পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১৭
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৭ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১৭
☞ ❝আংটি'টা আমার আঙ্গুলে পড়ে কলেজে চলে গেলাম❞
------------
"ম্যাম! আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসছি"
"এসবের মানে কি অরিন.? আজকে তুমি লেইট করে ক্লাসে এসেছো এবং আর লিসেনিং এর মাঝখানে বলছো ওয়াশরুমে যাবে.?"
"ম্যাম খুব আর্জেন্ট!!"
"কি হয়েছে, আমাকে বলো যদি তেমন আর্জেন্ট মনে হয় তাহলেই যেতে দিবো"
"ম্যাম! এসে বলবো এখন প্লিজ আমাকে যেতে দিন!"
"আচ্ছা যাও, আরতাড়াতাড়ি আসবে কিন্তু"
"ঠিক আছে ম্যাম!!"
-------------
"উপ্স! সরি!সরি! আমি আসলে খেয়াল করিনি!"
"ইট'স ওকে! তবে এরপর থেকে দেখে শুনে হাটবে এক্ষুনি তোহ দুজনেই পরে যাচ্ছিলাম"
"হ্যাঁ! কিন্তু আপনাকে ঠি চিনলাম নাহ.? আপনি কি আমাদের কলেজেরই.?"
"কি মনে হয়.?"
"এর আগে তোহ কখনো দেখিনি, তাছাড়া আমাদের কলেজের সকল সিনিয়র থেকে শুরু করে ক্লাসমেট সবাইকেই কম বেশি আমি চিনি কিন্তু আপনাকে তোহ ঠিক....."
"আমার পরিচয় নাহয় একটু পরে নিও, আগে বলো তুমি কে.?"
"ইয়ে! আমি অরিন। ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট। আপনি.....!"
"আমি ❝নিজাতি❞ এই কলেজের নতুন টিচার"
"কি.? আপনি আমাদের নতুন টিচার! আই এম সো সরি স্যার! আই এম এক্সট্রিমলি সরি! বিশ্বাস করুন আপনি আসবেন আমি জানিও নাহ, প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড!! আজকে প্রথম দিনই আপনার সাথে আমার এমন ভাবেে সাক্ষাৎ হলো, ইশশ কি লজ্জার বিষয়ে!"
"আরে! আরে! তুমি এত লজ্জা পাচ্ছো কেনো! কিন্তু একটা কথা কি জানো.?"
"কি কথা স্যার.?"
"তুমি লজ্জা পেলে তোমাকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে, মুচকি হাসিতে গালের টোলগুলো যেনো নতুন করে জীবন পায়, লজ্জামাখা চোখগুলো যেনো কত কিছু বলতে চায় আর! আর! আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে তোমার মুচকি হাসির ওই গোলাপি ঠোঁটগুলো"
"ইয়ে! স্যার! আমার ক্লাসে দেরি হয়ে যাচ্ছে"
"ওহ্! হ্যাঁ! হ্যাঁ! তুমি আসতে পারো! তবে একটা কথা, কলেজ শেষে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো কলেজের পাশে যে পার্কটা আছে ওখানে! আমি জানি তুমি আসবে!"
---------
"অরিন! তুমি কি বলে ক্লাস থেকে বেরিয়ে ছিলে.? এতক্ষণ সময় লাগলো কেনো তোমার.?"
ম্যামকে কিছু বলতে যাবো তখনই আমি মাথা ঘুরে পরে যাই......
-----------
চোখ খুলতেই দেখি আমি এক অজানা ঘরেরমধ্যে বন্দী হয়ে আছি, ঘরটা অনেক গোছানো তবে এই ঘরটা আমি চিনি নাহ।
প্রচন্ড মাথা ব্যথায় মনে হচ্ছে আমার মাথা ছিড়ে যাচ্ছে, দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে উঠে দাঁড়ালাম, আস্তে আস্তে ঘরটি ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকি।
এত বড় একটা রুমে আমি একদম একা এখানে আমি ছাড়া আর কেউ নেই।
পা টিপে টিপে আয়নার সামনে গেলাম, প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুক্ষণ পর দেখি আয়নার ভিতরের আমিটা একদম বৃদ্ধ হয়ে গেছি।
চুলগুলো ধবধবে সাদা, সারা শরীরের চামড়া কুঁকড়ে গেছে, হা করতেই দেখি একটাও দাঁত নেই আমার মুখে, আমার জ্বিভ সম্পূর্ণ কালো হয়েে গেছে। চুলের মধ্যে উকুনের বাসা হাত দিলেই যেনো ঝরঝরে বৃষ্টির পানির মতো মাথা থেকে উকুন বেয়ে বেয়ে পরবে।
আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম নাহ, আমার চোখের সামনে নিজের এই কুৎসিত রূপ দেখে কিছুতেই ঠিক থাকতে পারছিলাম নাহ। কি করবো আমি....
আমি প্রায় আধপাগল হয়ে ঘরের এক পাশ থেকে আরেক পাশে ছুটছিলাম, চারিদিকে শুধু আমার বৃদ্ধ রূপ আমাকে দেখে হাসছে। আমি পাগল প্রায়। কি করবো নাহ করবো ভাবতে ভাবতেই দেখি সিলিং-এ ফাঁসির দড়ি ঝুলছে।
মাথায় তখন এটাই কাজ করছিলো হয়তো ফাঁসিতে ঝুলে পরলে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাবো।
তাড়াতাড়ি করে একটা “টুল” খুঁজে এনে ওটাতে দাঁড়িয়ে ফাঁসির দড়িটা আমার গলায় পরে ফেলি।
মুহূর্তেই আমার গলায় ফাঁস আটকে গেলো আমি বাঁচার জন্য ছটফট করতে লাগলাম।
--------
ম্যাম:- অরিন! এই অরিন! অরিন! উঠো! অরিন!
সিনথিয়া:- অরিন.? এমন করছিস কেনো.? অরিন!! আমাদের ডাক শুনতে পাচ্ছিস.?
ম্যাম:- সিনথিয়া! ওর চোখে মুখে আরেকটু পানি দাও।
ম্যামের কথা মতো সিনথিয়া আমার চোখে মুখে আবারও পানি দেয়, কখন জ্ঞান ফিরে ঠিক খেয়াল নেই।
----------------
"অরিন! তোমাকে আজ আর ক্লাস করতে হবে নাহ, তুমি বরং বাসায় গিয়ে রেস্ট নাও। সিনথিয়া বা অন্য কেউ তোমাকে গাইড করবে টেনশন নিিও নাহ।"
"নাহ! নাহ! ম্যাম। কিছুদিন পর ফার্স্ট সেমিস্টার এক্সাম এখন কিছুতেই ছুটি কাটাতে পারবো নাহ। প্লিজ ম্যাম! আজকের ক্লাসটুকু করি!"
"বাহ! এমনিতেই তোহ লেইট করে ক্লাসে এসেছো করেছো তার উপর শরীর খারাপ করছে এখন নাকী উনি ক্লাস অ্যাটেন্ড করবে!"
"হ্যাঁ ম্যাম! প্লিজ!"
"ওকে! ওকে! নিজের সিটে গিয়ে বসো, আর আমি তোমার বাসায় কথা বলবো তারা যেনো তোমার কেয়ার নেন।"
-----------------
ক্লাস শেষে গুটি গুটি পায়ে পার্কের দিকে যাচ্চচি আর মনে মনে ভাবছি....
কি জানি নিজাতি স্যার কি বলবেন.?
আল্লাহ নাহ করুক প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে যেনো নালিশ নাহ করে!!
কিন্তু যাই হোক নিজাতি স্যার কিন্তু বেশ হ্যান্ডসাম। মাশাল্লাহ! হাজারো মেয়ের ক্রাশ, কি জানি কলেজের মেয়েরা উনাকে দেখার পর রিয়াকশন কেমন হচ্ছে।
মনে হয় নাহ, উনার মতো এমন অ্যাট্রাকটিভ সুদর্শন পুরুষ এর আগে দেখেছি।
আল্লাহ! আল্লাহ! আমি কি৷ নিজাতি স্যারের প্রেমে পরে গেলাম নাকী.?
নাহ! নাহ! উনি আমার টিচার আর আমি উনার স্টুডেন্ট, এটা কখনো সম্ভব নাহ!
কিন্তু! স্যারকে প্রথম দেখায়ই ভালো লেগে গেছে ইয়ার! কি করবো.?
এই অরিন! তুই নাহ মাত্র কলেজে উঠলি, এখন এসব কি ভাবছিস ছিহ! ছিহ! এসব ভাবলে চলবে নাহ। তোকে পড়াশোনা করতে হবে, অনেক বড় হতে হবে।
কিন্তু! নিজাতি স্যারের সাথে যদি আমার বিয়প হয় তাহলে তোহ স্যারই আমাকে পড়াতে পারে!!
আল্লাহ! আল্লাহ! এতক্ষণ আমি একা একা নিজের সাথে এসব ফালতু কথা বলে যাচ্ছিলাম।
নাহ! দেখি স্যার কোথায়, উনার সাথে কথা বলে আমাকে তাড়াতাড়ি করে বাড়ি ফিরতে হবে এমনিতেই আমার শরীরটা ভালো লাগছে নাহ।
উফফ! কোথায় গেলেন মিস্টার নিজাতি! আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবো তারপর আমি ঠিকই চলে যাবো।
একা একা নিজের সাথে বিরবির করে যাচ্ছিলাম তখনই পিছন থেকে কেউ একজন ডাক দেয়.......
"অরিন"
"কে!" বলে পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখি, নিজাতি স্যার। উনার হাতে অসংখ্য ফুল। দেখে মনে হচ্ছে মাত্র কোনো গাছ থেকে উপড়ে আনা হয়েছে। একদম তারতাজা টাটকা টাটকা ফুল। ফুলগুলো দেখে আমার মনে কিছুটা খটকা লাগলো কারণ এই ফুলগুলো দেখেই তোহ আমি আর সিনথিয়া সেদিন ফুল চুরি করার মিশনে যাবো ভেবেছিলাম। কিন্তু মিশনে গিয়ে যা কিছুর সম্মুখীন হলাম তা বলার বাহিরে।
"আরে স্যার! এই ফুলগুলো......!"
"আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলের মতো মানুষটার জন্য তার পছন্দের ফুল!"
"মানে.? এগুলো আমার ....."
"হ্যাঁ! এগুলো তোমার জন্যই এনেছি!"
"কিন্তু আপনি জানলেন কি করে এগুলো আমার পছন্দের ফুল.?"
নিজাতি স্যার আমার কাছে এসে কানে কানে বললেন...
"প্রিয় মানুষের পছন্দ অপছন্দ সবদিকেই খেয়াল রাখা উচিৎ! তোমার এমন অনেক ছোট ছোট পছন্দ আমার জানা আছে!"
এইটুকু বলে নিজাতি স্যার চলে গেলেন আর যেতে যেতে বললেন...
"কালকে ঠিক কলেজ শেষে এখানে অপেক্ষা করবে! আমি জানি তুমি আসবে।"
"কিন্তু! স্যার....?"
"কোনো কিন্তু নাহ, আমি জানি তুমি আসবেই!"
স্যার চলে যাওয়ার পর আমিও বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। কিছু পথ যাওয়ার পর মনে হতে থাকে কেউ যেনো অনেকক্ষণ ধরে আমাকে পিছু করে চলেছে। বারে বারে পিছন ঘুরে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পাইনি।
ব্যাপারটা ততটা গুরুত্ব নাহ দিয়ে নিজ মনে হাটঁতে থাকি, হঠাৎ কোথা থেকে যেনো একটা কালো প্রজাপতি উড়ে এসে আমার ডান হাতে বসলো।
কারো মুখে শুনেছিলাম, শরীরে প্রজাতি বসলে নাকী প্রেম হয়।
শরীরে প্রজাতি বসার বিষয়টা নিয়ে একা একাই হাসতে থাকি, তখনও প্রজাপতিটা আমার হাতেই বসে ছিলো। হুট করে প্রজাতিটা আমার হাতে হুল ফুটিয়ে দিলো। আমি প্রায় অবাক প্রজাতিও হুল ফুটায়.?
আমার হাতে হুল ফুটিয়ে দিয়েই প্রজাপতিটা উড়ে অন্য কোথাও চলে গেলো। খেয়াল করে দেখলাম আমার হাত দিয়ে রক্ত ঝরছে। অপর হাত দিয়ে ক্ষত স্থানটি চেপে ধরে হাঁটতে থাকি। এবারও মনে হচ্ছে কেউ যেনো৷ আমার পিছু করছে, আবারও পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই।
পিছন থেকে সামনের দিকে তাকাতেই দেখি একটা বিশাল বড় কুচকুচে কালো বিড়াল আমার সামনে দিয়ে হেঁটে গেলো।
এবার যেনো পিছন থেকে হাজারো গোলাপ ফুলের ঘ্রাণ ভেসে আসতে থাকে, গোলাপের ঘ্রাণে মোহিত হয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি একটা বিশৃ পঁচা গলা লাশ আমার সামনে দাঁড়িয়ে বিদঘুটে হাসিতে মেতে যাচ্ছে।
প্রচন্ড ভয়ে পিছন ঘুরেই দিলাম এক দৌড়, আমি দৌড়ানোর সাথে সাথে কালো বিড়ালটা আর ওই পঁচা গলা লাশটাও আমার পিছন পিছন আসছিলো। দৌড়াতে দৌড়াতে পা হোটচ খেয়ে পরে যাই আর ওই কালো বিড়ালটা আমার সামনে এসে আমার ওর বড় বড় নখ দিয়ে আমার পেটের মধ্যে আঘাত করে।
প্রচন্ড ব্যথায় আমার চোখক দিয়ে পানি পরতে থাকে, আমি রিতীমত কান্না করছিলো, ভয়ে আমার শরীর দিয়ে হিম শীতল পানি ঝরে যাচ্ছে। এই করুন সময়ে আমি কি করবো কিছুই বুঝতে৷ পারছিলাম নাহ, মনে হচ্ছে আমি এক্ষুনি দম বন্ধ হয়ে মারা যাবো। আমি চিৎকার করে৷ সাহায্য চাইতে গিয়েও চিৎকার করতে পারছি নাহ, ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে গিয়েছিলো মুখ দিয়ে একটাও টুঁশব্দ বের করতে পারছিলাম নাহ।
তখনই সেই পঁচা গলা লাশটা এসে আমার বুকের উপরে বসে পরে। মনে হচ্ছিল আমার উপর একটা পাহাড় ছুড়ে মারা হয়েছে। শরীরটা যেনো ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে দেখি লাশটা বিদঘুটে ভাবে হাসতে হাসতে আমার কানের কাছে ওর মুখটা এনে ল্যাটিন ভাষায় কিছু বললো, "Venire nolui, vocatus sum. Non te nunc accipiam. Ibo cum consummavero opus meum." এই বলে লাশটা ওর জিহ্বা বের করে আমার গাল চাটতে শুরু করে। ঠিক কতক্ষণ এমনটা হয়েছিলো আমার খেয়াল নেই। হয়তো তখনই জ্ঞান হারিয়েছিলাম।
----------------------
অনেক রাত হয়েছে, সবাই ঘুমে বেঘোর। আমিও ঘুমিয়ে ছিলাম হঠাৎ মনে হতে থাকে কেউ যেনো আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। চমকে গিয়ে চোখ খুলে দেখি নিজাতি স্যার আমার মাথার পাশে বসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর কান্না করছে।
উনাকে দেখে আমি প্রায় বিস্মৃতি খেয়ে গেলাম। লাফ দিয়ে উঠে বলতে যাবো "স্যার আপনিইই..." তখনই নিজাতি স্যার আমার মুখ চেপে ধরে বলে...
"হুশশশ! চুুপ! চুপ! সবাই জেগে যাবে!"
আমি ফিসফিসিয়ে বললাম...
"স্যার! আপনি এখানে কি করছেন.?"
"তোমাকে দেখতে এলাম"
"মানে কি এসবের.? যদি কেউ দেখে ফেলে কি হবে বুঝতে পারছেন.?"
"হুশশ! কেউ দেখবে নাহ"
"কেউ দেখবে নাহ মানে.? আপনি এক্ষুনি চলে যান, যদি কেউ দেখে ফেলে তাহলে আমাদের খবর আছে"
"আরে! তুমি ভয় পাচ্ছো কেনো.? কিচ্ছু হবে নাহ, তোমাকে দেখতে এসেছি দেখা হয়ে গেলেই চলে যাবো"
"হয়েছে! দেখেছেন.? এবার যান"
"তাড়িয়ে দিচ্ছো.?"
"উফফ! স্যার বুঝার চেষ্টা করেন আমাদের কেউ একসাথে দেখলে সমস্যা হবে"
নিজাতি স্যার কিছুতেই যেতে চাইছেন নাহ, নিজাতি স্যারকে ঘর থেকে বের করার জন্য আমি খাট থেকে উঠতে যাবো তখনই অনুভব করলাম আমার পেটে অসহ্য যন্ত্রণা করছে।
"উফফ! স্যার প্লিজ চলে যান নাহ!"
"কি হয়েছে তোমার! কোথায় ব্যথা করছে তোমার.?"
নিজাতি স্যার ছুটে এসে আমার পাশে বসলেন।
"কই দেখি! কোথায় ব্যথা হচ্ছে!"
"তেমন কিছু স্যার! তখন বিড়ালে পেটের মধ্যে আচ কেটেছিলো!"
"কি বলছো! কই দেখি.?"
এই বলে নিজাতি স্যার আমার পেটের মধ্যে হাত বুলাতে শুরু করে, আমার কিছুটা অদ্ভুত লাগছিলো তাই জন্য স্যারকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইলে স্যার আমার কাঁধে উনার অপর হাতটা রাখে।
আমার খুব অস্বস্তি হতে থাকে কিন্তু আমি যেনো কিছুই করতে পারছিলাম নাহ, নিজাতি স্যার অনবরত আমার পেটে হাত বুলিয়ে চলেছে।
খেয়াল করলাম নিজাতি স্যারের শরীর একদম বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে আমার সামনে কোনো এক বরফ বসে আছে যার ঠান্ডা আভাস এসে আমার শরীরে বারি খাচ্ছে।
আমি উনাকে ডাকতে যাবো তখনই স্যার আমার দিকে তাকায়, আমি দেখি স্যার চোখে কোনো মণি নেই, চোখগুলো একদম সাদা। কি বিভৎস লাগছিলো তখন নিজাতি স্যারকে।
ঠিক সেই মুহুর্তে কেউ আমার কাঁধে আঘাত করে, আমি স্যারের দিক থেকে চোখ সরিয়ে কাঁধের দিকে তাকিয়ে দেখি, নিজাতি স্যার উনার বড় বড় নখগুলো আমার কাঁধে বিধিয়ে দিয়েছে। আমার কাঁধ থেকে টপটপ করে রক্ত পরে যাচ্ছে।
আমি হতবাক হয়ে নির্বাক দৃষ্টিতে স্যারের দিকে তাকিয়ে আছি। স্যারও খিটখিটিয়ে হেঁসে যাচ্ছে সময় যত যাচ্ছে স্যারের হাসির বেগ ততই বাড়তে শুরু করে।
এক পর্যায়ে স্যার উনার নখগুলো দিয়ে আমার কাঁধে বার বার ছুড়ির মতো আঘাত করতে থাকে আর সয়তানি হাসিতে মেতে উঠে। উনার অট্টহাসিতে আমার কান দিয়ে রক্ত পরতে থাকে।
তীব্র শব্দ সহ্য করতে নাহ পেরে আমি কানে হাত দিয়ে চিৎকার দিতেই নিজেকে আবিষ্কার করি আমার ঘরে।
"কি হলো অরিন.? তোর কি হয়েছে.?"
আমি মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে দেখি আমার আম্মু আর ইরিন আমার পাশে বসে আছে।
তার মানে এতক্ষণ আমি স্বপ্ন দেখছিলাম.?
কি হয়েছে আমার.? আমি কেনো বার বার এমন অদ্ভুত স্বপ্ন দেখছি.?
"অরিন! কিরে কিছু বল? তোর শরীর কি অনেক খারাপ?"
আমি কোনো উত্তর দেওয়ার মতো প্রস্তুত ছিলাম নাহ তখন, আমাকে এখন সবকিছু জানতে হবে কি হচ্ছে আমার সাথে আর কেনোই বা হচ্ছে।
"অরিন! তুই নাকী আজকে কলেজেও অজ্ঞান হয়ে গেছিলি.?"
আম্মু একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে কিন্তু আমি কি উত্তর দিবো ভেবে পাচ্ছি নাহ। হচ্ছেটা কি আমার সাথে!
"অরিন! তোকে প্রশ্ন করছি শুনতে পাচ্ছিস! ক্লাস শেষে কলেজের পিছনে গিয়েছিলি.? ভাগ্যিস ইরিন ওইদিকে গেছিলো নয়তো তোকে খুঁজেই পেতাম নাহ! কি হয়েছিলো সেখানে, তুই অজ্ঞান হয়েছিলি কিভাবে.?"
আম্মুর কথা যেনো আমার কান অব্দি পৌঁছাচ্ছে নাহ, হুট করে আমার মনে পরলো আমার কাঁধ ও পেটের কথা। তাড়াতাড়ি করে পেটের কাপর সরিয়ে দেখি সত্যি সত্যি আমার পেটে নখের আচর! এটা কিভাবে সম্ভব তার মনে এটা সত্যি ছিলো। ছুটে চলে গেলাম আয়নার সামনে, ঘাড়ের কাপরটা সরিয়ে দেখি ঘাড়েও নখের আঘাত।
"নাহ! নাহ! এ হতে পারে নাহ! এগুলো তোহ সব স্বপ্ন ছিলো, তাহলে এগুলো বাস্তবে কিভাবে....!"
"কিরে অরিন! একা একা কি বিরবির করছিস.?"
আমার মাথা ঘুুরছিলো তখন, কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি নাহ। মাথা ঘুরে ধপাস করে পরে যাই। ইরিন আর আম্মু আমাকে ধরাধরি করে খাটে নিয়ে বসায়।
"অরিন! তোর তোহ অনেক জ্বর! শুয়ে থাক। তোর চাচ্চু এলে চেক আপ করে ঔষধ লিখে দিবে। এখন রেস্ট নে।"
আম্মু চলে গেলে ইরিন আমার কাছে এসে কানে কানে বলে....
"কলেজের পিছনে কার সাথে দেখা করতে গেছিলি.?"
"কি বলছিস.? আমি কারো সাথে দেখা করতে যাইনি! তুই তোর কাজে যা আমাকে রেস্ট নিতে দে"
ইরিনকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে থাকি। বিছানায় শোয়ার পর কখন ঘুমিয়ে পরি খেয়াল ছিলো নাহ।
-------------------
আমি তখন বেঘোর ঘুমে হঠাৎ করে আমার উপর কোথা থেকে যেনো সেই কালো বিড়ালটা এসে ঝাপিয়ে পরে। লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে মাথায় হাত দিয়ে বসে পরি।
বিড়ালটা মিয়াঁও মিয়াঁও করে বিছানা থেকে নেমে গেলো। ফ্লোরে হাঁটতে হাঁটতে দরজা অব্দি যাওয়ার সাথে সাথে বিড়ালটা আমার দেখা সেই কালো প্রজাপতি হয়ে গেলো।
কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব.? একটা বিড়াল কিভাবে প্রজাপতি হতে পারে.?
প্রজাপতিটা উড়ে উড়ে আমার ঘাড়ের ক্ষত স্থানে এসে বসলো। আমি আড় দৃষ্টিতে প্রজাপতিটাকে দেখে যাচ্ছি কিন্তু কিছুই করতে পারছি নাহ। এমন মনে হচ্ছে আমি কারো হুুকুমের গোলাম হয়ে গেছি, সে যা বলছে তাই করতে বাধ্য।
অনেকক্ষণ প্রজাপতিটার দিকে তাকিয়ে থেকে কি মনে করে যেনো ওটাকে ধরার জন্য হাত বাড়াই আর সাথে সাথে প্রজাপতিটা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
চোখ ফেরাতেই দেখি নিজাতি স্যার আমার বেডরুমে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক করছে।
এত রাতে উনাকে আমার রুমে দেখে বুকটা কেঁপে উঠলো। উনাকে জিজ্ঞেস করতে যাবো তখনই উনি আমার সামনে চলে আসে...
"কি! শরীর কেমন এখন.?"
"ভালো! কিন্তু আপনি.....?"
"তোমাকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিল তাই চলে এলাম"
"আমি জানি এগুলো আমার স্বপ্ন, আমি এগুলো সব স্বপ্নে দেখছি। আপনি সত্যি নন, আর নাই-বা কখনো এমনটা হবে"
নিজাতি স্যার উনার হাতটা হাল্কা করে আমার মুখে রেখে চুপ করতে বললো। তারপর শার্টের পিছন থেকে একটা গোলাপ ফুল বের করে আমার কানে গুঁজে দিলেন। আস্তে আস্তে উনি দুই হাত দিয়ে আমার গালগুলো আলতো করে ধরে বললেন....
"আমি আসতে চাইনি, আমাকে ডাকা হয়েছে"
"মানে.? কি বলছেন স্যার..?"
আমাকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ দিলেন নাহ। উনার ঠোঁট আলতো করে আমার ঠোঁটের সাথে স্পর্শ করলেন, আমি সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। আমার ভিতরে কেমন যেনো উতালপাতাল শুরু হতে থাকে, কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম নাহ।
চোখ খুলে দেখি আমার সামনে সেই পঁচা গলা লাশটা খিটখিটিয়ে হাসছে। তার মানে এই সয়তানটাই বার বার আমার সামনে নিজাতি স্যারের রূপ নিয়ে আসছে। বার বার আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে।
অসহ্যকর দুর্গন্ধ আর কান ফেটে যাওয়ার মতো অসহ্যকর অট্টহাসি কিছুতেই আমি সহ্য করতে পারছিলাম নাহ। মনে হচ্ছে এক্ষুনি মারা যাবো। সহ্য করতে নাহ পেরে আবারও একটা চিৎকার দিতেই আমি ঘুমের ঘোর থেকে বেরিয়ে আসি।
তার মানে এতক্ষণ আমি আবারও স্বপ্ন দেখছিলাম। মাথায় হাত দিয়ে ভাবতে থাকি কিভাবে এসবের থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে তখনই চোখ যায় আমার বালিশের কাছে, বালিশের এক কোনে একদম সতেজ একটা গোলাপ ফুল রাখা। কিন্তু এটা এখানে কে রাখলো.? আমার রুম তোহ ভিতর থেকে লক করা তাহলে এটা এখনে এলো কিভাবে.?
--------------
ঠিক দুপুর বেলা কলিং বেল বেজে উঠলো। আমার রুম থেকে স্পষ্ট কলিং বেল বাজার শব্দ শুনতে পেলাম কিন্তু শরীরটা খুব দূর্বল থাকার কারণে বিছানা থেকে উঠতে পারলাম নাহ।
কিছুক্ষণ পর ইরিন এলো আমার রুমে। ওর হাতে ছিলো একটা গিফট বক্স।
"অরিন! তোর জন্য কেউ পার্সেল পাঠিয়েছে"
"কি বলছিস, আমার জন্য আবার কে পার্সেল পাঠাবে.?"
"জানি নাহ, তুই নিজেই চেক করে দেখ"
"আচ্ছা ঠিক আছে! তুই বক্সটা এখানে রেখে যা আমি পরে আনবক্স করে দেখে নিবো"
"আমার সামনেই খোল নাহ! আমিও দেখি তোকে কে আর কি গিফট দিয়েছে"
"ইরিন! এখন এসব ভালো লাগছে নাহ, তুই প্লিজ যা"
"আচ্ছা ঠিক আছে"
ইরিন চলে যাওয়ার পর বক্সটা যেনো ওওর দিকে বার বার আমাকে আকর্ষণ করতে থাকে। আমি মোহিত হয়ে বক্সটার দিকে তাকিয়ে থাকি। যেনো কত বছর ধরে আমাদের একে অপরের সাথে সম্পর্ক।
অতশত নাহ ভেবে বক্সটা হাতে তুলে নিলাম। খাট থেকে নেমে চলে গেলাম দরজার কাছে। দরজার সামনে গিয়ে এদিক সেদিক ভালো ভাবে লক্ষ করে দেখলাম কেউ আছে কি নাহ। তারপর দরজাটা বন্ধ করে আবারও খাটের কাছে চলে এলাম।
আবারও বক্সটা হাতে তুলে নিলাম। বেঘোর মোহিত হয়ে বক্সটা দেখতে দেখতে এক পর্যায়ে সেটা আনবক্স করি। আনবক্স করে এটা ভিতরে যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম নাহ।