল নাও হতে পারে তাহলেও উনার প্রাসাদে অনেক অলৌকিক ক্ষমতার আবির্ভাব হবে। যেমন, যদি কেউ ওখানে গিয়ে মন থেকে কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে ইবাদত করে তাহলে সে তার মনের আশা পূরণ করতে সক্ষম হবে। কিন্তু ওখান থেকে বেঁচে ফেরাটা অসম্ভব। শুধুমাত্র ১০০% এর মধ্যে ১% মানুষই ওখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবে।"

আরিয়ান:- ইন্টারেস্টিং! তারপর.?

অরিন:- এজন্যই আপনার উপর রাগ উঠে...

আরিয়ান:- যাহ! বাবা, আমি আবার কি করলাম!

অরিন:- সিরিয়াস মোমেন্টে বাম হাত ঢুকিয়ে আবার বলেন আমি কি করলাম! যান আর বলবো নাহ..

আরিয়ান:- আরে রাগ করো কেনো.? আচ্ছা বাবা! সরি! এইযে কান ধরলাম এবার বলো। আমিও শুনি তুমি আমাকে কিসের নজরে দেখো থুক্কু কোন পরিচয়ে চিনো...

অরিন:- হা!হা!হা! আচ্ছা বলছি, কিন্তু এবারই লাস্ট চান্স এবার বিরক্ত করলে কিন্তু আর বলবো নাহ...

আরিয়ান:- আচ্ছা! বলো

অরিন:- হুম বলছি...

"তারপর উনি আরো একটা কথা বলেছিলেন, এই বই পাবলিশড হওয়ার আগেই যদি উনি উধাও হয়ে যায় তাহলে যেনো কেউ তাকে নাহ খোঁজে। আর যদি কেউ ভুজঙ্গপুর গ্রামে পাগল বেশে কোনো মহিলাকে দেখতে পায় তাহলে ভেবে নিতে যে ওই পাগল মহিলাটাই রাজকন্যা ইলাহ। সাথে এটাও বলেছেন, যদি সেই পাগল মহিলাটি কাউকে সতর্ক করে তাহলে এটা ভেবে নিতে নিশ্চয়ই সে স্পেশাল কেউ। তার মধ্যে "Holey Power" আছে। যদি কারো মধ্যে "Holey Power" নাহ থাকে তাহলে কেউই তাকে দেখতে পাবে নাহ। একমাত্র ওই "Holey Power" থাকা ব্যক্তিই রাজকন্যা ইলাহ'কে পাগল বেশে দেখতে পারবে।"

এবার আমি নড়েচড়ে বসে অরিনকে আবারও জিজ্ঞেস করলাম...

"সত্যি!"

অরিন:- হ্যাঁ!

আরিয়ান:- তুমি এসব জানো কিভাবে.?

অরিন:- মিস্টার আরিয়ান! আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আমি একজন পুলিশ!

আরিয়ান:- আচ্ছা! তারপর তুমি এসবে জড়ালে কিভাবে.? এক মিনিট! এক মিনিট! তুমি কি এর সত্যতা যাচাই করতে ওই প্রাসাদে গিয়েছিলে..?

অরিন:- ওই প্রাসাদে যাওয়াটা এত সহজ নাহ! ওই প্রাসাজে যেতে হলে প্রথমে কবরস্থান অতিক্রম করতে হয়, অনেকেই ওই কবরস্থানেই নিজের জীবন হারিয়েছে।

আরিয়ান:- উফফ! অরিন! তোমাকে যা জিজ্ঞেস করলাম তাই বলো..

অরিন:- হ্যাঁ! আমি তখন শহরে থাকতাম এই গ্রাম সম্পর্কে কিছুই জানতাম নাহ। তারপর আমার সাথে কিছু ভয়ংকর অতীত এসে জড়ায় যার কারণে আমি এই গ্রামের সাথে জড়িয়ে পরি।

আরিয়ান:- জানতে পারি.?

অরিন:- সময় হোক!

আরিয়ান:- তাহলে এতটুকু বলো, আমাকে কোন পরিচয়ে চেনো??

অরিন:- আমার জীবনের কালো অধ্যায়ের পর আমি একদম ভেঙ্গে পরি। তখনই উপরমহল থেকে ডাক আসে, আমার চাকরি হয়ে গেছে। চাকরির তাগিদে শহর থেকে ভুজঙ্গপুর গ্রামে ট্রান্সফার হয়ে আসি। তখন এই গ্রামের পুলিশ স্টেশনের বড় অফিসার ছিলো মোহাম্মদ আবদুল আজিজ খান। আমি উনার আন্ডারেই ছিলাম। বড় ভাইয়ের মতো আমার দেখভাল করতো। তারপর আজিজ ভাই চাকরি থেকে অবসর নেন আর উনার সব দায়িত্ব পরে আমার উপর। এভাবেই ১ বছর কেটে গেলো। গ্রামের হসপিটালে ভালো কোনো ডাক্তার ছিলো নাহ তাই ইরিনকে এখানে ডাক্তারের জন্য আনতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওর এডুকেশনাল কোয়ালিশনক কম থাকায় ওকে নার্স হিসেবে নিয়োগ করতে হয়।

এভাবে কেটে গেলো আরো ৬ মাস, তারপর আবারও একদিন আজিজ ভাইয়ের সাথে দেখা হয়। উনি আমাকে উনার লাইফের সবচেয়ে বড় এক্সপেরিয়েন্সের কথা শেয়ার করে।"

অরিনের কথার আগামাথা নাহ বুঝে আবারও বললাম.."তুমি কিন্তু এবার আমাকে পাগল বানিয়ে ফেলছো!"

অরিন:- এইতো আর কিছুক্ষণ পরই আসল সত্যিটা জানতে পারবেন।

আরিয়ান:- আচ্ছা বলো..

অরিন:- থ্যাংকস!

"আমি জয়েন হওয়ার আগে আজিজ ভাই এলাহাবাদ রাজার প্রাসাদ ইনভেস্টিগেশন করেছিলেন। উনি প্রাসাদের চৌকাঠে যাওয়ার আগে অনেক মানুষই তাকে বাঁধা দেয়। উনি খেয়াল করেছিলেন ওই মানুষগুলো সবাই অচেনা। কেউই এই গ্রামের নাহ। তারপর আজিজ ভাই সবাইকে হাতের সাহায্যে সরাতে গেলে বুঝতে পারে এরা কোনো মানুষ নাহ। এরা সবাই অন্য জগতের কেউ। কারণ আজিজ ভাই তাদের কাউকেই স্পর্শ করতে পারছিলো নাহ। ওরা সবাই আজিজ ভাইকে ঘাবড়ে যেতে দেখে অট্টহাসিতে মেতে উঠে। ওদের হাসির শব্দ এতটাই তুখোড় ছিলো যে তখনই আজিজ ভাইয়ের কান দিয়ে রক্ত পরতে শুরু করে। দুই হাত দিয়ে নিজের কানগুলো চেপে ধরে আজিজ ভাই আবারও সামনের দিকে ছুটতে থাকে। ছুটতে ছুটতে এক পর্যায়ে আজিজ ভাই সেই কবরস্থানে এসে পৌঁছায়, কবরস্থানের সীমা লঙ্ঘন করে যেই নাহ কবরস্থানের ভিতরে প্রবেশ করলো, সাথে সাথে অদৃশ্য কেউ একজন আজিজ ভাইয়ের বাম কানে ঠাশ করে থাপ্পড় দেয়। থাপ্পড়ের গতি এতটাই বেশি ছিলো যে, আজিজ ভাই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছিটকে গিয়ে পরে। মাথা উঠিয়ে দাড়িয়ে বুঝতে পারে আজিজ ভাইয়ের বাম কানে শব্দ শোনার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। উনি আর কোনো দিন বাম কানে শুনতে পারবে নাহ। হাত দিয়ে কান চেপে ধরে হাঁটতে হাঁটতে ধপাস করে একটা গর্তে পরে যায়, গর্তে পরার পর বুঝতে পারে এটা কারো কবর। ভয়ে তখন আজিজ ভাইয়ের গলা শুকিয়ে আসছিলো। কবর থেকে উঠার জন্য বার বার চেষ্টা করছিলো কিন্তু কিছুতেই উঠতে পারছিলো নাহ। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর শরীরের অর্ধেক অংশ কবর থেকে উপরে উঠাতে সক্ষম হয়। কিন্তু তখনই কবরের ভিতর থেকে কেউ আজিজ ভাইয়ের পা ধরে আবারও কবরের ভিতরে ফেলে দেয়। অবাক করা বিষয়, এবার কবরে নিজে নিজে মাটি পরতে শুরু করে। এবার যেনো আজিজ ভাই ভয়ের শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছে। হাজার চেষ্টা করেও কবর থেকে একটুও নড়তে পারছিলো নাহ। উনি ভেবে নিয়েছিলো ওইদিনই উনার জীবনের শেষ দিন। হঠাৎ করে মাটির নিচ থেকে কুচকুচে কালো দুইটা হাত বেরিয়ে এসে আজিজ ভাইকে খাবলে ধরে। আজিজ ভাই ভয়ে চিৎকার দেয় কিন্তু কেউ তার আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছিল নাহ। ধীরে ধীরে কবরটি যেনো ছোট হয়ে যাচ্ছিলো। চোখের সামনে নিজেকে কবরের আজাব ভোগ করতে দেখছিলো কিন্তু কিছুতেই নিজেকে বাঁচাতে পারছিলো নাহ। কবর যখন আজিজ ভাইকে চাপ দিতে শুরু করে তখনই আজিজ ভাই জোড়ে আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার দেয় আর চারিদিকের পরিবেশ একদম স্বাভাবিক হয়ে যায়।

সাথে সাথে কবর থেকে বেরিয়ে আসে আজিজ ভাই। কবর থেকে বের হতেই কিছু দূরে একজন মানুষ দেখতে পায়। কৌতুহল বসৎ আজিজ ভাই লোকটির কাছে পৌছায়....

"কে আপনি! কি করছেন এখানে.?"

"আ-আমি কমলা!"

"কমলা! কোন কমলা! আর কি করছেন এখানে.?"

"আ-আসলে আমি এখানকার কথা অনেক শুনেছি! সবাই বলাবলি করে এখানে যদি মন থেকে কিছু চায় তাহলে তা পাওয়া যায়! তাই আমিও এখানে চলে এসেছি নিজের মনের আশা পূরণ করতে।"

"এখানে আসার পর আপনার সাথে কোনো বিপদ হয়নি.?"

"কিসের বিপদ! আমি তোহ মাত্র প্রাসাদ থেকে ইবাদত করে বের হলাম। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি আমার মনের আশা পূরণ হবে!"

"কি বলছেন.? এখানে আসাটা খুব রিস্কের। এখান থেকে কেউই জীবিত ফিরতে পারেনি। বরং একটু আগে আমিও মহাবিপদের হাত থেকে বেঁচে ফিরলাম"

"আপনার হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে! এখানে আসার পর আমার কোনো বিপদ হয়নি। আমি তোহ খুব সহজেই প্রাসাদ থেকে ইবাদত করে বের হলাম কই আমার তোহ কোনো বিপদ হয়নি, চলুন আমার সাথে আমি আপনাকে প্রাসাদে নিয়ে যাই"

"সত্যি! আপনি আমাকে প্রাসাদের ভিতরে নিয়ে যাবেন..?"

"হ্যাঁ! চলুন!"

এই বলে মেয়েটি আজিজ ভাইয়ের হাত ধরে টানতে টানতে প্রাসাদের ভিতরে নিয়ে যেতে থাকে। উনাদের পিছনে ভয়ংকর চেহারার মানুষ রূপী সয়তানরা বাঁধা দিচ্ছিলো কিন্তু তারপরও মেয়েটি আজিজ ভাইয়ে প্রাসাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।

চারিদিক থেকে হাজারো সয়তান আজিজ ভাইকে বাঁধা দিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু মেয়েটি যেনো নাজেহাল হয়ে আজিজ ভাইকে প্রাসাদের দিকে টানছে।

কিছুক্ষণ পর আজিজ ভাই বুঝতে পারে, এসকল বাঁধাগুলোর সম্মুখীন শুধুমাত্র আজিজ ভাই একাই হচ্ছিল। মেয়েটি একদম নির্ভয়ে উনাকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

এক পর্যায়ে আজিজ ভাই কিছু একটা চিন্তা করে বাড়ি চলে যেতে চায়। আজিজ ভাই একটা চিৎকার দিয়ে বলে...

"ছাড়ুন! আমার হাত! আমি প্রাসাদে যাবো নাহ! চলুন আপনিও আমার সাথে চলুন, এখানে অনেক বিপদ।"

এই বলে আজিজ ভাই মেয়েটির হাত ধরে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে আসতে থাকে। অনেকটা পথ আসার পর আজিজ ভাই পেছন থেকে কারো হাসির শব্দ শুনতে পায়, উনি পেছনে তাকিয়ে দেখে...

ওই মেয়েটি হাওয়ায় উড়ছে, ওর চুলগুলো অনেক বড় বড় ওর চেহারাটা পচেগলে পরছিলো। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব, আজিজ ভাই তোহ এখনও মেয়েটির হাত ধরে আছে তাহলে মেয়েটি হাওয়ায় উড়ছে কিভাবে.?

আজিজ ভাই উপর থেকে আলতো করে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে, আজিজ ভাই এতক্ষণ ওই মেয়েটির কাটা হাত ধরে ছিলো।

আজিজ ভাই একবার নিজের হাতের দিকে আর একবার ওই মেয়েটির দিকে তাকায়। এবার যেনো আজিজ ভাই ভয়ের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

ভয়ে এক চিৎকার দিয়ে কবর থেকে দৌড়ে বাইরে চলে আসে, উনার পিছু পিছু ওই মেয়েটাও আসতে থাকে।

আজিজ ভাই দ্বিতীয় বার পিছনে নাহ তাকিয়ে দৌড়ে পালিয়ে আসে। তারপর থেকে আজিজ ভাই আর কোনোদিন এলাহাবাদ রাজার প্রাসাদ ইনভেস্টিগেশন করার নাম ভুলেও মুখে আনেননি!

আরিয়ান:- রাজকন্যা ইলাহ'র কাহিনিও শুনলাম আর ইন্সপেক্টর আজিজের কাহিনিও শুনলাম এবার কি তোমার কাহিনিটা বলবে.?

অরিন:- আমার কাহিনি শোনার আগে এই দুইটা কাহিনি শোনার প্রয়োজন ছিলো আপনার তাই বললাম...

আরিয়ান:- আচ্ছা! তারপর কি হলো.. এসবের সাথে তুমি জড়ালে কিভাবে.?

অরিন:- ধৈর্য ধরুন সবকিছু বলছি...

আজিজ ভাই নিজের লোমহর্ষক কাহিনি শুনিয়ে বলেছিলো আমি যেনে কোনোদিন ওই প্রাসাদের কোনো কেসে ইনভলভ নাহ হই।

কিন্তু আমার অনেক কিউরিওসিটি হতে শুরু করে আজিজ ভাইয়ের কথা শুনে। মনে মনে চিন্তা করি আমিও একদিন ওই প্রাসাদে যাবো। তবে কোনো কেস সলভ করার জন্য নাহ বরং নিজের অপূর্ণ একটা ইচ্ছে পূরণ করতে।

আরিয়ান:- কি ছিলো তোমার সেই অপূর্ণ ইচ্ছেটা.?

অরিন:- আমি যাকে ভালোবেসেছিলাম তাকে তোহ পাইনি তাহলে কে আছে আমার ভাগ্যে এটাই জানতে আমি ওই প্রাসাদ ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়েছিলাম।

আরিয়ান:- তুমি কি সত্যি সত্যি ওই প্রাসাদে গিয়েছিলে.?

অরিন:- হ্যাঁ!

আরিয়ান:- কিন্তু তুমি যে বললে ওখান থেকে কেউই বেঁচে ফিরতে পারেনি.?

অরিন:- হ্যাঁ! তবে আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে ওই প্রাসাদ থেকে বেঁচে ফিরেছি।

আরিয়ান:- এটা কিভাবে সম্ভব?

অরিন:- কেনো আমি বেচে ফিরায় কি আপনি খুশি নন.?

আরিয়ান:- আরে! তুমি ভুল বুঝছো! আচ্ছা বাদ দাও তারপর বলো কিভাবে গেলে ওখানে আর কি দেখলে.? তোমার জীবনসঙ্গীর মুখ দেখতে পেরেছিলে.?

অরিন:- হ্যাঁ! দেখেছিলাম।

আরিয়ান:- কে সে.?

অরিন:- বলছি....

তারপর একদিন সবাইকে নাহ জানিয়ে আমি ওই প্রাসাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম। এলাহাবাদ রাজার জমির সীবায় যাওয়ার পর কিছু লোককে দেখলাম ওরা সবাই কালো চাদর মুড়ি দিয়ে ভিক্ষা করছিলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে আমিও তাদের সবাইকে ভিক্ষা দিলাম। ভিক্ষা দিয়ে রাজভূমিতে প্রবেশ করা মাত্রই শীতল বাতাস এসে আমার চুলগুলো এলোমেলো করে দিলো।

মনের মধ্যে কৌতুহল পুষে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করি, হঠাৎ পিছন থেকে ভিক্ষুকগুলো বাঁধা দেয়....

"যেওনা মা! ওখানে বিপদ আছে! আমরা চাই নাহ তোমার মতো একজন ভালো মানুষের কোনো বিপদ হোক"

তাদের কথা শুনে আমি একটু পিছিয়ে এসে বললাম....

"আমাকে ক্ষমা করবেন! আমি এখানে যে কাজে এসেছি সেটা সম্পূর্ণ নাহ করা অব্দি এখন থেকে যেতে পারবো নাহ।"

আমার কথা শুনে তাদের মধ্যে একজন ভিক্ষুক বললো....

"ঠিক আছে! তুমি যেতে চাইলে আমরা বাঁধা দিবো নাহ! তবে তোমার উদারতা দেখে আমরা খুশি হয়েছি। তোমাকে আমরা কিছু দিতে চাই তবে একটা শর্ত আছে"

"কি শর্ত! আর কি দিতে চান আপনারা.? আমার কিছু লাগবে নাহ, আপনারা সেই কখন থেকে ভিক্ষা করছেন অথচ এক কানাকড়িও পাননি তাই আমার যা সামর্থ্য ছিলো তাই দিয়েছি এর বিনিময়ে আমি কিছু চাই নাহ"

"আমরা এর বিনিময়ে কিছু দিচ্ছি নাহ! আমরা তোমার উদারতার বিনিময়ে তোমার সুরক্ষা প্রদান করছি"

"মানে!৷ আচ্ছা যাই হোক! বলুন কি শর্ত.?"

"তোমাকে একটা জিনিস দিবো, ওই হাতে পাওয়ার পর যদি ভয়ংকর কিছু দেখো ভয় পাবে নাহ!"

"আচ্ছা! ঠিক আছে"

এরপর তাদের মধ্যে একজন উনার গায়ে মুড়ি দেওয়া চাদরটা আমার হাতে দিলেন। আমি চাদরটা হাতে নিয়ে উনাদের দিকে তাকিয়ে দেখি, উনাদের সবার চোখগুলো ধবধবে সাদা মনে হচ্ছে চোখে কোনো মণি নেই। মাথায় কোনো চুল নেই, মাথা ভর্তি সাপ গিজগিজ করছে। মুহুর্তেই তারা সবাই লম্বা হতে শুরু করে। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, ভয়ে শরীর থেকে শীতল স্রোত বইতে শুরু করলো গায়ের লোমগুলো দাড়িয়ে গেলো কিন্তু তাদের শর্ত ছিলো আমি যেনো ভয় নাহ পাই। তাই আমি ভয় পেলেও ভয় নাহ পাওয়ার ভান করলাম।

আরিয়ান:- ওহ্ মাই গুডনেস! তারপর কি হলো...

অরিন:- আপনি কি আমার কথা বিশ্বাস করছেন নাহ.?

আমি অরিনের গালে হাত দিয়ে বললাম, তোমাকে বিশ্বাস করি বলেই তোহ তোমার এক কথায় এখানে থাকতে রাজি হয়েছি।