পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১৪

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৪ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১৪

ইরিন আর অরিনের সাথে কথা বলছিলাম তখনই ফোনে আলতাফ সাহেবের কল....

ইরিন আর অরিনকে চুপ করিয়ে আলতাফ সাহেবের কল রিসিভ করতেই উপার থেকে আলতাফ সাহেব বলে উঠে....

"আসসালামু আলাইকুম সাব! আপনার সাথে কিছু দরকারী কথা ছিলো"

"ওয়া আলাইকুমুস সালাম! হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলুন কি বিষয়ে নিয়ে কথা বলবেন.?"

"রিশা ম্যাডামের বিষয়ে কথা বলতে চাই সাব!"

"রিশার বিষয়ে.? হ্যাঁ বলুন, কি বলবেন.?"

"সাব! ওইদিন আপনার সামনেই তোহ আমি রিশা ম্যাডামসহ বাকিদের জানাজা পড়িয়ে দাফন কাজ সম্পূর্ণ করলাম তারপরও রিশা ম্যাডাম কিভাবে ফিরে আসতে পারে সেটা নিয়ে আমি অনেক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলাম, ওইদিন আপনারা চলে আসার পর আমি আমার সহযোগী কিছু জ্বীনের মাধ্যমে জানতে পারি রিশা ম্যাডামকে কোনো খারাপ লোক কালোজাদুর মাধ্যমে নিজের আয়ত্তে নিয়ে গেছে। কিন্তু আপনি চিন্তা করবেন নাহ, আল্লাহ কালামের কাছে পৃথিবীর সকল খারাপ শক্তি হার মানতে বাধ্য। আমিও আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি রিশা ম্যাডামকে ওই খারাপ লোকের হাত থেকে মুক্তি করার এবং আমি সফলও হয়েছি। আপনাদের ভয়ের আর কোনো কারণ নেই, রিশা ম্যাডাম এখন থেকে মুক্তি। উনি এখন আর কারো কবলে আটকা পরে নেই। এখন থেকে উনি আপনাদের আর ভয় দেখাতে বা আক্রমণ করতে পারবে নাহ। আমি সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি।"

"যাক আলহামদুলিল্লাহ! আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিবো বলে বুঝাতে পারবো নাহ! আপনি আমাদের অনেক বড় উপকার করলেন। আমাদের চিন্তার একমাত্র কারণ ছিলো রিশার আত্মাকে কিভাবে মুক্তি করা যায় আর আজ আপনি রিশার আত্মার পাশাপাশি আমাদেরকেও সেই চিন্তা থেকে মুক্তি দিলেন"

"কি বলছেন সাব! মানুষ তোহ মানুষের জন্যই। আজকে আমি আপনাদের সাহায্য করলাম হয়তো কোনো একদিন আপনারও আমার সাহায্য করবেন। আমি আপনাদের সাহায্য করতে পেরে নিজেকে খুশি মনে করছি। কয়জন পারে লোকের সাহায্য করতে.?"

"সেটা ঠিকই বলেছেন! কয়জনই বা পারে অন্যের সাহায্য করতে"

"আচ্ছা তাহলে রাখি সাব! আপনাদের যেকোনো বিপদে আমি পাশে আছি। শুধুমাত্র একবার এই আলতাফ সাহেবকে মনে করবেন শত বিপদ উপেক্ষা করে হলেও আপনাদের সাহায্য করার চেষ্টা করবো।"

"ইনশাআল্লাহ! আমরাও আপনার পাশে আছি, আপনার কোনো প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমাদের স্মরণ করবেন"

"সে তোহ স্মরণ করবোই! খুব শীঘ্রই আমাদের আবার দেখা হবে"

এই বলে আলতাফ সাহেব কল কেটে দিলেন। আমি উনার কথার আগামাথা কিছুই বুঝলাম নাহ, হঠাৎ করে এই কথা বললো কেনো.?

আম্মুর কাছে শুনে ছিলাম উনি বিপদের আভাস আগেই থেকেই পান। তাহলে কি আমাদের উপর আবারও নতুন কোনো বিপদ আসতে চলেছে.?

নাহ! নাহ! কি ভাবছি এসব, আমাদের একমাত্র চিন্তার কারণ ছিলো রিশা আর আজ রিশাও মুক্তি পেয়ে গেছে তাহলে আবার কোন বিপদ আসবে.?

হয়তো উনি মজা করে এসব বললেন, কিন্তু! আজকের আগে কোনোদিন উনাকে মজা করতে দেখিনি..?

"কি হলো আরিয়ান.? আলতাফ সাহেব কি বললো..?

" হুম! কিছু বললে.?"

অরিন:- হ্যাঁ! জিজ্ঞেস করলাম আলতাফ সাহেব কি বললো.?

ইরিন:- আলতাফ সাহেব.? উনি আবার কে.?

আরিয়ান:- আমাদের গ্রামের বাড়ির মাওলানা সাহেব।

ইরিন:- ওহ্! তা কি বললেন উনি.?

আরিয়ান:- অরিন! উনি বললেন যে, রিশার আত্মা নাকী এখন সম্পূর্ণ ভাবে মুক্তি পেয়ে গেছে। আমাদের এসব নিয়ে আরর চিন্তা করতে মানা করলেন।

অরিন:- কি! সত্যি.? আলহামদুলিল্লাহ! আমি অনেক খুশি হলাম। আজকের দিনটা আসলেই অনেক সুন্দর একটা দিন। প্রথমত আমার আর আরিয়ানের বিয়েতে বাবা মা কোনো আপত্তি করেননি। দ্বিতীয়ত এই গ্রামে একজন ভালো ডাক্তার আসবে সেও ইরিনের উডবি হাসবেন্ড আর তৃতীয়ত রিশা আপুর আত্মা পুরোপুরি সয়তানের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

ইরিন:- রিশা আপুর আত্মা মুক্তি পেয়েছে মানে.? কি হয়েছিলো রিশা আপুর আত্মার সাথে.?

অরিন:- কে বা কারা যেনো রিশা আপুর আত্মাকে নিজের বশে করে নিয়েছিলো। তারপর রিশা আপুর আত্মা আরিয়ান এবং রাশেদ আঙ্কেলকে হান্ট করেছিলো।

ইরিন:- ওরা কিভাবে বুঝলো যে রিশা আপুর আত্মাকে কেউ বশ করেছিলো.? এমনও তোহ হতে পারতো রিশা আপু৷ মরার পর প্রেতাত্মায় পরিণত হয়েছিলো.?

অরিন:- রিশা আপুর আত্মা নিজের মুখে বলেছে উনাকে সরদার নামে কেউ নিজের বশে করে রেখেছে।

ইরিন:- কি! কি! কি! এক মিনিট..? আরিয়ান ভাইয়া, আপনার মনে আছে কিবরিয়া চৌধুরীও সরদার নামে কারো সাথে রোকসানা আন্টি ও তার সন্তানের বিষয়ে কথা বলছিলো.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! আমার সব মনে আছে। আর রোকসানা আন্টির পিছনে যে সরদারের হাত রয়েছে সেই সরদারই রিশার আত্মাকে নিজের কাছে কাটকে রেখেছিলো কারণ রিশা রোকসানা আন্টিরই সন্তান ।

ইরিন:- মানে.? তাহলে হরিণী নামের মেয়েটা কে.?

আরিয়ান:- হরিণী আর রিশা দু'জনে জমজ।

ইরিন:- ওহ্ মাই গড! হাউ ইজ ইট পসিবল.?

আরিয়ান:- অনেক কথা এতকিছু বলে বুঝানো যাবে নাহ, তার আগে তুমি বলো তোহ কিবরিয়া চৌধুরী হসপিটালে কবে আসবে.?

ইরিন:- সঠিক বলতে পারি নাহ, কারণ আমাদের হসপিটালে পোস্টমর্টেমের কেস খুব কম হয় এজন্য কিবরিয়া চৌধুরীকে সহজে এই হসপিটালে পাওয়া যায় নাহ।

আরিয়ান:- কিবরিয়া চৌধুরী আসলে সাথে সাথে আমার সাথে কন্টাক্ট করবে!

ইরিন:- আচ্ছা ঠিক আছে ভাইয়া।

আরিয়ান:- আমি তাহলে এবার উঠি..?

অরিন:- চলে যাবে.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! অনেকক্ষণ তোহ হলো এসেছি এবার চলে যাওয়া উচিৎ।

ইরিন:- হ্যাঁ! আমিও বের হবো। আরিয়ান ভাইয়া চলুন এক সাথেই বের হই।

আরিয়ান:- হ্যাঁ চলো।

অরিনকে বিদায় জানিয়ে আমি আর ইরিন বেরিয়ে পরি। কিছু দূর একসাথে আসার পর ইরিন ওর অ্যাপার্টমেন্টের দিকে চলে যায় এবং আমি ফার্ম হাউসের দিকে চলে যাই।

ফার্ম হাউসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত প্রায় ১২টার উপরে বেজে যায়।

বাড়ির মেইন ডোর আনলক করতেই ভিতর থেকে হরিণী আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে...

"আয়লাবিউ টু"

আমি অবাক! হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি...

"কি.? কি বললে.?"

হরিণী:- আয়লাবিউ টু

আরিয়ান:- হ্যাঁ! সেটা তোহ আমিও শুনলাম, কিন্তু হঠাৎ এটা বললে কেনো.?

হরিণী:- ওইযে মানুষের বাক্সটা আছে নাহ, ওইটার ভিতরে একটা ছেলে একটা মেয়েকে আয়লাবিউ বলেছিলো আর মেয়েটাও ছেলেটাকে আয়লাবিউ টু বলে জড়িয়ে ধরে তাই আমিও তোমাকে আয়লাবিউ টু বলে জড়িয়ে ধরলাম।

আরিয়ান:- তুমি জানো এই কথাটা কাকে বলে.?

হরিণী:- কাকে বলে.?

আরিয়ান:- যখন কেউ কাউকে ভালোবাসে তখন এই কথাটা বলে

হরিণী:- হ্যাঁ তাই তোহ! আমিও তোমাকে আয়লাবিউ করি আর আমি জানি তুমিও আমাকে আয়লাবিউ করো।

আরিয়ান:- আয়লাবিউ করি মানে.? হা!হা!হা!

হরিণী:- ওইযে ভালোবাসো

আরিয়ান:- আমি তোমাকে ভালোবাসি কে বলেছে.?

হরিণী:- কেউ বলেনি কিন্তু আমি জানি, এজন্যই তোহ তুমি আমার জন্য নতুন জানা কিনে এনেছো। আর দেখো আমি তোমার দেওয়া নতুন জামা পরেছি।

এতক্ষণ সত্যি সত্যি খেয়াল করিনি যে হরিণী আমার দেওয়া জামা পড়েছে। ওর কথার মোহ থেকে বেরিয়ে ওর দিকে নজর পরতেই যেনো আমি এক অন্য দুনিয়ায় চলে গেলাম...

"কি মিষ্টি লাগছিলো হরিণীকে হলুদ জামাতে! আজকে প্রথম বার হরিণীকে নতুন রূপে দেখছি মনে হচ্ছে। হদুল জামা সাথে চুলগুলো খোলা, কানে একটা ছোট্ট ভৃঙ্গরাজ ফুল গুঁজে রেখেছে।"

ওকে দেখে যেনো আমি চোখ ফেরাতেই পারছিলাম নাহ। কি হলো আমার, আমি হরিণীর মায়ায় আটকে গেলাম কিভাবে..?

আনমনে শুধু হরিণীর কথাই ভাবছিলাম তখনই হরিণী আমার কাছে এসে ওর নরম ঠোঁট দুুটো আলতো করে আমার ঠোঁটের উপর রাখে।

কিছু বুঝে উঠার আগেই আমিও হরিণীকে সাই দিতে শুরু করি।

সেদিন নিজের অজান্তেই হরিণীর সাথে ফিজিক্যাল হয়ে যাই।

সকালে ঘুম ভাঙ্গলে দেখি হরিণী আমার মাথার পাশে বসে আছে। আমাকে উঠতে দেখে হরিণী আলতো করে একটা মুচকি হাসি দিয়ে উঠে চলে গেলো। তখনই আমার গতরাতের কথা মনে পরে, কাজটা করা হয়তো আমার উচিৎ হয়নি, এটা কেনো করলাম.?

আমি কি হরিণীকে ভালোবেসে ফেলেছি.?

তাহলে অরিনের কি হবে.? আমি কি অরিনকে ঠকাচ্ছি.?

নিজেকে আবারও অপরাধী মনে করতে লাগলাম। নাহ! এবার শুধু অপরাধ নাহ, আমি পাপ করেছি। এই পাপ মুছবো কিভাবে.?

এই পাপের স্মৃতি বহন করবো কিভাবে.?

২দিন কারো সাথে কোনো যোগাযোগ করিনি, একা একা বাইরে গিয়ে আবারও ফার্ম হাউসে এসে নিজেকে ঘর বন্দী করে রাখতাম। কিন্তু হরিণীর প্রতি আমার এক অন্য রকম টান কাজ করতে থাকে। আমি কিছুতেই ওকে ইগ্নোর করতে পারছিলাম নাহ।

ওইদিন রাতের খাবার শেষ করে দু'জনেই অন্য দিনের মতো যে যার রুমে ঘুমতে চলে গেলাম। ইরিন অথবা অরিন কল করলে রিসিভ করতাম নাহ। রিসিভ করে কি বলবো.? আমার মধ্যে এত সাহস নেই এমন একটা ব্লান্ডার করার পর অরিনের মুখোমুখি হওয়ার.!

অপরাধীবোধ নিয়ে আরও একটা রাত পার করতে যাচ্ছি, কিন্তু এভাবে আর কত দিন.? একদিন নাহ একদিন তোহ সবটা সামনে আসবেই তখন কি করবো আমি.?

এসব দুশ্চিন্তা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পরি টেরই পাইনি।

সকালে ঘুম ভাঙ্গে বাইরে চিৎকার চেচামেচির শব্দে, তাড়াতাড়ি করে বিছানা থেকে উঠে চলে গেলাম বাইরে...

বাইরে গিয়ে দেখি ফার্ম হাউসের পাশে যে নেবার'রা থাকে তাদের পোষা কুকুরটা মৃত অবস্থায় পরে আছে। আশ্চর্য করা বিষয় হলো কুকুরের ঘাড়ে কেউ কামোর দিয়েছি, তাছাড়া দেখে মনে হচ্ছে কুকুরটা বিষক্রিয়ার ফলে মারা গেছে।

তারমানে যে কামোর দিয়েছে তার মধ্যে বিষ ছিলো.?

কি জানি.? এসব ভেবে আমার কোনো কাজ নেই।

চলে গেলাম আবারও ফার্ম হাউসে।

ফার্ম হাউসে গিয়ে ব্রেকফাস্ট রেডি করে আমি আর হরিণী ব্রেকফাস্ট সেরে নিলাম। তারপর হরিণীকে বিদায় জানিয়ে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে বের হলাম।

আজকে একটা শহরে যাবো, কারণ একটা নিউজ চ্যানেলে নাকী নতুন রিপোর্টার নেওয়া হবে। আজকে সেখানে ইন্টারভিউ দিবো। দেখি আমার ভাগ্য আমাকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

শহরে যাওয়ার পর অনেককে জিজ্ঞেস করে খুঁজতে খুঁজতে সেই রিপোর্ট চ্যানেল ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়ে পৌঁছাই।

রিসিপশন থেকে জানতে পারি আমার আগে আরো ১১জন মেম্বার ইন্টারভিউ দিবে তারপর আমাকে ডাকা হবে। মানে আমার সিরিয়াল নাম্বার ১২। এমনিতেও শহরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর ১টার কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিলো। এর মধ্যে যদি ১২ নাম্বার সিরিয়ালে আমার ইন্টারভিউ শুরু হয় তাহলে নিশ্চিত রাত ১২টা থেকে ১টার আগে আমি বাড়ি পৌঁছাতে পারবো নাহ।

এক এক করে সবাই ইন্টারভিউ দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে, আর মাত্র ৩জন বাকি, ৩জনের পরেই আমার সিরিয়াল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি এখন রাত ৮টা বাজে।

১০টার দিকে ইন্টারভিউ দিবে ভিতরে যাই। আলহামদুলিল্লাহ ইন্টারভিউ খুব ভালো হয়েছে। ম্যানেজার বলেছেন আগামী সপ্তাহ থেকেই আমার জয়েনিং। অ্যাডভান্স ৩ হাজার টাকাও দিয়েছে। টাকাগুলো দিয়ে বলেছিলেন...

"এটা আপনার স্যালারির টাকা নাহ, আপনার দক্ষতা দেখে আমরা খুবই ইমপ্রেস হয়েছি তাই আমাদের পক্ষ থেকে এই ছোট্ট উপহার"

কঠিন সময়ে এই টাকাগুলো যেনো আমাকে পথ চলতে উৎসাহ করছিলো।

যাই হোক, ইন্টারভিউ শেষ করে বের গ্রামে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত প্রায় সাড়ে ১১টা বেজে গেছে।

গ্রামে ঢোকার পর থেকেই মনে হচ্ছিল কেউ যেনো আমার পিছু করছে। আমি বার বার পিছনে তাকাই কিন্তু কাউকেই দেখতে পাই নাহ। আবারও নিজের মনে হাঁটা শুরু করি। এবারও মনে হচ্ছে কেউ যেনো আমার পিছু করেই চলেছে।

একটু বুদ্ধি করে কিছু দূর যাওয়ার পর একটা গলিতে লুকিয়ে পরি।

আমার সন্দেহ ঠিকই ছিলো, কেউ সত্যি সত্যি আমার পিছু করছিলো। লোকটিকে দেখে আমি লোকটিকে ধরার জন্য ওর পিছনে ছুটতে থাকি।

অনেকটা পথ দৌড়ে লোকটিকে ধরতে সক্ষম হই।

যখন লোকটির মুখ দেখি তখন যেনো আমার চারিদিকে রহস্যের বেড়াজাল আরো বেশি করে বাড়তে থাকে। লোকটিকে শক্ত করে ধরে জিজ্ঞেস করি...

"কিবরিয়া চৌধুরী! তুমি.? কেনো আমার পিছু করছিলে.?"

"রোকসানার সন্তানকে আমাদের হাতে তুলে দে আরিয়ান!"

"তুমি আমার নাম জানলে কি করে.? আর কে তোমাদের এই সরদার.? তোমাদের সরদারকে বলো সাহস থাকলে যেনো সামনে আসে কাপুরুষের মতো লুকিয়ে লুকিয়ে আক্রমণ করছে কেনো.?"

তখনই কিবরিয়া আমার কপালে একটা পাথর দিয়ে আঘাত করে আর আমিও ব্যথায় ওকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হই।

ওকে ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে ও পালিয়ে যায়।

"ধ্যত! এতটা কাছে পেয়েও ওকে ধরে রাখতে পারলাম নাহ! ওকে আটকাতে পারলেই সরদারের কাছে পৌঁছাতে পারতাম। আআআআআহ! নিজেের উপরই রাগ লাগছে এখন..!!!"

নিজের সাথে নিজেই কিছু রাগ ঝাড়া ঝাড়ি করে ফার্ম হাউসে পৌছাই।

আমাকে এই অবস্থায় দেখে হরিণী অস্থির হয়ে পরে!!

"কি হয়েছে তোমার.? এমন ভাবে আঘাত পেলে কিভাবে.? বলো আমাকে কি হয়েছে.?""আর বলো নাহ! একটা লোক তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার পিছু করছিলো আমি ওকে ধরে ফেলেছিলাম তাই আমাকে আঘাত করে পালিয়েছে!"

"ত-তুমি চেনো লোকটিকে.?"

"হ্যাঁ! এই লোকটি ইরিনের হসপিটালে কাজ করে!"

"নাম কি ওর.?"

"কিবরিয়া চৌধুরী!"

এরপর হরিণী আমাকে ফার্স্ট অ্যাইড করে আমার রুমে শুইয়ে দিয়ে ও নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পরে।

রাতে ঘুমানোর আগে ভাবতে থাকি, পরদিন সকালে যেভাবেই হোক অরিনের সাথে এসব নিয়ে ডিসকাস করতে হবে। আমি অরিনে ঠকাতে পারবো নাহ। আমি জানি অরিন আমাকে বুঝবে, আমাকে ভুল বুঝবে নাহ!

বিষন্নতার আরো একটি রাত পার হয়ে গেলো।

সকালে ঘুম থেকে উঠে কিচেনে গিয়ে নিজের জন্য কফি বানাই। কফি খেতে খেতে টিভি অন করে নিউজ দেখতে বসি। কারণ আগামী সপ্তাহ থেকে আমিও নিউজ প্রেজেন্ট করবো তাই আগে থেকে আর একটু ভালো করে প্রেকটিস করতে হবে।

নিউজ চ্যানেলে যেতেই আমার মাথা ঘুরতে শুরু করে! গতরাতে যে লোকটি আমার উপর আক্রমণ করলো সে লোকটি অর্থাৎ কিবরিয়া চৌধুরী গতরাতে পোস্টমর্টেম করার সময় মারা গেছে।

কিবরিয়া চৌধুরীর গলায়ও কামোরের দাগ পাওয়া যায় এবং রিপোর্টে এসেছে কিবরিয়া চৌধুরী বিষক্রিয়ার ফলেই নাকী মারা গেছে।

সবার সন্দেহ কামোরের মধ্য দিয়েই কিবরিয়ার শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে।

তখনই কিবরিয়ার অ্যাসিস্ট্যান্টের বয়ান শুনে আতকে উঠলাম...