পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১৫
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৫ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১৫
তখনই কিবরিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টের বয়ান শুনে আতকে উঠলাম...
তার বয়ানটা ছিলো কিছুটা এই রকম ছিলো....
"রাত তখন আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার কাছাকাছি হবে আমি তখনও হসপিটালের মর্গে কাজ করছিলাম ঠিক তখনই কোত্থেকে যেনো কিবরিয়া ভাই ছুটে আসছিলো। আমি তাকে প্রশ্ন করলে উনি আমাকে কোনো প্রতুত্তর করেন নাহ তাই আমিও তাকে জোড় করি নাহ।
আমরা দুজনে মিলেই কাজ করতে থাকি কিন্তু তখনও খেয়াল করি কিবরিয়া ভাই ভয় পাচ্ছিলেন তবে কি নিয়ে ভয় পাচ্ছিলেন সেটা বলতে পারি নাহ কারণ আমি তাকে বহুবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও আমাকে কিচ্ছু বলেননি।
রাত প্রায় ২টার কাছাকাছি হবে তখন আমি ফ্রেশ হওয়ার জন্য মর্গ থেকে বেরিয়ে ওয়াশরুমে যাই।
তখন কিবরিয়া ভাই একাই মর্গে ছিলেন, আমি যখন ফ্রেশ হয়ে পুনরায় মর্গে যাই তখন দেখতে পাই কিবরিয়া ভাই ফ্লোরে পরে ছটফট করছিলো আমি ছুটে তার কাছে গিয়ে দেখতে পাই উনার গলায় কেউ একজন কামোর দিয়েছে যার ফলে গলার মাংস ছিঁড়ে গেছে এক কথায় বলা যায় কেউ গলার মাংস খাবলে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলেছে।
উনার এই হাল কে করেছে জানার জন্য উনার যখন প্রশ্ন করি তখন উনি ভয়ার্ত চোখে মাথার উপরে ইশারা করেই মুখে ফেনা উঠে মারা যান।
উনি মারা যাওয়ার পর আমি উপরের দিকে তাকিয়ে দেখে একটা অল্প বয়সী মেয়ে পরনে হলুদ সালোয়ার চুলগুলো খোলা অবস্থায় উল্টো হয়ে সিলিং-এ হাঁটছে। আমি ওকে দেখে ফেলেছি এটা টের পেয়ে আমার মাথায় আঘাত করে কেমন একটা জানোয়ারের মতো লাফাতে লাফাতে হসপিটাল থেকে পালিয়ে যায়"
আল্লাহ! আল্লাহ! কি হচ্ছে এগুলো.? তার মানে হরিণীই এসব করেছে.? গতকালও তাহলে হরিণীই পাশের বাসার কুকুরটিকে হত্যা করেছে.?
আমি জানি যে হরিণী সাধারণ কেউ নাহ, তবে কে এই হরিণী.?
এবার আমার সত্যি সত্যি ভয় হতে শুরু করে, কি করবো আমি.?
আমি কি তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাচ্ছি.?
আমি কি আমার লক্ষ থেকে সরে যাচ্ছি.?
এখন কি করা উচিৎ আমার.?
কাল রাতে যা ভেবেছি সেটাই করবো নাকী সবকিছু ছেড়ে আমি পালিয়ে যাবো.?
নাহ! নাহ! আরিয়ান! তুমি তোহ খুব বুদ্ধিমান, সবসময় বুঝে শুনে কাজ করো। তুমি এমন ভুল কিভাবে করলে.?
আর ভুল যেহেতু করেই-ছো এটার সমাধানও তোমাকেই করতে হবে।
এভাবে হাত পা গুটিয়ে পালিয়ে গেলে হবে নাহ।
এই হরিণীর আসল৷ রহস্য তোমাকেই খুঁজে বের করতে হবে।
হরিণী আর রিশা তোহ জমজ ছিলো তাহলে দুইজন আলাদা আলাদা হলো কিভাবে.?
হরিণী বিষে বিষাক্ত আর রিশা হাসি খুশি প্রানবন্ত।
নাহ! নাহ! মাথা ঠান্ডা করে যা করার করতে হবে। একদমই ওভার থিংকিং করা যাবে নাহ।
এই মুহুর্তে আমি কি করবো কিছুই বুঝতে উঠতে পারছিলাম নাহ ঠিক তখনই অচেনা কোনো এক নাম্বার থেকে আমার ফোনে কল আসে!
কলটি রিসিভ করতেই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে৷ বলে উঠে.....
"কি! বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে কেমন লাগছে.?"
"কে! কে আপনি??"
"যাকে এতদিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাকেই চিনতে পারছেন নাহ.?"
"সরদার.?"
"হ্যাঁ! একদম ঠিক ধরেছেন! আমি সরদার! এই সবকিছুর মাস্টার মাইন্ড। আপনারা সবাই নিজেদের অজান্তেই আমার পরিচালিত খেলার এক একটি অংশ হবে উঠেছেন। এখন তোহ এই খেলার নিয়ম অনুযায়ী আপনাদের সবাই এর মাশুল দিতে হবে।"
"মাশুল মানে.? কোন মাশুল.? কিসের মাশুলের কথা বলছেন আপনি.? আর কে আপনি.? আপনার আসল পরিচয় কি.? যদি সৎ সাহস থাকে তোহ সামনে আসুন! এমন কাপুরুষের মতো লুকিয়ে চুরিয়ে খেলা খেলছেন কেনো.?"
"আস্তে! আস্তে! আস্তে কথা বলুন আরিয়ান সাহেব!সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন। আর মনে রাখবেন সরদার কোনো কাপুরষ নয়, সরদার এক সরদারের সমতূল্য অন্য কেউ নাহ, আমি আমার মতো আমার মতো কাউকে পাবেন নাহ!"
"আপনার মতো দ্বিতীয় কাউকে লাগবে নাহ আপাতত আপনাকে সামনে পেলেই হতো!"
"কি করবেন.? মারবেন আমাকে.? হা!হা!হা! আপনি ভুল জায়গায় ভুল পদক্ষেপ নিচ্ছেন সাব! সাপের লেজে পা দিয়েছেন ছোবল তোহ আপনাকে খেতেই হবে।"
"সাহস থাকলে সামনে আসুন দেখি কে কাকে ছোবল দেয়!"
"ধৈর্য ধরুন সাব! দেখা তোহ আমাদের অবশ্যই হবে। যাকগে আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন...!"
"কি কথা.?"
"আপনার কাছে যে মেয়েটি আছে ওকে আমার হাতে তুলে দিন!"
"যদি নাহ দি.?"
"নাহ দিলে আর কি করবো! কিন্তু মনে রাখবেন ওই মেয়েকে নাহ দিলে আপনারই বিপদ কারণ ও কোনো সাধারণ মেয়ে নাহ, ও জলজ্যান্ত বিনাশ ও একটা ধ্বংসস্তূপ। ও যেখানেই থাকবে সেখাই ওর তান্ডব লীলা চালিয়ে যাবে"
"মানে.? কি বলছেন এসব.?"
"হ্যাঁ! আমি একদম ঠিকই বলছি! ও কোনো সাধারণ মানুষ নাহ! ও একজন পরী!"
"পরী মানে.? কিসের পরী.?"
"ও ইফরিত জ্বিনের সন্তান! ওর উপর ইফরিতের ক্ষোভ আছে। ও যেখানে যার কাছেই থাকবে তাকেই ধ্বংস করে দিবে, ঠিক যেমন আপনাকে ধ্বংস করা শুরু করেছে! হা!হা!হা!"
"কি সব বাজে বকছেন আপনি! তাছাড়া ওর বিষয়ে কতটুকু জানেন আপনি.?"
"ওর বিষয়ে সব কিছু জানি আমি!"
"ওর বিষয়ে আপনি কি এমন জানেন যেটা আমি জানি নাহ.?"
"ওর বিষয়ে সবকিছু জানতে চান আপনি.?"
"অবশ্যই জানতে চাই! আমিও জানতে চাই আপনি ওর বিষয়ে কি এমন জানেন যেটা আমি জানি নাহ"
"তাহলে শুনুন, ওর মাকে ইফরিতের কাছে উৎসর্গ করা হয়েছিলো। যাতে রোকসানার গর্ভে ইফরিত নিজের বংশ বিস্তার করতে পারে। আর হরিণী হচ্ছে ইফরিতেরই সন্তান। ও চাইলে সবাইকে ধ্বংস করে দিতে পারে এমনকি আপনাকেও!"
"কিন্তু! রোকসানা আন্টির তোহ জমজ সন্তান হয়েছিলো.? তাহলে একজনই কেনো ইফরিতের ক্ষোভের শিকার হলো.?"
"হরিণীর শুধুমাত্র ইফরিতের বংশধর কারণ ও মাতৃগর্ভ থেকে নাভি ছাড়াই জন্মায় আর ওর জমজ বোন জন্মের সময় মায়ের নাভির সাথেই জন্মায় কারণ রোকসানার বিয়ের পর একদিন ওর স্বামীর সাথে সহবাস করেছিলো। একদিকে ইফরিত আরেক দিকে ওর স্বামী সহবাস, দুইটারই প্রভাবে ওর জমজ সন্তান জন্মায়। কিন্তু আশ্চর্য করা বিষয় হলো রোকসানার দ্বিতীয় সন্তানের শরীরে মানুষের রক্ত বহন করলেও সেই সন্তানের উপরও ইফরিতের নজর পরে যার ফলে ওই সন্তানও ইফরিতের সন্তানের সাথে ১ মাসের মধ্যেই শরীরের পরিপূর্ণ অংশ নিয়েই জন্মায়।"
"সবকিছু বুঝলাম, আপনি তাহলে হরিণী আর রিশার পিছনে পরে আছেন কেনো.? এতে আপনার লাভ কি.?"
"সবকিছু যদি ফোনেই বলে দি তাহলে তোহ আমাদের দেখা হওয়ার কোনো উপায়ই রইলো নাহ, হা!হা!হা! তবে মনে রাখবেন একটা কথা, বদলে গেছে দুনিয়া বদলে গেছে কাহিনি,
ইতিহাসে আবারও নতুন করে লিখা হবে আপনাদের কাহিনি যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে লিখা হবে ❝আবারও কোনো জ্বিনের সন্তান মানুষের প্রেমে পরেছে❞ হ্যাঁ! আপনি একদম ঠিকই ধরেছেন, একজন পরী আপনার প্রেমে পরেছে। এজন্যই তোহ আপনাকে কষ্ট পেতে দেখে সেও কষ্ট উপলব্ধি করেছে। প্রতিশোধের আগুনে ছটফট করতে করতে আপনাকে আঘাত দেওয়া মানুষটাকেই মেরে ফেললো! হা!হা!হা! এখন নাহয় ভালোবাসার জন্য তান্ডব করছে যখন সবকিছু ধ্বংস করার জন্য তান্ডব করবে তখন সামলাতে পারবেন তোহ.?"
এই বলে সরদার কল কেটে দিলো। এতক্ষণে আমার কাছে সবকিছু ক্লিয়ার হলো। প্রথম দিন থেকে তাহলে সরদার এবং ওর লোকই আমাদের পিছু করছিলো। আর আমার সন্দেহই ঠিক ছিলো হরিণী কোনো সাধারণ মানুষ নাহ।
সবকিছু যেহেতু আমিই গোলমেলে করেছি এবার আমিই সবকিছু ঠিক করবো।
সবকিছু ক্লিয়ার হলেও কেনো জানি নাহ রহস্য আমার পিছু ছাড়ছিলোই নাহ, আমি যেনো রহস্যের বেড়াজালে আবারও আটকে গেলাম।
কি করবো ভাবছিলাম তখনই হরিণী দোতলা থেকে তড়িঘড়ি করে নেমে এসে বলে....
"আরিয়ান! এই দেখো আমি এঁকেছি.?"
হরিণীর হাত থেকে খাতাটা নিয়ে দেখি এটাতে অরিনের ছবি এঁকেছে।
অরিনের ছবি দেখেই আমার মনে পরলো অরিনকে সবকিছু খুলে বলতেে হবে। এই মুহুর্তে একমাত্র অরিনই আছে যে কিনা আমাকে সাহায্য করতে পারে।
আমি বাইরে হবো তখনই দরজার সামনে এসে অরিন হাজির! অরিনকে দেখে আমি পুরো চমকে গেলাম, মনে মনে নিজেকে অপরাধী বোধে কুঁকড়ে মরছিলাম। অরিন তোহ এতদিন জানতো হরিণী ওর মায়ের কুটিরেই থাকি কিন্তু আজ আমাকে আর হরিণীকে একসাথে এই ফার্ম হাউসে দেখে অরিন নির্বাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো আমিও নির্বাক হয়ে অরিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কি বা করার আছে এই মুহুর্তে আমার.?
"কতদিন ধরে একসাথে থাকছো তোমরা.?"
"অ-অরিন! আমা-আমার কথাটা শুনো.!"
"আমি জিজ্ঞেস করেছি কতদিন ধরে তোমরা একসাথে থাকছো.??"
"ওইদিন হরিণীকে ওর মায়ের কুটিরে রেখে আসার পরদিন সকালেই ও এখানে চলে এসেছিলো তাই আর...."
"ব্যস! আর বলতে হবে নাহ! কেনো ঠকালে আমায়.? কি কমতি ছিলো আমার ভালোবাসায়.? এজন্যই সবাই বলে বিশ্বাস ভালো কিন্তু অন্ধবিশ্বাস ভালো নাহ! আজ এটা রিয়েলাইজড করলাম আসলেই কারো ভালোবাসায় এতটাও অন্ধ হওয়া উচিৎ নাহ। আ-আরিয়ান আমা-আমার মনে হচ্ছে কি আমা-দের এই সম্পর্কটা আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে নাহ! আমাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ, ভালো থেকো..!"
এই বলে অরিন কাঁদতে কাঁদতে ফার্ম হাউস থেকে বেরিয়ে গেলো। আমিও ওর পিছু পিছু চলে গেলাম।
হরিণীকে দেখলাম, এক নিশ্চুপ দর্শক হয়ে সবকিছু দেখছিলো যেনো সে কিছুই জানে নাহ।
১ ঘন্টা পর.......
ফার্ম হাউসে এসেই প্রথমে হরিণীকে খোঁজ করলাম। হরিণী ওর রুমেই ঘুমচ্ছিল, আমি আলতো করে ওর কপালে একটা চুমু দিতেই হরিণী ঘুম থেকে উঠে পরলো...
"কি হলো হরিণী! ঘুম ভেঙ্গে গেলো!"
"হ্যাঁ!"
"আচ্ছা হরিণী একটা প্রশ্ন করবো.?"
"হ্যাঁ করো!"
"আমাকে ভালোবাসো.?"
"হ্যাঁ অনেক!"
"আমার জন্য নিজেকে শিকলে আটাতে পারবে.?"
"তুমি বললে আমি মরতেও পারি"
"মরতে হবে নাহ, নিজেকে শিকলে আটকে দেখাও পারলে"
এই বলে হরিণীর সামনে শিকল আর তালা চাবি বের করলাম। মেয়েটা আমাকে এতটাই ভালোবাসে যে আমার এক কথায় নিজের হাতেই নিজেকে শিকল বন্দী করে নিয়েছে।
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ থাকার পর হরিণী আমাকে কিছু প্রশ্ন করলো.....
"কি হয়েছে.? ও-ওই মেয়েটা তোমার সাথে এমন করলো কেনো.?"
"হরিণী! তুমি জানো,৷ অরিনের সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছিলো কিন্তু তোমার সাথে ওইদিন একটা দূর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার কারণে আমি ওর সামনে যেতে পারছিলাম নাহ আর আজ ও তোমাকে আর আমাকে একসাথে এখানে দেখার পর আমাদের বিয়েটা ভেঙ্গে দিয়েছে।"
"তোমার সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিলো.? তুমি আমাকে বলোনি কেনো.?"
"হরিণী! তুমি বুঝতে পারছো তোমার জন্য কি হয়েছে.? তোমার জন্য আমাদের ৩জনের জীবনটাই এলোমেলো হয়ে গেলো! তোমার জন্য অরিন অনেক কষ্ট পেয়েছে, আর অরিন কষ্ট পাওয়ার কারণে আমিও কষ্ট পেয়েছি!"
আমার কথা শেষ হতেই হরিণী আমার হাতটা টান দিয়ে ওর পেটের উপর রাখে...
"শুনতে পাচ্ছো! আমাদের সন্তানের হৃদপিণ্ড শব্দ করছে!"
"কি বলছো এগুলো!"
"হ্যাঁ আরিয়ান! এটাই সত্যি, আমার গর্ভে তোমার আর আমার ভালোবাসার চিহ্ন বেড়ে উঠছে!"
হরিণীর কথাটুকু শেষ হতেই আমার পিছন থেকে ২জন লোক বেরিয়ে আসে, ওদের দেখে হরিণী ভয়ে ছটফট করতে করতে বলে...
"আরিয়ান! এরাই ওই লোক যারা সেদিন রাতে আমাকে ধরার জন্য মায়ের কুটিরে গিয়েছিলো কিন্তু আমি নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে তোমার কাছে চলে এসেছিলাম। এদের আবার কেনো এখানে ডেকেছো! ওদের তাড়িয়ে দাও ওরা পঁচা লোক!"
আমি হরিণীর কথার কোনো প্রতুত্তর নাহ করে লোকগুলোকে বললাম...
"এবার তোমাদের যা করার করতে পারো, আমাকে কেউ খুঁজবে নাহ!"
১ ঘন্টা আগে...
অরিন যখন কাঁদতে কাঁদতে ফার্ম হাউস থেকে বেরিয়ে তখন আমিও ওর পিছু পিছু চলে যাই, ওকে অনেক বুঝানোর পরও ও আমাদের সম্পর্কটা ভেঙ্গে দিয়ে চলে যায়।
তখন আমার মাথায় একটা কথাই ভাসতে থাকে, হরিণী এবং ইফরিতের ক্ষোভ।
চলে যাই একটা কম্পিউটার শপে, ওখানে গিয়ে ইফরিত সম্পর্কিত যত তথ্য ছিলো সবকিছু কালেক্ট করি!
"পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী, ভয়ংকর ও গতিশীল জ্বিনদের মধ্যে ইফরিত অন্যতম। এরা অন্যান্য জ্বিনদের তুলনায় অনেক দ্রুত গতিতে চলাচল করতে পারে। এরা সবসময় মানুষের আশেপাশেই থাকে এবং মানুষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মানুষের গর্ভে নিজের বংশ বিস্তার করে। এদের একটাই লক্ষ মনুষ্য সমাজে নিজের বংশ বিস্তার করে মানুষের ক্ষতি করা। এদের শরীরের গঠন কিছুটা মানুষের মতো হলেও এদের পা দু'টো ঘোড়ার পায়ের মতো এবং মাথায় দুইটা গরুর শিং এর মতো শিং থাকে। যদিও এদের দেখা যায় নাহ কিন্তু এদের অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। ইফরিতের সবচেয়ে কাছের ও বিশ্বস্ত জ্বিন বা অশুভ শক্তি হলো কালো পরী! এদের আমরা প্রেতাত্মা বা খারাপ জ্বিন অথবা বদ জ্বিন নামে চিনে থাকি। যেমন কিছু কিছু মানুষ যারা আত্মহত্যা করে থাকে তাদেরকে ইফরিত জ্বিনের গোলাম বা দাস বলা যায় তাছাড়া যে সকল মানুষের আত্মার উপর কোনো অভিশাপ থেকে থাকা তারাও ইফরিতের খুব কাছের। এই কালো পরীদের মাধ্যমে ইফরিতের বংশধর'রা কোথায় থাকতে পারে সেটা খুঁজে বের করা সম্ভব।
যদি কোনো মানুষের গর্ভে ইফরিত নিজের বংশ বিস্তার করতে সক্ষম হয় তাহলে এটার কিছু সিনটম'স হলো, সেই বাচ্চাগুলো অন্যান্য সাধারণ মানুষের বাচ্চার মতো মাতৃগর্ভ থেকে নাভি নিয়ে জন্মায় নাহ এই বাচ্চাগুলো নাভি কট ছাড়াই জন্মায়। তাছাড়া ওই বাচ্চাগুলো ১ মাসের মধ্যে জন্মাতে সক্ষম হয় যেখানে সাধারণ মানুষের বাচ্চা ৯ মাসের আগে জন্মানো পসিবল নাহ। এরা অনেক ভীরু হয়ে থাকে, এরা পবিত্র কোনো শব্দ সহ্য করতে পারে নাহ যেমন, আযান, কোরআন তিলাওয়াতসহ অন্যান্য দোয়া কালাম তাছাড়া এরা আগরবাতি এবং ধুপের ধোঁয়াও সহ্য করতে পারে নাহ। এই বাচ্চাগুলো জন্ম থেকেই নিজের শরীরে বিষ নিয়ে জন্মায়। এদের বয়স যত বাড়তে থাকে এদের শরীরে থাকা বিষের মাত্রাও বাড়তে থাকে। সময়ের সাথে সাথে এরা যদি প্রতি মাসে একবার করে হলেও কারো শরীরে নিজের শরীরের বিষ ত্যাগ নাহ করে তাহলে তারা নিজেদের বিষের কারণেই নিজেরা মারা যেতে পারে।"
সবকিছু রিসার্চ করার পর আমার মাথায় একটাই চিন্তা আসছিলো সেটা হলো হরিণীকে সরদারের হাতে তুলে দেওয়া এবং আমি সেটাই করি।
হরিণীকে সরদারের হাতে তুলে দিয়ে আমি ভুজঙ্গপুর গ্রাম থেকে আবারও শহরে ফিরে যাই।
শহরে পৌঁছে সর্বপ্রথম আমি সেই রিপোর্ট চ্যানেলের ওনার এবং ম্যানেজারের সাথে সাক্ষাৎ করি।
তাদের দেওয়া অ্যাডভান্সের টাকাগুলো তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়ে জানাই যে এই জবটা আমি করতে পারবো নাহ, তারা যেনো নতুন আমাকে ডিসকোয়ালিফাই করে নতুন কোনো রিপোর্টার নিয়োগ করেন।
উপর থেকে নিজেকে স্ট্রং রেখে সবকিছু সামলে নিয়ে আমি আবারও শহরে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে চলে গিয়ে নিজেকে ঘর বন্দী করে রাখি।