পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ২২
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২২ · ২৩ পর্বের মধ্যে ২২
আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি একজন মেয়ে পিছন ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স আনুমানিক ২৩-২৪ হবে। দুধে আলতা গায়ের রঙ। তবে মেয়েটার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হচ্ছে ওর লম্বা চুল। প্রায় মাটি ছুঁই ছুঁই, চুলগুলো হাল্কা লালচে।
কিন্তু কে এই মেয়ে.? কোত্থেকে এলো সে.?
মেয়েটার দিকে তাকিয়ে তাকে প্রশ্ন করালাম..
- কে আপনি.? এখানে এলেন কিভাবে.?
মেয়েটা মৃদু স্বরে হেসে জবাব দিলো..
- আমার তোহ আসার কথা ছিলো আরো ৫ বছর আগে। কিন্তু এই রহস্যময় প্রাসাদের ভয়ে ভরা কবরস্থান অতিক্রম করার সুযোগ ছিলো নাহ আমার।
- মানে.? কি বলতে চাইছেন আপনি একটু খুলে বলুন.? কি আপনার পরিচয় আর গত ৫ বছরে যখন আসতে পারেননি তাহলে আজ হঠাৎ কিভাবে এলেনন.?
- হু!হু!হু! আজ আমি আসিনি আমাকে প্রটেক্ট করে আনা হয়েছে এখানে।
- দেখুুন! হেয়াকি করবেন নাহ একদম। সোজা কথার সোজা উত্তর দিন। কে আপনি.? কেনো এসেছেন এখানে আর কিভাবে.?
- গত ৫ বছর ধরে এখানে আসার চেষ্টা করছি কিন্তু আসতে পারিনি শুধু আপনার অপেক্ষায় ছিলাম বলে।
- এবার কিন্তু সত্যি সত্যি রাগ উঠছে!!
- রাজকন্যা ইলাহ্'র সেই বিখ্যাত ইন্টারভিউ শুননি.?
- দেখুন! আমি উনাকে চিনি নাহ। আমি একজনের মুখে উনার সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি কিন্তু কোনোদিন উনার লিখা অন্যান্য বই কিংবা উনার কোনো ইন্টারভিউ শুনিনি।
- হা!হা!হা! রাজকন্যা ইলাহ্ বলেছিলো! এই প্রাসাদে যদি কোনো শুভ আত্মার প্রবেশ ঘটে তাহলে তার সাথে একজন অশুভ আত্মাও প্রবেশ করতে পারবে। এখানে শুভ আত্মা আর অশুভ আত্মা দু'জনই আছে। শুভ আত্মা হলেন আপনি আর অশুভ আত্মাটা হলাম আমি। এবার আপনার হাতে থাকা বইটা আমাকে দিয়ে দিন।
- আপনি বললেই আমি এই বইটা আপনাকে দিয়ে দিবে এটা ভাবলেন কি করে.? তাছাড়া আপনি ছলের আশ্রয় নিয়ে এই প্রাসাদে প্রবেশ করেছেন তাই এই বই আপনি পাবেন নাহ, পেতে পারেন নাহ। সবচেয়ে বড় কথা হলো আপনি একজন খারাপ লোক আমর আমি যতটুকু জানি রাজকন্যা ইলাহ্ বার বার বলেছিলো এই বই যেনো কোনো দুষ্টু লোকের হাতে নাহ পরে তাই ভালোয় ভালো আপনি এখান থেকে চলে যান।
- হ্যাঁ! চলে তোহ যাবোই কিন্তু তার আগে ওই বইটা তোহ নিতে হবে যার জন্য এত্তগুলা বছর ধরে অপেক্ষা করেছি।
- সত্যি করে বলুন কে আপনি.? আর এই বইয়ের সাথে আপনার কি সম্পর্ক.?
- আমার পরিচয় জানতে চান.?
- হ্যাঁ!!
- তবে শুনুন! আমি সাদিয়া। আর আপনার হাতের ওই বইটার জন্যই এতগুলো বছর নিজেকে এই প্রাসাদের আশেপাশে সঁপে দিয়েছি। অপেক্ষায় ছিলাম কবে সেই শুভ আত্মা আসবে আর এই বই উদ্ধার করবে আর আমি এই বই তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবো। তারপর এই বইয়ের সাহায্যে শীতাক্ষী'কে পুনরায় তার শক্তি ফিরিয়ে দিবো। এই বইয়ের জন্য এত জল্পনা কল্পনা। কত ধোঁকার আশ্রয় নিতে হয়েছে আমাকে। আমার প্রিয় বন্ধু চিশতিকেও ধোঁকা দিতে হয়েছে।
- মানে.? আ-আমি চিশতি নামটা এ-এর আগেও শুনেছি। আ-আপনি চিশতিকে চিনেন কিভাবে.?
- হা!হা!হা! চিশতি!! চিশতি তোহ আমাকে ওর বেস্ট ফ্রেন্ড ভেবেছিলো। আমার জন্য কত কষ্ট করেছে। এমনকি নিজের পঞ্চশক্তিও খুইয়েছে। হা!হা!হা!
- আমি আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি নাহ।
- এতশত বুঝে লাভ নেই আপনি ভালোয় ভালোয় বইটা আমাকে দিয়ে দিন আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি।
- হ্যাঁ! বইটা আপনাকে দিয়ে দিবো কিন্তু তার আগে আপনার জীবন কাহিনী শুনতে চাই।
- আমার জীবন কাহিনী শুনে কি করবেন। আমার জীবনটাই ধোঁকাময়। মানুষকে ধোঁকা দিতে দিতে কখন যে নিজেকেই ধোঁকা দিয়ে বসেছি টেরই পাইনি। কিন্তু আমার জীবনটা হলেও চিশতি আর আমার বন্ধুত্বে কোনো মিথ্যা ছিলো নাহ। ওকে আমি মনে প্রাণে বন্ধু ভেবেছিলাম। ওর বন্ধুত্বের অতলে এতটাই তলিয়ে গিয়েছিলাম, আমি যে সয়তানি শক্তির গোলাম সেটা ভুলেই গেছি। আমরা ভুলে গেলেও সয়তানি শক্তি কোনোদিন তার দাস দাীসদের ভুুলে নাহ। তারা ঠিকই আমাদের খুঁজে বের করে। আমার বেলায়ও তেমনটাই হয়েছে। তবে একটা কথা সত্যি, চিশতির সাথে বন্ধুত্ব করাটা ছিলো আমাদের একটা চাল। ১০ কালো জাদুকরের আদেশে আমি চিশতির সাথে বন্ধুত্ব করি। আর একটা কথা হলো, আমার মায়ের উপর যে কালো জাদু করা হয়েছিলো সেটা আমি অনেক আগে থেকেই জানতাম। শীতাক্ষী এবং ওর ভাইদের কাছে আমার মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্য সাহায্য চাইতে গিয়েছিলাম কিন্তু তারা তোহ আমার কোনো সাহায্য করলোই নাহ বরং আমাকে তাদের দাস বানিয়ে রাখলো। যাই হোক, পরবর্তীতে চিশতি আমাদের সাহায্য করার জন্য আমাদের বাড়িতে এসেছিলো, চিশতিকে আমাদের বাড়িতে আনাটাও ছিলো আমাদের ফাঁদ ছিলো। আর চিশতিও বোকার মতো সেই ফাঁদে পা দিয়ে দিলো। আমার আম্মু ওর জন্য যে খাবারগুলো রান্না করেছিলো ওই খাবারে কালো জাদুকরদের দেওয়া কালো জাদুর উপকরণ মিশিয়ে চিশতিকে খাইয়ে দিয়েছিলাম যার ফলে চিশতি ওর মধ্যে থাকা পঞ্চশক্তি হারায়। চিশতি ওর শক্তি হারানোর পর আমি ওখান থেকে পালিয়ে এখানে চলে আসি রাজকন্যা ইলাহ্'র লেখা এই রহস্যময় বইটা নিতে কিন্তু নিতে সক্ষম হতে পারিনি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো যেদিন চিশতির 21 বছর পূর্ণ হবে সেদিন ও নতুন করে আবারও পঞ্চশক্তি ফিরে পাবে। ঠিক ওই মুহুর্তে আমরা চিশতিকে মেরে এই রহস্যময় বইয়ের সাহায্যে ওর মধ্যে থাকা পঞ্চশক্তি শীতাক্ষীর মধ্যে স্থাপিত করবো। কিন্তু সেটা আর করা হয়নি, একমাত্র আমার জন্য আমি যদি সেদিন নিজের জীবনের ভয় নাহ করে এই প্রাসাদে প্রবেশ করতাম তাহলে হয়তো এই বইয়ের সাহায্যে আমাদের উদ্দেশ্য সফল হয়ে যেতো। ওইদিনের একটা ভুলের কারণে আমাকে এতগুলো বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আর সেদিন আমার ভুলের মাশুল হিসেবে প্রতিদান দিতে হয়েছে আমার মায়ের জীবন। এখন আমি সয়তানি শক্তির কাছে বন্দী, আমি চাইলেও তাদের কাছ থেকে পালিয়ে কোথায় যেতে পারবো নাহ। একবার যেহেতু তাদের দাসত্ব কবুল করেছি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের গোলামী করতে হবে।
- আপনি ভুল করেছেন!! সাহায্য চাইবেন এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর কাছে কিন্তু তা নাহ করে আপনি কালো জাদুকরদের কাছে সাহায্য চাইতে গেছেন। তাদের জন্য আপনি বন্ধুত্ব নামক পবিত্র শব্দটাকে অপমান করেছেন।
- এতকিছু শুনতে চাই নাহ। আপনি বইটা দিবেন কি নান বলুন।
- আমি বেঁচে থাকতে আপনি কোনোদিন এই বই পাবেন নাহ।
- বেশ তাহলে মরুন...
এই বলে সাদিয়া হাতে ছুড়ি নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসতে থাকে। আমি কোনো রকম ওর আক্রমণের হাত থেকে নিজেকে সুরক্ষা করি তাও ওর ছুড়ির আঘাতে আমার ডান হাত কেটে যায়। অনেক নিজেকে ওর হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করার পর আমাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি জাবরদস্তি শুরু হলো। সাদিয়া আমাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করতে যাবে তখনই আমি ওর হাত চেপে ধরে রাখি। অনেকক্ষণ ঝাপটাঝাপটি করার পর হাত ফস্কে ছুড়ির আঘাতে সাদিয়ার গলা কেটে যায় আর সেখানেই ওর মৃত্যু হয়।
সাদিয়া মারা যাওয়ার পর আমি প্রাসাদের এক কোণে চুপটি করে বসে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাই। প্রথম পৃষ্ঠায় লিখা ছিলো.....
ডাইমেনশন এবং আমাদের মহাবিশ্বঃ
স্ট্রিং থিওরি অনুযায়ী আমাদের মহাবিশ্ব ডাইমেনশন দিয়ে তৈরি।
ডাইমেনশনাল মহাবিশ্ব বুঝতে হলে আগে আমাদের বুঝতে হবে ডাইমেনশন কি। স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের ধারণা তিনটি মাত্রা নিয়ে এজন্য ডাইমেনশনকে ত্রিমাত্রিক ধারা বলা হয়ে থাকে।
মহাবিশ্ব যেমন নির্দিষ্ট একটা সময় বা মূহুর্ত দ্ধারা সৃষ্ট তেমনই মহাবিশ্ব সকল সময়ের সমষ্টি নিয়ে সৃষ্ট। অর্থাৎ ডাইমেনশনে থাকা জীব মহাবিশ্বের সকল সময়ের অবস্থাকে অর্থাৎ মহাবিশ্বের শুরু থেকে যত সময় পার হয়েছে সব কিছু টাইমলাইন আকারে দেখতে পারবে। তারা বর্তমান থেকে অতীতে চলে যেতে পারবে বা অতীত থেকে ভবিষ্যতে! শুধু অতীতে যাওয়া নয়, তারা চাইলে অতীতে গিয়ে অতীতকে প্রভাবিত করে ভবিষ্যতকে পরিবর্তন করতে পারবে।
এখানেই জন্ম প্যারালাল ইউনিভার্সের ধারণার সৃষ্টি হয়। কি এই প্যারালাল ইউনিভার্স?
সময়কে কাজে লাগিয়ে সামনে পেছনে যাওয়ার সাথে সাথে ডানে-বামেও যাওয়া সম্ভব হবে।
আর এর মাধ্যমে প্যারালাল ইউনিভার্সে ভ্রমণ করে আপনার দুই সত্ত্বা একে অপরের সাথে দেখাও করতে পারবে।
এখানে আপনি দুই মহাবিশ্বে দু'টি আলাদা আলাদা রূপে আছেন। আর এখানে আপনি আক্ষরিক অর্থেই স্থান এবং কাল জয়ী।
প্যারালাল ইউনিভার্সে আমরা আমাদের চেয়ে ভিন্ন মহাবিশ্বের কথা কল্পনা করে থাকি। তাদের জগৎ আমাদের জগৎ থেকে আলাদা। আপনি ফিফথ ডাইমেনশনে বাস করলে অতীতে ফেরত নাহ গিয়েই একই সাথে দু'টি মহাবিশ্বে দু'টি আলাদা আলাদা রূপে থাকতে পারবেন, অর্থাৎ দু'টো কাজ একই সাথে সম্পন্ন করতে পারবেন।
ডাইমেনশন ব্যবহার করে আপনি শুরু হওয়া মহাবিশ্বগুচ্ছ-গুলিতে সময়ের আগে পিছে যে কোন দিকে ভ্রমণ করতে পারবেন।
আবার ডাইমেনশন ব্যবহার করে আমরা সকল ভিন্ন ভিন্ন মহাবিশ্বকে একটি অপরটি থেকে আলাদা করতে পারি।
ডাইমেনশনে এসে আমরা এমন একটা পর্যায়ে পৌছে যাই যা আমাদের কল্পনীয় সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এরপরে আর আমাদের মতো প্রাণীদের দ্বারা কিছুই কল্পনা করা সম্ভব হয় নাহ। এক কথায়, ডাইমেনশন ব্যবহার করে এর বাইরে আমাদের আর কিছুই কল্পনার থাকে নাহ।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যদি ডাইমেনশনে বাস করতে পারতাম, তাহলে আমরা আমাদের সবকিছুকেই কন্ট্রোল করতে পারতাম আমাদের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ, যা কিছু আছে সব!
পরের পৃষ্ঠায় লিখা ছিলো...
মৃত্যু পরবর্তী জীবন হলো একটি জগতের ধারণা, যে ধারণা অনুসারে ব্যক্তির শরীরের মৃত্যু হয়ে গেলেও তার আত্মপরিচয় বা চেতনার অস্তিত্ব থেকে যায়।
মৃত্যুর পরও অস্তিত্ববহন করা এই সত্তা কোন অতিপ্রাকৃত জগতে অবস্থান করে, আবার এই সত্তার পুনর্জন্ম ঘটে এবং পুনরায় জীবনচক্র শুরু হয়। এক্ষেত্রে পূর্বের জীবন সম্পর্কে কোন স্মৃতি থাকে নাহ। এই সত্তার একটি অতিপ্রাকৃতিক জগতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত বারবার জন্ম ও মৃত্যুর প্রক্রিয়া চলতেই থাকে।
এভাবেই একের পর এক পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে শেষ পর্যন্ত রুহ্-এর জগতে কিভাবে যাওয়ার যায় সেই পৃষ্ঠাটি খুঁজে পেলাম।
রুহ্-এর জগতে যাওয়ার আগে আপনাকে যা যা করতে হবে...
নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে তিন কোণা একটা ত্রিভুজ আঁকতে হবে। সেই ত্রিভুজটির তিন মাথায় তিনটা মোমবাতি জ্বালিয়ে দিতে হবে। ত্রিভুজটির একদম মাঝখানে একটা ৮৮ লিখতে হবপ তারপর ৮৮ লিখাটির উপরে হাত রেখে
- সুবহানাল্লাহী ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আকবর।
- ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম বিরহমাতিকা আস্তাগীছ ইয়া জাল-যালালি ওয়াল ইকরাম।
- আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিন আন্না লাকাল হামদু। লা ইলাহা ইল্লা আংতাল মান্নান। বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ইয়া জাল-যালালি ওয়াল ইকরাম। ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম।
এই তিনটি ধোয়া পাঠ করে ধ্যান মগ্ন হয়ে নিজেকে রুহ্-এর জগতে কল্পনা করতে হবে। কিন্তু সাবধান! এই কাজটা করার সময় কোনো প্রকার নড়াচড়া বা কথা বলা যাবে নাহ। এই প্রক্রিয়ায় একটু ভুল করলেই জীবনের ঝুঁকির সম্ভাবনা হাজার গুণ বেড়ে যাবে তাই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সাবধানতার সাথে করবেন।
সবশেষে আরো একটা কথা, রুহ্-এর জগতে প্রবেশ করার পর একজন মানুষের রুহ্ কখনোই নিজের আয়ত্তে থাকতে পারবে নাহ যতক্ষণ নাহ৷ সে নিজের ভিতরে থাকা "Holey Power"কে অনুভব করছে। একজন শুভ আত্মা যখন নিজের অস্তিত্ব বা নিজের মধ্যে থাকা শুভ শক্তিকে আমন্ত্রণ নাহ করে রুহ্-এর জগতে প্রবেশ করে তাহলে ওই জগতে থাকা সয়তান তাকে শ করতে সক্ষম হবে। ঠিক ততক্ষণ সয়তানের বশে থাকবে যতক্ষণ শুভ আত্মা নিজের শক্তিকে উপলব্ধি নাহ করছে। নিজের মধ্যে থাকা শক্তিকে প্রয়োগ করে আপনি সয়তানক ও তার বশে থাকা অন্যান্য মানুষের রুহ্-কে নিজের বশে আনতে পারবেন।র
আর একটা কথা, যদি এই প্রাসাদ থেকে আপনি রুহ্-এর জগতে যাওয়ার পথ খুঁজেন তাহলে আমাদের সকলের কিছুক্ষণের জন্য এই অভিশপ্ত প্রাসাদে আটকা থাকবে। ততক্ষণ আটকে থাকবে যতক্ষণ নাহ আপনি এই প্রাসাদের রহস্য আর অভিশাপ কাটিয়ে তুলছেন। এই প্রাসাদের অভিশাপ কাটাতে হলে একজন সয়তানের সাথে আপনাকে লড়তে হবে। ওই সয়তানকে হারাতে পারলে এই প্রাসাদে আর কোনো খারাপ শক্তির অস্তিত্ব থাকবে নাহ তার সাথে সাথে মুক্তি পাবে এই প্রাসাদে আটকে থাকা হাজারো মানুষের রুহ্। সবশেষে রহস্যময় বই যেহেতু খুঁজে পেয়েছেন এই বইই আপনাকে বাকিটা পথ দেখিয়ে দিবে।
-----------------
রাজকন্যা ইলাহ্'র লিখা অনুযায়ী ওই প্রাসাদের দোতলায় চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে একটা ঘরে ঢুকলাম, ঘরটিতে ঢোকার পর কেনো জানি নাহ মনে যে, এই ঘরে আমি নাহ বরং এই ঘর নিজেই আমাকে এখানে ডেকে এনেছে। রিচুয়াল্স করার জন্য একটা খালি জায়গা খুঁজতে লাগতাম, কিন্তু ঘরটিতে অন্ধকার থাকায় আমি বার বার হোঁচট খাচ্ছিলাম। আমি তখনও আমার আশেপাশে কারো উপস্থিতি টের পাচ্ছিলাম, দুই প্রকার শক্তির অস্তিত্ব অনুভব করছিলাম। এক প্রকার শক্তি যা৷ আমাকে সাহায্য করতে চাইছে আর এক প্রকার শক্তি যা আমাকে পথভ্রষ্ট করতে চাইছে।৷
অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে যখন ঘরের এক কোণে গিয়ে দাঁড়ালাম তখন মনে হচ্ছিল ঘরটি যেনো শতবছর ধরে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। ঘরটি যেনো আমাকে কিছু বলতে চায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারেও আমি চোখে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। আমার থেকে কিছুটা দূরেই ৩টা মোমবাতি আর একটা ম্যাচবক্স দেখতে পাচ্ছিলাম, তাড়াতাড়ি করে গিয়ে মোমবাতিগুলো ম্যাচবক্সটা হাতে নিলাম। এখন আমি আরো শিওর হতে লাগলাম এই ঘরে থাকা সব আত্মা খারাপ নাহ। এদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা এই প্রাসাদের অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়।
বইয়ে লিখা নিয়ম অনুযায়ী আমার রক্ত দিয়ে ফ্লোরে একটা ত্রিভুজ আঁকলাম। তারপর সেই ত্রিভুজের ভিতরে ৮৮ লিখে দিলাম। তারপর মোমবাতিগুলো জ্বালিয়ে ত্রিভুজের তিন কোণায় তিনটা বসিয়ে দিলাম। সবকিছু কমপ্লিট এবার স্বস্তিতে স্থির হয়ে বসে নিজেকে রুহ্-এর জগতে কল্পনা করতে হবে। ত্রিভুজটির উপর হাত রেখে চোখ বন্ধ করে বইয়ে উল্লেখ করা দোয়াগুলো পাঠ করে ধ্যান মগ্ন হয়ে নিজেকে রুহ্-এর জগতে কল্পনা করতে লাগলাম।
- সুবহানাল্লাহী ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আকবর।
- ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম বিরহমাতিকা আস্তাগীছ ইয়া জাল-যালালি ওয়াল ইকরাম।
- আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিন আন্না লাকাল হামদু। লা ইলাহা ইল্লা আংতাল মান্নান। বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ইয়া জাল-যালালি ওয়াল ইকরাম। ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম।
----------------
রিশা যখন আমার আর হরিণীর সন্তানকে ওর সাথে করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো সাথে সাথে ওর চোখ দুইটা টকটকে লাল হয়ে গেলো। এক মুহুর্তের জন্য আমি রিশার বশে চললে গেলাম। কিছুতেই নিজেকে রিশার জাদুর হাত থেকে ছাড়াতে পারছিলাম নাহ।
- আরিয়ান! যাও ইরিন, অরিন আর আমার বাবাকে খুন করো।
আমিও রিশার কথা মতো এক এক করে ওদের তিনজনকে গলা টিপে হত্যা করলাম। মরতে মরতে অরিন বলেছিলো...
- শুনতে কি পাও আমার বেদনার্ত হৃদয়ের আর্তনাদ। শুনে নাও! শুনে নাও! আমি তোমার ছিলাম, তোমার আছি, তোমারই থাকবো অনন্তকাল।
আমি সবকিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম কিন্তু কিছুতেই রিশার কথা অমান্য করতে পারছিলাম নাহ। অরিনের কথাটুকু আমার কানে বার বার এসে বারি দিচ্ছিল আর আমার চোখ বেয়ে পানি পরছিলো। মুহুর্তেই আমার হাতেই খুন হয়ে গেলো আমার তিনজন প্রিয় মানুষ।
------------------
চোখ খুললে নিজেকে এলাহাবাদের প্রাসাদে আবিষ্কার করি। চোখ খোলার পর যখন নিজেকে এলাহাবাদের প্রাসাদে আবিষ্কার করি তখন চারিদিক কেমন ধোয়াশায় ঘেরা ছিলো, পুরো প্রাসাদ অস্বাভাবিক ভাবে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। যাই হোক, এতক্ষণ তাহলে আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু ইরিন, অরিন আর রাশেদ আঙ্কেলকে আমি কখন খুন করলাম.? এটা কি আমার কল্পনা নাকী বাস্তবতা.? যদি কল্পনা হয়ে থাকে তাহলে এগুলো এত স্পষ্ট ভাবে আমার মনে থাকার কথা নাহ। এর মানে এটা সত্যি ছিলো আমি রিশার বশে গিয়ে ওদের খুন করেছি।
কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাকে চারিদিক থেকে ইরিন, অরিন আর রাশেদ আঙ্কেলের আত্মা ঘিরে ধরেছে।
- তুই আমাদের খুন করেছিস! আমরা তোকে ছাড়বো নাহ। তোকেও আমাদের সাথে নিয়ে যাবো। পালাতে পারবি নাহ।
ওদের দেখে মনে হচ্ছিল ওরা কোনো শক্তির বশে বশিভূত হয়ে আমাকে আক্রমণ করতে এসেছে। সবাই যখন আমাকে ঘিরে ধরে, আমি এক পা দু পা করে পিছতে পিছতে এক পর্যায়ে নিচে পরে যাই আর ওরা আমাকে খাবলে ধরে টানতে থাকে। কোনো মতে নিজেকে ওদের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালাতে থাকি। কিছুটা দূরে যেতেই আমার সামনে একটা বৃদ্ধা মহিলা আসে। দেখতে এতটা ভয়ংকর, পুরো মুখ বিভৎস আর শরীর থেকে পঁচা গোস্তের গন্ধ ভেসে আসছিলো। উনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল, আমার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থায়। তখনই মহিলাটি নিজের জিহ্বা বের করলো। উনার জিহ্বা দেখতে একদম সাপের মতো। চোখের পলকে আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে জিহ্বা দিয়ে আমার গলা চাটতে থাকে। চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ শ্বাস নিতেই সবকিছু উধাও হয়ে যায়।
হঠাৎ আমার মাথার টনক নড়ে উঠে, আমি শুনেছিলাম ইবাদত সম্পূর্ণ হলে নাকী এই প্রাসাদের পরিবেশ শান্ত হয়ে যায় কিন্তু আমার সাথে এসব হচ্ছে কেনো তাহলে.? এর মানে আমি রুহ্-এর জগতে চলে এসেছি!!
আমার আশেপাশে ইরিন, অরিন আর রাশেদসহ বাকিদের রুহ্ খুঁজতে থাকি কিন্তু কাউকেই খুঁজে পাচ্ছিলাম নাহ। অনেক দূর থেকে একসাথে সবার চিৎকার শুনতে পাই।
- আরিয়ান! আরিয়ান! বাঁচাও! বাঁচাও আমাদের, বাঁচাও!! আরিয়ান!!!!!
আওয়াজের পিছু করতে করতে দেখি একটা খাঁচার ভিতরে আমার আম্মুকে কেউ তালা বদ্ধ করে রেখেছে। এতগুলো দিন পর আম্মুকে দেখে আমার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পরতে শুরু করলো। তাড়াতাড়ি করে আশেপাশে লোহা জাতীয় কিছু খুঁজতে শুরু করলাম তালা ভাঙ্গার জন্য। অবশেষে একটা লোহার রডের টুকরো খুঁজে পেলাম। সেটা দিয়েই খাঁচার তালা ভেঙ্গে আম্মুকে বাইরে বের করলাম। অনেক দিন পর আম্মুকে চোখের সামনে পেয়ে নিজেকে আটকাতে নাহ পেরে আম্মুকে জড়িয়ে ধরলাম। পরক্ষণেই দেখি এটা আমার আম্মু নাহ, এটা সেই বিভৎস চেহার বৃদ্ধ মহিলা।
মহিলাকে এক ধাক্কা দিয়ে আমার কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে দৌড়ে চলে এলাম। হঠাৎ করে মনে হলো আমার মুখের ভিতর কিছু ঢুকে গেলো, আমার চোখ দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হতে থাকে, হাত পা কেমন অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম যে সয়তান আমাকে নিজের বশে করে নিচ্ছে। এখন যদি আমি নিজের মধ্যে থাকা শক্তিকে উপলব্ধি নাহ করি তাহলে আমি একূলও হারাবো অকূলও হারাবো।
তখনই চোখ বন্ধ করে নিজের মধ্যে থাকা শক্তিকে উপলব্ধি করা শুরু করলাম। এটা ভাবতে লাগলাম, আমাকে কেই নিজের বশে নিতে পারবে নাহ, আমি শুভ শক্তির প্রতীক আমাকে কোনো সয়তান বশ করতে পারবে নাহ। হে সয়তান, তোমাকে হারানোর জন্যই আমি এখানে এসেছি তুমি কিছুতেই আমার ক্ষতি করতে পারবে নাহ।
- লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল
আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা
ইল্লাল্লা-হু রাববুল আরশিল
আযীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু
রাববুস সামা-ওয়া- তি
অরাববুল আরদি অরাববুল
আরশিল করীম।
সাথে সাথে চারিদিকে জোর হাওয়া বইতে শুরু হলো আর আমিও একদম স্বাভাবিক হয়ে গেলাম।
আবারও দূর থেকে একই আওয়াজ ভেসে আসছিলো। আওয়াজটা মনে হচ্ছিল প্রাসাদের বাইরে থেকে আসছিলো, কিন্তু আমাকে প্রাসাদের বাইরে যেতে হলে আগে এই প্রাসাদের রহস্যের মুখোমুখি হতে হবে এবং এই রহস্যের বেড়াজাল উন্মোচন করতে হবে। আমি আবারও আওয়াজের পিছে ছুটতে লাগলাম, হঠাৎ আমার সামনে একটা মেয়েকে দেখতে পাই, ধবধবে ফর্সা গায়ের রঙ তবে শরীরের চামড়াগুলো কুঁচকে গেছে।পড়নে ছিলো রাজকন্যার পোশাক তবে পোশাকের বিভিন্ন জায়গায় ছেড়া এবং পুরো পোশাকটাই নোংরা হয়ে আছে। চুলগুলো জট হয়ে গেছে। প্রথম দেখায়ই বুঝে গেলাম এটা রাজকন্যা ইলাহ্'র আত্মা ছাড়া আর কারো আত্মা হতে পারে নাহ। উনি স্বাভাবিক ছিলো নাহ দেখেই মনে হচ্ছে পজেস্ট অবস্থায় আছে। চোখগুলো সাদা, মুখ থেকে লালা পড়ছে। হাতের উপর ভর দিয়ে বসে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। নিমিষেই উনি আমাকে আক্রমণ করে বসে। এক লাফে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। উনাকে নিয়েই আমি ফ্লোরে পরে যাই, উনি বার বার আমাকে কামড়ানোর চেষ্টা করছিলো কিন্তু আমি কোনো মতে উনার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আমার দুই হাত দিয়ে শক্ত করে উনার মাথাটা চেপে ধরে আয়াতুল করসী ও আমি যা যা দোয়া কালাম পারতাম সবকিছু পড়তে থাকি!
❝আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ’ ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম।❞
❝লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল
আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা
ইল্লাল্লা-হু রাববুল আরশিল
আযীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু
রাববুস সামা-ওয়া- তি
অরাববুল আরদি অরাববুল
আরশিল করীম।❞
❝কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।
আল্লা-হুসসামাদ।
লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ।
ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।❞
❝কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক।
মিন শাররি মা-খালাক।
ওয়া মিন শাররি গা-সিকিন ইযা-ওয়াকাব।
ওয়া মিন শাররিন-নাফফাসাতি ফিল-উকাদ।
ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা-হাসাদ।❞
❝কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-স,।
মালিকিন্না-স,।
ইলা-হিন্না-স।
মিন শাররিল ওয়াস ওয়া-সিল খান্না-স।
আল্লাযী ইউওয়াসবিসুফী সুদূরিন্নাছ-।
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।❞
❝কুল ইয়াআইয়ুহাল কা-ফিরূন।
লাআ‘বুদুমা-তা‘বুদূন।
ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।
ওয়ালাআনা ‘আ-বিদুম মা-‘আবাত্তুম।
ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।
লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।❞
❝আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতুবু ইলাইহি; লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।❞
❝লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী
কুংতু মিনাজ জোয়ালীমিন।❞
এগুলো পড়ে রাজকন্যা ইলাহ্'র শরীরে ফু দেওয়ার সাথে সাথে উনি স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে....
- আমি জানতাম আপনি আসবেন।
- আপনার এবং এই প্রাসাদের রহস্যের কথা শোনার পর আমি এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি তবে আমি নিজের স্বার্থের জন্যই এসেছি।
- আমি আগে থেকেই জানতাম আপনাকে আসতে হবে, যেকোনো উপায়েই হোক আপনার এখানে আসার কথা ছিলো আর সত্যি সত্যিই আপনি এখানে এসেছেন।
- তবে একটা প্রশ্ন??
- কি.??
- পৃথিবীতে এতশত মানুষ থাকা সত্ত্বেও আপনি শুধু আমাকেই কেনো দেখা দিতেন.?
- কারণ ত্রিভুবন আর আপনার নিয়তি আপনাকে বেছে নিয়েছে "Holey Spirit" হিসেবে।
- কিন্তু আমিই কেনো.?
- এর পিছনে আপনার বংশ পরম্পরার অজানা রহস্য আছে যেটা শুধু আমিই জানি।
- কি সেই রহস্য আমিও জানতে চাই।
- বেশ তবে শুনুন! আপনার পরদাদা হেলাল খানের স্ত্রী উলফা উনি ছিলেন একজন মাতরম বংশের সন্তান। যে বংশকে স্বয়ং জ্বিনেরা সাহায্য করতো। তাদের বংশ পরম্পরা অনুযায়ী জ্বিন জগতের যত ভালো জ্বিন রয়েছে সবাই মাতরম বংশের বংশধরদের সুরক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছে। এবং ওই সকল জ্বিনদের কাছ থেকে কিছু অতিপ্রাকৃতিক শক্তি অর্জন করেছিলেন হেলাল খানের স্ত্রী উলফা। উনি পরবর্তীতে নিজের শক্তি ব্যবহার করে জ্বিনদের সাথে সকল যুক্তি খন্ডন করেন। এরপর থেকে জ্বিন জগতের আর কোনো জ্বিন মাতরম বংশের কাউকে সাহায্য করেনি। আজ এবং এখন থেকে জ্বিন জগতের সকল জ্বিনেরা আবারও মাতরম বংশের বংশধরদের সাহায্য করবে।।
- কেনো.?
- কারণ, আপনি আজ আবার সেই শক্তিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আপনি সাধারণত এই শক্তি আপনার পরদাদী উলফার কাছ থেকে পেয়েছেন। যেহেতু এটা আপনার দ্বিতীয় জন্ম এবং আপনার অসম্পূর্ণ জীবন কাহিনীকে সম্পূর্ণ করার জন্যই আবারও ফিরে এসেছেন এজন্যই মাতরম বংশের সেই বংশ পরম্পরা আবারও নতুন করে শুরু হওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছে। আর আজ সেই সুযোগ বাস্তবে পরিণত হতে সক্ষম হয়েছে। একমাত্র আপনিই পারবেন আমাদের সবাইকে এই রহস্যের বেড়াজাল থেকে উদ্ধার করতে। তবে আপনি একা এই লড়াই করতে সক্ষম হবেন নাহ, এই যুদ্ধে আপনার একজন সঙ্গী সঙ্গী প্রয়োজন। সেই শক্তিকে আহ্বান করতে হবে আপনাকে। আপনি কিছু সময়ের জন্য আমাকে সয়তানের বশীকরণ মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন কিন্তু যতক্ষণ নাহ এই সয়তানকে মারতে সক্ষম হবেন ততক্ষণ আমরা কেউই এই প্রাসাদ থেকে বের হতে পারবো নাহ।
- শুনুন! শুনুন! আ-আমি যাদের রুহ্ দ্বিতীয় বার পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছি তাদের রুহ্ কি এই প্রাসাদেই আছে.? আ-আর কোন শক্তিকে আহ্বান করার কথা বলছেন, এটা কি আমার ভিতরে থাকা কোনো শক্তি নাকী কোনো ব্যক্তি.?
- প্রথমত, আপনি যাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছেন তাদের রুহ্ অব্দি যেতে হলে প্রথমে আপনাকে এই প্রাসাদে থাকা সয়তানকে হারাতে হবে তারপর সেই জায়গায় যেতে হবে যেই জায়গা থেকে আপনার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিলো। আর দ্বিতীয়ত, আমি যে শক্তির কথা বললাম সে একজন রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। যাতে বর্তমান দুনিয়া থেকে বর্তমান প্যারালাল ইউনিভার্সে আনতপ হবে। তাকে আনার জন্য আপনাকে মন থেকে ওই শক্তিকে আহ্বান করতে হবে। ওই শক্তির কাছে হাত জোড় করতে হবে যাতে সে আপনাকে সাহায্য করতে বাধ্য হয়।
এতটুকু বলা শেষ হতে নাহ হতেই সয়তান আবরও রাজকন্যা ইলাহ্'কে বশ করে ফেলে। তার মানে আমাকে প্রথমে সেই শক্তিকে আহ্বান করতে হবে যে শক্তির সাহায্যে এই প্রাসাদের সয়তানকে হারাতে পারি। তারপর আমাকে এই প্রাসাদ থেকো আবারও পাহাড়িতলা গ্রামে পৌঁছাতে হবে। সেখানে গিয়েই আমাকে চূড়ান্ত লড়াই লড়তে হবে। কিন্তু তার আগে আমাকে এই প্রাসাদকে অভিশাপ মুক্ত করতো হবে এবং এই প্রাসাদে আটকে থাকা হাজারো মানুষের রুহ্'কে মুক্তি দিতে হবে। সেজন্য আমার সেই শক্তিকে আহ্বান করতেই হবে।
আমাকে সাহায্য করতে পারে ওই শক্তিকে কিভাবে আহ্বান করবো সেটা নিয়ে যখন ভাবনায় মগ্ন তখন রাজকন্যা ইলাহ্ আবারও আমাকে আক্রমণ করে। কোনো রকম নিজেকে উনার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে উনাকে সেই রুমে আটকে দিলাম। এবার আমার মূল উদ্দেশ্য ওই শক্তিকে আহ্বান করা। ওই ব্যক্তিকে আহ্বান করা যিনি আমাকে সহ এই প্রাসাদের সকলকে মুক্ত করতে পারে।
চোখ বন্ধ করে আমি সেই শক্তিকে আহ্বান করতে লাগলাম।
"হে সাহায্যকারী শক্তি! আমি আপনাকে আহ্বান করছি। আপনি দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন, দয়া করে বর্তমান দুনিয়া থেকে বর্তমান প্যারালাল ইউনিভার্সে আসুন! আসুন! আসুন এবং আমাকে সয়তানের সাথে লড়াই করতে সাহায্য করুন। আল্লাহ তাআলার হুকুমে একমাত্র আপনিই পারবেন আমাকে সাহায্য করতে। এই সয়তান শুধু আমাকেই নাহ বরং আরো অনেক নিষ্পাপ মানুষের রুহ্'কে এই প্রাসাদে আটকে রেখেছে। আপনি আমাকে সাহায্য নাহ করলে আমি কিছুতেই এই সয়তানকে হারাতে পারবো নাহ আর যদি এই সয়তানকে হারাতে নাহ পারি তাহলে আমি যে উদ্দেশ্যে এখানে এসেছি সেই উদ্দেশ্যও সফল হবে নাহ। এই প্রাসাদের অভিশাপও খন্ডন হবে নাহ। দয়া করে আসুন! আসুন! আসুন এবং আমাকে সাহায্য করুন। আসুন! আসুন! আসুন"
শুভ আত্মার প্রতীককে এই প্যারালাল ইউনিভার্সে আহ্বান করার পরও উনি আসছে নাহ। কিন্তু কেনো.? এসব ভাবতে ভাবতে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম তখনই সেখানে ওই বিভৎস দেখতে বৃদ্ধ মহিলা চলে আসে। আমাকে মারার জন্য ধাওয়া করতে থাকে তার সাথে সাথে রাজকন্যা ইলাহ্'র আত্মাও বন্ধ ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। বৃদ্ধ মহিলা আর রাজকন্যা ইলাহ্'র আত্মা আমাকে মারার জন্য আমার পিছু নিয়েছে। আমি নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছি কিন্তু ঘুরেফিরে আমি একই জায়গায় এসে পরছি।
হঠাৎ করে চারিদিক আলোয় চকচক করতে থাকে। এত আলো যে চোখ খুলে তাকানো যাচ্ছে নাহ। চারিদিকের পঁচা দুর্গন্ধ মিলিয়ে গিয়ে হাজারো ফুলের সুভাষ বইতে লাগলো। আলোর বেগ কমলে মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ের অবয়ম দাঁড়িয়ে আছে।