পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১৬

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৬ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১৬

উপর থেকে নিজেকে স্ট্রং রেখে সবকিছু সামলে নিয়ে আমি আবারও শহরে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে চলে গিয়ে নিজেকে ঘর বন্দী করে রাখি।

নিজের রুমে এসে রাশেদ আঙ্কেকে কল করি, কল রিসিভ করে রাশেদ আঙ্কেল বললেন...

"হ্যালো! হ্যাঁ আরিয়ান বলো.?"

"আঙ্কেল! রিশার আত্মা মুক্তি পেয়ে গেছে আপনি আর কোনো চিন্তা করবেন নাহ!"

"কি.? সত্যি! তুমি এখন কোথায় আছো, তোমার সাথে একবার দেখা করা যাবে.?"

"আঙ্কেল আমি শহরে ফিরে এসেছি, এই মুহুর্তে আমি কারো সাথে দেখা করতে চাই নাহ, প্লিজ আমাকে কেউ ডিসটার্ব করবেন নাহ!"

এই বলে কল কেটে দি, এরপর রাশেদ আঙ্কেল আমাকে বার বার কল করতে থাকে কিন্তু আমি কল রিসিভ করি নাহ। এক পর্যায়ে ফোন সুইচ অফ করে রাখি।

২১ দিন পর.........

"আরিয়ান! আরিয়ান! দরজা খুলো.?"

এক আকাশ পরিমাণ অপরাধীবোধ নিয়ে দরজা খুলে দেখি দরজার বাইরে অরিন দাঁড়িয়ে আছে....

"অ-অরিন! তুমি.? তুমি এখানে কি করছো.?"

"আমি এখানে কি করছি.? তার আগে বলো তুমি এসব কি শুরু করেছো.? কাউকে কিছু নাহ জানিয়ে এখানে নিজেকে বন্দী করে রাখার মানে কি.? নিজের হাল দেখেছো.? কি হাল করেছো নিজের, চুল দাঁড়ি দিয়ে নিজেকে পাগল সাজিয়ে রেখেছো.! তোমার জন্য সবাই আমাকে দোষারোপ করছে! সবাই বলছে, তোমার সাথে বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার কারণে নাকী তুমি কাউকে কিছু নাহ জানিয়ে এখানে চলে এসেছো। তাও তোহ জানতে পারতাম নাহ তুমি এখানে আছো যদি নাহ রাশেদ আঙ্কেল কল নাহ করতো!"

"অরিন! তেমন কিছু নাহ, তুমি চলে যেতে পারো।"

"আমি চলে যেতে পারি মানে.? তুমি কত বড় ব্লান্ডার করেছো তুমি বুঝতে পারছো.? তোমার জন্য উঠতে বসতে আমাকে কথা শুনতে হচ্ছে.! সবার ধারণা তুমি কিচ্ছু করোনি আমিই নাকী তোমাকে ভুল বুঝেছি! কিন্তু আমি তোহ কাউকে বলতে পারছি নাহ আমি কেনো তোমার সাথে সব সম্পর্ক শেষ করেছি।"

"অরিন প্লিজ.?"

"আরিয়ান! প্লিজ আমাকে সব সত্যি সত্যি বলো! বলে দাও যে হরিণীর সাথে তোোমার কোনো সম্পর্ক নেই!"

"অরিন! উফফ! তুমি শুনতে চাও সব সত্যি.?"

"কি হয়েছে আরিয়ান.? এমন করছো কেনো.? বলো নাহ! কি হয়েছে.? দেখো আমিও কিন্তু তোমাকে ছেড়ে ভালো নেই, তুমি শুধু একবার বলো হরিণীর সাথে তোমার সম্পর্ক নেই, আমরা আবারও আগের মতো আমাদের জীবন শুরু করবো"

"অরিন! তুমি সত্যিটা শুনলে সহ্য করতে পারবে নাহ!"

"তুমি বলেই দেখো নাহ! তোমার জন্য আমি বিষও হজম করতে পারবো!"

"হরিণীর গর্ভে আমার সন্তান বড় হচ্ছে!"

"নাহ! আরিয়ান! এসব সত্যি নাহ, তুমি মজা করছো তাই নাহ.?"

"আমি মজা করছি নাহ অরিন! এগুলো সব সত্যি! কিন্তু বিশ্বাস করো হরিণী যখন ফার্ম হাউসে এসেছিলো তখন থেকে আমি ওর সাথে একদম নরমাল বিহেভ করেছিলাম কিন্তু ওইদিন কি হলো নিজেও জানি নাহ, নিজের অজান্তেই হরিণীর সাথে ফিজিক্যাল হয়ে যাই। বিশ্বাস করো ওর সাথে মাত্র একদিনই আমার এমন দূর্ঘটনা ঘটেছিলো আর তুমি যেদিন আমাকে ভুল বুঝে চলে গেলে ওইদিন তুমি চলে যাওয়ার পরই জানতে পারি হরিণী প্রেগন্যান্ট! কিন্তু চিন্তা করো নাহ, আমি হরিণীকে সরদারের হাতে তুলে দিয়েছি। হরিণী আর আমাদের মাঝে আসতে পারবে নাহ। আর তুমি জানো, হরিণী কোনো সাধারণ মানুষের সন্তান নাহ ও হচ্ছে ইফরিত জ্বিনের সন্তান। ও শুধু ধ্বংস করতে জানে। তাই আমি ওকে...."

আমার কথা শেষ করার আগেই অরিন আমার গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে বলে....

"আমি জানতাম তুমি একজন বুদ্ধিমান ছেলে! কিন্তু তুমি যে এতটা বোকা আগে জানতাম নাহ.! হ্যাঁ! মানলাম হরিণী আমার আর তোমার মাঝে চলে এসেছিলো, ওর পেটে তোমার বাচ্চা বড় হচ্ছে কিন্তু তাই বলে তুমি ওকে সরদারের হাতে তুলে দিবে.? তুমি বুঝতে পারছো কি করেছো তুমি.? সরদারই তোহ রিশা আপুর আত্মাকে নিজের বশে করে রেখেছে আবার রোকসানা আন্টির পিছনেও পরে ছিলো, ওর একটাই উদ্দেশ্য ছিলো সেটা হলো রোকসানা আন্টির সন্তানকে খুঁজে পাওয়া আর তুমি ওকে সেই উদ্দেশ্যে সফল হতে সাহায্য করলে.? আরিয়ান! তুমি এটা কি করলে.?"

"অরিন! আমার মাথা কাজ করছিলো নাহ! আমি তখন ঠিক ভুল বিচার করতে পারিনি!"

"আরিয়ান! মেয়েটা প্রেগন্যান্ট! তুমি জানো আমি কোনোদিন প্রেগন্যান্ট হতে পারবো নাহ, আরিয়ান! তোমার কাছে একটা অনুরোধ, তুমি মেয়েটা বাঁচাও! হরিণীর সাথে তোমাকে সংসার করতে হবে নাহ, তুমি ওর বাচ্চাটাকে নাহয় আমাকে দিয়ে দিও, আমি, তুমি আর হরিণীর বাচ্চা আমাদের তিনজনের একটা ছোট্ট সংসার সাজিয়ে নিবো আমরা!"

"তুমি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে নাহ মানে.?"

"এই আমার জীবনের কালো অধ্যায়! আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে অন্ধকার মুহুর্তের সাক্ষী!"

"মানে.?"

"শুনো তাহলে, আজ তোমাকে সবটা বলবো..!"

"বলো...?"

"তখন সবেমাত্র কলেজে উঠেছিলাম, দিনগুলো কত রঙিন মনে হতো। উফফ! কত হাসিখুশি ছিলাম, ছোট থেকেই আমি অনেক চঞ্চল প্রকৃতির ছিলাম, এক কথায় ডানপিটে ছিলাম, কারো গাছের ফল, কারো পুকুরের মাছ, কোনো বাগানের ফুল আমার জন্য আস্ত থাকতো নাহ।

একদিন....

"অরিন! ওই অরিন! কিরে যাবি নাহ.? উঠ.? অরিন! এই অরিন!"

"কে! এখন ঘুমচ্ছি! ডিসটার্ব করিস নাহ! যাহ তোহ! পরে কথা বলবো.?"

"আরে! আমি সিনথিয়া!"

"সিনথিয়া! তুই.? কয়টা বাজে এখন.? এখানে কি করছিস.?"

"তুই কি ভুলে গিয়েছিস.? আজ তোহ আমাদের ফুল চুরি করার হেড মিশন! চল! চল! তাড়াতাড়ি চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

বেরিয়ে পরলাম সিনথিয়ার সাথে ফুল চুরি করতে।

হাঁটছি তোহ হাঁটছি, কিন্তু আমাদের নজরে কিছুতেই সেই বাগানটি পরছে নাহ যেটা আমি আর সিনথিয়া সকালে টার্গেট করে গিয়েছিলাম।

চারিদিকে অন্ধকার আর অন্ধকার, কিছুও ভালো মতো ঠাওর করতে পারছিলাম নাহ, এমনকি আমরা একে অপরেকেও দেখতে পারছিলাম নাহ! হঠাৎ করে সিনথিয়া আমার ডান হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে...

"আমার সাথে আয়! বাগান দেখে ফেলেছি! ওইযে দেখেছিস.?"

"কই.? আমি তোহ দেখতে পারছি নাহ.?"

"চুপচাপ আমার সাথে চল! আমি দেখেছি, আয় নিয়ে যাচ্ছি তোকে।"

"এই শোন নাহ! আমরা নাহয় আরেকদিন আসবো, এখন অনেক রাত মনে হচ্ছে, ঠিক মতো কিছুই দেখা যাচ্ছে নাহ, তার উপর আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে।"

"চুপ করবি! এত দূর চলে এসেছি এখন ফুল নাহ নিয়ে তোকে যেতে দিবো নাহ!"

আমাকে টানতে টানতে এক পর্যায়ে সিনথিয়া একটা বাগানে নিয়ে এলো।

"কিরে.? এটা তোহ সেই বাগানটা মনে হচ্ছে নাহ যেটা সকালে দেখেছিলাম.?"

"হ্যাঁ! তাই হবে, কিন্তু এখন যে বাগানে এসেছে এটা থেকেই ফুল নিতে হবে"

এই বলে সিনথিয়া আমার হাতটা ছেড়ে দিয়ে অট্টহাসি দিয়ে পিছতে লাগলো। এবার কেনো জানি নাহ আমার ভয় পেতে শুরু করলো।

এত রাতে আমি একা মানুষ, এ কোথায় এসে পৌছলাম.?

তাছাড়া সিনথিয়া এমন করছে কেনো.?

কিছুটা সাহস নিয়ে সিনথিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম...

"ত-তুই আ-মা-আমার সাথে মজা করছিস নারে.? দেখ! আমি কিন্তু ভয় পাই নাহ তুই ভালো করেই জানিস.!"

এবার যেনো সিনথিয়ার হাসি আরো বাড়তে শুরু করে, ওর শরীর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হতে লাগলো।

এবার আমি নিশ্চিত, আমার সাথে খুব বাজে কিছুু হতে চলেছে।

এদিক সেদিক নাহ ভাবে পিছন ঘুরে দিলাম এক দৌড়, আমি যত দৌড়াই সিনথিয়ার হাসি ততই বাড়তে থাকে। আমার মনে হচ্ছে সিনথিয়ার হাসির শব্দটা উপর থেকে আসছিলো তাই উপরে তাকিয়ে দেখি, এটা সিনথিয়া নাহ, এটা তোহ কোনো পঁচা গলা লাশ যা ভাসমান অবস্থায় আমার পিছনে ছুটছে।

আজকে তার মানে আমি শেষ! এখান থেকে একবার বেঁচে ফিরলে আর জীবনেও চুরি করার কথা মাথায় আনবো নাহ!

দৌড়াতে দৌড়াতে আমি প্রায় ক্লান্ত, আর ছুটতে পারছি নাহ। এবার আমি ওর কাছে হেরে যাবো হয়তো, আজ হয়তো আমি এখানেই মারা যাবো।

আর কোনো আশা ভরসা কিছুই নেই।

ক্লান্ত হয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পরলাম, লাশটাও হাসতে হাসতে আমার সামনে এসে থামলো আমার দিকে ওর পঁচা গলা হাতরা বাড়িতে দিলো।

আমাকে ধরতে যাবে তখনই কানে ফজরের আযান ভেসে আসে। আর ওই লাশটা কিছু একটা বলে চলে গেলো...

"আজ বেঁচে গেলি, কিন্তু কতদিন আমার হাত থেকে পালিয়ে বাঁচবি, একদিন নাহ একদিন তুই আমার হবিই!"

আমিও ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম, শরীরে বিন্দু মাত্র শক্তি পাচ্ছিলাম নাহ উঠে দাঁড়ানোর মতো।

ধুকতে ধুকতে এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যাই....

যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখি আমি ওই এলাকারই একটা মাদ্রাসার রুমে শুয়ে আছি!

"আ-আমি এখানে এলাম কিভাবে.? কে নিয়ে এসেছে আমাকে এখানে.?"

কিন্তু আমার আশেপাশে কাউকেই দেখতে পেলাম নাহ, মনে মনে অনেক ভয় পেয়ে ছিলাম তারপরও সাহস যুগিয়ে কাউকে উদ্দেশ্য করে বললাম....

"কেউ আছেন.? আমাকে এখানে কে নিয়ে এসেছেন.?"

তখন বাইরে থেকে একটা মধ্য বয়ষ্ক মহিলা ছুটে এলেন আমার কাছে...

"জ্ঞান ফিরে এসেছে তোমার! কি হয়েছিলো তোমার.? তুমি ওই কবরস্থানে কেনো এসেছিলে.?"

"ক-কোন কবরস্থানের কথা বলছেন আপনি.?"

"ওই তোহ আমাদের এই মাদ্রাসার পাশে যে কবরস্থানটা আছে সেখানেই তোহ তুমি অজ্ঞান হয়ে পরে ছিলে, ফজরের নামাজ পড়ার জন্য যখন এই মাদ্রাসার ছেলেপেলেরা অযু করতে পুকুরপাড়ে যায় তখন দূর থেকে তোমাকে পরে থাকতে দেখে আমাদের জানায় তারপর আমরা গিয়ে তোমাকে ধরাধরি করে এখানে নিয়ে আসি, তা মেয়ে! কেনো গিয়েছিলো গোহ ওখানে.? তুমি জানো নাহ ওই জায়গাটা ভালো নাহ, ওখানে কত লোকে কত কিছু দেখেছে, অনেকে তোহ নিজের প্রাণও হারিয়েছে ওই কবরস্থানে।"

মহিলার মুখে এসব শুনে আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, তার মানে সারারাত আমি কবরস্থানে কাটিয়েছি। আমাকে যে সিনথিয়া আমার বাসা থেকে ডেকে আনলো.? এগুলো কি তাহলে সবটাই আমার মনের ভুল.?

"কিগো মেয়ে! কি ভাবছো.? আচ্ছা তোমার নাম কি.? কোত্থেকে এসছো তুমি.?"

"জ্বি! কিছু বললেন.?"

"হ্যাঁ গো! তোমার নাম কি.?"

"আমার নাম অরিন"

"থাকো কোথায় তুমি.?"

"এই তোহ গার্লস স্কুলের পিছনেই আমাদের বাড়ি, ডা. আল ফয়সালের ভাতিজি আমি!"

"কোন আল ফয়সাল.? ওইযে হাড়ের ডাক্তার.? যে অপারেশন করে ওই ডাক্তার..?"

"হ্যাঁ! হ্যাঁ! আপনি একদম ঠিক ধরেছেন, উনিই আমার চাচ্চু"

"সে নাহয় বুঝলাম, তা এখানে কেনো এসছিলে তা তোহ বললে নাহ মেয়ে.?"

"কাল রাতে আমি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম তখন আমার বান্ধবীর মতো দেখতে কেউ একজন আমাকে এখানে নিয়ে এসেছিলো"

"তোমার ভাগ্যের জোড় আছে গো মেয়ে! তুইই প্রথম ব্যক্তি যে কিনা এখানে এসেও জীবন নিয়ে ফিরে যাচ্ছো! তবে সাবধানে থেকো বিপদ কিন্তু এখনো তোমার পিছু ছাড়েনি!"

"মানে.? কিসের বিপদ.?"

"তার নজর পরেছে তোমার উপর, সাবধানে থেকো তুমি!"

"তার মানে.? কার কথা বলছেন আপনি.?"

"সময় হলেই জানতে পারবে গো! এখন চলো আমাদের সাথে নাস্তা করে নাও। তাছাড়া তোমার বাড়ির লোকেরাও তোহ তোমার জন্য চিন্তা করছে হয়তো। বাড়ি যেতে হবে তোহ তোমাকে!"

"হ্যাঁ! হ্যাঁ! আমাকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ! আরেক দিন এসে আপনাদের সাথে নাস্তা করবো এখন যাই আমি।"

"ওও মেয়ে! নাস্তা করে যাওওওও!"

"আরেক দিন আসবো গো কাকিমা!"

মাদ্রাসার সেই মহিলাকে বিদায় জানিয়ে ছুটে বাড়ির দিকে চলে যাই। পুরোটা রাস্তা মনে হয়েছে কেউ আমার পিছনে পিছনে ছুটে আসছে। ভয় আর আতঙ্কে চুপসে গেছিলাম আমি। গতরাতে যে আমার সাথে এমনটা হয়েছে আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি নাহ, এমন একটা কারো রাত আমার জীবনে এসেছিলোই বা কেনো।

আর সবচেয়ে সন্দেহজনক লাগলো মাদ্রাসার সেই কাকিমার কথাগুলো। উনি কেনো এসব বললো, কার নজর পরেছে আমার উপর.?

"এতটুকু বলে অরিন একটু নিঃশ্বাস ছাড়ে"

"কি হলো.? তারপর..?"

"ওইদিনের পর থেকেই আমার জীবনে নেমে আসে কালো আধার"

"মানে.?"

"বলছি! আমিও তোমমার মতো একটা ভুল করেছিলাম.!"

"কেমন ভুল করেছো তুমি.?"

"একই ভুল যেমনটা তুমি হরিণীর সাথে করেছো!"

"মানে কি এসবের.?"

"আগে কথা দাও তুমি আমাকে ভুল বুঝবে নাহ!!"

"আচ্ছা কথা দিলাম ভুল বুঝবো নাহ, এবার বলো আসল সত্যি কি.?"

----------------

ওইদিন মাদ্রাসা থেকে সোজা বাড়ি চলে যাই, বাসায় যাওয়ার পর থেকেই আমার শরীরটা খারাপ করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর পর শুধু বমি করছিলাম, হুট করে শরীরে ধুম জ্বর উঠে যায়।

টানা ৭দিন বিছানা থেকে উঠতে পারিনি জ্বরের তাপে। সারাক্ষণ মনে হতো আমার আশেপাশে কেউ নাহ কেউ আছে, কেউ বোধহয় আমাকে দূর থেকে দেখছে। রাতে ঘুমতে গেলে মনে হতো কেউ আমার পাশে এসে শুয়ে পরেছে।

ব্যাপারটা আম্মু-আব্বুর কাছে শেয়ার করলে তারা তেমন গুরুত্ব দেয় নাহ। তাদের ভাষ্যমতে এগুলো নাকী আমার মনের ভুল, তাই আমিও ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবেই নিতে থাকি।

--------------

ওইদিনের ঘটনার আজ ১ মাস, তারপরও আমা ভিতরে ভয় কাজ করছে। সবসময় সেই রাতটা আমার চোখের সামনে ভাসতে থাকে, সেদিন ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছিলো।

তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম, মাঝপথে একটা আংটি কুড়িয়ে পাই। সেদিন আমার সাথে সিনথিয়া ছিলো, ১ মাস আগে আমার সাথে কি হয়েছিলো এই কথাটা সিনথিয়াসহ আমার পুরো ফ্যামিলির কাছে গোপন করেছিলাম। কারণ আমি শিওর আমার কথা কেউ বিশ্বাস করবে নাহ। সবাই বলবে এই যুগের মেয়ে হয়েও আমি এসব নিয়ে ভাবছি।

---------

"এক মিনিট! দাঁড়া!"

"আবার কি হলো.?"

"দেখ নাহ! সিন্থু! কত সুন্দর একটা আংটি!"

"কই! এএএ বাবা এটা তোর কাছে সুন্দর মনে হচ্ছে.?"

"হ্যাঁ! সুন্দরই তোহ."

"দেখে মনে হচ্ছে বহুকাল আগের আংটি আর তোর কাছে এটা নাকী সুন্দর! হা!হা!হা!"

"সর! হাসবি নাহ একদম"

আংটি'টা কুড়িয়ে হাতে নিলাম, হ্যাঁ! আংটি'টা বেশ পুরনো কিন্তু এটার প্রতি কেনো জানি নাহ আমার এক অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করছে!

"এই! এই! অরিন!"

"হ্যাঁ বলা.?"

"দেখ আংটির উপরে কিছু একটা লিখা আছে.?"

"কই দেখি.."

"হ্যাঁ! ভালো করে দেখ, দেখে তোহ মনে হচ্ছে "পালি" ভাষায় কিছু একটা লিখা"

"বন্ধন"

"কি! তুই পালি ভাষা বুঝলি কিভাবে.?"

"কি বলছিস.? আমি এটা পড়েছি নাকী.?

"হ্যাঁ! তুই এটা পড়েছিস আবার সুন্দর করে উচ্চারণও করেছিস"

"তোর হয়তো ভুল হয়েছে, আমি পালি ভাষা বুঝি নাহ!"

❝আসলেই তোহ আমি পালি বুঝি নাহ! তাহলে এই আংটিতে লিখা পালি ভাষা বুঝলাম কিভাবে.?❝

"কিরে অরিন! কোথায় হারিয়ে গেলি.? চল! চল! কলেজের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে.!"

"হ্যাঁ চল!"

❝আংটি'টা আমার আঙ্গুলে পড়ে কলেজে চলে গেলাম❞